আবারও প্রাচ্যের ভেনিস বরিশালে আসবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবাট মিলার তিনদিনের জন্য বরিশালে এসেছিলেন। কীর্তনখোলা তীর এই জনপদের সৌন্দর্য অবলোকনে। হলেন মুগ্ধ, আরও আকৃষ্ট হয়ে বলেশ্বরের তীর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়াসহ ঝালকাঠির পেয়ারা বাগান ঘুরে ঘুরে দেখলেন। তিনদিনের তাঁর এই সফরের কোন সরকারি রাগঢাক ছিল না। বলা যায় অনেকটাই একান্ত পরিবেশে বরিশালের দর্শনার্থী স্থানগুলো একে এতে দেখলেন। আর সৌন্দর্য উপভোগ করে নিজেকে মিলাতে পারছে না তিনি আসলে কতটা মুগ্ধ। আর্ল রবার্ট মিলারের ভাষায়- রুপসী বাংলা রুপ কত যে সুন্দর তা না দেখলে বোঝার উপায় নেই। সেই সাথে স্মরণ করিয়ে দিলেন বরিশাল যে বাংলার ভেনিস সেই কবি জীবনানন্দ দাশের উক্তি অমুলন নয়। তিনদিন তিনি ঘুরেছেন গ্রামের পর গ্রাম আবার রাতে ফিরে এসেছেন নগরীর অভিজাত হোটেল গ্রান্ডপার্কে।

তিনি স্বীকার করেছেন ভোর হলেই আগে থেকে নির্ধারন করা স্থানগুলো দেখতে বেড়িয়েছেন। সৌন্দর্যপিপাসু এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত কী ভাবে যে বাংলার ভেনিসে তিনদিন কেটে গেল তা তিনি আঁচ করতে পারেননি। কিন্তু সৌন্দর্য উপভোগে ষোলআনাই ছিলেন সচেতন। সরকারি প্রটকলের মাঝে অনেকটা সাদামাটা রবার্ট মিলার একাকী এসেছিলেন। ব্যতিক্রম তো এখানেই তিনি সরকারি বা রাজনৈকি অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাসের সাথে প্রথম দিন এসে এক বিকেল কাটিয়েছিলেন হাস্যজ্জল। আবার ভাগ্যচক্রে ভান্ডারিয়ায় অবস্থানকালে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যানের সাথে কিছু সময় সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এই দুই পর্ব ব্যতিত তিনি নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন কখনও নদীর তীরে আবার কখনও দর্শনার্থী স্থানে চারিধার। আজ ছিল তার বিদায়লগ্ন। তাই আজকের অর্ধবেলায় কাটে বরিশাল শহরে। খুব সকালে ঝালকাঠির ভিমরুলি পেয়ারা বাগানের সৌন্দর্য অবলোকন করে ভিন্ন এক মেজাজে দ্রুত ফিরে আসেন বরিশাল। এসেই তিনি বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ সংলগ্ন সনাতন ধর্মালম্বীদের উপাসনায় শ্রী শ্রী শংকর মঠ পরিদর্শন করেন। এসময় কিছুটা পুলিশ প্রশাসন দেখে অনুমান করা গেছে বরিশালে কোন ভিআইপি অবস্থান করছেন।

এরপর যথারীতি সাদামাটা রবার্ট মিলার ছুটে যান বরিশাল শহরের বগুড়া রোডের অক্সফোর্ড মিশন চার্চে। সেখানকার ধর্মীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান। কিন্তু কোন বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বিরত থাকেন। সম্ভবত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আগেই ভাগেই সেখানকার নেতাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। অবশ্য ভুল করেন নি বাংলাদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগািরক লুসি হন্টের সাথে সাক্ষাত করতে। বেশকিছু সময় দু’জনে কুশল বিনিময় করেন। তার সাথে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান- রাবর্ট তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সৌন্দর্য দেখে আপনে কতখানি মুগ্ধ। জবাবে লুসি হন্ট অট্ট হাসি দিয়ে বললেন বাংলার রুপ না দেখলে অতৃপ্ত থেকে যায়। তিনি বাংলার রুপে মুগ্ধ বলেইতো দীর্ঘকাল একানে কাটিয়ে দিলেন। পরে প্রার্থনায় অংশ নেন মার্নিক রাষ্ট্রদূত।

পরিশেষে বরিশালের মিডিয়াকর্মীদের সাথে কিছু সময় নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। সেখানে একটি কথাই তিনি বার বার উচ্চরণ করেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সময় পেলেই রুপসী বাংলার রুপ দেখতে বিভিন্ন জনপদে ছুটে চলছেন। ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশের আরও ৮টি জেলা ঘুরে দেখেছেন। কিন্তু নদীবেষ্টিত বরিশাল অঞ্চলের সাথে কোন জনপদের তুলনা করা ভার বলে তিনি মন্তব্য করেন। বরিশালের আর্থসামাজিক পরিবেশ ও প্রকৃতি তাকে আকর্ষিত মোহিত করেছে। সুযোগ পেলে আবার তিনি বরিশালে আসবেন বলে প্রতিশ্রুতিও রাখলেন। তিনি দিনোত্তর এই অঞ্চলের আরও উন্নয়ন দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরন্ত দুপুরে তিনি বিমানযোগে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওয়ান হন। এসেছিলেন নৌপথে গত সোমবার গ্রিনলাইন ওয়াটারবাসে। যাওয়ার বেলায় গেলেন বিমানে চেপে। এখানেও তার দেখার কিছু ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। সাদামাটা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চলন বলনও এই অঞ্চলের মানুষের মনে দীর্ঘদিন দাগ কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *