Category: বরিশাল

  • পায়রা বন্দরের জন্য কেনা হবে দুই মোবাইল হার্বার ক্রেইন

    পায়রা বন্দরের জন্য কেনা হবে দুই মোবাইল হার্বার ক্রেইন

    পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য দুইটি মোবাইল হার্বার ক্রেইন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের কাছ থেকে এসব হার্বার কিনতে ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

    সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বিস্তারিত জানান।

    অতিরিক্ত সচিব বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক “বরিশাল (দিনেরারপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকি সড়কে পান্ডব-পায়রা নদীর উপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জয়েন্ট ভেঞ্চার অব (১) দহওয়া, কোরিয়া; (২) এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড অস্ট্রেলিয়া; (৩) প্যান আরব কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স, কুয়েত; (৪) এসএআরএম এসোসিয়েট লিমিটেড, বাংলাদেশ এবং (৫) এসিই কনসাল্ট, বাংলাদেশকে ৭২ কোটি ৭৪ হাজার ৬০ হাজার টাকায় নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ২টি মোবাইল হার্বার ক্রেইন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের কাছ থেকে কেনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৯ কোটি ৫৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ টাকা।

  • বরিশালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    বরিশালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    বরিশাল জেলার গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বরিশালের বহুল আলোচিত স্কুল ছাত্র হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি দুর্ধর্ষ ডাকাত কার্তিক ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেনের দিকনির্দেশনায় থানার এসআই মোঃ সাহাব উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আগৈলঝাড়ার পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে ওই গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি কার্তিক ভক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় কার্তিকের সহযোগি বিশ্বদেব হালদার, রনজিত ও সুভাষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ২০/২৫জনে অর্তকিত হামলা চালিয়ে এসআইসহ দুইজন পুলিশ কনস্টবলকে আহত করে হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় তাকে (কার্তিক) ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    খবর পেয়ে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার দুই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চারঘন্টা পর (রাত বারোটার দিকে) ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের রামের বাজার এলাকায় আত্মগোপন করা সাজাপ্রাপ্ত আসামি দুর্ধর্ষ ডাকাত কার্তিক ভক্তকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও দুর্ধর্ষ ডাকাত কার্তিক ভক্ত গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী মহল্লার মথুরা ভক্তর ছেলে।

    আলোচিত হত্যা মামলা ॥ ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি বিকেলে গৌরনদীর সুন্দরদী মহল্লার ব্যবসায়ী কৃষ্ণ দাসের ছেলে ও উপজেলার টরকী বন্দর ভিক্টোরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র রানা দাসকে কৌশলে স্থানীয় কার্তিক ভক্ত, সুলতান শরীফসহ তাদের সহযোগিরা পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে। তাৎক্ষনিক ওইসময় অপহরনকারীদের নাম প্রকাশ পাওয়ায় ১৪ জানুয়ারি রাতে অপহৃতার বাবা বাদি হয়ে কার্তিক ভক্ত, সুলতান শরীফ ও তার স্ত্রী হেনা বেগমকে আসামি করে গৌরনদী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোর্পদ করেন। আদালতের বিচারক কার্তিক ও সুলতানের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিনেই আসামিরা পাচারের উদ্দেশ্যে স্কুল ছাত্র রানা দাসকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

    পরবর্তীতে অপহরনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অপহৃত রানাকে হত্যা করে লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন। এরপর অপহরনের পাঁচদিন পর আসামিদের স্বীকারোক্তিমতে টরকীরচর এলাকার একটি পানবরজের পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে রানার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইসময় এলাকাবাসী ও নিহতের সহপাঠিরা স্কুল ছাত্র রানার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলসহ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নীলখোলায় অবরোধ করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন। পরে বিক্ষুব্ধরা আসামিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছিলো।

  • বরিশালে ৬ হাজার ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট সুমন গ্রেফতার

    বরিশালে ৬ হাজার ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট সুমন গ্রেফতার

    বরিশালে বিপুল পরিমানের ইয়াবাসহ চিহ্নিত ‘মাদক সম্রাট’ সাজ্জাদ হোসেন সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুমন নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের বাবুল হাওলাদারের ছেলে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের এপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রাকিব হোসাইনের নেতৃত্বে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় সুমনের বাসা থেকে ৬ হাজার ৪০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআই রাকিব হোসাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন স্যারের নির্দেশনায় সুমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৪শ’ ২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

    এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামী সুমনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • পটুয়াখালীতে লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ছেলে আটক

    পটুয়াখালীতে লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ছেলে আটক

    পটুয়াখালীতে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের লাঠির আঘাতে রাবেয়া বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাবেয়া বেগম ২ নম্বর বদরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেম হাওলাদারের স্ত্রী।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ১১টার দিকে ছেলে সালাউদ্দিনকে ভাত খেতে বললে সে তার বোন মনিকা বেগমকে ধাওয়া দেয়। পরে সালাউদ্দিনের মা রাবেয়া বেগম আবারও ভাত খাওয়া জন্য বললে সালাউদ্দিন রেগে ঘরে থাকা একটি তাল গাছের রুয়া (লাঠি) দিয়ে রাবেয়া বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে রাবেয়া বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং অভিযুক্ত ছেলে সালাউদ্দিনকে পটুয়াখালী সদর থানায় নিয়ে যায়।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, অভিযুক্ত সালাউদ্দিন হাওলাদারকে (২০) আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।

  • বরিশালে ভেজাল ব্যবসা করায় দোকানীকে কান ধরে উটবস

    বরিশালে ভেজাল ব্যবসা করায় দোকানীকে কান ধরে উটবস

    হলুদ-মরিচের গুঁড়ার সঙ্গে রং ও চাল মিশিয়ে বিক্রির অপরাধে দুই কারখানাকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কান ধরে ভেজাল ব্যবসা করবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন কারখানার মালিকরা।

    সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর হাটখোলা বাজার মরিচ পট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়।

    জানা যায়, কারখানা দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে মসলার ওজন বাড়ানোর জন্য চাল আর মসলার রং মিশিয়ে বিক্রি করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার।

    হুমায়ূন মরিচ মিলের মালিক হুমায়ূন জানান, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তারা মসলার ওজন বাড়াতে চাল আর রং মেশাতেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবেন তিনি।

    অভিযান পরিচালনাকারী ভোক্তা অধিকার বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, চাল ও ক্ষতিকর রঙ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল হলুদ মরিচের গুঁড়ো। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর হাটখোলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুটি মসলা কারখানার মালিককে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা কান ধরে ভেজাল ব্যবসা করবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন। এসব মসলা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে ভেজাল রোধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশাল মেডিকেল কলেজে র‌্যাগিং: আরো সময় চায় তদন্ত কমিটি

    বরিশাল মেডিকেল কলেজে র‌্যাগিং: আরো সময় চায় তদন্ত কমিটি

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে দুই ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, কমিটিকে তিনদিন কার্যদিবস সময় বেধে দেওয়া হলেও গত আট দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত। এমনকি কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    যদিও কলেজ অধ্যক্ষ বলছেন, তদন্তে স্বচ্ছতার জন্য তদন্ত কমিটি আরো সময় চেয়েছে। রবিবার তারা লিখিতভাবে সময় চেয়ে আবেদন করেছে। তবে তদন্ত শেষ না হলেও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্র এবং ছাত্রী হোস্টেলগুলোর সুপারদের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে নতুন শিক্ষকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে হোস্টেল কমিটিতে এখনো কোন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার।

    এর আগে গত ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতভর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ৬০৬ নম্বর কক্ষে হোস্টেল সেক্রেটারি ডেন্টাল সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহমিদা রওশন ওরফে প্রভা এবং সহ-সেক্রেটারি এমবিবিএস ৫০তম ব্যাচের নীলিমা হোসেন জুইয়ের নেতৃত্বে র‌্যাগিংয়ের শিকার হন দুই ছাত্রী।

    নির্যাতনের এক পর্যায় অচেতন হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। এরপর তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার সুস্থ হয়ে আবার হলে ফেরেন তিনি।তাছাড়া এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট শনিবার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ নিয়ে যান র‌্যাগিংয়ের শিকার অপর ছাত্রী ও তার মা।

    খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাদের ওপর হামলা করেন হোস্টেল সুপার সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সাহা, ডা. মাসুম বিল্লাহ, র‌্যাগিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া দুই ছাত্রীর স্বামী ডা. আতিক ও আজিম হোসেন।

    এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন কলেজ অধ্যক্ষ ডা. ফায়জুল বাশার। পাশাপাশি র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ তদন্তে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার সাহাকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন অধ্যক্ষের কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হয়।

    কিন্তু কমিটি গঠনের আটদিন অতিবাহিত হয়েছে গতকাল শনিবার। কিন্তু এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। এমনকি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদও এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করেছেন ছাত্রী হোস্টেলের নির্ভরযোগ্য সূত্র। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, শুরু থেকেই তদন্ত কমিটি নিয়ে বিতর্কে জড়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতি সেই বিতর্ককে আরো টেনে ধরছে। র‌্যাগিংয়ের ঘটনা আড়াল করতে চেয়েছিলেন ছাত্রী হোস্টেলের সুপার ডা. প্রবীর কুমার সাহা। এখন তদন্ত কমিটিকে তিনিই বিপথে চালনার সৃষ্টি করছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, র‌্যাগিংয়ের যে ঘটনা ঘটেছে তা একেবারেই স্পষ্ট। অথচ এটা নিয়ে তদন্ত কমিটি সময়ক্ষেপণ করছে। সময়ক্ষেপণের পেছনে ভিন্ন কোন কারণ থাকতে পারে।হোস্টেলগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে হলেও বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

    যদিও মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়জুল বাশার বলেন, তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবস সময় দেওয়া ছিল। তবে দুই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়নি। তদন্ত কমিটি অধিকতর তদন্ত এবং স্বচ্ছতার জন্য আমার কাছে লিখিতভাবে আরো কিছুদিন সময় চেয়েছে।

    অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, তদন্তে কেন সময় লাগছে বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। এটা তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের সময় শর্তে উল্লেখ ছিল যে, কমিটি চাইলে তদন্তের স্বার্থে সময় বাড়িয়ে নিতে পারবে। তদন্তে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    কলেজ অধ্যক্ষ আরো জানান, র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পরই মেডিকেল কলেজ ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলগুলোর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা হোস্টেল সুপারের দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হোস্টেলগুলোতে নতুন সুপার নিযুক্ত হয়েছে।

    তবে হোস্টেলের শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটি গঠন বা এর সাথে শিক্ষার্থীদের এখনো সম্পৃক্ত করা হয়নি। তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোস্টেল সুপাররাই হল পরিচালনা করবেন।

  • বরিশালে  ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে কমবে- আশাবাদী চিকিৎসকরা

    বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে কমবে- আশাবাদী চিকিৎসকরা

    বরিশালে ডেঙ্গু ভীতি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশার বিভাগে ৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছে। সবশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় চারজনের।

    এখন পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছে ২৮ জন। তাই বরিশালের হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের আতংক কমেনি।

    তবে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। তাছাড়া চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে বলে আশাবাদী শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।

    বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৩ হাজার ৬৩৭ জন। আর এই সময়ে মারা গেছেন ৪১ জন।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মাঝে মাঝে বাড়ছে। তবে সাধ্যমত চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বর্তমান তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় কমে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

  • শ্রমিক লীগ নেতার বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

    শ্রমিক লীগ নেতার বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

    জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলার আহ্বায়ক সিটি কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ কে এম মোস্তফা লিখিত বক্তব্যে বলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরপর পাঁচ বার নির্বাচিত কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীন। তার ওপর রোববার (০৩ সেপ্টেম্বর) শ্রমিক লীগ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে মুরতজা আবেদীনের লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনতাই করতে অপপ্রয়াস চালায় যা ভিডিওতে পরিষ্কার।

    মুরতজা আবেদীনের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা করার পরও মান্না মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রশাসনসহ বরিশাল বাসীকে বিভ্রান্ত করেছে।

    মান্নাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় মুরতজা আবেদীন নগরীর পোর্ট রোড সেটেলমেন্ট অফিস থেকে অফিসিয়াল কাজ শেষে রাস্তায় বের হলেই পরিকল্পিতভাবে মান্না তার বাহিনী নিয়ে রাস্তার ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে।

    পরবর্তীতে অতর্কিত হামলা চালায় পেছন থেকে গলা জাপটে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যাচেষ্টা চালায়। সেইসঙ্গে মুরতজার বৈধ লাইসেন্সকৃত পিস্তল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে মান্নাসহ তার ২০/২৫ জন সহযোগী। অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে না পেরে সন্ত্রাসী মান্না ও তার সহযোগীরা মুরতজাকে অস্ত্র ধরে রেখে গুলির নাটক সাজায় এবং পুলিশকে ফোন করে থানায় সোপর্দ করে।

    এ কে এম মোস্তফা বলেন, ওই ঘটনায় অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীনের মোবাইলসহ পোর্ট রোডের সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই প্রকৃত ঘটনা পাওয়া যাবে। গতকালকের ঘটনায় বরিশালসহ পুরো দেশবাসী এরই মধ্যে সত্যটা জানতে পেরেছে। কিন্তু অপরাধীরা এখনও বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে, এদেরকে প্রতিহত করতে না পারলে মুরতজার মতো আগামীতে আপনি, বা আমরা তাদের শিকার, তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

    তিনি বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় নেতারা জানতে পেরেছেন। তারা এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আমরা এরই মধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু গতকাল থানা পুলিশ আমাদের পক্ষ থেকে মামলার কথা বলা হলেও তা নেয়নি।

    মুরতজার ওপর হামলাকারী বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না সহ তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে জাতীয় পার্টি পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে এদের প্রতিহত করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নেতা বশির আহম্মেদ ঝুনু বলেন, পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে কিনা সেটা বলছি না। তবে তারা গতকাল মামলা নেয়নি। এমনকি মুরতজার লাইসেন্স করা পিস্তল রেখে দিয়ে তাকে নিরাপত্তাহীনভাবে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আমরা আশা করেছিলাম তার নিরাপত্তার জন্য বাড়ি পর্যন্ত পুলিশ যাবে। আমরা এখন আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছি।

    সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ বিষয়ে শ্রমিকলীগ বরিশাল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না বলেন, মুরতজা আবেদীন মিথ্যা কথা বলছে, আমি অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে যাইনি, সে অস্ত্রের টিগারে হাতের আঙুল দেওয়া ছিল যা ছবিতে স্পষ্ট। যদি তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি হতো তাহলে আমি বলতাম না অস্ত্রটা পুলিশের হাতে দে। যা ওখানে শত শত লোকের মধ্যে বলেছি এবং ভিডিওতেও প্রমাণ রয়েছে।

  • বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    ভোলার বোরহানউদ্দিনে বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তাঁর বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ও আজ সোমবার সকালে দুজনকে গ্রেপ্তারের করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত ওই ব্যক্তির নাম—মোশারেফ হোসেন সিকদার (৪৫)। তিনি মোশারেফ হোসেন বোরহানউদ্দিন পৌর বাজারের ফল ব্যবসায়ী।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গিয়াসউদ্দিন (৩০) ও কামাল পাটওয়ারি (৩৮)।

    নিহত মোশারেফ হোসেনের ছেলে শাকিল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১ বছর আগে ঢাকায় আমার ভাই শান্তর সঙ্গে তার বন্ধু সুমন (২২) ও তার সহযোগীদের ঝগড়া হয়। সুমন আমাদের প্রতিবেশী বশির পাটোয়ারির ছেলে। একপর্যায়ে সুমনসহ তাঁর বন্ধুরা আমার ভাই শান্তর কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে সুমনের বন্ধু চাঁন মিয়াকে বোরহানউদ্দিন সদরে একা পেয়ে শান্ত তাঁকে চড়-থাপ্পড় মাড়ে। দুজনের মধ্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটনাটি শুনে আমার বাবা চান মিয়া ও শান্তর ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যায় আগের পুষে রাখা ক্ষোভে সুমন, শাহিন, কামাল ও তাদের সহযোগীরা আমার বাবাকে (মোশারেফ হোসেন) পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যার চেষ্টা করে।

    এ সময় স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে রোববার বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাবা মারা যায়।

    এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মিয়া বলেন, মোশারেফ নামে এক বাজার ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে ভোলা আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা সেতুতে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ

    ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা সেতুতে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ

    জেলা প্রতিনিধি,ঝালকাঠি ।।
    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম ও মোল্লারহাট ইউনিয়নের রাজবাড়ীয়া গ্রামের একমাত্র সংযোগ সেতুটি ১০ বছর ধরে ভেঙে থাকার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষকে। সেতুটি ভাঙার প্রায় ১০ বছর পার হলেও এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। নারী-পুরুষ, বয়স্ক মানুষ, রোগীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়লেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর আর জনপ্রতিনিধি কেউ উদ্যোগ নেয়নি সেতু মেরামতের বা নির্মাণের। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা সেতুটি পারাপার হয়।

    স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে দুই ইউনিয়নের সংযোগ এই সেতুটি ভেঙে আছে। লোকজন থেকে কিছু টাকা তুলে কাঠ দিয়ে সেতুটি প্রতিবছর সংস্কার করা হয় ।কিন্তু অনেক গাড়ি ও লোকজন চলাচল করায় কাঠ দিয়ে সংস্কার করলে বেশিদিন টিকে না। ফলে গ্রামীণ জনপদের লোকজন ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।এই সেতুটি বছরের পর বছর পার হলেও নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙা ওই সেতু দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা,ভ্যানগাড়ি সহ যানবাহন ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এছাড়াও ভারী যানবাহন চলাচল না করতে পারায় অনেকেই দুর্ভোগে পড়ছেন।

    মোল্লারহাট ইউনিয়নের রাজা বাড়িয়া গ্রামের আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন,ছেলে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটা অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য শহরে নেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হলে আর ভোগান্তি থাকবে না।

    রানাপাশা ইউনিয়নের ইসালাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন,সেতুটির জন্য হাজার হাজার মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে কেউ নতুন করে সেতু তৈরির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে না।

    অটোরিকশা চালক দেলোয়ার হাওলাদার ও রাজ্জাক ফকির বলেন, আমাদের প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা পারাপার করতে হয়। এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে যেতে এই সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। কিছুদিন আগে এই সেতুদিয়ে একটি টমটম পার হতে গিয়ে উল্টে যায়। আমরা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে তারপর গাড়ি পার করি। এই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    মোল্লারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কেএম মাহাবুবুর রহমান সেন্টু বলেন,বর্তমান সরকারের আমলে ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু কিছু কাছ অসাপ্ত রয়েছে। এই সেতুটির কারণে দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

    নলছিটি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল কবীরের সঙ্গে সেতুর বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    ঝালকাঠি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল ইসলাম সরকার বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে আন্ডার হান্ড্রেড মিটার প্রকল্পের আওতায় ওই সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদন পেলেই আমরা কাজ শুরু করব।

    আরিফুর রহমান
    ০১৭৩৯৫৪৮২২৫