যোগ্য পাত্র চাই তবে স্কুলশিক্ষক নয়, ভাইরাল পাত্রীপক্ষের বিজ্ঞাপন

উপযুক্ত পাত্র চাই, তবে স্কুলশিক্ষক গ্রহণযোগ্য নয়। গত রোববার (২৬ জুন) দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এমনই একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে তুলকালাম চলছে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায়। কারণ, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক আলোচনা চলছে দেশটির শিক্ষাঙ্গনে। এর মধ্যে চাকরিও গেছে বহু শিক্ষকের। তদন্তে নেমেছে সিবিআই। তার মধ্যেই উত্তর দিনাজপুরে এক পাত্রীর জন্য পরিবারের লোকজন পাত্রের খোঁজ চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে তাদের অভিনব শর্ত নজর কেড়েছে অনেকের।

বিজ্ঞাপনে লেখা, ‘উপযুক্ত পাত্র কাম্য (স্কুলশিক্ষক ব্যতীত)’। রোববার এই বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

কিছু দিন আগে আলিপুরদুয়ারে প্রাথমিকের এক শিক্ষককে ঋণ দিতে গিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় পাসের প্রমাণ চেয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এবার স্কুলশিক্ষক বাদ দিয়েই মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে শুরু করেছে ওই পরিবার।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, চলতি মাসে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ভারতীয় হাইকোর্টের নির্দেশে ২৬৯ জনের চাকরি গেছে। এর মধ্যে উত্তর দিনাজপুরেই রয়েছে ৪০ জন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তও চলছে। ২০১৪ সালে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে।

রঞ্জন দাস নামে এক অভিভাবক বলেন, হাইকোর্ট শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি যেভাবে চেপে ধরেছে, তাতে দুর্নীতিগ্রস্তদের চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় মেয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষক বাদে পাত্রের খোঁজ করছে ওই মেয়ের পরিবার। তবে এভাবে হয়তো বিজ্ঞাপন দেওয়া উচিত হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহম্মদ সাহিদুল ইসলাম বলেন, একটা সময় ছিল যখন মেয়ের জন্য শিক্ষক পাত্র চাইত পরিবার। কিন্তু এখন তার উল্টো।

তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চৌহানের মতে, এ ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষক সমাজকে অপমান করেছে ওই পরিবার।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *