ঝালকাঠিতে ১৭ জনের মৃত্যু : বাসচালক মোহন গ্রেফতার

ঝালকাঠিতে ১৭ জনের মৃত্যু : বাসচালক মোহন গ্রেফতার

ঝালকাঠির ছত্রকান্দায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক বাসের চালক মোহন খানকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাতে তাকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে র‌্যাব-৮-এর একটি দল রাজাপুর থেকে বাসের সুপারভাইজার মিজান ওরফে ফয়সালকে গ্রেফতার করে।

এখনো পলাতক রয়েছে মামলার আসামি বাসচালকের সহকারী (হেলপার) আকাশ। এ বিষয়ে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কারওয়ানবাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বাশার-স্মৃতি নামে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ওই বাসে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ছিল ৪৫ জনের। কিন্তু বাসে প্রায় শতাধিক যাত্রী ছিলো। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ ছাড়া বাসের ড্রাইভার মোহন খানের হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর জন্য তার লাইসেন্স ছিলো না।

তিনি বলেন, গত ২২ জুলাই সকালে পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝালকাঠির ছত্রকান্দা নামক স্থানে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইকৃত বাশার-স্মৃতি নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পুকুরে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৩৮ জন যাত্রী আহত হয়। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় এলাকার মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়ে। নিহতদের আত্মীয়-স্বজনের কান্না ও আহাজারীতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৪। ওই ঘটনায় র‌্যাব ঘাতক চালক এবং জড়িততে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

কমান্ডার মঈন বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দফতর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৮ এর আভিযানিক দল বুধবার ভোরে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক বাস চালক মোহন খানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

মুখপাত্র বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের চাকল মোহন খান জানায়, গত ২২ জুলাই বাশার-স্মৃতি পরিবহনের বাসটি সকাল ৯ টায় ভান্ডারিয়া থেকে বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাত্রা শুরু করে। ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্টপেজ হতে বাসটিতে আরও যাত্রী উঠানো হয়৷ বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাতে থাকে।

পরবর্তীতে ঝালকাঠির ছত্রকান্দা নামক স্থানে পৌঁছালে গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অতিরিক্ত গতির কারণে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের পুকুরে গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিস, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয় জনগণ উক্ত দুর্ঘটনায় পতিত বাসটির ভিতর হতে ৫৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৭ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন শিশু। অবশিষ্ট ৩৮ জন আহত যাত্রীকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত মোহন ৩ বছর যাবত বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালাচ্ছিল। তার হালকা যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এছাড়াও বাশার-স্মৃতি পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৬৫৪৯, যাত্রী ধারণ ক্ষমতা-৪৫ সিট) ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকলেও গাড়ির ফিটনেস ভালো ছিল না এবং মিটার নষ্ট ছিল।

ওই দুর্ঘটনার পর চাকল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ঝালকাঠি, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় তার বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে থাকে। আত্মগোপনে থাকাবস্থায় আশুলিয়া থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *