Category: দূর্ঘটনা

  • শ্রীলঙ্কায় হামলায় ড্যানিশ ধনকুবেরের ৩ সন্তানের মৃত্যু

    শ্রীলঙ্কায় হামলায় ড্যানিশ ধনকুবেরের ৩ সন্তানের মৃত্যু

    শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে সিরিজ বোমা হামলায় ড্যানিশ ধনকুবের ও স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শিল্পপতি অ্যান্ডার্স হোল পওলসেনের তিন সন্তান প্রাণ হারিয়েছেন। চার সন্তানের মধ্যে তিনজনের এই মৃত্যুতে শোকাহত পওলসেন। খবর গার্ডিয়ান’র।

    পওলসেনের সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই তিন সন্তানের পরিচয় জানানো হয়নি। এই তিনজন বেড়াতে গিয়েছিলেন ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটিতে।

    ব্রিটেনের ফ্যাশন ও কসমেটিক সামগ্রীর অন্যতম বড় কোম্পানি ‘আসস’র মালিক এবং জার্মান কোম্পানি জালান্দোরও অংশীদার পওলসেন যুক্তরাজ্যভুক্ত দেশ স্কটল্যান্ডে ব্যবসা করলেও ড্যানিশ নাগরিক। ৪৬ বছর বয়সী পওলসেন গ্লেনফেশিসহ ১২টি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক। গ্লেনফেশি প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার একর জমির কোম্পানি।

    উল্লেখ্য, রবিবার (২১ এপ্রিল) কলম্বো ও এর আশপাশে তিনটি গির্জা, চারটি হোটেলসহ আটটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সোমবার (২২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ২৯০ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। আহত আছেন সাড়ে ৪শর বেশি মানুষ।

  • গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ২

    গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ২

    রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি বাড়িতে গ্যাসের পাইপ লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণে শামিম ও হেলাল বিশ্বাস রাকিব নামে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে আরো সাতজন।

    সোমবার ভোরে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের সাঁওঘাট এলাকার ওই তিনতলা বাড়ির নিচতলার এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শামিম মেহেরপুর জেলার মজিবনগর থানার কোমরপুর এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে ও হেলাল বিশ্বাস রাকিব ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার কয়া এলাকার রহিম বিশ্বাসের ছেলে। তারা দুজন স্থানীয় নেক্সট এক্সেসরিজ লিমিটেড নামের একটি গার্মেন্ট এক্সেসরিজের কারখানার কাজ করতেন। আরো কয়েকজন সহকর্মীর সাথে ওই বাসায় মেস করে থাকতেন তারা।

    আহত অন্যরা হলেন- নেক্সট এক্সোসরিজ লিমিটেডের শ্রমিক তরিকুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, হযরত আলী, আরিফ, আনোয়ার হোসেন, ফারুক মিয়া ও আরিফুর রহমান। তাদের মধ্যে লিয়াকত ও আরিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সাঁওঘাট এলাকার ওই বাড়ির মালিক রাবেয়া আক্তার মিলি নামে একজন আইনজীবী। ভোর ৩টার দিকে বিকট শব্দে ওই বাড়ির নিচতলায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারপাশের দেয়াল উড়ে গিয়ে কয়েকশ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে।

    শবে বরাতের রাতের শেষে বিকট ওই বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠায়। আরো তিনজনকে নেওয়া হয় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে।

    ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা জানান, ছয়জনকে ঢাকা মেডিক্যালে আনার পর শামিম ও হেলালকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

    ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রফিকুল জানান, ধারণা করা হচ্ছে, হাই-প্রেসার লাইন থেকে ওই বাসায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। শবে বরাতের রাতে মিল-কারখানা বন্ধ থাকায় গ্যাসের প্রেসার বেশি ছিল। কোনো লিকেজ থেকে পুরো বাসায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল বলে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

    রূপগঞ্জের কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ আবদুল মান্নান বলেন, ভোর রাতে ওই বাসায় কেউ একজন চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে পুরো বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিস দুটি ইউনিট ওই আগুন নেভাবে কাজ করেছে বলে জানানা মান্নান।

  • বরিশালে লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝে চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

    বরিশালে লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝে চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

    বরিশালে লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝে চাপা পড়ে জিতেন বিশ্বাস (৩৫) নামে এক ডাব বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় যুবরাজ-১ লঞ্চসহ এর মাস্টার (চালক) ও কেরানীকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহত জিতেন বিশ্বাস উপজেলার জামবাড়ি এলাকার মৃত জগদীশ বিশ্বাসের ছেলে। তিনি লঞ্চঘাট এলাকায় ফেরি করে এবং ট্রলার যোগে ডাব বিক্রি করতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে পিরোজপুরের বৈঠাঘাটা-পয়সারহাট-হারতা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে হারতা বাজার লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছায় যুবরাজ-১ লঞ্চটি। লঞ্চ দেখে পন্টুনের সঙ্গে বাধা একটি নৌকা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন জিতেন।

    এ সময় যুবরাজ-১ লঞ্চটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝে চাপা পড়ে কচা নদীতে পড়ে যান জিতেন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পরে স্থানীয়রা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে জিতেনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

    উজিরপুর মডেল থানার এসআই মাহাতাব হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে যুবরাজ-১ লঞ্চ ও এর মাস্টার (চালক) গিয়াস উদ্দিন এবং কেরানী সুমিৎ চন্দ্রকে আটক করা হয়েছে। নিহত জিতেন বিশ্বাসের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

    সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

    শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ফিল্ড কমান্ডারদের (এসপি/ডিসির মতো মাঠ পর্যায়ের অফিসার) সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতর।

    আগে থেকে ইস্টার সানডে ও পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ ছিল। শ্রীলঙ্কার ঘটনার পর নতুন করে আজ এ নির্দেশনা দেয়া হলো।

    এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপাস্ট বসানো হবে। সেখানে সন্দেহজনক কাউকে মনে হলে তল্লাশি করা হবে। তবে স্টার সানডে ও পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কোনো হামলার খবর নেই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।

    পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশের ফিল্ড কমান্ডারদের (এসপি/ডিসির মতো মাঠ পর্যায়ের অফিসার) সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শবে বরাত ও ইস্টার সানডেকে সামনে রেখে কেউ যাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না করতে পারে সেজন্য পুলিশ বাহিনী প্রস্তুতি রয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে। তবে এই দুই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কোন ধরনের হামলার হুমকি কিংবা আশঙ্কা নেই।

    উল্লেখ্য, রোববার (২১ এপ্রিল) সকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ দেশটির অন্তত ছয়টি স্থানে তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২০৬ জন নিহত ও পাঁচশ’র অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

  • শ্রীলঙ্কায় রক্তবন্যা : নিহত বেড়ে ২০৭

    শ্রীলঙ্কায় রক্তবন্যা : নিহত বেড়ে ২০৭

    দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় গীর্জা এবং বিলাসবহুল হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার সকালের দিকের এই সিরিজ হামলায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৪৫০ জন।

    হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা ১৯০ জন বলে জানায়। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পর দেশটির পুলিশ বলছে, রাজধানী কলম্বোজুড়ে সিরিজ বোমা হামলায় ২০৭ জন নিহত ও আরো ৪৫০ জন আহত হয়েছেন।

    ইস্টার সানডের সকালে কলম্বোর বিলাসবহুল সিনামুন গ্রান্ড, শাঙ্গরি-লা ও কিনসবুরি হোটেল ও কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি গীর্জা, নেগোমবোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গীর্জা ও বাত্তিকালোয়ার জিওন গীর্জায় ওই হামলা হয়। দেশটির পুলিশের প্রধান বলেছেন, তিনি এই হামলার ব্যাপারে ১০দিন আগেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

    দেশটির প্রধান এবং প্রসিদ্ধ গীর্জাগুলো ইস্টার সানডের দিনে আক্রান্ত হতে পারে বলে ওই সতর্কবার্তায় জানান তিনি। রোববার সকাল ৮টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের খবর আসে। সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে নিহতের সংখ্যা ততই লাফিয়ে বাড়ছে। দেশটির ইতিহাসে এই হামলাকে কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

    রাজধানী কলম্বো-সহ পুরো দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনটি গীর্জা ও বিলাসবহুল তিনটি হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলায় ১৮৫ জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির রাজধানীতে আরো দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। কলম্বোর কাছের দেহিওয়ালা এলাকায় সপ্তম বিস্ফোরণে অন্তত দু’জন নিহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি।

    এছাড়া অষ্টম বিস্ফোরণটি রাজধানীর ডেমাটাগোদার একটি আবাসন এলাকায় ঘটেছে। প্রথম হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এই বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২০৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তি রোববারের এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলার পেছনে আত্মঘাতী বোমারুরা জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরো দেশে কারফিউ বলবৎ থাকবে। আগামী সোম ও মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

  • শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৮৫

    শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৮৫

    শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ দেশটির অন্তত ছয়টি স্থানে তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮৫ জন নিহত ও ৪০০ শ’র অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। খ্রীস্টান ধর্মালম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

    শ্রীলঙ্কার জাতীয় হাসপাতালের পরিচালক অনিল জয়সিংহে জানান, ছয়টি বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কলম্বোতে ৪৯, রাজধানীর অদূরে অবস্থিত নিগোম্বোতে ৬২ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বাট্টিকোলাতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন।

    বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ও এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে হওয়া এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত তিন শতাধিক মানুষকে কলম্বোসহ বেশ কিছু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল পৌনে নয়টার এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮৫ জন নিহত ও আরও ৪০০ শ’র অধিক আহত হয়েছেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কার ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০০ জন নিহত ও আরও চার শতাধিক আহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হোটেল ও গির্জাসহ ছয়টি বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ আহত মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স কলম্বোর ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রোববার সকালের এ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক নিহত এবং ৪০০ শ’র অধিক আহত হয়েছেন।

    যে তিনটি গির্জায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো কোচকিকাদে, কাতুয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোয়া নামক স্থানে অবস্থিত। এসব গির্জায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল।

    তাছাড়া রাজধানীর সাংগ্রি লা, দ্য কিন্নামোন এবং কিংসবারি নামক আরও তিনটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হোটেল তিনটি রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে, কাতুয়াপিটিয়াতে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্তিয়ান নামক গির্জার ছাদ ধসে পড়েছে এবং গির্জার মূল স্থানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে আছে। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, নিহতদের মধ্যে বিদেশী পর্যটকও আছেন।

    পুলিশ বলছে, যে তিনটি গির্জায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তার একটি কলম্বোতে অপর আরেকটি রাজধানীর অদূরের নিগোম্বোতে। তবে তৃতীয় যে গির্জায় বিস্ফোরণ হয়েছে সেটি শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে বাটিকোলোতে। বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

    হার্শা ডি সিলভা নামের শ্রীলঙ্কার এক সংসদ সদস্য (এমপি) জানান, তিনি একটি হোটেল গিয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি শরীরের বিচ্ছিন্ন অংশ চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। জরুরি সেবাদানকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছেছেন।’

    শ্রীলঙ্কা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরই দেশ। দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সংখ্যা মাত্র ছয় শতাংশ। ইস্টার সানডের প্রার্থনার কারণে গির্জাগুলোতে বেশ ভিড় ছিল। পুলিশ বলছে, হামলার জন্য এমন সময়কেই বেছে নিয়েছেন জঙ্গিরা।

  • গলায় বিস্কুট আটকে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

    গলায় বিস্কুট আটকে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

    নিউজ ডেস্ক:

    মেহেরপুরে গলায় বিস্কুট আটকে মিতা খাতুন (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    আজ শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মিতা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নিত্যনন্দপুর গ্রামের সামিরন মন্ডল মিলনের মেয়ে।

    জানা যায়, শিশু কন্যা মিতা বিস্কুট খেতে খেতে খেলা করছিল। এমন সময় হঠাৎ সে মাটিতে ঢলে পড়ে। মিতার মা তাপসী মন্ডল শিশুটিকে কোলে নিয়ে দেখেন তার গলায় বিস্কিট আটকে গেছে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এসময় তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে শিশুটির করুণ মৃত্যুতে পরিবারে বইছে শোকের ছায়া।

    গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সজিব উদ্দীন স্বাধীন বলেন, গলায় বিস্কুট আটকে শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা গেছে। হসপাতালে যখন আনা হয় তখন সে মৃত ছিল।

  • গোসল করতে গিয়ে ৬ শিশুর করুণ মৃত্যু

    গোসল করতে গিয়ে ৬ শিশুর করুণ মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক:

    নোয়াখালী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৬ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। ৬ জনেরই মৃত্যু হয়েছে নদী ও পুকুরে গোসল করতে গিয়ে। এদের মধ্যে ৪ জন সম্পর্কে ভাই-বোন।

    নোয়াখালী : জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চৌমুহনীর ডেল্টা জুল মিলস কলোনিতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তারা হলো, ওই কলোনির বাসিন্দা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কিমুতিক গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ইয়াছিন (৬) ও চৌমুহনী পৌর এলাকার গানিপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (৫)। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন।

    বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ওসি ফিরোজ মোল্লা জানান, জুম্মার নামাজের সময় তারা বাসার পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। এসময় দুজনে পানিতে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরে ভাসতে দেখে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    গাজীপুর : টঙ্গীতে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিকাল ৪টার দিকে নগরীর টঙ্গী দক্ষিণ আউচপাড়া মগদম মুন্সী রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা অলিউর রহমান অলি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামুনুর রশীদ (১০) ও টুনি আক্তার (৮) বাসার পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় গোসলের একপর্যায়ে তারা উভয়েই পানিতে ডুবে যায়।

    এসময় তাদের অপর খেলার সাথীরা বাসায় খবর দেয়। পরে এলাকাবাসী পুকুর থেকে মামুন ও টুনিকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মামুন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং টঙ্গী বাইতুন নূর মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। নিহত টুনি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে এবং দেওড়া ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তারা দক্ষিণ আউচপাড়া এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতো।

    টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে রিতু ও ছোয়া নামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু রিতু (৫) ওই গ্রামের মোহন মিয়ার মেয়ে। ছোয়া (৬) বাবার নাম সুমন। তারা সম্পর্কে চাচাতো বোন।

    ভূঞাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের মোহন ও সুমনের মেয়ে একত্রে বাড়ির কাউকে না বলে পাশের যমুনা নদীতে গোসল করতে যায়। অভিভাবকরা শিশুদের না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। পরে যমুনা নদীতে গেলে দুই শিশুর একজনের মরদেহ ভাসতে দেখে। স্থানীয়রা নদী থেকে আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। দুই বোনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • এ যেন রানা প্লাজায় ফের ধস

    এ যেন রানা প্লাজায় ফের ধস

    বাঁচার আকুতি ছিল। বাঁচতে পারেনি। কিন্তু দুনিয়াকে জানান দিয়ে গেছে শ্রমিকদের ওপর মালিকদের নিষ্ঠুর বর্বরতা। হয়তো তারা শুধু পরিচিতই ছিল। আর তাতেই বিশ্ব ইতিহাস। দু’প্রান্তের দু’মানুষ অথচ ওভাবে ঝাপটে ধরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার দৃশ্য বিশ্বাবাসী আর কখনই দেখেনি।

    রানা প্লাজা। এক নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের কথা বলে। ছয় বছর আগে এখানেই সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়। যে ঘটনা গোটা দুনিয়ার বিবেকবান মানুষকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল। নাড়া দিয়েছিল রাষ্ট্র, সমাজ, পুঁজি ব্যবস্থাপনাকেও।

    সময়ের পরিক্রমায় সে ঘটনা প্রায় ইতিহাস। ধ্বংসস্থানে চিহ্ন পর্যন্ত নেই। সবুজ ঘাসে ভরে গেছে সমস্ত জমিন। অথচ সেই জমিনেই ফের মৃত্যুর কান্না। মৃত্যুপুরীর সেই জায়গায় ছবিতে ছবিতে ভেসে উঠল নিহতদের বেঁচে থাকার আকুতি। যেন রানা প্লাজায় ফের ধস! ফের কান্না। কাঁদল ছবির মানুষেরা। কাঁদল নিহতের স্বজনেরাও।

    শুক্রবার রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর উপলক্ষে ভিন্ন এক আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। বিকেলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে ‘রানা প্লাজা ধস : অতীত ও বর্তমানের বোঝাপড়া’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার রানা প্লাজা ধসের সময়ে তোলা ৭টি ছবি বড় বিলবোর্ডের মতো করে ছাপিয়ে প্রদর্শন করা হয়। রানা প্লাজার যেসব জায়গায় ছবি তোলা হয়েছিল ঠিক সেসব জায়গাতেই ছবিগুলো স্থাপন করা হয়।

    এর মধ্যে তাসলিমা আখতার সারা দুনিয়ায় পরিচিত এবং রানা প্লাজার শ্রমিক হত্যার আইকনিক ছবিটিও স্থান পায়। ওই ছবিতে দুজন নারী-পুরুষ শ্রমিক জীবনের শেষ মুহূর্তে পরস্পরের জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। এই ছবিটি সারা দুনিয়ায় রানা প্লাজাসহ শ্রমিকদের জীবনের দুর্বিসহ চিত্র যেমন সামনে এনেছে। একইসঙ্গে সামনে এনেছে শ্রমিকদের মানুষ হিসাবে স্বপ্ন এবং বেঁচে থাকার আকুতি। প্রদর্শনীতে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির গত ৬ বছরের কর্মসূচির কিছু ছবিও স্থান পায়।

    প্রদর্শনী উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখেন নিহত ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন। আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল শামা, সাভারের সংগঠক শাহ আলম। আহত শ্রমিক রূপালী, নিহত শান্তনার বোন সেলিনা এবং রানা প্লাজার নিহত পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আহত শ্রমিকরা।

  • ওড়না কেড়ে নিল এক নারীর জীবন

    ওড়না কেড়ে নিল এক নারীর জীবন

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    পিরোজপুরে গতকাল ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে সুরভী আক্তার (৪০) নামে এক নারীর অটোরিকশায় ওড়না পেচিয়ে যাবার কারনে মৃত্যু হয়।

    পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট বন্দরে নিহত সুরভীর বাড়ি। তার স্বামীর নাম শাহীন মুন্সি।

    আত্মীয় সূত্রে জানা যায়, সুরভী আক্তার কেনা কাটার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পিরোজপুর শহরে আসেন। কেনাকাটা শেষে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কের ভাইজোড়া নামকস্থানে অটোরিকশার সাথে গলার ওড়না পেচিয়ে ফাঁস পরে সুরভীর। অটোরিকশায় থাকা আত্মীয়রা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।