Category: বিপিএল

  • টসে জিতে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

    টসে জিতে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

    প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে জিততে হবে বাকি থাকা দুই ম্যাচেই, যার প্রথমটি আবার শক্তিশালী রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। সে ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।

    এখনো পর্যন্ত ১০ ম্যাচ খেলে ৫টি জিতেছে মিরাজের রাজশাহী। সমান ম্যাচে রংপুরের ঝুলিতে জয় ৬ ম্যাচে। তবে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে অগ্রজ সতীর্থর দলকে হারিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ মেহেদি মিরাজ। সে ম্যাচের পুনরাবৃত্তিই করতে চাইবে তারা।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ ওভার শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৭ রান। ১১ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন জনসন চার্লস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ব্যাট করছেন মুমিনুল হক এবং সৌম্য সরকার।

    রাজশাহী কিংস একাদশ: জনসন চার্লস, মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, জাকির হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ, লরি ইভানস, ক্রিশ্চিয়ান জঙ্কার, ফজলে মাহমুদ, কাইস আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আরাফাত সানি এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

    রংপুর রাইডার্স একাদশ: ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, রিলে রুশো, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মোহাম্মদ মিঠুন, নাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ রেজা, মাশরাফি বিন মর্তুজা, নাজমুল ইসলাম অপু, শফিউল ইসলাম এবং শহীদুল ইসলাম।

  • অবশেষে লুইস ঝড়ে কুমিল্লার বড় জয়

    অবশেষে লুইস ঝড়ে কুমিল্লার বড় জয়

    হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে সর্বশেষ কয়েক ম্যাচে ছিলেন অনুপস্থিত। কাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের একাদশে ফিরে প্রথম ওভারেই এক রান নেওয়ার সময় আবার চোট লাগে কুচকিতে। কিন্তু এভিন লুইসের এসবে থোড়াই কেয়ার। কাল ৪৯ বলে ১০৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলার পথে ইনজুরিকে যেমন হারিয়েছেন; তেমনি খুলনা টাইটানসকেও।

    ৮০ রানের সে জয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সেরা চারে থাকার সম্ভাবনা এখন উজ্জ্বল। ৯ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ওপরে চিটাগং ভাইকিংসের সঙ্গী তারা।

    বিপিএল সেঞ্চুরির তালিকায় সবার ওপরে প্রত্যাশিতভাবেই ক্রিস গেইল। পাঁচটি সেঞ্চুরি এই ক্যারিবিয়ান দানোর। অন্য কারো নেই একাধিক সেঞ্চুরি। লুইসেরও শতরানের ইনিংস আছে তবে এবারের বিপিএলে ব্যাট হাসছিল না মোটেই। কুমিল্লার হয়ে খেলা চার ম্যাচে করেন মোটে ৭৯ রান। এরপর তো পড়ে যান ইনজুরিতেই। কাল ফেরার ম্যাচেই যে অমন বিধ্বংসী হয়ে উঠবেন লুইস, কে ভেবেছিলেন!

    প্রথম ওভারে ইনজুরিতে পড়ায় শুরুটা একটু রয়েসয়ে করেন লুইস। তৃতীয় ওভারে পেসার শরিফুল ইসলামকে পর পর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে করেন গা গরম। অন্য প্রান্তে তামিম ইকবালও স্বচ্ছন্দ। সাত ওভারে বিনা উইকেটে ৫৭ রান তুলে ফেলে কুমিল্লা। কিন্তু মাহমুদ উল্লাহর করা পরের ওভারে তামিম (২৫) ও এনামুল হক (০) আউট হলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয় খুলনার। ১১ ওভারে দুই উইকেটে ৮৩ রান করা কুমিল্লার তখন ব্যাটিং উইকেটে দ্রুত রান তোলার তাড়া।

    এর পরই উন্মত্ত হয়ে ওঠে লুইসের ব্যাট। ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরো বেশি করে। ফিফটি করার পর পর মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাদ্দামের ওভারে চার ছক্কায় তোলেন ২৮ রান। অন্য প্রান্তে ইমরুল কায়েসও সঙ্গ দেন দারুণ। ২১ বলে ৩৯ করে অধিনায়ক আউট হওয়ার পরের গল্পটি শুধুই লুইসের। প্রথম ৩১ বলে ফিফটি করা এই ক্যারিবিয়ানের পরের ফিফটির জন্য লাগে ১৬ বল।

    ইনিংসের একেবারে শেষ ওভারে ওই সাদ্দামকে ছক্কা মেরেই পৌঁছান সেঞ্চুরিতে। চার ওভারে ৫৯ রান দেন এই পেসার, বিপিএলে যা সবচেয়ে খরুচে। আর ৪৯ বলে ১০৯ রান করে অপরাজিত থাকেন লুইস। ম্যাচশেষে যে ইনিংসের মুগ্ধতা কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুলের কণ্ঠে, ‘দারুণ ইনিংস খেলেছে লুইস। যা আমাদের দলের জন্য দরকার ছিল; ওর আত্মবিশ্বাসের জন্যও। অনেক দিন ধরেই ও নিজের মতো ব্যাটিং করতে পারছিল না। ও ফর্মে আসায় আমাদের সামনের ম্যাচগুলোর জন্য ভালো হয়েছে।’

    ৮০ রানের সে জয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সেরা চারে থাকার সম্ভাবনা এখন উজ্জ্বল। ৯ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ওপরে চিটাগং ভাইকিংসের সঙ্গী তারা।

    প্রথম ১১ ওভারে ৮৩ রান করা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস শেষ ৯ ওভারে তোলে ১৫৪ রান,তাদের পাঁচ উইকেটে ২৩৭ রান বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু কী আশ্চর্য, প্রত্যেক বোলারকে তুলাধোনা করলেও খুলনার অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ একটি ওভারও করাননি স্পেশালিস্ট বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে দিয়ে। ম্যাচশেষে খুলনার প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা কার্লোস ব্রাথওয়েট অবশ্য এ নিয়ে দলের ব্যাখ্যা দিতে নারাজ, ‘আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। কারণ আমি দলের অধিনায়ক বা কোচ নই।’

    ১০ ম্যাচে মাত্র দুই জয়ে বিপিএল থেকে ছিটকে যাওয়া খুলনার জন্য ২৩৭ টপকে জেতাটা অসম্ভবই। ৫৫ রানের ওপেনিং জুটির পরও। এরপর রানের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। শেষ পাঁচ উইকেট ১৩ রানে হারিয়ে অল আউট হয় ১৫৭ রানে। আলিস আল ইসলামের পর এবারের বিপিএলের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ।

  • মোসাদ্দেকের ব্যাটে চিটাগংয়ের মুখরক্ষা

    মোসাদ্দেকের ব্যাটে চিটাগংয়ের মুখরক্ষা

    বারবারই বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচে। টস হয়েছে দেরিতে। খেলা শুরুও হয়েছে দেরিতে। এর মধ্যে এক ওভার হতেই আবারও বৃষ্টির হানা।

    বেশ কিছুটা সময় বন্ধ রাখতে হয়েছে ম্যাচ। পরে দুই দলের জন্য ১৯ ওভার করে নির্ধারণ করা হয়। এক ওভার কমে আসে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়েছে চিটাগং ভাইকিংস।

    মাত্র ৭০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো একশর নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষদিকে তিনটি করে চার-ছক্কার মারে ২৫ বলে ৪৩ রান করে দলের মুখরক্ষা করেন মোসাদ্দেক। শেষপর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রানে থামে চিটাগংয়ের ইনিংস।

    আর্দ্র আবহাওয়া আর ভেজা পিচে রান করতে রীতিমত ধুঁকেছেন চিটাগংয়ের ব্যাটসম্যানরা। ১৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে মুশফিকুর রহীমের দল। এরপর আর বড় পুঁজির পেছনে ছুটতে পারেনি।

    বৃষ্টির পর খেলতে নেমে সাউফউদ্দিনের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ হন সাদমান ইসলাম। ওই ওভারেই শেষ বলে ইয়াসির আলিকেও এভিন লুইসের ক্যাচ বানান এই অলরাউন্ডার। দুজনই আউট হন শূন্যতে।

    দলের ব্যাটিং ভরসা ও অধিনায়ক মুশফিক শুরুটা করেছিলেন ভালোই। তবে ৭ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৬ রানে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে দুর্দান্ত সুইংয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন ওয়াহাব রিয়াজ।

    এরপর ঝড় তুলতে যাওয়া নাজিবুল্লাহ জাদরান ৮ বলে ১৩ রান করে হন মেহেদী হাসানের শিকার। এরপর শহীদ আফ্রিদি ঝলক। ডেলপোর্ট (৬) আর সিকান্দার রাজাকে (৫) তুলে নিয়ে চিটাগংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নটাও ভেঙে দেন পাকিস্তানি লেগস্পিনার।

    একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাদ। ৩৫ বলে ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৩৩ রান করা এই ব্যাটসম্যানের প্রতিরোধটা ভেঙেছে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে। ১৩ ওভার শেষে ৭০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে আরো চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

    অষ্টম উইকেট জুটিতে অফস্পিনার নাঈম হাসানকে সাথে নিয়ে খানিক লড়াই করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুজন মিলে যোগ করেন ২২ রান। ১৭তম ওভারের শেষ বলে সরাসরি বোল্ড হওয়ার আগে ১৪ বলে ৪ রান করতে সক্ষম হন নাঈম।

    তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন মোসাদ্দেক। শেষদিকে তার ব্যাটেই মূলত একশ ছাড়ায় চিটাগংয়ের দলীয় সংগ্রহ। মোহাম্মদ সাঈফউদ্দীনের করা ১৮তম ওভারে দুই ছক্কার মারে ১৪ রান নেন তিনি। থিসারা পেরেরার করা শেষ ওভারেও দুই চারের মারে ১০ রান নেন মোসাদ্দেক।

    শেষপর্যন্ত তিনি নিজে অপরাজিত থাকেন ৪৩ রান করে, দলের সংগ্রহকে নিয়ে যান ১১৬ রানে। কুমিল্লার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাঈফউদ্দীন, ওয়াহাব রিয়াজ এবং শহীদ আফ্রিদি।

  • রংপুরের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে ঢাকা

    রংপুরের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে ঢাকা

    বিপিএলে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি এবারের আসরের দুই ফেবারিট ঢাকা ডায়নামাইটস আর রংপুর রাইডার্স। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

    চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের এই উইকেটে দুই ম্যাচে আগে বোলিং নিয়ে হেরেছে মুশফিকুর রহীমের চিটাগং ভাইকিংস। এজন্যই বোধ হয় সাকিব আগে বোলিং নেয়ার ঝুঁকিটা নিতে চাইলেন না।

    রংপুর আর ঢাকা; কাগজে কলমে শক্তিশালি দুই দলই, তারকায় ভরপুর। পয়েন্ট তালিকায়ও অবস্থানটা প্রায় কাছাকাছি। ৮ ম্যাচে ৫টি জিতেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে তালিকার তিন নাম্বারে।

    রংপুর রাইডার্স খেলেছে একটি ম্যাচ বেশি। ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে তাদের পয়েন্টও ১০। তবে রানরেটে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার চার নাম্বারে আছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

  • চলে গেলেন গেইল-ম্যাককালাম

    চলে গেলেন গেইল-ম্যাককালাম

    শুধু বিপিএল কেন, বিশ্বের যে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের সেরা আকর্ষণ থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। বরাবরের মত এবারও বিপিএলে তিনি খেলেছেন। প্রথম থেকে না হলেও টুর্নামেন্টের কয়েক ম্যাচ যাওয়ার পরই তিনি এসে যোগ দেন রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে।

    শুধু ক্রিস গেইলই নন, এবারের বিপিএলে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড, এভিন লুইস, পাকিস্তানি আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির কিংবা হাসান আলিরা।

    শেষ পর্যন্ত ক্রিস গেইলই হলেন নায়ক। শেষ তিন ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরিসহ মোট ৪৮৫ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালের মত মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একা ক্রিস গেইলের হাতেই শেষ হয়ে গেছে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস। ৬৯ বলে ১৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে রেকর্ড গড়লেন ১৮টি ছক্কা মেরে।

    গেইলের একার রানই কেবল করতে পেরেছিল ঢাকা। তাদের ইনিংস শেষ হয়েছিল ১৪৯ রানে। গেইল তাণ্ডবের সামনেই উড়ে গেলো ঢাকা। চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর রাইডার্স।

    রংপুরকে চ্যাম্পিয়ন করার পর একদিনও ঢাকায় থাকলেন না ক্রিস গেইল। আজই চলে গেলেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের লজিস্টিক ম্যানেজার রনি জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, আজ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে একই ফ্লাইটে নিউজিল্যান্ডে উড়ে গেলেন ক্রিস গেইল।

    গেইল কেন নিউজিল্যান্ডে গেলেন? ২০ ডিসেম্বর থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজ। সেই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে স্কোয়াডে রয়েছেন গেইল। এ কারণেই তিনি সোজা নিউজিল্যান্ডে উড়ে গেলেন। রংপুরের আরেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়, জনসন চার্লস দেশে ফিরে গেছেন আজ সকালেই।

  • দুর্দান্ত জয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর

    দুর্দান্ত জয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর

    ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারিয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছে রংপুর রাইডার্স। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ক্রিস গেইলের ১৪৬ রানের টর্নেডো ইনিংসের ওপর ভর করে ২০৬ রান করে ঢাকা। জবাব দিতে নেমে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় বিপিএলের চতুর্থ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

    মঙ্গলবার দুপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর রাইডার্স। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি রংপুরের। দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলেই গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে দেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব। যদিও এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রংপুরের। ব্র্যান্ডন ম্যাককালামকে নিয়ে পুরো ২০ ওভার খেলেন গেইল। একই সঙ্গে চলে চার ও ছক্কার ফুলঝুড়ি। ৩৩ বলে অর্ধশতকের পর ৫৭ বলে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৬৯ বলে ১৮ ছক্কা এবং ৫ চারে ১৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন গেইল।

  • মাশরাফি যেন পরশ পাথর!

    মাশরাফি যেন পরশ পাথর!

    মাশরাফি যেন পরশ পাথর! যেখানেই তার হাতের স্পর্শ পড়ে, সেখানেই সোনা ফলে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে জমজমাট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএল মানেই এখন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিপিএল আর মাশরাফি এখন সমোচ্চারিত শব্দ। বিপিএলের ইতিহাসে একমাত্র অধিনায়ক মাশরাফি, যিনি পাঁচ আসরের চারটির ফাইনাল খেলছেন এবং শিরোপা জিতেছেন প্রথম তিনটিতে। আজ রংপুর রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করালেই লিখে ফেলবেন ইতিহাস। হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে এমনিতেই বিপিএলের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন মাশরাফি। এখন অপেক্ষা শুধু সংখ্যাটাকে তিন থেকে চারে উন্নীত করা। আজ সেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। যদি ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর রাইডার্স, তাহলেই মাশরাফি হবেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র বা অদ্বিতীয় ক্রিকেটার, যার নামের পাশে লেখা থাকবে বিপিএলের প্রথম পাঁচ আসরের চারটির চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক। তার অধিনায়কত্বে বিপিএলের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এবং তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন করান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। চার নম্বর আসরে শুধু ফাইনাল খেলতে ব্যর্থ হন।

    এক আসর বিরতি দিয়ে এবার ফের ফাইনাল খেলছেন মাশরাফি। অমায়িক অথচ পর্বতের মতো দৃঢ় চরিত্রের মাশরাফি রংপুরের ফাইনাল খেলাকে দলের সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়েছেন পুরোটা, ‘টুর্নামেন্টের মাঝপথে কখনই মনে হয়নি আমরা ফাইনাল খেলব। কিন্তু এখন আমরা ফাইনাল খেলছি একটি দল হয়ে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, আমাদের ড্রেসিং রুমে বাড়তি কোনো চাপ নেই। সবাই খুব এনজয় করে মুহূর্তগুলো। ’ রংপুর রাইডার্স সিলেট পর্বে বিপিএল শুরু করেছিল জয় দিয়ে। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথে কক্ষচ্যুত হয়ে পড়ে। তখন মনে হয়েছিল সুপার ফোর খেলা কঠিন হবে। যদিও দলের টার্গেট ছিল সুপার ফোর খেলা। লিগ পর্বের শেষ দিকে দারুণ ক্রিকেট খেলে জায়গা নেয় সুপার ফোরে।

    সুপার ফোরে টানা দুই ম্যাচে ক্রিস গেইল ও জনসন চার্লসের সেঞ্চুরিতে যথাক্রমে খুলনা টাইটানস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় ফাইনালে। রংপুরকে ফাইনালে টেনে নিয়ে যান দুরন্ত নেতৃত্ব দিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা। দেশের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়ও। শুধু তার খেলা দেখতেই মাঠে হাজির হন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী। এমনটা আর কোনো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

  • বিপিএলে মাশরাফির আরেকটি মাইলফলক

    বিপিএলে মাশরাফির আরেকটি মাইলফলক

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লিজেন্ড ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিপিএলের পঞ্চম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেটে নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন ম্যাশ।

    দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লার বিপক্ষে বোলিংয়ে নেমে একটি উইকেট নিয়ে এ মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর আগে ৫৮ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ৪৯টি। সোমবার তামিম ইকবালকে আউট করে ৫০ উইকেট শিকারিদের তালিকায় নাম লেখান মাশরাফি।

    বিপিএলে সর্বপ্রথম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভিন কুপার। পরবর্তীতে এই রেকর্ডে ভাগ বসান বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব অবশ্য বর্তমানে ৮২ উইকেট নিয়ে কুপারকে টপকে সবার শীর্ষে রয়েছেন।

    ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি এ টুর্নামেন্টের এবারের আসরে আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী  ও বাংলাদেশের শফিউল ইসলাম তৃতীয় ও চতুর্থ বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট নিয়েছিলেন। শফিউল বর্তমানে ৫৪ ও নবী ৫০ উইকেটের মালিক।

  • আজ খেলা না হলে কি হবে?

    আজ খেলা না হলে কি হবে?

    প্রথমে বৃষ্টি। তারপর খেলা শুরু নিয়ে নানা ঘটনা, নাটকীয়তা আর গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর রংপুর রাইডার্সের কোয়ালিফাইয়ার ২ গতকাল রোববার শেষ হয়নি। বৃষ্টিতে ৭ ওভার খেলা হওয়ার পর রাতে বৃষ্টি কমলেও তা আর শুরু হয়নি। নানা ঘটনার পর রাত ১০.১০ মিনিটে জানানো হয়েছে খেলা যেখানে বন্ধ হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে পরের দিন সোমবার।

    সেই মতে আজ সন্ধ্যা ৬ টায় খেলা শুরুর কথা। যেথেতু ৭ ওভার হয়ে গেছে তাই রংপুর পাবে আর ১৩ ওভার ব্যাট করার সুযোগ। জবাবে পাল্টা ব্যাটিংয়ে নামবে কুমিল্লা। এটা হল স্বাভাবিক সমীকরণ বা হিসেব নিকেশ। কিন্তু যদি আজও খেলা না হয় তাহলে কি হবে? এমন প্রশ্নও কিন্তু আছে অনেকের মনে। আজ (সোমবার) দ্বিতীয় দিনের অত যদি বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আর একটি বল মাঠে না গড়ায়, তাহলে পয়েন্ট টেবিলের উপরে থাকার সুবাধে কুমিল্লা ফাইনালে চলে যাবে।

    সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কেন গতকাল (রোববার) খেলা না হওয়ার পর কুমিল্লাকে জয়ী ঘোষণা করা হল না। যদিও আজ দ্বিতীয় দিনের মত খেলা না হওয়ায় কুমিল্লাকে জয়ী ঘোষণা করা যায়, তাহলে কাল কেন গেল না? কিসের ভিত্তিতে ম্যাচ দ্বিতীয় দিনে গড়াল?

    এ প্রশ্ন করা হলে জালাল ইউনুস বলেন, ‘বাইলজে পরিষ্কার লেখা আছে যদি কোন ম্যাচ টাই হয় কিংবা ‘নো রেজাল্ট থাকে’ তাহলে সুপার ওভারে ম্যাচ ভাগ্য নিশ্চিত করা হবে।’

    bpl

    জালালের ধারণা বেশিরভাগ ক্রিকেট অনুরাগী ও কুমিল্লা ম্যানেজমেন্ট ধরে নিয়েছিলেন শুধু টাই হলেই কেবল সুপার ওভারেই ম্যাচ ভাগ্য করা যাবে কিন্তু ‘নো রেজাল্ট’ থাকলেও যে সুপার ওভারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা যাবে এটা অনেকে লক্ষ্য করেননি।

    জালালের কথা, ‘খোদ কুমিল্লা ম্যানেজমেন্ট ও বিষয়টি ভুল বুঝেছিলেন। পড়ে কথার এক পর্যায়ে সুপার ওভার যে প্লেয়িং কন্ডিশনে আছে তা নিশ্চিত করার পর কুমিল্লা সুপার ওভার খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন কুমিল্লাকে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়।’

    জালালের ভাষ্য মতে, ‘টুর্নামেন্ট কমিটি ওই সব বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার রাখে। আর বাই লজে ছিল যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় টুর্নামেন্ট কমিটি যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে কারণেই হয় ৫/৭ ওভার কিংবা সুপার ওভারে ম্যাচ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছিল কুমিল্লাকে। এমনকি আজ নতুন করে ম্যাচ শুরুর প্রস্তাবও নাকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনটাই মনভূত হয়নি কুমিল্লার। অবশেষে তারা যেখানে খেলা বন্ধ হয়েছে সেখান থেকেই খেলতে রাজি হয়।’

  • কুমিল্লার শোচনীয় হারে ফাইনালে ঢাকা

    কুমিল্লার শোচনীয় হারে ফাইনালে ঢাকা

    মাহামুদ হাসান

    বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঢাকা ডায়ানামাইটসের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।   আর তামিমদের বিপক্ষে ৯৫ রানের বড় জয় পেয়ে এবারের আসরের ফাইনালে ওঠে গেল ঢাকা।

    ঢাকার দেওয়া ১৯২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে কুমিল্লা।   প্রথম ওভারেই শূন্যরানে ফিরেন আগের ম্যাচে অর্ধশতক করা লিটন দাস।   এরপর একই পথে হাটেন জস বাটলার(৫), ইমরুল কায়েস(৯), মারলন স্যামুয়েলস(৬), শোয়েব মালিক (৭), ডিজে ব্রাভো (০) ও সাইফুদ্দিন (০)।   যা একটু প্রতিরোধ গড়েছেন শুধু তামিম ইকবাল ২৮ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে করেছেন ৩১ রান।   কুমিল্লা ৯৬ রানে অলআউট হয়েছে।

    ঢাকার হয়ে আফ্রিদি ৩টি, সাকিব, মোসাদ্দেক, ২টি এবং আবু হায়দার রনি ও সুনীল নারিন ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে বিপিএলের পঞ্চম আসরের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে এভিন লুইস, আফ্রিদি ও কাইরন পোলার্ডের ঝড়ো ইনিংসের ভর করে ৭ উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ঢায়নামাইটস।   এভিন লুইস ৪৭, কাইরন পোলার্ড ৩১ শহীদ আফ্রিদি ৩০ ও ডেনলি ৩২ রান সংগ্রহ করেন।   কুমিল্লার হয়ে হাসান আলী ৩টি, ডিজে ব্রাভো ২টি ও শোয়েব মালিক ১টি উইকেট নেন।

    এদিকে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স।   গেইলের সেঞ্চুরিতে ২৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফির দল।

    আর ঢাকার বিপক্ষে কুমিল্লার হার ও খুলনার বিপক্ষে রংপুরের জয়ের ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ফের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও রংপুর রাইডার্স।