Category: জাতীয়

  • নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে নাহিদের সতর্কবার্তা

    নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে নাহিদের সতর্কবার্তা

    যেসব গণমাধ্যম নিষিদ্ধ সংগঠন এবং ফ্যাসিস্টদের প্রচার-প্রচারণা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে করা পোস্টের মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমের এক অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে অতিথি করার কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এই খবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। পরে অবশ্য সে সংবাদমাধ্যম সাদ্দাম হোসেনকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

    এই ঘটনার পরই ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট করেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সব সময় দুইটা চরিত্র। একদিকে সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট, নৃশংস বাহিনী দিয়ে হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন চালায় অন্যদিকে সুশীল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীদের দিয়ে ফ্যাসিবাদের বয়ান ও বৈধতা তৈরি করে’

    এসময় আওয়ামী লীগ-সমর্থক একটি ফেসবুক পেজের নাম উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম যোগ করেন, ‘এটিমের কুখ্যাত প্রোপাগান্ডিস্টরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৃশংস খুনী নেতাদের জনপরিসরে হাজির করার পর সেটাকে এখন নরমালাইজ করতে বিভিন্ন মিডিয়া প্লাটফর্ম ও সাংবাদিকরা উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    ‘তারা এমনভাব করছে যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ এখন বিরোধী দল। বিরোধী মত হিসেবে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বক্তব্য প্রচার করার চেষ্টা করছে’-যোগ করেন নাহিদ।

    জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘তারা ভুলে গেছে বাংলাদেশে একটা ম্যাস কিলিং ঘটেছে জুলাই-অগাস্টে যেখানে ছাত্র, শিশু, নারী, শ্রমিকসহ অসংখ্য মানুষের নির্মম মৃত্যু ঘটেছে এবং অসংখ্য জীবন পঙ্গু হয়ে গেছে। সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এখনো গণহত্যা ও পঙ্গুত্বের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ এখন বিচারের কাঠগড়ায়। অথচ আওয়ামী লীগকে নানা কৌশলে নানা আন্দোলনে সমাজে হাজির করতে সচেষ্ট বিভিন্ন শক্তি।’

    পোস্টের শেষদিকে গণমাধ্যমের উদ্দেশে সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দেন নাহিদ, ‘যারা মিডিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠন, গণহত্যার আসামী ও ফ্যাসিস্টদের প্রচার প্রচারণা করার সুযোগ করে দিবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

    আজ ৭ নভেম্বর। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটেছিল, যা দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পালটে দিয়ে দেশ ও জাতিকে নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সেনা অভ্যুত্থান ও পালটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যখন চরম নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তখন সিপাহি-জনতার মিলিত ঐক্যের বিপ্লব দেশ ও জাতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়েছিল। অভূতপূর্ব সেই বিপ্লব-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাময়িক বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। বিএনপি সরকারের আমলে এ দিনটিতে সরকারি ছুটি ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এ ছুটি বাতিল করে। আওয়ামী শাসনামলে দিবসটি স্বচ্ছন্দে উদযাপনও করতে পারেনি দলটি। এবার দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঘোষণা করেছে ১০ দিনের কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রভাবমুক্ত হয়ে শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়। এই দিন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।

    সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমানের লেখা ‘কিছু স্মৃতি কিছু কথা’ বইয়ে তিনি উলে­খ করেন, ‘৭ নভেম্বর গোটা দেশজুড়ে সৈনিক-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত এক অভূতপূর্ব উত্থান ঘটে। আর জেনারেল জিয়া সে অভ্যুত্থানের উত্তাল তরঙ্গমালার শৃঙ্গে আরোহণ করে উঠে আসেন জাতীয় নেতৃত্বে পাদপ্রদীপে।’ ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সম্পর্কে তদানীন্তন দৈনিক বাংলার রিপোর্টে বলা হয়, ‘সিপাহি ও জনতার মিলিত বিপ্লবে চার দিনের দুঃস্বপ্ন শেষ হয়েছে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন। ৭ নভেম্বর ভোরে রেডিওতে ভেসে আসে, ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।’ জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ওইদিন রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। পথে পথে সিপাহি-জনতা আলিঙ্গন করে একে অপরকে। সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের নলে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এই আনন্দের ঢেউ রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের সব শহর-নগর-গ্রামেও পৌঁছে যায়।’

    বাণী : দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত। ৭ নভেম্বরের চেতনায় সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের পথচলাকে অবারিত এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। পৃথক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই মহান দিনে দেশবাসী সবাইকে আহ্বান জানাই, এখনো দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত উত্তরণ হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন, নাগরিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ সাধন করতে হবে।

    তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই একই চেতনা বুকে ধারণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, স্বাধীনতার সুফল তথা অর্থনৈতিক মুক্তি, শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    কর্মসূচি : মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে দশ দিনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এ উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ১০টায় দলের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ। এদিন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) গেটসংলগ্ন বহিরাংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আগামীকাল ৮ নভেম্বর দুপুর ৩টায় ঢাকায় ও জেলায় জেলায় র‌্যালি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে। এছাড়া পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে।

    এদিকে এক বিবৃতিতে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা ও ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। দিবসটি উপলক্ষ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি, ১২ দলীয় জোটসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোও নানা কর্মসূচি পালন করবে।

  • বিশ্বের চতুর্থ দূষিত বাতাসের শহর ঢাকা

    বিশ্বের চতুর্থ দূষিত বাতাসের শহর ঢাকা

    বিশ্বের চতুর্থ দূষিত বাতাসের শহর হিসেবে অবস্থান হয়েছে রাজধানী ঢাকার।মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টায় আইকিউএয়ারের প্রকাশি তালিকায় ঢাকার এই অবস্থান দেখা গেছে।তালিকা অনুযায়ী, ঢাকার বাতাস এখন ‘অস্বাস্থ্যকর’।

    বাতাসের মানের তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের স্কোর ১৬৮।অন্যদিকে পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের দিল্লি ও কলকাতা যথাক্রমে ৪৪৭, ৪১৪ ও ১৯৫ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

    যখন কণা দূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে, তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়।একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের কোলকাতা যথাক্রমে ৪৪৭, ৪১৪ ও ১৯৫ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

    বাংলাদেশে একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।

    ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।

    ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।

  • এক এলাকায় ৩৬ ইটভাটার ছাড়পত্র কিভাবে, জবাব চান পরিবেশ উপদেষ্টা

    এক এলাকায় ৩৬ ইটভাটার ছাড়পত্র কিভাবে, জবাব চান পরিবেশ উপদেষ্টা

    এক এলাকায় ৩৬ ইটভাটার ছাড়পত্র কিভাবে দেওয়া হলো- পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে সেটির জবাব চেয়েছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার বাইরে নোয়াখালীর রামগতিতে একটি এলাকাতেই ৩৬টি ইটভাটা। কী করে তারা ছাড়পত্র পেল? কী করে তারা এতদিন পরিচালিত হলো? সেটা পরিবেশ অধিদপ্তরকে জবাব দিতে হবে।

    মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ২০২৪-২০৩০ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পরিবেশ রক্ষায় কোনো দ্রুত সমাধান নেই উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কিছু কিছু কাজ আমরা শুরু করতে পারি। আপনারা জানেন, নতুন করে কোনো ইটভাটার অনুমতি দিচ্ছি না। জিকজ্যাক ইটভাটাগুলোর জন্য আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি, তারা কমপ্লায়েন্স করছে কি না, সেটা দেখভাল করার কাজ শুরু করেছি।’

    তিনি বলেন, এই এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের বাস্তবায়ন যদি ৫-৭ বছরের মধ্যে নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আমরা ঢাকাকে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরীর অপবাদ থেকে বের করে আনতে পারব এবং জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে পারব।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নিজস্ব জনবল দিয়ে কমিটি করতে হবে। অন্যের কমিটিতে ঢুকে তাদের সঙ্গে মিশে গেলে হবে না। প্রমাণ ছাড়া কথা বলা যায় না। মাতারবাড়ীসহ অন্যান্য প্রকল্পে কী মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করছে তার প্রতিবেদন চাই। প্রতিবেদন জনগণের সামনে প্রকাশ করতে চাই।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।

  • কৃষক বাবাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে পুলিশের এএসপি হন হারুন

    কৃষক বাবাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে পুলিশের এএসপি হন হারুন

    মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের জন্ম। ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০০ সালে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় পুলিশে চাকরি পান তিনি। অথচ তার শ্রমজীবী বাবা মো. হাসিদ ভূঁইয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

    ২০১১ সালের ৬ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপি নেতা জয়নুল আবদীন ফারুককে মারধর করে আলোচনায় আসেন তৎকালীন ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন। এ ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা কুড়ান তিনি। এরপর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক পদোন্নতি পেয়ে পুলিশের প্রবল প্রতাপশালী কর্মকর্তা বনে যান।

    আর তখন থেকেই যেন টাকার মেশিন হয়ে ওঠেন হারুন। সরকারের প্রতিপক্ষ দমনের মূর্তিমান আতঙ্ক ডিবি হারুন বিভিন্ন কৌশলে নিপীড়ন-নির্যাতনকে হাতিয়ার করে রাতারাতি অঢেল সম্পদ ও বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন হয়ে ওঠে যে, হেলিকপ্টার ছাড়া তিনি বাড়িতেও আসতেন না। দেশে-বিদেশে শতকোটি টাকা পাচারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তার গ্রামের বাড়ি মিঠামইনে শতকোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’। এই রিসোর্টে রয়েছে হেলিপ্যাড ও অত্যাধুনিক সুইমিংপুল। রোববার দুপুরে মিঠামইন পরিদর্শনকালে লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা ওই রিসোর্ট সম্পর্কে নেতিবাচক বর্ণনা দেন।

    সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনের কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা মিঠামইনে শতকোটি টাকার প্রাসাদোপম প্রমোদশালা ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’-এ এখন ঘুঘু চরার অবস্থা। অথচ কয়েক মাস আগেও ওই রিসোর্টের কক্ষ বুকিং করতে কয়েক সপ্তাহ আগে যোগাযোগ করেও পাওয়া কঠিন ছিল। বলতে গেলে ‘অদৃশ্য আকর্ষণে’ আগাম বুকিং হয়ে থাকত ওই রিসোর্টের অধিকাংশ ডিলাক্স ও সুপার ডিলাক্স কক্ষ।

    কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জৌলুসেরও পতন ঘটে। বন্ধ হয়ে যায় এর সব কপাট। নিভে যায় চোখ ধাঁধানো ও মনমাতানো লাল-নীল বাতির আলো-আঁধারির খেলা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এদিকে রিসোর্টের জন্য ভয় দেখিয়ে, জোরপূর্বক নেওয়া জমির দাম এখনো পাননি সংখ্যালঘুসহ অনেকে।

    মন্ত্রী-এমপি, প্রশাসন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নায়ক-নায়িকাসহ সমাজের বিত্তবৈভবের মালিক ধনাঢ্য নারী-পুরুষের এক ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হয়ে উঠেছিল এই রিসোর্ট। সারা দিন-রাত বিলাসবহুল গাড়ির বহর আর হেলিকপ্টারের লাইন ছিল ওই নিরাপদ আনন্দ ধাম প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে। হাওড়ের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট সময়ের পরিক্রমায় এখন ভূতুড়ে পল্লিতে পরিণত হয়েছে।

    সরেজমিন পরিদর্শনকালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওড়ে ডিবি হারুনের হেলিপ্যাড সুবিধাসংবলিত শতকোটি টাকার প্রাসাদোপম প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে এখন ঘুঘু চরার অবস্থা দেখা যায়। ৫ আগস্টের পর বন্ধ হয়ে যায় এটি। আত্মগোপনে চলে যান সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনও। এরপর থেকেই একে একে বেরিয়ে আসছে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক রিসোর্টের জন্য জমি নিয়ে দাম পরিশোধ না করার কাহিনি।

    মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে ৪০ একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয় ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’। এর প্রিমিয়াম স্যুটের প্রতিদিনের ভাড়া ২০ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ডিলাক্স রুমের ভাড়া প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা। ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রিসোর্টটি উদ্বোধন করা হয়। প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন হারুনের ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ার। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব দীলিপ চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তার কোটি টাকা মূল্যের ১ একর ১০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি হারুন প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জন্য ভয় দেখিয়ে নিয়ে আর টাকা দেননি। এখনো তিনি টাকা পাওয়ার আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

    একই কথা জানালেন মানিক মিয়া নামের আরেক ভুক্তভোগী। তার অন্তত ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ একর জমি একই কায়দায় রিসোর্টের দখলে নিয়ে একটি টাকাও দেননি হারুন অর রশিদ।

    মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা হারুন পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতারাতি অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যান। তিনি হেলিকপ্টার ছাড়া বাড়িতেও আসতেন না।

  • বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ ঘোষণা

    বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ ঘোষণা

    আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময় নির্ধারিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে সোমবার (৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আগেই জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

    তবে কে, কোন তারিখ পাচ্ছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ হস্তান্তর ও প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, বিদেশি অতিথিদের ভিসা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ, ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ, জরুরি দুর্যোগে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ব্যবস্থা, আখেরি মোনাজাতের দিন যানজট নিরসনসহ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, তুরাগ নদীর তীরে ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের যাওয়া-আসায় সুবিধার জন্যে গত ২০১১ সাল থেকে সমাবেশটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

    তবে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। এরপর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগ হয়ে পড়ে তাবলিগ জামাত।

    ২০১৯ সাল থেকে আলাদাভাবে বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালনা করেন তারা। প্রথম পর্বে জোবায়েরপন্থি ও দ্বিতীয় পর্বে সাদপন্থিরা আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।

  • রাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

    রাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

    ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (রোববার) রাত থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সুরক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মধ্যে ফিরে এসেছে নতুন উদ্যম ও আশা।

    দীর্ঘদিন পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে তারা উৎসাহিত এবং সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ নতুন করে জাল তৈরি করছেন, কেউ বরফ সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করছেন। তাদের মুখে দেখা যাচ্ছে নতুন আশার আলো, যেন এবারের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আহরণ করে জীবন-জীবিকা এগিয়ে নিতে পারেন। পটুয়াখালীর বিভিন্ন মৎস্য বন্দরে জেলেদের এই প্রস্তুতির প্রাণচঞ্চল দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

    এ নিষেধাজ্ঞার সময়কালে সরকার থেকে প্রণোদনা হিসেবে চাল বিতরণ করা হলেও তা সবার কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি বলে কিছু জেলের অভিযোগ রয়েছে। আর্থিক অনটন কাটাতে জেলেরা আশাবাদী যে, এবার সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ আহরণ করবেন।

    জেলেরা বলেন, আমরা আশা করছি, প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার বাংলাদেশি জলসীমায় মাছ শিকার করা হবে। ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ না হলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

    নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন, ফলে অনেক জেলেকে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এখন জেলেদের মধ্যে রয়েছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়ার আশা। পায়রা বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, এবারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং তারা সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ আহরণের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

  • ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু, ইউরোপ-আমেরিকাগামীদের জন্য সুখবর

    ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু, ইউরোপ-আমেরিকাগামীদের জন্য সুখবর

    আফ্রিকার শীর্ষ উড়োজাহাজ সংস্থা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস আজ রোববার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-আদ্দিস আবাবা রুটে সরাসরি যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে। এখন থেকে এয়ারলাইনটি ঢাকায় সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, যা বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারীদের আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এর বাইরেও সকল মূল শহরসহ বিশ্বব্যাপী ১৫৫টিরও বেশি গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ফ্লাইটটি ইথিওপিয়া থেকে ঢাকায় আসে। তখন ফ্লাইটটিকে একটি জল কামান স্যালুটে স্বাগত জানায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে আদ্দিস আবাবায় ফিরে যায়। এই রুটে নিয়মিত উড়োজাহাজগুলো রোববার, মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে। এছাড়া অতিরিক্ত ফ্লাইট প্রতি সোমবার এবং শুক্রবার সকালে ঢাকা ছাড়বে।

    রোববার (৩ নভেম্বর) বিমানবন্দরে ফ্লাইটির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সম্মেলনে ফ্লাইটির বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মনজুর কবির ভূঁইয়া ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। ইথিওপিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মহাপরিচালক গেটাচিউ মেনগিস্টি আলেমায়েহু এবং ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন গ্রুপের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার লেম্মা ইয়াদেচার ইথিওপিয়ান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

    পরে এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মনজুর কবির ভূঁইয়া বলেন, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস আফ্রিকার শীর্ষস্থানীয় ক্যারিয়ার হিসেবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশে এর প্রবেশ দেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি নতুন আশার আলো। বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে নতুন পথের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    তিনি বলেন, এই অংশীদারিত্ব নতুন সুযোগের পথ প্রশস্ত করবে এবং বাংলাদেশ ও আফ্রিকার গতিশীল অর্থনীতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে।

    ইথিওপিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির ডিরেক্টর জেনারেল গেটাচিউ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মূলমন্ত্র মহাদেশ, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়গুলোকে সংযুক্ত করার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই দেশের মধ্যে আর্থ-সামাজিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন।

    তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়ার মধ্যে কেবল সরাসরি সংযোগই নয়, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা জুড়ে মূল গন্তব্যগুলোর প্রবেশদ্বারও উন্মোচন করবে।

    অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের সদস্য (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

    বাংলাদেশে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন বলেন, এটি কেবল একটি ফ্লাইট চালু নয়, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বকে আরও কাছাকাছি আনার একটি সুযোগ তৈরি হলো।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং একটি বিশাল বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য পছন্দের হতে চলেছে।

    সোহাগ হোসেন বলেন, নতুন এই রুটটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুবিধাজনক সংযোগ প্রদান করবে। আদ্দিস আবাবার মাধ্যমে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার প্রধান শহরগুলোতে সাশ্রয়ী ভাড়ায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

  • সব সিটিতে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রশাসক: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

    সব সিটিতে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রশাসক: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ বলেছেন, দেশের সব সিটি করপোরেশনে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

    রোববার (৩ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নতুন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে শপথবাক্য পাঠ করানো শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, সব সিটি করপোরেশনে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এছাড়া আইন অনুসারে নির্ধারণ হবে, চট্টগ্রাম সিটির নতুন মেয়রের সময়সীমা।

    তিনি আরও বলেন, যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, সেই বিপ্লবের প্রত্যাশাকে এগিয়ে নিতে হবে চট্টগ্রামের নতুন মেয়রকে।

    তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে তাকে। চট্টগ্রামকে একটি গ্রিন সিটিতে উন্নীত করতে হবে।

  • ইসি গঠনে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপন জারি

    ইসি গঠনে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপন জারি

    আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পেশ করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে ছয় সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

    কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক সদস্য হলেন- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিন্নাতুন নেছা তাহমিদা বেগম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার।

    এছাড়া আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে আছেন বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম এবং পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম।

    এই সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দেবে।

    নির্বাচন কমিশন গঠনের আইনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে রাষ্ট্রপতির কাছে দুজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে অনুসন্ধান কমিটির সভার কোরাম গঠিত হবে।

    অনুসন্ধান কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পন্ন করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।