Category: অপরাধ

  • বন্ধুর পা‌পের ভাগ আমি কেন নেব: গ্রেফতারের পর সাইমুন

    বন্ধুর পা‌পের ভাগ আমি কেন নেব: গ্রেফতারের পর সাইমুন

     চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় স‌ন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন সাইমুন। সে মূল হোতা নয়ন বন্ডের বন্ধু। গ্রেফতারের পর সাইমুনকে পটুয়াখালী থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছে। সেখানে সে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছে।

    সাইমুন জানায়, আসামিদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব আছে। তার স্ত্রীর ক‌লে‌জের পরীক্ষা সংক্রান্ত কা‌জে সে পটুয়াখালীতে যায়। রিফাত হত্যার দুই‌দিন পর সে পটুয়াখালী যায়।

    সাইমুন বলেছে, ‘রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের ছাড়াও অনেকের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব আছে। কিন্তু আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জ‌ড়িত না। বন্ধুত্ব অনেকের সঙ্গেই থাক‌তে পা‌রে; বন্ধুর পা‌পের ভাগ আমি কেন নেব? আমি তো নিরীহ।’

    পু‌লি‌শের নির্ভর‌যোগ্য একা‌ধিক সূত্র জানায়, সাইমু‌নের মুঠোফোন জব্দ করা হ‌য়ে‌ছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতা‌রে পু‌লি‌শ সর্বত্র অভিযান চালাচ্ছে।

    বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় জ‌ড়িত থাকার স‌ন্দেহে সাইমুনকে পটুয়াখালী থে‌কে গ্রেফতার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। শুক্রবার (২৮ জুন) দিনগত গভীর রা‌তে তাকে গ্রেফতার ক‌রা হয়।

    পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোস্তা‌ফিজুর রহমান বলেন, গোপন খবরে শহহরের সরকারি বা‌লিকা বিদ্যালয় সড়‌কের নানার বাসা থে‌কে সাইমুনকে গ্রেফতার করা হ‌য়ে‌ছে। তার বাবা মো. কাওসার হো‌সেন লিটন। তাদের বাসা বরগুনার স্টে‌ডিয়াম সড়কে। তবে সে রিফাত হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি না। ওই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাকে গেফতার দেখানো হয়েছে।

  • মঠবাড়িয়ায় বিদ্যুতায়নের নামে চলছে খাম্বা বানিজ্য!

    মঠবাড়িয়ায় বিদ্যুতায়নের নামে চলছে খাম্বা বানিজ্য!

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে প্রতি গ্রাহকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তার, খুঁটি ও মিটার বানিজ্যে দালালচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে গ্রাহক সেবা।উপজেলা ও জেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগসাজশে সাপলেজা ইউনিয়নের মিলন মেম্বর এই খুঁটি বানিজ্যের মূল হোতা বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

    স্হানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, দালালরা প্রথমে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে খুঁটি না পাওয়ার অজুহাত দেখায় গ্রাহকদের।কাউকে পরিকল্পিতভাবে মাপের বাইরে রেখে কিংবা মাপের সময় কিছু কিছু বাড়ি এড়িয়ে গিয়ে দালাল চক্র খাম্বা বানিজ্যের সুবিধা লুফে নিচ্ছে।উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫–২০ জন চিহ্নিত দালাল খাম্বা বানিজ্যের সাথে জড়িত।এরা খাম্বা স্হাপনের নামে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা আদায় করছে।যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের খাম্বা বসানো হচ্ছে না।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের এ উদ্যোগকে নস্যাত করতে দালালচক্র এ কাজ করছেন।
    দরপত্রের মাধ্যমে খাম্বা আনা হলেও ঠিকাদার ও অফিসকে টাকা দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালালরা।আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ফারুকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।দক্ষিন সোনাখালীর তাপসের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।ওয়াহেদ দরবেশের বাড়ির পূর্ব পাড়ায় তালুকদার বাড়ি থেকে বলোরাম,বিজন ও সুচিন্তাসহ ৫ জনের কাছ থেকে খাম্বার টাকা নেওয়া হয়েছে।এভাবে শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম্বার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে।টাকা না দিলে তাদের খাম্বা বিভিন্ন অজুহাতে স্হাপন করা হচ্ছে না।প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় সাধারণ মানুষ দালালদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারছে না।
    পল্লী বিদ্যুৎ ইন্জিনিয়ার বাবুল হোসেন জানান,মঠবাড়িয়া উপজেলার ৯০ ভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।তবে মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসে মাসে কতটি খাম্বা আসে এবং কতটি খাম্বার কাজ চলমান আছে তা তার জানা নেই।
  • রিফাত হত্যার বিচারের দাবীতে উত্তাল বরগুনা

    রিফাত হত্যার বিচারের দাবীতে উত্তাল বরগুনা

    বরগুনায় রিফাত হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে বরগুনার সর্বস্তরের জনগন।শনিবার সকাল ১০ টায় বরগুনা পৌর সুপার মার্কেট চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজের সভাপতিত্বে দুই ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, অ্যাড. নাসির উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক, বেতাগী উপজেলার সড়িষামুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিপন জোমাদ্দার, অ্যাড. সোনম দেবনাথ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন শাবু, বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রইসুল আলম রিপন ও নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ প্রমূখ।

    এ সময় বক্তারা রিফাত হত্যারীদের ফাঁসীর দাবী জানান এবং অবিলম্বে এই হত্যাকারীদের যদি গ্রেফতার করা না হয় তাহলে বরগুনাকে অচল করে দেয়া হবে।

    নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ তার বক্তব্যে বলেন, আমার ছেলে হত্যার বিচারের দাবীতে বরগুনার সর্বস্তরের জনগন যারা এসেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনের আলোয় কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন এই খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।খুনীদের গ্রেফতারের তৎপরতায় বরগুনার পুলিশ প্রসাশনের উপর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    আমার ছেলে নৃশংসভাবে হত্যার ভিডিও আমি দেখিনি। আমার একমাত্র ছেলে আজ নেই, আমি কি নিয়ে বাঁচবো? এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
    মানববন্ধন শেষে রিফাত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বরগুনার প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন।

  • বরিশালে স্কুল ছাত্রকে ঝাড়ু দিয়ে পেটালেন শিক্ষক

    বরিশালে স্কুল ছাত্রকে ঝাড়ু দিয়ে পেটালেন শিক্ষক

    বরিশাল সদর উপজেলার ১০ চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের আলহাজ্ব মজিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রকে বেধম মারধর ও ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়েছে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)। জানা গেছে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের একটি পরিক্ষা ছিলো পরিক্ষার সিট প্লান নিয়ে স্যার ছাত্র’র মাঝে বাক বিতন্ডা হয়।

    এক ছাত্রের সিটে অন্য একজনকে বসালে তাতে প্রতিবাদ জানায় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র আশিক চৌকিদার। এর পরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাত্রকে অকাথ্য ভাষা গালাগাল করলে পরিক্ষা না দিয়ে খাতা নিয়ে বেড়িয়ে যায় আশিক। এসময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হালিম ক্লার্ক জাকিরকে দিয়ে ছাত্র আশিককে ডাকায়।

    আশিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রথমে মারধর করে পরে তাকে ঝাড়ু পেটা করে। এতে স্কুল ছাত্র অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে ঔষধ খাইয়ে কিছুক্ষন পরে জ্ঞান ফিরলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে মোবাইল ফোনে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জকে জানান স্কুল ছাত্র’র পিতা স্বপন চৌকিদার। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা হায়দার এএসআই দিদারকে পাঠান।

    এএসআই দিদার ঘটনার পুরো বিষয়টি বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন। পুলিশ যাওয়ার পরেই স্কুল ছাত্র আশিকের মাকে ঢাকা থেকে গ্রামে আনান স্কুল শিক্ষককের স্বজনরা। ঘটনাটি পুরো এলাকা জুড়ে আলোচনার ঝড় উঠলে টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নামেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হালিম। এলাকাবাসী একাট্টা হয়ে হালিম মাষ্টারের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

    গতকাল সকাল ১০ টায় সাবেক মেম্বার রহমানের বাড়িতে বসে শালিশ মিমাংসার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা রফাদফায় হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেশের বাইরে থাকার করনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপান ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হালিম। বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুর রশিদ খান জানান, যদি শিক্ষক এমন কর্মকান্ড করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম মোস্তফা হায়দার জানান, আমি লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রিফাত হত্যার ঘটনায় বরগুনা থানার ওসি প্রত্যাহার

    রিফাত হত্যার ঘটনায় বরগুনা থানার ওসি প্রত্যাহার

    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে নির্মমভাবে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতার কারণে বরগুনা সদর থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ) আবির মোহাম্মদ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় থানা পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের অবহেলা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন-নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বরগুনায় স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এবং বরগুনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়।

    গত বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজে স্ত্রীকে দিয়ে আসার সময় রিফাত শরীফকে কলেজ গেইটের সামনে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নয়ন বন্ড, তার সহযোগী রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী। পরে স্থানীয়রা তাকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রিফাত। এ হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল নড়ে-চড়ে বসে প্রশাসন

  • আমার ছেলের হত্যাকারীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি

    আমার ছেলের হত্যাকারীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি

    আমার একমাত্র ছেলেকে কীভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা পুরো বিশ্ববাসী দেখেছে। আমার ছেলে সকালে তার মায়ের কাছ থেকে পাঁচশ টাকা নিয়ে বেরিয়ে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। কিন্তু আমার ছেলের হত্যাকারীদের পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বরগুনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ এসব কথা বলেন।
    সকাল ১০টার দিকে ‘বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’ এর ব্যানারে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বরগুনা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে তিন সহ¯্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।

    মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রইসুল আলম রিপন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দীন সাবু, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জুবায়ের আদনান অনিক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
    সমাবেশে জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডে জড়িত নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ অন্যরা বরগুনায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তাদের নামে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রসী কার্যক্রমের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এরা কাদের প্রশ্রয়ে বরগুনায় এ রকম একটি নির্মম হত্যাকান্ডসহ মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেইসব প্রশ্রয়য়দাতাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়াও দুলাল শরীফের একমাত্র ছেলে রিফাত শরীফের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক বলেন, রিফাত হত্যাকান্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ডের মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবে গত বছরে ২৮ এপ্রিল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ। এই সংবাদ সম্মেলনের সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও নয়নের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার খবর আমরা পাইনি। বরং একাধিক মামলা ও ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলনের পরও নয়ন বরগুনায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়িয়েছে।

  • অনেক সূত্র ফেসবুক মেসেঞ্জারে

    অনেক সূত্র ফেসবুক মেসেঞ্জারে

    বরগুনায় প্রকাশ্যে নেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে খুনের কাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এদিকে নানা অপরাধ ও অপকর্মের লক্ষ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ‘কিলিং স্কোয়াড ০০৭’ নামে একটি গ্রুপ খুলেছিল নয়ন। এ গ্রুপের বার্তায় আসে রিফাত শরীফকে হত্যার নির্দেশ। হত্যাকালের ভিডিও ফুটেজের পাশপাশি কিলিং স্কোয়াড ০০৭-এ আদান-প্রদান করা খুনিদের তথ্যাদিও এখন রিফাত হত্যাকাণ্ডে অপরাধ ও অপরাধী শনাক্তের অন্যতম ক্লু।

    এ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী গতকাল রাত পর্যন্ত ধরা পড়েনি। তারা এখন কারও আশ্রয়ে, নাকি গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়েছে-এ প্রশ্ন অনেকেরই। জানা গেছে, ঘাতক নয়ন বন্ড বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ডের নামের সঙ্গে মিলিয়ে তার সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম রাখে ‘০০৭’। এমনকি নিজের নামও ওই গোয়েন্দা চরিত্র অনুযায়ী ‘নয়ন বন্ড’ রাখে। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে যুক্ত করে রিফাত ফরাজীকে। বরগুনার কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘিরপাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতো এ গ্রুপের সদস্যরা। নয়নের নেতৃত্বে গ্রুপটি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থীদের মেসগুলোতেও প্রায়ই হানা দিয়ে লুটতরাজ করত। ছিনতাই-চাঁদাবাজির পাশপাশি নারীদের উত্ত্যক্ত করাও ছিল ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের নিত্যকাজ।

    একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রিফাত শরীফকে হত্যার মিশন ঠিকঠাক মতো সম্পন্ন করতে ঘটনার আগের দিন সকাল থেকেই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে খুনের নানা ছক কষে নয়ন বন্ড। কোথায়, কীভাবে হত্যা করা হবে, কিলিং মিশনে থাকা সদস্যদের কার কী ভূমিকা থাকবে, তা ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে জানিয়ে দেয় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে তাদের কথোপকথনের তথ্যানুযায়ী ঘাতক রিফাত ফরাজী ঘটনার আগের দিন রাত ৮টার দিকে ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের সরকারি কলেজের সামনে থাকার নির্দেশ দেয়। ‘Mohammad’ ও ‘সাগর’ নামের দুজন ওই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে জানতে চায়-তাদের কোথায় ও কখন থাকতে হবে। জবাবে রিফাত ফরাজী ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ‘দা’-এর একটি ছবি দিয়ে তাদের বলে-পারলে এইটা নিয়া থাইকো।

    তখন ‘Mohammad’ জবাব দিয়ে জানায়, ‘দা’ নিয়ে হাজির থাকবে সে। সে অনুযায়ী কিলিং স্কোয়াডের সদস্যরা ঘটনার দিন সকাল ৯টার মধ্যেই বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে হাজির হয়। এর পর তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন রিফাতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নয়ন তার গ্রুপের মাধ্যমে হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া সবাইকে গ্রেপ্তার এড়াতে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়। অভিযোগ রয়েছে-নয়ন বন্ডের গ্রুপটি ২০১৭ সালে রাকিব নামের এক কিশোর ও জীবন নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে। ০০৭ গ্রুপের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ভাড়ায়ও খাটত। তাদের বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে; কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে তারা দিনের পর দিন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

    রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায়ও গ্রেপ্তার এড়াতে বুধবার সন্ধ্যার পরই নয়ন ও রিফাত ফরাজী আত্মগোপন করে। গতকাল পর্যন্ত এ দুই ঘাতক ধরা পড়েনি। অবশ্য তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে জন্য দেশের সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো সূত্র দাবি করেছে, তারা দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই আছে। তবে কেউ স্বীকার করছে না।

    এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি হাসান ও চন্দনকে সাতদিন করে আর সন্দেহভাজন নাজমুল হাসানকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।’

    এদিকে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, ‘ঘটনার দুদিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা ধরা পড়েনি। তবু গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমার ছেলে হত্যার ঘটনায় তৎপরতাসহ গণমাধ্যমের সহায়তায় আমি সন্তুষ্ট। আমি আশা করি শিগগিরই মূল আসামিরা ধরা পড়বে এবং আমি আমার ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার পাব।’

  • মায়ের নিষেধ অমান্য করে মিন্নির কাছে গিয়েছিলেন রিফাত

    মায়ের নিষেধ অমান্য করে মিন্নির কাছে গিয়েছিলেন রিফাত

    বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। বুধবার সড়কে লোকজনের সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নববিবাহিত স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে খুনি নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাত শরীফের দ্বন্দ্ব চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এক সময়ের বন্ধু নয়ন দাবি করছিল মিন্নি তার স্ত্রী। মিন্নির সঙ্গে নয়নের প্রেমের সম্পর্কের বেশকিছু ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করে সে।

    এসব বিষয় নিয়ে রিফাতের সঙ্গে দু-একবার কথাকাটাকাটি হয় নয়নের। এক সময়ের ছাত্রলীগ এবং পরে যুবলীগ কর্মী রিফাত শরীফও ছেড়ে কথা বলেননি নয়নকে। এ অবস্থায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় নয়ন বন্ড। বিষয়টি নিজের মাকে জানায় রিফাত। সবকিছু শোনার পর পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কলেজ এলাকায় গিয়ে মিন্নির সঙ্গে দেখা করতে ছেলেকে নিষেধ করেন রিফাত শরীফের মা। প্রয়োজন ছাড়া বরগুনা শহরে যেতেও নিষেধ করেন তাকে।

    রিফাতের মা গণমাধ্যমকে বলেন, তারপরও বুধবার স্ত্রী মিন্নির সঙ্গে দেখা করা এবং তাকে নিরাপত্তা দিতে বরগুনা সরকারি কলেজে যায় রিফাত শরীফ। আর সেখানেই ঘটে তাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা।

    রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

    নিহতের পরিবার জানায়, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যায় অংশ নেয় নয়ন বন্ডসহ ৪-৫ জন। রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে পুলিশলাইন সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকেন।

    রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

  • রিফাতের কবরে আমাকে মাটি পর্যন্ত দিতে দেয়নি ওর বন্ধুরা

    রিফাতের কবরে আমাকে মাটি পর্যন্ত দিতে দেয়নি ওর বন্ধুরা

    সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করছে অন্যদিকে স্ত্রী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বরগুনার রিফাত শরীফের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ছড়িয়ে পরা এমন ভিডিওটি তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় সারাদেশে।

    প্রথম দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির এই সাহসী প্রচেষ্টাকে সবাই প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখলেও কয়েক ঘণ্টা পরই উল্টো সমালোচনাও শুরু হয় স্বামী হারানো শোকে বিপর্যস্ত মিন্নিকে ঘিরে। এমনকি নিহত রিফাতের বন্ধুদের কেউ কেউ মিন্নিকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করে। যার ফলে স্বামীর কবরে মাটি দিতে না পারার আক্ষেপ জানিয়েছেন মিন্নি।

    স্ত্রী মিন্নিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদের জের ধরে খুন হন স্বামী রিফাত শরীফ। ঘাতক নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তাদের গ্যাং এর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে লড়েছিলেন মিন্নি। তার এই সাহসী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা হলেও কেউ কেউ তাকে ‘ভিলেন’ বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বার্তা দেয়। নিহত রিফাতের বন্ধুরাও ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্নির উপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়।

    গণমাধ্যমকে মিন্নি বলেন, ‘ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে দেখি রিফাত এখানে নেই। তাকে বরিশাল হাসপাতালে (শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। রিফাত মারা যাওয়ার পর বিকেলে লাশ দেখতে শ্বশুর বাড়ি গেলে রিফাতের বন্ধুরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

    মিন্নি বলেন, আমি শ্বশুর বাড়ি যাই তখন রিফাতের বন্ধুরা গালাগাল করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার দিকে তেড়ে আসে। একপর্যায়ে আমি আমার চাচাশ্বশুরের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেই। আমার অগোচরেই রিফাতের দাফন সম্পন্ন হয়। আমি শেষ দেখাটাও দেখতে পারিনি। এমনকি আমাকে ওর কবরে মাটি পর্যন্ত দিতে দেয়নি।

  • বাংলাদেশে জেমস বন্ড না থাকলেও একজন নয়ন বন্ড আছেন

    বাংলাদেশে জেমস বন্ড না থাকলেও একজন নয়ন বন্ড আছেন

    প্রখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্র জেমস বন্ড। তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও কমিকস। বাংলাদেশে জেমস বন্ড না থাকলেও একজন নয়ন বন্ড আছেন। তিনি নিজেই এই উপাধি নিয়েছেন। তাঁর শক্তির উৎস মাদক ও ক্ষমতার রাজনীতি।

    গত বৃহস্পতিবার যখন প্রথম আলোর বরগুনা প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিককে টেলিফোন করি, তখন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডের আংশিক পরিচয় পাই। তিনি এলাকায় মাস্তান হিসেবে পরিচিত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিজেও মাদক সেবন করেন। কিন্তু গতকাল বরগুনার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরোনো পত্রিকা ঘেঁটে আমরা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়টিও পেয়ে যাই। নয়ন বন্ড কোনো পদে না থাকলেও আত্মীয়তা ও ‘বড় ভাই’ সূত্রে ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১১ সালে এসএসসি পাস করে নয়ন আর পড়াশোনা করেননি। তাঁর বন্ধু রিফাত ফরাজী ও তাঁর ছোট ভাই রিশান ফরাজী সাবেক সাংসদ ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে।

    বরগুনার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাংসদ ও সাবেক উপমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। গত সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দখলবাজি, মাস্তানি, মাদক ব্যবসা, বিএনপি-জামায়াত তোষণের অভিযোগ আনেন। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেননি। বরং উভয় পক্ষ তাঁদের হাতে রাখার চেষ্টা করেছেন। এটি তাঁদের ও সহযোগীদের বক্তৃতা-বিবৃতি ও ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে স্পষ্ট।

    ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল বরগুনা প্রেসক্লাবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান ও সাধারণ সম্পাদক তানবীর হোসাইন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘আমরা আগে শুনেছি কাজের বিনিময়ে খাদ্য, মানে কাবিখা। কাজের বিনিময়ে টাকা, মানে কাবিটা। অপ্রিয় হলেও সত্য, এখন সেখানে শুনতে হচ্ছে ‘মাবিরা’ (মাদকের বিনিময়ে রাজনীতি)।’ তাঁদের অভিযোগ, সুনাম দেবনাথ (সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে) বরগুনার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।…সুনামের আরেক সহযোগীর নাম নয়ন বন্ড। প্রায় ১২ লাখ টাকার হেরোইন, ফেনসিডিল, দেশি অস্ত্রসহ ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাল পে-অর্ডার করে আলোচনায় আসেন বরগুনার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইস্রাফিল। তিনি ছিলেন সুনামের ফেনসিডিল ব্যবসার অংশীদার। (কালের কণ্ঠ, ২৯ এপ্রিল ২০১৮)

    অথচ রিফাত শরীফ হত্যার পর ফেসবুকে সুনাম দেবনাথ লিখেছেন, ‘হত্যাকারীদের মধ্যে প্রধান হচ্ছে নয়ন এবং তার সহযোগীরা হচ্ছে রিফাত ফরাজী, পিতা দুলাল ফরাজী, সাং বরগুনা ধানসিঁড়ি রোড। এবং রিফাতের ছোট ভাই রিশান ফরাজী, পিতা: ও সাং ঐ।’

    সুনামের অভিযোগ, রিফাত ও নয়নদের আরও একটি পরিচয় আছে, তাঁরা অত্র এলাকায় এমন কোনো ছাত্রাবাস নেই, যেখান থেকে ছাত্রদের ল্যাপটপ, মুঠোফোন, টাকা ইত্যাদি ছিনতাই এবং চুরি করে নিয়ে আসেননি। এ নিয়ে বহুবার মামলা হয়েছে, বহুবার জেল খেটেছেন, কিছুদিন পর আবার ছাড়াও পেয়েছেন। তাঁদের নামে কতগুলো মামলা রয়েছে, তা থানা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

    নিহত রিফাতের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সুনাম আরও লিখেছেন, ‘রিফাত শরীফ আমাদের খুব কাছের ছোট ভাই ও কর্মী ছিল, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা করেছে। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে রিফাতের মৃত্যুসংবাদে। তবে এ খুনের পেছনে আরও অনেক রহস্য আছে।’

    ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাত ১১টার দিকে নয়ন বন্ডের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় ৩০০ ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল, ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক হন নয়ন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে নয়ন বন্ড ও তাঁর সহযোগী ইমামের বিরুদ্ধে। সে সময় আওয়ামী লীগের কোনো পক্ষ নয়ন সম্পর্কে মুখ খোলেনি। এমনকি ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের নেতারা যখন মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ডকে সাংসদ পুত্রের সহযোগী হিসেবে শনাক্ত করেন, তখন তিনি একে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে চালিয়েছিলেন। এখন বলছেন নয়ন মাদকসন্ত্রাসী ছিলেন।

    বরগুনায় রিফাত হত্যার ঘটনা গোটা বাংলাদেশের এক খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছে মাত্র। প্রায় সব অপরাধের পেছনে কাজ করে মাদক ও ক্ষমতা। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই বলেন, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অথচ তারা যে পদে পদে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশ চুনোপুঁটিদের পাকড়াও করলেও রাঘববোয়ালেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, বিচার হয় না। পুলিশের দাবি, ‘আমরা তো ধরছি, কিন্তু আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এলে কী করার আছে।’ আদালত বলছেন, মামলার দুর্বলতার কারণেই আসামিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। মানুষ কার কথা বিশ্বাস করবে?

    এই যে সারা দেশে খুনখারাবি বাড়ছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার পেছনে রয়েছে মাদক ও ক্ষমতার রাজনীতি। অনেক ক্ষেত্রে তারা হাত ধরাধরি করে চলছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিফাত হত্যার ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দেশবাসী দ্রুত এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। অনেকে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধন্যবাদ পেতে পারেন। কিন্তু যে নারী তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে একা লড়াই করলেন, তাঁকে নিয়ে মহল বিশেষের কুৎসা রটনার কারণ ঘাতকদের রক্ষা করা। এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ঘাতক-দুর্বৃত্তদের চাপাতি-রামদার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, ‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ।’