Category: বরিশাল

  • বরিশালে আদালতের তলবে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন ওসি, শোকজের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা

    বরিশালে আদালতের তলবে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন ওসি, শোকজের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এক চুরি মামলায় আদালতের তলবের মুখে পড়েন থানার ওসি জাকির শিকদার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাসুদেব। ৩০ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় জনতা সায়েম নামে এক অটোরিকশা চালককে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে, ৩১ ডিসেম্বর সিরাজ সরদার নামে এক ব্যক্তিকে বাদী করে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: জিআর ২৯৮/২৪)।

    সায়েমের পরিবার জানায়, তিনি ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার রাতে সুজন নামে একজনকে ভাড়া নিয়ে কিছু মালামাল পরিবহনের সময় জনতা অটোরিকশা থামায়। সায়েমের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    পহেলা জানুয়ারি সায়েমকে আদালতে হাজির করার পর তিনি জানান, তাকে আগের রাতে আটক করা হলেও আদালতে সময়মতো হাজির করা হয়নি। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন।

    আদালতে হাজির হয়ে ওসি জাকির শিকদার নিজেকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করে ক্ষমা চান। বিচারক তাকে সতর্ক করে ক্ষমা করলেও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাসুদেবকে শোকজ নোটিশ জারি করেন।

    সায়েমের মা অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ। শুধুমাত্র ঘুষ না দেওয়ার কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”

    এ ঘটনায় বরিশাল বারের সিনিয়র আইনজীবী উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, “আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে এটি আদালত অবমাননার শামিল।”

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) রুনা লায়লা জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা নেই। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ঘটনার পর আদালতপাড়ায় বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়, যা পুলিশি কার্যক্রম ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • পটুয়াখালীতে বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, মহাসড়ক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    পটুয়াখালীতে বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, মহাসড়ক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    পটুয়াখালীতে গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

    ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘন্টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানযটের সৃষ্টি হয়, এতে ভোগান্তিতে পরে যাত্রী ও পথচারীরা।

    রবিবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী চৌরাস্তা এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। জানা যায়, রবিবার সকাল ৯ টার দিকে লেবুখালী সেনানিবাস এলাকা থেকে আবির পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান মিম বরিশাল কুয়াকাটাগামী বাস আব্দুল্লাহ পরিবহনে করে পটুয়াখালী আসছিলেন।

    বাসের সুপারভাইজার মোঃ সুজন মিমের কাছে বাস ভাড়া চাইলে তিনি ৪০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা দিতে চান। আর এখানেই বাজে বিপত্তি হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় বাসের সুপারভাইজার কলেজ শিক্ষার্থী মিমকে রীতিমতো হেনস্থা করেন।

    কলেজ শিক্ষার্থীর অভিযোগ করেন এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। স্টুডেন্ট হইছো তো কি হইছে..? দেশটা কি কিনে ফেলছো..? এই রুটে স্টুডেন্টদের কোনো হাফ ভাড়া নাই। যদি পারো..ফালাইয়া দেখাইস।

    এই ঘটনার পর মিম কলেজের আভ্যন্তরীণ মেসেঞ্জার গ্রুপে ঘটনাটি সকলকে জানায়। এর পরই কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সুপার ভাইজার ও ড্রাইভারের বিচারের দাবিতে চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় দুইঘন্টা ব্যাপি এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকলে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে দীর্ঘ যানযটে সৃষ্টি হয়।

    বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিবৃত করতে জেলা প্রশাসক তাবু হাসনাত মুহাম্মদ আরেফিন, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ, সদর সেনাবাহিনী ক্যাম্প এর কর্মকর্তা মেজর মোঃ ফয়সাল, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছুটে আসেন। প্রশাসন, শিক্ষার্থী, বাস মালিক সমিতি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের শর্তে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারমিন জাহান বলেন, ‘আমি ওই সুপারভাইজারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এমন শাস্তি দাবি করছি যার পরে নারী শিক্ষার্থীদেরকে কেউ আর বুলিং না করতে পারে। আমরা যেন গণপরিবহনে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারি এবং আমাদের যৌক্তিক দাবি হাফ ভাড়া এইটা যাতে মেনে নেয়া হয়।’

    পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনার সমাধানের জন্য ডিসি স্যারের দরবার হলে একটা বৈঠক হবে। আশা করছি পটুয়াখালী-বরিশাল এই রুটের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের জন্য বাসমালিক সমিতির সাথে একটা স্থায়ী সমাধান হবে।’

    সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ডিসি স্যারের অফিসে ছাত্র প্রতিনিধি ও বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের পরই একটি সঠিক সমাধান হবে বলে আমি আশা করি।’

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দু’পক্ষের বাকবিতন্ডা, হাতাহাতি

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে দু’পক্ষের বাকবিতন্ডা, হাতাহাতি

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    তালা অপসারণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এ ঘটনার সুত্রপাত ঘটে। এর আগে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেয় শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ।

    রবিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ভিসি বিরোধী আন্দোলনের পক্ষের শিক্ষার্থীরা, ভিসির পক্ষে অবস্থানকারীদের তালা অপসারণ কর্মসূচির ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি শুরু হয়। পরবর্তীতে উপাচার্য জীবনানন্দ কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনাসভায় বসেন।

    তবে আলোচনাসভার শুরুতেই দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। আলোচনা সভার পরিবেশও অশান্ত হয়ে ওঠে। উপাচার্যের পক্ষ বিপক্ষের শিক্ষার্থীদের উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

    দীর্ঘ আলোচনা সভায়, শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগগুলো উপাচার্যের সামনে তুলে ধরেন। তবে আলোচনা শেষে কোনো কার্যকর সমাধান ছাড়াই উপাচার্য কক্ষ ত্যাগ করেন।

    এর আগে, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাতের আধারে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেয় কিন্তু পদত্যাগ না করলে পরবর্তীতে উপাচার্য কার্যালয়ে তালা দেয়।

  • মঠবাড়িয়ায় আওয়ামীপন্থী প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যা

    মঠবাড়িয়ায় আওয়ামীপন্থী প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যা

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় ও দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় কামাল হোসেন চৌকিদার (৪৬) নামে এক প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    এর আগে গত ২৩ নভেম্বর হামলার শিকার হন তিনি। বুধবার (২৭ নভেম্বর) মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত কামাল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের চড়কগাছিয়া গ্রামের মৃত মো. রুস্তুম হাওলাদারের ছেলে।

    নিহতের বোন ফরিদা বেগম জানান, আওয়ামী লীগ করার অপবাদ দিয়ে কামালের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর তাকে বাড়ি থেকে সাপলেজা মাছবাজারে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।

    সেই সঙ্গে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কামাল নিজেই ২৫ নভেম্বর স্থানীয় শাহিন শরীফ, আলামিন, কামরুল, মনির হোসেন, মো. রুবেলের নামে সেনাক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন। হামলার সময় ৯৯৯ ফোন দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে কামালকে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

    সাপলেজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের হয়রানি করার জন্য হাইব্রিড বিএনপি উঠে-পরে লেগেছে।

    মঠবাড়িয়া সেনাক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলাকারীদের ডেকে এনে মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

    মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড শূচিতা শরমিনকে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। যোগদানের দুইমাস পার হতে না হতেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়েছেন তিনি। বুধবার (২৭ নভেম্বর ) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্জে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জানান, উপাচার্য নিয়োগের দুই মাস পার হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করতে পারে নি। মেডিকেলে ওষুধ নেই। দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা আটকে আছে। স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়।

    আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ পরিহার করার কথাও জানান ।

    তবে জুলাই বিপ্লবে শহীদের স্মরণে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামে উপাচার্যের উপস্থিতি মেনে নিবে না শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ওই প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ও আলোচনা করেন তারা।

    ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে স্পীট তা উপাচার্য ধারণ করেন না। দীর্ঘ দুইমাস দায়িত্ব পালনকালে আমরা সেটাই দেখেছি। তার দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি কোনোভাবেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে থাকতে পারেন না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি উপাচার্যের পদত্যাগের। আমাদের এক দফা এক দাবি।

    আলোচনা সভায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সুজয় শুভ বলেন, সকলের সমন্বিত সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। আমার আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে এ বিষয়ে আমাদের সকলকেই কথা বলতে হবে।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর রাতে শিক্ষার্থীদের একাংশের বাধার মুখে ক্যাম্পাসে এসেও যোগদান করতে পারেননি নতুন নিয়োগ পাওয়া কোষাধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) আবু হেনা মোস্তফা কামাল খান। এদিকে নতুন কোষাধ্যক্ষকে দায়িত্ব নিতে বাধা দেওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসেন ফয়সাল পদত্যাগ করেন।

  • বরিশালে শব্দ দূষণ বন্ধে বরিশালে র‍্যালী ও লিফলেট বিতরণ

    বরিশালে শব্দ দূষণ বন্ধে বরিশালে র‍্যালী ও লিফলেট বিতরণ

    “চলো যাই যুদ্ধে শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে” এই স্লোগান বাস্তবায়নে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় প্রচার প্রচারণা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও নিরাপদ সড়ক চাই ( নিসচা) বরিশাল জেলা কমিটি।

    শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল সদর হাসপাতাল এলাকা সরকার ঘোষিত নিরব এলাকা। নিরব এলাকায় শব্দ দূষণ বন্ধ ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে র‍্যালী, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা মাধ্যমে শব্দ দূষণ সৃষ্টির অপরাধ ও শাস্তির বিষয়গুলো জনসাধারণের মাঝে প্রচার প্রচারণা করা হয়েছে।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজন ও নিসচা বরিশাল জেলা কমিটির সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় পরিচালক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা পুলিশে কর্মরত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল আহসান। নিসচার সদস্য জুবায়ের ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নিসচার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো: রুহুল আমিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: কামাল মেহেদী, পরিদর্শক মো: তারেক আজিজ, অফিস সহকারী মো: তাজুল ইসলাম, মো: সাইমুন হোসেন,নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: ইউনুস খান, রুপাতলী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কালাম আজাদ, বিআরটিসি প্রতিনিধি মো: মশিউর রহমান, নিসচার আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. গোলাম মর্তুজা তপু, দূর্ঘটনা বিষয়ক সম্পাদক এসএম রুবেল মাহমুদ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো: গোলাম কিবরিয়া অপু, সদস্য মো: ইমরান হাসান মাইনুল, মো: রুবেল হাওলাদার হিমেল, মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

    প্রচার প্রচারণা মূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৬ অনুসারে শব্দ দূষণ সৃষ্টি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

    সরকার ২০২০ সালে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল এলাকাকে নিরব এলাকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু নিরব এলাকায় হর্ণ বাজানোসহ শব্দ সৃষ্টি করা যে একটা দণ্ডনীয় অপরাধ এটা অনেকেই জানে না বা মানে না।

    শব্দ নিয়ন্ত্রণে আমরা জনসচেতনতা মূলক র‍্যালী, লিফলেট বিতরণ ও পথসভার আয়োজন করেছি। আগামীতে এই শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে শেবাচিম এলাকায় আমরা মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করবো।

    বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল আহসান বলেন, সড়কে চলাচল ও মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। সবাই যদি সড়ক আইন মেনে চলি তাহলে সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

  • ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু

    ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে লামিয়া আক্তার (৪) ও রমজান হাওলাদার (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম।

    নিহতরা হলেন-উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের আখড়পাড়া এলাকার কামাল হাওলাদারের মেয়ে ও রানা হাওলাদারের ছেলে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।

    নিহত রমজানের দাদা আমির আলী হাওলাদার বলেন, বুধবার দুপুরে দুইজন বাহিরে খেলা করছিল। এ সময় কুড়িয়ে পাওয়া ইঁদুর মারার ওষুধ দেখতে পান তারা। একপর্যায়ে ওই ওষুধ তারা খেয়ে ফেলে। পরে বিষয়টি পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

    নলছিটি থানার ওসি আবদুস সালাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

  • আমরা একে অপরের ভাই, কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো: আদালতে আমু

    আমরা একে অপরের ভাই, কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো: আদালতে আমু

    সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু রিমান্ড শুনানি চলাকালে আদালতে বলেছেন, আমরা একে অপরের ভাই ভাই। মিলেমিশে থাকা উচিত। আমরা একসঙ্গে থাকবো। কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো? আশা করছি, এ পরিবেশ থাকবে না।

    বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে তিনি এ কথা বলেন।

    এদিন রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

    এদিকে ফারুকীর বক্তব্য রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করায় আমুর আইনজীবী স্বপন রায় চৌধুরীকে আদালত থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখা যায়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    এরপর আমুর পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত আমুর বক্তব্য শুনতে চান।

    তখন আমু বলেন, আমি ঢাকা বারের সদস্য, হাইকোর্ট বারের সদস্য। এখানকার পরিবেশ দেখে দুঃখিত। এই পরিবেশে কিছু বলা উচিত না। মামলা চলবে, ভবিষ্যতে আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপন করবো। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনেক কথা বলেছেন। আমি একজন রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে গেলে দুই ঘণ্টা লেগে যাবে।

    তিনি বলেন, আমরা একে অপরের ভাই। মিলেমিশে থাকা উচিত। আমরা একসঙ্গে থাকবো। কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো? আশা করছি, এ পরিবেশ থাকবে না।

    তখন বিএনপির আইনজীবীরা চিৎকার শুরু করেন। তারা বলেন, তিনি ভয় দেখাচ্ছেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাদের শান্ত করেন।

    পরে আমু বলেন, আমরা যার যার পক্ষ অবলম্বন করবো। নিজেরা নিজেরা কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো।

    এরপর ওমর ফারুক বলেন, যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন তখন কি খবর নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বারের। আইনজীবীরা তো ভালোই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় সিল মেরে ভোট নিয়ে গেছে, আইনজীবীদের মারধর করেছে। তখন তিনি কি ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    তখন আমু বলেন, প্রথমবার যখন গোলমাল হয় আমি এর বিরোধিতা করি। ভোট দিতে আসিনি, বয়কট করেছি।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

  • ঝালকাঠিতে ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, শিক্ষার্থী নিহত

    ঝালকাঠিতে ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, শিক্ষার্থী নিহত

    ঝালকাঠির রাজাপুরে ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের বারবাকপুর এলাকায় বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুয়েল (১৬) উপজেলার কাঠিপাড়া গ্রামের লোকমান খন্দকারের ছেলে ও শুক্তাগড় মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন জানান, রাতে নৈকাঠি এলাকা থেকে দ্রুত গতির মোটরসাইকেলটি রাজাপুরের দিকে যাচ্ছিল।

    পথে হঠাৎ বারাকপুর এলাকায় একটি ট্রলির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জুয়েল নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত নিলয় ও সোহানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।

    এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • বরিশালে ইলিশে নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিনে ৫৫৬ জেলের কারাদণ্ড

    বরিশালে ইলিশে নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিনে ৫৫৬ জেলের কারাদণ্ড

    নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অপরাধে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান চালিয়ে গেল ১৮ দিনে ৫৫৬ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিভাগীয় মৎস্য অফিস এই তথ্য জানিয়েছে।

    বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে দুই হাজার ৬০৯টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ৭৯৪শ’টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার পাশাপাশি ৯০৬টি মামলা করা হয়েছে।

    সেসময়ে বরিশাল বিভাগে ৪৮৬ বার বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, তিন হাজার ৫০৮ বার বিভিন্ন মাছঘাট, ছয় হাজার ৫৫৭ বার বিভিন্ন আড়ত ও তিন হাজার ৯৪৩ বার বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরে জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

    আর গেল ১৮ দিনের অভিযানে ১৬ হাজার ২৭৮ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ কোটি ২৮ লাখ ২৮ হাজার ১শ টাকার ৯৩ লাখ ৭০ হাজার ১শ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নৌকাসহ জব্দ হওয়া সরঞ্জাম নিলাম করে তিন লাখ ৪৩ হাজার ২শ টাকা আয় হয়েছে।

    মৎস্য বিভাগের উপ পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, ১৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য উপকূলের সাত হাজার বর্গকিলোমিটারের মূল প্রজননস্থলসহ সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ থাকছে। উল্লেখ্য বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার তিন লাখ ১৯ হাজার ৮৩০ জেলে পরিবারের জন্য ৭৯৯৯৫ দশমিক ৭৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।