যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

অনলাইন ডেস্ক : কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩৪) পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আজ রোববার ভোরে তাকে নিয়ে উপজেলার হ্নীলা জাদিমুরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নুর চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি নুর আলম নাম নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও নিয়েছিলেন।

নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ প্রকাশ নুর আলম মিয়ানমারের আকিয়াব এলাকার কালা মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে টেকনাফের ২৭ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গতকাল শনিবার ভোরে সহযোগীসহ আটক হন রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ। সারা দিন তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ রোববার ভোরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে পুলিশ নুর মোহাম্মদকে নিয়ে উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি জনপদের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার অভিযানে যায়।

এসময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠন এবং মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সশস্ত্র সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে নুর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১) ও অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হন। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী ৪০-৫০ রাউন্ড পাল্টা গুলিবর্ষণ করার পর হামলাকারীরা গভীর পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে সেখান থেকে নুরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে। তারা হলেন, থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১), অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি এলজি, একটি থ্রি কোয়াটার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর চন্দ্র দেব নাথ বলেন, রোববার সকালে পুলিশ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসেন। তার বুকে ও পেটে ছয়টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নিহতের বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নুর মোহাম্মদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান প্রদীপ কুমার দাশ।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে তার বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর মোহাম্মদ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *