হজে ৫৪ নার্স মনোনয়নের দ্বিতীয় তালিকায়ও অনিয়ম!

অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে সৌদি আরব রওয়ানা হওয়ার শেষ মুহূর্তে হজ চিকিৎসক দল-২০১৯ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মনোনয়নপ্রাপ্ত ৫৪ নার্সের তালিকা বাতিল করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তাদের স্থলে নতুন করে ৫৪ নার্সের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নতুন এই মনোনয়নপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক নার্স জানান, হজ চিকিৎসক দল গঠন নীতিমালা অনুসারে, হজ টিমে মনোনয়নপ্রাপ্ত নার্সদের বয়স হতে হবে ৩৫ থেকে ৫৫ বছর। নতুন ঘোষিত বয়সসীমার কম বয়সী এবং অতিরিক্ত বয়সী নার্সদেরও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। হজ চিকিৎসক দলে আবেদন করেননি, এমন নার্সদেরও টিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন মনোনয়নপ্রাপ্ত নার্সদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ বার ও সর্বনিম্ন ২ বার হজ করেছেন, এমন নার্সও রয়েছেন। দ্বিতীয় এই তালিকাতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

জানা গেছে, হজ চিকিৎসক দলের সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে গেলে একেকজন নার্স পবিত্র হজ পালন করার সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি নগদ ৭-৮ লাখ টাকা বেতনভাতা পান। এ কারণে নাম লেখাতে কেউ কেউ ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে, এর আগে হজ চিকিৎসক দল থেকে এক সঙ্গে ৫৪ জন নার্সের মনোনয়ন বাতিলের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত সঠিক নাকি ভুল, তা নিয়ে নার্সিং সেক্টরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছ।

কেউ বলছেন, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে এভাবে হজ টিম থেকে এত নার্সের মনোনয়ন বাতিল করা ঠিক হয়নি। আবার কেউ বলছেন, প্রকাশ্যে বলা না হলেও অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি যে হয়েছে, তার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চিকিৎসক দলের সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে যাত্রার শেষ মুহূর্তে তালিকা থেকে বাদ পড়া ৫৪ নার্সের অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের সহকর্মীরা।

তাদের অনেকেই হাসপাতালে কর্মস্থলে যাচ্ছেন না, কিংবা ছুটি নিয়ে বাসায় থাকছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে মনোনয়নপ্রাপ্ত ৫৪ নার্সের মনোনয়ন বাতিল করার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নার্সদের কয়েকজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের বলা হয়, এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে চাকরির সমস্যা হবে।

বাতিল পড়া নার্সদের কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বলেন, যে অভিযোগে তাদের মনোনয়ন বাতিল হলো, এখন কি একই অভিযোগে দ্বিতীয় তালিকার নার্সদের নামও বাতিল করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বলেন, নার্স মনোনয়ন দেয়া কিংবা বাতিল করার এখতিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এ ব্যাপারে তাদের কিছু বলার নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেয়ার সময় এখন নেই। তবে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি-না, তা গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *