নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশাল নগরীর নতুন বাজার বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় হারুন পরিবারের সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট বেশ খোলামেলা চলছে বছরজুড়ে। চিহ্নিত এই মাদক কারবারির স্ত্রী বেবী ও পুত্র শাওন একাধিক মাদক মামলা থাকলেও জামিনে এসে ফের পুরানো চরিত্রে ফিরে আসে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মড়কখোলার পোল সংলগ্ন লেকের পার্শ্বে, নতুন বাজার সড়কের হারুনের বাসার গলি, লাকড়ি পট্টি, মথুরানাথ স্কুলের পিছনসহ ৫টি স্পটে প্রতিদিন খুচরা ক্রেতারা মটরসাইকেলযোগে ফেন্সিড্রিল সেবন ও ইয়াবা নিয়ে যায়। আর এ খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে হারুনের ছেলে শাওন।

ক্রেতারা হারুনের স্পট থেকে ফেন্সিড্রিল ক্রয়ের পূর্বে প্রথমে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে এরপর চটজলদি মটরসাইকেলে এসে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকিকিনি সেড়ে চলে যায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্পটে বসেই সেবন করে আবার অনেকেই প্যান্টের পকেটে বা অভিজাত শপিং ব্যাগে কিংবা কোমড়ে বহন করে সটকে পরে। খুচরা বিক্রেতারা ইয়াবা নিয়ে যায় আরো নিরাপদে কারণ এ মাদকটির আকার ক্ষুদ্র হওয়ায় সহজেই লুকানো সম্ভব হয়।

হারুন ও বেবি সিন্ডিকেটের এ খোলামেলা মাদক কারাবারের ব্যাপারে একাধিক দোকানি ও বাসিন্দারা বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি এতো নিকটে থাকার পরও কিভাবে দিনের পর দিন মাদক বিকিকিনি হয় বুঝিনা। আমরা দেখি কিন্তু তারা কেমনে দেখেনা। আবার এও দেখি পুলিশ ডিবি সবই আসে বাসায় তল্লাশি করে ধরেও নিয়ে যায় কিন্তু আবার সেই পুরানো রুপে মাদক কারবার শুরু করে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী হারুনের সাথে ডিবি’র কতিপয় কর্মকর্তাদের গোপন সংখ্যতা এবং অভিযানিক টিমের দুর্বলতা কারনে মাদক উদ্ধারে সফলতা পাচ্ছে না নগর পুলিশ।

আর একারনেই দীর্ঘদিন যাবত প্রসাশনের নাকের ডগায় বসে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলে এ ব্যবসা। তবে পরিতাপের বিষয় সবাই এ মাদক ব্যবসার জ্বল জ্বল চিত্র দেখলেও কেবল দেখতে পায় না ডিবি ও নতুন বাজারের ফাঁড়ির পুলিশ। তবে সম্প্রতি সময়ের কোন অভিযানেই সফলতা পাচ্ছে না মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বিশেষ করে মাদক উদ্ধারে ডিবি’র ভুমিকা বরাবরই বেশি ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই চলতি বছরের শুরু থেকে তাদের সেই সফলতা কমতে শুরু করে। যা বর্তমান সময়ে শূণ্যের কোটায় পৌঁছেছে।

এনিয়ে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার নরেশ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘মাদক উদ্ধারে আমাদের কোন দুর্বলতা নেই। আমরা নিয়মিত অভিযান করছি।

অপরদিকে নতুনবাজার পুলিশ ফারির ইনচার্জ এসআই কামরুল বলেন, হারুনের বাসায় নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলে এবং জানতে পেরেছি ওর ছেলে শাওন জামিনে এসে পুনুরায় ফেন্সিড্রিল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সতর্ক রয়েছি ধরার জন্য।

কিন্তু স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করে হারুনের চিহ্নিত স্পটগুলোতে মাদক বিকিকিনি চলে তাহলে আপনারা কেন চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদককারবারিকে ধরতে পারছেনা।

এসময় তিনি আরো বলেন, আপানারা আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন।

এদিকে স্থানীয় ভুক্তভুগী একাধিক সুত্র জানায়, পুলিশ ফাঁড়ির সাথে ম্যানেজ প্রক্রিয়া না থাকলে কোনভাবেই সম্ভব নয় এইভাবে বেশ খোলামেলা হারুন ও বেবির মাদক সিন্ডিকেট চালানো।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *