Category: বরিশাল

  • মাঝরাতে মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষ

    মাঝরাতে মেঘনায় ২ লঞ্চের সংঘর্ষ

    তানজীল শুভ

    মাঝরাতে মেঘনায় সুন্দরবন-১১ ও স্বর্ণদীপ-৮ নামের দু’টি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার (১১ ডিসম্বের) রাত পৌনে ১২টার দিকে চাঁদপুরের মোহনপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরিশালগামী সুন্দরবন-১১ লঞ্চের যাত্রী আমিনুল ইসলাম বাংলারমুখকে জানান, বৃহত্তর মেঘনার মাঝ নদীতে দুটো লঞ্চের মধ্যে প্রথমে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    তিনি আরো জানান, ধাক্কার পর স্বর্ণদীপ লঞ্চটি ছোট হওয়ায় অনেকটা সেটার উপরে উঠে যায় সুন্দরবন-১১ লঞ্চটি। পরে সুন্দরবন-১১ নিজেই পেছন দিকে যায় এবং স্বর্ণদীপ লঞ্চটিকে অপর একটি লঞ্চের সহায়তায় পেছনে নেওয়া হয়। এর কিছুসময় পরে সবকিছু পরীক্ষা করে সুন্দরবন-১১বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেও অপর লঞ্চটি ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ ছিল। সুন্দরবন-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালগামী লঞ্চগুলো একলাইনে চালানো হচ্ছিলো। তাদের লঞ্চের সামনে পারাবত কোম্পানির একটি লঞ্চ ছিল। হঠাৎ মোহনপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বিপরীতমুখী (চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী) স্বর্ণদীপ-৮ নামে ছোট একটি লঞ্চ তাদের লঞ্চটির বামপাশে ধাক্কা দেয়। যদিও এতে কোনো লঞ্চ ও যাত্রী সাধারণের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

    তিনি আরও জানান, সুন্দরবন-১১ লঞ্চে থাকাবরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ প্রায় ৫শ’র মতো যাত্রীর সবাই নিরাপদে রয়েছেন, যাদের নিয়ে বরিশালে উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়েই পৌঁছাতে পারবেন।তবে স্বর্ণদীপ-৮ লঞ্চের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পাশাপাশি দু লঞ্চের ধাক্কা লাগর এতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি বলে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন

  • প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের বিচার চাইতে এসে বাবা জেলহাজতে!

    প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এক যুবক। বিচার চেয়ে থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা। কিন্তু ধর্ষককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে না পাঠিয়ে উল্টো ধর্ষকের করা মামলায় মেয়ের বাবাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বরগুনার তালতলীতে এ ঘটনা ঘটেছে।

    প্রতিবন্ধী মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় দরিদ্র বাবা মো. মোশারেফ হোসেন এখন জেলহাজতে। সোমবার দুপুরে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের সঙ্গে দেখা করে এসব কথা জানান প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রাণী বেগম। পরে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন রিকশাচালক মো. মোশারেফ হোসেনের স্ত্রী ও নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রাণী বেগম।

    এর আগে চলতি বছর ২৪ অক্টোবর প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগর পাড়া গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে আল-আমিনকে (২২) আসামি করে তালতলী থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা। মামলার পর বরগুনার পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতারে সচেষ্ট হয় পুলিশ। গত ৩১ নভেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা মো. মোশারেফ হোসেন এবং মা রানী বেগমকে আসামি করে আড়াই লাখ টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগে মামলা করেন ধর্ষক আল-আমিনের বাবা মো. শাহ-আলম। এ মামলায় গত ৬ ডিসেম্বর আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান আদালত।

    নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রাণী বেগম আক্ষেপ করে বলেন, গরিব মানুষের জন্য বিচার নাই। গরীব মানুষের পাশে কেউ নাই। দুনিয়ার সবাই জানে আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে আল-আমিন। এ ঘটনায় আমরা মামলা করলাম। মামলায় ধর্ষকের কিছুই হলো না। অথচ বিনাদোষে জেলে গেল আমার স্বামী।

    এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, তালতলী থানায় দায়েরকৃত ধর্ষণের মামলায় তারা স্বাক্ষ্য প্রমাণ নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা ধর্ষণের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন। আসামি আল আমিন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের আগেই ভুক্তভোগী পরিবার তার সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত অবহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তালতলী থানার ওসিকে মামলা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা নেয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি জানান।

  • বরিশালে বিএনপি নেতার হাতে আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

    বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা। পাশাপাশি আহত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ আরো ২ জন।

    সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সৈয়দ সুলতান আহমেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিরা জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে নেয়ামতি ইউনিয়নের ছালাম সিকদার সুলতান আহমেদের পেটে গুলি করেন। ছালাম সিকদার এলাকায় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

    এ সময় নেয়ামতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক বজলু মিয়াকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। আহত আওয়ামী লীগ নেতা বিমল সাহা জানান, বেশ কয়েকদিন আগে একটি বিষয় নিয়ে তাদের সাথে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছালাম সিকদারের দ্বন্দ্ব হয়। বিষয়টি তখন মীমাংসা হয়।

    কিন্তু ছালাম তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে আজ দলবল নিয়ে মহেশপুর বাজারে এসে হামলা চালায়। এ সময় সুলতানের পেটে গুলি করা হয় এবং আমাকে ও বজলুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আজিজুর রহমান জানান, পেটে গুলিবিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সুলতান আহমেদকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, কয়েকদিন পূর্বে মহেষপুর বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সুলতান ও বিএনপি নেতা ছালাম সিকদারের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়।

    ধারণা করা হচ্ছে ঐ ঘটনার জেরেই ছালাম সিকদার এ হামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিএনপি’র কোন কমিটিতেই ছালাম সিকদারের কোন পদ নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন হাওলাদার।

  • শেবাচিম ব্লাড ব্যাংকে নেই পর্যাপ্ত জনবল

    শেবাচিম ব্লাড ব্যাংকে নেই পর্যাপ্ত জনবল

    তানজীল শুভ

     

    বরিশাল শেবাচিম মেডিকেলের রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রে নেই পর্যাপ্ত প্যাথলজিস্ট যার কারনে ভোগান্তি পোহাতে হয় হাসপাতাল এ আসা রোগীদের।রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং ক্রস মেচিং করানোর জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় এইসব রোগীদের।যার কারনে অতিষ্ঠ হয়ে রোগীর লোক জনেরা ঝগড়া ও করে ব্লাড ব্যাংকে কর্মরত লোকদের সাথে।

    এখানে অনেক জনের সাথে কথা বললে তারা জানান সেই সকাল থেকে বসে আছি কিন্তু এখন ও নাকি ক্রস মেচিং করা হয়নি। এভাবে চললে তো রক্ত নিয়ে যেতে যেতেই আমাদের রোগীরা মারা যাবে।ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন এখানে আমাদের কিছু করার নেই কেননা এখানে যথেষ্ট লোক না থাকার কারনে এই সমস্যাটি হচ্ছে।তারপর ও আমরা চেষ্টায় কমতি রাখি না।

    এখন এর কারনে যদি রোগীর লোকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।।।।।। তাই অনেকেই মনে করেন ব্লাড ব্যাংকে যদি পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে এই সমস্যার সমাধান খুব তারাতারি ই ঠিক হয়ে যাবে।এবং এখানে সেবা নিতে আসা রোগীরা তাদের কাঙ্খিত সেবা পাবেন বলে রোগীর লোকজন মনে করেন

  • আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ৭৪ তম জন্মদিনে দোয়া-মিলাদের আয়োজন

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ৭৪ তম জন্মদিনে দোয়া-মিলাদের আয়োজন

    বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে স্থাণীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির ৭৪তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে তার দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার বাদ জোহর বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ্ব গোলাম ফারুকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দোয়া-মিলাদে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু,উপজেলা বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম,আ’লীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন রানা,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হুদা তালুকদার,যুবলীগ নেতা মহসিন রেজা ও জুলহাস,প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন প্রমূখ।

  • বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    কাজী   সাইফুল

    স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বের হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। রোববার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশালে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ আয়োজনে নগরের সদর রোডের বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের করা হয়।

    মিছিলটি অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে সদররোডে উঠতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ফিরে গেলে মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। মিছিলের আগে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এ কে এম শহীদুল ইসলাম, মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন প্রমুখ। এসময় বক্তারা আব্দুল কাদের ভুঁইয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

     

  • বরিশালে ধর্ষণের পর হত্যা- মামলার প্রধান আসামির মৃত্যু

    বরিশালে ধর্ষণের পর হত্যা- মামলার প্রধান আসামির মৃত্যু

    বরিশালে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্রী সাদিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ সিরাজকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

    সিরাজ মঠবাড়িয়া উপজেলার খেজুরবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়মাছুয়া গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ্ অ্যান্ড টেকনোলজির প্যাথলজি বিভাগের ছাত্রী ও বরিশাল নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া এলাকার আলমগীর খানের মেয়ে সাদিয়া আক্তারকে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন তিনি। গত ০২ ডিসেম্বর সিরাজের সঙ্গে ও ১৪ বছরের হাফিজকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

    রোববার (১০ ডিসেম্বর) শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাজতি সিরাজকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, কারাগারে আসার আগেই সিরাজ আহত ছিলেন। হাসপাতালের মৃত্যুর প্রমাণপত্রেও শারীরিক আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানান, গত ১৯ নভেম্বর সাদিয়াকে মঠবাড়িয়ায় এলাকায় নিয়ে যান মামলার প্রধান আসামি সিরাজ। সেখানে দুই সহযোগীর সহায়তায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সিরাজসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে গত ০২ ডিসেম্বর সিরাজ ও তার সহযোগী হাফিজকে গ্রেফতারের পর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে সাদিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই তার মৃত্যুর সঠিক কারণ যানা যাবে।

    এছাড়া মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান এস এম রুহুল আমিন। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, সিরাজকে গত ০৫ ডিসেম্বর হাজতি হিসেবে (৮১৩৫/১৭) হাতে পায় কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ০৮ ডিসেম্বর শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সুরতহাল ও ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ জানা যাবে না। এজন্য তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

    বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. বদরুজদৌজা জানান, আসামি সিরাজুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর সময় তার শরীরে জখম ছিল। অবস্থার অবনতি হলে সিরাজকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আওলাদ হোসেন জানান, সুস্থ অবস্থায় আসামি সিরাজকে কারাগারে পাঠানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে- হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

  • বরিশাল নগরীতে স্কুল ছাত্রকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

    বরিশাল নগরীতে স্কুল ছাত্রকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

    বরিশালে নগরীতে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে আবু সালেহ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ কিশোর। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের সাগরদী শেরেবাংলা সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত আবু সালেহ বরশিাল নগরীর নুরিয়া হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রেপালিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুন ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে।

    কিন্তু এর আগেই হামলাকারী একই এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমানের ছেলে হৃদয় পালিয়ে গেছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল হক।

  • ছেলের মৃত্যুর পর দগ্ধ মাও মারা গেলেন

    ছেলের মৃত্যুর পর দগ্ধ মাও মারা গেলেন

    আগুনে পুড়ে ছেলের মৃত্যুর ক’দিন পরেই মারা গেলেন দগ্ধ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সালেহা আক্তারও। ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তার মৃত্যু হয়।

    শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরে সহকর্মীদের অনুরোধে দুপুরে মরদেহ শেবাচিম হাসপাতালের সেন্ট্রাল মসজিদে জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় ও সহকর্মীরা জানান, ছেলে রুবেল মোটরসাইকেল কেনার আবদার করে সে আবদার পূরণে অভিভাবকরা রাজি না হলে অভিমান করে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রুবেল। সে আগুন নেভাতে গিয়ে মা সালেহা আক্তারও অগ্নিদগ্ধ হন।

    তবে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তির সময় সালেহার স্বজনরা বলে ছিল গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনি দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরতরা। ঢামেক হাসপাতাল থেকে সালেহার মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।

    তিনি জানান, মায়ের মৃত্যুর সপ্তাহ খানেক আগে ছেলে রুবেলের (২০) মৃত্যু হয়। উভয়ই আগুনে পুড়ে দগ্ধ হলে গুরুতর অবস্থায় গত ২২ নভেম্বর রাতে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতে মা ও ছেলেকে মুমূর্ষু ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ছেলে রুবেলের মৃত্যু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মায়ের মৃত্যু হয়।

    এ মৃত্যুর খবরে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু ডায়েরিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মৃত সালেহা আক্তার (৫০) বরিশাল নগরের ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও একই হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মো. হানিফের স্ত্রী।

  • বিবাহিত আর বয়ষ্কদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি

    বিবাহিত আর বয়ষ্কদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি

    ৬ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। এ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে ৩২ বছর বয়সী রাসেলকে।

    তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আল আমিনকে (সানু) যিনি বিবাহিত এবং ছাত্রদল নেতা। এছাড়া সহ-সভাপতি করা হয়েছে বেল্লাল হোসেনকে যার বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বিতর্কিত এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে রাজাপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগ নেতা মো. শাওন ফরাজী।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। তারপরও উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে অবহিত না করে জেলা ছাত্রলীগ গোপনে এ কমিটি ঘোষণা করেছে। বিবাহিত, একাধিক সন্তানের জনক, অছাত্র ও বিএনপি ঘেষাদের নিয়ে গঠনতন্ত্রকে পাস কাটিয়ে কমিটি করা হয়েছে।

    এছাড়াও কমিটিতে নাম রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন বর্তমান কমিটি থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ও অগঠনতান্ত্রিক উল্লেখ করে তা বাতিল এবং অবিলম্বে এই কমিটি বিলুপ্ত করে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রনেতারা বলেন, যেখানে উপজেলা কমিটিতে হাইব্রিড (নব্য) স্থান পায়, সেখানে বড় ধরনের ঝামেলার জন্য এবং ৩টা গ্রুপিংয়ের কারণে প্রায় ২ বছরের অধিক সময় কমিটি স্থগিত থাকায় কিভাবে জেলা থেকে এমন কমিটি দেয় এটা তাদের বোধগম্য নয়।

    এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম নীতি মেনেই কমিটি ঘোষণা করেছি। তারপরও কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।