Category: জাতীয়

  • আ.লীগের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করবেন না

    আ.লীগের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করবেন না

    গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করবেন না। আওয়ামী লীগ নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তার গর্তের মধ্যে লুকিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার (১০ নভেম্বর) শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টায় গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেন চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ২০২৪ ও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

    রাশেদ বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর প্রায় ৩০ হাজার বিএনপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদসহ ভিন্নমতের মানুষকে আটক করা হয়। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর ৩০০০ আওয়ামী খুনিদের আটক করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব, আওয়ামী লীগের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করবেন না। এই দলটি গণহত্যার সাথে জড়িত, ছাত্রলীগের আগে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা দরকার ছিল। কেন খুনিদের গ্রেফতার করছেন না? আপনারা কি আওয়ামী লীগকে ধরতে ভয় পাচ্ছেন? এই দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতাকে বলব, পুলিশ আওয়ামী খুনিদের আটক না করলে, আপনারা এই খুনিদের ধরে পুলিশ দেন।

    রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ জিরো পয়েন্টে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি নিয়ে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছিল। আমরাও সেই গণজমায়েত প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সে কারণে নেতাকর্মীদের নিয়ে জিরো পয়েন্টে জড়ো হয়েছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি কোনো আওয়ামী লীগ নাই।

    আওয়ামী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ফাঁদে পা দেবেন না। রাজপথে নামার চেষ্টা করবেন না। আমরা আওয়ামী লীগকে রাজপথে নামতে দেব না।

    গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা যদি বাপের বেটি হতো তাহলে এ দেশ থেকে এভাবে পালিয়ে যেত না। তবে হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার প্রেতাত্মারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছে।

    রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা রাজপথে নামার চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেবে গণঅধিকার পরিষদ। আওয়ামী লীগের ঠিকানা বাংলাদেশে আর হবে না। গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

    তিনি বলেন, একটি দল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু সেই হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হচ্ছে না। অনতিবিলম্বে এ গণহত্যায় জড়িত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ লীগ, র্যাব লীগ যারাই ছিল তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

    গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, জাতীয় পার্টি একটি ফ্যাসিবাদী দল। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি। এরশাদের নেতৃত্বে নূর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে জিইয়ে রাখা হয়েছে।

  • জাতিসংঘে আইসিএসসি নির্বাচনে সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ

    জাতিসংঘে আইসিএসসি নির্বাচনে সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে, মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনের (আইসিএসসি) সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ নভেম্বর) এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলাদেশ, চীন ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র (দক্ষিণ কোরিয়া)-এর তিনজন প্রার্থী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত দুটি শূন্য আসনে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও চীনের প্রার্থীগণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

    নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মুহিত বলেন, বাংলাদেশের এই জয়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২.০ এর প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আস্থা ও বিশ্বাস এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা ও অবদানেরই স্বীকৃতি।’ ইন্টারন্যাশনাল সিভিল সার্ভিস কমিশন (আইসিএসসি) হল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিশন যা পনের (১৫) সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। জাতিসংঘের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, কর্মীদের প্রাপ্যতা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং সুপারিশ প্রদান করার কাজ সম্পাদন করে থাকে এই কমিশন।

    পেশাদার কূটনীতিক, রাষ্ট্রদূত মুহিত ২০২২ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটির (ইকনমিক ও ফিন্যান্সিয়াল কমিটি) চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি UNDP/UNFPA/UNOPS-এর এক্সিকিউটিভ বোর্ডের ২০২৪ সালের জন্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও রাষ্ট্রদূত মুহিত ২০২২ সালে জাতিসংঘ পিস বিল্ডিং কমিশনের চেয়ার, ২০২৩ সালে জাতিসংঘ পিস বিল্ডিং কমিশনের ভাইস-চেয়ার, ২০২২ সালে UN-Women-এর এক্সিকিউটিভ বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৩ সালে UNDP/UNFPA/UNOPS-এর এক্সিকিউটিভ বোর্ডের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    রাষ্ট্রদূত মুহিত ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ৪ বছরের জন্য ইন্টারন্যাশনাল সিভিল সার্ভিস কমিশনের (আইসিএসসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

  • স্মার্ট কার্ডেই মিলবে টিসিবির পণ্য

    স্মার্ট কার্ডেই মিলবে টিসিবির পণ্য

    একটি পরিবার থেকে একজন ব্যক্তির টিসিবি কার্ড পাওয়ার কথা থাকলেও প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় একাধিক ব্যক্তি এই সুবিধা নিচ্ছেন। এর ফলে ‘প্রকৃত সুবিধা দরকার’ এমন অনেকেই এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে এই অবস্থা আর থাকছে না। বাতিল হচ্ছে হাতে লেখা কার্ডের প্রচলন। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ে রমজান উপলক্ষে আগাম প্রস্তুতি বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানিয়েছেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, রমজান উপলক্ষে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, সেসবেরও প্রস্তুতি নেওয়া শেষ। রমজানে পণ্যের কোনো সংকট হবে না।

    তিনি আরও বলেন, তেল, ডাল, চিনির পাশাপাশি খেজুর ও ছোলা ঢাকা ও অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে। ছোলা ও খেজুরের জন্য এরইমধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে। জানুয়ারির ভেতর পণ্য টিসিবির গুদামে চলে আসবে।

    হুমায়ুন কবীর বলেন, একটি পরিবার থেকে যেন এক ব্যক্তির বেশি না পায়। এজন্য স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড করা হচ্ছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন ডিলার নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে ডিলারের প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে মনিটরিংটা ঠিকমতো হচ্ছে না। ভোক্তার কাছে সঠিকভাবে যেতে যে সহযোগিতা দরকার, সেটাতে কমতি রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সভার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

  • পলক, ইনু ও মেনন রিমান্ড শেষে কারাগারে

    পলক, ইনু ও মেনন রিমান্ড শেষে কারাগারে

    সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ইমন হোসেন গাজী নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় রিমান্ডে ছিলেন। গত ২ নভেম্বর থেকে এ তিন জনের রিমান্ড শুরু হয়।

    যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন হোসেন গাজী নামে এক যুবক। এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

  • মৎস্যজীবী ও মৎস্য খাত চরম বৈষম্যের শিকার: উপদেষ্টা

    মৎস্যজীবী ও মৎস্য খাত চরম বৈষম্যের শিকার: উপদেষ্টা

    মৎস্যজীবী ও মৎস্য খাত চরম বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতা-শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে নতুনভাবে স্বাধীনতা আসলেও মৎস্যজীবী ও মৎস্য খাতে যে বৈষম্য রয়েছে- তা দূর করতে সরকার সর্বোচ্চভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    শ‌নিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে তারাই প্রকৃত মৎস্যজীবী। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই ব্যবসায়ীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।

    মৎস্যজীবীদের মধ্যে মজুরি বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী মৎস্যজীবীদের স্বীকৃতিকে বড় ধরনের সমর্থন জানাতে হবে।তাদের সঙ্গে অন্য মৎস্যজীবীদের কোনো পার্থক্য করা যাবে না। সুযোগ-সুবিধা দিতে পারলে মৎস্যজীবীরা আর গরিব থাকবে না।

    উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি মেরিন ফিশারিজকে সত্যিকার অর্থেই ব্যবহার করতে পারি বাংলাদেশ আর গরিব থাকবে না। আমরা শুধু মৎস্য সম্পদের কথা বিবেচনা করি তাহলে দেখা যায়, এই বিশাল প্রজাতির মধ্যে অনেক প্রজাতি এখনো আমাদের আহরণের মধ্যে আসেনি। এমনকি, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের সক্ষম উন্নত ভেসেল আমাদের নেই। আমরা জানি না সত্যিকার আমাদের কত প্রজাতির মৎস্য সম্পদ আছে, তাদের মজুদ কেমন। সরকার নিজস্ব ভেসেল এনে এ বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এজন্য দেশের স্বার্থে স্বনামধন্য বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    ইলিশ মাছ আল্লাহর দান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নোনা পানি থেকে স্বাদু পানিতে আসা এবং ফেরত যাওয়ার মতো মাইগ্রেটরি রুট ঠিক করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং ইলিশ আমাদের বড় সম্পদে পরিণত হবে। অতীতের সরকার ভারতের নতজানু থাকার ফলে বাংলাদেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সে দেশের জেলেরা আমাদের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে ইলিশ ধরে নিয়ে যেত- এ সমস্যা লাঘবে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, নদ-নদীর মতো সমুদ্র দূষিতমুক্ত নয়। নদীর পানি সমুদ্রে যাচ্ছে সমুদ্রও দূষিত হচ্ছে। দেশে যেভাবে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হচ্ছে তা রোধ করা দরকার। আমরা যে মাছ খাচ্ছি- অনেক মাছের মধ্যে মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, হাওর ও নদীর মাছ রক্ষায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

    কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক সনৎ কুমার ভৌমিক।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক অদ্বৈত চন্দ্র দাস, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ প্রমুখ।

    এক্সপার্ট গেস্ট হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (অব) ড. আব্দুল ওয়াহাব ছাড়াও সেমিনারে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য আন্দোলন হয়নি: সারজিস আলম

    শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য আন্দোলন হয়নি: সারজিস আলম

    যৌক্তিক সংস্কার শেষেই অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। এ সময় তিনি বলেন, শুধু নির্বাচনের জন্য এই আন্দোলন হয়নি।

    পাশাপাশি এক বছরে মধ্যে সংস্কার সম্ভব না জানিয়ে সারজিস বলেন, যৌক্তিক সংস্কার শেষে নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত।

    শনিবার সিলেটে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    সকাল থেকেই সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন শহিদ পরিবারের সদস্যরা। পরে একে একে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকার সহায়তার চেক। সহায়তা পেয়ে জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানান শহিদ পরিবারের সদস্যরা।

    জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, আন্দোলনে নিহত পরিবারগুলোর পাশে সব সময় থাকবে ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি আহতদেরও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    সিলেটে ১৮ পরিবারের বাইরে বাকি শহিদদের তথ্য হালনাগাদ করে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয় জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

  • আ.লীগের কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি আসিফ মাহমুদের

    আ.লীগের কর্মসূচি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি আসিফ মাহমুদের

    গণহত্যাকারী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের (আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ) কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    আওয়ামী লীগের রোববার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণার প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ শনিবার (৯ নভেম্বর) ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস এ হুঁশিয়ারি দেন।

    উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গণহত্যাকারী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

    উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ শহিদ নূর হোসেনের স্মরণে ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রোববার বিকাল ৩টায় রাজধানীর জিরো পয়েন্টে শহিদ নূর হোসেন চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে।

  • আসিফ নজরুলকে হেনস্তা, যা খতিয়ে দেখতে বললেন রাষ্ট্রদূত আনসারী

    আসিফ নজরুলকে হেনস্তা, যা খতিয়ে দেখতে বললেন রাষ্ট্রদূত আনসারী

    নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ঘটনায় জেনেভার বাংলাদেশ মিশনের কোনো গাফিলতি, নিরাপত্তা কিংবা প্রটোকলের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

    শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

    ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘আসিফ নজরুল ভাইয়ের ওপর হামলে পড়া এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পরিণতি মাফিয়া দলের এই জঙ্গি উত্তরাধিকারদের ভোগ করতেই হবে। খতিয়ে দেখতে হবে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ মিশনের যেকোনো গাফিলতি, উপদেষ্টার যথাযথ নিরাপত্তা কিংবা প্রটোকলের ঘাটতি। ‘

    আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির মিটিং যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গিয়েছিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফিরছিলেন। তখন আসিফ নজরুল গাড়ি থেকে বিমানবন্দরে নামার পর কয়েকজন লোক এসে তাকে ঘিরে ধরেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম জমাদার ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান ছিলেন। জেনেভা বিমানবন্দরে প্রবেশের আগ পর্যন্ত উপদেষ্টাকে বিরক্ত ও হেনস্তা করেন তারা। তখন তারা জয়বাংলা, জয়বন্ধু শ্লোগানও দেন।

  • বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত

    বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত

    বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    জানা যায়, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হলে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ‘বিভ্রান্তি ও কুৎসামূলক প্রচারণা’ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

    গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘অবশ্যই সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা উচিত। সেদিকেই যাব। আল্টিমেট এটা বাতিল হবে।

    কয়েক দিন আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, এ সপ্তাহে এই আইন বাতিল হচ্ছে।

    ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের আমলে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়। পরে এ বিষয়ে কঠোর সমালোচনা হলে ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে তার পরিবর্তে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল। তবুও এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা হয়। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই আইন নিয়ে আপত্তি ওঠে। আজ (বৃহস্পতিবার) আইনটি বাতিলের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল অন্তর্বর্তী সরকার।

    অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মামলাগুলো (মুক্তমত প্রকাশের কারণে মামলা) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া এসব মামলায় কেউ গ্রেফতার থাকলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর অধীন গত আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোট ৫ হাজার ৮১৮টি মামলা চলমান। বর্তমানে স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মোট ১ হাজার ৩৪০টি মামলা চলমান, যার মধ্যে ৪৬১টি মামলা তদন্তকারী সংস্থার কাছে তদন্তাধীন। ৮৭৯টি মামলা দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।এসব মামলার মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তমত প্রকাশের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ‘স্পিচ অফেন্স’ এবং কম্পিউটার হ্যাকিং বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিকে ‘কম্পিউটার অফেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মামলাগুলোর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীন ২৭৯টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীন ৭৮৬টি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীন ২৭৫টি মামলা চলমান রয়েছে।

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকার স্পিচ অফেন্স-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ হাজার ৩৪০টি স্পিচ অফেন্স-সম্পর্কিত মামলার মধ্যে বিচারাধীন ৮৭৯টি মামলা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। তদন্তাধীন ৪৬১টি মামলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানা হয়।

  • পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

    পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা অর্থ পাচার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। আর পাচারের অর্থ ফেরানো নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির মতে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। তবে সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে পারলে ২০২৬ সালে তা ৫ শতাংশ ছাড়াবে।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এসব কথা বলেন। দেশের সাবেক কূটনৈতিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডর (আওফা)’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনার বিষয় ছিল : ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উপায়।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। আওফার সভাপতি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এএফএম গাউসূল আজম সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহেদ আখতার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাশফি বিনতে শামস এবং রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রমুখ। এ সময়ে বক্তারা প্রকল্প অর্থায়নের পরিবর্তে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চেয়েছেন।

    আবদুলায়ে সেক বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের পোর্টফোলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকেই এ দেশকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে দেশটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এখানে বড় কয়েকটি সমস্যার মধ্যে অন্যতম দেশ থেকে অর্থ পাচার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা চেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে সরকারের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানে আমরা সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছি। তবে অর্থ ফেরানো কঠিন। কারণ অনেক আইনকানুনের ব্যাপার রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক কথা আছে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে আমাদের মতে, চলতি অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। কিন্তু ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বেশকিছু খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছাড়াতে পারে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার।

    সংস্কার ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, অন্যান্য খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশে বাণিজ্য খাতে সংস্কার খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার চাইলে বিশ্বব্যাংক এখানেও সহায়তা দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সমস্যাটির টেকসই সমাধান দরকার। আর এর টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে। এছাড়া সংস্থাগুলো তাদের সহায়তাও অব্যাহত রেখেছে। এই ইস্যুতে তারা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।

    ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতা সম্মিলিতভাবে বিশাল ত্যাগের মাধ্যমে ৫ আগস্ট বড় একটি অর্জন করেছে। এটিকে আমরা ধরে রাখতে চাই। আমরা চাই আমাদের সেই অতীত, ভবিষ্যতে আর যাতে ফিরে না আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আমাদেরকে ৪৫ বিলিয়ন ডলার (এক বলিয়ন ডলার সমান ১২ হাজার কোটি টাকা) সহায়তা দিয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের দাতা নয়, উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা বৈষম্য। দেশের নিম্ন আয়ের ৫ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের ৫ শতাংশের মধ্যে সম্পদের পার্থক্য বিশাল। বিশ্বব্যাংকও বিষয়টি বারবার বলে আসছে। আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটা আরও পরিষ্কারভাবে সামনে এসেছে। আরেকটি বিষয় হলো অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সরকারের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। এরমধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মূল্যস্ফীতি অন্যতম। তার মতে, বতর্মানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ ডলারের দাম বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। ৩ বছর আগেও এক ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। বর্তমানে সেটি ১২০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের হার ৪ শতাংশ।

    পাচারের অর্থ ফেরানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তা ফেরানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ যে সব দেশে গেছে, ওই দেশের আইনকানুন, আন্তর্জাতিক আইন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক চাইলে তা সম্ভব। কারণ তাদের তদন্ত সক্ষমতা এবং ফরেনসিক সাপোর্টসহ সব ধরনের সক্ষমতা আছে। ড. মোস্তাফিজ বলেন, বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ একেবারে কম। বর্তমানে দেশের রাজস্ব আয় জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ আয় এক-তৃতীয়াংশ। আর বাকি দুই-তৃতীয়াংশই পরোক্ষ আয়। তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়, পুরোটাই রাজস্ব ব্যয়। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের পুরো টাকাই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় চলে যায়। আর উন্নয়নের অর্থ পুরোটাই ঋণ করে আনতে হয়। ফলে এই উন্নয়ন টেকসই নয়। এ অবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সংস্কারের ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে বড় ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে টাস্কফোর্স এবং শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সংস্কারের জন্য অর্থ এবং কারিগরি সহায়তা জরুরি। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে প্রকল্প সহায়তার পরিবর্তে বাজেট সাপোর্টে জোর দেন তিনি। তার মতে, বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে রয়েছে। বাজেট সহায়তা পেলে রিজার্ভ বাড়বে। অর্থনীতির অন্যান্য সূচকেও এর প্রভাব পড়বে। এছাড়াও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট সহায়তা চেয়েছেন তিনি। সিপিডির এই বিশেষ ফেলো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আদানি গ্র“পের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বিদ্যুতের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ভবিষ্যতে তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দাম নিয়ে তুলনা করা যেতে পারে। কিন্তু আগে যে চুক্তি করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সেই বিল পরিশোধ না করার বিকল্প নেই।