বাপ-ছেলে মিলে পালাক্রমে যৌন নির্যাতন: অতঃপর…

বাবার পর ছেলে। ছেলের পর ফের বাবা। পালাক্রমে নির্যাতন। নিষ্ঠুর পাশবিকতা! একই বাড়িতে বাপ-ছেলে মিলে যৌন নির্যাতন। অতঃপর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা। এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের বেডে শুয়ে দিন পার করছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশের নারী শ্রমিক তানিয়া।

জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল সৌদি আরব যান তানিয়া। অভাবের সংসারে আলো জ্বালাতে দেশ ছেড়ে প্রবাসে গেলেও সে আলো আর জ্বালানো হয়নি। এখন প্রায় নিভু নিভু জীবন প্রদীপও।

সূত্র জানায়, এক আদম ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তানিয়া। রিয়াদে গিয়ে এক স্কুল অধ্যক্ষের দুই শিশু সন্তানকে দেখভাল করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে চাকরি আর ভাগ্যে জোটেনি। তাকে রাখা হয় এক নির্জন বাড়িতে। সেখানেই নেমে আসে জীবনের অন্ধকার অধ্যায়।

যে বাড়িতে তানিয়াকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখা হয় সে বাড়িতে অন্য কোনো নারী ছিলেন না। বাবা আর তিন ছেলের ওই বাড়িতে তানিয়া একাই নারী। যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতনের খড়ক নেমে আসে তানিয়ার ওপর। প্রবাস জীবন। ভিনদেশি ভাষা। আপনজনকে না পাওয়া। এমনকি নালিশের জায়গাও না মেলা। এক বর্বর অন্ধকার যুগের অভিজ্ঞতা যেন। বাপ এবং ছেলেরা মিলে পালাক্রমে নির্যাতন। আট দিনের অসভ্য অভিজ্ঞতায় মুক্তির কোনো নিশানা ছিল না এই অসহায় নারীর।

বাপ-ছেলেদের টানা-হেচড়ার সময় একদিন আত্মরক্ষার্থে বাসার ছাদ থেকে লাফ দেন তানিয়া। মুক্তির ঠিকানা পেতে লাফ দিলেও ঠিকানা হয় হাসপাতালে। মারাত্মক আহত অবস্থায় দারোয়ানের সহায়তায় ভর্তি করা হয় কিং খালেদ হসপিটালে।

ওই হাসপাতালের বাংলাদেশি নার্সের মোবাইল ফোন থেকে স্বামী রাসেলকে ফোনে সব ঘটনা খুলে বলেন তানিয়া। এরপর রাসেল আদম ব্যবসায়ী ইকবালের সূত্র ধরে ঘটনার নায়ক ও মূল আদম ব্যবসায়ী এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশাল (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-আরএল১১৬৬) এর মালিক মকবুল হোসেনকে খুঁজে বের করেন। তানিয়ার সাথে মকবুল হোসেন ও ইকবালের লোকেরাও কথা বলেন।

কিন্তু ভরসা মেলেনি এখনও। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রাসেল সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির দুয়ারে ধর্না দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন দফতরেও ঘুরছেন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। তানিয়ার স্বামী রাসেল বলেন, ‘বিচার পরে, আগে আমার স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *