Author: Banglarmukh24

  • উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল-বিফল

    উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল-বিফল

    পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে দেড় দশক ধরে চলছে সামন্তবাদী একঘেয়েমি, উৎকণ্ঠার রাজত্ব। পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে দেশের ১৭ কোটি মানুষকে দিতে হচ্ছে ধৈর্যের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন আর দেশের মানুষ তা জানতে পারে বেলা দুটোর পর। কেননা, শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন আর সেখানে তিনি জাতির সামনে কৈফিয়ত দেবেন। কী কৈফিয়ত তিনি এবার দিয়েছেন? এবার নাকি ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে’ উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর তাই পাসের হার এবং জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে, সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী মন্ত্রী এত দিনে ‘বিজ্ঞানসম্মত উত্তরপত্র পরীক্ষণের সূত্র’ আবিষ্কার করেছেন। আর তাতে জাতি নিশ্চয় ধন্য হয়েছে। কী সে পদ্ধতি? কেউ তা জানে না।

    তাঁর আমলে শিক্ষার নামে দেশে পরীক্ষার মচ্ছব চলছে। বোল ফোটার আগেই পড়ুয়াকে বসতে হচ্ছে পরীক্ষায়। পরীক্ষা নামক দানবের খপ্পরে পড়ে লেখাপড়া লাটে উঠেছে, পড়ুয়ার নতুন নামকরণ হয়েছে পরীক্ষার্থী। দেশের সচেতন মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কোনো মূল্য নেই; পরীক্ষার মোচ্ছব চলছেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে আর লেখাপড়া জায়গা খুঁজে নিয়েছে কোচিং সেন্টারে।

    বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দুটো লুটপাটের জায়গা এখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। দুটোতেই লুটেরাদের একাধিপত্য। সেটা সম্ভব করে দিয়েছে এই রাষ্ট্র। তারই সূত্র ধরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আপন ঘরে অনিরাপদ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারাই।

    এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে দেশের মানুষের উৎকণ্ঠার সীমা ছিল না। মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রহসনের মধ্য দিয়ে। প্রায় সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। তাই দুশ্চিন্তা ছিল সবার। কিন্তু বাহবা সরকার পেতেই পারে। উচ্চমাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবার অন্তত ছিল না। নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নেওয়া গেছে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সুফল দিয়েছে। পরীক্ষার ফলে তার প্রভাব পড়েছে। কিন্তু মন্ত্রী সেটা উল্লেখ করেননি। তিনি এর মধ্যে ‘বিজ্ঞান’ আবিষ্কার করেছেন। আমরা জানি, যে বিজ্ঞানের কথা মন্ত্রী বলেছেন, সেটা আমলাদের বানানো বার্তা। সেখানে কোনো অভিনবত্ব নেই। শুধু সরকারের একটা সিদ্ধান্ত আছে, পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরে সহানুভূতিসূচক ২/১ নম্বর দিয়ে পাস বা পরবর্তী গ্রেড পাইয়ে না দেওয়া। ফলে কেউ ৩২ পেলেও সহানুভূতির এক নম্বর না পেয়ে ফেল করেছে; আবার ৭৯ পেয়েও মাত্র এক নম্বরের জন্য ৮০ নম্বর না পেয়ে জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত থেকেছে। এভাবে প্রান্তক নম্বর সংশোধনের বহু পুরোনো নীতির অবসান ঘটেছে। সেটাও গত এক বছর কার্যকর হয়েছে। সুতরাং এ বছর তার নতুন কোনো তাৎপর্য নেই। কিন্তু মন্ত্রী সেটাই বললেন, মুখস্থবিদ্যার মতো।

    আমরা যদি গত তিন বছরের সংখ্যাচিত্র পর্যালোচনা করি, তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখতে পাব। যেমন ২০১৬ সালে গড় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং এ বছর ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার গত বছরের চেয়ে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে, ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৮ হাজার ২৭৬, ২০১৭ সালে ৩৭ হাজার ৯৬৯ এবং এ বছর ২৯ হাজার ২৬২। দেখা যাচ্ছে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে এবং গত তিন বছরে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    এর পেছনে কী কী কারণ ক্রিয়াশীল ছিল? প্রথমত, প্রশ্ন ফাঁস না হওয়া এবং দ্বিতীয়ত প্রাপ্ত প্রান্তক নম্বর সংশোধন না করা (অর্থাৎ ৭৯ নম্বর পেলে তা ৮০ না করা)। কিন্তু আরও নানা কারণ যুক্ত বলেই মনে হয়। যেমন যখন-তখন সিলেবাস সংশোধন, প্রশ্নের মান পুনর্বণ্টন, মূল বই পড়তে শিক্ষার্থীদের অনীহা, নোট-গাইডের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা, উত্তরপত্র মূল্যায়নে কড়াকড়ি আরোপ ইত্যাদি। এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রসঙ্গ কেন? কী সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি? একই উত্তরপত্র ফটোকপি করে ২০ থেকে ২৫ জন প্রধান পরীক্ষককে দিয়ে প্রথমে মূল্যায়ন করা; তারপর তা পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত নমুনা উত্তরমালা তৈরি করে নির্দেশনা প্রস্তুত করা? এটি শিক্ষা বোর্ডে বহু পুরোনো এক পদ্ধতি। সুতরাং উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষামন্ত্রীর কথিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অভিনবত্বের কিছুই নেই।

    এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয় মানুষের নজর কেড়েছে। তার মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার কমে গড়ের কাছাকাছি (৬৬.৫১%) আসা। এই বোর্ডে পাসের উচ্চ হার দেশের গড় পাসের হারের চেয়ে সামঞ্জস্যহীনভাবে উঁচু (২০১৫ সালে ৭৭.৫৪%, ২০১৬ সালে ৭৫.৪০%, ২০১৭ সালে ৭১.৩০%) ছিল বলে গত কয়েক বছর সমালোচিত হয়ে আসছিল। এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণে দেখা গেল, আগের সেই অবিশ্বাস্য উচ্চ পাসের হার কমে গেছে। এদিকে সিলেট বোর্ডেও একই ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘকাল যাবৎ এই দুই বোর্ডের পাসের হার নিয়ে সমালোচনা ছিল।

    এবার ইংরেজির পাশাপাশি আইসিটি বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এবারের উচ্চমাধ্যমিকে ফল খারাপের অন্যতম কারণ হিসেবে ইংরেজির পাশাপাশি আইসিটি প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে—এ কথা যেমন উঠেছে, পাশাপাশি আইসিটি শিক্ষকের অভাবের প্রসঙ্গটিও সামনে চলে এসেছে। সরকারি কলেজগুলোয় আইসিটি পাঠ চলছে গোঁজামিল দিয়ে। সেখানে আইসিটি শিক্ষক নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ নেই। আবার আইসিটি শিক্ষকের যে যোগ্যতা ধরা হয়েছে, তাতে এ বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতেও আগ্রহী নন। কেননা, সরকারি কলেজে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার চেয়ে অন্যত্র তাঁরা বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারি কলেজেই যদি আইসিটির উপযুক্ত শিক্ষক না পাওয়া যায়, বেসরকারি কলেজে তা পাওয়ার আশা করা বাতুলতা মাত্র।

    দেশে স্কুল-কলেজগুলোয় লেখাপড়া লাটে উঠেছে। দুপুর ১২টার পর অনেক কলেজেই ছাত্রছাত্রীর দেখা মেলে না। তারা কোচিং সেন্টারে ছোটে। আর উঠে গেছে ব্যবহারিক ক্লাস। কয়টি কলেজে এখন বিজ্ঞান বিষয়গুলোর ব্যবহারিক ক্লাস হয়? পাবলিক পরীক্ষায় টাকা দিয়ে ব্যবহারিকে ফুল মার্ক পাওয়ার পাকা বন্দোবস্ত এখন সারা দেশে। নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ই এর প্রধান কারণ। সময় এসেছে এসব অনাসৃষ্টি থেকে জাতিকে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার।

    এবার দেশের ৫৫টি কলেজ থেকে একজনও পাস করেনি। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, এই কলেজগুলো স্থাপিত হয়েছে কীভাবে? সেগুলো কি বোর্ডের অনুমোদন পেয়েছে? গত দুই দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। আর সে ব্যবসার পেছনে যাঁরা সক্রিয়, তাঁদের থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা। সাধারণভাবে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আসল হোতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেই তার স্বীকৃতি আদায় করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শর্ত শিথিল’ করে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে লোকগুলোকে বাধ্য করে। শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসবের একটা বিহিত হওয়া দরকার।

    আমিরুল আলম খান: যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান

  • আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নিলেন ম্যাকেঞ্জি

    আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নিলেন ম্যাকেঞ্জি

    দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার নেইল ম্যাকেঞ্জি যে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন, সেটা জানা হয়ে গিয়েছিল আগেই। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার এক ই-মেইল বার্তায় সেই আনুষ্ঠানিকতাও সেরে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে ম্যাকেঞ্জিকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা।

    জাগো নিউজের পাঠকরা আগেই জেনে গেছেন, আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ম্যাকেঞ্জি। অর্থাৎ চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজেই সাবেক এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে পাবেন সাকিব-মুশফিকরা।

    ৪২ বছর বয়সী ম্যাকেঞ্জি একটা সময় দক্ষিণ আফ্রিকা দলে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর দেশের হয়ে ৫৮ টেস্ট এবং ৬৪টি ওয়ানডে খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। খেলেছেন ২টি টি-টোয়েন্টিও।

    ৫৮ টেস্টে ৩ হাজার ২৫৩ এবং ৬৪ ওয়ানডেতে ১ হাজার ৬৮৮ রানের মালিক ম্যাকেঞ্জি এই বাংলাদেশকেই একবার লজ্জায় ডুবিয়েছিলেন গ্রায়েম স্মিথকে সঙ্গে নিয়ে। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে গ্রায়েম স্মিথের সঙ্গে ৪১৫ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সেটাই রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি।

  • ফ্রান্সের পর যুক্তরাষ্ট্রকেও হারাল ‘বাংলাদেশ ফুটবল দল’

    ফ্রান্সের পর যুক্তরাষ্ট্রকেও হারাল ‘বাংলাদেশ ফুটবল দল’

    মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে শুরু হয়েছে স্পেশাল অলিম্পিক ইউনিফাইড ফুটবল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে হারলেও পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ ইউনিফাইড দল। আজ স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিল ২-১ গোলে।

    ইউনিফাইড ফুটবল দলটি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে সুস্থ ফুটবলারদের সমন্বিত দল। মোট ১৫ জনের দলে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর সঙ্গে সাতজন সম্পূর্ণ সক্ষম ফুটবলার খেলতে পারছেন। একাদশে খেলতে পারেন ছয়জন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে পাঁচজন সক্ষম খেলোয়াড়।

    আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই সোহানুর রহমান সোহানের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করেন আতিফ ও আহসানুর রহমত। স্বাগতিকেরা বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।

    টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-০ গোলের হার দিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র তো বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি।

  • খন্দকার ইসমাইল ও ঊর্মিলার ‘সেই চোখ’

    খন্দকার ইসমাইল ও ঊর্মিলার ‘সেই চোখ’

    খন্দকার ইসমাইল উপস্থাপক হিসেবেই বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে এই সময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর। এবার এ দু’জনের রসায়ন দেখা যাবে একটি টেলি ছবিতে। ‘সেই চোখ’ শিরোনামের একটি টেলি ছবিতে তারা দু’জন জুটিবদ্ধ হয়েছেন। এরই মধ্যে এটির শুটিং শেষ হয়েছে বলে জানান খন্দকার ইসমাইল। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ করেছেন তিনি নিজেই। ফলে চিত্রগ্রাহক ও আলোক নির্দেশনায় ছিলেন আনোয়ার হোসেন বুলু।

    প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় ও নির্মাণ প্রসঙ্গে খন্দকার ইসমাইল বলেন, ‘আগে থেকে নাটকে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা টেলি ছবিতে কাজে লাগিয়েছি। আমার মনের মতো করে টেলি ছবিটি নির্মাণ করেছি। গতানুগতিক কোনো গল্পর টেলি ছবি নয়। দর্শক এটিতে বর্তমান সময়ের কিছু দৃশ্যপট দেখতে পাবেন।’

    প্রায় বিশ বছর পর মে মাসে ‘হৃদয়ের টান’ শিরোনামের একটি নাটকের মধ্য দিয়ে অভিনয়ে ফেরেন জনপ্রিয় উপস্থাপক খন্দকার ইসমাইল। খন্দকার ইসমাইল বর্তমানে এটিএন বাংলার ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘স্মাইল শো, ঈদের বাজনা বাজেরে’ নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন।

    প্রসঙ্গত, খন্দকার ইসমাইল ১৯৯১ সালে ড. এনামুল হকের লেখা ‘শ্রাবণে বসন্ত ’নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। পরবর্তীতে ‘দ্বিতীয় পরমায়ু, ‘অরণ্যে রোদন’ ও ‘সময় বহিয়া যায়’সহ বেশ কিছু নাটকে তাকে দেখা যায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘বহুরূপী’, ‘আড্ডা’-এর উপস্থাপক ছিলেন। এদিকে ঊর্মিলা অভিনয় ও নাট্য সংগঠন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

  • একুশে পদকের টাকায় চিকিৎসা সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যামের

    একুশে পদকের টাকায় চিকিৎসা সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যামের

    এ বছর একুশে পদকের সঙ্গে দুই লাখ টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা আর আগের কিছু জমানো টাকা দিয়ে আমার চিকিৎসা চলছে।’ বললেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। গত বছর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

    শারীরিক পরীক্ষার জন্য সপ্তাহ তিনেক আগে ভারতের বেঙ্গালুরু যান ৭৩ বছর বয়সী সুজেয় শ্যাম। প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা শেষে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর দেহে ক্যানসারের আশঙ্কা করেন। এ ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁকে এমআরআই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তখন এই বরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্বের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ অবশিষ্ট না থাকায় চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই দেশে ফিরে আসেন।

    দেশে ফেরার কিছুদিন পর সুজেয় শ্যামের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ব্যথা যখন চরমে, তখন বাধ্য হয়ে জমানো টাকা থেকে ঢাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এমআরআই পরীক্ষা করান। এরপর তাঁর প্রোস্টেটে ক্যানসার ধরা পড়ে।

    সুজেয় শ্যাম বলেন, ‘আমি কখনো চাকরি করিনি। গান করে আয় করেছি। এই আয় দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি কিছু টাকা জমিয়েছি। সেই জমানো টাকায় যতটা সম্ভব চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছি।’

    প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা করানোর জন্য আগামী ৪ আগস্ট আবার ভারতের কলকাতায় যাওয়ার কথা সুজেয় শ্যামের। সেখান থেকে পরদিন বেঙ্গালুরু যাবেন। প্রোস্টেটে ক্যানসার ধরা পড়লেও বছর খানেক ধরে সুজেয় শ্যাম চোখের সমস্যায় ভুগছেন। চোখের চিকিৎসার জন্য তিন মাস পর পর কলকাতায় যেতে হয় তাঁকে। সুজেয় শ্যাম বলেন, ‘তিন মাস পর পর কলকাতায় গিয়ে একটি করে ইনজেকশন দিয়ে আসতে হয়। প্রতিবার ইনজেকশনের জন্য ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়।’

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেয়েছেন সুজেয় শ্যাম। তবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো ভাতা পান না বরেণ্য এই সুরকার ও সংগীত পরিচালক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান এবং পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর প্রথম গানের সুর করেন সুজেয় শ্যাম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গীতিকার শহীদুল আমিনের লেখা ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। গানটির প্রধান কণ্ঠশিল্পী ছিলেন অজিত রায়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সুজেয় শ্যামের অন্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘রক্ত চাই রক্ত চাই’, ‘আহা ধন্য আমার জন্মভূমি’, ‘আয়রে চাষি মজুর কুলি’, ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম’ ও ‘শোনরে তোরা শোন’।

    ইউনিলিভারের প্রযোজনায় ২০০৯ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৫০টি গান এই প্রজন্মের শিল্পীদের দিয়ে নতুন সংগীতায়োজনে গাইয়েছেন সুজেয় শ্যাম। তাঁকে সহযোগিতা করেন পার্থ বড়ুয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০১৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর সংগীতায়োজন করেন সুজেয় শ্যাম।

    সুজেয় শ্যাম ১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করছেন বরেণ্য এই সংগীত পরিচালক।

  • এই রাহুলকে কেউ দেখেনি আগে!

    এই রাহুলকে কেউ দেখেনি আগে!

    এই রাহুল গান্ধীকে আগে কেউ দেখেনি। কংগ্রেস সভাপতি যে এমন করতে পারেন, কারও কল্পনাতেও তা আসেনি। শুক্রবার ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার মধ্যে ভাষণ শেষে রাহুল যা করলেন, তা ছিল তাক লাগানো। ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে সম্ভবত বিরলতম ঘটনা।

    কংগ্রেসের পক্ষে রাহুলই ছিলেন প্রথম বক্তা। দুধসাদা কুর্তা পরে তাঁর ঠিক উল্টো দিকে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত চার বছরে মোদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনার মধ্যে রাহুল বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার চোখে চোখ রাখতে পারছেন না। সম্ভবত তাঁর সংকোচ হচ্ছে। আমি জানি, আপনি আমাদের সহ্য করতে পারেন না। আমাকে পাপ্পু বলেন। ঘৃণা করেন। অনেক রাগ আমাদের ওপর। আমরা কিন্তু আপনাদের ওপর ক্ষিপ্ত নই। বরং আপনাদের ভালোবাসি। কৃতজ্ঞও। কারণ, প্রধানমন্ত্রীজি আপনি, আপনার দল বিজেপি এবং আরএসএস ভারতের আসল চরিত্র কী রকম তা আমাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখিয়েছেন। আপনাদের মনে যে হিংসা রয়েছে, আমরা তা ভালোবাসায় পরিবর্তন করব। আমরা কংগ্রেস।’

    প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মোদি সরকারকে তুলোধোনা করে ভাষণ শেষে রাহুল নাটকীয়ভাবে গটগট করে ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে বাড়িয়ে দেন হাত। রাহুল দাঁড়িয়ে মোদির আসনের সামনে। প্রসারিত হাত ধরে ফেলেছেন মোদি। আচমকাই রাহুল প্রধানমন্ত্রীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা কক্ষ হকচকিত। রাহুল ফিরে যাচ্ছেন তাঁর আসনের দিকে। মোদি তাঁকে কাছে ডাকলেন, হাত মিলিয়ে পিঠ চাপড়ে কিছু একটা বললেন। রাহুল ফিরে এলেন নিজের আসনে।

    গোটা ভাষণে যেভাবে নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারকে রাহুল আক্রমণ করে গেলেন, তেমন আক্রমণাত্মক কেউ কখনো তাঁকে দেখেনি। নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত, তড়িঘড়ি জিএসটি চালু, কর্মসংস্থানে ব্যর্থতা, কালাটাকা দেশে ফেরানো ও প্রত্যেকের ব্যাংক খাতায় ১৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার ভুয়া প্রতিশ্রুতি, তিন গুণ বেশি দাম দিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে রাফায়েল যুদ্ধবিমান চুক্তি, হাতে গোনা কিছু শিল্পপতির স্বার্থ দেখে কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সরকারকে তুলোধোনা করে রাহুল বলেন, পররাষ্ট্রনীতিতেও এই সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ। ভারত, ভুটান ও চীন সীমান্তে ডোকলামে চীনা অনুপ্রবেশের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পরেই মোদি চীন সফরে যান। সে দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো রকমের অ্যাজেন্ডা ছাড়াই দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন অপদার্থতা ঢাকা দিতে! বিজেপির নীতিকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, ওরা হিংস্র। আক্রমণাত্মক। ওদের বুকে ঘৃণা। আমরা বিরোধীরা এবং আমাদের সঙ্গে শাসক দলেরও অনেকে মিলে এই সরকারের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেব।

    মাত্র কিছুদিন আগেই রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ক্ষমতা থাকলে লিখিত ভাষণ পাঠ না করে ১৫ মিনিট বক্তৃতা দিয়ে দেখান। সেটা করতে পারলে ভূমিকম্প দেখা দেবে। শুক্রবার লোকসভায় রাহুল সেটাই করে দেখালেন। তাঁর ভাষণের সময় শাসক দলের সমবেত বিরোধিতার মধ্য দিয়েও এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসই হতে চলেছে বিজেপির প্রবল প্রতিপক্ষ এবং মোদির লড়াইটা রাহুলেরই সঙ্গে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও তাই টুইট করে বললেন, বাস্তবিকই এটা পালাবদলের ভাষণ। ভূমিকম্প এসে গেছে।

    খুশি সোনিয়া গান্ধীও। সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি খুব খুশি। আরও খুশি প্রচারমাধ্যমের মনোভাব বদলাচ্ছে দেখে।’

  • রানওয়েতে গিয়েও ফিরে এল হজফ্লাইট

    রানওয়েতে গিয়েও ফিরে এল হজফ্লাইট

    যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি হজফ্লাইট দুই দফা রানওয়েতে গিয়ে আবার ফিরে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে যাত্রীদের টার্মিনাল ভবনে ফেরত আনা হয়।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিমানের হজফ্লাইটটির (বিজি ৫০২৭) যাত্রার সময় ছিল সন্ধ্যা পাঁচটা ৫৫ মিনিটে। ৪১৯ আসনের ওই ফ্লাইটটিতে যথাসময়ে যাত্রীদের তোলা হয়। এরপর রানওয়েতে গিয়ে উড়োজাহাজটি (বোয়িং ৭৭৭) ফিরে আসে। পরে দ্বিতীয় দফা আবার উড্ডয়নের জন্য রানওয়েতে যায়, আবার ফিরে আসে।

    এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের একজন মুখপাত্র রাত সাড়ে ১০টায় বলেন, উড়োজাহাজের শীতাতপ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করেনি। তিনি বলেন, হজযাত্রী পরিবহন বিমানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই যত দ্রুত সম্ভব এসব হজযাত্রীদের সৌদি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    ওই ফ্লাইটের হজযাত্রীদের একজন নিকটাত্মীয় রিয়াজুল ইসলাম রাত পৌনে ১১টায় বলেন, তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ওই ফ্লাইটের যাত্রী। তাঁরা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় আশকোনা হজ ক্যাম্পে আসেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাঁদের বিকেল পৌনে চারটার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে উড়োজাহাজে তোলা হয়। পাঁচটা ৫৫ মিনিটেই তাঁদের ফ্লাইট রানওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু উড্ডয়ন না করে ফিরে আসে। এ ভাবে দুই দফা রানওয়েতে গিয়ে আবার ফিরে আসে।

    হজ পরিচালক সাইফুল ইসলাম রাত ১১টায় বলেন, উড়োজাহাজটি কারিগরি ত্রুটির কারণে উড্ডয়ন করেনি। দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও বিমান কর্তৃপক্ষ ত্রুটি সারাতে পারেনি। এখন অন্য একটি উড়োজাহাজে এসব হজযাত্রীদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

  • সাদিককে নিয়ে স্বপ্ন : এতটা আত্মবিশ্বাসী কখনও ছিলনা আওয়ামীলীগ

    সাদিককে নিয়ে স্বপ্ন : এতটা আত্মবিশ্বাসী কখনও ছিলনা আওয়ামীলীগ

    এতটা আত্ম বিশ্বাসী কখনও দেখা যায়নি আওয়ামীলীগকে। দেখা যায়নি এভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে। তরুণ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বরিশাল আওয়ামীলীগ।

    নতুন নেতার হাত ধরে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ‘বিসিসি জয়’ এখন ক্রমশই বরিশালের আকাশে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিগত দুটি সিটি নির্বাচনেই আওয়ামীলীগে যে গৃহ বিবাদ ছিল এবার এর ছিটেফোটাও নেই। প্রবীন থেকে তরুণ, কেন্দ্র থেকে জেলা, মহানগর, উপজেলা সব খানে এখন সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে স্বপ্ন রচনা শুরু হয়েছে।

    সে স্বপ্নের সুতিকাগার বরিশাল আওয়ামীলীগের তৃণমূল। বহু বিভক্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের স্বপ্নের কান্ডারী এখন সাদিক আবদুল্লাহ। হাটখোলার শিপু কিংবা সাগরদীর মোতালেব সবার চোখেমূখেই স্বপ্ন। এবার সাদিকের হাত ধরেই নগর পিতার আসনটি পুনরুদ্ধার হবে আওয়ামীলীগের।

    ২০০২ সালে পৌরসভা থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরীত হবার পর নগর পিতার আসনটি মিউজিক্যাল চেয়ারে পরিণত হয়। প্রথম মেয়র হন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কামাল। এর পর মজিবর রহমান সরোয়ার।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে শওকত হোসেন হিরনের মাধ্যমে নগর পিতার আসনে প্রথম বসেন আওয়ামীলীগের কোন নেতা। তবে তার মৃত্যুর পর আবার এ আসনটি বিএনপির আহসান হাবিব কামালের করায়াত্ব হয়।

    ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগেই খন্ড বিখন্ড হয়ে পড়ে আওয়ামীলীগ। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সে সময় বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে। হিরণ মারা যাবার পর আরও করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

    আর ঠিক সে সময়েই একজন নেতা হিসাবে আবির্ভাব ঘটে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর। নিজ প্রজ্ঞা, মেধার সমন্বয়ে এক কাতারে নিয়ে আসেন আওয়ামীলীগকে। তার রাজনৈতিক মেধার পরিচয়ে মুগ্ধ হন কেন্দ্র।

    যুবলীগ থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে। দায়িত্বও বেড়ে যায় কয়েকগুন। নিজেকে একজন যোগ্য রাজনৈতিক হিসাবে গড়ে তুলতে প্রবীনদের অনুকরণ করেন।

    ছুটে যান বিভিন্ন স্থানে সহকর্মীদেরর দুঃখ ভাগ করে নিতে। দিন রাত পরিশ্রম করতে থাকেন। তার এ পরিশ্রম বৃথা যায়নি। ক্রমন্বয়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ পেতে থাকে বরিশাল আওয়ামীলীগ।

    কি মহানগর, কি জেলা, সর্বত্র সাদিক আবদুল্লাহর অস্থিত্ব ছিল সরব। আর সে কারণেই এবার সর্বস্থরের নেতা কর্মীদের আনেকটাই দাবি ছিল সাদিককে মেয়র পদে মনোনয়ন। কেন্দ্রও দেরি করেনি।

    সাদিকের হাতেই তুলে দেয়া হল নৌকার বৈঠা। গন্তব্য বিসিসি। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল দৃঢ় কন্ঠে বলেন তার রাজনৈতিক জীবনে বরিশাল আওয়ামীলীগকে এতটা ঐক্যবদ্ধ কখনও দেখেননি।

    আশা করা হচ্ছে বিসিসির নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধাণে জয়লাভ করবে আওয়ামীলীগ। ইনশাল্লাহ দেশের সবচেয়ে তরুণ মেয়র হবেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লহ।

    উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা সাইদুর রহমান রিন্টু দ্বার্থহীন কন্ঠে বলেন, এবার আওয়ামীলীগের বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। যে উন্নয়ন বিপ্লব বরিশালে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন শুরু করেছেন, তা অব্যাহত রাখতে এমন একজন তরুণ নেতার প্রয়োজন। সেরনিয়াবাত পরিবারের গর্ব সাদিককে নিয়ে অবশ্যই স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল।

  • বরিশাল বিএম কলেজছাত্র নিখোঁজ

    বরিশাল বিএম কলেজছাত্র নিখোঁজ

    অনলাইন ডেস্ক// বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী কাজী অনর্ঘ আহমেদ ১৮ জুলাই বিকেলে নগরীর সদর গার্লস স্কুলের সামনে আইকন কোচিং সেন্টারের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর বাসায় ফেরেনি।
    স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধ্যান না পেয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নম্বর ৭০৯, তারিখ ১৯-০৭-২০১৮।

    কোন সহৃদয় ব্যক্তি কাজী অনর্ঘ’র সন্ধ্যান পেলে তার বাবা কাজী মহিউদ্দিন আহমেদের সাথে (মোবাইল নম্বর ০১৭১৮৫১০৫৭৯) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ রইলো। অর্ঘদের বাসার ঠিকানা: ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ ৩য় তলা, বৈদ্যপাড়া, বরিশাল।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : চলছে প্রার্থীদের জোর প্রচারণা

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : চলছে প্রার্থীদের জোর প্রচারণা

    বরিশাল নগরবাসীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে প্রার্থীরা। সকাল থেকে রাত অবধি তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। কেবল সাত মেয়র প্রার্থীই নন; ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

    এদিকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছেন তার প্রচারণা। প্রতিদিন তিন থেকে চারটি উঠান বৈঠকের পাশাপাশি গণসংযোগ করছেন। এতে করে ভোটারদের বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

    বিএনপির মেয়র প্রার্থী আজ নগরীর পলাশপুর থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। তিনি বলেন, জোর প্রাচারণা চলছে এবং তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জাতীয় পাটির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস আজ সকাল থেকে নগরীর বালুর মাঠ কলোনী থেকে তার হনসংযোগ শুরু করেন।
    তিনি বলেন বরিশাল সিটি নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থক পূর্বের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থানে বরিশালে মানুষ লাঙ্গল প্রতীককে ভালবাসে যদি বরিশালে সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তাহলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
    এছাড়া অপর চার মেয়র প্রার্থী তারাও কিন্তু বসে নেই বরিশাল নগরীর ত্রিশটি ওয়ার্ডের সকল স্থানে তাদের পায়ের পদচারনা পড়ছে তারাে বরিশালকে একটি সুস্থ নগরী উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দোয়া চাইছেন।
    আজ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বশির আহমেদ তার ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।