ঝালকাঠিতে আ.লীগ নেতাকে হত্যা: প্রবাসীর স্ত্রীসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রিপন মল্লিক (৫০) হত্যার ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিহত রিপন মল্লিকের ছেলে রিয়াজ মল্লিক বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আটক শিরিন আক্তারকে (৩৫) এক নম্বর আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গৌতম কুমার ঘোষ। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার সকালে শিরিন আক্তারকে ঝালকাঠির আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিপন মল্লিক পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল মল্লিকের ছেলে। তিনি জমি ক্রয়-বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গত সোমবার রাতে কৃষ্ণকাঠি এলাকায় রিপন মল্লিকের প্রতিবেশী সৌদিপ্রবাসী কামাল হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তারের ঘরে রিপন মল্লিকের লাশ পাওয়া যায়। মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি পরিবারের। পুলিশ রাতেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। গতকাল বিকেলে কৃষ্ণকাঠি এলাকার জৌনপুরী খানকা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের সামনে রিপন মল্লিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আল আমিন বলেন, রিপন মল্লিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। একটি মহল মৃত ব্যক্তির নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আজ সকালে নিহত রিপন মল্লিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। যে প্রবাসীর টিনের ঘরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।

মামলার বাদী রিয়াজ মল্লিক জানান, তাঁদের প্রতিবেশী সৌদিপ্রবাসী কামাল হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তারের ঘরে সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ওই নারীর কাছে তাঁর বাবা রিপন মল্লিক জমি বিক্রির দুই লাখ টাকা পেতেন। ছয় মাস আগে রিপন মল্লিককে উড়োচিঠির মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিবার থেকে এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলা হলেও রিপন করেননি। জমির পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্যই শিরিন আক্তার একটি চক্রের সহায়তা নিয়ে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে নাটক সাজিয়ে ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন রিয়াজ মল্লিক।

ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, ওই নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিপন মল্লিক প্রায়ই সৌদিপ্রবাসী কামালের স্ত্রী শিরিন আক্তারের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। শিরিনের ছেলে ইমন হোসেন ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনার দিন শিরিন তাঁর ঘরে একা থাকার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত রিপনের ভাই সমির মল্লিক বলেন, ‘আমাকে স্থানীয়রা ফোনে জানায়, ভাইকে মেরে মাথা ফাটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খবর শুনে শিরিনের বাসায় গিয়ে দেখি, সে ঘরেই বসা ও স্বাভাবিক। ভাইয়ের লাশ হাসপাতালে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা।’

শিরিন আক্তারের বোনের ছেলে লিয়ন হোসেন বলেন, ‘আমার খালা-খালু রিপন মল্লিকের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। সেই সুবাদে রিপন মল্লিক আমার খালার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। তবে ঘটনার দিন কেন রিপন মল্লিক খালার ঘরে এসেছিলেন, তা আমার জানা নেই।’

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিতুল ইসলাম বলেন, ‘লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে এটি হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার শিরিন আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার প্রার্থনা করা হবে।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *