খালেদা জিয়ার মর্জির ওপর বিএসএমএমইউ থেকে রিলিজের সিদ্ধান্ত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হতে পারে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।

তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন, চিকিৎসকরা এমন মতামত দিলে তবেই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে এমনটাও জনশ্রুতি রয়েছে। খালেদা জিয়াকে পাঠানো না পাঠানো নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলাও হয়েছে।

তবে বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক জানিয়েছেন, কারা কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের উচ্চ মহল থেকে কেউ বেগম খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগই করেননি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ও মেডিকেল বোর্ড প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. ঝিলন মিঞা সরকার দু’জনই এ ব্যাপারে জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি যে উনার (বেগম খালেদা জিয়ার) স্যাটিসফেকশন (সন্তুষ্টি), উনি যদি বলেন, ভালো আছি, যেতে চাই, তবেই রিলিজ হবে। উনিই সিদ্ধান্ত নেবেন, উনার ওপর কোনো প্রেসার ক্রিয়েট (চাপ প্রয়োগ) করতে চাই না। উনি কমফর্টেবল মনে করলে থাকবেন, না হলে থাকবেন না। উনার অসুখের সকল প্রকার ট্রিটমেন্ট বিএসএমএমইউতে আছে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন খালেদা জিয়া। আপিলে হাইকোর্ট জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে বন্দি কয়েদি হিসেবে চিকিৎসাধীন।

গত ২৫ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। এর আগেও সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *