সন্ধ্যা নামলেই কিশোরীদের তুলে নিত গাড়িগুলো

সন্ধ্যা নামলেই কিশোরীদের তুলে নিত গাড়িগুলো

সন্ধ্যা নামলেই সাদা-কালো রঙের গাড়িতে বিভিন্ন লোকের আনাগোনা শুরু হতো হোমে। তারা ‘ম্যাডাম’ বলে ডাকত হোমের মালকিন গিরিজা ত্রিপাঠীকে। তার সঙ্গে কথাবার্তার পরই মেয়েদের গাড়ি করে নিয়ে চলে যেত ওই লোকগুলো। গভীর রাতে আবার ফিরিয়ে দিয়ে যেত। গত তিন বছর ধরে এটাই ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ার হোমের নিত্য দিনের রুটিন।

হোম থেকে পালিয়ে এসে পুলিশকে এ কথাই জানিয়েছিল বছর দশের মেয়েটি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, আবাসিকদের জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হত। কেউ মুখ খুললে তার ওপর চলত নির্মম অত্যাচার।

রবিবার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দেওরিয়ার ওই হোম থেকেই ২৪ জন নাবালিকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে হোমের ১৮ আবাসিক নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, দেওরিয়ার ওই হোমে মোট ৪২ জন আবাসিক ছিল। মূলত ১৫-১৮ বছরের মেয়েরাই থাকত সেখানে। সরকারি সহযোগিতায় হোমটি চালাতেন গিরিজা ত্রিপাঠী এবং মোহন ত্রিপাঠী।

২০১৭ সালে দেশ জুড়ে বিভিন্ন হোমে যখন তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল সিবিআই, সে সময় দেওরিয়ার এই হোমের বেশ কিছু অনিয়ম সামনে আসে। তারপরই সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করে দেয়া হয় হোমটির। কিন্তু তারপরেও ত্রিপাঠি দম্পতি হোমটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

গত সপ্তাহেই রাজ্য পুলিশের একটি দল হোমে তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিল। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ওই দম্পতি। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরও করে পুলিশ।

বিহারের মুজাফফরপুরের হোমের ঘটনা নিয়ে দেশ জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই বিতর্কের মধ্যেই রবিবার দেওরিয়ার হোমের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মুজাফফরপুরের ঘটনায় বিহার সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। হোমের নাবালিকদের ধর্ষণের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে নীতীশ সরকারকে।

দেওরিয়ার হোমের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কালবিলম্ব না করে খোদ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ময়দানে নেমে পড়েছেন।

তড়িঘড়ি নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী রীতা বহুগুণা জোশিকে ডেকে পাঠান তিনি। সরিয়ে দেয়া হয় জেলাশাসক এবং এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে। গ্রেপ্তার করা হয় ত্রিপাঠী দম্পতি ও তাদের মেয়েকে। সিল করে দেয়া হয় হোমটি।

পুলিশ সুপার রোহন পি কনয় জানিয়েছেন, হোম থেকে দত্তক নেয়ার ক্ষেত্রেও বহু গরমিল পাওয়া গিয়েছে। কারা দত্তক নিতেন, দত্তক নেয়া মেয়েদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হত, এর সঙ্গে নারীপাচারের যোগ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী রীতা বহুগুণা জোশি বলেন, ‘হোমটি সম্পূর্ণ বেআইনি। সিবিআইয়ের তদন্তের পর আইনি নোটিস পাঠানো হয় হোমে। এর স্বীকৃতিও বাতিল করে দেয়া হয়। হাইকোর্টে মামলাটি ঝুলছে।’

পাশাপাশি তিনি আরও জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে হোমের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছিল। হোমের আবাসিকদের সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল প্রশাসনকে। ত্রিপাঠী দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবেও বলে জানিয়েছেন রীতা।

প্রশ্ন উঠছে, সরকারি স্বীকৃতি বাতিল হয়ে গেলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় হোমটি এত দিন ধরে কীভাবে চালাচ্ছিলেন ত্রিপাঠী দম্পতি। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলি ময়দানে নেমে পড়েছে। তারা সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *