পিরোজপুরে উত্ত্যক্তের শিকার রূপার আত্মহত্যা, বখাটে তামিম রিমান্ডে

পিরোজপুর প্রতিনিধি ::

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বখাটের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুলছাত্রী রুকাইয়া আক্তার রূপার আত্মহত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি তামিম খানকে সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার পিরোজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্ত বখাটে তামিম খানের ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই মো. কাইয়ুম আসামি তামিমকে পিরোজপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান জানান।

এর আগে, গত শনিবার রাতে স্থানীয় মঞ্জু খানের বখাটে ছেলে তামিম খানকে (১৯) প্রধান আসামী করে ৫ জনকে চিহ্নিত এবং অপর ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত রূপার বাবা মো. রুহুল আমিন মুন্সী। মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছে- আ. মালেক হাওলাদারের ছেলে রাইয়ান, ইরিন (পিতা-অজ্ঞাত), আলম জোমাদ্দারের ছেলে ওয়ালিদ, মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদ।

মামলা দায়েরের পর পিরোজপুর ডিবি পুলিশ ও ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ গত শনিবার সন্ধ্যায় যৌথ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় জমাদ্দার বাড়ি থেকে (বখাটের বাড়ী থেকে) মামলার প্রধান আসামী তামিম খানকে গ্রেফতার করে। পরে রোববার তাকে বিচারিক আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকী আসামীদের আটক করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান।

উল্লেখ্য, জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বখাটে তামিম খান স্কুলছাত্রী রূপাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রূপা তা প্রত্যাখ্যান করায় এবং এর প্রতিবাদ করলে ওই বখাটে একটি নগ্ন ছবির সঙ্গে রূপার ছবি এডিট করে জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায় স্কুলছাত্রী রূপা ও তার পরিবার চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। একপর্যায়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে ক্ষোভ ও লজ্জায় ঘরে থাকা ঘুমের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরণের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করে রূপা। সে স্থানীয় বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *