Author: banglarmukh official

  • বি.বি.ডি.সি’র সহযোগিতায় বরিশালের ধান গবেষণা সড়কে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্নয়

    বি.বি.ডি.সি’র সহযোগিতায় বরিশালের ধান গবেষণা সড়কে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্নয়

    তানজীল শুভ

    বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা ইয়ুথ সোসাইটির উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্নয় ও সচেতনতা মূলক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয় ।

    ২৭ নভেম্বর রোজ সোমবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ধান গবেষণা সড়কের লালা দিঘীর পাড়ে এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা চলে। সেখানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো রক্তের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহ্ প্রদানকারী বরিশালের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবা মূলক সংগঠন বরিশাল ব্লাড ডোনারস ক্লাব (বি.বি.ডি.সি.)।

    সেখানে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করার জন্য দুপুর থেকেই এলাকাবাসীদের ভীড় ছিলো দেখার মতো। এলাকার অনেক মানুষ-ই খুশী ছিলেন নিজের রক্তের গ্রুপ জানতে পেরে। বি.বি.ডি.সি.’র পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করার জন্য এলাকাবাসীদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টা ছিলো সাধারণ মানুষদের সেবা প্রদান করা।

  • জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস ১২ ই ডিসেম্বর

    জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস ১২ ই ডিসেম্বর

    প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পালিত হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত দিবসটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ বিষয়ক পরিপত্রে খ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চলতি বছরের ৩৫তম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ১২ ডিসেম্বর তারিখে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ার বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত ও ঘোষণা করে।

    এ জন্য দিবসটি পালনের জন্য ১২ ডিসেম্বর তারিখকে নির্বাচন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদেশ মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেই এ দিবস ঘোষণা করেছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দিবসটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের ক ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য পেশ করলেও তা পলিসিগত কারনে খ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

  • পাবনায় মাথা বিহীন যুবকের লাশ উদ্ধার

    পাবনায় মাথা বিহীন যুবকের লাশ উদ্ধার

    তানজীল শুভ

    সাঁথিয়ার আতাইকুলায় সোমবার পরিচয়হীন যুবকের মাথা বিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারনা দুবৃর্ত্তরা হত্যা করে লাশ বিলের মধ্যে গুম করার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশ জানায়, আতাইকুলা থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বুধগাড়ী বিলের কচুরি পানার নিচ থেকে সোমবার দুপুরে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা দুপুরে বিলে মাছ শিকার করতে গেলে মাথা বিহীন লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিলের কচুরি পানার নিচ থেকে শরীর থেকে বাম পা ও ধর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। লাশের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে বলে পুলিশের ধারনা। এলাকাবাসীর ধারনা সন্ত্রাসীরা দূর থেকে যুবককে ধরে নিয়ে এসে এখানে নিরাপদ ভেবে হত্যা করে লাশ গুম করে রেখে যায়।

    আতাইকুলা থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনায় পাঠানো হয়েছে। তবে লাশটি ৩/৪দিন আগে ওইস্থানে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। তিনি দাবি করেন সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

  • পিলখানা হত্যায় হাইকোর্টের রায়- ১৩৯ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের

    পিলখানা হত্যায় হাইকোর্টের রায়- ১৩৯ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের

    পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে। আর ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন। আজ সোমবার বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন।

    বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আদালত এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে। আজ হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হলো। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

    বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর এ মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এঁদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। সাজা হয় মোট ৫৬৮ জনের। হাইকোর্টে কোনো রায় পড়তে দুদিন সময় লাগার বিয়ষটি অনেক আইনজীবীই নজিরবিহীন বলেছেন। এ মামলায় আদালত এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সম্পূর্ণ রায় প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

    আদালত বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য। আজ রায় পড়তে গিয়ে বিচারপতি নজরুল বলেন, তৎকালীন বিডিআরের নিজস্ব গোয়েন্দারা কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা আগে জানতে পারেনি, সেই ব্যর্থতা খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি করা দরকার। তিনি মহাপরিচালকের উদ্দেশে বলেন, কোনো সমস্যা এলে তা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে হবে। বিজিবির জওয়ানরা কোনো সমস্যা নিয়ে এলে তা মীমাংসা করতে হবে এবং বিজিবিতে সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানদের মধ্যে পেশাদারি সম্পর্ক থাকতে হবে। নজরুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, কেন সে সময়ের বিডিআর ডাল-ভাত কর্মসূচি নিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি যেন না নেওয়া হয়, সে ব্যাপারে বিজিবিকে সতর্ক করেন তিনি।

    আরেক বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, কোনো সেনা কর্মকর্তা সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে থাকবে না, এটাই ছিল বিদ্রোহে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মূল মনোভাব। তিনি জওয়ানদের সঙ্গে ঔপনিবেশিক (কলোনিয়াল) আমলের মতো ব্যবহার না করার কথা বলেন। তিনি বলেন, একই দেশ। এখানে সবাই ভাই ভাই। গতকাল রোববার আদালত পর্যবেক্ষণে নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআর পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনী দেশে-বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের কিছু সদস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এই কলঙ্কচিহ্ন তাঁদের অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে। একসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার নজির ইতিহাসে নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌক্তিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন।

    ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে, ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন। বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনাকারী উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলম। বিডিআরের বাইরে দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। এঁরা হলেন বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলী। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কারাগারে মারা যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু।

    নিম্ন আদালতের রায়টি ছিল মোট চার হাজার পৃষ্ঠার। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক তখন বলেছিলেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। একটি বিদ্রোহ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে যে কারণে এ বিদ্রোহ হয়েছে, তা ছিল অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট করা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াই ছিল হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ। আদালত ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়ে বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিক হলেন পিলখানার পাশের এলাকার বাসিন্দা নায়েক সুবেদার (অব.) কাঞ্চন আলীর ছেলে জাকির হোসেন। পিন্টু ও তোরাব আলীকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়; অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে অস্ত্র লুণ্ঠনের দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এতে করে তাঁদের ৪০ বছরের সাজা হয়। ২৫৬ জনের মধ্যে ২০৭ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের আরেকটি অভিযোগে আরও তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। এ নিয়ে মোট ১৩ বছর কারাভোগ করতে হবে তাঁদের।

  • বরিশাল নগরীর রসুলপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    বরিশাল নগরীর রসুলপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    বরিশাল নগরের রসুলপুরে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ লক্ষে সোমবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করনে বরিশাল জেলা শাখার বাসদের সংগঠক মনিষা চক্রবর্তী।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক বদরুদ্দোজা সৈকত, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ এইচ এম ইমন, জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক মোজাম্মেল হক সাগর প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের অর্ন্তভূক্ত রসুলপুর চর এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষেল বসবাস। এরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হলেও প্রাপ্তির তালিকায় শূণ্য।

    বক্তারা বলেন, ৭ বছর পূর্বে রসুলপুর এলাকায় বানিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। বিভিন্ন জটিলতার কারনে গত আগষ্ট মাসে রসুলপুর এলাকার বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে ৫ হাজার মানুষ আজ অন্ধকারে বসবাস করছে। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার দাবী জানানো হয়। আর তা না হলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও আন্দোলন কর্মসূচী পালন করা হবে বলে জানান বক্তারা। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের  করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পুনরায় অশ্বিনী কুমার হলে এসে শেষ হয়।

  • বরিশালে রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ২

    বরিশাল নগরের নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রোহিঙ্গা সন্দেহে ২ ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটককৃতরা হলো,  হামিদ (২৫) ও ইয়াসিন (৩০)।

    এরা মায়নমারের বুচিডং এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানাগেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) এ আর মুকুল জানান, দুপুরে সন্দেহজনকভাবে আটক ২ জনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডের লোকজন তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যে টুক জানাগেছে সে অনুযায়ী আটককৃতরা কক্সবাজার থেকে মাছ ধরতে সাগরে যায়। সেখানে গিয়ে ডাকাতের কবলে পরে। পরবর্তীতে তারা আশ্রয়ে কুয়াকাটায় আসেন। সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো তারা। পথিমধ্যে নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানকালে তারা স্থানীয়দের চোখে পরে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে যোগাযোগ করা হচ্ছে, এদেরকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে।

  • উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে চরমোনাই বার্ষিক অগ্রাহায়নের মাহফিল শুরু

    উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে চরমোনাই বার্ষিক অগ্রাহায়নের মাহফিল শুরু

    প্রিন্স মুন্সি

    বরিশাল জেলা সদরের চরমোনাই ইউনিয়নের অন্তর্গত চরমোনাই মাদরাসা মাঠে ৩ দিন ব্যাপী অগ্রহায়ণের বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে। রোববার যোহরের নামাজের পর আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা সৈয়দ মো: রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই-এর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাহফিল শুরু হয়।

    পীর সাহেব চরমোনাই তার বয়ানে বলেন, আমাদের দুনিয়ার জীবনের সকল কাজ, কামাই, রোজগার, মাহফিল ইত্যাদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করতে হবে।  আপনারা অনেক কষ্ট করে মাহফিলে হিজরত করে এসেছেন। কিন্তু আপনারা এত কষ্ট করে এসে পরিবার-পরিজন ছেড়ে, এখানে বাথরুম, খানা, ঘুমানোসহ সবসময় কষ্ট সহ্য করেও যদি নিয়ত ঠিক না হয়, কোনো লাভ হবে না। মরহুম পীর সাহেব বলতেন, মাহফিল শুরুর পূর্বে নিয়ত ঠিক করে নিতে হবে, এখানে আসলে কেউ ধনী হবে না, কারো রোগের চিকিৎসাও এখানে হয় না, অন্য কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্য এখানে হাসিল হবে না, এখানে একমাত্র আল্লাহকে পাওয়ার রাস্তা দেখানো হয়।

    এজন্য তিনি সকলকে নিয়ত সহীহ করে মাহফিলে অবস্থানসহ সকল কাজ করার আহবান জানান। তাহলে দুনিয়াবী কোনো মকসুদ থাকলে তা কবুল হলেও সহীহ নিয়তের কারণে  সওয়াবসহ হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা সৈয়দ মো: রেজাউল করীম বলেন, এখানে আপনারা আসছেন রোগী হিসেবে। এই তিনদিনে আপনাদেরকে প্রেসক্রিপশনও দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। যারা এই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলতে পারবেন তারা রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবেন এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়তে পারবেন। আর যদি এখানে মাহফিলের পক্ষ থেক এই লক্ষ লক্ষ মানুষের খাওয়ার আয়োজন করা হতো, তাহলে দেখা যেতো যে, খানার আঞ্জাম দিতে গিয়ে আসল উদ্দেশ্যই হাসিল হতো না। এজন্য এখানে আমরা এই ব্যবস্থা করিনি।

    পীরসাহেবের বয়ানের পূর্বে ও যোহরের নামাজ আদায়ের পর বিশ্বজয়ী হাফেজ তরীকুল ইসলামের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩ দিন ব্যাপী মাহফিলে প্রতিদিন ফজর ও মাগরীবের নামাজের পর পীর সাহেব ও তার ভাই মুফতী সৈয়দ মো: ফয়জুল করীম (পীরে কামেল চরমোনাই)-এর বয়ান ছাড়াও দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম বয়ান পেশ করবেন। ওলামায়ে কেরামের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা মোবারক করীম, প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মুফতী সৈয়দ এছহাক মোঃ আবুল খায়ের, মরহুম পীর সাহেবের খলিফা মাওলানা আব্দুর রশিদ (পীর সাহেব বরগুনা), আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী (পীর সাহেব কারীমপুর), অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ (পীর সাহেব খুলনা) উল্লেখযোগ্য।

    মাহফিল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মুসল্লীদের অবস্থানের জন্য ২টি মাঠে (১ ও ৩নং) সামিয়ানা টানানো হয়েছে। মাহফিলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। নিজস্ব প্রায় ১০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সবকটি মাঠের নিরাপত্তা মনিটরিং করা হচ্ছে। হাজারো মাইকের মাধ্যমে সব মাঠে বয়ান শোনার ব্যবস্থা আছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাই ভোল্টেজ অটো জেনারেটর রয়েছে। মুসল্লীদের খাবার পানি ও ওযু-গোছলের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে সবকটি মাঠে।

    মুসল্লীদের চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি হাসপাতাল রয়েছে। দেশের মুসল্লীদের পাশাপাশি মাহফিলে দেশ-বিদেশের আলেম-ওলামা ও বিশিষ্ট মেহমানদের জন্য রয়েছে আলাদা মেহমানখানা। দেশ-বিদেশ থেকে ঘরে বসে যাতে সবাই মাহফিলের ভিডিওসহ বয়ান শুনতে পারে সেজন্য www.charmonaivs.net/live এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ৩ দিন ব্যাপী মাহফিলে নিয়মিত বয়ান ছাড়াও ২য় দিন বেলা ১১টায় ওলামা ও সূধী সম্মেলন এবং ৩য় দিন বেলা ১১টায় ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার ১৫.৬০ শতাংশ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার ১৫.৬০ শতাংশ

    প্রিন্স  মুন্সী

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় অনলাইনে প্রকাশিত এ ফলাফলে ‘ক’ ইউনিটে পাসের হার ১৯.৭৯ শতাংশ, ‘খ’ ইউনিটে পাসের হার ৮.২২ শতাংশ এবং ‘গ’ ইউনিটে পাসের হার ১৩.০১ শতাংশ। ফলে ৩টি ইউনিটে গড় পাসের হার ১৫.৬০ শতাংশ।

    বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে আয়োজিত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল কার্যক্রম প্রকাশের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. হাসিনুর রহমান, রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম, ফলাফল প্রস্তুতকরণ ও তথ্য প্রদান ইউনিটের সমন্বয়ক সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট রাহাত হোসাইন ফয়সাল, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. সুব্রত কুমার দাস, শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শেরে-বাংলা হলের প্রভোস্ট মো. ইব্রাহীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকমণ্ডলী, বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

    ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপাচার্য উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র পথিকৃৎ যেখানে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রচলিত ‘ঘ’ ইউনিট বাতিল করা হয়েছে এবং ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইসের অপব্যবহার রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক জ্যামার স্থাপন করেছে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট http://admission.eis.bu.ac.bd এ পাওয়া যাবে।

  • শেবাচিমে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, লাঞ্চিত স্বজনরা

    শেবাচিমে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, লাঞ্চিত স্বজনরা

    কাজী সাইফুল

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে  ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।  পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মরতদের কর্তৃক স্বজনদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বেলা সাড়ে ১২ টায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তাপ বিরাজ করলে থানা পুলিশ, হাসপাতাল প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    হাসপাতাল ও প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, নগরের কাউনিয়া এলাকার মোঃ জালাল জমাদ্দের ছেলে মোঃ কবির জমাদ্দার (৪৫) শারিরীক অসুস্থতার (স্ট্রোক) কারনে ২৪ নভেম্বর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ তলার মেডিসিন-৪ নং ইউনিটে ভর্তি হয়। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে আজ বেলা পৌনে ১১ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্বজনরা তার মৃতদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার সময় সেবিকা ও চিকিৎসকদের দরজায় এলোপাথারি লাথি মারতে থাকে এবং জানালার গ্লাস ভেঙে দেয়। এসময় তারা অকথ্য ভাষায় হাসপাতালে কর্মরতদের গালগাল করতে থাকে।

    পরে চিকিৎসক-নার্স ও স্টাফরা মিলে মৃতের স্বজনদের কাছে এর কারন জানতে চাইলে বাক-বিতন্ডা হয়। এসময় রোগীর স্বজনরা চিকিৎসক-নার্সদের সাথে অশালীন আচরন করলে ওয়ার্ডের প্রবেশদ্বার আটকে দেয় কর্তব্যরতরা। পাশাপাশি মৃতের ছেলে পাবেলসহ ২ স্বজনকে আটকে মারধর করা হয়। পরে থানা পুলিশ, হাসপাতাল প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে মূল উশৃঙ্খলকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রতক্ষদর্শীরা।

    এ বিষয়ে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সেবিকারা জানান, মারা যাওয়ার পরও পরিস্থতি স্বাভাবিক ছিলো, কিন্তু মৃতদেহ নেয়ার সময় ১৫/২০জন স্বজন এসে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে ওয়ার্ডে সাধারণ রোগীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেয়। পরে সবাই মিলে এর প্রতিবাদ জানালে চিকিৎসকদেরও লাঞ্চিত করার চেষ্টা করে মৃতের স্বজনরা। এসময় ২ জনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।  তবে মৃতের ছেলে পাবেল জানান, তাকে আটকে চিকিৎসক ও ওয়ার্ডের অন্য স্টাফরা মিলে মারধর করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তিনি কথা বলতে চাইলেও কেউ তার কথা শোনেন নি।

    অপর এক স্বজন জানান, গতকালও রোগীর অবস্থা ভালো বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা, আজ হঠাৎ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছিলো না। আর মৃত্যুর আগ মুহুর্তে সেবক পর্যায়ের কাউকেই হাতের কাছে পাওয়া যায়নি। ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজু আহমেদ জানান, মূল ঝামেলা সেবিকাদের সাথে হয়েছে, কিন্তু রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডের ভেতরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে সবাই আতঙ্কে ছিলো। ওই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ডের গেট আটকে দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ আব্দুল কাদের, স্থানীয় কাউন্সিলর মজিবুর রহমান ও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ আব্দুল কাদের জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন, পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

  • দুই দিনের শিশুর হাত থেকে রক্ত নেয়ায় শেবাচিমে ধোলাইয়ের শিকার দালাল- আটক

    দুই দিনের শিশুর হাত থেকে রক্ত নেয়ায় শেবাচিমে ধোলাইয়ের শিকার দালাল- আটক

    তানজিল শুভ

    দুই দিন বয়সের শিশুর হাত থেকে রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করানোর অযুহাতে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে ধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্বজনরা। রোববার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নবজাতক শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই পরীক্ষা এবং শিশুর হাত থেকে রক্ত নেয়ার বিষয়ে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সেবিকারা কিছুই জানেন না বলে দাবী করেছেন।

    শিশুটির পিতা বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোশারেফ হোসেন জানান, তার স্ত্রী খাদিজা বেগম বেশ কয়েকদিন পূর্বে বাচ্চা প্রসবের কারনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৪ নভেম্বর তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে তাকে শারিরীক কারনে নবজাতক শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি জানান, মায়ের শারিরীক অবস্থা এখনো ভালো না হওয়া শিশুর পাশে তাদের অন্য মহিলা স্বজনরা রয়েছে।

    আজ বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে এক যুবক এসে ওই স্বজনদের হঠাৎ করেই বলে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা দিয়েছে রক্ত লাগবে।  এ কথা শুনে স্বজনরা আমাকে বিষয়টি জানালে সন্তানের কাছ গিয়ে দেখি তার হাতে সিরিন্স ঢুকিয়ে অনেকটা রক্ত নিয়ে নিয়েছে ওই লোক। পরবর্তীতে তাকে এর কারন জানতে চাইলে কোন সদ উত্তর না দিয়ে পরীক্ষার জন্য ৩ হাজার টাকা দাবী করেন। এরপর কিসের পরীক্ষা জানতে চিকিৎসক ও সেবিকাদের কাছে জানতে গেলে তারাও কিছু জানেন না বলে জানান।

    এরপর ওই লোকের পরিচয় জানতে চাইলে সে নিজের নাম সুজন ও ডি ল্যাব নামক ডায়গনষ্টিক সেন্টারের লোক বলে দাবী করে। ডি ল্যাবের একটি কাগজও দেখায় সে। কিন্তু পরীক্ষার-নিরীক্ষার বিষয়ে কোন সদউত্তর বা চিকিৎসকের পরামর্শপত্র দিতে না পারলে অণ্য রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই মামুন জানান, তারা ডি ল্যাবের পরিচয়দানকারী সুজন নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেছেন। সে মুলত রোগীর দালাল। আর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।