Category: ধর্ম

  • সতর খুলে গেলে কি ওজু ভেঙ্গে যায়?

    সতর খুলে গেলে কি ওজু ভেঙ্গে যায়?

    ‘সতর’ শব্দটি আরবি ‘আস-সাতরু’ ধাতুমূল থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ ঢেকে রাখা। অর্থাৎ শরীরের যেসব অঙ্গ লজ্জার কারণে ঢেকে রাখা হয় তাকে সতর বলা হয়।

    ইসলামের পরিভাষায়, পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। অর্থাৎ এতটুকু স্থান অন্য ব্যক্তিদের সামনে ঢেকে রাখা ফরজ।

    নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম একটি শর্ত হলো সতর ঢেকে রাখা।

    অনেককে বলতে শোনা যায়, ওজু করার পর কোনোভাবে হাঁটু খুলে গেলে ওজু ভেঙ্গে যায়। তেমনি পা ধৌত করার সময় যদি হাঁটু খুলে যায় তাহলেও যতটুকু ওজু করা হয়েছে তা ভেঙ্গে যায়। তাই আবার শুরু থেকে ওজু করতে হবে। এ কারণে অনেককে নতুন করে ওজু করতেও দেখা যায়।

    এ ধারণা ঠিক নয়। হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঢেকে রাখা অপরিহার্য। পা ধোয়ার সময় সতর্কতার সঙ্গে ধোয়া উচিত যেন হাঁটু খুলে না যায়। কিন্তু এ কথা ঠিক নয় যে, হাঁটু খুলে গেলে ওজু ভেঙ্গে যায় কিংবা ওজুর মাঝে এমনটি হলে নতুন করে ওজু করা জরুরি।

    ওজু ভঙ্গের যেসব কারণ রয়েছে তাতে সতর খুলে যাওয়ার কথা নেই।

  • ইহরামের সময় নারীদের চেহারা খোলা রাখা যাবে?

    ইহরামের সময় নারীদের চেহারা খোলা রাখা যাবে?

    প্রশ্ন: আমরা কয়েকজন আল্লাহর ঘরে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। আমরা একটি পত্রিকায় পড়েছি যে, ইহরামের সময় নারীদের চেহারায় কাপড় না লাগে এমন হ্যাট জাতীয় উঁচু কিছু ব্যবহার করে তার উপর নেকাব ঝুলিয়ে পর্দা করা ওয়াজিব।

    এখন আমাদের প্রশ্ন হল, কারো যদি এভাবে চেহারার পর্দা করা কষ্টকর হয় এবং এজন্য চেহারা খোলা রাখতে বাধ্য হন তবে কি তিনি গুনাহগার হবেন? ইহরাম ধারণ কালীন সময়ের জন্য কি তিনি শরীয়তের দৃষ্টিতে এতটুকু ছাড় পাবেন?

    উত্তর: ইহরাম অবস্থাতেও নারীদের চেহারার পর্দা করার বিধান আছে- এসময়ে চেহারায় কাপড় লাগানো নিষেধ। কিন্তু ঢাকা নিষেধ নয়।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বার্ণিত আছে, তিনি বলেন- ইহরাম অবস্থায় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। লোকেরা যখন আমাদের পাশ দিয়ে যেত তখন আমরা আমাদের চাদর মাথায় সামনে ঝুলিয়ে দিতাম। আর চলে যাওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলতাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৮৩৩)

    এ হাদিস থেকেই ইহরাম অবস্থায় চেহারা ঢাকার হুকুম ও গুরুত্ব বুঝা যায়।

    মনে রাখা দরকার যে, হজ-ওমরার কাজগুলো সাধারণত পুরুষ-নারী সম্মিলিতভাবেই আদায় করা হয়। তাই এক্ষেত্রে নারীদের দায়িত্ব যথাসম্ভব পর্দায় থাকা এবং পুরুষদের দায়িত্ব নিজ নিজ চোখের হেফাজত করা।

    সুতরাং ক্যাপ বা হ্যাট জাতীয় কিছু মাথায় লাগিয়ে চেহারা ঢেকে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্য রাস্তায় চলাচলের সময় অথবা বেশি ভিড়ের মধ্যে প্রয়োজনে চেহারা খোলারও অবকাশ আছে।

    আর কারো জন্য যদি কোনো কারণে ক্যাপ ব্যবহার করা কষ্টকর হয়ে যায় তাহলে তার জন্য ছাড় গ্রহণের অবকাশ থাকবে ইনশাআল্লাহ। অবশ্য সতর্কতামূলক এজন্য ইস্তিগফার করতে থাকবে।

    সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৪৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৬; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ.১১৫

  • কুরআন তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করবেন যেভাবে

    কুরআন তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করবেন যেভাবে

    হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা,) নামাজে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। যখনই কোনো সেজদার আয়াতে পৌঁছতেন,তখন তাকবির বলে সোজা সেজদায় চলে যেতেন। আমরাও তার সঙ্গে সেজদায় চলে যেতাম। (সুনানু আবি-দাউদ-১৪১৩)

    নামাজে হোক বা নামাজের বাহিরে হোক, সর্বমোট ১৪টি আয়াতে তিলাওয়াত করার পর সেজদা করা ওয়াজিব হয়। এ ওয়াজিব ছেড়ে দিলে বান্দা অবশ্যই গোনাহগার হবে।

    পুরো কুরআন শরিফের তেলাওয়াত শেষ করে একবারে বা এক বৈঠকে-১৪টি সিজদা আদায় করাও জায়েজ হবে। তবে তিলাওয়াতের সঙ্গে সঙ্গে আদায় করাটাই উত্তম।

    আপনি যদি নামাজের বাহিরে তিলাওয়াত করে থাকেন। তবে হিসাব করে যতটি তিলাওয়াতে সেজদা চলে গেছে ততটি তিলাওয়াতে সেজদা আদায় করে নিবেন।

    আর যদি নামাজের ভেতরে তেলাওয়াত করে থাকেন,এবং তিলাওয়াতে সেজদা পড়ার পর তিন আয়াতকে অতিক্রম না করে বরং এর ভেতরেই নামাজের রুকু করে সেজদায় চলে যান। তাহলে বিনা নিয়তে নামাজের সেজদার সঙ্গে আপনার উপর ওয়াজিব হয়ে যাওয়া তিলাওয়াতে সেজদা আদায় হয়ে গেছে।

    যেমন ফাতাওয়ায়ে শামীতে বর্ণিত রয়েছে- নামাজে আয়াতে সেজদা তিলাওয়াত করার পর সঙ্গে সঙ্গে নামাজের রুকু করে সেজদায় চলে গেলে বিনা নিয়তে নামাজের সেজদার সঙ্গে তিলাওয়াতে সেজদা আদায় হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী-২/১১২)

    তিলাওয়াতের সিজদার সময় দাঁড়ানো থেকে সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা করে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়া উভয়টিই মুস্তাহাব। তাই একাধিক তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে চাইলেও এভাবেই করা উচিত। তবে বসে বসে সিজদা করলেও সিজদা আদায় হয়ে যাবে। আর তিলাওয়াতের সিজদার জন্য তাকবির অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাওয়া সুন্নত।

  • কিভাবে দোয়া করলে কবুল হবে?

    কিভাবে দোয়া করলে কবুল হবে?

    দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। অসম্ভবকে সম্ভব করার মাধ্যম। মহান রবের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের সেতুবন্ধন।

    মানবজীবনে দোয়ার গুরুত্ব অনেক। তাই দোয়া না করলে বা উদাসিন থাকলে আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন। এক হাদীসে নবীজি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দোয়া করে না আল্লাহ তার ওপর রাগ হন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭৩)।

    দোয়া কবুল হওয়ার বেশকিছু শর্ত রয়েছে

    যেমন: ১. আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে না ডাকা

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাসকে (রা.) উদ্দেশ্য করে বলেন: যখন প্রার্থনা করবে তখন শুধু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে এবং যখন সাহায্য চাইবে তখন শুধু আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাইবে। (সুনানে তিরমিযি (২৫১৬), আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন)

    এটাই হচ্ছে আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ ‘আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহ্‌রই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না। (সূরা জিন, আয়াত: ১৮)

    দোয়ার শর্তগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ শর্ত পূরণ না হলে কোনো দোয়া কবুল হবে না, কোন আমল গৃহীত হবে না। অনেক মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মৃতব্যক্তিদেরকে মাধ্যম বানিয়ে তাদেরকে ডাকে। তাদের ধারণা যেহেতু তারা পাপী ও গুনাহগার, আল্লাহর কাছে তাদের কোন মর্যাদা নেই; তাই এসব নেককার লোকেরা তাদেরকে আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিল করিয়ে দিবে এবং তাদের মাঝে ও আল্লাহ্‌র মাঝে মধ্যস্থতা করবে।

    এ বিশ্বাসের কারণে তারা এসব বুজুর্গদের মধ্যস্থতা ধরে এবং আল্লাহ্‌র পরিবর্তে এ মৃতব্যক্তিদেরকে ডাকে। অথচ আল্লাহ্‌ বলেছেন: আর আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন আপনি বলে দিন) নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী। দোয়াকারী যখন আমাকে ডাকে তখন আমি ডাকে সাড়া দিই। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

    ২. শরিয়ত অনুমোদিত কোন একটি মাধ্যম দিয়ে আল্লাহতায়ালার কাছে ওসিলা দেওয়া

    ৩. দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করা। তাড়াহুড়া করা দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে বড় বাধা।

    হাদিসে এসেছে, তোমাদের কারো দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তাড়াহুড়া করে বলে যে: ‘আমি দোয়া করেছি; কিন্তু, আমার দোয়া কবুল হয়নি। (সহিহ বুখারী (৬৩৪০) ও সহিহ মুসলিম (২৭৩৫)

    সহিহ মুসলিমে (২৭৩৬) আরও এসেছে- বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে। বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাড়াহুড়া বলতে কী বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: বলে যে, আমি দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি; কিন্তু আমার দোয়া কবুল হতে দেখিনি। তখন সে ব্যক্তি উদ্যম হারিয়ে ফেলে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়।

    ৪. দোয়ার মধ্যে পাপের কিছু না থাকা। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া না হওয়া; যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসে এসেছে- বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে।

    ৫. আল্লাহ্‌র প্রতি ভালো ধারণা নিয়ে দোয়া করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন। (সহিহ বুখারী (৭৪০৫) ও সহিহ মুসলিম (৪৬৭৫)

    আবু হুরায়রার (রা.) হাদিসে এসেছে, তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস (একীন) নিয়ে আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া কর। (সুনানে তিরমিযি, আলাবানী সহিহুল জামে গ্রন্থে (২৪৫) হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন)

    তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র প্রতি ভাল ধারণা পোষণ করে আল্লাহ্‌ তার উপর প্রভুত কল্যাণ ঢেলে দেন, তাকে উত্তম অনুগ্রহে ভূষিত করেন, উত্তম অনুকম্পা ও দান তার উপর ছড়িয়ে দেন।

    ৬. দোয়াতে মনোযোগ থাকা। দোয়াকালে দোয়াকারীর মনোযোগ থাকবে এবং যার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে তার মহত্ত্ব ও বড়ত্ব অন্তরে জাগ্রত রাখবে।

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহ্‌ কোন উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না। (সুনানে তিরমিযি (৩৪৭৯), সহিহুল জামে (২৪৫) গ্রন্থে শাইখ আলবানী হাদিসটিকে ‘হাসান’ আখ্যায়িত করেছেন)

    ৭. খাদ্য পবিত্র (হালাল) হওয়া। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, আল্লাহ্‌ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। (সূরা মায়েদা, আয়াত: ২৭)

    এ কারণে যে ব্যক্তির পানাহার ও পরিধেয় হারাম সে ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়াকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদূরপরাহত বিবেচনা করেছেন।

    হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘ সফর করেছেন, মাথার চুল উস্কুখুস্ক হয়ে আছে; তিনি আসমানের দিকে হাত তুলে বলেন: ইয়া রব্ব, ইয়া রব্ব! কিন্তু, তার খাবার-খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় হারাম, সে হারাম খেয়ে পরিপুষ্ট হয়েছে তাহলে এমন ব্যক্তির দোয়া কিভাবে কবুল হবে? সহিহ মুসলিম, (১০১৫)

    ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) বলেন, হারাম ভক্ষণ করা দোয়ার শক্তিকে নষ্ট করে দেয় ও দুর্বল করে দেয়।

    ৮. দোয়ার ক্ষেত্রে কোন সীমালঙ্ঘন না করা। কেননা আল্লাহতায়ালা দোয়ার মধ্যে সীমালঙ্ঘন করাটা অপছন্দ করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক; নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫)

    ৯. ফরজ আমল বাদ দিয়ে দোয়াতে মশগুল না হওয়া। যেমন, ফরজ নামাজের ওয়াক্তে ফরজ নামাজ বাদ দিয়ে দোয়া করা কিংবা দোয়া করতে গিয়ে মাতাপিতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা।

    খুব সম্ভব বিশিষ্ট ইবাদতগুজার জুরাইজের (রহ.) কাহিনী থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ জুরাইজ (রহ.) তার মায়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে ইবাদতে মশগুল থেকেছেন। ফলে মা তাকে বদদোয়া করেন; এতে করে জুরাইজ (রহ.) আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন।

    ইমাম নববী (রহ.) বলেন, আলেমরা বলেছেন: এতে প্রমাণ রয়েছে যে, জুরাইজের জন্য সঠিক ছিল মায়ের ডাকে সাড়া দেয়া। কেননা তিনি নফল নামাজ আদায় করছিলেন। নফল নামাজ চালিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে- নফল কাজ; ফরজ নয়। আর মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব এবং মায়ের অবাধ্য হওয়া হারাম….(শারহু সহিহু মুসলিম (১৬/৮২)

  • ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা ও তাৎপর্য

    ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা ও তাৎপর্য

    ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে মা আমিনার কোলজুড়ে নেমে এলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

    পারস্যের কবি শেখ সাদী (রহ.) নবীজি সাল্লাল্লাহুর আগমন স্মরণ করে গেয়ে উঠেছেন,

    ‘বালাগাল উলা বি-কামালিহি,

    কাশাফাদ্দুজা বি জামালিহি,

    হাসুনাত জামিয়ু খিসালিহি,

    সাল্লু আলায়হে ওয়া আলিহি…’

    কবিতাটির ভাবার্থ হচ্ছে-

    ‘সাধনায় যিনি সুউচ্চ মর্যাদায় পূর্ণতায় পৌঁছেছেন

    যার সৌন্দর্যের ছটায় বিতাড়িত হয়েছে সমস্ত আঁধার,

    সব সচ্চরিত্রের সম্মিলন ঘটেছে যার মাঝে

    তবে আসুন দরুদ ও সালাম জানাই তার ও তার বংশধরদের প্রতি।

    বিশ্বনবীর আগমনে পুলকিত হয় দুনিয়া। এ আনন্দ মুক্তি ও শান্তির। আনন্দ সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সমমর্যাদার। বিশ্ব যখন অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও বহুবিধ কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলা হিদায়াতের আলোক প্রদীপরূপে পৃথিবীর বুকে পাঠিয়েছেন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে। তিনি পৃথিবীর বুকে এমন এক সুসভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা সর্বাঙ্গসুন্দর ও সমুজ্জ্বল আলোক আভায় উদ্ভাসিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসুল পাঠিয়েছি, যাতে তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো (কল্যাণ ও ন্যায়বিধান মেনে চলো) এবং তাগুত থেকে বেঁচে থাকো।’ (সুরা-১৬ নাহল, আয়াত: ৩৬)।

    রবি অর্থ বসন্ত। আউয়াল মানে প্রথম। রবিউল আউয়াল হলো আরবের বসন্তের প্রথম মাস বা প্রথম বসন্ত। রবিউল আউয়াল আরবি হিজরি চান্দ্রমাসের তৃতীয় মাস। প্রকৃতি বসন্তকালে ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়। নবজাগরণের সূচনা হয়। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুখের সমীরণে অবগাহন করে। আনন্দের সমুদ্রে আবেগের বান আসে। (লিসানুল আরব)।

    রবিউল আউয়াল মাসে এই পৃথিবীতে শুভাগমন করেন মানবতার মুক্তিদূত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এই মাসে তিনি প্রিয় জন্মভূমি মক্কা মুকাররমা থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেন। রবিউল আউয়াল মাসেই তিনি ইন্তেকাল করেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

    রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখের এ দিনটি মিলাদুন্নবী (সা.) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মূল শিক্ষা মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসার, কঠোর সাধনার, দাঁতভাঙা, রক্তঝরা, পরিপূর্ণ ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম বা জীবনবিধান ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ রূপে সর্বস্তরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব আল্লাহদ্রোহী শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে ইসলামকে সগৌরবে প্রতিষ্ঠা করা।

    মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অর্থ নবী (সা.)-এর জন্ম অনুষ্ঠান। ধীরে ধীরে এর সঙ্গে ‘ঈদ’ শব্দ যোগ হয়ে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ রূপ লাভ করে। যার অর্থ মহানবী (সা.)-এর জন্মোৎসব। এ পর্যায়ে আরেকটি পরিভাষাও প্রচলিত হতে থাকে ‘সিরাতুন্নবী (সা.)’ অর্থাৎ নবী (সা.) জীবনচরিত বা জীবনী আলোচনা অনুষ্ঠান। এ দিবসে অনেকে জশনে জুলুশ বা শোভাযাত্রা ও আনন্দ র্যালিও করে থাকেন। মিলাদ শব্দের আভিধানিক অর্থ জন্মলগ্ন, জন্মক্ষণ, জন্ম সম্পর্কে আলোচনা। আমাদের পরিভাষায় মিলাদ বলতে বোঝায় প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনী আলোচনা এবং তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা। কুরআন করিমে রয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, ফেরেশতাগণ তাঁর জন্য দোয়া করেন; হে বিশ্বাসীগণ তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ ও যথাযথরূপে সালাম পেশ করো।’ (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ৫৬)।

    মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মূল শিক্ষা কালেমা তাইয়্যেবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত রাসুল)। কালেমার নিগূঢ় অর্থ হাজারও প্রকারে বিশ্লেষণ করা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ অথচ অতি সংক্ষিপ্ত ও অতি নিখুঁত বিশ্লেষণ হলো- ‘বিশ্বপ্রভু আল্লাহর প্রতি আমি ইমান আনলাম, তাঁর সব আদেশ-নিষেধ মেনে নিলাম।’ (ইমানে মুজমাল) । মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মূল শিক্ষা মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসার, কঠোর সাধনার, দাঁতভাঙা, রক্তঝরা, পরিপূর্ণ ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম বা জীবনবিধান ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ রূপে সর্বস্তরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব আল্লাহদ্রোহী শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে ইসলামকে সগৌরবে প্রতিষ্ঠা করা। এটাই নবী-রাসুল প্রেরণের আসল উদ্দেশ্য। পবিত্র কুরআনে বিবৃত হয়েছে, ‘তিনি সে মহান প্রভু, যিনি রাসুল প্রেরণ করেছেন, সঠিক পন্থা ও সত্য ধর্মসহযোগে; যাতে সে ধর্মকে বিজয়ী করতে পারেন সর্বধর্মের শিখরে, যদিও কাফির-মুশরিকেরা তা অপছন্দ করে।’ (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ৩৩; সুরা-৬১ ছফ, আয়াত: ৯)।

    আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পথ অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) যা যা করতে বলেছেন, তা করতে হবে, আর যা করতে বারণ করেছেন, তা বর্জন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা- ‘রাসুল (সাধারণ) তোমাদের যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো।’ (সুরা: রও হাশর, আয়াত: ৭) ।

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা ইমানের পূর্বশর্ত। ভালোবাসা প্রকাশ পায় নির্দেশ পালন ও অনুকরণের মধ্যে। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে- ‘(হে রাসুল সা.!) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; (তাহলে) আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ৩১)।

    প্রিয় নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-পুত্র ও যাবতীয় সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হব।’ (বুখারি: ১৩ ও ১৪)।

    অশান্ত বিশ্বকে শান্তির ছায়াতলে আনতে হলে চাই বিশ্বনবীর আদর্শ অনুসরণ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণের ফলেই আমরা পেতে পারি মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। কেননা এর মাঝেই রয়েছে সর্বপ্রকার কল্যাণ।

  • ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

    ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

    অনেকে ঘুমের মধ্যে ভয় পায়। কেউ কেউ একাকিত্বে ভোগে। অনেক সময় রাতের বা দিনের নির্জনতায়, ঘুমের ভেতর, কোথায় একাকী থাকলে মনের ভেতর ভীতির সঞ্চার হয়।

    ঘুমের ভেতরেও অনেকে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠেন। যেকোনো ভয়ের মুহূর্তেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।

    মহানবী (সা.) এসব মুহূর্ত থেকে পরিত্রাণের জন্য দোয়া শিখিয়েছেন-

    أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ ‏.

    উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা তিল্লা হিত্তাম্মাাতি মিন গযাবিহি ওয়া ‘ইক্বা বিহি ওয়া শাররি ‘ইবা দিহি ওয়া মিন হামাযা তিশ শায়া ত্বীনি ওয়া আন ইয়াহ যুরূন।

    অর্থ: আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যগুলোর, যার মাধ্যমে তার ক্রোধ থেকে ও তার বান্দাদের ক্ষতি থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে।’

    উপকারিতা: আমর ইবনু শু‘আইব (রহ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেন: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

    (অর্থ) ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যগুলোর মাধ্যমে তার গজব ও তার বান্দাদের অনিষ্টতা ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার নিকট তার উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইছি।’

    আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) এ বাক্যগুলো তার বালেগ সন্তানদের শেখাতেন এবং নাবালেগদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। (আবূ দাঊদ,৩৮৯৩)

    ঘুমের মধ্যে খারাপ স্বপ্ন দেখলে হাদিসে আরও কিছু আমলের কথা বলা হয়েছে। সেগুলোর উপর আমল করা উচিত। আমলগুলো হলো-

    ১. শরীরের বাঁ দিক করে তিনবার (বাতাসে আদ্র ধরনের) থুথু নিক্ষেপ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬১)

    ২. যে কাত হয়ে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে, সে কাত পরিবর্তন করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে শোবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২) অবস্থা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতস্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।

    ৩. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারও কাছে বলবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮৩)

  • ঈদে মিলাদুন্নবী ১৬ সেপ্টেম্বর

    ঈদে মিলাদুন্নবী ১৬ সেপ্টেম্বর

    বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে। সে হিসেবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আজ ২৯ সফর ১৪৪৬ হিজরি, ২০ ভাদ্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

    এমতাবস্থায়, আগামীকাল ২১ ভাদ্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. বৃহস্পতিবার থেকে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরি, ১ আশ্বিন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. সোমবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।

    সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মহা. বশিরুল আলম, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুন্সী জালাল উদ্দিন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আ. রহমান খান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. রুহুল আমিন, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

  • হজের খরচ কমছে

    হজের খরচ কমছে

    চলতি বছর হজের খরচ কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

    বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের এক সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

    রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের হজ একটা বড় ব্যাপার মুসলমানদের জন্য। কিন্তু হজের মতো পবিত্র কাজেও একটি সিন্ডিকেট দেখতে পাই। তারা কারসাজি করে হজের প্যাকেজ মূল্য বাড়িয়ে তোলে। হজের যে খরচ সেটি যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। কত হতে পারে, কত কমানো যেতে পারে- সেই আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান প্যাকেজ যে অনেক বেশি, সেই প্যাকেজ কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রাথমিক আলোচনা সেটি হয়েছে।

    এর আগে গত বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারি প্যাকেজে সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং বেসরকারি প্যাকেজে সর্বনিম্ন প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, চলতি বছর হজের প্যাকেজ ঘোষণা করা না হলেও প্রাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন শুরু হবে, চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

    গত ২৬ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন।

  • নামাজ পড়া অবস্থায় কেউ ডাকলে কি করবেন

    নামাজ পড়া অবস্থায় কেউ ডাকলে কি করবেন

    প্রশ্ন: আমি নামাজে থাকা অবস্থায় কেউ আমার নাম ধরে ডাকছিল। বারবার ডাকার কারণে একবার মনে হয়েছিল হাত দিয়ে ইশারা করব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেয়নি। জানার বিষয় হলো- নামাজে থাকা অবস্থায় কারো ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে কি না?

    উত্তর: ফরজ নামাজ পড়া অবস্থায় কারো ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে হ্যাঁ, কারো জীবন বিপন্ন হচ্ছে এই মুহূর্তে নামাজ ছেড়ে দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব, পরিস্থিতি এমন হলে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে।

    নফল নামাজ পড়া অবস্থায় আপনার আব্বা-আম্মা আপনাকে ডাকলে যদি মনে করেন এই সময়ে সাড়া না দিলে তারা কষ্ট পাবেন, এবং আপনি যে নামাজে আছেন এ বিষয়ে তারা অবগত নয়, তবে নামাজ ছেড়ে তাদের ডাকে সাড়া দিবেন।

    অন্য কেউ ডাকলে অতীব প্রয়োজন মনে করলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে বুঝাতে পারবেন যে, ‘আমি নামাযে আছি’। এছাড়া তিলাওয়াতের একটি আয়াত জোরে পড়লে নামাজের কোন ক্ষতি হবে না।

    সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৫০

  • সরকার অনুমতি দিলে পিস টিভি বাংলা আবার চালু হবে: জাকির নায়েক

    সরকার অনুমতি দিলে পিস টিভি বাংলা আবার চালু হবে: জাকির নায়েক

    ভারতের খ্যাতনামা ইসলামি বক্তা ও পিস টিভি বাংলার মালিক জাকির নায়েক বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অনুমতি দিলে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পিস টিভি বাংলা আবার চালু হবে।

    সোমবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। এক দর্শক জাকির নায়েককে প্রশ্ন করেন, নতুন বাংলাদেশে পিস টিভি বাংলা কী চালু করতে পারবেন?

    জবাবে জাকির নায়েক জানান, পিস টিভি বাংলাসহ ইংরেজি, উর্দু ও চাইনিজ ভাষায় চালু আছে। স্যাটেলাইট সম্প্রচার কখনো বন্ধ হয়নি। শুধু বাংলাদেশ ও ভারতে পিস টিভির ডাউনলিংকের অনুমতি তুলে নেওয়ায় ক্যাবল অপারেটররা তা বন্ধ রেখেছেন।

    তিনি বলেন, স্যাটেলাইট মাধ্যমে চালু থাকলেও যেহেতু বাংলাদেশে ক্যাবল নেটওয়ার্কে সম্প্রচার বন্ধ আছে তাই সেটা চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আবেদন করা হয়েছে।

    ২০১৬ সালের জুলাইতে ঢাকায় হোলি আর্টিজানে হামলাকারীদের একজন পিস টিভির বক্তা জাকির নায়েক দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল, এ অভিযোগের পর থেকে বাংলাদেশে পিস টিভি বাংলার সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    হোলি আর্টিজানে হামলার পর দিল্লি থেকেও জাকির নায়েকের ওপর অনুসন্ধান চালানো হয় এবং ভারতেও পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভারতীয় এই ইসলাম প্রচারক ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়াতে নির্বাসিত আছেন। সেখানে তার স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি রয়েছে।