বরিশালে আনন্দ-অশ্রুতে দেবী দূর্গাকে বিসর্জন

বরিশালে আনন্দ-অশ্রুতে দেবী দূর্গাকে বিসর্জন
স্টাফ রিপোর্টার//স্বর্না বিস্বাস:
বিজয়া দশমীতে দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। শুভ শক্তির জয়ের প্রত্যাশা জানিয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন ভক্তরা। ছিল পূজার আনন্দের রেশ আর বিদায়ের সুরও। আসছে বছর আবার হবে, এই প্রত্যাশায় এবার আনন্দের রেশটুকু থেকে যাবে আগামী সময়ের জন্য।
সারা দেশের মতো বরিশালেও নানা আয়োজনে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সকালে বরিশাল নগরীর রাম কৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে জড়ো হন পুণ্যার্থীরা। এ সময় দেবী দুর্গার বিদায়ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ভক্তদের চোখে মুখে ছিলো বেদনার ছাপ। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদায় নিচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তার পরিবার।

এদিকে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের দশমীতে আজ মঙ্গলবার মণ্ডপে মণ্ডপে দশমীর বিহীত পূজার মধ্য দিয়ে ঘটে সমাপ্তি। অতঃপর দেবীর বিসর্জন আর ‘শান্তিজল’ গ্রহণ। গত শুক্রবার বোধনে অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা উমাদেবীর আগমন ঘটে মর্ত্যে। হিন্দু বিশ্বাসে- টানা পাঁচদিন মৃন্ময়ীরূপে মণ্ডপে মণ্ডপে থেকে ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। আর ‘শান্তিজল’ গ্রহণে শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

ধান-দূর্বার দিব্যি, ফের এসো মা/মা তুমি আবার এসো- ভক্তদের এমন আকুতিতে বিদায় নিচ্ছেন দেবী। আজ সকাল থেকেই বিহিত পূজার পর ভক্তের কায়মনো প্রার্থনা আর ঢাক-উলুধ্বনি-শঙ্খনিনাদে হিন্দু রমণীদের পরম আকাঙ্ক্ষিত সিঁদুর খেলায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দিরগুলো। একদিকে বিদায়ের সুর। অন্যদিকে উৎসবের আমেজ।

নিরঞ্জনে অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই বরিশালের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে ভক্তরা ট্রাক ও ঠেলাগাড়িতে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন। শোভাযাত্রার পূর্বে নারীরা দেবীর ললাটের সিঁদুর আপন ললাটে এঁকে নেন। পুরুষরা অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করেন। তাদের অন্তরের কামনা আগামী শরতে আবার বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে ফিরে আসবেন মা ‘উমা’।

মন্দির ও শোভাযাত্রার পথে বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল র‌্যাব সদস্যদেরও। ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর হেঁটে এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হয়ে ভক্তরা ঢাক-ঢোল, করতাল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রসহ শোভাযাত্রায় যোগ দেয়।

রাস্তার দু’পাশে দাঁড়ানো হিন্দু নারীদের উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারদিক। বিকেল তিনটার পর মন্দির থেকে বিজয়ার শোভাযাত্রা শুরু হয়ে  কির্তণখোলা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়।

প্রতিমা ঘাটে নিয়ে আসার পর ভক্তকুল শেষবারের মতো ধূপ-ধুনো নিয়ে আরতিতে মেতে ওঠেন। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেয়া হয়। নদীপাড়ে ধর্মীয় রীতি মেনে অপরাজিতা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে ‘বল দুর্গা মায় কি, জয়’ ধ্বনিতে প্রতিমা পানিতে ফেলে গ্রহণ করা হয় ‘শান্তিজল’। অনেকে ঘরে আনেন সেই ‘শান্তিজল’।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *