জিন তাড়ানোর নামে তরুণী হত্যা, ভণ্ড কবিরাজ দম্পতি আটক

জিনে আছর করেছে বলে চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনে শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) নামে এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভণ্ড কবিরাজের দম্পতির বিরুদ্ধে।

বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীপাড়াস্থ বিল্লাল মিয়ার বাড়ির ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভণ্ড কবিরাজের দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন নিহত তরুণীর মা সুরাইয়া বেগম। সেই মামলায় পুলিশ ভণ্ড কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিনকে আটক করেছে।

নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা ঢাকার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। তার ৩ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজহারের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতরের ২/৩ দিন পর হতে শাহনাজ আক্তার শিখা তার মাকে প্রায়ই কোন কিছু মনে থাকে না বলে জানায়। পরবর্তীতে তার অবস্থা অবনতি দেখে চিকিৎসার ১৫ জুন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। ঔষধ খাওয়ানোর একদিন পর মানসিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সামনে যাকে পেতো তাকেই মারধর করতো শাহানাজ। পরে প্রতিবেশীদের পরামর্শে ১৬ জুন লোক মারফত কবিরাজ ফারুক হোসেনকে বাসায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। শাহনাজকে দেখে তারা জিনে আছর করেছে বলে এক সপ্তাহের কবিরাজি চিকিৎসায় শাহনাজকে ভালো করার জন্য তার পরিবারের সাথে দশ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করেন।

একদিন চিকিৎসা চালিয়ে উন্নতি না হওয়ায় নিজ বাসায় নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন কবিরাজ ফারুক। তার কথামত ১৮ জুন সন্ধ্যায় কবিরাজের বাসায় পাঠাতে রাজি হয় শাহনাজের পরিবার। নিজের বাসায় নিয়ে কবিরাজ ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন কবিরাজি চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতন চালায় শাহনাজের উপর। প্রথমে শাহনাজকে ঝাড়ু দ্বারা পেটানো হয়। পরে হাত ও পায়ের আঙ্গুল মোচড়ানো হয়।

এতে শাহনাজ চিৎকার করলে তার গলায় এবং বুকে পা দিয়ে চেপে ধরে জিনকে চলে যেতে বলে ভণ্ড কবিরাজ দম্পতি। নির্যাতনে শাহনাজ দুর্বল হয়ে পড়লে তার বিশ্রামের প্রয়োজন বলে পরিবারকে বাসায় পাঠিয়ে দেন কবিরাজ। বুধবার রাতে শাহনাজের অবস্থা খারাপ জানিয়ে পরিবারকে ফোন করা হলে তারা কবিরাজের বাসায় গিয়ে শাহনাজের মৃতদেহ ফ্লোরে চাদর মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পান।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ফারুক হোসেন চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানাধীন মান্দার আলী এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে এবং জেসমিন আক্তার ফারুক হোসেনের স্ত্রী। তারা সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ভাড়া থাকেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জসিম উদ্দিন জানান, শিখার শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তার পরিবার কোন এক মাধ্যমে ভণ্ড কবিরাজ ফারুকের সাথে সাক্ষাৎ করলে ফারুক জানায় শিখাকে জিনে ধরেছে। তাকে চিকিৎসার নামে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করার এক পর্যায়ে শিখা অসুস্থ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় কবিরাজ দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *