Category: প্রচ্ছদ

  • সহকর্মীদের চোখের জলে সাংবাদিক তুষারের শেষ বিদায়

    সহকর্মীদের চোখের জলে সাংবাদিক তুষারের শেষ বিদায়

    ‘কালবেলা’র বরিশাল ব্যুরো প্রধান ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরিফিন তুষারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

    মঙ্গলবার বাদ জোহর নিজ গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়। এসময় তাকে বিদায় জানাতে আসা সহকর্মী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর সদর রোডে নিজ অফিসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শ্বাসকষ্ট এবং হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন আরিফিন তুষার। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুকালে আরিফিন তুষারের বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। দেড় বছর বয়সী পুত্র সন্তান, স্ত্রী, বাবা, মা এবং দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল হোসেন ভূঁইয়া। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তুষার ছিলেন সর্বজ্যেষ্ঠ।

    মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় আরিফিন তুষারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মৃতদেহ বরিশাল প্রেসক্লাবে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আরিফিন তুষারের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, তার প্রিয় কর্মস্থল কালবেলা পরিবার, বার্তা সম্পাদক ফোরাম বরিশাল, বরিশাল ফটো সাংবাদিক পরিষদ, দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ, দৈনিক সময়ের বার্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    পরে সকাল ১০টায় নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মরহুমের প্রথম জানাজা নামাজ হয়। জানাজার ইমামতি করেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু। এসময় আরিফিন তুষারের বাবা আবুল ভূঁইয়া, মেঝ ভাই হিমেল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, নুরুল আলম ফরিদ, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলী হায়দার বাবুল, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা আবদুল মালেক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু, বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হুমায়ন কবির, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তুষারের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।

    পরে মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা নাশেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    আরিফিন তুষার বরিশাল প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছাড়াও প্রেসক্লাবে সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

  • আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

    আইন-বিধি মেনে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন পাঁচ দপ্তর ও সংস্থা পরিদর্শন করেছেন উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। এ সময় তিনি উপদেষ্টা আইন-বিধি মেনে কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেন।

    মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দপ্তর-সংস্থাগুলো পরিদর্শনে যান উপদেষ্টা।

    পরিদর্শনের শুরুতে তিনি তথ্য ভবনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে (ডিএফপি) যান এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপদেষ্টা সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা নির্ধারণে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ডিএফপির প্রকাশনার মান বৃদ্ধি, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও ডিএফপির সার্বিক উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ডিএফপির শুটিং ফ্লোর, সাউন্ড থিয়েটার ও ফিল্ম ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদ দেন।

    এরপর উপদেষ্টা গণযোগাযোগ অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপদেষ্টা মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অধিদপ্তরের সার্বিক উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    পরে উপদেষ্টা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও তথ্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে তিনি বিদ্যমান আইন-বিধি মেনে সেবা সহজীকরণ ও কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় উপদেষ্টা দপ্তর-সংস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

  • মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

    মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

    মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার ৮ বছর বয়সি সেই শিশুটি মারা গেছে। মাগুরার সেই শিশুটিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

    ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক কর্নেল নাজমুল হামিদ গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    কর্নেল নাজমুল হামিদ বলেন, আজ সকালবেলা দুই দফায় শিশুটির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। সিপিআর দেওয়ার পর তার হৃৎস্পন্দন ফিরে আসে। কিন্তু বেলা ১২টায় তার আবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এই দফায় সিপিআর দেওয়ার পরও তার হৃৎস্পন্দন আর ফিরে আসেনি। দুপুর ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ শিশুটিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। শিশুটির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

  • জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায়

    জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকায়

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে চার দি‌নের সফরে ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

    বৃহস্পতিবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

    প্রায় সাত বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে এটি তার দ্বিতীয় সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট। এ ছাড়া মানবাধিকার ইস্যুও গুরুত্ব পাবে বলে বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকালে মহাসচিবের সঙ্গে (হোটেলে) প্রথমে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

    বৈঠক শেষে তারা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে একসঙ্গে কক্সবাজার যাবেন। সেখান থেকে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাবেন। রোহিঙ্গা শিবিরে জাতিসংঘের হয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা নিজ নিজ কার্যক্রম সম্পর্কে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ব্রিফ করবেন। শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা ও পবিত্র রমজানের প্রতি সংহতি জানিয়ে সবার সঙ্গে ইফতার করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। অন্তত এক লাখ রো‌হিঙ্গা শরণার্থীর স‌ঙ্গে ইফতার কর‌বেন তিনি। রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা।

    আগামী শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে যাবেন মহাস‌চিব। সেখানে জাতিসংঘের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর দুপুরে হোটেলে ফিরে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন গুতেরেস। সেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মহাস‌চিব।

    এদিন সন্ধ্যায় জাতিসংঘ মহাসচিবের সম্মানে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। ১৬ মার্চ সকালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিবের।

    প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস।

  • বরিশালে দুর্ঘটনায় নিহত ২

    বরিশালে দুর্ঘটনায় নিহত ২

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অজ্ঞাত পানের ধাক্বায় ভ্যান উল্টে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার মদিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন- ভ্যানের যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক (৪৭) ও ভ্যানচালক স্বপন খান (৬০)।

    গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন বলেন, অজ্ঞাত একটি পরিবহণ ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি উল্টে চালক ও যাত্রী মহাসড়কে ছিটকে পড়ে। এরপর খবর পেয়ে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি আমিনুর রহমান বলেন, ‘ঘাতক পরিবহণ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

  • পাকিস্তানে ট্রেনে জিম্মি দেড় শতাধিক যাত্রী উদ্ধার, ২৭ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানে ট্রেনে জিম্মি দেড় শতাধিক যাত্রী উদ্ধার, ২৭ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ট্রেনে জঙ্গিদের হাতে জিম্মি দেড় শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় অভিযানে নিহত জঙ্গিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সর্বশেষ জঙ্গিকে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।

    নিরাপত্তা বাহিনী বেলুচিস্তানের বোলান জেলায় হামলার শিকার জাফর এক্সপ্রেসে থাকা ১৫৫ জন জিম্মিকে সফলভাবে মুক্ত করেছে এবং ২৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া শেষ জঙ্গিকে পরাজিত না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

    তবে ট্রেনটিতে ঠিক কতসংখ্যক সশস্ত্র জঙ্গি অবস্থান করছে তা এখনও অজানা। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, অবশিষ্ট জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য নিরাপত্তা সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

    কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মঙ্গলবার বালুচিস্তানের বোলান এলাকায় পৌঁছানোর পর হামলার শিকার হয়।

    বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেললাইনের একটি অংশও উড়িয়ে দেওয়া হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বালুচ লিবারেশন আর্মি।

    হামলার সময় ট্রেনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যসহ কমপক্ষে চারশ’ যাত্রী ছিলেন যাদের বেশিরভাগই হামলাকারীদের হাতে জিম্মি হন।

    স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে যে, যাত্রীদের জিম্মি করে বালুচিস্তানের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবি করেছে বালুচ লিবারেশন আর্মির সদস্যরা।

    ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে জিম্মিদের হত্যা করারও হুমকি দিয়েছে তারা।

    পাকিস্তানের সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় বালুচ লিবারেশন আর্মির সদস্যরা এখন নারী ও শিশুদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

    তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে খুব সাবধানতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তত ২৭ সদস্য নিহত হয়েছে।

    অন্যদিকে বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি না মেনে জিম্মি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখলে সরকারকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

    উল্লেখ্য, বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও প্রদেশটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ। কিন্তু সেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

    সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বালুচিস্তানকে স্বাধীন করার দাবিতে কয়েক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ স্টেশন, রেললাইন, মহাসড়কসহ সরকারি অসংখ্য স্থাপনায় তাদেরকে প্রায়ই হামলা চালাতে দেখা যায়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার।

    এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ বিএলএকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছে।

  • পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেন হাইজ্যাক, জিম্মি শতাধিক

    পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেন হাইজ্যাক, জিম্মি শতাধিক

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গুলিবর্ষণের পর একটি যাত্রীবাহী ট্রেন হাইজ্যাক করা হয়েছে। এ সময় হামলায় ট্রেনচালকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যসহ অন্তত শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারগামী ‘জাফর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনটিতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পুলিশ এবং আইএসআইয়ের সদস্যরাও ছিলেন। খবর ডনের।

    বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি এ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করেছে।

  • নারীদের হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    নারীদের হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে দেখতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়ে নারী হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    রোববার (৯ মার্চ) সকালে শিশুটিকে দেখতে তিনি সিএমএইচ এ যান।

    ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাগুরায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় মাগুরা সদর থানায় চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি বলেন, দোষীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায় -এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোচ্চার রয়েছে।

    উপদেষ্টা বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নারী হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এ যাবত নারীর প্রতি যত সহিংসতা হয়েছে সেগুলোর তালিকা করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছি।

    তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

    তিনি আরও বলেন, নারীরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ঘরে-বাইরে দায়িত্ব পালন করবে। এতে যারা তাদের বাধা দিতে আসবে, সহিংসতা করতে আসবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

    উপদেষ্টা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে। পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ লালন করতে হবে।

  • বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার শিশু, ভগ্নিপতি ও শ্বশুর আটক

    বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার শিশু, ভগ্নিপতি ও শ্বশুর আটক

    মাগুরায় বড় বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আট বছর বয়সি এক মেয়ে শিশু। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী চরপড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বড় বোনের স্বামী ভগ্নিপতি সজিব হোসেন (১৮) ও শ্বশুর হিটু শেখকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

    জানা গেছে, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে শিশুটি রমজান ও ঈদের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় কয়েক দিন আগে আপন বোনের বাড়ি মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালি মাঠপাড়া গ্রামে বেড়াতে আসে।

    বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে তার রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    এদিকে, ধর্ষকের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের কর্মীরা।

    শিশুটির ছোট চাচা ইব্রাহিম শেখ বলেন, চার-পাঁচ মাস আগে বড় ভাতিজিকে বিয়ে দেওয়া হয়। সুযোগ পেলে তার শ্বশুর হিটু শেখ তাকেও বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন বলে শুনেছি। যার কারণে বড় ভাতিজি বাপের বাড়িতে চলে এসেছিল। পরে তাকে বুঝিয়ে আবার শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    শিশুটির ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে বড় বোনের শ্বশুর জড়িত বলে দাবি করছে শিশুটির পরিবার। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে হিটু শেখকে আটক করেছে।

    মাগুরা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ওয়ার্ডের ডা. শিরিন সুলতানা বলেন, শিশুটির অবস্থা ভালো নয়। তার শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী বলেন, ইতোমধ্যে সদর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। অভিযুক্ত হিটু শেখকে আটক করা হয়েছে।

  • আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন

    আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমটি।

    তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত দলটিকেই নিতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবে, তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় বলেও জানিয়েছেন নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ।

    ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নতুন সরকারের দায়িত্ব নিতে বলা হলে তিনি চমকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস।

    তিনি বলেন, আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে, আমি সরকারের নেতৃত্ব দেব। আমি এর আগে কখনো সরকারি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করিনি এবং এরপরও পরিস্থিতি বুঝে ঠিকভাবে কাজ করতে হয়েছিল।

    নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, একবার এটি স্থির হয়ে গেলে আমরা অন্যান্য কিছু জিনিস সংগঠিত করতে শুরু করি। যার মধ্যে— আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা এবং অর্থনীতি ঠিক করা দেশের জন্য অগ্রাধিকার ছিল।

    শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তিনি সেদেশেই রয়েছেন। নাটকীয় এই পটপরিবর্তনের পর একে একে বের হয়ে আসছে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ নানা চিত্র। হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, দাবি উঠেছে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারেরও।

    অধ্যাপক ইউনূস ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে বিবিসিকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগকে) সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এটা (নির্বাচন) করতে চায় কিনা, আমি তাদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবে তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এবং এরপর অর্থনীতি। (সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া) এটি এক ছিন্নভিন্ন অর্থনীতি, বিধ্বস্ত অর্থনীতি। এটা এমন কিছু যেন ১৬ বছর ধরে কিছু ভয়ানক টর্নেডো হয়েছে এবং আমরা এখন টুকরোগুলো তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবেন। তার সরকার কত দ্রুত সংস্কার করতে পারে তার ওপর নির্বাচনের এই সময়সীমা নির্ভর করছে। কারণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এসব সংস্কারকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যদি আমাদের ইচ্ছামতো দ্রুত সংস্কার করা যায়, তাহলে ডিসেম্বরে আমরা নির্বাচন করতে পারব। আর যদি সংস্কারের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

    গত গ্রীষ্মে বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা সহিংস বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা থেকে এসেছি। (এমন বিশৃঙ্খলা যেখানে) মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।