বাগেরহাটে ৪টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাগেরহাট-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাইয়ের ছেলে শেখ হেলাল উদ্দিন এবং তার ছেলে শেখ সারহান নাসের তন্ময় বাগেরহাট-২ আসন বিজয়ী হয়েছেন। বাগেরহাট-১ আসনে (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) মোট কেন্দ্র ১১০টি। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাতিজা শেখ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ রানা পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৪৯ ভোট।বাগেরহাট-২ আসনে (সদর-কচুয়া) মোট ভোট কেন্দ্র ১১৯টির আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৯১২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৯০ ভোট।এদিকে বাগেরহাট-৩ আসনে (রামপাল-মোংলা) ৯৬টি কেন্দ্রের সব কটির ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী হাবিবুন নাহার পেয়েছেন ১লাখ ৮৮ হাজার ৯০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪০৮ ভোট।বাগেরহাট-৪ আসনের (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত আব্দুল আলীম পেয়েছেন হাওলাদার পেয়েছেন ২ হাজার ২৫১ ভোট। তবে বিকেলে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বাগেরহাট জেলার ৪ প্রার্থী খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন।বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসনের ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কোন কেন্দ্র স্থগিত হয়নি।
Author: Banglarmukh24
-

বরিশাল-১ আসনে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বিপুল ভোটে জয়ী
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে, বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।
প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীকে হাসানাত পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ৫০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ ভোট।
বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম অজিয়র রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ আসনে ১১৫ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪ জন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৫০৭টি, যার মধ্যে বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৮২২ ভোট।
-

বরিশালে নৌকা প্রতীকের গণসংযোগ করলেন বিসিসি মেয়রের সহধর্মিনী লিপি আবদুল্লাহ।
জাকারিয়া আলম দিপুঃ বরিশালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের গণসংযোগ করেন বিসিসি মেয়রের সহধর্মিনী লিপি আবদুল্লাহ।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের বরিশাল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম। নৌকা প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমকে বিজয়ী করার লক্ষে বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গনসংযোগ করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র সহধর্মিনী লিপি আবদুল্লাহ।
এসময় লিপি আবদুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আওয়ামী সরকার গঠন করলে বদলে যাবে দক্ষিণ বঙ্গের ভাগ্য।পদ্মা সেতু ,পায়রাবন্দর, কয়লাবিদ্যুৎ তাপ কেন্দ্র ও শেখহাসিনা সেনানিবাস হওয়ায় বরিশাল হবে ট্রানজিট রুট, বরিশাল হবে মিনি সিঙ্গাপুর।বরিশাল নগরীকে গতিময় ও সমৃদ্ধশালী বরিশাল গড়তে হলে নৌকার মার্কার প্রার্থী কে বিজয়ী করতে হবে।

-

নৌকার মিছিলে ঢলে পড়লেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, হাসপাতালে মৃত্যু
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. নজীবুর রহমান (৬০) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে নৌকার মিছিলে গিয়ে তিনি রাস্তায় ঢলে পড়েন। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
জানা যায়, ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস তার নির্বাচনী এলাকায় মিছিল করছিলেন। এই মিছিলে ছিলেন নজীবুর রহমান। মিছিলটি ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ারে(রাইফেল স্কয়ার) আসার পর রাস্তায় ঢলে পড়েন তিনি। এ সময় তাকে ল্যাবএউড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, নজীবুর রহমান মিছিলের মাঝে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানা গেছে, নজীবুর রহমানের প্রথম জানাজা হবে শুক্রবার জুমার নামাজের পর। এরপর দ্বিতীয় জানাজা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে হবে। পরে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
-

অসত্য তথ্য প্রচার ঠেকাতে নিউজ ভেরিফিকেশন সেন্টার চালু : র্যাব মহাপরিচালক
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল করার জন্য সারাদেশে ১০ হাজার র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া অসত্য তথ্য প্রচার ঠেকাতে ফেসবুকে একটি পেজের মাধ্যমে সাইবার নিউজ ভেরিফিকেশন (সংবাদ-যাচাই) সেন্টার চালু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচার হয়েছে। এর পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কাজ করছে। এ জন্য অসত্য তথ্য প্রচার ঠেকাতে ফেসবুকে সাইবার নিউজ ভেরিফিকেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। নির্বাচনের সময়ে কেউ যদি গুজব ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করে তাহলে ফিডব্যাক পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন সফল করার জন্য সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। সারা দেশের সব আসনে মোবাইল টিমের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা হবে। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে র্যাব। নির্বাচন কমিশন তাদের হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তারা প্রয়োজন অনুসারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে।
-

বরিশালে ৩ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার ॥ অস্ত্র- গুলি ও বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার
রিশালের গৌরনদী উপজেলা থেকে ৩ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করেছে র্যাব-৮। গোপন সংবাদের ভিত্তিকে এদের কে আটক করা হয়। এসময় ১টি বিদেশী পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ৬ রাউন্ড এ্যামোনিশন, ফেন্সিডিল-১২২ বোতল, গাঁজা-০৪ কেজি, বিদেশী মদ-০২ বোতল, ইয়াবা- ৩৪০০ পিস, জাল নোট-২৫,০০০/- টাকা, মাদকদ্রব্য বিক্রয়কৃত নগদ-৫৬,৭৮৫/- টাকাসহ এই ৩ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক স¤্রাটকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন-্র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডাকাত, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতারকচক্রসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে র্যাবের অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে র্যাব-৮, বরিশাল সিপিএসসি’র একটি বিশেষ আভিযানিক দল বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা এলাকায় বিশেষ টহল ডিউটি করাকালীন ২৫ ডিসেম্বর অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে বরিশাল জেলার গৌরনদী থানাধীন কটকস্থল গ্রামস্থ জনৈক শাহ আলম বেপারীর বাসায় অবৈধ অস্ত্র, জাল টাকা, মদ, গাঁজা এবং ইয়াবাসহ কিছু ব্যক্তি মাদক সেবন এবং ক্রয়/বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আভিযানিক দলটি ২৫ ডিসেম্বর উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর প্রাক্কালে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ঘেরাও পূর্বক ০৩(তিন) জন ব্যক্তিকে আলামতসহ আটক করে। উক্ত আসামীগণের নিকট থেকে সর্বমোট (১) ০১(এক)টি বিদেশী পিস্তল, ০২(দুই)টি ম্যাগাজিন, ০৬(ছয়) রাউন্ড এ্যামোনিশন (২) ফেন্সিডিল-১২২ বোতল, (৩) গাঁজা-০৪ কেজি (৪) বিদেশী মদ-০২ বোতল, (৫) ইয়াবা-৩৪০০ পিস, (৬) জাল নোট-২৫০০০/- টাকা, (৭) মাদকদ্রব্য বিক্রয়কৃত নগদ-৫৬,৭৮৫/- টাকা, (৮) মোবাইল-১২ টি, সিম-১১ টি উদ্ধার করে।
ধৃত আসামীগণকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম (১) মোঃ হিরা মাঝি(৩৮), পিতাঃ ইঙ্গল মাঝি, (২) মোঃ বিপ্লব বেপারী(২৬), পিতাঃ মোঃ লিয়াকত আলী বেপারী, উভয় সাংঃ কটকস্থল, থানাঃ গৌরনদী, জেলাঃ বরিশাল, (৩) পলাশ কুমার মিত্র(২৮), পিতাঃ সন্তোষ কুমার মিত্র, সাংঃ সুন্দরদী, থানাঃ গৌরনদী, জেলাঃ বরিশাল বলে জানায়। উক্ত অস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা কোন বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি। উক্ত আসামীগণ বড় ধরণের নাশকতা অথবা অপরাধ সংঘটনের জন্য এই অবৈধ অস্ত্র মজুদ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। উক্ত আসামীগণ দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে ফেন্সিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ক্রয় করে এবং বরিশাল জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে থাকে। র্যাবের এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এই ব্যাপারে র্যাব-৮, বরিশাল সিপিএসসি’র ডিএডি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বরিশাল জেলার গৌরনদী থানায় একটি অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন।
-

বিজয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে বরিশালে পতাকা র্যালি
জাকারিয়া আলম দিপুঃ প্রতি বছরই আসে ১৬ ডিসেম্বর, আসেবিজয়ের দিন। আবারও ‘বিজয় কেতন উড়ল’ দেশজুড়ে। বিজয়ের রঙে রাঙিয়ে দেশব্যাপী উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ৪৮তম মহান বিজয় দিবস। ৩০ লাখ শহীদেরপ্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধেরচেতনায় বাংলাদেশ গড়ার নতুন করে বজ্রকঠিন শপথ নিয়েছে বীর বাঙালি। শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবার কণ্ঠে-গানে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছে ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। ১৯৭১ সালের১৬ ডিসেম্বর প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝলমলিয়ে উঠেছিল বাংলার রক্তস্নাত শিশির ভেজা মাটি,অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনেরকালো অধ্যায়। নয় মাসের জঠর-যন্ত্রণা শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ স্বাধীন-সার্বভৌমবাংলাদেশ। প্রায় ৯২ হাজার পাকিস্তানি বাহিনী ঐতিহাসিক রোসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দীউদ্যান) আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল এই মাহেন্দ্রক্ষণ। হানাদার বাহিনীরবিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করে এইদিনই বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল লাল-সবুজের পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। বরিশালেও ছিল না এর ব্যাতিক্রম। বিজয়দিবস ২০১৮ উপলক্ষ্যে গত বছরের ন্যায় এবারো ‘হাসান মাহমুদ রিফাতে’র নেতৃত্বে দীর্ঘ আকারে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে র্যালি করেছে বরিশালের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সাধারণ ছাত্ররা। র্যালিটি বি.এম কলেজএলাকা থেকে শুরু করে বরিশালের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং বরিশাল বেলস পার্কের(বঙ্গবন্ধু উদ্দ্যান) অনুষ্ঠানেঅংশগ্রহণের মাধ্যমে র্যালির সমাপ্তি ঘটায়। র্যালিটি সত্যিকার অর্থেই বরিশালবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। । বরিশাল বি.এম.কলেজ রোড, জিন্নাত মঞ্জিল নিবাসী মো: শফিকুল আলম মুকুল এর ছেলে হাসান মাহমুদ রিফাত(১৭)। বরিশাল জিলা স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। গত বছরের বিজয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা নিয়ে র্যালি করেছিল বরিশালের স্কুল ছাত্র হাসান মাহমুদ রিফাত। -

বিজয় র্যালীর নামে বরিশালে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে শিবির, নগরজুড়ে আতংক
অনলাইন ডেস্ক// বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারকারী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বরিশাল নগরীতে। এই দলের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হওয়ায় দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। বেপরোয়া সন্ত্রাসবাদিতার কারনে দেশে-বিদেশে সমালোচিত এই সংগঠনটি নগরীতে দীর্ঘ দিন ঘাপটি মেরে থাকলেও বিজয় দিবসে প্রকাশ্যে আসায় আবারও আতংক ছড়িয়ে পরেছে গোটা নগরীতে। কিন্তু এই পুরো বিষয়টির কিছুই জানে না বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।
একটি সূত্রে জানিয়েছে, প্রকাশ্যে শিবিরের শো-ডাউনের তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ওই দিন আনুমানিক ভোরে বিএম কলেজ এলাকা থেকে শুরু করে নতুন বাজার পর্যন্ত কয়েক শ’ শিবির কর্মীর বিজয় দিবসের র্যালীর ব্যানারে শোডাউন করে। ব্যানারে উল্লেখ করে, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো।’ যদিও এই শিবির স্বাধীনতার বিরোধীতা করে আসছে এবং স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও তারা মহান মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে নেয়নি। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওতে শিবির উল্লেখ করেছে, ‘আলহামদুল্লিাহ, আবারও শিবির ধ্বনিতে প্রকম্পিত পুরো দেশ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্নাঢ্য বিজয় র্যালীর আয়োজন করে ছাত্র শিবির বরিশাল মহানগরী।’
ভিডিওতে দেখা গেছে, শোডাউনটি নতুনবাজারস্থ স্বর্ণা জেনারেল স্টোর ও সিটি জেনারেল স্টোর্স-এর সামনে সমবেত শিবির কর্মীরা একটি সমাবেশ করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় ছাত্র শিবিরের বির্তক বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান। সমাবেশের বক্তব্যে হ্যান্ড মাইকে ওই নেতা বলেন, ‘রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলে প্রয়োজনে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করবো।‘
শোডাউনের সামনে বেশ কয়েকজন শিশুদের বিজয় দিবসের লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড বহন করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ বলেন, এই সংবাদ অত্যান্ত উদ্বেগের। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তাদের বিজয় দিবস পালনের শোডাউন করাটার পেছনে ভিন্ন কোন ইঙ্গিত বহন করছে। আমি সরকার ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রাখবো, বিষয়টি যেন গুরুত্বসহকারে দেখে এবং যারা শোডাউন করেছে সেই শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলার সভাপতি এ্যাড. এ.কে আজাদ মনে করেন, বাংলাদেশে জামায়াত বা তার অঙ্গ সংগঠনের বিজয় দিবসের র্যালী করার কোন অধিকার নেই। শুধু জামায়াত কেন সাম্প্রদায়িক কোন গোষ্ঠিরই বিজয় দিবসে কোন কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই। কেননা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনায়। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিজয় দিবসে শিবিরের র্যালী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র। জনগনের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে হালকা করার জন্য শিবির এই পথ বেছে নিয়েছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবী জানিয়ে আজাদ আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর আ.লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবলু বলেন, বিজয় দিবসে র্যালী করার মাধ্যমে শিবির প্রকারন্তরে দিবসটিকে অবমাননা করল। ঘাপটি মেরে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের এই সংগঠন প্রমাণ করে দিল তারা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। যা আমাদের জন্য একটি অশনি সংকেত। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সকলের অনুধাবন করা উচিত।
শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জী বলেন, ব্যাক্তিগতভাবে আমি মনে করি বরিশালের পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। সে কারনে দেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় পান না। শিবিরের বিজয় র্যালী প্রসঙ্গে আরও বলেন, র্যালীটি হয়তো দু-একদিনে পরিকল্পনায় করেছে। কিন্তু নগরীতে জামায়াত শিবিরের যতগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে সেখানে কি শেখানো হয় তা দেখছে না পুলিশ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টাকা কোথায় যায় তা খতিয়ে দেখছ না। পুলিশের এই নিবরতায় স্বাধীনতার বিরোধী শত্রুরা সংঘটিত হচ্ছে। এর খেসারত আমাদেরই দিতে হবে।
পুলক চ্যাটার্জী মনে করেন, আর কাল ক্ষেপন না করে পুলিশের উচিত শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা।
বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী মজুমদার বলেন, নির্বাচনের আগে শিবিরের সংগঠিত এই র্যালী আসলেই উদ্বেগের কারন। র্যালীটি যদি পুলিশ-প্রশাসনের অজ্ঞাতসারে করে থাকে তাহলে বলব, প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমি মনে করি অতি দ্রুত শিবির কর্মীদের সনাক্ত করা উচিত।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম জানান, ছাত্র শিবির নগরীতে র্যালী করেছে সে সম্পর্কে আসলে স্পষ্ট করে কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরাও লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু কোথায় ও কারা করেছে তা জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (অতি: আইজিপি) মো: মোশারেফ হোসেন বলেন, আমরা শিবিরের র্যালীর বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। শিবির সংগঠিত হচ্ছে এমন তথ্য অমূলক। এতে ভয়ের কিছু নেই। বরিশাল পুলিশ তৎপর রয়েছে। শিবির কোন ক্ষতি করতে পারবে না বলে আশ্বাস প্রদান করেন পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত, বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে শিবিরের সমাবেশস্থলের দুরত্ব ছিল মাত্র দেড়শ গজ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবসায়ীরা।
-

কামাল হোসেনকে দেখে নিতে আমি একাই যথেষ্ট: মতিয়া চৌধুরী
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শেরপুর-২ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ড. কামাল হোসেন মাকাল ফল। যার বাইরে এক রকম আর ভিতরে অন্য রকম।
শনিবার দুপুরে নকলা উপজেলার মুক্তিরবাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ কথা বলেন তিনি।
কামাল হোসেনের সাংবাদিককে ‘খামোশ’ বলে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, কামাল হোসেনকে দেখে নিতে আমি একাই যথেষ্ট। কামাল সাহেব তো আইনের লোক, আইনে তাকে দেখার মত সুযোগ রয়েছে।
এদিন তিনি টালকী ও গোড়দার ইউনিয়নে বেশ ক’টি পথ সভায় বক্তব্য দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
-

ঐক্যফ্রন্টকে ভয় পেয়েছেন শেখ হাসিনা: রব
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে শেখ হাসিনা ভয় পেয়েছেন। নির্বাচন থেকে কিভাবে পালিয়ে যাওয়া যায় সেই পথ খুঁজছেন তিনি।
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের রোডমার্চের সময় শনিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন সরকারের বাড়ি প্রাঙ্গণে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে আ স ম আবদুর রব বলেন, আপনি যদি চলে যেতে চান, তাও দেবো, আমরা বিজয়ী হলে কারো প্রতি নির্যাতন করবো না। ধানের শীষ শুধু বিএনপির প্রতীক নয়, এটা দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতীক।
গাজীপুর-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন সরকারের সমর্থনে এ পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকার।
আ স ম আবদুর রব বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর উল্লাস করেছে, শেখ হাসিনা তাদের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বাক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গাজীপুর ২ আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার প্রমুখ।
