আশা জাগিয়ে সাজঘরে সাকিব

শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৭৯ রানের জুটি।

শেষপর্যন্ত এই জুটিটি ভেঙেছেন মার্কাস স্টয়নিস। মিডঅফে তুলে মারতে গিয়ে ওয়ার্নারকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাকিব। ৪১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার করেন ৪১।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বাংলাদেশ শিবিরে ধাক্কা। দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার সৌম্য সরকার। প্যাট কামিন্সের বলটি মিডঅনে ঠেলে দিয়ে দৌড় দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল, মাঝে ভুল বোঝাবুঝিতে ফেরত আসেন স্ট্রাইকিং এন্ডে।

কিন্তু ননস্ট্রাইক এন্ডে সৌম্য ফিরতে পারেননি, অ্যারন ফিঞ্চের সরাসরি থ্রোতে ভেঙে যায় স্ট্যাম্প। ৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে সৌম্য সাজঘরের পথ ধরেন ১০ রানেই।

এর আগে ডেভিড ওয়ার্নারের ঝড়ো এক সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫ উইকেটে ৩৮১ রানের পাহাড় দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বেশ সতর্কতার সঙ্গে শুরু করে অসিরা। দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ আর ডেভিড ওয়ার্নার বাংলাদেশি বোলারদের দেখেশুনে খেলছিলেন। সেঞ্চুরি জুটিও গড়েন তারা।

কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ফ্রন্টলাইন বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে বিপদে ফেলতে পারছিলেন না। অবস্থা বেগতিক দেখে ২১তম ওভারে পার্টটাইমার সৌম্য সরকারের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

অধিনায়কের এমন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত কাজে লেগে যায় সঙ্গে সঙ্গে। নিজের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে এসে অ্যারন ফিঞ্চকে শর্ট থার্ড ম্যানে রুবেল হোসেনের ক্যাচ বানান সৌম্য। ফিঞ্চ ৫১ বলে করেন ৫৩ রান। ১২১ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙায় স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশ শিবিরে।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সে স্বস্তিকে আবারও অস্বস্তিতে রূপ দেন ওয়ার্নার আর উসমান খাজা। এর মধ্যে ওয়ার্নার এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরিও তুলে নেন। সেটা দেড়শোতে নিয়েও থামেননি।

১৯২ রানের বিশাল এই জুটিটি শেষপর্যন্ত ভাঙেন ওই সৌম্য সরকারই। যেন ফিঞ্চের আউটের পুণরাবৃত্তি। শর্ট থার্ড ম্যানে রুবেলই নিয়েছেন ক্যাচ। ১৪৭ বলে ১৪ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ওয়ার্নারের উইলো থেকে আসে ১৬৬ রান।

এরপর উইকেটে এসে ছোটখাটো এক ঝড় তুলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৪৭তম ওভারে এসে আবারও চমক দেখান সৌম্য। ১০ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায় ৩২ রান করা ম্যাক্সওয়েল শর্ট ফাইন লেগে বল ঠেলে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। রুবেল হোসেন সরাসরি থ্রোতে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন।

ওই ওভারেরই পঞ্চম বলে উসমান খাজাকে মুশফিকুর রহীমের ক্যাচ বানান সৌম্য। ৭২ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৮৯ রানে সাজঘরের পথ ধরেন খাজা, সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে।

পরের ওভারের প্রথম বলে স্টিভেন স্মিথকে মাত্র ১ রানেই এলবিডব্লিউ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষদিকে মার্কাস স্টয়নিসের ১৭ আর অ্যালেক্স কারের ১১ রানে ৩৮১তে থামে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল পার্টটাইমার সৌম্য সরকারই। ৮ ওভারে ৫৮ রান খরচায় তিনি নেন ৩টি উইকেট।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *