Category: বরিশাল

  • আনসারের বরিশাল রেঞ্জের উপ মহাপরিচালক মোঃ ফখরুল আলম সাময়িক বরখাস্ত

    আনসারের বরিশাল রেঞ্জের উপ মহাপরিচালক মোঃ ফখরুল আলম সাময়িক বরখাস্ত

    নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল রেঞ্জের আনসারের উপ মহাপরিচালকমোঃ ফখরুল আলম’কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ময়মনসিংহ রেঞ্জে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বরিশাল রেঞ্জের মহাপরিচালক ফখরুল আলম-এর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮ মোতাবেক নাশকতামূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে বিভাগীয় কার্যধারা রুজুর সিদ্ধান্ত সহ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি বিবেচনায় তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার অবশ্যকতার কথা বলা হয়েছে।

    সরকারী কর্মচারী আইন অনুযায়ী ফখরুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে ময়মনসিংহ রেঞ্জে সংযুক্ত থাকবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল আলম ‘কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না’ বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তবে ‘তদন্ত হলে সত্য উদঘটন হবে’ বরে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে অব্যাহতি নিয়ে তিনি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছেন।

  • বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত, আহত ৪

    বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত, আহত ৪

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীর সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে চারজন আহত ও এক শিশু নিহত হয়েছে।

    আহতদের মধ্যে দুই জনকে উপজেলা হাসপাতালে ও দুই জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হযেচে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহম্পতিবার আগৈলঝাড়া উপজেলার বড়মগড়া এলাকায়।

    আগৈলঝাড়া থানার ওসি আলম চাঁদ জানান, বাগধা গ্রামের সুনীল রায় একটি মাহিন্দ্রা থেকে নেমে দ্রুত রাস্তা পারাপারের সময় পয়সারহাট থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রী উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট গ্রামের পবিত্র নট্টর মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী পায়েল (৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক বাহেরঘাট গ্রামের সঞ্জিব নট্ট (৩৫), নিহতের মা কবিতা নট্ট (৩০), একই এলাকার বলরাম বিশ্বাসের মেয়ে সাথী বিশ্বাস (২০) ও পথচারী সুনীল রায় (৫৫) আহত হন।

    আহত স্কুল ছাত্রীর মা কবিতা নট্ট জানান, তারা পরিবার নিয়ে একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে কোটালীপাড়া পদ্ম বিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে।

  • ৩ দিনের রিমান্ডে বরিশালের সাবেক এমপি শাহে আলম

    ৩ দিনের রিমান্ডে বরিশালের সাবেক এমপি শাহে আলম

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশানে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় করা মামলায় বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলমের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    রোববার তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসার তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত ১৪ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশানের বাঁশতলা থেকে শাহে আলমকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

    মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই গুলশান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র নাইমুর রহমান গুলশান থানাধীন শাহাজাদপুরে আন্দোলন করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরে নাইমুরের বাবা ১২ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন।

  • চরফ্যাশনে সাপে কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    চরফ্যাশনে সাপে কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    চরফ্যাশন উপজেলার চরকলমী গ্রামের সাপে কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মোহিমা বেগম(৪০) ওবায়েদ উল্লাহ কামাল স্ত্রী চরকলমী ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

    জানা যায়, রবিবার দুপুরে বসত ঘরে তাকে বিষধর সাপ কামড় দেয়া তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত্যু ঘোষনা করেন।

    মাগরিব বাদ জানাযা শেষে তাকে পরিবারিক করব স্থানে দাফন করা হয়। শশীভূষণ থানার ওসি ম. এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন।

  • সাগর উত্তাল, মাছ ধরা বন্ধ-শত শত মাছ ধরা ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে

    সাগর উত্তাল, মাছ ধরা বন্ধ-শত শত মাছ ধরা ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। রবিবার সকাল নয়টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় জেলায় ২২১.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

    টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। বিভিন্ন নিচু স্থানে পানি জমে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

    তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের, পুকুর ও আমন ক্ষেত। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমন চাষী ও বর্ষাকালীন সবজি চাষীরা।

    এদিকে নিন্মচাপের প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে নদ-নদীর পানির উচ্চতা।

    বাতাসের চাপও অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শংকা করছে আবহাওয়া অফিস। তাই পায়রা সহ সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    একই সাথে মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। স্থানীয়রা জানান, নিন্মচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় শত শত মাছ ধরা ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে শিববাড়িয়া নদীর দুই তীরে মৎস্য বন্দর আলিপুর ও মহিপুর আড়ৎ ঘাটে নোঙর করে আছে।

    ঝড়ো হাওয়া আর ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে সকল জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ি এবং শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

    এদিকে লাগাতার বৃষ্টিতে আমন ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে উপজেলার চাকামইয়া, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমন ধানের চারা তলিয়ে আছে।

    দু এক দিনে কৃষি জমিতে আটকে পড়া পানি নিষ্কাশন করা না হলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

    মৎস্য ব্যবসায়িরা জানান, বর্তমানে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই সকল মাছ ধরা ট্রলার নিরাপদে আশ্রয়ে এসেছে। মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে মাছ ধরার বেশির ভাগ ট্রলার আড়ৎ ঘাটে নোঙর করা রয়েছে।

    আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এসব জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এছাড়া বারবার লঘুচাপ ও নিন্মচাপের কারনে মৎস্য ব্যবসায় শত কোটি টাকার লোকসান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

    এই অবস্থা চলতে থাকলে মৎস্য ব্যবসায়িরা পেশার পরিবর্তণ করতে বাধ্য হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

  • সাবেক এমপি শাহে আলমকে থানায় দিলো  জনতা

    সাবেক এমপি শাহে আলমকে থানায় দিলো জনতা

    বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহে আলম তালুকদারকে মারধরের পর থানায় দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।

    শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে রাজধানীর গুলশান থানায় সোপর্দ করেন তারা।

    গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিয়াজুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, শাহে আলমকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে, চাঁদার দাবিতে হামলা মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে শাহে আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সৈয়দ আতিকুর রহমান নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। মামলায় শাহে আলমের সঙ্গে তার তিন ভাইসহ ১৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন সুলতানা সুমি অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে বরিশাল, খাল ভরাটকে দুষছেন বাসিন্দারা

    সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে বরিশাল, খাল ভরাটকে দুষছেন বাসিন্দারা

    অনলাইন ডেস্কঃ ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি খাল খনন এবং ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার অব্যাহত থাকলেও কোনোভাবেই জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ মিলছে না বরিশাল নগরীর বাসিন্দাদের। এজন্য খাল ভরাট করে সড়ক ও মার্কেট নির্মাণকে দায়ী করছেন নগরবাসী।

    সাগরে নিম্নচাপের কারণে গতকাল শনিবার থেকে আজ রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে আবার কখনও মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর বটতলার মোড় থেকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি। এ সড়কের সঙ্গে থাকা ২০টির বেশি শাখা সড়কও পানিতে ডুবে আছে। একইভাবে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

    নগরীর বটতলাবাসী বিদ্রুপ করে বলেন, ‘আকাশে মেঘ আসলেই সেখানকার সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। নগরীর কোথাও পানি না থাকলে বৃষ্টি হলে সেখানে পানি জমবেই। এ অবস্থা চলে আসছে খাল ভরাটের পর থেকে। বটতলা মসজিদ মোড় এলাকায় খাল ভরাট করে জেলা পরিষদ গড়ে তুলেছে বহুতল মার্কেট। এরপর খাল ভরাট করে সরু ড্রেন করা হয়েছে। এতে করে বৃষ্টির পানিতে ড্রেন ভরে তা সড়কে সয়লাব হয়।’

    প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে সংযোগ ভাটার খালটি জিলা স্কুলের সামনে থেকে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বটতলা ও চৌমাথা হয়ে সাগরদী খালের সঙ্গে মিশেছে। ওই সময় ভারী বর্ষণে কোনোদিন ওই এলাকায় পানি জমেনি। কিন্তু খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ওই সড়কের পানির চলে যায় ১৫ থেকে ২০টি শাখা সড়কে। যার ফলে বাসা থেকে বের হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি থাকে না। এজন্য সিটি করপোরেশন থেকে ড্রেন পরিষ্কার করানো হলেও তাতেও মিলছে না সমাধান। বৃষ্টিতে কোথাও পানি না জমলে আমাদের এলাকায় পানি থাকবেই। আর এ কারণে জলাবদ্ধতার খবর নিতে সাংবাদিকরাও ভিড় করেন এ এলাকায়।’

    নগরীর কাউনিয়া সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা মো. অলি বলেন, ‘বোঝার পর থেকেই আমি আমাদের এলাকার সড়ক বছরের বেশির ভাগ সময় পানির নিচে দেখে আসছি। ভারী বৃষ্টির প্রয়োজন হয় না, সামান্য বৃষ্টি হলেও সড়কটি পানির নিচে চলে যায়। বর্তমানে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কে থাকা পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে দুর্গন্ধময় পরিবেশ বিরাজ করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ওই পানি পেরিয়ে মসজিদে যাওয়ার পর কারও অজু থাকে না। আবারও অজু করে নামাজে দাঁড়াতে হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে এক যুগের বেশি সময় ধরে সিটি করপোরেশনের দ্বারস্থ হলেও আজ না কাল এভাবে বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা এলাকাবাসী ওই পানিতে চলাচল করতে করতে এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’ একই কথা জানালেন সেখানকার বাসিন্দারা।

    সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মো. তুহিন জানান, তাদের এলাকায় একসময় খাল ছিল। সেই খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণের পর থেকে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় পানিতে সয়লাব থাকে। একই অবস্থা কালুশাহ সড়কেরও। সেখানে তৃতীয় এবং পঞ্চম পরিষদের দুই মেয়রের বাসভবন হওয়া সত্ত্বেও বৃষ্টি হলে ওই সড়ক দিয়েও চলাচল কষ্টকর হয়ে যায়। একইভাবে পানিতে তলিয়ে থাকে পলিটেকনিক সড়কও। এ জলাবদ্ধতা নিয়ে বহু নিউজ হয়েছে। কিন্তু তাদের দুর্ভোগ আজও কমেনি বলে জানালেন তুহিন।

    নগরীর বাসিন্দা আলফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ড্রেন পরিষ্কার থেকে শুরু করে খাল খননে কিছু সমস্যা কেটেছে। তবে কীর্তনখোলা নদীতে জোয়ারের পানিতে বেশির ভাগ সময় নগরীতে পানি ওঠে যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় জোয়ার ও বৃষ্টি একসঙ্গে হলে। তখন হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। অবশ্য বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলায় এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’ এ পানি থেকে কবে নিস্তার মিলবে তার সদুত্তরও কেউ দিতে পারছে না বলে জানালেন আলফাজ।

    বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে নগরীর কালুখা বাড়ির বাসিন্দা মো. মিরাজ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমতলার মোড় থেকে শুরু করে কালুখার বাড়ি এবং সিকদাপাড়া সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। আগে স্বাধীনতা পার্কটি একটি ধানি জমি ছিল। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকা ছিল নিচু জমি। এরসঙ্গে বেশ কিছু বড় বড় পুকুর ছিল। তা ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারনে সামান্য থেকে ভারী বৃষ্টি, যা হোক না কেন সড়ক থাকে পানির নিচে। আর এ অবস্থা শুরু হয় সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ভবন বৃদ্ধির কারণে।’

    ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুস্তুম আলী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে বেড়েছে পানির সঙ্গে যুদ্ধ। ভারী বর্ষণ এবং কীর্তনখোলায় জোয়ারের পানি এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। আর সেই পানি সরতে অনেকদিন সময় লাগে। বছরের বেশির ভাগ সময় ওই পানি দিয়েই চলাচল করতে হয়। ছেলেমেয়ের স্কুল, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের একই অবস্থা।’

    এদিকে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাল ভরাট করে নগরীতে নির্মাণ করেছে বহুতল মার্কেট ও সড়ক। আর এতেই নগরে বাড়ছে জলাবদ্ধতা।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা, খাল খনন না করা, জলাশয় ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১০ সালের মাস্টারপ্ল্যানে নগরীতে ৪৬টি খালের নাম পাওয়া গেলেও এখন কোনোমতে অস্তিত্ব টিকে আছে মাত্র ৭টির। আর নগরীতে বর্তমানে জলাশয় টিকে আছে মাত্র ১০ শতাংশ। ফলে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহের জায়গা না থাকায় এ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন। সেখানে ৩০টি ওয়ার্ড রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমবেশি পানি থাকে। দীর্ঘদিন পর এ বছরের শুরুর দিকে ৭টি খাল খনন করা হয়। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তাতেও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর।’

    সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে ৭টি খান খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রেনে যাতে পানি আটকে না যায় এ জন্য ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।’

    শহর রক্ষা বাঁধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এ ব্যাপারে কেউ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে না। তবে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনায় রয়েছে।’

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘কীর্তনখোলা নদীর পানি বাড়েনি। বিভিন্ন সময় সমীক্ষা চালিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সমস্যা দেখা দিয়েছে নগরীর খাল, ডোবা, নালা ও পুকুর ভরাট করে বহুতল বাড়ি থেকে শুরু করে সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ কারণে নদী ও বৃষ্টির পানি জায়গা না পেয়ে সড়ক প্লাবিত করছে। নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় ইতোমধ্যে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৭টি খাল খনন করা হয়েছে। এতে করে জলাবদ্ধতা অনেক কমে এসেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কীর্তনখোলা নদীর নগরীর প্রান্তে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ। বাঁধটি দেওয়া গেলে বিভিন্ন সময় বৃষ্টির সঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নগরী প্লাবিত হয়। সে থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব ছিল। এর সঙ্গে ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিবছর নগরীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পুনঃখনন অব্যাহত রাখতে হবে। সেজন্য সিটি করপোরেশনকেও এগিয়ে আসতে হবে।’ তারা সাহায্য চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাহায্য করতে প্রস্তত বলে জানান তিনি।

  • সবার সহযোগিতায় নতুন বরিশাল উপহার দিতে চাই : নতুন জেলা প্রশাসক

    সবার সহযোগিতায় নতুন বরিশাল উপহার দিতে চাই : নতুন জেলা প্রশাসক

    বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, আমি ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চাই। আমি দিতে এসেছি, আর নেয়ার দায়িত্ব আপনাদের।

    আমি চাই সকলের সহযোগিতায় নতুন বরিশাল উপহার দিতে।
    রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    আমি দুর্নীতিকে সহ্য করবো না জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যতদিন আছি বরিশালে জনগণের স্বার্থ ছাড়া ব্যক্তি স্বার্থের কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। আর গুণগত মান নিশ্চিত করে যথাসময়ে প্রকল্প শেষও করতে হবে। আমি চাই প্রকল্পের বিষয় জনগণ থেকে শুরু করে সবাই অবগত থাকবে, তাই প্রকল্প স্থলে পুরো কার্যক্রম সাইনবোর্ডে টানিয়ে দেয়া হবে।

    সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আমার কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ছাত্র আন্দোলনের স্পিরিট টাকে ধরে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।

    মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক গৌতম বাড়ৈ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনদীপ ঘরাই, বরিশাল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, বরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির, ইত্তেফাকের বরিশাল ব্যুরো প্রধান শাহিন হাফিজ, রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক সৌরভ, নাগরিক টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান তন্ময় তপু প্রমুখ।

  • আমু ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক, আলোচনায় তার পালিত মেয়েও

    আমু ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক, আলোচনায় তার পালিত মেয়েও

    গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের দায়ের করা প্রথম তিনটি মামলায় আসামি করা হয়নি সাবেক এমপি আমির হোসেন আমুকে। ১৪ দলের এই সমন্বয়ক ঝালকাঠিতে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক।

    অর্থবিত্তে ঠিক কতটা ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন সাবেক এমপি আমির হোসেন আমু তা জানা সম্ভব না হলেও তার সঙ্গে থাকা ছোট নেতারাও বনে গেছেন কোটিপতি। ৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত দোর্দণ্ড প্রতাপে ঝালকাঠি শাসন করা এই আওয়ামী লীগ নেতার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানে না কেউ। তার বিত্তের ভান্ডার দেখাশোনা করা ফখরুল মজিদ কিরনও আত্মগোপনে। সম্পর্কে ভায়রা এই কিরনের মাধ্যমেই ঠিকাদারি আর চাকরিসহ সব সেক্টর থেকে পার্সেন্টেজ আদায় করতেন আমু। যার সর্বশেষ চালানের পাঁচ কোটি টাকা ৫ আগস্ট রাতে উদ্ধার হয় ঝালকাঠি শহরের রোনালস রোডে থাকা সাবেক এই মন্ত্রীর বাসভবন থেকে। ওই ঘটনায় সেফ্র একটি সাধারণ ডায়রি করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ৩৫ দিনেও।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমুর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কখনোই পায়নি কেউ। মৃদু প্রতিবাদেও ধ্বংস হয়ে যেত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। কেবল আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি নেতারাও ভয়ে কখনো কথা বলত না তার বিরুদ্ধে। যেন সবার কাছেই জ্যান্ত আতঙ্ক ছিলেন ১৪ দলের সমন্বয়ক এই নেতা। হাসিনা সরকারের পতনের পর ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের করা প্রথম তিনটি মামলায় আসামি করা হয়নি তাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে ২ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া সর্বশেষ মামলায় অনেকটা দায়সারাভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় তার নাম। তাও সেই মামলার বাদী হননি বিএনপির দায়িত্বশীল কেউ।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ঝালকাঠির একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘ক্ষমতার আমল কেবল নয়, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আমু প্রশ্নে নেতিবাচক কিছু বলার সাহস পেত না কেউ। অথচ ঝালকাঠিতে হেন দুর্নীতি নেই যা করেননি এই নেতা। সব দপ্তরের ঠিকাদারি কাজে নির্দিষ্ট অঙ্কের পার্সেন্টেজ দিতে হতো তাকে। টিআর কাবিখা আর সংসদ-সদস্যদের নামে বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নিতেন টাকা।’

    নলছিটি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে গত বছর নৈশপ্রহরী, অফিস সহকারী ও আয়া পদে তিনজন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে আমির হোসেন আমুর নির্ধারিত প্রতিনিধিকে। কেবল আমি নই, সব বিদ্যালয়সহ সব ধরনের নিয়োগেই ছিল একই নিয়ম।’

    ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যত ধরনের ঠিকাদারি টেন্ডার, সব ক্ষেত্রেই আমুকে দিতে হতো টাকা। ঠিকাদার নির্বচান প্রশ্নেও তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। ই-টেন্ডার চালু হওয়ার পরও নানা কৌশলে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। কথা না শুনলে কেবল বদলি নয়, শারীরিক মানসিকভাবেও হতে হতো হেনস্তা।’ সড়ক বিভাগের মতো এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর, গণপূর্ত, থানা প্রকৌশলী এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল একই অবস্থা।

    বেপরোয়া এই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে গত ১৬ বছর ধরে শত শত কোটি টাকা আয় করলেও দেশে আমির হোসেন আমুর তেমন কোনো সম্পদের সন্ধান মেলেনি। ঝালকাঠির রোনালস রোডে ভবন, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে প্রাসাদসম আলীশান বাড়ি এবং রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে বেশ বড়সড় একটি বাগানবাড়ি রয়েছে তার।

    আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর তেমন একটি ভরসা ছিল না তার। অথবা এমনও হতে পারে যে ব্যাংকে গেলে ছিল ধরা পড়ার ভয়। বস্তায় বস্তায় টাকা তিনি রাখতেন বাড়িতে। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট। বিক্ষুব্ধ জনতা ওইদিন হামলা ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয় তার রোনালস রোডের বাড়িতে। ভাঙচুর চলাকালেই বহু মানুষকে দেখা গেছে বাড়ি থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে বের হতে। তারপরও আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে কয়েক বস্তা ভর্তি টাকা। গোনার পর যার সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ কোটিরও বেশি। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। ঝালকাঠির মতো বরিশাল নগরীতে থাকা আমুর প্রাসাদেও হামলা ভাঙচুর হয় সেদিন। সেখান থেকেও বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে বের হয় হামলাকারীরা।

    যার বাড়িতেই থাকে বস্তা বস্তা টাকা সেই মানুষটার দেশে মাত্র তিনটি বাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই- ভাবতেই যখন খটকা লাগে ঠিক তখনই আলোচনায় আসে তার পালিত মেয়ে সুমাইয়া হোসেনের নাম। ব্যক্তি জীবনে নিঃসন্তান আমু তার শ্যালিকা মেরী আক্তারের কন্যা এই সুমাইয়াকে পালক হিসেবে নেন আরও বহু বছর আগে। বর্তমানে দুবাইতে থাকা এই সুমাইয়ার বিয়েও হয়েছে দুবাই প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে। অবৈধ পন্থায় আয় করা শতকোটি টাকা ওই মেয়ের কাছে পাঠিয়েছেন আমু, এটাই আলোচনা ঝালকাঠি শহরে।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে টাকা পেতেন না আমু। সব টাকাই নগদে পৌঁছাত তার কাছে। লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে কাজ করতেন ভায়রা ফখরুল মজিদ কিরন। এই কিরনও ছিলেন একটি রহস্যময় চরিত্র।

    শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে আমুর এপিএস ছিলেন কিরন। সর্বশেষ সরকারে আমুকে মন্ত্রী করা না হলেও তার সংস্পর্শেই থেকে যান তিনি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো আমুর পাশাপাশি সদ্য সাবেক সরকারে দায়িত্ব পালন করা শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনেরও এপিএস ছিলেন কিরন।

    ঝালকাঠির বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আলোচিত এই কিরনের বাড়ি ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলায়। সর্বশেষ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনের আপন ছোট ভাই কিরন তার নিজের এলাকা বাদ দিয়ে পড়ে থাকতেন ঝালকাঠি। কেবল সম্পদ ভান্ডারের দেখাশোনা আর পার্সেন্টেজ আদায় নয়, নির্বাচনি এলাকায় আমুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতেন তিনি।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো কিরনের। উন্নয়নমূলক সব কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতেন তিনি। তার কথার বাইরে বলতে গেলে এক পা-ও চলতেন না আমু। পরিস্থিতি এমন ছিল কিরন যেন ছিলেন আমুর ছায়া। এই কিরনের মাধ্যমেই নির্বাচনি এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন আমু। যার প্রায় পুরোটাই এখন দুবাইতে তার মেয়ে সুমাইয়ার কাছে আছে বলে ধারণা সবার। এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য আমু ও কিরনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি কাউকে। মোবাইলে খুদে বার্তা দিয়েও মেলেনি উত্তর।

    ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, সাবেক এমপির বাসা থেকে পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আমরা একটি সাধারণ ডায়রি করেছি। টাকা জমা আছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

  • ভোলায় অস্ত্রের মুখে ঠিকাদারের কাছে যুবলীগ কর্মীর চাঁদা দাবি

    ভোলায় অস্ত্রের মুখে ঠিকাদারের কাছে যুবলীগ কর্মীর চাঁদা দাবি

    ভোলা সদর উপজেলায় মো. জুলফিকার আহমেদ জুয়েল নামের এক ঠিকাদার তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছেন মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ মো. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় চাঁদাবাজি মামলায় অভিযুক্ত কবিরকে ধারালো ছুরিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কবির ভোলা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকার আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে ও যুবলীগের কর্মী।

    রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর তাকে ধারালো ছুরিসহ আটক করে ভোলা সদর থানা পুলিশ।

    মামলার বাদী ঠিকাদার জুলফিকার আহমেদ জুয়েল ও মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে টিকাদারি কাজ করার সময় অভিযুক্ত মো. কবির হোসেন তার কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছে কিন্তু তাকে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে রাতের আঁধারে ও প্রকাশ্য দিবালোকেও মালামাল চুরি ও লুট করে নিয়ে যায় কবির। কবির স্থানীয় চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।

    এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কেউ বিচার করতে পারেনি। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর তার কাছে পুনরায় ৫০ হাজার চাঁদা দাবি করে কবির। তার দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের সদর রোডের কর্মকার ফার্মেসির সামনে প্রকাশ্যে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে চাঁদা দাবি করে।

    একপর্যায়ে কবির হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করতে গেলে ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে কবির তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

    এ ঘটনায় তিনি প্রাণ রক্ষায় ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আলোকে সন্ধ্যার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কবিরকে ছুরিসহ গ্রেফতার করে।

    জুলফিকার আহমেদ আরও জানান, ভোলা পৌরসভার প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় যুবলীগের দাপট দেখিয়ে শহরের ওয়েস্টার্নপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল কবির। এমনকি সে নিজে মাদক সেবন ও বিক্রি করত। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরও তার এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি।

    ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান পাটওয়ারী জানান, ঠিকাদার জুলফিকার আহমেদের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মো. কবির হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার কাছ থেকে ধারালো একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে।