Category: ধর্ম

  • রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?

    রোজা রেখে আতর-পারফিউম ব্যবহার করা যাবে?

    প্রশ্ন: রোজা রেখে আতর কিংবা সেন্ট ব্যবহার করা যাবে কি? যদি ভুলে করে ব্যবহার করে ফেলে সে ক্ষেত্রে করণীয় কী?

    উত্তর: রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে কোনও জিনিস প্রবেশ করা। আতর বা পারফিউমের ঘ্রাণ নেওয়ার কারণে সরাসরি তা শরীরে প্রবেশ করে না। তাই রোজা রেখে আতর, সুগন্ধি ও পারফিউম ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না।

    সাধারণ সময়ের মতো রমজান মাসেও আতর, পারফিউম ব্যবহার করা যাবে, এতে কোনো বাধা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে আতর ও পারফিউমে ধোঁয়ার মত কিছু না থাকে অর্থাৎ পেটে প্রবেশ করার কোনো সুযোগ থাকা যাবে না!

    ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা (আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটির ফতওয়াসমগ্র)-তে এসেছে, যে ব্যক্তি রমজানের দিনের বেলায় রোজা অবস্থায় কোনো প্রকারের সুগন্ধি ব্যবহার করেছে তার রোজা নষ্ট হয়নি। তবে উদ্ভিদজাতীয় বস্তু থেকে ঘ্রাণ শোঁকা ও গুঁড়ো সুগন্ধি যেমন গুঁড়ো মিশক থেকে ঘ্রাণ নেবে না। (কেননা এগুলো পেটে ঢুকে যাওয়ার আশংকা থাকে।) (ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ১০/২৭১)

    বর্তমান অধিকাংশ পারফিউম ও স্প্রেতে অ্যালকোহল থাকে। তবে অ্যাকোহলমুক্ত পারফিউমও পাওয়া যায়। তাই পারফিউম বা স্প্রে ব্যবহার করতে চাইলে অ্যাকোহলমুক্তগুলোই খরিদ করবেন।

    অ্যাকোহলযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করা অনুত্তম। নাজায়েজ বা নাপাক নয়। তাই কাপড় বা শরীরে স্প্রে লাগিয়ে নামাজ পড়লে নামাজ সহিহ হয়ে যাবে।

    মাবসূতে সারাখসী ২৪/৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৩০; তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম ১/৫৫১, ৩/৬০০; মাজমুআতুল ফাতাওয়া শারইয়্যাহ ১/১৮৪, ৪/৪৫

  • গর্ভবতী নারীর রোজার মাসয়ালা

    গর্ভবতী নারীর রোজার মাসয়ালা

    গর্ভবতী নারীদের মধ্যে রোজা নিয়ে অনেক ধরনের প্রশ্ন থাকে। কেউ বলে রোজা রাখা যাবে, আবার কেউ বলে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে রোজা রাখা যাবে কি না তা নির্ভর করে গর্ভবতীর স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর।

    রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী নারী নিজের বা তার সন্তানের প্রাণহানী বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর প্রবল আশঙ্কা হলে তার জন্য রোজা না রাখা বা ভাঙা জায়েয। তবে পরে কাজা করে নিতে হবে।

    হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। (জামে তিরমিযী- ৭১৫)

    হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে গর্ভবর্তী নারী নিজের জীবনের আশংকা করে এবং যে স্তন্যদানকারী নারী নিজের সন্তানের জীবনের উপর আশংকা করে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এদের উভয়ের জন্য সাওম ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ দিয়েছেন। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৬৬৮)

    দুগ্ধপানকারিনী ও গর্ভবতী মায়ের দুইটি অবস্থা হতে পারে:

    ১. রোজা রাখার দ্বারা তার স্বাস্থ্যের উপর কোন প্রভাব না পড়বে না। অর্থাৎ তার জন্য রোজা রাখাটা কষ্টকর না হওয়া এবং তার সন্তানের জন্যেও আশংকাজনক না হওয়া। এমন নারীর উপর রোজা রাখা ফরজ; তার জন্য রোজা ভাঙা নাজায়েজ।

    ২. রোজা রাখলে তার নিজের স্বাস্থ্য অথবা সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশংকা করা এবং তার জন্যে রোজা রাখাটা কষ্টকর হওয়া। এমন নারীর জন্য রোজা না-রাখা জায়েয আছে; তিনি এ রোজাগুলো পরবর্তীতে কাজা পালন করবেন। বরং এ অবস্থায় নারীর জন্য রোজা না-রাখাই উত্তম; রোজা রাখা মাকরূহ।

    কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যদি তার সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশংকা হয় তাহলে তার উপর রোজা ছেড়ে দেওয়া ফরজ; রোজা রাখা হারাম।

    আল-মুরদাউয়ি ‘আল-ইনসাফ’ নামক গ্রন্থে (৭/৩৮২) বলেন: এমতাবস্থায় এ নারীর জন্য রোজা রাখা মাকরূহ…। ইবনে আকীল উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভবতী ও দুগ্ধপানকারিনী নারী যদি নিজের গর্ভস্থিত ভ্রূণ ও সন্তানের ক্ষতির আশংকা করেন তাহলে রোজা রাখা জায়েজ হবে না; আর যদি ক্ষতির আশংকা না করেন তাহলে রোজা ছেড়ে দেয়া জায়েয হবে না।

    শাইখ উছাইমীনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল গর্ভবতী নারী যদি নিজের স্বাস্থ্যহানি বা সন্তানের স্বাস্থ্যহানির আশংকায় রোজা না রাখে এর কী হুকুম?

    উ্ত্তরে তিনি বলেন: আমাদের জবাব হচ্ছে- গর্ভবতী নারীর দুইটি অবস্থার কোন একটি হতে পারে:

    ১. শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও কর্মোদ্যমী হওয়া, রোজা রাখতে কষ্ট না হওয়া, গর্ভস্থিত সন্তানের উপর কোন প্রভাব না পড়া- এ নারীর উপর রোজা রাখা ফরজ। যেহেতু রোজা ছেড়ে দেয়ারজন্য তার কোন ওজর নেই।

    ২. গর্ভবতী নারী রোজা রাখতে সক্ষম না হওয়া: গর্ভ ধারণের কাঠিন্যের কারণে অথবা তার শারীরিক দুর্বলতার কারণে অথবা অন্য যে কোন কারণে। এ অবস্থায় এ নারী রোজা রাখবে না।

    বিশেষতঃ যদি তার গর্ভস্থিত সন্তানের ক্ষতির আশংকা করে সেক্ষেত্রে রোজা ছেড়ে দেয়া তার উপর ফরজ। যদি সে রোজা ছেড়ে দেয় তাহলে অন্য ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের যে হুকুম তার ক্ষেত্রেও একই হুকুম হবে তথা পরবর্তীতে এ রোজাগুলো কাজাপালন করা তার উপর ফরজ।

    অর্থাৎ সন্তান প্রসব ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর এ রোজাগুলো কাজাপালন করা তার উপর ফরজ। তবে কখনো হতে পারে গর্ভধারণের ওজর থেকে সে মুক্ত হয়েছে ঠিক; কিন্তু নতুন একটি ওজরগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, অর্থাৎ দুগ্ধপান করানোর ওজর। দুগ্ধপানকারিনী নারী পানাহার করার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়তে পারে; বিশেষতঃ গ্রীষ্মের দীর্ঘতর ও উত্তপ্ত দিনগুলোতে। এ দিনগুলোতে এমন নারী তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর জন্য রোজা ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এমতাবস্থায় আমরা সে নারীকে বলব: আপনি রোজা ছেড়ে দিন। এ ওজর দূর হওয়ার পর আপনি এ রোজাগুলো কাজাপালন করবেন।(ফাতাওয়াস সিয়াম পৃষ্ঠা-১৬২)

    যেসব কারণে গর্ভবতী মায়েদের রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে—

    এক. ধারাবাহিক বমি। কেননা বমি হওয়ার পর ১৫ ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় ধরে কোনো তরল পদার্থ গ্রহণ না করলে শুষ্কতার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে গর্ভবতী মা প্রচণ্ডভাবে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন।

    দুই. শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।

    তিন. বাচ্চার ওজনের ঘাটতি দেখা যাওয়া।

    চার. রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।

    এ ছাড়া আরও বিভিন্ন কারণে সমস্যা হতে পারে।

  • তারাবির নামাজ ছুটে গেলে করণীয়

    তারাবির নামাজ ছুটে গেলে করণীয়

    পবিত্র মাহে রমজানের বিশেষ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এই নামাজ প্রতিদিন এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর এবং বিতরের আগে আদায় করা হয়।

    ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, গুরুত্বের দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি। ওজর বা অপারগতা ছাড়া তারাবির নামাজ পরিত্যাগ করা উচিত নয়।

    ব্যস্ততার দরুণ অনেকেই নির্ধারিত সময়ে তারাবির নামাজের জন্য মসজিদে যেতে পারেন না। আবার অনেককে দেখা যায়, তারাবির নামাজ কয়েক রাকাত পড়ার পর মসজিদে যাচ্ছেন।

    এমন মুক্তাদির জন্য এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ের নিয়ম হলো- প্রথমে এশার ফরজ ও সুন্নত আদায় করা। পরে ইমামের সঙ্গে তারাবির নামাজে অংশ নেওয়া। তারাবির জামাত শেষে ইমামের সঙ্গে বিতর নামাজও জামাতে পড়ে নেওয়া। এরপর শুরুতে ছুটে যাওয়া তারাবির বাকি নামাজ আদায় করা।

    তবে কোনো কারণে তারাবির নামাজ পুরোটাই ছুটে গেলে সম্ভব হলে এবং রাতে সময় পেলে তারাবি পড়ে নেওয়া উত্তম। কিন্তু তারাবির সময় তারাবির নামাজ পড়তে না পারলে পরবর্তীতে আর কাজা করতে হবে না।

    পরবর্তীতে কেউ তারাবির নামাজের কাজা পড়লে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। তারাবি নামাজের কাজা বলে গণ্য হবে না।

    যেহেতু রমজান মাস অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতের মাস, এ মাসে ইবাদত-বন্দেগির সওয়াব অনেক বেশি। তাই রমজানে নামাজ ও জামাতের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মসজিদে চলে যাওয়া উচিত।

  • রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে?

    রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে?

    প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

    উত্তর: রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরূহ। আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোজাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করা যাবে না। টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করতে হলে সেহরির সময় শেষ হওয়ার আগেই করে নিবে।

    ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙে না। তবে ব্রাশ করার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন পেস্ট পেটে চলে না যায়। ভুল করে পেস্ট যদি পেটে চলে যায় তাহলে কিন্তু রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।

    এছাড়াও কেউ কেউ বলেছেন, টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে রোজা মকরুহ হয়ে যায়। তবে, ভেঙে যায় এমনটা কেউই বলেননি।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ হচ্ছে, গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহার।

    সুনানে আবু দাউদে যায়েদ বিন খালেদ আলজুহানী (রা.) বরাতে এক হাদিসে তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি—আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হলে তাদের ওপর মিসওয়াককে প্রতি নামাজের জন্য ফরজ করে দিতাম।

    এজন্য যদি ব্রাশ করতেই হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়, সাহরি শেষে পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, আবার ইফতারের পরও দাঁত ব্রাশ করা যায়। আর দিনের বেলা মিসওয়াক ব্যবহার করা।

    আমাদের মহানবী (সা.) মিসওয়াক ব্যবহার করতেন। আমরাও মিসওয়াক ব্যবহার করতে পারি। তাতে আমার রোজা নিয়ে কোনো প্রশ্নও উঠবে না, উলটো সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। তাছাড়া, মিসওয়াক করে নামাজ পড়লে তা উত্তম। রাসুল (সা.) প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে মিসওয়াক করতেন।

    সূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৫১৮

  • চাঁদ দেখা গেছে, সৌদি আরবে রোজা শুরু শনিবার

    চাঁদ দেখা গেছে, সৌদি আরবে রোজা শুরু শনিবার

    সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হবে পবিত্র রমজান।

    গলফ নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ১ মার্চ (শনিবার) পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন হবে।

    ইনসাইড দ্য হারামাইনের ফেসবুক পেজেও সৌদি আরবে চাঁদ উঠার তথ্য জানানো হয়েছে।

    সেখানে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ শুক্রবার রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে ২৯ দিনে শেষ হচ্ছে শাবান মাস। আর রমজানের প্রথম দিন হবে আগামীকাল শনিবার।

    এ বছর চাঁদ দেখে বিশ্বে সবার আগে রমজান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকেও একই ঘোষণা আসে। যদিও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। এ কারণে এ দুটি দেশে ২ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হবে। এছাড়া ফিলিপাইনও পরবর্তীতে জানায়, তাদের এখানেও আজ রাতে চাঁদ দেখা যায়নি। পাকিস্তানেও রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি।

    অপরদিকে আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া, ইথিওপিয়ায় রমজানের চাঁদ দেখা যায়। এছাড়া ফ্রান্সও কাল শনিবার থেকে রমজান শুরুর ঘোষণা দেয়।

  • শাবান মাসে কত তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা যাবে

    শাবান মাসে কত তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা যাবে

    মাহে রমজানে একাগ্রচিত্তে সিয়াম-সাধনা ও অধ্যবসায়ের প্রস্তুতি গ্রহণের মাস শাবান। সুতরাং রমজানের পূর্বপ্রস্তুতির জন্য শাবান মাস গুরুত্ববহ। রাসূল (সা.) শাবান মাসের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে শাবানকে নিজের মাস বলে আখ্যায়িত করেন।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, শাবান আমার মাস এবং রমজান আল্লাহর মাস। শাবান পবিত্রকারী এবং রমজান গুনাহ মাফকারী। (কানজুল উম্মার-৩৫২১৬)।

    অপর হাদিসে রাসূল (সা.) বিশেষভাবে শাবান মাস গণনা করার নির্দেশ দেন, যেন রমজানের রোজা রাখতে সুবিধা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা রমজানের উদ্দেশ্যে শাবানের চাঁদের হিসাব রাখবে। (সুনানে তিরমিজি-৬৮)।

    রমজানের রোজা বাদে শাবানের রোজা শ্রেষ্ঠ রোজা। এ ছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের এ মাসে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি রাত উপহার দিয়েছেন।

    রমজানের পর প্রিয়নবি শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.)কে শাবান মাস ছাড়া আর কোনো মাসে এত অধিক রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি শাবান মাসের অধিকাংশ দিনই রোজা রাখতেন। বরং প্রায় সারা মাসই তার রোজা অবস্থায় কাটত। (সুনানে নাসাই : হাদিস-২১৭৮, মুসনাদে আহমাদ : হাদিস-২৫৩৫৭)।

    শাবান মাসে অন্যান্য নেক আমলের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী রোযা রাখার চেষ্টা করা কর্তব্য।তবে এ রোজা রাখবে শাবান মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত। হাদিসে রমজানের এক-দুই দিন আগে রোযা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯১৪)

  • লাভের অংশ নির্ধারণ করে টাকা বিনিয়োগ করা জায়েজ?

    লাভের অংশ নির্ধারণ করে টাকা বিনিয়োগ করা জায়েজ?

    প্রশ্ন: আমি আমার এক বন্ধুকে এক লাখ টাকা নিম্নোক্ত শর্তাবলীতে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছি। ১. লোকসান হলে আমার। ২. যদি লাভ হয় তবে মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি, এরূপ ব্যবসায়িক চুক্তি বৈধ নয়।

    তাই আমার জিজ্ঞাসা, এ ব্যবসা থেকে অন্য কোনো পদ্ধতিতে লাভ নেওয়া যাবে কি না? কারণ, এক বছর ইতোমধ্যেই শেষ। আর বন্ধু জোর করছে টাকা নেওয়ার জন্য। যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে কিছু লাভ দেয় তা গ্রহণ করা হারাম হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

    উত্তর: প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ‘মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে’ এই শর্ত নাজায়েজ হয়েছে। এর কারণে আপনাদের পুরো চুক্তিই ফাসেদ হয়ে গেছে।

    কেননা, মূল এক লাখ টাকার শতকরা ১৮%-২৩% হল ১৮০০-২৩০০ টাকা। আর এভাবে নির্দিষ্ট অংক লাভ হিসেবে নির্ধারণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা সম্পূর্ণ হারাম।

    এখন যেহেতু আপনাদের চুক্তিটি ফাসেদ হয়েছে তাই আপনার বিনিয়োগকৃত এক লাখ টাকার উপর অর্জিত পূর্ণ মুনাফা আপনি পাবেন। আর আপনার বন্ধুকে এক বছর ব্যবসা পরিচালনার জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক দিবেন।

    আর ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কারবার করতে চাইলে চুক্তিটি এভাবে সংশোধন করে নিতে পারেন যে, সে আপনার টাকা দিয়ে ব্যবসা করবে। এরপর যদি ব্যবসায় লাভ হয় তবে লাভের এত ভাগ আপনি পাবেন এবং এত ভাগ সে পাবে (যেমন ৫০%-৫০% অথবা ৬০%-৪০%)

    এছাড়া দু’জনের সমঝোতায় শতকরা হিসেবে লাভের যে কোনো হার নির্ধারণ করতে পারেন।

  • শিশুদের শাসনে ইসলামের সীমারেখা

    শিশুদের শাসনে ইসলামের সীমারেখা

    শিশুদের তরবিয়ত ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে গিয়ে অনেক সময় শাস্তি দিতে হয়। পরিবার, স্কুল, মাদ্রাসা- সবখানেই শাস্তি স্বরূপ একটু-আধটু প্রহারের চল রয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে- প্রহার ও শাস্তি দিতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের মধ্যে বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু ইসলাম শিশুদের শাস্তি ও প্রহারের ক্ষেত্রেও সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এজন্য অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ (শাস্তি দিতে গিয়ে) আঘাত করলে, চেহারা থেকে বিরত থাকো।’ (আবু দাউদ)

    আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আবু বুরদা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘আল্লাহর দেওয়া নির্ধারিত হদ ছাড়া ১০ বেত্রাঘাতের বেশি মারা যাবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি টাউনের ফতওয়া বিভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রকে শাস্তির বিষয়ে একটি ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে বেশকিছু শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

    সেগুলো হলো- প্রহারের ক্ষেত্রে শিশুর বাবা-মা থেকে অনুমতি নিতে হবে। শাস্তির উদ্দেশ্য হতে হবে সতর্ক ও তরবিয়ত করা, রাগ ঝাড়া বা প্রতিশোধ আদায় করার জন্য না। শরিয়তে নিষিদ্ধ- এমন শাস্তি দেওয়া যাবে না। রাগ অবস্থায় মারা যাবে না; বরং যখন রাগ পড়ে যায়, তখন কপট রাগ দেখিয়ে শাস্তি দেয়া। শিশুর অবস্থা যেন শাস্তির উপযুক্ত হয়, অর্থাৎ যেন তার সহ্যের সীমা থেকে বেশি প্রহার না করা হয়। প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষককে তরবিয়তি শাস্তির অনুমতি থাকা।

    আরো শর্ত হলো- হাত দিয়ে মারতে হবে; লাঠি, ডাণ্ডা, চাবুক দিয়ে মারা যাবে না। যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে প্রয়জনে লাঠি দিয়েও মারা যাবে, তবে শর্ত হলো- সহ্যের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। একবারে তিন আঘাতের বেশি যেন না হয়। একই সঙ্গে এক যায়গায় তিনবার প্রহার করা যাবে না; তিনবার তিন জায়গায় প্রহার করতে হবে। মাথা, চেহারা এবং লজ্জাস্থান প্রহারের জায়গা নয়।

    শিশু শাস্তির উপযুক্ত হওয়া; এত ছোট না হওয়া- যাকে শাস্তি দিয়ে শেখানোর বয়সই হয়নি, তাকে মারা জায়েজ নেই। হাড় ভেঙ্গে যায়, চামড়া ফেটে যায় বা শরীরে.. অথবা বুকের মতো নাযুক স্থানে এর চিহ্ন থেকে যায়- এমন শাস্তি দেওয়া নাজায়েজ। (ফতোয়া নং :১৪৪৪০৯১০০৯১৫)

    মোটকথা, শাস্তির উদ্দেশ্য হলো- সংশোধন করা। এজন্য আদর-স্নেহের মনোভাব লুকিয়ে রেখে কঠোরতা প্রকাশ করা। কিন্তু এই কঠোরতাই যদি সন্তান বা ছাত্রের মনে স্থায়ী হয়ে যায়, তাহলে বিপরীতে শিশু বিগড়ে যাবে। প্রহারের ভয়ে সাময়িক বিরত থাকলেও পরবর্তীতে একই অপরাধ করবে।

    এজন্য দোষণীয় কাজের ব্যাপারে মানসিক পরিচর্যা অনেক গুরুত্ব রাখে। আমরা আমাদের বড়দের দেখি- তারা শাস্তি দেন, তারপর তাকে আলাদাভাবে আদর করেন, নাশতা করান। এত কিছু করার কারণ, যেন সে বিগড়ে না যায়।

    সুতরাং আগামী প্রজন্মকে সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত তরবিয়ত প্রদানে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়িতে লিপ্ত হওয়া যাবে না।

    এক্ষেত্রে একটি সুন্দর পদক্ষেপ হলো- বিশেষত শিক্ষক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া এবং এটি শিক্ষক নির্বাচনে আবশ্যক করে নেওয়া। তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রজন্মকে পার্থিব ও পরকালীন একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া সম্ভভ হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ কবুল করুন। আমীন।

  • শুভ মহালয়া আজ

    শুভ মহালয়া আজ

    বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ। এদিন থেকেই শুরু হয় দেবীপক্ষের। শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসাবে পরিচিত। আর এই চণ্ডীতেই আছে দেবীদুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো মহালয়া।

    পুরাণ মতে, এ দিন দেবীদুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। মহালয়া মানেই আর ৬ দিনের প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আর এ দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়।

    ৯ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত কাল থেকেই দুর্গাপূজার আনন্দধ্বনি শোনা যাবে। ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমির মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে উৎসবের। পূজার এই সূচনার দিনটি সারা দেশে আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হবে। ভোরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য মন্দিরে এ উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

    বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা সব অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক রূপে পূজিত। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণে আছে, মহালয়ার দিনে দেবীদুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান।

  • কঠিন কাজ পূর্ণ ও সহজ হওয়ার দোয়া

    কঠিন কাজ পূর্ণ ও সহজ হওয়ার দোয়া

    দোয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। যে কোনো সময় যে কোনো দোয়া পড়া যায়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রসুল সা. আমাদের দোয়া শিখিয়েছেন। এমনকি ছোট থেকে ছোট বিষয়েরও দোয়া শিখিয়েছেন।

    যেকোনো কাজে চেষ্টা-প্রচেষ্টা উপলক্ষমাত্র। কাজ সম্পাদনের এবং তা কঠিন বা সহজ করে দেওয়া আল্লাহর কুদরতের অধীন। আল্লাহ তাআলা চাইলে কারো কঠিন কাজ সহজ করে দেন এবং তিনি ইচ্ছা করলে সহজ কাজও কঠিন হয়ে যায়।

    তাই মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে এই মর্মে দোয়া করেন, ‘আর (হে আল্লাহ) আমার কাজ সহজ করে দাও।’ (সুরা ত্বহা: ২৬)

    এ কারণে ছোট-বড় যে কোনো কাজ করার পর আল্লাহতায়ালার কাছে তাওফিক চেয়ে দোয়া করা। অসখ্য হাদিসে নেক কাজের তাওফিক লাভের জন্য দোয়া করার কথা বর্ণিত হয়েছে।

    এই তাওফিক লাভের দোয়ায় কঠিন কাজ সহজ হওয়ার একটি উপায়। অভিধানমতে, তাওফিক অর্থ ক্ষমতা, শক্তি ও সামর্থ্য। কিন্তু ইসলামের পরিভাষায় তাওফিক হলো, খারাপ কাজের পথ রুদ্ধ করা এবং ভালো কাজের পথ সহজ করা। (আল-মুজামুল ওয়াসিত)

    কাজ পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত একটি দোয়া ব্যাপক কার্যকরী। দোয়াটি হলো-

    رَبَّـنَـا تَـقَـبَّـلْ مِـنَّـا اِنَّـكَ اَنْـتَ السَّـمِـيْـعُ الْـعَـلِـمُ وَتُـبْ عَـلَـيْـنَـا اِنَّـكَ اَنْـتَ الـتَّـوَّابُ الرَّحِـيْـمُ

    উচ্চারণ: রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস্ সামী‘ঊল ‘আলীম। ওয়াতুব্ ‘আলাইনা, ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহিম।

    অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ কাজকে তুমি কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত; এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমিতো অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    কঠিন কাজ সহজ হওয়ার বিষয়ে হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ইবনে হিব্বানে একটি দোয়া এসেছে।

    اللهم لا سهل الا ماجعلته سهلا وانت تجعل الحزن اذا شئت سهلا

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলান, ওয়া আনতা তাজআলুল হাঝনা ইজা শিতা সাহলান।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি যা সহজ করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর যখন আপনি ইচ্ছা করেন তখন কঠিনকেও সহজ করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ২৪২৭)