Author: Banglarmukh24

  • বর্জ্য অপসারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কর্তৃপক্ষের সাফল্য দাবি

    বর্জ্য অপসারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কর্তৃপক্ষের সাফল্য দাবি

    কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৯০ শতাংশ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। আর উত্তরের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা দাবি করেছেন, জনগণ আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তাই ‘সাফল্যের সঙ্গে’ এই বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার পৃথক দুই সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন দুজন।

    বেলা দুইটার দিকে বর্জ্য অপসারণ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করেন সাঈদ খোকন। নগর ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করব। সেই কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। ডিএসসিসি এলাকায় আজ এবং আগামীকালও কোরবানি হবে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত বর্জ্য থাকবে, ততক্ষণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে থাকবে। আমরা শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে বর্জ্যমুক্ত নগরী উপহার দেব।’

    মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার মেট্রিক টন কোরবানির বর্জ্য হবে। এরই মধ্যে ১৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কাল শুক্রবারও কোরবানি হবে, তাই কাঙ্ক্ষিত ২০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করে আমরা নগরবাসীকে শতভাগ পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেব।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ।

    স্থপতি মোবাশ্বর হোসেন বলেন, ‘চেষ্টা করলে সম্ভব, এটা মেয়র সাঈদ খোকন প্রমাণ করেছেন। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত নগর ভবনে উপস্থিত থেকে এটি নিশ্চিত করেছেন। আশা করছি অন্যান্য সমস্যা নিরসনে তিনি তৎপর হবেন।’

    কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন সন্তোষজনক কাজ করেছে। এটি প্রশংসনীয়, তবে নাগরিকেরা কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করেননি। আশা করছি আগামীবার তাঁরা এ বিষয়ে সচেতন হবেন।

    জনগণ আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে
    কোরবানি পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ‘চ্যালেঞ্জিং কাজ’ হিসেবে তুলনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেছেন, পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে তাঁরা এ কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং বর্জ্য ব্যাগ এবং ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার বেড়েছে।
    গুলশানে সিটি করপোরেশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন জামাল মোস্তফা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় প্রথম দিনে আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। ডিএনসিসির ১৮৩টি পশু জবাইর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক কমপ্লেক্সের ভেতরে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত ৩৬৬টি স্থানসহ মোট ৫৪৯টি স্থানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে জনগণের সাড়া ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

    গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা। ছবি: ডিএনসিসির সৌজন্যে পাওয়াপ্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে ৭, ২৭ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডকে কোরবানি পশুর বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা করেছেন। এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডকেও বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসটিএস এবং নির্ধারিত স্থানে কন্টেইনারে বর্জ্য জমা হওয়ার পরপরই তা ল্যান্ডফিলে পরিবহনের কাজ শুরু হয়।

    জামাল মোস্তফা বলেন, পরিচ্ছন্নতা কাজে ২৮০টি বিভিন্ন ধরনের যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত ছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিজস্ব ২ হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সর্বমোট ৯ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিরলস পরিশ্রম করে ঢাকা শহরকে আবর্জনামুক্ত করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন, তারেকুজ্জমান রাজিব, ডা. জিন্নাত আলী, দেওয়ান আব্দুল মান্নান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মমতা বললেন, শুক্রবার থেকে সিরিয়ালের শুটিং

    মমতা বললেন, শুক্রবার থেকে সিরিয়ালের শুটিং

    ‘মা-ভাইবোনেরা কাল থেকে আবার সবাই সিরিয়াল দেখতে পাবেন।’ ভারতের বাংলা টিভি চ্যানেলের মেগা সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের বললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে নবান্নে নিজের কার্যালয়ে মমতা বৈঠকে বসেন। স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় শুরু হয় আলোচনা। এখানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজকদের সংগঠন, আর্টিস্ট ফোরাম, টেকনিশিয়ান আর বিভিন্ন চ্যানেলের প্রতিনিধিরা।

    আবার মেগা সিরিয়ালগুলোর নতুন নতুন পর্ব দর্শক দেখতে পাবেন। কারণ আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সিরিয়ালগুলোর শুটিং। তাহলে শিল্পীরা যেসব দাবি আদায়ের জন্য গত শনিবার থেকে ধর্মঘট করছেন, সে ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘টালিউড ও টেলিউড বাংলার গর্ব। বাংলার এই শিল্প অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের জোগান দেয়। তাই সব পক্ষ যাতে খোলামেলাভাবে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে পারে, তার জন্যই আজকের এই বৈঠক ডাকা হয়। শুধু তা-ই নয়, বৈঠকে সবাই খোলামেলাভাবে আলোচনা করেছেন। একসঙ্গে কাজ করতে হলে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেসব মিটে গেছে। শুক্রবার থেকে আবার শুটিং শুরু হবে।’

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘শিল্পীরা যাতে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বেতন পেয়ে যান, সেই বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বাংলা সিরিয়াল বন্ধ হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বহু মানুষ সিরিয়াল দেখে অবসর সময় কাটান। এমনকি আমি নিজেও সিরিয়ালের একজন দর্শক।’

    এখানে জানানো হয়, বাংলা সিরিয়ালের শিল্পী আর টেকনিশিয়ানদের দাবি বিবেচনার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকছেন প্রযোজক, কলাকুশলী, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের প্রতিনিধিরা। আছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিং রানে, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বরূপ বিশ্বাস, অপর্ণা ঘটক, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, জি বাংলার সম্রাট ঘোষ, স্টার জলসা, কালারস বাংলাসহ সব টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাজ করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রতি মাসে এই কমিটি বৈঠকে বসবে। যেসব সমস্যা সামনে আসবে, এই কমিটি আলোচনা করে দ্রুত তার সমাধান করবে।

    এই কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে খুব সহজেই মিটে গেছে সমস্যা। আপনারা এই বার্তাটুকুই পৌঁছে দিন। কার সঙ্গে কী ঝগড়া, সেই সব লিখবেন না।’

    মমতার এই সিদ্ধান্তে খুশি বিরোধে লিপ্ত মেগা সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ। সমস্যার সমাধানের জন্য সব পক্ষই ধন্যবাদ জানায় তাঁকে।

    ‘টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ধর্মঘটের জেরে আপনাদের প্রিয় ধারাবাহিকের শুটিং এখন বন্ধ আছে। তাই আপনাদের প্রিয় ধারাবাহিকের নতুন পর্ব সম্প্রচার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য দুঃখিত। শিগগিরই আপনারা প্রিয় ধারাবাহিকের নতুন পর্ব দেখতে পাবেন। সঙ্গে থাকুন।’ গত সোমবার থেকে ভারতের সব কটি বাংলা চ্যানেলে সিরিয়ালের প্রচার শুরু হওয়ার আগে জনপ্রিয় শিল্পীদের দিয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সেদিন থেকে ভারতের সব কটি বাংলা চ্যানেলে সিরিয়ালগুলোর কোনো নতুন পর্ব প্রচারিত হচ্ছে না। দেখানো হচ্ছে পুরোনো পর্বগুলো থেকে। জানা গেছে, কলকাতার টিভির আর্টিস্ট ফোরামের ধর্মঘটের কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    দিনের পর দিন ওভারটাইম করে প্রাপ্য টাকা না পাওয়া, বেতন নিয়ে জটিলতা৷ এ ধরনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে শিল্পীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ছাড়া যাঁদের সঙ্গে চুক্তি আছে, সেই শিল্পীরা ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। চুক্তির বাইরের শিল্পীরা সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা কাজ করবেন। তবে কোনো শিল্পীকে দিয়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। আর মাসের যেকোনো সাত দিন একজন শিল্পীকে দিয়ে রাতে কাজ করানো যাবে। কিন্তু প্রযোজকেরা এসব দাবির ব্যাপারে ছাড় দিতে চান না। এর ফলে গত শনিবার থেকে ধর্মঘট শুরু করে শিল্পীরা।

    আগেই জানানো হয়েছে, গত ৭ জুলাই প্রযোজকদের সংগঠন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন প্রোডিউসার (ডব্লিউএটিপি) এবং শিল্পীদের সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের (ডব্লিউবিএমপিএএফ) বৈঠকে যৌথভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল বাংলা সিরিয়ালের শিল্পী ও কলাকুশলীদের বকেয়া পাওনা দ্রুত মেটানো এবং কাজের সময় ১০ ঘণ্টা নির্ধারণ। কিন্তু প্রযোজকেরা পরে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চাননি।

  • নেইমার রিয়ালে, ইঙ্গিত ব্রাজিলের চ্যানেলগুলোর সিদ্ধান্তে

    নেইমার রিয়ালে, ইঙ্গিত ব্রাজিলের চ্যানেলগুলোর সিদ্ধান্তে

    নেইমার-রিয়াল মাদ্রিদ নাটকের নতুন পর্ব। ব্রাজিলে দেখানো হবে না লিগ ওয়ানের খেলা, ফলে দেখা যাবে না নেইমারের খেলা। এতে অনেকেই নেইমারের দলবদলের ইঙ্গিত পাচ্ছেন

    কাব্য করে লাভ কী, যদি সেটা কাউকে শোনানো না যায়? অসাধারণ কোনো শিল্পের জন্ম দিয়েও কি কোনো লাভ আছে, যদি না সেটা উপভোগ করার কাউকে খুঁজে না পাওয়া যায়? এ প্রশ্নগুলোর সঙ্গে হাত ধরাধরি করেই একটি প্রশ্ন করে ফেলা যাক, কী লাভ গোল করে, সে গোলে যদি ভক্তেরা তালিই না দেয়!

    এমন প্রশ্ন নিজেকে নিজে করতেই পারেন নেইমার। কারণ, বিশ্বজুড়ে তাঁর অগণিত ভক্ত থাকতে পারে, তাঁর গোলে মন জুড়াতে পারেন। কিন্তু নেইমার নিজেও জানেন তাঁর সেরা ভক্তরা সবাই বাস করেন দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশে, ব্রাজিলে। গত মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগ মাতানো নেইমার এবারও দুর্দান্ত শুরু করেছেন লিগে, দুই ম্যাচে করেছেন দুই গোল। কে জানে এবার হয়তো লিগ ওয়ানের গোলের সর্বকালের সব রেকর্ডও ভেঙেচুরে দিতে পারবেন পরিপূর্ণ সুস্থ থাকলে। কিন্তু ব্রাজিলে থাকা তাঁর সবচেয়ে বড় ভক্তকুল যে সে মুহূর্তগুলোই দেখতে না পারেন, তবে পূর্ণ তৃপ্তি আসবে?

    গোলডটকমে ড্যানিয়েল এডওয়ার্ডস এ প্রশ্নটাই করেছেন নেইমারের কাছে। গত মৌসুমে ফেব্রুয়ারির পর আর খেলতে পারেননি, তার পরও ২৮ গোল করেছেন নেইমার। এবারও তাই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে গোলবন্যা আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু ব্রাজিলের টিভি দর্শকের সরাসরি তা দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, দেশটির টিভি সম্প্রচারকারীরা কেউ লিগ ওয়ানের টিভি স্বত্ব কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। নেইমার নিজেই যেখানে বলছেন পিএসজিতেই থাকবেন, এখানেই কিছু করে দেখাবেন, তাতে আস্থা রাখতে পারছে না তারা, নাকি ফ্রেঞ্চ লিগে যত রেকর্ডই ভাঙুন না কেন, সেটা গোনায় ধরতে চাইছে না কেউ!

    ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে ফ্রেঞ্চ লিগ ঢুকে পড়েছে এখন। এ লিগে গোল করে এখন তাই ইউরোপিয়ান সোনালি জুতার দৌড়ে থাকা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফ্রেঞ্চ লিগের মান নিয়ে ইউরোপের শীর্ষ চার লিগে একটু নাক সিটকানো ভাব আছে। এমনিতেই দুর্বল এক লিগে পিএসজির মতো কাতারি অর্থে ধনবান দল লিগটাকে আরও একপেশে করে দিচ্ছে। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টিকে থাকা মোনাকো থেকেও অর্থের ভারে সেরা তারকা নিয়ে যায় পিএসজি। ফলে ফ্রেঞ্চ লিগ নিয়ে ইউরোপে কেউই মাথা ঘামাতে যায় না। ইতালি কিংবা জার্মানিতেও একপেশে শিরোপা লড়াই, কিন্তু সেখানকার খেলার মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। লিগ ওয়ানের ক্ষেত্রে মান নিয়ে লড়াইয়ের মুখ নেই খুব একটা।

    এমবাপ্পে এরই মাঝে নেইমারের কাছাকাছি চলে এসেছেন তারকাখ্যাতিতে। ছবি: রয়টার্সনেইমারের জন্য তাই পিএসজি এক বড় ‘কিন্তু’ হয়ে উঠেছে। প্যারিসের ক্লাবে খেলে বিশ্ব ফুটবলে নজর কাড়ার তাই একটিই উপায়, আর সেটা হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। কিন্তু এক মৌসুমেই নেইমার-এমবাপ্পেকে কিনেও নিজের ভাগ্য বদলাতে পারেনি দলটি। শেষ ষোলোতেই বিদায় নিয়েছে গতবারও। এবারও যে এর ভিন্ন কিছু হবে, এমনটা আশা দেখাতে পারছে না কেউ।

    এর চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। লিওনেল মেসির ছায়ায় থাকবেন না বলে পিএসজিতে এসেছেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিলেন বলেই রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার প্রসঙ্গে বারবার যতি পড়েছে। কিন্তু এবার পিএসজিতে যে বয়ঃকনিষ্ঠ এমবাপ্পের আড়ালে পড়ার দশা। একে তো সদ্য বিশ্বকাপ জেতায় ফ্রান্স ও প্যারিসের নয়নের মণি এখন এমবাপ্পে। ক্লাবের জার্সি বিক্রিতে তাঁকে পোস্টার বয় বানিয়েছে ক্লাব। আবার গত সপ্তাহেই নেইমার মাঠে থাকা অবস্থায় ১-০ তে পিছিয়ে পড়া দলকে উদ্ধার করেছেন বদলি নামা এমবাপ্পে। এ মৌসুমে এমন কিছু বারবারই হয়তো দেখা যেতে পারে।

    এ কারণেই নেইমারের রিয়ালে যাওয়ার গুঞ্জন আবারও শুরু হয়েছে। মাসের শুরুতেই একদম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নেইমারকে নেওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ জানিয়েছে রিয়াল। কিন্তু অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা ৩০০ মিলিয়ন ইউরো এবং দলবদলে কোনো ফরোয়ার্ড কেনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না থাকা ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সাবেক বার্সেলোনা তারকা রিভালদো যেমন বিশ্বাস করেন, নেইমার একদিন রিয়ালে খেলবেনই, ‘আপাতত আমি ওর কথা বিশ্বাস করছি যে সে পিএসজিতে থাকবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা শুনেছি, আগে হোক পরে হোক সে রিয়ালে যাবে।’ আর এবারই পিএসজি থেকে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে আসা ইউরি বেরচিচেও বলছেন সাবেক সতীর্থকে খুব শিগগির লা লিগায় সঙ্গী পাবেন, ‘ও ফিরবে বলেই মনে হয় তবে নীল-লালে (বার্সেলোনা) নয়, সাদাতে (রিয়াল)। সে বার্সেলোনাতে খুব সুখী ছিল। সে এখনো লা লিগা খুব পছন্দ করে। আমি জানি কারণ ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব আছে, সে অসাধারণ মানুষ। সে মাদ্রিদে এলে তার জন্য শুভকামনা।’

    মাদ্রিদে নেইমারের চলে আসার কথা যত সহজে বলা হচ্ছে, কাজটা এর চেয়ে অনেক কঠিন। একে তো ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর ট্যাগ, সে সঙ্গে মৌসুমে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ইউরো বেতনের ব্যাপারটাও আছে। রোনালদোকে এর চেয়ে প্রায় অর্ধেক বেতন দিত রিয়াল। কিন্তু একই মৌসুমে জিদান ও রোনালদোকে হারানো ক্লাবটি সমর্থকদের শান্ত করতে চায়। সেই সঙ্গে ক্লাবের গ্যালাকটিকো আনার সংস্কৃতির কথা চিন্তা করলে নেইমারের দলবদল এখনো আলোচনায় পানি পাচ্ছে। আর ব্রাজিলিয়ান টিভি সম্প্রচারকারীদের লিগ ওয়ানের টিভি স্বত্ব না কেনার সিদ্ধান্ত যে সুদূরপ্রসারী কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এ কথাও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না!

  • ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা দূরের পর্যটক কম, আশপাশের বেশি

    ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা দূরের পর্যটক কম, আশপাশের বেশি

    কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে এবার ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে পর্যটকদের তেমন একটা পদচারণ নেই। দূর-দূরান্তের পর্যটক-দর্শনার্থীদের তুলনায় পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে। এখানকার হোটেলগুলোর ২৫ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ঈদের দিন বিকেল থেকে সদলবলে মানুষজনকে সৈকত এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। অনেকে আবার কুয়াকাটায় ঘুরতে আসার সুযোগে পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে সাগরে গোসল করেছেন। এসব মানুষের বেশির ভাগই ছিল বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলার। এক কথায় ঈদের দিন বিকেল থেকে রাত অবধি আশপাশের এলাকার মানুষের সমাগম ছিল সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাতে।

    বরিশালের বাসিন্দা আহসান হাবীব বললেন, ঈদের সকালটা নিজ বাসাতে পরিবারের সবার সঙ্গে কাটিয়েছেন। বিকেলের দিকে পরিবারের সবাই কুয়াকাটায় চলে আসেন। ঘোরাফেরা করে আবার রাতেই বরিশাল ফিরে যাবেন।

    এবারের ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটাতে বেড়াতে আসা বেশির ভাগ লোকই ঘুরেফিরে সন্ধ্যার পর নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন। এর কারণে আবাসিক সব হোটেল-মোটেল বলতে গেলে বোর্ডারশূন্য ছিল।

    ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা সেভাবে না হওয়ায় কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলসহ পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত লোকজনের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে শুক্র ও শনিবার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

    কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পর্যটক না থাকার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো কুয়াকাটা সৈকতের অব্যাহত ভাঙন, কুয়াকাটায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থাপনা না থাকা, কুয়াকাটা সৈকতসহ পাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা থেকে মৎস্য বন্দর মহিপুর পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার বেহাল এবং বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস না থাকাটাও বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

    ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. শাহীন আলম ও এইচ এম গাফফার বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের ছুটিতে ছোট দোকানদারেরা দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, বড় দোকানদারেরা আরও বেশি বিক্রি করেছেন। সব ব্যবসায়ী গত বছর ভালো মুনাফা করেছেন। এবার পর্যটক কম হওয়ার কারণে বিক্রি কম হয়েছে। টুকটাক যা বিক্রি হয়েছে, তা বলার মতো নয়। বিক্রির অবস্থা যে এতটাই কম হবে, তা আগে অনুমান করতে পারেননি বলে এ দুই ব্যবসায়ী জানান।

    কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘বছরের দুটি ঈদ এবং শীত মৌসুমে পর্যটকদের আগমনের ওপর কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য নির্ভর করে। সেসব বিশেষ দিনেও যদি কোনো পর্যটক না আসেন, তখন ব্যবসায়ীদের হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। এবারের ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা হয়নি বললেই চলে। এতে প্রত্যেক ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে লোকসানে পড়বেন।’ ব্যবসায়ীদের এ নেতা জানান, আবাসিক হোটেল-মোটেল, খাবার হোটেল, ঝিনুক ব্যবসায়ীসহ পর্যটনকেন্দ্রিক সব ব্যবসায়ীরা আগামী দুদিনের ভালো বেচা-কেনার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

    কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেছেন, কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টির মতো আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি হোটেলই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। এসব হোটেলের মাত্র ২৫ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। তা-ও মাত্র শুক্র-শনিবারের জন্য। গত বছর এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছিল বলে তিনি জানান।
    মোতালেব শরীফ বলেন, বরিশাল-পটুয়াখালী থেকে সরাসরি কুয়াকাটায় যাতায়াতের বাস সার্ভিস চালু না থাকায় পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তা ছাড়া বরিশাল-পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো কলাপাড়ায় এসে যাত্রীর জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এ কারণে কুয়াকাটায় কেউ আসতে চান না। পর্যটকদের স্বার্থে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানান তিনি।

    কুয়াকাটার একাধিক আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক বলেছেন, তিন-চার মাস ধরেই কুয়াকাটায় হোটেল ব্যবসায় মন্দা চলছে, যার কারণে প্রতিটি হোটেলের মালিকপক্ষকে অন্য খাত থেকে টাকা জোগাড় করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের আগে বেতন দিতে হয়েছে। এবার পর্যটক কম থাকার কারণ চিহ্নিত করে হোটেল ব্যবস্থাপকেরা আরও বলেন, গত বছর আবহাওয়া ভালো ছিল। সে সময় ছুটিও বেশি ছিল। এবার মাত্র দুদিন বন্ধ। রোববার থেকে আবার সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে যাবে। এ ছাড়া এবার প্রবল বর্ষণ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার কারণেও কুয়াকাটায় দর্শনার্থী-পর্যটক কম হয়েছে।

    পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাখিমারা থেকে মহিপুর পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। এর কারণে ওই সড়কটুকুর কোনো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। আশা করছি অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

    কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার কাছে কুয়াকাটার সার্বিক সমস্যার কথা জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ২০০ গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী মাসের মধ্যে দরপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করা যাবে। এ ছাড়া শহর উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত আরও ১৭ কোটি বরাদ্দ রয়েছে।

  • রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

    রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

    যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বুধবার সারাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ঈদের প্রথম জামাত হবে সকাল ৮টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহ্‌সানুল হক। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকার মিরপুরের জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়ার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্‌যামান। রাষ্ট্র্রপতি আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, মেয়র সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করবেন।

    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন- প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, তৃতীয় জামাতে মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মারুফ, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী।

    সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একমাত্র জামাতটি সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা এ জামাতে অংশ নেবেন। রাজধানীতে সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই জামে মসজিদে। এর আগে এখানে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামবাগ ঈদগাহ ময়দানে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্র্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতিব জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শাইখুল হাদিস মাওলানা হাফেজ মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ দ্বীনের আলো জামে মসজিদের খতিব ও জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি বশীরুল হাসান খাদেমানী এবং তৃতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেজ নোমান আহমদ। বৃষ্টিজনিত কারণে ঈদগাহ মাঠে যদি নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে ইসলামবাগ বড় মসজিদে উপরোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী পরপর তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনে মেয়র সাঈদ খোকন :ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন গতকাল জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করেন। এ সময় মেয়র বলেন, প্রধান জামাতের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো এবারই ডিএসসিসির সৌজন্যে রাস্তায় নামাজ আদায়কারীদের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য বোতলজাত পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    মেয়র আরও জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ঈদগাহ এলাকায় বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসানো হয়েছে। সেইসঙ্গে রাখা হচ্ছে জরুরি টেলিফোন বুথ এবং গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। ঈদের নামাজে এসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে জাতীয় ঈদগাহে।

    জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে পারবেন। প্রায় পাঁচ হাজার নারীর জন্যও নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। নামাজের আগে একসঙ্গে ১৫০ জন পুরুষ এবং ৫০ জন নারী ওজু করতে পারবেন।

    ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীর মৃত্যু

    সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীর মৃত্যু

    রাজধানীর সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে এক লঞ্চের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আরেক লঞ্চের এক যাত্রী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন। বয়স অনুমানিক ৫২ বছর। মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে ঈদ করতে বরগুনায় যাচ্ছিলেন তিনি।

    নৌ পুলিশের সুপার মো. আতিকুর রহমান বলেন, দুপুর পৌনে একটার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এমভি পূবালী লঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। লঞ্চটি ৭ ও ৮ নম্বর পন্টুনের মাঝামাঝি ভেড়ানো ছিল। এই সময় এমভি যুবরাজ নামের আরেকটি লঞ্চ পন্টুনে ভিড়তে গিয়ে এমভি পূবালীকে ধাক্কা দেয়।এতে ছিটকে গিয়ে লঞ্চের কার্নিশে ধাক্কা খান দেলোয়ার।

    তিনি জানান,  মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।

  • আজ সেই ভয়াল দিন

    আজ সেই ভয়াল দিন

    স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার চতুর্দশ বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এতে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন প্রায় তিনশ’।

    সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের ডাকে সেদিন ওই শান্তি সমাবেশ শেষে শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ামাত্রই শুরু হয় মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলা। ট্রাকমঞ্চে শেখ হাসিনার সঙ্গে উপস্থিত নেতারা মানববর্ম রচনা করে তার জীবন রক্ষা করলেও ২২ নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় গ্রেনেডের স্পিল্গন্টারের আঘাতে আহত শত শত মানুষের বেশিরভাগই দুঃসহ যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন এখনও। ইতিহাসের নৃশংসতম এই গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকার্য এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে ২১ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তারা।

    দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ আজ ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আইভি রহমানসহ গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ‘ড্রিমলাইনার ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি’

    ‘ড্রিমলাইনার ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি’

    বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ইন্টারনেট বিপ্লব ও নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের নানা উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এবার আকাশপথেও ডিজিটাল স্বপ্নবিলাসও পূরণ হয়েছে। আধুনিক মডেলের নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিমান। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে ভ্রমণকালে পৃথিবী থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না যাত্রীরা। প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সারতে পারবেন সব দাফতরিক কাজ।

    অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সুবিধার সঙ্গে বিমানটিতে থাকবে ইন্টারনেট ও ফোনে কথা বলার সুযোগ। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। বিমানে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক যাত্রী ১৫ মিনিটের জন্য বিনামূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর কোনো যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে চার্জ দিতে হবে। ১০০ মেগাবাইটের জন্য ৮ ডলার, ৩০০ মেগাবাইটের ১৬ ডলার আর ৬০০ মেগাবাইটের জন্য ৩২ ডলার হারে চার্জ দিতে হবে যাত্রীদের।

    বিমান পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী (অব.) বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পছন্দে এর নামকরণ হয়েছে ‘আকাশবীণা’। আরও তিনটি ড্রিমলাইনার বিমান বহরে যুক্ত হবে।

    তিনি বলেন, ড্রিমলাইনারগুলো বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশেরও একটা প্রতিচ্ছবি হবে। যাত্রীরা বিমানে বসেই অনেক বাণিজ্যিক বা দাফতরিক কাজ সেরে ফেলতে পারবেন।

    বিমানের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ বলেন, আকাশপথে এমন স্বপ্নবিলাস সার্থক করতে আধুনিক মডেলের নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিমান। সরকারের আন্তরিকতা না থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে উড়োজাহাজ আনা সম্ভব হতো না। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের একটি সিড়ি হিসেবে কাজ করবে।

    রোববার বিজি-২৮০১ ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পেনফিল্ড থেকে কোনো যাত্রাবিরতি ছাড়াই টানা সাড়ে ১৪ ঘণ্টা উড়ে ঢাকায় আসে।

    উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ছয়টি বিমান। বাকি চারটি বিমান হলো বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। এর প্রথমটি রোববার বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। বাকি তিনটির একটি এ বছর নভেম্বরে এবং সর্বশেষ দুটি আগামী বছর সেপ্টেম্বর মাসে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

    ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

    ঈদের দিন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজনীতিবিদ, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণ এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

    এর আগে ওই দিন সকাল ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগায়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

  • চিড়িয়াখানায় নতুন ৮ অতিথি

    চিড়িয়াখানায় নতুন ৮ অতিথি

    রাজধানীর মানুষের ঈদ বিনোদনে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন আট অতিথি আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদ উৎসব বাড়াতে চিড়িয়াখানাকে করা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। থাকছে স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা। এছাড়া জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

    জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য ঈদের চাইতে এবার অনেক ভালো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে নতুন করে কয়েকটি প্রাণি আনা হয়েছে। তার মধ্যে চারটি আফ্রিকান সিংহ ও দুইটি কালো ভাল্লুক রয়েছে। আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে ছোট দুইটি উট। এছাড়াও অষ্ট্রেলিয়ার থেকে কালো ক্যাঙ্গারু আনা হবে; যা দেখে ছোট-বড় সকল বয়সী দর্শনার্থীরা বিভিন্ন বিনোদন উপভোগ করবেন।’

    মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো চিড়িয়াখানা জুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে ব্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী চোখে পড়ার মতো না থাকলেও দুর্গন্ধহীন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে। প্রকৃতি যেন চায় ঈদ বিনোদনে দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানাকে পরিচ্ছন্ন স্থানে রূপান্তর করতে। সোমবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাতের বৃষ্টি সকল প্রাণি শেড ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে দিয়েছে।’

    মঙ্গলবার রাতে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাবেন মিরপুরে ১১ নম্বরে বসবাসকারী ব্যাংকার মো. মোশাররফ হোসেন। রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার আগে ঈদ বিনোদনে দুই সন্তান ও ভাতিজাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘টিকিট কাটা আছে, আজ রাতে বাড়ি যাব। ঢাকা ছাড়ার আগে বাচ্চাদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৫ সালে প্রথম চিড়িয়াখানায় এসেছিলাম। তবে এখন সে সময়ের চাইতে বেশি প্রাণি বাড়ানো হয়নি। তবে আগের চাইতে দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি নতুন কিছু প্রাণিও যোগ হয়েছে।’

    চিড়িয়াখানায় এসে নতুন প্রাণি দেখতে পেয়ে তার সন্তানদের মধ্যেও ছিল এক ধরনের উদ্দীপনা।

    তবে বেড়াতে আসা কিছু দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নানা ধরনের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন। কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিড়িয়াখানায় নতুন প্রাণি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ যেগুলো আছে তাদের মধ্যে অনেক প্রাণিকে দেখে রোগা ও ক্ষুধার্ত মনে হয়। বাইরে থেকে কেউ কিছু দিলে দৌঁড়ে এসে খেয়ে নেয়। আরও খাবার পাওয়ার জন্য তাকিয়ে থাকে।

    তাদের অভিযোগ, খাঁচার বাইরে বানর ঘুরতে দেখে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সহায়তা কেন্দ্রে ফোন করলেও কেউ ধরেনি। দায়িত্বরত কর্মচারীদের ডাকলেও তাদের কেউ গুরুত্ব দেয়নি। পরে দর্শনার্থীর ভিড় দেখে পরে বানরটি গাছের মধ্যে পালিয়ে যায়।

    রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের ঈদ বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রস্থল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। বিশেষ করে ছোটদের জন্য এই বিনোদন কেন্দ্রটি অন্যতম হলেও ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এখানে সকল বয়সী মানুষ আসেন ঘুরে বেড়াতে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার ঈদে সকলের জন্য প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিসিটিভিসহ চার স্তারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আলাদা পার্কিং সুবিধা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। ঈদে উপচেপড়া মানুষের ভিড়ে প্রাণিদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। এসব প্রাণিদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে চারজন পশু ডাক্তার নিয়োজিত রয়েছেন।

    চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানান, ঈদে উপচেপড়া দর্শনার্থীদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে ১১টি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারা আগত দর্শনাথীদের সুবিধা দিতে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    তথ্য মতে, দেশের সবচাইতে বড় ১৮৬ একর জায়গা নিয়ে গঠিত মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসেন হাজারও দর্শনার্থী। চিড়িয়াখানায় রয়েছে মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণি, ১৯ প্রজাতির বড় প্রাণি (তৃণভোজী) ২৭১টি ও ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি।

    এছাড়াও রয়েছে ১০ প্রজাতির সরীসৃপ ৭২টি, ৫৬ প্রজাতির ১১৬২টি পাখি, এ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ১৩৬ প্রজাতির ২৬২৭টি প্রাণি। সবমিলিয়ে রয়েছে ১৩৭টি পশু-পাখির খাঁচা।

    চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম জানান, এবার ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক দর্শনাথীর আগমন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাই স্বল্পমূল্যে পর্যটনসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট বসানো হয়েছে।

    ‘বাইরে থাকা বানরটি শেডের ভেতরের নয়। এটি বাইরে ঘোরাফেরা করে’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেটিকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈদে বাড়তি সুবিধা দিতে বিভিন্ন প্রাণির খাঁচা সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া কন্ট্রোল রুম ও তথ্য কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখায় এসে দর্শনার্থীরা যাতে কাঙ্ক্ষিত বিনোদন পায় সেটি মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত চিড়িয়াখানা সংস্কার করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় অনেক প্রাণির প্রজনন হয়েছে উল্লেখ করে কিউরেটর বলেন, ‘এদের মধ্যে কয়েকটি প্রাণির বাচ্চাগুলো বড় হয়ে যাওয়ায় নতুন শেড তৈরি করে তাদের আলাদা করে রাখা হয়েছে।’

    বন্যপ্রাণিদের নতুনভাবে জানতে ও ঈদ বিনোদন উপভোগ করতে সকল বয়সী মানুষদের চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসার আহ্বান জানান কিউরেটর।