ঈদ সার্ভিসে ঢাকা-বরিশাল রুটে এবার সরাসরি ৩১ যাত্রীবাহি নৌযান

অনলাইন ডেস্ক :: রাজধানী ঢাকার সাথে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম নিরাপদ, আরামদায়ক  ও বিলাশবহুল মাধ্যম হচ্ছে নৌ পথ ও নৌযান (লঞ্চ-স্টীমার)। প্রতিবছর ঈদ-কোরবানিতে এই নৌ পথে বাড়ে যায় দক্ষিনাঞ্চলগাশী যাত্রীদের চাপ। এজন্য যাত্রী চাপ সামাল দিতে বিশেষ সার্ভিস দিয়ে থাকে সরকারি-বেসরকারি নৌ যান কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিশেষ সার্ভিস শুরুর সময় এখনো নির্ধারন না হলেও বরিশাল-ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের দূরপাল্লার রুটে কতগুলো যাত্রীবাহী নৌযান চলবে সে বিষয়ে সম্ভাবতা যাচাই করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।  তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঈদের আগে ও পরে ঢাকা থেকে বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলে ৫২টির মতো যাত্রীবাহী নৌযানে থাকবে ঈদ সার্ভিস। যার মধ্যে শুধুমাত্র বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটেই সরাসরি বিশেষ সার্ভিস দিবে বিলাশবহুল ২৩টি বেসরকারি লঞ্চ। এছাড়া এই রুটে বিশেষ সার্ভিসে থাকবে বিআইডব্লিউটিসি’র আরো ৫টি স্টিমার।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, দেশের নদী পথে সব থেকে বড় নৌ পথ হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা।  যে কারনে এই রুটে দিনে দিনে বেসরকারি লঞ্চের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সবশেষ এ রুটে গত মাসেও যাত্রী সেবায় যুক্ত হয় বিলাশবহুল নতুন নৌযান এমভি মানামী।  এ নিয়ে বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে নিয়মিত যাত্রীসেবায় যুক্ত রয়েছে ২১টি লঞ্চ।
বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) কবির হোসেন জানান, বরিশাল ঢাকা নৌ রুটে বর্তমানে দিবা সার্ভিস সহ মোট ২১টি বেসরকারি লঞ্চ চলাচল করছে। যার মধ্যে রোটেশন অনুযায়ী প্রতিদিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে ৮ থেকে ১০টি করে লঞ্চে যাত্রীসেবা দেয়া হচ্ছে। তবে ঈদ মৌসুমে রোটেশন পদ্ধতি থাকে না। লঞ্চ মালিকরা সকল লঞ্চেই প্রতিদিন ডাবল ট্রিপ দিয়ে থাকে। যাকে বলা হয় ঈদ বিশেষ সার্ভিস।
তিনি বলেন, এবারের ঈদে সরাসরি বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ২৩টি বেসরকারি লঞ্চ চলাচল করবে। এছাড়া দিবা সার্ভিসে আগামী ১৬ মে থেকে ক্যাটামেরান টাইপ নৌযান এ্যাডভেঞ্জার-৫ চলাচল শুরু করবে। এই জাহাজটি গত ঈদে উদ্বোধন করা হয়েছিলো।
টিআই কবির হোসেন বলেন, ঈদ সার্ভিসে এমভি কীর্তনখোলা গ্রুপের দুটি, এ্যাডভেঞ্চার গ্রুপের ৩টি, এমভি সুন্দরবন গ্রুপের ৩টি, এমভি সুরভী গ্রুপের ৩টি, এমভি পারাবত  গ্রুপের ৫টি, গ্রীন লাইন কোম্পানির ২টি, এমভি কামাল কোম্পানীর ২টি, এমভি মানামী, এমভি টিপু-৭ ও এমভি ফারহান-৮ সরাসরী বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে যাত্রী সেবা দিবে। এর মধ্যে গ্রীনলাইন কোম্পানির দুটি ও এ্যাডভেঞ্চার কোম্পানির একটি দিবা সার্ভিসে থাকবে।
এছাড়াও ঝালকাঠী ও তুষখালী-ঢাকা নৌ রুটে ভায়া বরিশাল হয়ে চলাচল করবে ৭টি লঞ্চ। এর মধ্যে সুন্দরবন কোম্পানির ২টি, ফারহান কোম্পানির ২টি, এমভি মানিক-১, রেডসান ও পূবালী। বরগুনা-ঢাকা ভায়া বরিশাল হয়ে চলাচল করবে ৩টি লঞ্চ। এগুলো হলো এমভি সাহরুখ-১, সুন্দরবন-২, প্রিন্স অব রাসেল-১ ও যুবরাজ।
এছাড়া বরগুনা-ঢাকা ভায়া বরিশাল ও ঝালকাঠি হয়ে চলাচল করবে এমভি গ্রিন ওয়াটার-১০। এই লঞ্চটি শুধুমাত্র ঈদ মৌসুমেই এই রুটে চলাচল করে।
অপরদিকে পটুয়াখালী নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের আলম চন্দ্র মিত্র জানান, পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে সরাসরি ৮টি লঞ্চ বিশেষ সার্ভিস দিবে। যার মধ্যে সুন্দরবন কোম্পানির দুটি, এমভি জামাল-৫ এমভি প্রিন্স অব রাসেল-৪ সহ ৮টি লঞ্চ চলাচল করবে।
ভোলা নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের টিআই নাসিম আহমেদ জানান, ভোলা-ঢাকা রুটে সরাসরি ৮টি লঞ্চ চলাচল করে।  স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা ও ভোলা প্রান্ত থেকে ২টি করে মোট ৪টি লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদের আগে পরে অন্তত ১০ দিন ৮টি লঞ্চই এক সাথে চলাচল করে থাকে।  ওই ৮টি লঞ্চ এবারেও ঈদ সার্ভিসে থাকবে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশাল অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ জানান, পূর্বের ন্যায় এবারও ঈদ সার্ভিসে তাদের সংস্থার ৫টি জাহাজ থাকছে। ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-হুলারহাট ভায় বরিশাল হয়ে চলবে এ ৫টি জাহাজ। জাহাজগুলো হলো- এমভি বাঙ্গালী, মধুমতী, পিএস লেপচা, পিএস টার্ন ও পিএস মাসুদ। ঈদের এক সপ্তাহ পূর্বে থেকে ঈদ পরবর্তী এক সপ্তাহ বিশেষ সার্ভিস দিবে।
অপরদিকে বেসরকারি যাত্রীবাহী নৌযান মালিকদের সংগঠন জাপ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, এবার ঈদে যাত্রী সেবায় আমাদের কোন সমস্যা হবে না। কেননা এবার লঞ্চের সংখ্যা পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। তবে কবে থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরু হবে সে বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি। আগামী ১৮ মে ঢাকায় জাপ এর সাধারণ সভা হবে। ওই সভাতেই ঈদ সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, লঞ্চগুলো অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। কোন কোন কোম্পানি বিশেষ স্লিপের মাধ্যমে আবার কোন কোন কোম্পানি সরাসরি টিকিট বিক্রি করছে। যারা স্লিপ পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি করছে তারা আবেদন আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই বাছাই শেষে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় টিকিট বিক্রি শুরু করবে। এ ক্ষেত্রে যারা নিয়মিত যাত্রী তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *