Category: জাতীয়

  • ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্পৃক্ততা মিলছে

    ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্পৃক্ততা মিলছে

    মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষ যখন হত্যা ও গণহত্যার ভয়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বেড়াতেন তখন আলবদর বাহিনী ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ড. ওসমান ফারুক বিভিন্ন হুমকি দিতেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকদের। তার হুমকি আর নিযার্তনের ভয়ে তটস্থ থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। হুমকি দিয়ে তার সহযোগী শিক্ষকদের মাধ্যমে বিভিন্ন মহল্লা ও বাড়ি থেকে সুন্দরী নারীদের তুলে আনতেন। পরে সেসব নারীদের ওপর নির্যাতন করত পাকিস্তানি নরপশুরা।
    মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থার সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র আরও জানায়, ১৯৭১ সালের আগে থেকেই ময়মনসিংহ শহরের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাস করার সুবাদে অনেক কিছু তার জানা ছিল। কারা মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগ করেন তা জানতেন তিনি। শিক্ষক, কর্মচারী ও আশপাশের এলাকার সুন্দরী নারীদের ধরে আনা হতো। নারীদের ধরে নিয়ে আসার পর কথা না শুনলে চলত নির্যাতন। এমন অভিযোগসহ নানা তথ্য ওঠে আসছে ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর এম সানাউল হক জানান, বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফারুকের অপরাধ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে তদন্ত শুরু করার পর তা অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপরাধের তথ্য মিলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  মো. হেলাল উদ্দিন  জানান, তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধের তথ্য ওঠে আসছে এবং অপরাধের সম্পৃক্ততা মিলছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরো বেশ কিছু সময় ধরে তদন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

    তিনি জানান, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তার অপরাধ বিষয়ে জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মো. মতিউর রহমান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও বর্তমান প্রো-ভিসিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা, প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৪০ থেকে ৪৫ জনকে। জিজ্ঞাসাবাদ এবং দালিলিক প্রমাণ মিলিয়ে পাওয়া তথ্য উপাত্ত থেকে ওসমান ফারুকের অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে, মামলার স্বার্থে সাক্ষীদের নাম প্রকাশ করা যাবে না।

    এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীসহ ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে কারাদণ্ড ঘোষণার পর আপিল শুনানির সময় জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলিম মারা যান। এ ছাড়া জামায়াতের এক নায়েবে আমিরের অামৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে।

    বর্তমানে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে করা তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত তদন্ত সংস্থা সূত্রে তথ্য জানা গেছে। ড. ওসমান ফারুক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলেও জানান তদন্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্র। তদন্তে ওসমান ফারুকের বিষয়ে অপরাধের তথ্য মিলছে বলে জানান তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম. সানাউল হক। তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিনসহ আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ তদন্তকারী কর্মকর্তা সহযোগীদের নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ইতোমধ্যে ড. ওসমান ফারুকের অপরাধের বিষয়ে তার আগের কর্মস্থল (৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন) ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আশপাশে ওই মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে, যা এখনও চলছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তযোদ্ধা, ভিকটিম পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীসহ দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। এ মামলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে।

    অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন  জানান, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গাঙ্গিনারপাড়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এলাকার অপদা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত গণকবর, পাকিস্তানি আমির ক্যাম্প ,প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ঘটনা এবং অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে। তাই সেখানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় কমিউনিটি সেন্টার ও নদীর তীরে গণকবর রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাইস বর্তমান হলে পাক আর্মিদের ক্যাম্প ছিল বলে জানান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মামলার জন্য যেসব সাক্ষী রয়েছেন তাদের সবাই জানিয়েছেন, ৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার, আলবদর ও আর্মিদের সমন্বয়ে তৈরি করা ক্যাম্পে আটককৃতদের নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রেন থেকে পাকিস্তানি আর্মিরা নেমে আসার সময় তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য নির্মিত হলে থাকার জন্য বলা হয়। তখন পাক আর্মিরা সেখানে একটি ক্যাম্প স্থাপন এবং হলের কয়েকটি কক্ষে বসবাস করত। তিনি আরও জানান, তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষে ক্যাম্প ছাড়াও বর্তমান ডাক বাংলোয় পাকিস্তানিদের ক্যাম্প ছিল, যা তদন্তে ওঠে এসেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তৈরি করা এসব ক্যাম্পে আর্মিরা বসবাস করত এবং ময়মনসিংহ সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের ধরে এনে নির্যাতন করত। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে আল-বদর সদস্যরাও নারীদের ধরে আনতে সহযোগিতা করত।

    ওসমান ফারুকের মামলার সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র এবং শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের অবস্থান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার কাজ কিছুটা দেরি হচ্ছে। তাই এ মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করতে হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের বাড়ি রাজশাহী হওয়ায় চলতি সপ্তাহে সেখানে যাচ্ছেন ওই শিক্ষকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। এর আগে ২০১৬ সালের ৪ মে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট আমলের প্রভাবশালী এ মন্ত্রীর নাম মানবতাবিরোধীদের তালিকায় আসে বলে জানিয়েছিলেন তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম. সানাউল হক মিয়া।

    একাত্তরে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সানাউল হক বলেন, একাত্তরে সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের ১১ জন প্রফেসরের নাম পাওয়া গেছে, যারা স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড করেছেন। তাদের মধ্যে ড. ওসমান ফারুকের নামও দেখতে পান অনুসন্ধানকারীরা। তখন তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, কাগজপত্রে দেখা যায়, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ওসমান ফারুকসহ ১১ জন শিক্ষক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছিলেন। সে সময় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন তারা।

  • ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে’

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে’

    বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাৎক্ষণিক এ মন্তব্য করেন।

    এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, তার দেওয়া এ বক্তব্য দেশকে আরো একদফা সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

    প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

    আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৬ মিনিটের ভাষণে তার সরকারের সাফল্য, আগামীর করণীয়, বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিসহ সবকিছু তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ তুলে ধরা হলো।

    প্রিয় দেশবাসী,
    আসসালামু আলাইকুম।

    ২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।
    আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন।  ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
    তাঁর সেই আকাক্ক্ষ পূরণ করাই আমার একমাত্র ব্রত। ‘‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়’’ – জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।
    আমি আজকের দিনে শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি; ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি জানাই আমার সালাম।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কময় দিন। মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা সময় পেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য। একটা প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করে যুদ্ধবিধ্বস্ত-ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটিকে যখন গড়ে তুলছিলেন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই চরম আঘাত এলো।
    ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আমি ও রেহানা হারালাম প্রাণপ্রিয় মা, বাবা, তিন ভাই, ভ্রাতৃবধুদের এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ ১৮জন সদস্যকে।
    বিদেশের মাটিতে ছিলাম বলে দুই বোন বেঁচে যাই, কিন্তু দেশে ফিরতে পারিনি আমরা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসক আমাদের দেশে আসতে দেয়নি। সর্বহারা নিঃস্ব রিক্ত হয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ৬টি বছর বিদেশে কাটাতে হয়েছিল।
    ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন সকল বাধা অতিক্রম করে প্রিয় দেশবাসী আপনাদের সমর্থনে আমি দেশে ফিরতে সক্ষম হই। রিফিউজি হিসেবে আমাদের অমানবিক জীবনের অবসান ঘটে।
    দেশে ফিরে একদিকে যেমন দলকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করি, অপরদিকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধার করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা চালাই।
    চারণের বেশে সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছি। আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে তারও পরিকল্পনা তৈরি করি।
    স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে যখন আপনাদের কাছে গিয়েছি, পেয়েছি অপার স্নেহ, ভালবাসা, পেয়েছি আত্মবিশ্বাস। অনেক চড়াইউৎরাই পেরিয়ে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর এই প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সুযোগ পেল। বাংলাদেশের মানুষ সরকারি সেবা পেল। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক উন্নতির পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অপার সম্ভাবনা দৃশ্যমান হতে থাকল। বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের সেবাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন জনজীবনে আস্থা সৃষ্টি করেছিল।
    কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইজন সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজী, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।

    ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, ব্রিটিশ হাই কমিশনারের উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।
    এমনি পরিস্থিতিতে জারি করা হল জরুরি অবস্থা। ৭ বছর দুঃসহ যাতনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশবাসী আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য।
    ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করে প্রিসাইডিং অফিসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
    ২০১৩ থেকে ২০১৫ – এই তিন বছরে বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় ৫০০ নিরীহ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি, ২৯টি রেলগাড়ি ও ৯টি লঞ্চ পোড়ানো হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর এবং ৬টি ভূমি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। মসজিদে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তার গাছ এবং নিরীহ গবাদিপশু।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর – এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।
    ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা।

    প্রিয় দেশবাসী,
    আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন।
    দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
    প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।
    প্রিয় দেশবাসী,
    ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।
    বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার  ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে     ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
    ১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি’র সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট  বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক   চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
    ২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
    বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি।
    বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
    স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি।
    ৩০ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।
    ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
    আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে   ৭২ বছর।
    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
    সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না।
    বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।
    চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।
    গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে।
    গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।
    আমরা সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে।
    বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে সারাদেশে ব্যাপকহারে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আমরা বেশ কয়েকটি বন্ধ কারখানা চালু করেছি। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সমুদ্র সম্পদ আহরণ, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্লু ইকোনামি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।
    সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষকে বয়স্কভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিধবা, স্বামী পরিতক্তা, দুস্থ্য নারী ভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার। ৮ লাখ ২৫ হাজার জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা ভাতা পাচ্ছে।
    সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার।
    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতির পিতার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে বিশ্বসভায়।
    সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। যে বাংলাদেশকে একসময় করুণার চোখে দেখত, সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোয় করুণার পাত্র মনে করত; আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বসভায় সম্মানিত।
    আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালা ১৯৭৪-এর আলোকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছি। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
    নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে আমাদের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। বাংলাদেশ জেন্ডার সংশ্লিষ্ট এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বে ৫ম স্থান অর্জন করেছে।
    জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে। অতি সম্প্রতি আমাদের মেয়েরা অনুর্ধ-১৫ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এরআগে আমাদের মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে।
    ‘‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
    অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
    প্রিয় দেশবাসী,
    সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবধিান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।
    মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
    আমি আশা করি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।
    কোন কোন মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চান না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নিবেন না।
    প্রিয় দেশবাসী,
    আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?
    আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক!
    প্রিয় দেশবাসী,
    স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আমরা আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। এসব যদি আপনাদের চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনাদের পাশে আছি।
    কারণ, আমরাই লক্ষ্য স্থির করেছি যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করব। শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু আমরা বসে নেই। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
    আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
    আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সকল বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
    আসুন, দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
    বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি।
    আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ।

  • আ.লীগের সাংগঠনিক সফর শুরু ২৬ জানুয়ারী

    আ.লীগের সাংগঠনিক সফর শুরু ২৬ জানুয়ারী

    সংগঠনকে গতিশীল ও নির্বাচনমুখী করার প্রত্যয়ে ২৬ জানুয়ারি থেকে আওয়ামী লীগের ১৫টি টিম দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর শুরু করবে। দলের উপদেষ্টা ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা এসব টিমের নেতৃত্ব দেবেন। শুক্রবার দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরে যাবেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তারা অংশ নেবেন। গঠিত টিমগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সফরের দিনক্ষণ ও কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন। দেশব্যাপী এই সাংগঠনিক সফরকে সফল করার লক্ষে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    ১৫ টিমে যারা থাকবেন এবং যেখানে যাবে টিম- উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বাধীন অপর একটি টিম সফর করবে বরিশাল, বরিশাল মহানগর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম।

     

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে রংপুর, রংপুর মহানগর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায়। এ টিমের রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল হক, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সী, কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলায়। এই টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, প্রফেসর মেরিনা জাহান। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, নাটোর জেলায়। এই টিমে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মমতাজ উদ্দিন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শ্রী পীষুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে বাগেরহাট, খুলনা, খুলনা মহানগর, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এস, এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য এস. এম কামাল হোসেন, পারভীন জামান কল্পনা।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সফর করবে টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর জেলায়। এ টিমে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা আজম, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ মহানগর, কিশোরগঞ্জ জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মো. মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুছ ছাত্তার, নির্বাহী কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং।

    দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে সিলেট, সিলেট মহানগর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. মেজবাউদ্দিন সিরাজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মো. গোলাম কবীর রাব্বানী চিনু।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মহানগর, কক্সবাজার জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (চট্টগ্রাম মহানগর), নির্বাহী কমিটির সদস্য দীপংকর তালুকদার, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

    সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে গঠিত অপর একটি টিম সফর করবে কুমিল্লা, কুমিল্লা মহানগর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, নির্বাহী কমিটির সদস্য র. আ. ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে ঢাকা, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, মানিকগঞ্জ জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, মুকুল বোস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল মজিদ হুমায়ুন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সিমিন হোসেন রিমি, অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার।

  • কুয়াশা ও শীতে কাজ নেই দিনমজুরদের

    কুয়াশা ও শীতে কাজ নেই দিনমজুরদের

    তানজীল শুভ ;

    ঈশ্বরদী (পাবনা):

    ঘড়ির কাটায় সকাল ১০টা, তখনও কাজের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়ীয়া এলাকার দিনমজুর বিলু শর্মা (৫৮)। প্রতিদিন সকালে কাজ মিললেও আজ তিনি কোনো কাজ পাননি। শীতের তীব্রতা ও কুয়াশা বেড়ে যাওয়ায় কাজের পরিধিও কমে গেছে। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ছোট সংসার তার। মেয়ে গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছেলে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র।

    ঈশ্বরদীতে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় দরিদ্র মানুষ কষ্টে দিনযাপন করছেন। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ যেমন- স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং গ্রামীণ জনপদে থাকা মানুষগুলো শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন জানান, বুধবার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা রয়েছে আগের মতোই। ৮ই জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববারও একই তাপমাত্রা ছিল।

    ৪ঠা জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ওইদিন সকালে এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ নিয়মানুযায়ী ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তা শৈত্য প্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রচণ্ড শীতে কর্মজীবী মানুষদের হয়েছে সবচেয়ে অসুবিধা। অনেকে কাজ পাচ্ছেন না। দিনমজুর শ্রেণির মানুষজন যারা প্রতিদিনের আয়ে সংসার নির্বাহ করেন তারা ভীষণ কষ্টে দিনযাপন করছেন। পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষা ঈশ্বরদী উপজেলা অঞ্চলে ভারত থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাসে তাপমাত্রা নেমে গেছে। দিনমজুর আজিজল, লোকমান, সাঈদ, আশরাফুল সেই সকাল থেকে ডালা-কোদাল নিয়ে বসে আছেন রেলগেটে, কখন কাজের ডাক পড়বে সেই আশায়, কিন্তু সূর্যের দেখা নেই, কাজও নেই। কাজ না জুটলে বাড়ির জন্য বাজার নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। তাদের আশঙ্কা আজ আর কাজ জুটবে না, খালি হাতেই ফিরতে হবে।

  • আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তুরাগ পাড়ে ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

    বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ শুক্রবার ফজরের নামাযের পর আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। টঙ্গীর তুরাগ তীরে জর্ডানের শেখ ওমর খতিব আ’ম বয়ানের শুরু হয় ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। ৭৯টি দেশের ৩ হাজার ৯১৯ জন বিদেশি মেহমান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৪টি জেলার কয়েক লাখ মুসুল্লি এই পর্বে অংশ নিচ্ছেন। তবে তাবলিগ জামাতের শূরা সদস্য দিল্লীর মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না। আজ ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসুল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    তাবলীগ জামাত আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে অংশগ্রহণের জন্য দেশি-বিদেশি মুসুল্লীরা ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হয়েছেন। ইজতেমার মূল বয়ান মঞ্চ থেকে জ্যেষ্ঠ মুরুব্বীরা আগত মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত ইসলামী বিধানের উপর দিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করছেন। ইজতেমার প্রথম পর্বে দেশের ১৬টি জেলা থেকে আগত মুসুল্লিরা ২৮টি খিত্তায় অবস্থান করে ভোর থেকেই বয়ান শুনছেন।

    ইজতেমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

    এক মুসুল্লির মৃত্যু : রাত পৌনে ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম- আজিজুল হক (৬০)। তার বাড়ি মাগুরা জেলার শালিথা থানার হবিশপুর গ্রামে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত ১১টার দিকে ইজতেমা ময়দানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

    আগামি ১৪ জানুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব।

  • জঙ্গিরা মনে হয় ভুয়া অাইডি দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেয় : র‍্যাব ডিজি

    জঙ্গিরা মনে হয় ভুয়া অাইডি দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেয় : র‍্যাব ডিজি

    রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকার রুবি ভিলা নামের ছয় তলা বাড়ির পঞ্চম তলায় র‍্যাবের অভিযানে তিনজন নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার ওই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে তারা নিহত হয় নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।

    সকাল ১০টার দিকে সাংবাদিকদের র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, রুবি ভিলায় তিন জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। সম্ভবত গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা অাত্মঘাতি হয়েছে।

    বেনজির অাহমেদ বলেন, জঙ্গিরা জাহিদ নামের একটি ন্যাশনাল অাইডি কার্ড ব্যবহার করে গত ৪ জানুয়ারি বাসাটা ভাড়া নেয়। বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে বাসার ভেতরে অারও একটি ন্যাশনাল অাইডি কার্ড পাওয়া গেছে। দুইটি কার্ডেরই ছবি একটি নামে। অামাদের মনে হচ্ছে তারা ভুয়া অাইডি কার্ড ব্যবহার করে বাসাটি ভাড়া নিয়েছে।

    নিহতরা সবাই ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবক বলে জানিয়ে তিনি অারও বলেন, বাসার ভিতরে একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। অারও একটি গ্রেনেড ভিতরে রয়েছে। তাদের রুমে পিস্তলসহ অারও কিছু অার্মস রয়েছে।

    র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকার একটি ৬ তলা বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতের পর র‌্যাবের এই অভিযান শুরু হয়। জঙ্গিরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছুড়ে মারে ও গুলি চালায়। এতে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন।
    পরে র‌্যাবও জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে গুলি চালালে হতাহত হয়। র‍্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করে।

    পরে ওই বাড়ির মালিক দারোয়ানসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে র‌্যাব। এছাড়া ভবনের ৬১ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

  • আন্দোলনে পরাজিতরা নির্বাচনেও পরাজিত হবে

    আন্দোলনে পরাজিতরা নির্বাচনেও পরাজিত হবে

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই আজকে বাংলাদেশ সব সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতাও প্রয়োজন। এ জন্য আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। যারা আন্দোলনে পরাজিত হয়, তারা নির্বাচনেও পরাজিত হবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সরকার পতনের আন্দোলনে পরাজিত হয়েছিলেন, এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনেও পরাজিত হবে।

    আজ শুক্রবার সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শরীয়তপুরের নড়িয়ার ঘড়িসা ইউনিয়নের নোয়াদার বাঙলাবাজার মাঠে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ঘড়িসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকবর হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হক, সখিপুর থানা সভাপতি হুমায়ুন কবির মোল্লা, নড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে হাবিবুর রহমান সিকদার, আবদুর রব খান, হাসেম দেওয়ান, এনায়েতউল্লাহ মুন্সি, আলমগীর হোসেন, লিয়াকত হোসেন মুন্সি, ফজলুল হক মাল, আলম বয়াতি, আদিল মুন্সি, জহির শিকদার, মনির হোসেন সুমন, সানাউল্লাহ, ছাত্রলীগের ফরহাদ হোসেন রিয়াদ, মফিজুর রহমান হিরু প্রমুখ।

    এনামুল হক শামীম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সংবিধানের বাইরে গিয়ে অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া হবে না। নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে দাঁড়ায়। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। দেশের অর্থ পাচার হয়। তাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে হলে তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই আজকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। বড় বড় মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

  • বিএনপি সুপ্রিম কোর্টকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানিয়েছে-এ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমাউন

    বিএনপি সুপ্রিম কোর্টকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানিয়েছে-এ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমাউন

    বরিশালে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের বলিশাল বিভাগীয় প্রর্যায়ের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমাউন বলেছেন বিএনপির আইনজীবী সুপ্রিম কোট আইনজীবী ভবনকে এখন একটি রাজনৈতিক মঞ্চ বানিয়েছে। আমরাও এক সময়ে ছিলাম তখন রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাই নি। এবার যদি আমরা আসতে পারি তাহলে ঢাকার বাহিরে যদি সার্কিট বেঞ্চ হয় তাহলে সেটি সবার আগে বরিশালে হবে। আজ বিকালে বরিশাল শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী ভবন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ বরিশাল জেলা কমিটির আয়োজনে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

    বরিশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. গিয়াস উদ্দিন কাবুলের সভাপতিত্বে সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সাবেক স্বরাস্ট মন্ত্রী এ্যাড. সাহারা খাতুন বলেন ১৯৭৫ সালে খুনি মোস্তাক জিয়া চক্ররা সেদিন বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করেছে ভাগ্যক্রমে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা দেশের বাহিরে থাকায় তারা বেচে গেছেন বলে আজ তিনি আমাদের সহ দেশ পরিচালনা করে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসাবে তুলে ধরেছেন।

    এসময় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক চীফ হুইফ সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র ভাগ্নে ব্যারিস্টার তৌহিদুর রহমান সুজন,সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস,সুপ্রিম কোট বার এসোসিয়েশনের কোষাধাক্ষ এ্যাড. রফিকুল ইসলাম হিরু,সুপ্রিম কোর্ট বার সদস্য এ্যাড, ফজলুর রহমান,এ্যাড.এবিএম বায়জিদ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ প্রস্তুত কমিটির সদস্য এ্যাড. আজহার উল্লাহ ভূইয়া,এ্যাড.সেলিনা পারভীন,এ্যাড.মাহামুদুর রহমান লিটন,বরিশাল আইনজীবী সমিতি সভাপতি এ্যাড.আলহাজ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু,পটুয়াখালী বার সমিতির সভাপতি এ্যাড. ইউসুব আলি হাওলাদার,ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল আলম নুরনবী।

    এসময় মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোট বার সমিতির সদস্য বরিশাল মহানগর আওয়ামীগ সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল,বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. আনিস উদ্দিন শহীদ প্রমুখ। এসময় অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন সাবেক সভাপতি ও বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাড.একে এম জাহাঙ্গির।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন- আ’লীগে একক প্রার্থী, জোটে একাধিক, চূড়ান্ত হয়নি বিএনপির প্রার্থী

    বরিশাল সিটি নির্বাচন- আ’লীগে একক প্রার্থী, জোটে একাধিক, চূড়ান্ত হয়নি বিএনপির প্রার্থী

    ছয় সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে উষ্ণতা বাড়ছে রাজনীতিতে। যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে তফসিল। তাই নগর পিতার আসনে বসতে দলীয় মনোনায়ন পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের। বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচনায় রয়েছেন ২০ দলীয় জোট ও মহাজোটের প্রার্থীরা। তবে লড়াইটা যে ক্ষমতাসীদের জন্য মসৃণ নয়, তা বলে দেয় ২০১৫ সালের বিসিসি নির্বাচনের ইতিহাস।

    আধুনিক বরিশাল রূপকার ও জননন্দিত মেয়র হয়েও প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ সেই নির্বাচনে ১৬ হাজার ৯৪৬ ভোটে হেরে যান বিএনপি’র প্রার্থী ও বর্তমান সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের কাছে। যদিও হেফাজত ইস্যুতে প্রভাবিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ার বিষয়টিও সামনে বেড়িয়ে আসে। এদিকে একক প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে যুবনেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একক সিদ্ধান্ত হলেও মহাজোটের শরীক দলগুলো এখনো সমর্থন দেয়নি। ঘোষণা করা হতে পারে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মেয়র প্রার্থীর নাম।

    এরইমধ্যে বাসদের প্রার্থী হিসেবে তরুণ নারীনেত্রী ডা. মনিষা চক্রবর্তী ও সিপিবির প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট এ কে আজাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো মেয়র প্রার্থী হিসেবে কোনো নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় আলোচনায় রয়েছেন ডা. মনিষা চক্রবর্তী। দল চাইলে নির্বাচন করতে দ্বিমত নেই জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীমও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহামুদুল হক খান মামুনের। অপরদিকে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা কিংবা চূড়ান্ত করেনি ২০ দলীয় জোট। শোনা যাচ্ছে, ২০০৩ সালে বিসিসিকের প্রথম নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী হয়ে বিজয়ী ও বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার প্রার্থী হতে চান না। তবে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের হঠাৎ করে দলীয় কর্মসূচিতে বেশি অংশ নেওয়াতে বোঝা যাচ্ছে তিনি আবারো প্রার্থী হতে চাইছেন। তার সঙ্গে প্রার্থীর খাতায় যুক্ত হয়েছে- কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস জাহান শিরিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন, বর্তমান প্যানেল মেয়র ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কেএম শহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী আফরোজা খানম নাছরিনের নাম।

    অপরদিকে জোট-মহাজোটের বাহিরে এককভাবে প্রার্থী দিচ্ছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হলে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অংশ নেবে বিএনপি। অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, মনোনায়ন যে কেউ চাইতে পারেন, কিন্তু আমরা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠিয়েছি।