বরিশালে শিক্ষার্থীদের মেস থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বরিশালে মেসে বসবাসরত পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ছিনতাইয়ের ৫ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার ও ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের নতুল্লাবাদ লুৎফর রহমান সড়কে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. মোকতার হোসেনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে পুলিশের উপ-কমিশনার বলেন, বরিশাল নগরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি এলাকার মৃধা বাড়ির সোহরাব মৃধার বাসার দ্বিতীয় তলায় ফ্লাটে ইনফ্রা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল পঞ্চম সেমিস্টারের ৪ জন ছাত্র বসবাস করেন। তারা রোববার রাত ৯ টার দিকে রুমে বসে লুডু খেলছিল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত ৩-৪ জন যুবক তাদের রুমে প্রবেশ করে এবং দরজা আটকে দেয়। পরে তাদের মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র (কাটার) দিয়ে ‘খুন’ জখমের হুমকি দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মডেলের ৫টি মোবাইল ফোন সেট ও নগদ ১ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এর কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থীরা বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় বাড়িওয়ালা সোহরাব মৃধার ছেলে মো. সালমান মৃধাকে (২১) প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে সালমান মৃধার দেয়া তথ্যানুযায়ী ওই রাতেই বাসার অপর ভাড়াটিয়া ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গিলাবাদ এলাকার কার্তিক দেবনাথের ছেলে পার্থ দেবনাথ অনিক (২১) ও বরিশাল নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাফিজ খানের ছেলে মো. মারুফ খানকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মারুফ খানের দেয়া তথ্যানুযায়ী ছাত্রদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ৫ টি মোবাইল ফোন সেট ও নগদ ১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযোগ জানার প্রায় ৫ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে, এ ঘটনার সাথে আরও ২ জন সম্পৃক্ত থাকার খবর রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পাশাপাশি এ ঘটনায় ইনফ্রা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র মো. রেদওয়ানা বাদী হয়ে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *