Category: বরিশাল

  • বরিশালে “আড্ডা ধানসিড়ি”র ৫৯ তম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

    বরিশালে “আড্ডা ধানসিড়ি”র ৫৯ তম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

    হুজাইফা রহমান

    গতকাল শুক্রবার বরিশালের বগুড়া রোডস্থ আম্বিয়া হাসপাতালের পাশে অবস্থিত জীবনানন্দ অঙ্গনে “আড্ডা ধানসিড়ি”র ৫৯ তম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “আড্ডা ধানসিড়ি”র আড্ডারুদের উপস্থিতিতে বিকেল চারটা থেকে আড্ডা শুরু করে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত একটানা দু’ঘন্টা প্রাণবন্ত একটি সাহিত্য আড্ডা চলে। সেখানে ড. মুহম্মদ মুহসিন’র সঞ্চালনায় এবারের আড্ডার অতিথি ছিলেন কবি হুমায়ুন কবির।

    শুরুতেই “আড্ডা ধানসিড়ি”র আড্ডারু কবি আসমা চৌধুরী’র একটি কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এরপর আড্ডায় নিজেদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আড্ডারু শফিক আমিন, জয়নাল আবেদীন, ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আবদুর রহমান, অনিন্দ্য দ্বীপ, মাহমুদ অর্ক্য, সামছুল আলম, সাইমুন ইসলাম, এসকে লুনা ও হুজাইফা রহমান। তাদের পাঠ করা কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ড. মুহম্মদ মুহসিন ও কবি হুমায়ুন কবির। পরিশেষে চা চক্রের মধ্য দিয়ে আড্ডার পরিসমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য যে, “আড্ডা ধানসিড়ি” বরিশালের একটি সাহিত্য সংগঠন। প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শুক্রবার বরিশালের বগুড়া রোডস্থ আম্বিয়া হাসপাতালের পাশে অবস্থিত জীবনানন্দ অঙ্গনে সাহিত্য প্রেমীদের নিয়ে সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।

  • বরিশালে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুভ উদ্ভোধন করলেন সাদিক আব্দুল্লাহ

    বরিশালে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুভ উদ্ভোধন করলেন সাদিক আব্দুল্লাহ

    তানজীল শুভ
    আজ এগারোই নভেম্বর, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পঁয়তাল্লিশ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ।সমগ্র দেশের সাথে বরিশালেও জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপন করা হয় দিনটি।বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উদযাপন করা হয় দিনটি।সকাল দশটার সময় বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা ও আনন্দর্যালীর আয়োজন করা হয়। আনন্দ র্যালীর শুভ উদ্ভোধন করেন বরিশাল বাসীর প্রাণের মানুষ ,যুব সমাজের অহংকার, যুবরত্ন জনাব সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল,মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম জাহাঙ্গীর ,মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু সহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য বৃন্দ।সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক এ.এম.মেজবাহ্ উদ্দিন জুয়েল।আলোচনা সভায় সকল বক্তারা শেখ ফজলুল হক মনীশকে স্মরণ করেন ।কারন বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠা করেন। সভা শেষে নগরীজুরে একটি আনন্দর্যালী বেড় করা হয়। এবং র্যালিতে আসা সকল মানুষ দাবী করেন যেন সাদিক আবদুল্লাকে আগামী সিটি নির্বাচনে যেন সিটি মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয় ।

  • এসএসসি পরীক্ষা- বরিশালে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

    এসএসসি পরীক্ষা- বরিশালে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

    এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণের নামে জেলার সর্বত্র বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে দ্বিগুন টাকা নেয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্কুলে কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোন ধরনের রশিদ ছাড়াই ফরম পূরণে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সন্তানদের পরীক্ষার কথা চিন্তা করে দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকদের ধারদেনা করে ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বাড়তি অর্থ নেয়ার কথা স্বীকার করে নানাখাতের অজুহাত দেখাচ্ছে। শিক্ষাবোর্ড থেকে ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ করে দেয়া সত্ত্বেও তা মানছে না স্কুলগুলো। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকদের দাবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তক্রমেই এ অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। গত কয়েকদিন থেকে এনিয়ে প্রতিদিনই স্কুলের শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বাগ্বিতন্ডা লেগেই রয়েছে। বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসএসসি’র ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাবোর্ড থেকে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬৫ টাকা। এরসাথে স্কুলগুলো থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ফি ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা, কোচিং চলাকালীন বেতন ৩৬০টাকা, স্কুল উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, সেশন ফি ১২৫ টাকা, মিলাদ ১০০ টাকা, ব্যবহারিক ৫০ টাকা, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে শিক্ষকদের যাতায়াত ফি বাবদ ১০০ টাকা, স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের জন্য ৫০ টাকা ও অনলাইন ফি বাবদ ২৫ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিজন পরীক্ষার্থী বাবদ ৩ হাজার ৭৫ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। এরসাথে পরীক্ষার্থীদের স্কুলের বকেয়া বেতন ও টেস্ট পরীক্ষায় অকৃকার্য হওয়া প্রতিটি বিষয়ে ২০০ টাকা করে যোগ করা হচ্ছে। এরপর পরীক্ষার আগমুহুর্তে প্রবেশপত্র বিতরণের নামে হাতিয়ে নেয়া হবে মোটা অংকের অর্থ। সূত্রমতে, উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুলের বেতন ফ্রি হওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না অধিকাংশ স্কুলগুলো। এমনকি টেস্ট পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে কৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্যও ৩ হাজার ৭৫ টাকা করে ধার্য করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, গৌরনদী, বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। গৌরনদীর নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে একপ্রকার জোরজুলুম করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। গেরাকুল আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ম্যানেজিং কমিটির ব্যর্থতার কারণে শিক্ষকরা মনগড়াভাবে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ ঘটনার যে প্রতিবাদ করবে তার ফরম পূরন করা হবেনা বলেও কতিপয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের হুমকি প্রদর্শন করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরমপূরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। মাহিলাড়া এএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক প্রণয় কান্তি অধিকারী বলেন, বোর্ড যেটা নির্ধারণ করেছে তার সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দুঃস্থ পরিবারের পরীক্ষার্থীদের বেলায় অবশ্যই ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে কতো টাকা নিয়ে ফরমপূরণ করা হচ্ছে তা তার মনে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, প্রায় প্রতিটি স্কুলের বিরুদ্ধেই অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরমপূরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা হলে অভিভাবকরা অভিযোগ দায়ের করবেন। অভিযোগের প্রমান পেলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে মন্ত্রী করার দাবী বরিশালবাসীর

    বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে মন্ত্রী করার দাবী বরিশালবাসীর

    মন্ত্রী পরিষদে রদবদলের গুঞ্জন শুরু হওয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে স্থাণীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বরিশাল জেলা আ’লীগের সভাপতি সিংহ পুরুষ খ্যাত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় আ’লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী সহ গোটা বরিশাল বাসী। দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা পার্বত্য শান্তি চুক্তির প্রণেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাাহ তার মেধা.মনন,শৈলী, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে আ’লীগকে বরিশাল সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে এক অপ্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করেছেন। তার নেতৃত্বে আ’লীগ নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক তৎপরতায় এ অঞ্চলে বিএনপি-জামায়াত’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অনেকটা অস্তিত্বহীণ হয়ে পড়েছে। বরিশালে উপজেলা, ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পলিসি মেকারের ভূমিকায় অবর্তীণ হন বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী আদর্শের এ নেতা। রাত-দিন একাকার করে তিনি আ’লীগকে সুসংগঠিতও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে শহর থেকে গ্রাম আর গ্রাম থেকে গ্রামান্তর ছুঁটে বেড়ান। তার দূরদর্শিতায় বরিশালের সব জনপ্রতিনিধি এখন আ’লীগের। শুধু বরিশালেই নয় জাতীয় রাজনীতিতে তার সরব উপস্থিতিও রয়েছে। ১৯৯৭ সালে অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পাদনের মাধ্যমে তৎকালীণ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালণ করে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায় তারও নাম লিখিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মামা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে সেই সময়ের সাহসী টগবগে যুবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে বরিশাল অঞ্চলে মুজিব বাহিনী প্রধান হিসেবে মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য মনে করে সন্মূখ সমরে জীবন পণ লড়াই করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বির্নিমানে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করেন।স্বাধীনতার পর তিনি বরিশাল পৌরসভার সফল ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।পরবর্তীতে বরিশাল-১(আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গোটা বরিশাল অঞ্চলে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আর্বিভূত হন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশেন,বিভাগ,শিক্ষা বোর্ড,বিশ্ববিদ্যালয়,পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা,দোয়ারিকা-শিকারপুর ও দপদপিয়া ব্রিজ নির্মাণ সহ বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে তার অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে রক্তঝড়া অচিন্তনীয় বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের শোকগাথাঁয় মামা জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে বাবা তৎকালীণ কৃষিমন্ত্রী ও কৃষক কুলের নয়নের মনি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও নিজের শিশু পুত্র সুকান্ত আব্দুলাহ সহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারান তিনি। সেদিন রাতে মৃত্যুর দুয়ার থেকে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের অপার কৃপায় অলৌকিকভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ,বুলেটবিদ্ধ স্ত্রী শাহানারা আব্দুল্লাহ ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু পুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ বেঁচে যান। শরীরে ৫টি বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে শাহানারা আব্দুল্লাহ স্বামী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর মতো আ’লীগের সুখ-দুঃখের অংশীদার। ৭৫’র পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে (৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬) মিথ্যা মামলা সহ নানা ভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা চেহারার অবয়বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছ্বায়া আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ কোন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী করা হলে তিনি তার সততা,মেধা,বিশ্বস্ততা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ ও ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়ন করে ক্ষুধা,দারিদ্র,সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ-দুর্নীতিমুক্ত, শোষন ও বৈষম্যহীণ স্বপ্নের অসা¤্রদায়িক সোনারবাংলা বির্নিমাণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন। বরিশালের আ’লীগ নেতা-কর্মী ও সর্তীথজনদের বিশ্বাস জননেত্রী দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার বিচক্ষন্নতা দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগি ও পরীক্ষিত নেতা বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নং সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে তার ত্যাগ ও যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন করবেন।

  • শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনিশ্চিত

    শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক এবং পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৬ সাংবাদিক (প্রেসকাবের সদস্য) জিয়াউদ্দিন বাবু, কাজল ঘোষ, মো: শাহজাহান হাওলাদার, মনোবীর আলম খান, এম ফোরকান ও আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। আদালতের বিচারক মো: হাদিউজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মামলার বিবাদীদের নালিশীতে বর্ণিত বিষয়গুলো সম্পর্কে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। মামলার আইনজীবী অ্যাড. আজাদ রহমান এজাহারের বরাত দিয়ে বলেন, আগামী ১০ নভেম্বর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন ধার্য করে সভা আহবান করা হয়েছে। ১১ নভেম্বর বিশেষ জরুরি সাধারণ সভা আহবান করে আলোচ্য বিষয়াবলীর উপরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার বাদীরা। বিষয়গুলো হচ্ছে-বিশেষ জরুরি সভার আলোচ্যসূচি সিংহভাগ সহযোগী সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে গঠনতন্ত্রের ধারা-উপধারা সংযোজন এবং ১০ নভেম্বর প্রেসকাব নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচ্যসূচি। মামলার বাদীগণ দাবি করেছেন, প্রেসকাব নির্বাচনের পূর্বে আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের একটি সাংবাদিকবান্ধব গঠনতন্ত্র রচনা করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। যেহেতু প্রেসকাবের গঠনতন্ত্র দীর্ঘদিনের পুরনো এবং অসংগতিপূর্ণ ও সময়োপযোগী নয়; তাই গঠনতন্ত্রের নিম্নোক্ত আলোচ্য বিষয়গুলো সংশোধন করা প্রয়োজন:- প্রস্তাবগুলো হল-“মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত বা নীতি-আদর্শ পালনকারী কোন সাংবাদিক বা ব্যক্তি, কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা সমাজের নিন্দিত কোন ব্যক্তি প্রেসকাবের সদস্যপদ পাবার জন্য আবেদন করতে পারবেন না বা করলে তা সরাসরি অগ্রহণযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে (গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১)”। “২৫ ডিসেম্বর খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’-এ সকাল ১০টা থেকে একটানা রাত ১১টা পর্যন্ত প্রেসকাবের সাধারণ সভা ও বার্ষিক নির্বাচনের দিন ও সময় পরিবর্তন করে যে কোন উপযুক্ত সময়ে সভা ও নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৪ এর ধারা ২)”। বরিশাল প্রেসকাবের যে সকল সহযোগী সদস্যদের সদস্য পদ প্রাপ্তির ৩ বছর সময় অতিক্রম হবে তাদের পেশাগত কর্মকা- পুনর্বিবেচনাপূর্বক পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ প্রদানের বিধান সহজতর করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্র অনুচ্ছেদ ২ এর ৪ ধারা)”। বরিশাল প্রেসকাবের সদস্যপদ প্রদানের লক্ষ্যে ৩/৪ (তিন
    চতুর্থাংশ) অংশ হ্যাঁ সূচক ভোট পাবার পর সদস্য পদ প্রদানের বিধানের স্থলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সদস্য পদ প্রদানের বিধানের ব্যবস্থা করতে হবে (প্রেস কাবের গঠনততন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২ এর ধারা ৩)”। প্রেসকাবের সদস্য পদ পাবার পরে তিন বছর অতিক্রম না হলে কোন সদস্য বা সদস্যরা প্রেসকাব নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না-এমন বিধান বাতিল করে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারার বিধান করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৩ এর ধারা ৩)”। প্রেসকাব নির্বাচন প্রতি বছর না করে ২ বছর পর পর করার বিধান করতে হবে, সেক্ষেত্রে কার্যকরী পরিষদের মেয়াদকাল ১ বছরের পরিবর্তে ২ বছর করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৪ এর ধারা ২)”। পরপর ২ বছর কোন সদস্য সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতির দায়িত্ব পালন করলে পরের বছর প্রেসকাবের নির্বাচনে ওই পদে অংশগ্রহণ না করতে পারার বিধান বাতিল করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৩ এর ধারা ২)”। প্রেসকাবের নির্বাচনে যেসকল প্রার্থী নির্বাচিত হবেন তাদের দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে শপথ বাক্য পাঠের বিধান গঠনতন্ত্রে সংযোজন করতে হবে। শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত হওয়ায় ওই দিন তার শাহাদৎবরণ দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, স্মরণসভা ও দু:স্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানটি গঠনতন্ত্রে সংযোজিত করতে হবে। এছাড়া কোন সহযোগী সদস্য দুই বছরের মধ্যে প্রেসকাবের পূর্ণ সদস্য পদ লাভ করতে ব্যর্থ হলে কাবে তার সহযোগী সদস্য পদ বাতিল করা হবে বলে গঠনতন্ত্রে অগণতান্ত্রিকভাবে ধারা/উপধারা সন্নিবেশিত করে সহযোগী সদস্যদের স্বার্থ পরিপন্থী গঠনতন্ত্র সংশোধনে পাঁয়তারা চলছে। এছাড়া কথিত বাছাই কমিটির মাধ্যমে কাবের বিদ্যমান গ্রুপিংকে প্রাধান্য দিয়ে খোঁড়া ও অবিশ্বাস্য অজুহাত এনে সিংহভাগ সহযোগী সদস্যদের সদস্যপদ বাতিলের অপর একটি গঠনতন্ত্র পরিপন্থী প্রক্রিয়া চলমান আছে। প্রকাশ থাকে যে, এক-দুই বিবাদীগণ উপরোক্ত আলোচ্য বিষয়গুলোতে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ জরুরি সাধারণ সভা বে-আইনিভাবে সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ১১ নভেম্বর আহবান করেছেন। যাহাও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। বাদী পক্ষ আবেদনে গঠনতন্ত্র সংশোধনপূর্বক একটি সাংবাদিকবান্ধব গঠনতন্ত্র না করা পর্যন্ত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের আগামী নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত না হতে পারে বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোন তফসিল ঘোষণা না করতে পারে বা কোন বিশেষ জরুরি সাধারণ সভা আহবান করতে না পারে বা নতুন কোন সদস্য পদ প্রদান করতে না পারে বা সহযোগী সদস্যদের কথিত বাছাই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে না পারে বা বাছাই করার ন্যূনতম কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারে তৎমর্মে বিবাদীদের প্রতিকূলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং অত্র দরখাস্ত শুনানি সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ প্রদান করার আবেদন করেছেন। এ কারণে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের আগামী নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাপারে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা জটিলতার কারণে আসন্ন প্রেসকাব নির্বাচন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আহুত বিশেষ জরুরি সাধারণ সভার আলোচ্যসূচি মামলার নালিশীতে অন্তর্ভুক্ত থাকায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ওই সভা স্থগিত থাকবে।

  • বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেলের শিশু বিভাগ শয্যা ৪০, রোগী ৩২০

    বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গত ৩০ অক্টোবর গৌরনদী থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছেন মুন্নি বেগম। এসে দেখেন বিছানা খালি নেই। তাই মেঝেতে বিছানা করে অন্য শিশুর সঙ্গে রাখা হয়েছে।
    একই দিন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন রোজিনা বেগম। তিনি বলেন, খালি না থাকায় তিন শিশুর সঙ্গে এক বিছানায় রেখে তার চিকিৎসা চলছে।

    মুন্নি বেগম ও রোজিনা বেগম বলেন, তাঁদের সন্তানেরা হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। উপায় না দেখে সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।
    চিকিৎসকেরা জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ ঠান্ডায় লেগে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দিকাশি নিয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। হাসপাতালে শিশুদের জন্য বিছানা বরাদ্দ আছে ৪০টি। রোগীর সংখ্যা তিন শতাধিক। তাই এক বিছানায় তিন-চারজন শিশুকে রাখা হচ্ছে। মেঝেতেও একই অবস্থা। পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
    হাসপাতালটির শিশুবিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক এম আর তালুকদার মুজিব বলেন, ঠান্ডায় এক থেকে ছয় মাস বয়সের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ভর্তি ছিল ৩২০ জন শিশু। এত বেশি শিশুর চিকিৎসা দেওয়া খুব কঠিন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একটি বিছানায় তিন থেকে চারটি করে শিশু রাখা হয়েছে। মেঝেতে একেকটি বিছানায় দুই থেকে তিনজন করে শিশু আছে। মেঝেতে বিছানা করায় পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। এর মধ্যেই কাজ করছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।
    শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ও পরিচালকের কার্যালয়ে থাকা তালিকা থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি হওয়া ৩০ শিশুকে বাদ দিলে বাকি ২৯০টি শিশু শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি ও বুকে কফ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

    সেবিকা হাসিনা খানম বলেন, স্বাভাবিক সময়ও বিছানার তুলনায় কয়েক গুণ শিশু বেশি ভর্তি থাকে। কিন্তু সেটা দুই শর বেশি হয় না। গত ১০ দিনে শিশু রোগীর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়ে গেছে।

    সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকা থেকে আসা জুয়েল রানা বলেন, হাসপাতালে বিছানা নেই, মেঝেতেও জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে এক বিছানায় দুই শিশুর পাশে আমার শিশুকে রেখেছি। জ্বর, কাশি ও বুকে কষ্ট হচ্ছিল। এখন একটু ভালো।’

    রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা বেগম বলেন, সোমবার রাতে দুই মাস বয়সের শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখে সহ্য করতে পারছিলেন না। দ্রুত হাসপাতালে আসেন তিনি।
    জানতে চাইলে হাসপাতালের বহির্বিভাগের দায়িত্ব পালন করা শিশু বিশেষজ্ঞ সালেহ আল-দ্বীন-বিন নাসির রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২০০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের বেশির ভাগই ভাইরাসে আক্রান্ত। অনেককেই অন্তর্বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ে শিশুদের উষ্ণ রাখার চেষ্টা করতে হবে। বাইরের ঠান্ডা যেন শিশুর শরীরে না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রয়োজনে হাত-পা মোজা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। রাতে যাতে শিশুর ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

  • বরিশাল বোর্ডে শিক্ষকসহ বহিষ্কার ১৫

    বরিশাল বোর্ডে শিক্ষকসহ বহিষ্কার ১৫

    জেএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডে ১৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ১৭২টি কেন্দ্রে ৩৪৪৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বরিশাল জেলায় ১০২৫ জন, ঝালকাঠি জেলায় ৩৪১ জন, পিরোজপুর জেলায় ৪০৬ জন, পটুয়াখালি জেলায় ৬৮৫ জন, বরগুনা জেলায় ৩৯১ জন, ভোলা জেলায় ৬শ জন রয়েছে।

    অপরদিকে রবিবার বহিষ্কৃত পরীক্ষার মধ্যে ভোলা জেলায় ১১ জন এবং পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় ১ জন করে রয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম।

    অপরদিকে ঝালকাঠী জেলার নলছিটি উপজেলায় বি.জি ইউনিয়ন একাডেমি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন- কুশঙ্গল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃণাল কুমার মন্ডল ও ডেবরা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।

  • তৃতীয় দিনে বরিশালে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয়কর আদায়

    তৃতীয় দিনে বরিশালে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয়কর আদায়

    করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা জমে উঠেছে বরিশালে। শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) মেলার তৃতীয় দিন শেষে বরিশাল বিভাগে সর্বমোট আয়কর আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ২৫২ টাকা। পাশাপাশি তিনদিনে সেবা গ্রহণ করেছেন ২৬ হাজার ৯৮৪ জন করদাতা।

    এছাড়াও মেলা থেকে প্রাপ্ত রির্টানের সংখ্যা দুই হাজার ৩৩৫টি এবং ১৩৮ জন নতুন টিআইএন গ্রহণ করেছেন। আয়কর মেলার দ্বায়িত্বে থাকা বরিশাল কর অঞ্চলের সহকারী কর কমিশনার মো. মেহেদী মাসুদ ফয়সাল এতথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, সপ্তাহব্যাপী এই মেলার প্রথম দিনে বরিশাল জেলায় দুই হাজার ৮২৪ জন করদাতা সেবা গ্রহণ করেছেন। মেলা থেকে মোট ৪৯১টি রির্টান পাওয়া গেছে। এছাড়াও আদায় করা হয়েছে ২০ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন টিআইএন গ্রহণকারীর সংখ্যা ৩২ জন।

    মেলার দ্বিতীয় দিনে বরিশাল বিভাগে সেবা গ্রহণকারী করদাতার সংখ্যা নয় হাজার ৮৫২ জন। মেলা থেকে প্রাপ্ত রির্টানের সংখ্যা ৭৯৪টি এবং আদায়কৃত আয়করের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা। নতুন টিআইএন গ্রহণকারীর সংখ্যা ৫৪ জন।

    মেলার তৃতীয় দিনে বরিশাল বিভাগে সেবা গ্রহণকারী করদাতার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০৮ জন। মেলা থেকে প্রাপ্ত রির্টানের সংখ্যা ১ হাজার ৫০টি এবং আদায়কৃত আয়করের পরিমাণ ৭৫ লাখ চার হাজার ৩৩৩ টাকা। নতুন টিআইএন গ্রহণকারীর সংখ্যা ৫২ জন।

    ‘উদ্ভাবনে বাড়বে কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’- স্লোগানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বরিশাল কর অঞ্চলের আয়োজনে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এই আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় এবছর আট হাজার রিটার্নকারী ও দেড় হাজার নতুন করদাতা সংগ্রহসহ ছয় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করার টার্গেট নিয়েছে বরিশাল কর অঞ্চল।

    পাশাপাশি এই মেলায় এক লাখ ২৫ হাজার করদাতাকে সেবাপ্রদান করা হবে। ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়ে আয়কর বিভাগ।

  • বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত

    বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশের ১১তম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাজা নামাজ বরিশালের সরকারী জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার বেলা ১১টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে বরিশালে এসে পৌছায়।
    বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল জিলু স্কুল মাঠে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন মরহুম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ছোট ছেলে শিবলী বিশ্বাস। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের খতিব মাওঃ মির্জা নুরুল রহমান বেগ।

     

    জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচীব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ্এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার, জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র কে এম শহিদুল্লাহ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলু, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ এ কে এম জাহাঙ্গির, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান রিন্টু, জেলা দক্ষিন বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড আবুল কালাম শাহীন,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আনিসুর রহমান,মোঃ হোসেন চৌধুরী।

    জানাজা নামাজ শেষে বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তাকে বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোড এলাকার নিজ বাসায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্বাস ভবনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    পরে সেখান থেকে তার মর দেহ বরিশাল বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হেলিকপ্টারযোগে ১২টা৪০মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সাবেক রাস্ট্রপতি রহমান বিশ্বাষের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল বিমান বন্দরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের টএকটি হেলিকপ্টারে করে সাবেক রাস্ট্রপতি আঃ রহমান বিশ্বাষের মরদেহ নিয়ে অবতরন করেন।

    সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব এ্যাড.মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা নগরীর জিলা স্কুল মাঠে নিয়ে আসেন।

    এসময় তার মরদেহ যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার,মহানগর আ,লীগ সভাপতি এ্যাড.গোলাম আব্বাস চৌধূরী দুলাল,সাধারন সম্পাদক এ্যাড.একে এম জাহাঙ্গির ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ কাদে করে জানাযা নামাযস্থলে নিয়ে আসেন।

     

    উল্লেখ শুক্রবার রাত আটটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

    পরে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। নয়াপল্টনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আবদুর রহমানের তৃতীয়, এরপর সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় চতুর্থ এবং গুলশান আজাদ মসজিদে সর্বশেষ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে দাফন করা হবে বলে জানাগেছে।

    আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
    আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। পেশা জীবনের শুরু হয়েছিল স্থানীয় সমবায় ব্যাংকে। পরে ১৯৫০ এর দশকে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে বরিশাল বার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    আইয়ুব খানের শাসনামলে মুসলিম লীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতিতে আসেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন তিনি।

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৭ সালে বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বরিশাল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসেন জাতীয় সংসদে।

    ১৯৭৯-৮০ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ওই সময় দলে তার পদ ছিল ভাইস চেয়ারম্যান।

    এইচএম এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসে। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রথমে স্পিকার ও পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান।

    রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ দিকে ১৯৯৬ সালের মে মাসে অভুথ্যান চেষ্টার অভিযোগ তখনকার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিমসহ তার অনুগত ১৫ সেনা কর্মকর্তার শাস্তির বিষয়টি ছিল দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

  • বিধান সভার স্পীকারের বরিশাল সিটি করপোরেশন পরির্দশন

    বিধান সভার স্পীকারের বরিশাল সিটি করপোরেশন পরির্দশন

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধান সভার স্পীকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,‘ কিছু কিছু রাষ্ট্র বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করাতে চাচ্ছে। তবে তা পারবে না এবং সম্ভব না। ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আজীবন সুদৃঢ় থাকবে। কেননা বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং রক্তের।’ তার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের মানুষ বেশ সচেতন আর এখানকার সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালীও। গতকাল শনিবার বরিশাল সিটি করপোরেশন পরিদশন করে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন। পরে তাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র কেএম শহিদুল্লাহ।

    এর পরে বরিশাল সার্কিট হাউসের ভিআইপি করফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ করেন তিনি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এস এম ইকবাল, প্রবীণ আইনজীবি মানবেন্দ্র বটব্যাল, শিশু সংগঠক জীবন কৃষ্ণ দে, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ রায় চৌধুরী, কাজল ঘোষ প্রমূখ।