করোনায় সুখবর, একদিনেই সেরে উঠেছেন ১৫০০ রোগী!

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। করোনায় আক্রান্ত মানেই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পার হলেই কেবল সেটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। করোনাভাইরাসে বিভিন্ন দেশের মানুষ যে হারে আক্রান্ত হচ্ছেন তার প্রায় সমানতালে সেরেও উঠছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল চারটা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছে ১৫০০ মানুষ।

দ্য সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়েবসাইটের লাইভ ড্যাশবোর্ড থেকে জানা গেছে, এই সময়ে সারা পৃথিবীতে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬২ জন। অর্থাৎ, আক্রান্তের চেয়ে সেরে উঠার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

ড্যাশবোর্ডের রিয়েল-টাইম গ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপের বিভিন্ন অধিদপ্তরের ডেটা দিয়ে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস থেকে সব মিলিয়ে ৬৪ হাজার ৩৪ জন মানুষ সেরে উঠেছেন। বিপরীতে মারা গেছেন ৪ হাজার ২৬ জন। এর মধ্যে চীনেই প্রাণ গেছে ৩ হাজার ১৩৬ জনের।

ওই ড্যাশবোর্ডে বাংলাদেশে ৩ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর দেয়া হয়েছে। কেউ এখনো ভালো হননি বলে জানা গেছে। তবে তাদের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে।

শুরুতে জ্বর হয়, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

সুস্থ থাকতে যতবার পারা যায় হাত ধুতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। মাস্কের অবশ্য বাধ্যবাধকতা নেই। ডাক্তাররা বলছেন, আক্রান্ত রোগী এবং তার যারা সেবা করছেন তাদেরই মূলত মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *