Category: বরিশাল

  • পিরোজপুরের নাজিরপুরে অগ্নিকান্ডে ৮টি দোকান ভস্মীভূত; কোটি টাকার ক্ষতি

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে অগ্নিকান্ডে ৮টি দোকান ভস্মীভূত; কোটি টাকার ক্ষতি

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে অগ্নিকান্ডে ৮টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) গভির রাতে উপজেলার গাওখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানায়, গাওখালী বাজারে মো: রফিকুল ইমলামের হার্ডওয়ারে দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। টিন ও কাঠের দোকান হওয়ায় আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের দীর্ঘ ২ঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগতে পারে।ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক সূত্রে জানা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া ৮টি দোকানের মধ্যে দুইটিতে’ই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, হার্ডওয়ারের দোকানে প্রায় ৩৫ লক্ষ ও কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, স্টেশনারী ও ফটোকপি দোকানে ২০ লক্ষসহ মোট প্রায় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এসময় ঘর মালিক ও ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে ক্ষতি পূরনের দাবি জানান।

    সকালেই অগ্নিকান্ডের স্থান পরির্দশন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুপ রতন সিংহ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইস্রাফিল হাওলাদার।

    এদিকে ঘনটাস্থল পরিদর্শন কালে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রাজ্জাক ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের পাশে দাড়ানোর আশ্বাস দেন।

  • বরিশাল আদালত পেলো নতুন জিপি-পিপি-এপিপি

    বরিশাল আদালত পেলো নতুন জিপি-পিপি-এপিপি

    বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নতুন সরকারি কৌঁসুলি (জিপি), পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), বিশেষ পিপি, অতিরিক্ত পিপি ও সহকারী পিপিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    বরিশাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন স্বাক্ষরিত পত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ওই তালিকা পেয়ে বুধবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রকাশিত তালিকায় ১৪৫ জনের নাম রয়েছে।

    প্রকাশিত তালিকায় সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) হলেন এবিএম ফজলুল হক।

    এছাড়া অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে রয়েছেন চারজন। এরা হলেন মো. মাহমুদ হোসাইন আল-মামুন, মো. জোবাইদুল ইসলাম খান (সবুজ), মো. জাহিদ হোসেন লিটন এবং মো. আবুল খায়ের। এছাড়া সহকারী কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন ১৫ জন আইনজীবী।

    অপরদিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হলেন আবুল কালাম আজাদ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি হয়েছেন আব্দুল মন্নান মৃধা। এ ট্রাইব্যুনালে একজন অতিরিক্ত ও একজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর দেয়া হয়েছে।

    বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পিপি হয়েছেন এইচএম মজিবুর রহমান সবুজ। এ আদালতেও একজন অতিরিক্ত ও একজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর দেয়া হয়েছে।

    দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি হয়েছেন মো. মহসিন মন্টু। এ ট্রাইব্যুনালে একজন অতিরিক্ত পিপি দেয়া হয়েছে।

    জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি হয়েছেন মো. শহিদ হোসেন। এ ট্রাইব্যুনালে একজন অতিরিক্ত পিপি দেয়া হয়েছে।

    মানব পাচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ প্রসিকিউটর হয়েছেন মো. লিয়াকত আলী খান। এ ট্রাইব্যুনালেও একজন অতিরিক্ত বিশেষ প্রসিকিউটর দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পিপি হয়েছেন কাজী বশির উদ্দিন।

    সাইবার ট্রাইব্যুনালে পিপি হয়েছেন এস.এম. সাদিকুর রহমান লিংকন। এ ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপির নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন মো. শাহ আলম।

    এছাড়াও বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২১ জনকে অতিরিক্ত পিপি ও ৮৮ জনকে সহকারী পিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

    এ বিষয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে সবাই খুশি।

    অপরদিকে নিজের চাহিদা অনুযায়ী আদালত না পেলেও কেউ অখুশি নয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহসিন মন্টু।

  • ববি শিক্ষার্থীদের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ

    ববি শিক্ষার্থীদের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাইশা ফৌজিয়া (২০) নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেফতারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

    এ সময় ঘাতক চালকের বিচারের দাবিতে মিছিল বের করেন তারা। চালককে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

    বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ পরিবহন নামে কুয়াকাটা থেকে আসা একটি বাস তাকে চাপা দেয়।

    আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে নিহত মাইশার জানাজার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    শিক্ষার্থীরা বাসটিকে জব্দ করলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

    এ কারণে মহাসড়কে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীরা বাসচালককে গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আবার বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে যান চলাচল আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    অবরোধে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাসচালককে গ্রেফতারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা আবার সড়কে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে খুব দ্রুত বাসচালক ও মালিকপক্ষকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো, তারা যেন একটু ধৈর্য ধরে।

    এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঁইঞা বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমাদের ফোর্স ইতোমধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের জন্য কাজ করছে। অতিদ্রুতই আমরা তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

    নিহত মাইশা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

  • বরিশালে বিআরটিসি বাস থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির ২২২ কচ্ছপ উদ্ধার

    বরিশালে বিআরটিসি বাস থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির ২২২ কচ্ছপ উদ্ধার

    বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে বিআরটিসি বাস থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির ২২২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

    এ সময় কচ্ছপ পাচারের অভিযোগে বাসটির সুপারভাইজার মো. ফয়সাল (২৭) ও সহকারী মো. সজিব শেখকে (২৬) আটক করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র‍্যাব-৮ বরিশাল সদর দপ্তর।

    র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভোলা-বরিশাল সড়ক পথে বিআরটিসির বাসে করে বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ পাচার করা হচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মহানগরীর বন্দর থানা এলাকার লাহারহাট ফেরিঘাটে অভিযান চালায় র‍্যাব।

    এ সময় ওই বাসটি তল্লাশি করে চারটি বস্তায় বিলুপ্ত প্রজাতির ২২২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কচ্ছপের ওজন ১৬০ কেজি।

    র‍্যাব আরও জানায়, আটক আসামিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলা শেষে থানায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলো বরিশাল সদর বন সংরক্ষণ অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে আমুর ছায়ায় কোটিপতি ডজনখানেক

    ঝালকাঠিতে আমুর ছায়ায় কোটিপতি ডজনখানেক

    আওয়ামী শাসনামলের ১৬ বছরে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) নির্বাচনি এলাকার অন্তত ডজনখানেক আওয়ামী লীগ নেতা। দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সমন্বয়ক সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ছায়ায় থেকে অনৈতিক উপায়ে তারা এ সম্পদের মালিক হয়েছেন। নেতার (আমু) ছায়ায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাসসহ অবৈধ নানা উপায়ে তারা হয়েছেন কোটিপতি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে অবশ্য এদের কেউই আর এলাকায় নেই। তবে তাদের আলিশান ভবন ঠিকই রয়ে গেছে দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাত ঝালকাঠিতে।

    নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়ের রেকর্ড খুব একটা না থাকা আমু সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে হেরে যান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মরহুম জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে। নির্বাচনে হারলেও টেকনোক্রেট কোটায় তাকে খাদ্যমন্ত্রী করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০০ সালে এমপি ভুট্টোর রহস্যজনক মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে অনেকটা জোর করে তার স্ত্রী ইলেন ভুট্টোকে হারিয়ে এমপি হন আমু। ২০০১’র নির্বাচনে অবশ্য সেই ইলেন ভুট্টোর কাছেই তিনি আবার হেরে যান। এরপর তার কথিত জয়যাত্রা শুরু হয় ২০০৮’র নির্বাচন থেকে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বর্জন ও একতরফা নির্বাচনে পরপর চারবার এমপি হন তিনি। এর মধ্যে একবার তিনি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ক্ষমতায় থাকাকালে পুরো ঝালকাঠিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মূর্তিমান আতঙ্ক হিসাবে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর মাঠে নামা তো দূর, নাম মুখে নিলেও হতে হতো হামলা, মারধর আর মামলার শিকার। আমুর এসব কর্মকাণ্ড দেখভাল করতেন ঝালকাঠিরই কিছু নেতা। আমুর শিষ্য হিসাবে তারাই নিয়ন্ত্রণ করতেন পুরো জেলার টেন্ডার, চাঁদাবাজিসহ অবৈধ আয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বিনিময়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের পার্সেন্টেজ পৌঁছে যেত আমুর কাছে। তার নিজস্ব লোক হিসাবে মাঠে থাকা এসব নেতাও পকেটে পুরতেন কোটি টাকা। এভাবে টানা ১৬ বছরের অবৈধ আয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া নেতাদের তালিকাটাও বেশ দীর্ঘ।

    জিএস জাকির : পুরো নাম রেজাউল করিম জাকির। ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে একবার জিএস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সবাই তাকে চেনে জিএস জাকির নামে। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এই জাকির ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ঝালকাঠিতে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। সাধারণ পরিবার থেকে আসা জাকিরের নেতৃত্বেই চলত বিএনপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা ভাঙচুর মারধর। আমুকে তিনি সম্বোধন করতেন ‘আব্বা’ বলে। নিয়ন্ত্রণ করতেন ঝালকাঠির বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঠিকাদারি। ই-টেন্ডারে কাজ পেলেও মোটা অঙ্কের টাকা না দিয়ে কেউ কাজ করতে পারতেন না। আমুর নাম ব্যবহার করে বহু মানুষের জমি দখল ও ইটভাটা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাকিরের নেতৃত্বে ছিল বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ঝালকাঠিতে বিশাল ভবন, বিকনা ও কুনিয়ারী এলাকায় কয়েকশ’ বিঘা জমি, ঢাকায় প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন জাকির।

    নূরুল আমিন খান সুরুজ : কৃষকের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুরুজের উত্থান সত্যিকার অর্থেই বিস্ময়কর। আমুর গ্রামের বাড়ি শেখেরহাটের সুরুজ ছিলেন নেতার বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার। তাকে শেখেরহাটের ইউপি চেয়ারম্যানও করেছিলেন আমু। আমুর হয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তা বণ্টনের দায়িত্বে ছিলেন সুরুজ। ব্যয়বহুল কাজগুলো করতেন তিনি নিজেই। বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া চাঁদা এবং ঠিকাদারির পার্সেন্টেজের টাকা পৌঁছে দিতেন আমুকে। এসব করে এরই মধ্যে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন সুরুজ। তার ছেলে লেখাপড়া করে কানাডায়। সেখানে তার বাড়িও রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট। ঝালকাঠিতেও তার বিশাল আয়তনের বসত বাড়ি রয়েছে।

    কামাল শরীফ : জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল শরীফের সবচেয়ে বেশি আনাগোনা ছিল এলজিইডি অফিসে। আমুর ছায়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের শত শত কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। জেলার প্রায় সব গার্ডার ব্রিজ কামাল শরীফের করা বলে এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এসব কাজ তিনি অনেকটা জোর করেই ছিনিয়ে নিতেন। কামাল শরীফের বাবা খালেক শরীফ ছিলেন একজন লবণ শ্রমিক। সৎপথের চেষ্টাতেই তিনি লবণ মিলের মালিক হয়েছিলেন। তবে বাবার পথে না গিয়ে কামাল বেছে নেন শর্টকাট। নেতার ক্ষমতার বলে বলিয়ান হয়ে হামলা মারধর কবজি কর্তনসহ হেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই যা তিনি করেনি। বিনিময়ে তিনি বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। নিজের একটি জুতা কোম্পানিও রয়েছে। ঢাকার বসুন্ধরা শপিং মলসহ দেশের বহু জায়গায় তার শোরুম রয়েছে। অবৈধ আয়ের টাকায় ময়দা মিলের মালিকও হয়েছেন কামাল শরীফ।

    হাফিজ আল মাহমুদ : থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ ছিলেন ২নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর। বরগুনার ছেলে হাফিজের মামাবাড়ি ঝালকাঠি। এখানে থেকেই তিনি ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। ওস্তাদের (আমু) শিষ্য হয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সব ঠিকাদারি দপ্তর আর আয় বাণিজ্যের কেন্দে । অনৈতিক পন্থায় কামিয়েছেনও দুই হাতে। ঝালকাঠি শহরে গড়েছেন বিশাল কমিউনিটি সেন্টার। রাজধানী ঢাকার পুলিশ হাউজিংসহ বিভিন্ন লোকেশনে তার জমি ফ্ল্যাট, ঝালকাঠি শহরে ডিসি অফিসের সামনে ৭তলা একটি ভবন দখলের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া একরের পর একর জমি কেনা, দখল, বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

    তরুণ কর্মকার : বাবা নিরঞ্জন কর্মকার ছিলেন নাম করা ইংরেজি শিক্ষক। ছেলে তরুণ কর্মকার পরিচিতি পান ‘চুক্তিতে সমস্যা সমাধান’র মাস্টার হিসাবে। যখন তখন যেখানে সেখানে আমুর সঙ্গে কানে মুখে কথা বলার ক্ষমতা থাকা তরুণ ছিলেন যেকোনো সমস্যা সমাধানের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। বলাবাহুল্য সমস্যা সমাধানের বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকাও নিতেন। কথিত আছে, সেই টাকার একটি অংশ যেত আমুর পকেটে। বাড়ি দখল বা উচ্ছেদ, বদলি, পদোন্নতি, চাকরি, থানা পুলিশের তদবির, সবই করতেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে থাকা তরুণ। ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় দারুণ অর্থকষ্ট ছিল এই তরুণের। তবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা এবং আমুর স্নেহধন্য হওয়ার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। স্নেহের তরুণকে হিন্দু কমিউনিটির নেতা বানিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে দেন আমু। বর্তমানে বাড়ি জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক তরুণের কলকাতার সল্টলেকেও বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশে তিনি তেমন কোনো সম্পদ করেনি। তার অধিকাংশ সম্পদ বিদেশে।

    মনিরুল ইসলাম তালুকদার : ঝালকাঠির সবাই তাকে চেনেন মনির হুজুর হিসাবে। আছেন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে। বাবা লিয়াকত আলী তালুকদার ছিলেন ব্যবসায়ী। ২০০১ সাল থেকে ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত মনির ফুলেফেঁপে ওঠেন আওয়ামী লীগ আমলে। ঠিকাদারিভিত্তিক সব দপ্তরেই ছিল তার একক আধিপত্য। নেপথ্যে আমুর প্রশ্রয় থাকায় সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও তাকে ভয় পেতেন। দক্ষিণের পরিচিত গাবখান সেতুর ইজারা বাগিয়ে নেন বেশ কয়েকবার। টেন্ডারবাজি আর দুর্নীতি সমানতালে করতেন মনির। আমুকে ম্যানেজ করে পরপর দুবার তিনি ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র বানিয়েছেন বাবা লিয়াকত তালুকদারকে। জোর করে ঝালকাঠি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হওয়া মনির দুদকের মামলায় জেলও খেটেছেন। স্ত্রী সন্তান কানাডায় থাকা মনিরের সেখানে বাড়ি সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, রাজাপুর উপজেলায় ক্লিনিক এবং বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন মনির।

    এদের পাশাপাশি আমুর প্রশ্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি টেন্ডার আর চাঁদাবাজি করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ার তালিকায় আরও রয়েছেন বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুল ইসলাম ওরফে চাউল মনির, শেখেরহাটের রফিকুল ইসলাম নবিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাঝাভাই, খন্দকার ইয়াদ মোরশেদ প্রিন্স, থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বনি আমিন বাকলাই, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছবির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিল ও শারমিন কেকা, জেলা মহিলা লীগের সম্পাদক ইসরাত জাহান সোনালী এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন। এরা প্রত্যেকেই আলিশান বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, অয়েল ট্যাংকারসহ বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন আমুর ১৬ বছরের আমলে। উল্লিখিতদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইলে ফোন দিলে প্রায় সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। একমাত্র নূরুল আমিন খান সুরুজের হোয়াটস্অ্যাপ খোলা থাকলেও কল দিলে তিনি ফোন ধরেননি।

  • বেতাগীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    বেতাগীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

    বেতাগীতে আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপির দায়ের করা বিস্ফোরণ আইনের মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার মোকামিয়া বাজার এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাদের কারাগারে পাঠান আদালত।

    গ্রেফতাররা হলেন— উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. শাহিন হাওলাদার (৩৮) এবং একই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাওন মৃধা (২৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির আনন্দ মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলার অভিযোগে সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সুজন হাওলাদার (বিএনপি কর্মী) বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মো. শাহিন হাওলাদার ও শাওন মৃধাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়াও শাওনের বিরুদ্ধে বেতাগী থানায় সরকারি সেতুর মালামাল চুরির মামলাও রয়েছে।

    আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেতাগী থানার ওসি মো. একরামুল হক। তিনি বলেন, নাশকতা মামলায় শাহিন হাওলাদার ও শাওন মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • আমুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

    আমুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

    নিয়োগ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার ( ২৩ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আদালত বরাবর ওই আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    গত ১৫ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকল্পে অনিয়ম করে অর্থ আত্মসাতসহ দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পরপরই দুদক উপপরিচালক রেজাউল করিম, সরকারি পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠীতে নিজ নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আমু।

    তার নামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজ নামে, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন।

    প্রসঙ্গত, গত ৬ আগস্ট আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর ১৮ আগস্ট তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তার সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়।

  • বিএনপি-জামায়াতসহ সব দলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে: মামুনুল হক

    বিএনপি-জামায়াতসহ সব দলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে: মামুনুল হক

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, বিভেদে লিপ্ত হওয়ার সময় হয়নি। বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। যদি দলগুলো দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় তাহলে এই স্বাধীনতা আবারও ইজারা রাখতে হবে

    বুধবার সকালে বরিশাল নগরীর শহিদ মিনার চত্বরে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    মামুনুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। আমরণ ক্ষমতায় বসে থাকার ইচ্ছা যেন আপনাদের মাঝে না জাগে। এ সরকারকে দেশের মানুষ ভালোবেসে এখনো ক্ষমতায় রেখেছে। কোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপ নয়। সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে সবার সমন্বয়ে এ সরকারকে সফল হতে হবে। যদি এই সরকার ব্যর্থ হয় তাহলে আগস্ট বিপ্লব ব্যর্থ হবে।

    ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মোদি সরকার ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি নিন্দা জানাই। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করতে যা করা দরকার তাই করেছে ভারত। সর্বশেষ শেখ হাসিনার মতো খুনের আসামিকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। খুনি শেখ হাসিনাকে দেশে হস্তান্তর করতে হবে। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই শেখ হাসিনার বিচার করতে হবে। খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যদি আরেকটি আন্দোলন করতে হয় করা হবে।

    বরিশাল জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহবায়ক মাওলানা মুহাম্মদ জোবায়ের গালিবের সভাপতিত্বে আয়োজন বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও উপজেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গৌরনদী বিএনপির ৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    গৌরনদী বিএনপির ৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    দাবি করা চাঁদা না পেয়ে বাসায় ঢুকে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে বরিশালের গৌরনদী পৌর বিএনপির আহবায়কসহ বিএনপির ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছেন স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা। এর আগে ওই ৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে গৌরনদী থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।

    মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দরের ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসায়ী ও ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জামিল শিকদার ওরফে মিঠু শিকদার (৪৫) বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

    মামলার আসামিরা হলেন- গৌরনদী পৌর বিএনপির আহবায়ক এসএম জাকির শরীফ (৪৫), পৌর বিএনপির সদস্য ফরহাদ শরীফ (৪৫), বিএনপি কর্মী নজমুল হাসান মিঠু (৪৫), এসএম সজীব শরীফ (৩৮)। অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের একদল সদস্য অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিএনপির ওই ৪ নেতাকর্মীকে আটক করে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে গৌরনদী থানায় সোপর্দ করেছে।

    মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি নাজমুল হাসান মিঠু গত ১৮ অক্টোবর বিকালে বাদীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে আর্মি ক্যাম্পে আসতে বলেন। আরও বলেন- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আমাকে অনেক জ্বালাইছিস। টরকী বন্দরে ব্যবসা করতে হলে আমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে টরকী বন্দরে ব্যবসা করতে পারবি না। এরপর বাদী সেনা ক্যাম্পে গিয়ে বিষয়টি জানান।

    পরবর্তীতে আসামি মিঠু, তার খালাতো ভাই সজীব, ফরহাদ শরীফ, জাকির শরীফ মিলে গত ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাদীর টরকী বন্দর এলাকায় বাসায় ঢুকে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা বাদীকে কিল-ঘুসি মেরে জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা চাঁদার জন্য আবার আসার কথা বলে চলে যায়।

    গৌরনদী থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, চাঁদার দাবিতে মারধরের বিষয়টি বাদী স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগ করলে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একদল সেনা সদস্য অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে বাদীকে নিয়ে গভীর রাতে থানায় আসেন। টরকী বন্দরের ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা মিঠু শিকদার বাদী হয়ে বিএনপির ৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে মঙ্গলবার গভীর রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার সকালে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • পায়রা সমুদ্রবন্দরের দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’

    পায়রা সমুদ্রবন্দরের দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’

    ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ বর্তমানে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। বুধবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সকাল ৬টায় ‘দানা’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

    আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় (১৬.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৪° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

    এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।