Category: বরিশাল

  • বরিশালে জমা হয়নি ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র

    বরিশালে জমা হয়নি ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র

    বরিশালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ দিন মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত মোট ৩২৪টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে ৩৬৪টি। সে অনুযায়ী এখনো ৪০টি অস্ত্র জমা হয়নি। এগুলো উদ্ধারে যৌথবাহিনী পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ফজলুল করীম জানান, মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ১৪১টি অস্ত্রের লাইসেন্সের মধ্যে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত মহানগরীর চারটি থানায় মোট ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা হয়েছে।

    বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলার ১০টি থানায় অস্ত্র জমা পড়েছে ৮৩টি। তার আগেই ১৫০টি অস্ত্র জমা ছিল।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘জেলা ও মহানগর এলাকায় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যক্তি পর্যায়ে ৩৬৪টি লাইসেন্স দিয়েছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এর মধ্যে বেশিরভাগ লাইসেন্সের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা বা অনুসারীরা।

    গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগ করেন। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান দলের নেতারাও।

    এরই মধ্যে বরিশালে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। যাদের অনেকের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। তারা আত্মগোপন এবং গ্রেপ্তারের ভয়ে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে পারেননি বলে ধারনা সংশ্লিষ্টদের।

  • ভোলায় টাকা না পেয়ে মাকে হত্যা, ঘাতক ছেলে আটক

    ভোলায় টাকা না পেয়ে মাকে হত্যা, ঘাতক ছেলে আটক

    বরিশালের ভোলায় টাকার জন্য নুর জাহান বেগম নামে এক মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে ভুট্টো ওরফে শিপনকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ভোলা সদর হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। নিহত নুর জাহান বেগম ভোলা পৌর কাঁঠালি এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর জাহান বেগম প্রায় ৩০ বছর ধরে পৌর কাঁঠালি এলাকার হাওলাদার বাড়িতে পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সে সুবাধে তিনি হেলাল কাউন্সিলরের পুরাতন বসতঘরে ছেলেকে নিয়ে থাকতেন।

    সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভুট্টো তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা-ছেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রথমে কাঠ দিয়ে মাকে পিটিয়ে আহত ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে।

    ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, এ ঘটনায় নিহত নূরজাহানের বোনের ছেলে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টা অভিযোগে যা বললেন ববির শিক্ষার্থীরা

    রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টা অভিযোগে যা বললেন ববির শিক্ষার্থীরা

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর বুধবার (০৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী এক গরিব বাসচালককে জিম্মি করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযোগ করে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুজন চাঁদাবাজের পক্ষ নিয়ে রাত ১২টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসযোগে একদল শিক্ষার্থী এসে বটতলায় সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়।

    পাল্টা অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সোমবার নগরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পরিবারের বিরোধীয় সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় হুমকি এবং তাদের এক সহপাঠী ও তার মাকে হেনস্তা করেন বিএম কলেজের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাফি। খবর পেয়ে ববি শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে হাজির হলে রাফিসহ তার সহযোগীদের হামলার শিকার হয়। এরপর মঙ্গলবার রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে দুই সহপাঠীকে মারধর করে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনটি বাসে চড়ে ববি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে নগরের বটতলা এলাকার দিকে রওনা দেন। একটি বাস নগরীর বটতলা এলাকায় পৌঁছানোর পথে শিক্ষার্থীবোঝাই বাসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। তখন ববি শিক্ষার্থীরা বিএম কলেজ অভিমুখে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বহু শিক্ষার্থীকে আহত করা হয়।

    এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে বিএম কলেজ প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ডিন ড. মো. শফিউল আলম।

    অপরদিকে সকাল সা‌ড়ে ৬টার মধ্যে বিএম ক‌লেজ এলাকা ত‌্যাগ ক‌রে ব‌রিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ব্রজমোহন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থীকে সুস্থ অবস্থায় বুঝে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন।

    বিএম ক‌লেজ অধ্যক্ষ আমিনুল হক ও ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক‌টি পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সেখা‌নে উল্লেখ করা হয়, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ৫/৬ টি গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা বাবদ বিধি মোতাবেক সকল ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দোষীদের শাস্তি প্রদানের অঙ্গীকার করছি। এ বিষয়ে বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জানা গেছে, ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের ওই ছয় শিক্ষার্থী বিএম কলেজে হামলা কর‌তে গি‌য়ে বিএম কলেজের শিক্ষার্থী‌দের কা‌ছে আটক হয়। তা‌দের কলেজের কেন্দ্রীয় মস‌জি‌দে রাতভর আটকে রাখা হয়, প‌রে বিশ্ব‌বিদ‌্যা‌লয় কর্তৃপ‌ক্ষের কা‌ছে হস্তান্তর করা হয়।

    প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন। দুই পরিবারের বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার রাত সা‌ড়ে ১২টা থেকে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে।

  • রাতভর সংঘর্ষের বিষয়ে যা বললেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা

    রাতভর সংঘর্ষের বিষয়ে যা বললেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর বুধবার (০৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    এদিকে মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় আহতরা বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান।

    আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নজরুল হোসেন।

    এদিকে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বলেন, একজন গরিব বাসচালকের কাছে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তাকে জিম্মি করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আরও ২০ হাজার টাকা আদায়কালে দুজন চাঁদাবাজ বটতলা এলাকায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হন। এলাকাবাসীর অনুরোধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে চাঁদাবাজদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ঘটনাক্রমে জানা যায়, চাঁদাবাজ দুজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি বিবেচনা না করে এবং দুজন চাঁদাবাজের পক্ষ নিয়ে রাত ১২টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসযোগে একদল শিক্ষার্থী এসে বটতলায় সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়।

    তখন বরিশালের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানমাল রক্ষার্থে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেস স্টাডি না করেই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঁদাবাজ শিক্ষার্থী দুজনের পক্ষে দেশীয় অস্ত্র এবং ট্রাকভর্তি ইট-পাথর নিয়ে বিএম কলেজে হামলা চালায়।

    এই হামলায় বিএম কলেজের শিক্ষার্থী এবং সহযোগিতায় এগিয়ে আসা অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হন। এসময় সন্ত্রাসীরা বিএম কলেজের পরিবহণ পুলের সব বাস, ড্রাইভারদের রুম, মুসলিম হল, হিন্দু হল এবং মহাত্মা অশ্বীনি কুমার ছাত্রাবাসসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ভাঙচুর করে।

    বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, রাত ১টায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে বাস নিয়ে অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রওনা হওয়ার অনুমতি দেয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এর জবাব চাই। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল তথা দক্ষিণবঙ্গের জ্ঞানের বাতিঘর শতবর্ষী বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলি ছাত্রী হোস্টেলে হামলা করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার নয় ৷ এসময় আশপাশে বিএম কলেজের শিক্ষকদের বাসায়, সাধারণ মানুষদের বাসাবাড়ি এবং দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। এতে করে আতঙ্ক বিরাজ করে কলেজ এলাকায় থাকা সর্বসাধারণের মাঝেও। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গেলে সেখানেও তারা সড়কে বাধা দেন। সংঘর্ষের সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হামলাকারীকে আটক করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সবাইকে আমরা নিজেরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রশাসনিকভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী হাতে হস্তান্তর করি।

    এসব অভিযোগ এনে বিএন কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হল- বাস নিয়ে আসা হামলাকারী, বটতলায় চাঁদাবাজকারী, এর পেছনে মদতদাতা এবং উসকানি প্রদান করা সবার সুষ্ঠু বিচার করা; মধ্যরাতে বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলার ফলে যেসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রহণ করা; বিএম কলেজসহ সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে কোনোরূপ হয়রানি না করা; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল শহরে কোনো ধরনের অরাজকতা যাতে সৃষ্টি করতে না পারে সেই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা; কলেজ, সব হোস্টেল এবং সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়া; হামলায় জড়িত সব সন্ত্রাসীকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হলে এর দায়ভার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে।

    ঘটনাটির বিষয়ে বিএম কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ডিন ড. মো. শফিউল আলম।

    প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন। দুই পরিবারের বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার রাত সা‌ড়ে ১২টা থেকে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে।

  • বরিশাল বেলস পার্কের প্রশাসনিক নাম বঙ্গবন্ধু উদ্যান বাতিলের দাবি

    বরিশাল বেলস পার্কের প্রশাসনিক নাম বঙ্গবন্ধু উদ্যান বাতিলের দাবি

    বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কের প্রশাসনিক নাম বঙ্গবন্ধু উদ্যান বাতিল করে শহীদ আব্দুল্লাহ আল আবিরের নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

    বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরের উদ্যান সংলগ্ন বান্দরোডে স্বাধীনতা ফোরাম বরিশালের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

    স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক সোলাইমানের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা ফোরাম বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল আমিন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

    তিনি বলেন, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শতাধিক তরুণ ছাত্র-জনতা যুবকের তাজা প্রাণ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিত বাহিনীর গুলিতে রাজপথেই ঝরেছে। এ রকম হত্যা দেশের ইতিহাসে আর কখনও ঘটেনি।

    তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি রেখে বলেন, আপনারা আজ যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে লড়াই করেনি। তারা জাতীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, সকল মানুষের স্বার্থে এদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আর আন্দোলনে যারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন তরা এ দেশের জাতীয় বীর। তাদের মাথার তাজ বানিয়ে রাখতে চাই।

    তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে আব্দুল্লাহ আল আবির তার বোনকে বলেছিল ‘দেশের এমন সময়ে ঘরে বসে থাকতে পারি না, আমাকে একটি পতাকা দাও’। এ কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তাই এই বরিশালের বেলস পার্কের প্রশাসনিক নাম বঙ্গবন্ধু উদ্যান বাতিল করে শহিদ আব্দুল্লাহ আল আবিরের নামকরণ করা হোক। আর শেখ হাসিনা নয়, বরিশালের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের নামে ক্যান্টনমেন্টের নাম রাখার দাবি জানাই।

    আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আরও বলেন, এই বাংলার মাটিতেই খুনি হাসিনার বিচার কার্যকরের দাবি বর্তমান সরকারের কাছে জানাই।

    মানবনন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, স্বাধীনতা ফোরামের সদস্য সচিব নাজমুস শাকিব, শহিদ আবীরের বাবা মো. মিজানুর রহমান, সাবেক জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি, নুরুল মোমেন কোটন, আনোয়ার হোসেন টিটু, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি মাহফুজুল হক মিঠু, ছাত্রদল নেতা আসিফ আল মামুন, ছাত্রদল নেত্রী অন্যান্য কবীর প্রমুখ।

    পরে শহীদ আব্দুল্লাহ আবিরের নামে ব্যানার টানিয়ে মোনাজাত করেন উপস্থিত স্বাধীনতা ফোরাম নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, ১৯ জুলাই ‍আন্দোলন চলাকালীন ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল আবির। আর ঐতিহ্যবাহী বেলস পার্ককে ‍আওয়ামী লীগ ‍সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু ‍উদ্যান হিসেবে নামকরণ করা হয়।

  • ববি ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বরিশাল

    ববি ও বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বরিশাল

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ১৫৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠা‌নের চার‌টি বাস এবং বিএম কলেজের প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

    রাত সা‌ড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, নগরের বাংলাবাজার এলাকার ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের বাসিন্দা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনুভা চৌধুরী জোয়ার পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে প্রতিবেশী এক পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

    সোমবার রাতে বিএম কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমন্বয়ক পরিচয়ে সেই বিরোধ নিরসনে জোয়ার বাড়ি গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় জোয়া সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। এরপর তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা এলে বিএম কলেজের সেই শিক্ষার্থীরা তাদের মারধর করেন।

    এ ঘটনায় জোয়া গতকাল বরিশাল কোতোয়ালি থানায় অমি, মোস্তাফিজুর রহমানসহ চার যুবকের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ওদিকে মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গতরাত ১০টার দিকে নগরীর বটতলা এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে মারধর করেন।

    এরপর রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে করে ঘটনাস্থলে যান। সে সময় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই বাসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং চালকসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে মারধর করেন।

    এসব ঘটনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা-ভাঙচুর চালান।

    তারা রাত ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিএম কলেজের প্রশাসনিক ভবন, তিন‌টি হল এবং শ্রেণিকক্ষ ভাংচুর করেন। পরে ক্যাম্পাসজুড়ে ভাংচুর করেন ববি শিক্ষার্থীরা।

    রাত পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তারা। এক সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

    তবে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতা‌ধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভোর সা‌ড়ে ৫টা পর্যন্ত সংঘর্ষ হ‌য়ে‌ছে। সকাল সা‌ড়ে ৬টার পর পরিস্থিতি পু‌রোপু‌রি নিয়ন্ত্রণে আ‌সে।

    তবে সকাল ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএম কলেজ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সেনাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।

    বিএম ক‌লে‌জের শিক্ষার্থীরা বলেন, পা‌রিবা‌রিক বিষয় নিয়ে যে সংঘ‌র্ষ হয়েছে তা মেনে নিতে পারছি না। এ ঘটনায় আমা‌দের প্রায় ৪৫ শিক্ষার্থী আহত হ‌য়ে‌ছেন।

    ব‌বি শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী‌কে আট‌কে রে‌খে‌ছিল বিএম ক‌লে‌জের শিক্ষার্থীরা।

    এ‌দি‌কে নিখোঁজ ছয় শিক্ষার্থী‌কে বু‌ঝে পে‌য়ে‌ছেন ভা‌রপ্রাপ্ত ভি‌সি ড. মো. মুহসীন উ‌দ্দীন। বিএম ক‌লেজের অধ্যক্ষ আ‌মিনুল হক ও ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ভা‌রপ্রাপ্ত ভি‌সি মুহসীন উদ্দি‌ন স্বাক্ষ‌রিত এক‌টি যৌথ বিবৃ‌তি বুধবার সকালে এ প্রতি‌বেদকের হাতে আ‌সে।

    সেখা‌নে উ‌ল্লেখ করা হয়েছে, বিএম ক‌লেজ কর্তৃপক্ষ ও সাধা‌রণ শিক্ষার্থী‌দের কাছ থে‌কে বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী‌কে বু‌ঝে নি‌য়ে‌ছে বিশ্ব‌বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিএম কলেজে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের ওই ছয় শিক্ষার্থীকে বিএম ক‌লে‌জে হামলার সময় আটক হয়। ক‌লে‌জের কেন্দ্রীয় মস‌জি‌দে তা‌দের আট‌কে রাখা হয়। প‌রে বিশ্ব‌বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কা‌ছে হস্তান্তর করা হয়।

    বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের বাংলা বিভা‌গের প্রধ‌ান ড. উন্মেষ রায় জানান, হামলায় আহত হয়েছে শতা‌ধিক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩৩ জ‌ন হাসপাতালে ভর্তি।

    সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে‌ছেন ব‌রিশা‌লের সাধারণ মানুষ। তা‌দের আশঙ্কা, এ ঘটনা অ‌নেক দূর গড়া‌বে।

  • বরিশালসহ ৭ মেট্রোপলিটনে নতুন পুলিশ কমিশনার

    বরিশালসহ ৭ মেট্রোপলিটনে নতুন পুলিশ কমিশনার

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশসহ দেশের সাত মেট্রোপলিটন পুলিশে নতুন কমিশনার পদায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. মাহাবুবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    কে কোন মেট্রোপলিটনের কমিশনার হলেন— পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হাসিব আজিজকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি), এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. রেজাউল করিমকে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি),সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত খোন্দকার রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি), ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি), পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অতিরিক্ত ডিআইজি ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো. মজিদ আলীকে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরপিএমপি) এবং ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও সুপারনিউমারারি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত আমিনুল ইসলামকে বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • নববধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

    নববধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

    ঝালকাঠির রাজাপুরের কানুনিয়া গ্রামে যৌতুক দিতে না পারায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নববধূ নাজমা আক্তারকে (১৯) কে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী জাহিদ হোসেন ও তার মা পলাতক রয়েছে।

    সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাজমার মা ফরিদা বেগম ও বোন ময়না বেগম অভিযোগ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই পরীক্ষার্থীকে বিষ খাওয়ানো হয় এবং বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে মারা যায় বলে ওই পরীক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ। নিহত নাজমা পিরোজপুরের কাউখালির গুয়াটন কলেজ এলাকার বৌলাকান্দা এলাকার আবুল বাসারের মেয়ে ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার গুয়াটন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

    অভিযুক্ত স্বামী মুদি দোকানী জাহিদ হোসেন উপজেলার কানুনিয়া গ্রামের আবু বকররের ছেলে। নাজমার মা ফরিদা বেগম ও বোন ময়না বেগম অভিযোগ করে জানান, চলছি বছরের ৮ মার্চ পারিবারিক ভাবে বিয়ে হওয়ার পর থেকে বেশি পরিমানে দামী যৌতুক দিতে না পারায় যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মারধর ও শারিরীক মানসিক নির্যাতন করতো। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজমার স্বামীনও তার শাশুড়ী মিলে মারধরের এক পর্যায়ে তাকে বিষ খাওয়ায় বিষয় নাজমা তার বোন ময়নাকে জানালে তারা গিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    এমনকি নাজমাকে তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হলেও জামাতা বা শ্বশুরবাড়ির কেহ যায়নি। জামাতা জাহিদ মোবাইল জুয়ায় আসক্ত ও নেশাগ্রস্থ বলেও অভিযোগ করে এঘটনার বিচার দাবি করেন নাজমার পরিবার। এ বিষয়ে রাজাপুর থানায় সোমবার সন্ধ্যায় অভিযোগ দিলে পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাজাপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বিপুল জানান, অভিযুক্ত ছেলের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ দেখা গেছে এবং ছেলে ও ছেলের মা পলাতক রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চালু হলো বরিশাল শেবাচিমের বহির্বিভাগের সেবা

    দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চালু হলো বরিশাল শেবাচিমের বহির্বিভাগের সেবা

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার খোলা থাকার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টায় চালু হয়। ফলে সেবা দিতে দেরি হয়।

    এতে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। তবে দেরিতে হলেও চিবিৎসা সেবা চালু হওয়ায় খুশি রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    আরিফ নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘ভোলা থেকে সকাল সকাল এসেছি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য। তবে সাড়ে ৮টায় এসে দেখি টিকিট কাউন্টার বন্ধ। পরে ১০টায় খুলছে। অনেক ভিড় হলেও টিকিট পেয়েছি। এখন ডাক্তার দেখাব।’

    নাবিলা হোসেন নামে আরেক রোগীর স্বজন জানান, ২ ঘণ্টা পর টিকিট কাউন্টার খোলায় ডাক্তার দেখানে পারেনি রোগীরা। তবে ১০টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এখন টিকিট নিয়ে ডাক্তার দেখাচ্ছেন রোগীরা।

    হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে হাসপাতালে সোমবার বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে। তবে মঙ্গলবার সল্প পরিসরে সেবা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসছেন তাদের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের জরুরি সব সেবা চালু রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাবে চিকিৎসকদের থেকে।

  • বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    অনলাইন ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বরিশালের ৫৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সেই সাথে বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও মামলার শিকার হয়েছেন ১৩ জন চেয়ারম্যান।

    আবার কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আত্মগোপনে থাকা অনেক ইউপি চেয়ারম্যানরা গোপনে অফিসে গিয়ে স্বাক্ষর করে আসছেন, কেউ বা সচিবের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করছেন।

    আবার কেউ কেউ গোপনে অফিসে এসে ছবি তুলে গোপনেই চলে যাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী হামলা মামলার ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আসছেন না। সেক্ষেত্রে জেলার ৮৮ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে মাত্র ২৯ জন স্বশরীরে পরিষদে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও নারী ইউপি সদস্য মিলে সহস্রাধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

    কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন সুবিধামত স্থানে। নিজ কার্যালয়ে আসছেন না অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি। এতে জন্মসনদ, মৃত্যুনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোনা প্রকার সেবা পাচ্ছে না নাগরিকরা।

    আলী আশরাফ নামে কলসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জন্মনিবন্ধনের কাজে পরিষদে আসলেও চেয়ারম্যান-মেম্বার কাউকে পাইনি।

    জরুরি প্রয়োজন থাকলেও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছি। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দ্রুত একটি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

    আবুল কালাম নামে আরেক সেবাপ্রার্থী বলেন, জানিনা কতদিন আমাদের এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি করছি। এদিকে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে সচিব ও উদ্যোক্তাদের দেখা গেছে।

    জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বাপ্পি অফিসে আসেন না, রয়েছেন আত্মগোপনে।

    একই অবস্থা আন্দারমানিক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খোকন, বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহে আলম মীর, চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাহাউদ্দিন ঢালী, গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান বেল্লাল মোল্লা, চরএককরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মকিম তালুকদার, চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল বারী (মনির), জাংগালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফরাজী, মেহেন্দিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেঃ হারুন-অর-রশীদ ও জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হাওলাদারের।

    এছাড়া উপজেলার লতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু রাশেদ মনি’র বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মামলা নিয়ে পালাতক অবস্থায় রয়েছেন উলানিয়া (দক্ষিণ) ইউপি চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরী ও উলানিয়া (উত্তর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম জামাল মোল্লা।

    এছাড়া এই উপজেলার ভাসানচর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম চুন্ন অসুস্থ থাকায় তিনি পরিষদে আসতে পারছেন না। উপজেলার দড়িচরখাজুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা রাড়ি গত এক সপ্তাহ আগে স্টক করে ইন্তেকাল করেছেন।

    উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইফসুফ হাওলাদারের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    সাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার সম্প্রতি মাছের ঘের নিয়ে দ্বন্দের জেরে ঘটে যাওয়া ডাবল হত্যা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

    এ ছাড়া আত্মগোপনে রয়েছেন বরাকোটা ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মো: সহিদুল ইসলাম মৃধা, গুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: আওরাঙ্গজেব, হারতা ইউপি চেয়ারম্যান অমল মল্লিক, জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বেবী রাণী দাস, ওটরা ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ. খালেক ও শোলক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হালিম। তবে উপজেলার শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল মাঝি অসুস্থ থাকায় তিনিও পরিষদে যেতে পারছেন না।

    বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরে আলমের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া উপজেলার মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বরিশাল জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় পালাতক অবস্থায় রয়েছেন।

    স্বশরীরে পরিষদে আসছেন না জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান, চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান।

    তবে নিয়মিত অফিস করছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আক্তার-উজ-জামান মিলন। তার দাবী, সব সহ্য করে তিনি পরিষদ পরিচালনা করছেন।

    বানারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ জলিল ঘরামী হামলা ভাংচুরের শিকার হয়েছেন। মামলা খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চাখার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিবুল ইসলাম টুকু।

    এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম শান্ত, ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম। তবে উদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাহাদ আহম্মেদ ননি আমেরিকার সিটিজেন হওয়ায় প্রায় সব সময়ই তিনি দেশের বাহিরে থাকেন।

    এই উপজেলায় পরিষদ চালাচ্ছেন বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্ত্তী, সলিয়াবাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান ও সৈয়দকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন মৃধা।

    গৌরনদী উপজেলার বার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আঃ রব হাওলাদার ও নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা আত্মগোপনে রয়েছেন। নানা কৌশলে অফিস করছেন মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু অফিস, চাঁদশী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাত ও শরিকল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লা। হিজলা উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা পরিষদে আসলেও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসছেন না। তারা হচ্ছেন ধুলখোলা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল ঢালী, হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌফিকর রহমান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত হোসেন হাওলাদার, গুয়াবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান তালুকদার, হিজলা গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মিলন ও মেমানিয়া মোঃ নাসির উদ্দিন।

    মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: জসিম উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানরা নানা কৌশল করে পরিষদে আসছেন। এরা হচ্ছেন বাটামারা ইউপি চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন, চরকালেখা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, কাজিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মন্টু বিশ্বাস, মুলাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু মুসা।

    আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদার আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে অফিস করছেন বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল হোসেন ও রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার। জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আশ্রাফুজ্জামান খান থোকন অফিসে আসেন না। একই ভাবে অফিসে আসছেন না চরামদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাহাব উদ্দিন খোকন, কলসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না। চরাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৫ আগষ্টের অনেক আগেই দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউপির চেয়ারম্যানরা বিশেষ কাজ ছাড়া অফিসে আসছেন না। যেমন দাড়িয়াল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সহিদুল ইসলাম হাওলাদার, দুর্গাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো: হানিফ তালুকদার, ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম শফিকুর রহমান, গারুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম কাইয়ুম খান, কবাই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল হক তালুকদার, নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম ফিরোজ আলম খান, পাদ্রিশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল হাসান, রঙ্গশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন। এছাড়া নিয়মিত অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির ও দুধল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোর্শেদ খান।

    বরিশাল সদর উপজেলার কাশীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন মোল্লার বাড়িতে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। একই অবস্থা রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু এলাকায়।

    সেখানে ইতোমধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যানও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন চাঁদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদ হোসেন, চরবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহতাব হোসেন সুরুজ, শায়েস্তাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুজ্জামান মুন্না ও টুংগীবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাদিয়া রহমান।

    অফিস করছেন চন্দ্রমোহন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক, চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো: জিয়াউল করিম ও জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ খান। যে সব জায়গায় চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত রয়েছেন সেখানে কাজ চালিয়ে নিতে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালন করতে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এমন অবস্থায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বরিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাবুগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি এলাকায় আছি, পরিষদেও যাই। যদি সরকার চায় পদে থাকবো, না চাইলে সরে যাবো”।

    বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, গত ৫ তারিখ থেকে অনেক ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের পরিষদ আসার জন্য বলা হয়েছে। অনেকেই সমন্বয় কমিটির মিটিং আসেছেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ বলেন, কর্মস্থলে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছিল। পরে আমরা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছি। যে সব ইউপিতে চেয়ারম্যানরা কোন ভাবেই আসতে পারছে না সেখানে নিবন্ধক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।