Category: বরিশাল

  • বরগুনায় প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ১০

    বরগুনায় প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ১০

    সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উত্তর বিতরণ চক্রের মূল হোতা হুমায়ুন কবীরসহ এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে বরগুনা জেলা পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে তিনজন পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। দেশের ১২ জেলায় শুক্রবার সকালে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    শুক্রবার দুপুর ২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার বিজয় বসাক।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটির মূলহোতা হুমায়ূন কবীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) থেকে পাস করে রাজধানী ঢাকায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৫ নং কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের গাজিপুরা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত শাহ আলম হাওলাদার।

    পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং পুলিশ সদর দফতরের সহয়তায় গত তিনদিন ধরে এই চক্রটির দিকে নজর রাখছিল পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বরগুনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং শুক্রবার সকালে একাধিক পরীক্ষার হলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা, পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহের জন্যে আধুনিক প্রযুক্তির ৭টি ডিভাইস ও ৫টি ক্ষুদ্র হিয়ারিং ডিভাইস, ২৩টি মোবাইল এবং ৬টি প্রবেশপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

     

    এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে জানিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রথমে প্রশ্নফাঁস করে পরে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয়ে অতিসুক্ষ্ম ও ক্ষুদ্র হিয়ারিং ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিল এ চক্রটি। তবে গ্রেফতারদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

  • বরিশালে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    বরিশালে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    বরিশালে রিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের এসি, ওসিসহ সাতজন পুলিশ ও ১৩ রিকশা শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ও সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ ছয়জনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আওলাদ হোসেন মামুন জানান-পুলিশকে মারধর ও জননিরাপত্তা বিঘ্ন করার অভিযোগে আটক ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নজরুল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৮।

    মামলায় নামধারী আসামীরা হলেন- বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ও সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, বরিশাল জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক নাসরিন আক্তার টুম্পা, জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক মিঠুন চক্রবর্তী, সদস্য জাকির হোসেন ও নূর ইসলাম।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদ বন্ধ করা ও অবিলম্বে লাইসেন্স দেয়ার দাবিতে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন করে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক-মালিক সংগ্রাম কমিটি। এর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের নেতাকর্মীরা। এরপরে থালা-বাসন নিয়ে ভুখা মিছিল বের করে রিকশা শ্রমিকরা। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর নেতাকর্মীরা সিটি করপোরেশনে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে রিকশা শ্রমিক ও বাসদের নেতাকর্মীরা বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেন। এসময় পুলিশ তাদের স্থান ত্যাগ করতে বললে পুলিশ ও রিকশা শ্রমিকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ রিকশা শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ করলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় গ্রুপের ২০ জন আহত হন।
    পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আহতরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহনাজ পারভীন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন, এসআই নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল শারমিন, ইতি, সুরমা ও সাদিয়া। এছাড়াও রিকশা শ্রমিক ও বাসদের প্রায় ১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে বরিশাল সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি সন্তু মিত্র বলেন, গরিব রিকশা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নগরীতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে পুলিশ এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করে আমাদের নেতাকর্মী ও রিকশা শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
    এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, প্রথমত এই কর্মসূচি করার জন্য তাদের কোনো পূর্বানুমতি ছিল না। কথা ছিল তারা সিটি করপোরেশনের গিয়েই তাদের কর্মসূচি শেষ করবে। কিন্তু তারা সেখান থেকে নগরীর ব্যস্ততম সড়ক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নেয়। তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হলে তারা আমাদের পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তাই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
    এ ব্যাপরে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহনাজ পারভীন বলেন, অনুমতি না নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকরা। পুলিশ তাদেরকে দ্রুত রাস্তা যানজট নিরসনের জন্য মিছিল শেষ করতে বললে তারা পুলিশের উপর চড়াও হয় এবং পুলিশের সাথে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। এ সময় নারী পুলিশ কনেস্টবলসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

  • লিমনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা

    লিমনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা

    শেখ সুমন :

    র‌্যাবের গুলিতে পা হারিয়ে পঙ্গু ঝালকাঠির লিমন হোসেনের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৭ জনের নামে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

    আদালতের বিচারক বেগম রুবাইয়া আমেনা রাজাপুর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। লিমন হোসেন বর্তমানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এল.এল.এম কোর্সের শিক্ষার্থী।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি নিয়ে লিমনদের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার আবদুল হাই নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছিল। ১৫ মার্চ লিমনের পরিবার নিজেদের জমিতে একটি একতলা বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড এনে জমা করে। খবর পেয়ে একই এলাকার সন্ত্রাসী মোরসেদ জমাদ্দারের সহযোগী ইব্রাহিম হাওলাদার, আবদুল হাইয়ের, হুমায়ুন কবীর ও ফিরোজ লিমনের মা হোনোয়রা বেগম ও বাবা তোফাজ্জেল হোসেনের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই চারজনের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন গত ৭ এপ্রিল সকালে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু শুরু করলে গভীর রাতে ৯টি পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ইট-বালু খালে ফেলে দেয় এবং প্রায় দুই টন কাটা রড নিয়ে যায়। তান্ডব চালিয়ে যাওয়ার সময় ভোর রাতে লিমনদের বসতঘর সংলগ্ন রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এতে রান্নাঘর এবং লিমনদের বসতঘর আংশিক পুড়ে যায়।

    লিমনের মায়ের আইনজীবী মানিক আচার্য্য জানান, এ ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়রা বেগম রাজাপুর থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার আদালতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোরসেদের সহযোগী ইব্রাহিম হাওলাদার ও আবদুল হাইসহ ১৭ জনের নামে তিনি নালিশি মামলা করেন। আদালতের বিচারক রাজাপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ রাজাপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোরসেদ জমাদ্দারকে ধরতে সাতুরিয়া গ্রামে অভিযান চালায় র‌্যাব-৮ এর একটি দল। র‌্যাব সদস্যরা ভুল করে মোরসেদ জমাদ্দার ভেবে ওই সময়ের কলেজছাত্র লিমন হোসেনকে গুলি করে। র‌্যাবের গুলিতে লিমনের একটি পা কেটে ফেলতে হয়। র‌্যাব বাদী হয়ে মোরসেদ জমাদ্দার ও লিমনসহ ৮ জনের নামে দুটি মামলা দায়ের করে।

    এর একটি অস্ত্র আইনে, অপরটি সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে। দুটি মামলাতেই সকল আসামিরা সম্প্রতি ঝালকাঠির আদালত থেকে খালাস পায়। খালাস পাওয়ার পরে এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে মোরসেদ জমাদ্দার রাজাপুর সাতুরিয়া এলাকায় এসে তার সহযোগী ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করে বলে কয়েকজন এলাকাবাসী জানিয়েছে।

  • এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত

    এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত

    বরগুনা-০২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান রিমনকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করা হয়েছে। গত (১৮ এপ্রিল) বুধবার সন্ধ্যার পরে পাথরঘাটা উপজেলার মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতে চরদুয়ানী ইউনিয়নের হোগলাপাশা গ্রামের মো. সাইদুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম তাকে লাঞ্ছিত করেন।

    স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, বছর দুয়েক আগে চরদুয়ানী ইউনিয়নের হোগলপাশা গ্রামের মো. সাইদুর রহমান একই এলাকার বিমল মাস্টারের কাছে জমি বিক্রয় করেছিল। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও জমি বুজিয়ে না দিয়ে বিমল মাস্টারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল সাইদুর রহমান ও তার ছেলে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠক করে মিমাংসা করার চেস্টা করে বিমল মাস্টার। দীর্ঘদিন এরওর কাছে ধর্ন্যা দরে কোন সুরাহা না পাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের কাছে নিষ্পত্তি করার জন্য আবেদন করেন। পরে গত বুধবার এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন ঐ এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যান। এসময় তিনি দেখেন, বিমল মাস্টারের ক্রয়করা জমি হওয়া সত্বেও বিমল মাস্টারের যাতায়াতের পথে বেড়া দিয়ে আটকে রেখেছে সাইদুর রহমান।

    তাৎক্ষনিক সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান রিমন এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে নিয়ে সাইদুর রহমান ও তার ছেলে ইব্রাহিমের কাছে বেড়া দিয়ে রাস্তা অবরোধের বিষয়টি জানতে চাইলে সাইদুর রহমান ও তার ছেলে ইব্রাহিম এমপি রিমনের বিরুদ্ধে পক্ষ পাতিত্বের অভিযোগ এনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় সাইদুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম এমপি রিমনকে বটি দিয়ে কোপানোর হুমকি দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক এলাকাবাসী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে । এবিষয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহীমের বাবা সাইদুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করারা জন্য বাড়িতে যাওয় বা মুঠোফোনে ফোন দেয় হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে বরগুনা-০২(পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এবিষয়ে পরে কথা বলবো।

    অন্যদিকে এঘটনায় অভিযুক্ত ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবী জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় বিমল মাষ্টারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খবির আহম্মেদ বলেন, জমাজমি নিয়ে শালিস বৈঠক হওয়ার সময় স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে মারধরের ঘটনা ঘটলে প্রতিপক্ষ বিমল মাষ্টার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে ইব্রাহীম নামের একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি এমপি লাঞ্ছিত করার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

  • বরিশালে পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষ, বাসদের সদস্য সচিব সহ গ্রেফতার ৬

    বরিশালে পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষ, বাসদের সদস্য সচিব সহ গ্রেফতার ৬

    ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার সহকারি কমিশনার (এসি) শাহানাজ পারভীনসহ ৬ পুলিশ সদস্য ও অন্তত ১০ আন্দোলনকারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।

    এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে বাসদের বরিশাল জেলা সদস্য সচিব ও সিটি মেয়র প্রার্থী মনিষা চক্রবর্তীসহ ৬ আন্দোলনকারীকে। বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সকাল থেকেই নগরীর ব্যস্ততম সড়ক সদর রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ এবং লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে অটোরিকশা শ্রমিকরা। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যহত হয়।

    ওই সময় কোতয়ালি পুলিশের পক্ষ থেকে রাস্তা না আটকিয়ে আন্দোলন করার অনুরোধ করা হয়। সেই অনুরোধে কিছুক্ষণের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিলেও পরবর্তীতে ফের আটকে রাখে আন্দোলনকারীরা। ওই সময় পুলিশ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লাঠিচার্জ করলে একপর্যায়ে পাল্টা প্রতিরোধে অগ্রসর হয় আন্দোলনকারীরা।

    পরক্ষণে পুলিশ ও আন্দোলকারীদের শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ৬ পুলিশ সদস্য ও অন্তত ১০ আন্দোলনকারী আহত হয়েছে। বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার সহকারি কমিশনার (এসি) শাহানাজ পারভীন জানিয়েছেন- আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদেরও সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনায় ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’’

  • বরিশালে মহিলা কাউন্সিলর রূপার আত্মহত্যার চেষ্টা: নেপথ্যে শহীদুল্লাহর বিয়ের ধান্ধা

    বরিশালে মহিলা কাউন্সিলর রূপার আত্মহত্যার চেষ্টা: নেপথ্যে শহীদুল্লাহর বিয়ের ধান্ধা

    বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপা। আর এ ঘটনার পিছনে প্যানেল মেয়র ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কেএম শহীদুল্লাহকে দায়ী করছেন রূপার ঘনিষ্ঠজনরা। রূপার পারিবারিক সূত্র জানায়, রূপাকে বিয়ে করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে রূপা ও তার পরিবারকে হয়রানি করে আসছে প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ ওরফে লেটকু শহীদ।

    রূপার ভাইকে মাদক মামলায় কারাগারে পাঠানো এবং রূপাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিলে তাকে বিধবা করাসহ নানা হুমকি দিয়ে আসছিল র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ আটক শহীদুল্লাহ। নানা সময় রূপার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাকে একা করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বিভিন্ন সময়।

    উদ্দেশ্য ছিল, কোন উপায় না পেয়ে লেটকুর কাছে নিজেকে সোপে দিবে রূপা। তবে কোন কিছুতেই কাজ না হওয়ায় রূপার বড় মামা হোমিও চিকিৎসক হুমায়ুন কবির ও তার মেয়ে জামাই রুবেলকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে কিনে নেয় শহীদ। বিভিন্ন সময় বড় মামার পরিবারের সদস্যদের শহীদের মালিকাধীন রেস্তোরা দি কিচেন-এ আমন্ত্রন করে খাওয়ানো হয়। দেয়া হয় দামি দামি উপহার। নগদ অর্থ আর দাবি উপহার পেয়ে শহীদের সাথে রূপাকে বিয়ে দেয়ার জন্য রূপার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করেন মামা হুমায়ুন কবির। কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে শহীদের সাথে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হয় রূপার পরিবার।

    ২ বৈশাখ এ বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৬০ বছরের বৃদ্ধ, পিতার বয়সী শহীদের সাথে বিয়ের বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না কাউন্সিলর রূপা। এছাড়া পরিবার তার পাশে না থাকায় পুরোপুরি ভেঙ্গে পরে সে। তাই সে নিজেকে গৃহবন্দি করে নেয়। বন্ধ করে দেয় খাওয়া দাওয়া। এদিকে, রূপা বিয়েতে রাজি নয় শুনে ১ বৈশাখের আগের দিন রাতে ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডের বাসায় দিয়ে রূপাকে হুমকি দেয় শহীদুল্লাহ। এঘটনার পরপরই ওই রাতেই বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় কাউন্সিলর রূপা। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পর দিন ১ বৈশাখ সকালে তাকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে মিলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন শহীদুল্লাহ। এদিকে অনুসন্ধানে নেমে প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ’র নারী কেলেঙ্কারীর নানা তথ্য পাওয়া গেছে।

    • ছোট বেলা থেকেই রূপার উপর কু-দৃষ্টি শহীদুল্লাহ’র

    পারিবারিকভাবে দা্বী করেছে, ইসরাত আমান রূপার মা মোরশেদা বেগম কাজল ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার। ওই সময় বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অন্যান্য কমিশনারদের মত শহীদেরও রূপাদের বাসায় আসা যাওয়া ছিল। তখন বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন রূপা। ওই সময় থেকেই রূপার উপর কু-দৃষ্টি পরে কেএম শহীদুল্লাহ। তখন থেকেই যে কোন মূল্যে রূপাকে হাছিল করা অবৈধ বাসনা বাসা বাধে শহীদুল্লাহ’র মনে।

    • ২ কোটি টাকার কাহিনী

    প্যানেল মেয়র কেএম শহীদুল্লাহ’র কাছ থেকে ২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপা; বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। তবে বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর প্রথম এক বছরের প্রায় ৮০ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাছ চাপা টেন্ডারের মাধ্যমে বাগিয়ে নেয় লেটকু শহীদ। এছাড়া রূপাকে হাতিয়ার বানিয়ে লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী পর্যন্ত বিলবোর্ডগুলো নিজের করে নেয় সে। বিলবোর্ডগুলো শহীদুল্লাহ’র পিয়ন মামুনের নামে। এসব কাজের বিপরীতে একটি মোটা অঙ্কের টাকা কাউন্সিলর রূপাকে দেয়ার কথা ছিল। যার পরিমান ২ কোটি টাকা। রূপা তার প্রাপ্য টাকা চাইতে গেলে কেএম শহীদুল্লাহ তাকে অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাকে সে রাজি হয়নি। পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তাও প্রত্যাখ্যান করে রূপা। এরপর থেকেই রূপার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপপ্রচার চালায় প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ।

    • নজরবন্দী রূপা

    নারীলোভী  কেএম শহীদুল্লাহ’র বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার পর থেকেই কার্যত নজরবন্দী হয়ে পরে কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপা। তার বসত বাড়ির আশেপাশে অবস্থা নেয় শহীদুল্লাহ’র ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী। রূপা যেখানেই যেত সেখানেই তাকে অনুসরন করে সন্ত্রাসীরা। এমনকি রূপা ঢাকায় গেলে ঢাকা মেট্রো ২৫-৫৫৬৬ নম্বরের একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার রূপাকে ফলো করে। ওই গাড়িতে অনেক সময় প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহকেও দেখা গেছে। রূপা তার নিরাপত্তাহীনতার কথা একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছে।

    • রূপাকে ধর্ষণ করতে চেয়েছিল শহীদুল্লাহ

    বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রূপাকে ধর্ষন করতে চেয়েছিল প্যানেল মেয়র  কেএম শহীদুল্লাহ। এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল ২ বছর আগে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলদের নিয়ে হয়ে যাওয়া সুন্দরবনের পিকনিকে। পরিকল্পনা ছিল রাত গভীর হলে রূপাকে ধর্ষনের পর তাকে ফেলে দেয়া হবে নদীতে। কিন্তু কাউন্সিলর রেজভী মারা যাওয়ায় পরিকল্পনার বাস্তব রূপ নিতে পারেনি শহীদুল্লাহ। অভিযোগ আছে রেজভীর মৃত্যুর পিছনেও শহীদুল্লাহ’র হাত রয়েছে। যেমনটা ছিল সাবেক কমিশনার মেহেদীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পিছনে। জানা গেছে, সুন্দরবনের পিকনিকে কাউন্সিলর রেজভীকে অতিরিক্ত মদ পান করতে উৎসাহ যোগায় শহীদুল্লাহ। এক পর্যায়ে রেজভীকে অনেকটা জোর করে মদ খাওয়ায় সে। এরফলে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় রেজভী।

    • শহীদুল্লাহ’র ইশারায় মান্না-রূপা দ্বন্দ্ব

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সিডিসির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসরাত আমান রূপা। সিডিসির কাজ করতে গিয়ে জিয়া সড়ক এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী রাজার স্ত্রী জেসমিনের সাথে পরিচয় হয় রূপার। তবে জেসমিনের সাথে অনেক আগে থেকেই গোপন সম্পর্ক ছিল শহীদুল্লাহ’র সাথে। কিন্তু এ বিষয়টি জানা ছিল না রূপার। এছাড়া রাজা যে মাদক ব্যবসায়ী তাও জানতো না সে। মান্না পাহাড়ি রাজার ঘনিষ্ঠ। সাপের বাক্স করে সে বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা সরবরাহ করে থাকে। একদিন প্যানেল মেয়রের নির্দেশে জেসমিন রূপাকে ফোন করে জানায়, মান্না পাহাড়ি নামে এক সাপুড়ে তার স্বামী রাজাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি সে রূপাকে অনুরোধ করে মান্না পাহাড়িকে ধমকানোর জন্য। জেসমিনের অনুরোধে শহীদুল্লাহ’র সাজানো ফাদে পাড়া দেয় রূপ। মান্নাকে হুমকি দেয় মোবাইল ফোনে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হুমকির কথাগুলো মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে মান্না। পরে শহীদুল্লাহর নির্দেশে কোতয়ালী থানায় রূপার বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী দায়ের করে মান্না পাহাড়ি।

    • রূপার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতেই হামলার নাটক

    কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপাকে একা করে রাখাই ছিল প্যানেল মেয়র কেএম শহীদুল্লাহ’র প্রধান লক্ষ্য। তাই সিটি কর্পোরেশনের কোন পুরুষ কাউন্সিলর রূপার সাথে কথা বললে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বদনাম রটাতেন শহীদুল্লাহ। তাই মান সম্মানের ভয়ে কেউ রূপার সাথে কথা বলতেন না। এছাড়া রূপার বন্ধুদের নানাভাবে হুমকি দিতেন প্যানেল মেয়র। যাতে রূপা একা হয়ে যায় এবং শহীদুল্লাহ’র কু-প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এরই মধ্যে রূপার বিদেশ যাওয়ার খবরে আকাশ ভেঙ্গে পরে লম্পট শহীদুল্লাহ’র মাথায়। তাই রূপার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে হামলার নাটক সাজায় শহীদুল্লাহ নিজেই। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কাউন্সিলর রূপার বড় বোন আমেরিকা প্রবাসী। বোন আর বোনের ছেলে-মেয়েকে দেখতে গত বছরের শেষের দিকে তার আমেরিকা যাওয়ার কথা। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগার করছিলেন তিনি। বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেন কাউন্সিলর রূপা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহকে জানিয়ে দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা বেগম। এখবর শোনার পরপরই চিন্তায় পরে যায় শহীদুল্লাহ। তার ধারনা রূপা আমেরিকা গেলে, সেখানে কোন ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়ে যেতে পারে। তাই রূপার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে নগরীর পুলিশ লাইন রোডে অবস্থিত নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩ তলায় বৈঠক বসায় শহীদুল্লাহ। বৈঠকে অংশ নেয় চতুর সাপুড়ে মান্না পাহাড়ি, তার স্ত্রী কাজল বেগম ও মাদক ব্যবসায়ী রাজা। রাজা মান্নাকে কুপিয়ে জখম করবে এই প্রস্তাব দেন শহীদুল্লাহ। তবে এই প্রস্তাবে শুরুতে বেকে বসে মান্না পাহাড়ি। কিন্তু এ কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা দেয়ার কথা বললে রাজি হয়ে যায় মান্না। ওই রাতেই তাদের ৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেয় শহীদুল্লাহ। পরিকল্পনা অনুযায়ী পর দিন সন্ধ্যায় মান্নার উপর হামলা চালায় রাজা। হামলার পর রাজা নিরাপদেই পালিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মামলা করা হয় রাজা সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। হুকুমের আসামী করা হয় ইসরাত আমান রূপাকে। শহীদুল্লাহ’র টাকার কাছে হেরে যায় রূপা।

    • স্ত্রীকে দিয়ে স্বার্থ হাসিল শহীদুল্লাহ’র প্রধান ব্যবসা

    মাত্র ১০ বছর আগেও আজকের মত অর্থ সম্পদের মালিক ছিলেন না প্যানেল মেয়র কেএম শহীদুল্লাহ ওরফে লেটকু শহীদ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামান্য মালির ছেলে শহীদ নিজ স্ত্রীকে ব্যবহার করে হয়েছে কোটিপতি। স্থানীয় সূত্রে জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক পিয়নের মেয়েকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতেই ঘর জামাই থাকতে শুরু করে লেটকু শহীদ। এক পর্যায়ে শুরু করে ছোট ছোট ঠিকাদারি কাজ। কিন্তু কাজে অনিয়ম দুর্নীতির কারনে বিল আটকে দেয় দপ্তরের বড় বাবুরা। কাজের বিল ছাড় করতে নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করে শহীদুল্লাহ। তাকে পাঠিয়ে দিত বড় বাবুদের কাছে। বড় বাবুরাও খুশি হয়ে বিল ছেড়ে দিত। এরপর থেকে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেয়া কিংবা বিলের টাকা উত্তোলন; সব জায়গাই নিজের স্ত্রীকে পাঠাতেন শহীদুল্লাহ। এমনকি রাজনৈতিক স্বার্থ হাছিল করতেও স্ত্রীকে ব্যবহার করতো জঘন্য চরিত্রের এই প্যানেল মেয়র। স্ত্রী এর প্রতিবাদ করলে তার উপর চালানো হত অমানসিক নির্যাতন। কিন্তু স্ত্রী শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যাওয়ায় রূপাকে দিয়ে ওই কাজ চালিয়ে নিতে চায় সে। তাই যে কোন মূল্যে রূপাকে হাছিল করতে উঠে পড়ে লেগেছে শহীদুল্লাহ।

    • নারী লোভী শহীদুল্লাহ

    নারীলোভী প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ’র কু-কর্মের কথা সবার জানা। গভীর রাতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়ায় সে। সুযোগ বুঝে হানা দেয় বিভিন্ন বসতঘরে। তার লালসা থেকে রেহাই পায়নি শিশু কন্যা থেকে বৃদ্ধ নারী পর্যন্ত। বর্তমানে এক মিস্ত্রীর স্ত্রীর সাথে রয়েছে তার অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক। এঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই মিস্ত্রীকে প্রান নাশে হুমকি দেয় শহীদুল্লাহ। তাই জীবন রক্ষায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই মিস্ত্রী। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র জানায়, যেখানে নারী সেখানেই চরিত্রহীন শহীদুল্লাহ’র পদচারনা। সে প্রতিদিন মদ পান করে, এক এক রাতে এক এক নারীর সাথে রাত কাটায়। অনেকই তাকে বরিশালের বাইরে বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সাথে অন্তঃরঙ্গ অবস্থায় দেখেছে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, এক নারী কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ’র বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ওই সময় তার সাথে শহীদুল্লাহ’র অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। শহীদুল্লাহ’র আর্শিবাদে একাধিকবার গর্ভবতীয় হয়েছিল সে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, প্যানেল মেয়র শহীদুল্লাহ ওরফে লেটকু শহীদ সবচেয়ে বেশি রঙ্গলীলায় লিপ্ত ছিল নারী অপর এক নারী কাউন্সিলরের সাথে। বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে বরিশালের বাইরে ঘুরতে যেতেন শহীদুল্লাহ। সিটি কর্পোরেশনের মালিকাধীন রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফ্লাটে তাদের অনেকটা উলঙ্গ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন। তাদের ভালবাসার ফল বিথাও যায়নি। ওই নারী কাউন্সিলরের ছেলেটি শহীদুল্লাহ’র ভালবাসার ফসল বলে লোক মুখে গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি ওই নারী কাউন্সিলরের বোনের মেয়ের সাথেও রয়েছে শহীদুল্লাহ’র অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক। নগরীর কাউনিয়া এলাকা বাসিন্দা ওই মেয়ে বর্তমানে পড়াশুনা করছে ঢাকার একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে। তার পড়শুনার সম্পর্ক ব্যয় বহন করছে শহীদুল্লাহ। এজন্য তার সাথে রাত কাটাতে হয়। ওই মেয়ে শহীদুল্লাহ’র একমাত্র মেয়ে সামান্তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিল। কিন্তু পিতার সাথে বান্ধবীর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি ঢাকায় বসবাসরত সামান্তা।

  • প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর অতিবাহিত হলেও বাড়েনি টেকনোলজিস্টের পদ

    প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর অতিবাহিত হলেও বাড়েনি টেকনোলজিস্টের পদ

    প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর অতিবাহিত হলেও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়েনি টেকনোলজিস্টের পদ। বরং অবসর ও ডেপুটেশনের কারণে টেকনোলজিস্ট কমতে থাকায় রোগ নির্ণয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরতদের। বর্তমানে ভর্তি ও বহির্বিভাগ মিলে প্রতিদিন আড়াই হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর এদের জন্য টেকনোলজিস্ট রয়েছে মাত্র ১৫ জন।

    শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগ, রেডিওলজি বিভাগ ও রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে ১৯ টেকনোলজিস্টের মধ্যে কর্মরত আছে ১৫ জন। আর ৭ টেকনোলজিস্ট দিয়ে চলছে প্যাথলজি বিভাগ। এ বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগীর ১ হাজার আইটেমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রেডিওলজি বিভাগও চলেছ ৭ টেকনোলজিস্ট দিয়ে। সেখানে সিটিস্ক্যান, এমআরআই, ডিজিটাল এক্স-রে ও ক্যাথল্যাব পরিচালনায় রোগীদের চাপে হিমশিম খেতে হয়।

    মাত্র একজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে চলছে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ। রোগ নির্ণয়ে আধুনিক ডিজিটাল মেশিন দেয়া হলেও দক্ষ জনবল না থাকায় ওই মেশিনের সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। রোগী অনুপাতে টেকনোলজিস্টদের পদ বৃদ্ধি না হওয়ায় রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বললেন টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি। মেডিকেলে ডিজিটাল মেশিনে পরীক্ষা-নীরিক্ষা হলেও ওই মেশিন সম্পর্কে টেকনোলজিস্টদের তেমন কোনো ধারণা নেই।

  • বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ১৪, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ নং ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লিখিত ৫ টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়।

    কমিটিতে ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় এ্যাড. খান ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ সবুজকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয় তৌহিদুর রহমান সাবিদকে।

    ১৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাতি করা হয় কাজী রোকন উদ্দিনকে। সাধারণ সম্পাদক কর হয় সাঈদ মাহমুদকে।

    ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় মিঞা মোঃ কামরুজ্জামান সোনাকে। সাধারণ সম্পাদক কর হয় সৈয়দ বসির আহম্মেদকে।

    ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় ইঞ্জি: মোঃ নজরুল ইসলাম নিলুকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয় রাকিবুল হক রনিকে।

    এর মধ্যে ১৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয় মোঃ মজিবুর রহমান বাচ্চুকে।

    ১৭ এপ্রিল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানাগেছে।

  • অবশেষে চলে গেলেন রাজীব

    অবশেষে চলে গেলেন রাজীব

    অনেক চেষ্টার পরও বাঁচানো গেলো না কলেজছাত্র রাজীব হোসেনকে। দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা রাজীব মারা গেছেন।

    সোমবার (১৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন আইসিইউর চিকিৎসকরা। আইসিইউ’র চিকিৎসক ডা. রেজার বরাত দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন রাজীবের চাচা আল আমিন। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়াও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রাজীবের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে খবর পেয়ে মধ্যরাতেই ঢামেকে ছুটে আসেন তার স্বজনরা। এদের মধ্যে আল আমিন ছাড়াও রয়েছেন রাজীবের মামা জাহিদুল ইসলাম ও খালাতো বোন রাবেয়া।

    আল আমিন বলেন, চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন লাইফ সাপোর্টে থাকা রাজীবের অবস্থার অবনতি হয় ১১টা ৩০ মিনিটে। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

    গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে বাস দু’টির চিপায় পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এ ছাত্রকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন ঢামেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে থাকাকালে মাকে এবং অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালে বাবাকে হারান। এরপর মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে ভাড়ায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন রাজীব। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচও চালাতে হতো রাজীবকে।

    রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। ৫ এপ্রিল দু’জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দু’জনকে পাঠানো হয় কারাগারে। সোমবার দুই আসামির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর করেন আদালত।

  • শেবাচিমে  ছিনতাইকারী কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

    শেবাচিমে ছিনতাইকারী কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

    তানজীল শুভ :

    বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে ছিনতাই করার অভিযোগে ৩ ছিনতাইকরীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে উপস্থিত জনতা।

    ছিনতাইকারীদের নাম রিয়াজ (২৭) এবং সোলায়মান (২৬) এবং অজ্ঞাত একজন এদের ৩ জনেই বরিশালে ভাড়া বাসায় থাকেন বলে জানা যায়। ঘটনা স্থল থেকে জানা যায় পিরোজপুর থেকে আসা একজন রোগির কাছ থেকে ও+ রক্ত ম্যানেজ দেওয়ার কথা বলে ২৫০০ টাকা এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতা তাকে ধরে ফেলে।এবং উত্তম মাধ্যম দিয়ে হাসপাতালে অবস্থানরত পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন।মারার পরে এদের ৩ জনের পকেট থেকে কয়েকটি মোবাইল এবং ডাক্তারি কিছু প্যাড পাওয়া যায়।

    হাসপাতালের দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান এরা প্রতিদিনই হাসপাতালের ভিতর ঘোরাঘুরি করে। এবং সুযোগ পেলেই তারা রোগীদের কাছ থেকে মোবাইল টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।এবং সেই গুলো দিয়ে নেশা করে।আবার অনেকেই বলেন এই ছিনতাইকারীরা মূলত ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর দালালি করে থাকে। তারা হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যায়।যাতে করে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন হলেও লাভবান হন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো।