বরগুনায় সাবেক স্ত্রীর পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে চাঁদা দাবী, গ্রেফতার ২

আমতলীর সোনাউটা গ্রামের মারিয়া নামের এক কিশোরী কন্যার বিয়ের পর মাদকাশক্ত স্বামী বেল্লাল হাওলাদারকে তালাক দেওয়ায় পর বিয়ের পরে তোলা পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে সাবেক স্বামী বেল্লাহ হোসেন ও তার সহযোগী চাচাত ভাই মো: মাসুদ হোসেন এর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে বুধবার রাতে মামলার পর আমতলী থানার পুলিশ স্বামী বেল্লাল হোসেন ও অভিযুক্ত তার চাচাত ভাই মাসুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের কুরিন্দা পাড়া গ্রামের মো. ফারুক হাওলাদারের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেনের সাথে আমতলী উপজেলার সোনাউটা গ্রামের মো: জহিরুল ইসলামের মেয়ে মারিয়ার সাথে ৬ মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে মারিয়া জানতে পারে তার স্বামী বেল্লাল হাওলাদার একজন মাদকাশক্ত এবং প্রতারক। নেশা করার জন্য বেল্লাল প্রায়ই স্ত্রী মারিয়ার নিকট টাকা দাবী করে। অসহায় মারিয়া টাকা দিতে না পারলেই স্বামী বেল্লাল তাকে মার ধর করত। মারিয়া তার স্বামীর মার ধর সইতে না পেরে গত ২০ মার্চ বেল্লাকে তালাক দেয় সে।

তালাকের ৩-৪ দিন পর বেল্লাল ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগী চাচাত ভাই মো: মাসুদ এর মাধ্যমে মারিয়ার বাবা মো: জহিরুরুল ইসলামের নিকট মোবাইল ফোনে (০১৮৭৪২৯০০৯৫, ০১৭৩৬৪৬৬৩১০) ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে মারিয়ার বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রীর একান্তে তোলা পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্ত মারিয়ার দরিদ্র বাবা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে না পারায় বেল্লাল এবং তার চাচাত ভাই মো: মাসুদ হোসেন এর সহযোগিতায় বিয়ের পরে একান্তে তোলা তোলা মারিয়ার নগ্ন ছবি ‘এ্যানজেল মারিয়া’ নামের একটি ফ্যাক আইডি খুলে পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

 

এঘটনায় এলাকাসহ বিভিন্ন মানুষের মধ্যে তোলপার শুরু হলে মারিয়ার বাবা মো. জহিরুল ইসলাম বুধবার রাতে আমতলী থানায় পর্নো গ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮ (২) ধরায় মারিয়ার সাবেক স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন ও তার চাচাত ভাই মো: মাসুদ হোসেনকে আসমামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই আসামীদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এসআই মো: সহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত বেল্লাল ও মাসুদ এর নিকট থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আবুল বাশার জানান, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *