Category: রাজণীতি

  • প্রধানমন্ত্রীকে রওশন এরশাদ-জিএম কাদেরের নববর্ষের শুভেচ্ছা

    প্রধানমন্ত্রীকে রওশন এরশাদ-জিএম কাদেরের নববর্ষের শুভেচ্ছা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলা নববর্ষ-১৪২৯ এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রটোকল কর্মকর্তা-২ মো. আবু জাফর রাজুর কাছে বিরোধী দলীয় নেতার একান্ত সচিব এ কে এম আব্দুর রহিম ভূঞা ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু তৈয়ব শুভেচ্ছা কার্ড পৌঁছে দেন।

    এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • যানজটের জন্য দায়ী সমন্বয়হীনতা: মেয়র আতিক

    যানজটের জন্য দায়ী সমন্বয়হীনতা: মেয়র আতিক

    সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রাজধানীতে তীব্র যানজটের প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, এই যানজট থেকে রেহাই পেতে হলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সম্মিলিতভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়ে এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মেয়র।

    মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ডিপো সংলগ্ন ইন্টারসেকশন প্রশস্তকরণে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

    ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমরা নিজেরাই অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে যানজট সৃষ্টি করেছি। অতএব পরিকল্পিতভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা এবং বিআরটিসির পক্ষে চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম (সেন্টু), ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ এবং বিআরটিসির বাস ডিপোর ইনচার্জ মো. জুলফিকার আলী প্রমুখ।

  • বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল

    বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল

    বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে শঙ্কার কিছু নেই। সব সূচকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘অফশোর ট্যাক্স অ্যামনেস্টি’ ও ‘শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ বিভাগ উপস্থাপন করে এই প্রেজেন্টেশন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ অর্থ সচিব, ইআরডি সচিব এবং ব্যাংকিং সচিবসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে শ্রীলঙ্কার চলমান সংকটের কারণ ও এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখা হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক। প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে বলে মত প্রকাশ করা হয় বৈঠকে।

    তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায়, দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে একটি সমন্বিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

    সভায় উপস্থিত বক্তারা জানান, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখনো ঝুঁকি সীমার অনেক নিচে।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন।

  • বিএনপি নেতা ইশরাকের জামিন

    বিএনপি নেতা ইশরাকের জামিন

    রাজধানীর মতিঝিল থানার নাশকতার মামলায় গ্রেফতার বিএনপি নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

    ইশরাকের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ২০২০ সালের ডিসেম্বরে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশের করা এক মামলায় গত ৬ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে ইশরাক হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শ্রমিক দলের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

    গ্রেফতারের পরই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ইশরাকের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে ওইদিনই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) তামান্না ফারহার আদালত।

    এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন ইশরাক। উচ্চ আদালতের আদেশ মোতাবেক আত্মসমর্পণ না করায় ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আগামী ২৬ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে আসামিরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত পাশে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

    এ ঘটনায় বিএনপি নেতা ইশরাকসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান ভুইয়া।

  • সারের সংকট নেই, মজুতও আগের চেয়ে বেশি: কৃষিমন্ত্রী

    সারের সংকট নেই, মজুতও আগের চেয়ে বেশি: কৃষিমন্ত্রী

    এ মুহূর্তে দেশে সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মজুতও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আছে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সারবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী এ কথা জানান। কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন উপস্থিত ছিলেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে দীর্ঘক্ষণ পর্যালোচনা করেছি সার নিয়ে। আমাদের এ মুহূর্তে সারের কোনো সংকট নেই। আমাদের প্রতি বছর ২৬ লাখ টন ইউরিয়া সার প্রয়োজন। টিএসপি সাড়ে ৭ লাখ টন, ডিএপি সাড়ে ১৬ লাখ টন, এমওপি সাড়ে ৭ লাখ টন লাগে। আজ পর্যন্ত আমাদের মজুদে কোনো সমস্যা হয়নি। এ পর্যন্ত টিএসপি, এমওপি ও ডিএপির মজুত আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি আছে। ইউরিয়া যেটুকু প্রয়োজন সেটাই আছে।

    তিনি বলেন, সামনে কি হবে সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। গত বছর (২০২১ সালে) আমাদের যেটুকু চাহিদা ছিল সেটুকুই নির্ধারণ করেছি।

    আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বছরই অর্থবছরের শেষে আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য কি পরিমাণ সার প্রয়োজন সেটি নির্ধারণ করি। এ বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এমন নীতি বা কৌশল নেবো, যাতে করে কৃষি উৎপাদন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। সার নিয়ে আমাদের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সার না পেয়ে ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। তারা কোনো সাহায্য চায়নি, তারা শুধু ন্যায্য মূল্যে সার চেয়েছিলেন, এজন্য তাদের রক্ত দিতে হয়েছে।

    ‘আমাদের অর্থনীতির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে একটি হলো কৃষি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষির গুরুত্ব আগেও ছিল আগামীতেও থাকবে। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের জীবিকা কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এজন্য সারের বিষয়টি অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখি। প্রধানমন্ত্রী সেই নির্দেশ দিয়েছেন, সার ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো সমস্যা না হয়। সার নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।’

    আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, কৃষির উৎপাদন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেন আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না হই।

    সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী ও কমিটির সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলাইকৃষ্ণ হাজরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • জনগণের টাকা লুটপাট বিএনপি-জামায়াতের বৈশিষ্ট্য: জয়

    জনগণের টাকা লুটপাট বিএনপি-জামায়াতের বৈশিষ্ট্য: জয়

    জনগণের টাকা লুটপাট এবং ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা বিএনপি-জামায়াত শাসনের বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    তিনি বলেন, জনগণের টাকা লুটপাট, অসম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ এবং ইশতেহারে দেওয়া অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত সরকারের বৈশিষ্ট্য। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ১০০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাত্র কয়েকটি বাস্তবতার মুখ দেখেছে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলাদেশের পিছিয়ে যাওয়ার ৫ বছর, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছু ছিল হাওয়া ভবনের দখলে’ শিরোনামের একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সব নির্মাণ প্রকল্প যেমন রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, সরকারি ভবনের সব কাজ থেকেছে অসম্পূর্ণ। কাজের নামে হয়েছে হরিলুট আর ভাগাভাগি।

    পোস্টের সমর্থনে একটি ভিডিও যোগ করে তিনি বলেন, এই ভিডিওটির মাধ্যমে আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে হাওয়া ভবন কীভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সব সরকারি প্রকল্প বিতরণ করতো। কীভাবে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল অর্থের মালিক হয়েছিল। কথাগুলো শুনবেন সাধারণ মানুষের মুখেই, যারা ওই সময় বিএনপি জামায়াতের এই সিন্ডিকেট বাণিজ্যের ভুক্তভোগী ছিলেন।

    ২০০১-২০০৬ মেয়াদকে ‘বাংলাদেশের পিছিয়ে যাওয়ার পাঁচ বছর’ হিসেবে উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই সময়ের কিছু গুরুতর সমস্যার কথা বলেন। যার মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অত্যধিক মূল্য, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি।

    সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টের শেষে লিখেন, আমাদের ফেসবুক পেজে, আমি পর্যায়ক্রমে, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন সম্পর্কে তথ্য এবং পরিসংখ্যান জানাবো। অনুগ্রহ করে আমাদের পেজে আপনার চোখ রাখুন। মন্তব্য বক্সে আপনার মতামত শেয়ার করতে মিস করবেন না।

  • মহিলা দলের তিন নেত্রীকে অব্যাহতি

    মহিলা দলের তিন নেত্রীকে অব্যাহতি

    জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের রাঙ্গামাটি জেলা শাখার তিন নেত্রীকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগম, ১ নম্বর সদস্য মিনারা বেগম এবং ২ নম্বর সদস্য শাহিদা আক্তারকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

  • পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছি

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছি

    পানি উন্নয়ন বোর্ডেও দুর্নীতি হয়, সেটি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাওরে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    বারবার বাঁধ ভাঙার মতো অভিযোগ আসে, কিন্তু জড়িতদের শাস্তি হয় না- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এমন ৮ জন প্রকৌশলীকে কিন্তু আমরা সাসপেন্ড করেছি। এটা আইনের মাধ্যমে করতে হবে। এটা তো আর্মি না যে একজন লোককে রিটায়ার্ড করে দেওয়া যায়। বাইরে কিন্তু নিয়ম আছে। নিয়মের বাইরে কিন্তু কাউকে সাসপেন্ড করতে পারব না। দুদকের মামলা চলবে, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে সেই ৮ জনের বিরুদ্ধে। আমরা রাতারাতি একজন প্রকৌশলীকে বলতে পারি না তোমরা বাড়ি চলে যাও। আমরা নিয়মের মধ্যে চলছি। প্রকৌশলীদের কাজের মান যাতে ভালো হয়, দুর্নীতি যাতে কম হয়, সেজন্য পিএসি করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণ এলাকায় যার জমি আছে সে সেখানকার সভাপতি। আরেও চারজন যাদের জমি আছে তারা মেম্বার। সেখানকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মেম্বার করা হয়। মসজিদের ইমামকেও মেম্বার করা হয়। এখন আমাদের প্রকৌশলীর হাতে কিছু নাই। কমিটিগুলোও ইউএনও করেন। প্রকৌশলীরা টেকনিক্যালি অ্যাডভাইস দেয়। এখানে দুর্নীতির প্রশ্ন আসে না। আমি বলব না পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ দুর্নীতি করে না। দুর্নীতি করে, আমরা চেষ্টা করছি সেটি কমিয়ে আনার জন্য। সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য।

    বর্ষার সময় কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষার সময় যখন একটি জায়গা ভেঙে যায় সেখানে তাৎক্ষণিক কাজ না করলে পুরো গ্রামটা বিলীন হয়ে যাবে। সেজন্য আমরা কাজ করি। এটা মানে এই না যে আমরা বর্ষার সময় কাজ করতে যাই। বর্ষার সময় আমরা সেখানেই কাজ করতে যাই যেখানে ভেঙে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়াররা যায় না কেন? এই প্রশ্নটা এখন করতে পারবেন না। আমরা মানবতার জন্য কাজ করতে এসেছি। আমাদের কাজে গাফিলতি আছে কেউ বলতে পারবে না।

    তিনি বলেন, অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করেছি। ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন করে সমস্যা তৈরি হয় সেজন্য সতর্ক থাকছি। আমাদের প্রকৌশলীরাও কাজ করে যাচ্ছে। আমরা নদীমাতৃক দেশ। আমাদের পলিমাটিতে যখন পানি নামতে পারে না, বাঁধগুলো নরম হয়ে গেলেই সমস্যা তৈরি হয়। আমাদের প্রাকৃতিক সমস্যাটা আপনাদের বুঝতে হবে। এসব কারণে নদীভাঙন আমাদের বাপ-দাদারা দেখে আসছেন। একদিকে নদী ভাঙছে, আরেকদিকে নদী ভরছে। আমরাও দেখছি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তারাও দেখবে। এটা কিন্তু বন্ধ করা যাবে না। এর মধ্যেই আমাদের বসবাস করতে হবে
    প্রতিমন্ত্রী জানান, ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেবো। কৃষিঋণ থাকলে যেন মওকুফ হয় সেটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেছেন তিনি হাওরে যাবেন, আমরা একসঙ্গে যাব।

    উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, ৫৩৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৫০ মিটার, আরেকটি ৫০ মিটার এবং ৩০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি জায়গা আমরা বন্ধ করতে পেরেছিলাম। আরেকটি জায়গায় দেখলাম বন্ধ করেও লাভ নেই। কারণ পানির গভীরতা ৫০ থেকে ৬০ ফিটের মতো। ১ থেকে ৬ তারিখ মোট ১২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আমি সেখানে যাওয়ার পর ১১টি উপজেলার ছুটি বাতিল করেছি। সেখানে কিন্তু সব স্তরের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেটি নিয়ে তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। আমরা স্থায়ী প্রকল্পগুলো করছি। ১৩ বছর আগেও আমাদের ভাঙন ছিল সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর সেটি এখন সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরে আসছে। তিন বছরে আমার সুনামগঞ্জে ২০৪টি সফর হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব আমরা পালনের চেষ্টা করছি। যেখানে গাফিলতি আছে সেখানে তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় এবং আইনের আওতায় আনার জন্য যে প্রক্রিয়া সেটি মাথায় রেখে আমরা আগাচ্ছি।

    সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

  • আরো এক মামলায় সম্রাটের জামিন, এখনই মুক্তি মিলছে না

    আরো এক মামলায় সম্রাটের জামিন, এখনই মুক্তি মিলছে না

    রাজধানীর রমনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সম্রাটের বিরুদ্ধে করা চার মামলার মধ্যে তিন মামলায় জামিন হয়েছে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার শুনানি শেষে দশ হাজার টাকা মুচলেখায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের করা মামলায় সম্রাট গ্রেফতার থাকায় এখনই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। বুধবার (১৩ এপ্রিল) সম্রাটের উপস্থিতিতে এ মামলার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

    এর আগে রোববার (১০ এপ্রিল) অস্ত্র মামলায় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও অর্থপাচার মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ জামিন মঞ্জুর করেন।

    ২০২১ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে তার তিনদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার উপস্থিতিতে রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য রোববার (১০ এপ্রিল) দিন ধার্য করেন।

    ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে সিআইডি। কাকরাইলের বাসায় অবস্থান করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত ১৯৫ কোটি টাকা সহযোগী এনামুল হক আরমানের (৫৬) সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি তদন্তধীন।

    অন্যদিকে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর র্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র আইন ও মাদক দ্রব্য আইনে পৃথক দুইটি মামলা করেন। ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

    ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফায়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালতে অস্ত্র মামলাটি বিচারাধীন। অন্যদিকে মাদক মামলাটি ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখারের ২১ জুলাই চার্জগঠনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

    ২০১৯ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসে। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মেলেনি সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

    ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে ঢাকায় এনে তাদের করা হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।

    ওই দিন দুপুর ২টার দিকে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বাহিনীটির একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। কার্যালয়ে অবৈধভাবে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

  • আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছে বড় পরিবর্তন

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছে বড় পরিবর্তন

    করোনার ধকল কাটিয়ে এবার সংগঠন গোছানোয় ব্যস্ত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গত দুই বছরের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে মরিয়া দলটির নেতারা। এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা সফর করে তৃণমূল চাঙা করছেন তারা। টার্গেট সারাদেশে দলের শাখা সম্মেলন শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার করা।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্বল হতে থাকে করোনাভাইরাস। স্বাভাবিক হতে থাকে জনজীবন। এরই মধ্যে সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। টিম এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সফর করছে। বেশ কিছু জেলায় সম্মেলন, বর্ধিত সভা ও কমিটি করা হয়েছে। কিছু জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কোন্দল নিরসনে উভয়পক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় টিম বসে আলাপ-আলোচনা করেছে, নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে শাখা সম্মেলন আয়োজনের তাগিদ দিচ্ছেন।

    আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তাদের টার্গেট স্বল্প সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ শাখাগুলোর সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা। এজন্য তারা তৃণমূলে সফর করছেন। যথাসময়ে সম্মেলন হবে এবং আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্ব পাবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

    তবে তড়িঘড়ি করে কেন্দ্র থেকে কোথাও সম্মেলন, কোথাও বর্ধিত সভা বা সমাবেশ করে কমিটি গঠনের বিপক্ষে তৃণমূল। তারা বলছেন, ‘এগুলো তো সম্মেলন হচ্ছে না। সমাবেশ করে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতারা। তৃণমূলের কর্মীদের মতামত তো নেওয়া হচ্ছে না।’

    তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। দল ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।’

    গত কয়েকদিনের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভা ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাসহ কিছু শাখায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বিচরণ ছিল।

    এরই মধ্যে সম্মেলন হয়েছে পঞ্চগড়, রাজবাড়ী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা, পঞ্চগড় সদর উপজেলা, গাজীপুরের শ্রীপুর, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, রাজশাহীর পবা, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, কক্সবাজার পৌর শাখা, রাজশাহীর পুঠিয়া, কিশোরগঞ্জের নিকলী, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, রাজশাহীর বাঘা, দিনাজপুরের হাকিমপুর ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলাসহ বেশ কিছু উপজেলা শাখার সম্মেলন হয়েছে।

    আরও সম্মেলন হয়েছে বগুড়ার শেরপুরের বিশালপুর ইউনিয়ন, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন, রাজনগর ইউনিয়ন ও রাজশাহী জেলা দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের।

    এছাড়াও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বর্ধিত সভা, বরিশালের উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, রাজশাহী মহানগর বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, সিলেট বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ও হবিগঞ্জ চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয়েছে।

    আসন্ন জাতীয় সম্মেলন ঘিরে আওয়ামী লীগের কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি টেবিলটকে উঠে আসছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি। আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দীর্ঘদিন আছেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রকাশ্যে বেশ কয়েকবারই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য নেতাকর্মীদের বলেছেন। তবে গত দুই সম্মেলনে নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ফের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

    সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও রয়েছে আলোচনা। টানা দুবার দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক রাখার নজির আওয়ামী লীগে নেই। পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থাও বেশ খারাপ। যে কারণে কে হচ্ছেন নতুন সাধারণ সম্পাদক- এমন প্রশ্ন ক্ষমতাসীন দলের চায়ের টেবিলে কমন প্রশ্ন।

    সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় যারা

    দলটির নেতাকর্মীদের আলোচনায় বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসছে। তারা হলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। এছাড়াও টানা তিনবারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বেশ কয়েকবার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবউল আলম হানিফের নামও আসছে জোরালোভাবে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ড. হাছান মাহমুদও আছেন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আলোচনায়।

    তবে আওয়ামী লীগের রেওয়াজ হচ্ছে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাব করা হয় কাউন্সিলে। আর এটি হ্যাঁ/না ভোটে পাস হয়। যে কারণে প্রস্তাবনার ওপর নির্ভর করছে, কে হচ্ছেন আগামীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও বেশ কয়েকটি পদে রদবদলসহ নতুন যুক্ত হবেন ৮-১০ জন।

    এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, আমাদের সম্মেলন সময়মতো হবে। আমরা সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক জেলায় সম্মেলন করেছি। ডিসেম্বর বা জানুয়ারির ভেতরেই আমরা দলীয় সম্মেলন করে সব সময়মতো শেষ করবো।

    নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব সময় সম্ভাবনা থাকে।’

    এ নিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যার ভেতরে সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক চর্চা হয়। এই দলে কথা বলা যায়। নেতাকর্মীদের মতপ্রকাশের অধিকারসমৃদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই দলটির কাউন্সিলও যথাসময়ে হয়, হবে।

    কাউন্সিলে কাউন্সিলররা আসবেন, সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে। মতবিনিময় হবে। কাউন্সিলররা মতামত ব্যক্ত করবেন। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবেন।’

    দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমরা এখন তৃণমূল, উপজেলা, জেলা সম্মেলন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের টার্গেট স্বল্প সময়ের মধ্যে সব পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ সম্মেলন সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন যেহেতু নিয়মিত হয়, নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, করোনা পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

    আসছে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে এই নেতা বলেন, ‘মূল নেতৃত্ব যেহেতু সর্বজনশ্রদ্ধেয়, সর্বজন আকাঙ্ক্ষিত এবং অপরিহার্য, সেহেতু বাকি পদগুলো পরিবর্তন বা ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকা সম্পর্কে এত আগে বলার মতো কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি।’

    এ নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম বলেন, ‘তৃণমূলের কর্মী হিসেবে আমার জেলায় যা হচ্ছে তা কোনো সম্মেলন নয়। সমাবেশ করে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখছেন জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটি। এতে তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। নেতা নির্বাচনে পদবাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠছে। দল ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।’

    ৬৪টি জেলা ও ১২টি সিটি করপোরেশনসহ আওয়ামী লীগের মোট সাংগঠনিক জেলা কমিটি ৭৮টি। এসব জেলার আওতায় ৬২২টি উপজেলা কমিটি, ৫ হাজার ৬৪৩টি ইউনিয়ন কমিটি ও ৪৩ হাজার ৫৯৬টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে।