স্ত্রীর ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে কুকুরদের হাসপাতাল গড়ছেন মমতার মন্ত্রী

স্ত্রী কুকুরকে খুব ভালবাসতেন। কিন্তু তিনি আজ আর ইহলোকে নেই। তাই প্রয়াত স্ত্রী’এর ভালবাসাকে সম্মান জানাতেই কুকুরদের হাসপাতাল গড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। কলকাতায় ওই হাসপাতাল তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রী নিজেই ওই হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। স্ত্রী’এর নামেই ওই হাসপাতালের নাম রাখা হয়েছে ‘বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল পেট হসপিটাল’।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার ইএম.বাইপাশের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির স্ত্রী বাবলি। মৃত্যুর সংবাদ শুনে ওইদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা।
স্ত্রী বাবলি কুকুরকে খুব ভালবাসতেন, তাই স্ত্রীর মৃত্যুর পরই তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই কুকুরদের জন্য হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ‘আমার স্ত্রী ছিলেন একজন প্রকৃত কুকুরপ্রেমী। তিনি কুকুরদের খুব ভালবাসতেন। অসুস্থ কুকুরদের তিনি নিজে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যেতেন এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করতেন। এটা দেখেই আমি কুকুরদের জন্য হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিই, যাতে আমার স্ত্রীর স্মৃতিগুলো জীবন্ত থাকে’।

পুরনো দিনের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকার কারণে কোন কোন দিন যখন অনেক রাত করে বাড়িতে ফিরতাম, সেসময় বাড়ির পোষা কুকুরটি আমার বিছানায় শুথে থাকতো, ফলে আমাকে বিছানার বদলে মেঝেতে শুতে হয়েছিল’।

মমতার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী জানান, ‘কলকাতায় পশু হাসপাতালের স্বল্পতা রয়েছে। আমার স্ত্রী প্রায়ই এই বিষয় নিয়ে আমাকে বলতেন। ট্রাস্টের সদস্যরা আমার সঙ্গে ও পশু চিকিৎসকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আমি তাদেরকে নিশ্চিত করেছি যে কুকুরদের সবচেয়ে ভাল চিকিৎসাই এখানে দেওয়া হবে’।

২০১১ সালের ২০ মে পার্থ চ্যাটার্জি ক্য্যবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতার মন্ত্রিসভায়, তাঁকে দেওয়া হয় শিল্প ও বাণিজ্য, তথ্য প্রযুক্তি, সংসদীয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ওই বছরেই রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার নির্বাচিত করা হয়। ২০১৬ সালে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় পার্থ চ্যাটার্জিকে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *