Author: Banglarmukh24

  • ‘২১ দিনে ১২ বার ধর্ষণ’, বিস্ফোরক অভিযোগ শ্রীলঙ্কার সেনাদের বিরুদ্ধে!

    ‘২১ দিনে ১২ বার ধর্ষণ’, বিস্ফোরক অভিযোগ শ্রীলঙ্কার সেনাদের বিরুদ্ধে!

    মুখ খুলেছেন মাত্র ২০ জন। তাতেই বেরিয়ে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য।

    বিষয়ের গভীরে ঢুকতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হস্তক্ষেপে এগিয়ে এসেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি কমপক্ষে ৫০। শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের পর দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যারা।

    ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চলা দু’দশকের বেশি দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এমনই কিছু শিহরণ জাগানো তথ্য। যেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তামিল পুরুষরা বর্বর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন শ্রীলঙ্কান সেনা ও গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে।

    এক সময়ে বন্দি ওই ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে এএফপি। সেখানে লঙ্কান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন অত্যাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বহু তামিল পুরুষ।

    শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবির মাধ্যমে তারা দেখিয়েছেন কীভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তারা।

    এই বন্দিদের অধিকাংশই বর্তমানে ব্রিটেনের বাসিন্দা। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখা হতো তাদের। একজন তামিল ব্যক্তি বলেন, ২১ দিন ছোট্ট একটা অন্ধকার ঘরে বন্দি ছিলাম। ১২ বার ধর্ষণ করা হয় আমায়। এছাড়াও চলতো গোপনাঙ্গে সিগারেটের ছ্যাঁকা, লোহার রড দিয়ে পেটানো।

    পুরুষরা ছাড়াও নারী ও নাবালক মেয়েদেরও অত্যাচার করতো সেনা ও গোয়েন্দার একাংশ। কখনও সামিল হতেন পুলিশ কর্মকর্তারাও।

    দক্ষিণ আফ্রিকান মানবাধিকার কর্মী পিয়ার্স পিগৌ জানিয়েছেন, যে ধরনের যৌন নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে শ্রীলঙ্কান কর্মকর্তারা বিকৃতমস্তিষ্ক বলে মনে হচ্ছে আমার।

    আক্রান্তদের মানসিক ও শারীরিক সাহায্য দিচ্ছেন এই মানবাধিকার কর্মীরা। যদিও প্রাথমিক ভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তে রাজি হয়েছে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন। তবে একইসঙ্গে তাদের দাবি, উন্নত দেশগুলোতে আশ্রয় পেতে অনেক সময় এই ধরনের গল্প ফাঁদেন বন্দিরা। সূত্র: এই সময়।

  • ফের বিয়ে করছেন কারিশমা!

    ফের বিয়ে করছেন কারিশমা!

    একসময় রূপালি পর্দায় বছরের পর বছর ঝড় তুলেছিলেন তিনি। তারপর একসময় চিরাচরিত নিয়মে ঘরকন্নায় মন দিলেও তাকে কিন্তু ভুলে যায়নি তার অগণিত ভক্ত।

    তাই তো তাদের টানে ফের তাকে দেখা দিতে হয় সিলভার স্ক্রিনে। এমনকি বিজ্ঞাপনে এখনও তিনি হাজির হলেই থমকে যেতে বাধ্য হয় দর্শকরা। তিনি করিশমা কাপুর।

    তবে এত কিছুর মাঝে দাম্পত্য জীবনের জন্য বারবারই খবরের শিরোনামে এসেছে তার নাম। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজের স্রোতেই গা ভাসিয়েছিলেন লোলো। কিন্তু পাবলিক ফিগার হলে ভালোর সঙ্গে সঙ্গে চলে আসে বিড়ম্বনাও। আর তেমনটাই বোধ হয় হচ্ছে আবারও।

    শোনা যাচ্ছে, আবারও নাকি সাতপাকে বাঁধা পড়তে পারেন অভিনেত্রী ববিতার বড় মেয়ে। আর এরই মধ্যে সন্দীপ তোষনিওয়ালার (যাকে করিশমার বয়ফ্রেন্ড বলে মনে করা হয়) বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় সমগ্র বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

    সূত্র অনুযায়ী, করিশমা গত তিন বছর ধরে দিল্লির এক ব্যবসায়ী সন্দীপ তোষনিওয়ালাকে ডেট করছেন।

    এদিকে এরইমধ্যে সন্দীপের তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তাই সন্দীপ-করিশমার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কৌতূহলি হয়ে উঠেছে অনেকেই। বিভিন্ন পার্টিতে যত দেখা গিয়েছে তাদের ততই ডালপালা ছড়িয়েছে মুখরোচক গল্প। তাই তাদের বিয়ে হতেও যে আর বেশিদিন বাকি নেই, সেই কথা যে বি-টাউনে ছড়াবে এ আর আশ্চর্যের কি।

  • ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ১

    ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ১

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এবং মক্কা শরীফের ব্যাঙ্গাত্মক ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে রংপুরে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বিকেলে রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এসময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়ে হাবিব নামে স্থানীয় এক যুবক (২৭) নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ পুলিশসহ আহত হয়েছেন ৩০ জন। বিক্ষোভকারীরা হিন্দুদের ৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। আগুনে ১৮টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শর্টগান ও রাবার বুলেটবিদ্ধ ১১জন বিক্ষোভকারীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হাসপাতালের সহকারি পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, এদের মধ্যে মাহাবুবুল (২৫), জামিল (২৬), হাবিবুর রহমান (৩০),আলিম (৩২), জাহাঙ্গীর (২৮),আমিন (২৬) ও রিপনের (২৮) অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের পেটে ও মাথায় বুলেটবিদ্ধ হয়েছে। অন্যদের পায়ে ও হাতে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান হাবিবুর রহমান।

    তিনি শলেয়াশাহ এলাকার একরামুল হকের ছেলে বলে ভর্তি রেজিস্ট্রারে উল্লেখ রয়েছে। বিপুল সংখ্যক সর্টগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

    খলেয়া ইউনিয়ন সদর উপজেলার অধিন হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ। গঙ্গাচড়া থানার ওসি জিন্নাত আলী জানান, ঠাকুরপাড়া এলাকার টিটু রায় পেশায় কবিরাজ। গত সপ্তাহে তিনি নাকি তার ফেসবুকে নবীজি ও মক্কা শরীফের ব্যাঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করবে করবে-এমন খবর পেয়ে বেলা তিনটা থেকে গঙ্গাচড়া, কোতোয়ালী ও তারাগঞ্জ থানা পুলিশ এলাকায় অবস্থান নেয়।

    বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়াশাহ ও বালাবাড়ি গ্রাম এবং পাশের মমিনপুর গ্রামের ৮-১০ হাজার লোক লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ও লাঠি দিয়ে ঢিল ছুড়তে থাকে। এরই এক পর্যায়ে তারা ঠাকুরপাড়া গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে।

    আগুনে টিটু রায়ের ৩টি, সুধীর রায়ের ৬টি, অমূল্য রায়, বিধান রায় ও কৌশল্য রায়ের ২টি করে ৬টি, কুলীন রায়, ক্ষিরোধ রায় ও দীনেশ রায়ের ১টি করে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে গঙ্গাচড়া থানার ওসি জানিয়েছেন।

    টিটু রায়ের মা জীতেন বালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শত শত মানুষ আসি তিনটা ঘরোত আগুন নাগে দেলে। চৌকের পলোকে ঘরগুল্যা পুড়ি ছাই হয়া গেলো। ঘরের কিছুই রক্ষা করব্যার পারি নাই। ‘

    সুধীর রায় বলেন, ‘৪-৫টা মানুষ আসি পেট্রোল ঢালি মোর একটা ঘরোত আগুন নাগে দেয়। ওই আগুনোত মোর ছয়টা ঘরের সউগ পুুড়ি য়ায়’। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল আজিজ মাষ্টার জানান, পুলিশ বৃষ্টির মত রাবার বুলেট ও সর্টগানের গুলি ছুড়েছে।

    রংপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুর রহমান জানান, বিক্ষোভকরারীদের ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে ৭ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদেরকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কি পরিমাণ সর্টগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে তা এ মূহুর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

    এদিকে টিটু রায়ের গ্রেফতারের দাবিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে পাগলাপীর এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে কয়েকশ’ মানুষ। পাগলাপীর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মাষ্টার বলেন, কয়েকদিন আগে নবীজি ও মক্কা শরীফের ব্যাঙ্গাত্মক ছবি টিটু রায় তার ফেসবুকে পোস্ট করে। এ অভিযোগে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে টিটুকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করি।

    এছাড়া একই অভিযোগে খলেয়া ইউনিয়নের লালচাঁদপুর গ্রামের মুদি দোকানী আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে টিটু রায়কে আসামি করে ২৯ অক্টোবর গঙ্গচড়া থানায় মামলা করেন।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি জিন্নাত হোসেন বলেন, মামলা নেওয়ার পর আমরা টিটু রায়ের বাড়িতে যাই। তার মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি টিটু রায় তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বাজার এলাকায় বাস করেন।

  • হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

    হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

    হবিগঞ্জের বাহুবলে নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুন কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী উপর হামলা চালিয়েছে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তারার মিয়া ও তার লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় মীরপুরে বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে চেক বিতরনীয় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগেরর সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়ার নেতৃত্বে তার লোকজন এমপি কেয়া চৌধুরী উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়।

    আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইমন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পরে পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এখন এমপি কেয়া চৌধুরীকে ওসমানীর আইসিউতে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জের মিরপুরে বেদে পল্লীতে সংসদ সদস্যের বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে চেক বিতরণে অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগেরর সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়ার লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

    তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে তিনি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে অসুস্থ হয়ে পড়লে থাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেলে চিকিৎসা জন্য প্রেরণ করা হয়।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক হামদুল করিম বলেন, মিরপুরে বেদে পল্লীর লোকজনকে নিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুসরাত আরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে কি কারণে ঘটেছে তিনি কিছু জানতে পারেননি।

    এদিকে এমপি কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার শুভাকাক্ষীরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ছেলে মোবাইলে ছবি ধারণ করছিল। এ সময় সংসদ সদস্যের লোকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

  • ৮৩ নদী পুনঃখনন হচ্ছে

    ৮৩ নদী পুনঃখনন হচ্ছে

    বাগেরহাট জেলার ৮৩টি নদী ও খাল পুনঃখনন এবং মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

    বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।

    অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে ‘বাগেরহাট জেলার ৮৩টি নদী/খাল পুনঃখনন এবং মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের ৮৩টি নদী/খালের ৩০৯ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ড্রেজিং ও পুনঃখনন কাজ করা হবে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বাস্তবায়নের জন্য পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) অনুসারে সরকারি ক্রয় সম্পর্কিত বিশেষ বিধানের আলোকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বাস্তবায়নের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৫৩১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

    River

    মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাইকার অর্থায়নে ‘মাতারবাড়ি কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের (সওজ অংশ)’ ডিটেইল ডিজাইন এবং নির্মাণ কাজের তদারকিতে পরামর্শক সেবার জন্য অ্যাডেনডাম-১ অনুমোদন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৪৭ টাকার কাজ বেড়ে যাওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শতভাগ বিদ্যুতায়ন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫৫টি বৈদ্যুতিক পোল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বর্ধন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণের কনডাক্টর ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

  • সচিবের পেনশন থেকে জরিমানা আদায়!

    সচিবের পেনশন থেকে জরিমানা আদায়!

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অপারেশন সাপোর্ট টু দ্য এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (ইজিপিপি)’ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের দায়ে সাবেক এক সচিবকে সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কুদ্দুসের পেনশন থেকে এ জরিমানার অর্থ কেটে নেয়া হয়।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ বিভাগ গত ২ নভেম্বর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে অর্থছাড় করে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটি তারা পেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    পরিপত্রে বলা হয়, বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত ইজিপিপি প্রকল্পে ‘বকেয়া অনুপযুক্ত ব্যয়’ হিসেবে চলতি অর্থবছরে অর্থ বিভাগের বাজেটের অধীন অপ্রত্যাশিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে আট লাখ ৪০ হাজার ৬৯৩ টাকা বিশ্ব ব্যাংককে পরিশোধ করতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই টাকা বিশ্ব ব্যাংকে ফেরত দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।

    সূত্র জানায়, তৎকালীন ইজিপিপি প্রকল্প পরিচালক আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চার লাখ ৫১ হাজার ১৪৩ টাকার মিসপ্রোকিউরমেন্ট এবং তিন লাখ ৮৯ হাজার ৫৫০ টাকার অনুপযু্ক্ত আদেশর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাসহ মোট আট লাখ ৪০ হাজার ৬৯৩ টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

    অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই আব্দুল কুদ্দুস চাকরি থেকে অবসরের আগে অবসরোত্তর ছুটিতে যান। ফলে বাংলাদেশ সর্ভিস রুল প্রথম খণ্ড-এর ২৪৭ বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি ৩(বি) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে এই মামলা রুজু হয়। একই সঙ্গে গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

    সে অনুযায়ী গত বছরের ২৫ এপ্রিল কারণ দর্শানো সংক্রান্ত একটি লিখিত জবাব দেন আব্দুল কুদ্দুস। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১ জুন তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

    লিখিত জবাব ও শুনানিতে আব্দুল কুদ্দুস জানান, স্বাভাবিকভাবে তিনি কোনো আর্থিক অনিয়ম করেননি। তবে দুর্ভাগ্যবশত তিনি টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির ত্রুটি ধরতে পারেননি।

    এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের লিখিত জবাব, ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য, ভুলের স্বীকারোক্তি এবং প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ‘অসদাচরণ’র অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার পেনশন হতে ওই পরিমাণ অর্থ কেটে নেয়ার আদেশ দিয়ে বিভাগীয় মামলাটির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এই অর্থসংশ্লিষ্ট সরকারি খাতে জমা হবে। বিধি মোতাবেক কেটে নেয়া অর্থ বাদে তার পেনশনের টাকা এবং পেনশনজনিত অন্যান্য আনুতোষিক পরিশোধের আদেশ দেয়া হয়েছে।

  • অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন যাঁরা

    অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন যাঁরা

    বাংলাদেশ পুলিশ এর পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৩৩ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।

    অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাগণ হলেন- মোঃ রেজাউল করিম পিপিএম-সেবা, বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, ঢাকা, মোঃ হারুন-অর-রশীদ, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, শেখ নাজমুল আলম বিপিএম, পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, গাজী মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম-সেবা, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মহাঃ আশরাফুজ্জামান বিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার ডিএমপি ঢাকা, এ জেড এম নাফিউল ইসলাম, বিশেষ পুলিশ সুপার, এসবি, ঢাকা, মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা,

    এস এম আক্তারুজ্জামান, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মোঃ ইমাম হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি ঢাকা, আমেনা বেগম বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, নরসিংদী, মোঃ হায়দার আলী খান, পুলিশ সুপার, এসপিবিএন ঢাকা, মোঃ মনিরুল ইসলাম পিপিএম, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকা, মোঃ আজাদ মিয়া, বিশেষ পুলিশ সুপার, এসবি, ঢাকা,

    মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বিপিএম, এআইজি পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, বেগম আতিকা ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, মোঃ রুহুল আমিন বিপিএম, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, বাসুদেব বনিক, উপ-পুলিশ কমিশনার, এসএমপি, সিলেট, মোঃ সুজায়েত ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম, মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম-সেবা, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, মোঃ রফিকুল হাসান গনি, পুলিশ সুপার, শেরপুর জেলা, মাহফুজুর রহমান বিপিএম, পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ, মোঃ রেজাউল হক পিপিএম, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মোঃ মনির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (পুলিশ সুপার), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার(এনটিএমসি),

    এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, আরএমপি, রাজশাহী, মোঃ মনিরুজ্জামান বিপিএম, পিপিএম (বার), এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার), পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মোঃ মুনিবুর রহমান, পুলিশ সুপার, মাগুরা, পরিতোষ ঘোষ, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ, কুমিল্লা অঞ্চল, কুমিল্লা, সরদার রকিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নড়াইল, মোঃ মজিদ আলী বিপিএম, পুলিশ সুপার, পিবিআই, ঢাকা, জয়দেব কুমার ভদ্র, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, কাজী জিয়া উদ্দিন, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা ও মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, বগুড়া।

    ০৮ নভেম্বর’১৭ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

  • জিহাদী জীবন থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি তানিয়া

    জিহাদী জীবন থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি তানিয়া

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ তানিয়া জর্জেলাস ও তার স্বামী জনের জীবনকাহিনী চারটি মহাদেশে বিস্তৃত। জন ছিলেন টেক্সাসের এক ধনী খ্রিস্টান পরিবারের ছেলে।

    কৈশোরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এর ১৩ বছর পর ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগদান করে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন জন। এর মধ্যেই লন্ডনে তানিয়াকে বিয়ে করেন তিনি।

    সম্প্রতি তানিয়াকে ‘আইএস-এর ফার্স্টলেডি’ অভিধা দিয়ে তার উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে আমেরিকান ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক।

    সেই জিহাদি জীবন থেকে পালিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ তানিয়া জর্জেলাস। ফলে জনকে ডিভোর্স দিয়ে ২০১৩ সালে জিহাদি জীবনধারা ত্যাগ করেন তিনি। যদিও তার স্বামী এখনও আইএস’র সঙ্গেই আছেন। আর তানিয়া বর্তমানে বসবাস করছেন মার্কিন শহর ডালাসে।

    তানিয়ার জীবন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে ইয়াহু লাইফস্টাইলে।

    এতে বলা হয়ে, ২০০৪ সালে তানিয়া ও জন জর্জেলাসের সাক্ষাৎ ও বিয়ে হয়। জন জর্জেলাস ইয়াহিয়া আল বাহরুমি বা ইয়াহিয়া দ্য আমেরিকান নামেও পরিচিত। তিনি আমেরিকায় আইএসের শীর্ষ নেতা হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। মুসলিম ভাবধারায় বেড়ে ওঠা তানিয়ার সঙ্গে টেক্সাস থেকে আসা জর্জেলাসের পরিচয় হয়। জর্জেলাসের বাবা মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন ডাক্তার। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ারে হামলার পরপরই তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। কাকতালীয়ভাবে, ইতিহাসের এই সংকটকালীন তানিয়াও মৌলবাদে আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

    এরই মধ্যে তানিয়া ও জন দম্পতির দ্রুতই তিন সন্তান বিশিষ্ট একটি পরিবার গড়ে উঠে। পরে ২০১৩ সালে তারা আইএসে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেন এবং একই বছরের আগস্টে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। অবশেষে জন তিন সন্তান ও সন্তানসম্ভবা তানিয়াকে নিয়ে সিরিয়া পৌঁছায়। কিন্তু পৌঁছানোর পর তানিয়ার মনোভাব পরিবর্তন হয়। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। স্বামীর পিতা-মাতার সহায়তায় তানিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তিনি আইএসের সঙ্গে থাকা স্বামীকে ডিভোর্স দেন।

    দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে সম্প্রতি তানিয়ার ওপর একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। পুরো ফিচারজুড়ে একটি জিজ্ঞাসাই ফুটে উঠেছে, তা হলো- আসলেই কি তানিয়ার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘একসময় তিনি একটি পরিবারকে দেখাশোনা করতেন ও তাদের গুপ্তহত্যার প্রশিক্ষণ দিতেন। লেখক গ্রায়েম উডের পর্যবেক্ষণ হলো- এখনো তার মধ্যে লক্ষণ আছে, সহিংসতার না, তবে জেহাদের বিষয়ে তাকে যেভাবে ভুল বোঝানো হয়েছে তার স্থায়ী একটি প্রভাবের লক্ষণ রয়েছে। এক সময় তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি মনে করেন, শিয়ারা প্রকৃত মুসলিম না। আইএস একটি সুন্নি মৌলবাদী দল, শিয়াদের ঘৃণা করাই যাদের মূল তত্ত্ব। সে কখনোই বলেনি যে, সে সিরিয়ায় ফিরে যেতে চায়। কিন্তু সে শোকাহত হয়েছে যে, অনেক আইএস অনুসারীদের বোমা মেরে ধ্বংস করা হচ্ছে। শুধু এই জন্য যে, তারা একজন খলিফার অধীনে বাঁচতে চেয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা সাধারণ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করার পর তার এ ধরনের মন্তব্য পাওয়া যেতো। ’

    লন্ডনে নিজের বেড়ে উঠার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তানিয়া বলেন, ‘আমি অসংখ্যবার বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছি। প্রায়ই নিজেকে বহিরাগত মনে হত। আমি প্রতিশোধ নেয়ার একটা পথ খুঁজতাম। ”

    যদিও লেখক উড বলেন, তানিয়ার পরিধেয় পোশাক দেখে মনে হতে পারে যে, তিনি গত কয়েক দশক ইতালির ‘ভোগ’ ম্যাগাজিন পড়ে কাটিয়েছেন, কোরান নয়।

    এখনো তিনি তার জেহাদি স্বামীর জন্য টান অনুভব করেন। তিনি বলেন, আমি তাকে না ভালোবেসে থাকতে পারি না। এই ভালোবাসা কিভাবে যাবে তা আমি জানি না। এই পর্যায়ে এসে জর্জেলাস দম্পতির অবস্থা হলো, জন তার আমেরিকান, খ্রিস্টান, শহরতলীর ধনী জীবন ত্যাগ করে আইএসের একজন সদস্য হিসেবে একজন জিহাদির জীবন বেছে নিয়েছে। আর তানিয়া করেছেন তার উল্টোটা- এখন তিনি ডালাসের শহরতলিজুড়ে নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ান। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টায় নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।

  • নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

    নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

    ঘুষ গ্রহণের এক মামলায় বিএনপি সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার দুপুরে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    খবর-বিডিনিউজ’র।

    এর আগে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল ও তার স্ত্রী সিগমাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানিতে পাঠায়।

    এই রায়ের অনুলিপি যেদিন বিচারিক আদালতে পৌঁছাবে সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    জজ আদালত এ মামলায় নাজমুল হুদাকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। হাইকোর্টের রায়ে সে বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় সেই জরিমানা বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

    বর্তমানে নতুন দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা হাইকোর্টে নিজেই শুনানি করেছিলেন। তবে বুধবার রায়ের সময় তিনি আদালতে ছিলেন না।

    সিগমা হুদার পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন তার আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউ সি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ।

    ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলায় অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার মালিকানাধীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য জনৈক মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন তারা।

    ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামলাটিতে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২০ মার্চ নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট।

    পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ০১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টে এ মামলার পুনঃশুনানি শুরু হয়।

  • বাঁশ-দড়িতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

    বাঁশ-দড়িতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

    রাজধানীর সিগন্যাল বাতি গাড়ির গতি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে অনেক আগেই। এরপর ফেল মারল হাতের ইশারা আর বাঁশিও।

    তাই অবশেষে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিআইপি সড়কগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে দড়ি আর বাঁশের ব্যবহার। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, দুর্ঘটনা ঠেকাতে ও যানজট কমাতে নিতে হয়েছে এ ব্যবস্থা।

    সরজমিনে বিজয় সরণি এলাকায় দেখা যায়, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সিগন্যাল পড়লেই দড়ি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় গাড়ি থামিয়ে দড়ি টেনে নিয়ে গিয়ে বাঁধছেন। আবার সিগন্যাল ছাড়লে খুলে দেওয়া হচ্ছে দড়ি। এ রাস্তায় দড়ি ব্যবহূত হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আবুল কালাম বলেন, ‘হাত দেখালেও থামে না গাড়িগুলো। অন্য দিক থেকে গাড়ি চলে আসায় অনেক সময় ঘটে যায় দুর্ঘটনা কিংবা তৈরি হয় যানজট।

    তাই দড়ি দিয়ে বেঁধে দিই, যাতে সামনের দিকে যেতে না পারে। ’ রাজধানীর পান্থপথেও চোখে পড়ে একই চিত্র। অফিস সময়ে যানবাহনের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। তাই দড়ি দিয়ে রাস্তার দুপাশ বেঁধে থামানো হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। বিমানবন্দর এলাকায় দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে লেন ও ফুটপাত চিহ্নিত করা হয়েছে। রাস্তার মধ্যে রাখা ডিভাইডারের মধ্য দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বাঁশ। একই অবস্থা মহাখালীর রাস্তাতেও। ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার লিটন কুমার সাহা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মোটরসাইকেলগুলো হাতের ইশারা না মেনে বেরিয়ে যায়, থামানো যায় না। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নাইলনের দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা রঙিন দড়ি বাঁধেন। এতে দূর থেকে দেখা যায়। এখানে আসে বাঁশকল লাগানোর কথা। কিন্তু এ রোডে সেটা সম্ভব না। তাই যানজট আর দুর্ঘটনা ঠেকাতে দড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের কাজে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০০ সালের দিকে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ৭০টি জায়গায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানোর কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০০৮ সালে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার না হওয়ায় অল্প দিনেই বেশির ভাগ বাতি অকেজো হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১০-১১ অর্থবছরে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সরঞ্জাম কেনা হয়। এর আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯২টি মোড় বা ইন্টারসেকশনে সোলার প্যানেল, টাইমার কাউন্ট-ডাউন, কন্ট্রোলার ও ক্লেব স্থাপন করা হয়। এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থাও এখন অকার্যকর। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও পুলিশ আধাস্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়। নতুন পদ্ধতিতে মোড়ে দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতে থাকবে রিমোট কন্ট্রোল। যে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকবে, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা সেখানে সবুজ বাতি জ্বালাবেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ও সংস্থার মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। ফলে এ উদ্যোগটিও বিফলে যায়।