Category: ধর্ম

  • বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার বিদায়ের সুর :আজ দেবী ফিরে যাবেন কৈলাশে

    বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার বিদায়ের সুর :আজ দেবী ফিরে যাবেন কৈলাশে

    রুপন কর অজিতঃ ‘মাগো তুই আসবি বলে/ যতই আলো জ্বেলেছিলাম/ নবমীর রাত পোহাতেই/ সব নিভিয়ে ফেলেছিলাম। / বিদায় দেবার আগে মা তোর / গাল দু’খানি ছুঁই / আসছে বছর এই শরতে / আবার আসিস তুই।’ দেবী দুর্গার বিদায় বেলায় ভক্ত মনের আকুল আকুতি ফুটে উঠেছে এই পঙ্ক্তিতে।

    শুভ বিজয়া দশমী আজ। চারদিকে দেবী দুর্গার বিদায়ের সুর। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

    চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এরপর হাসি-আনন্দ আর পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে কেটে গেছে চার দিন। সপ্তমীতে চক্ষুদানের মাধ্যমে প্রতিমায় যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, আজ শুক্রবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চারদিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার দিনের অশ্রু। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় এই উৎসব।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রতিটি মণ্ডপ ও মন্দিরে দেবীর বন্দনায় ছিল কেবলই বিষাদের ছায়া। ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, ধূপ আরতি ও দেবীর পূজা-অর্চনায় কেবলই ছিল মায়ের বিদায়ের সুর। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সমগ্র বিশ্বের কল্যাণ কামনা।
    এবার মা আসছেন গজে আর চলে যাবেন নৌকায়।
    পূজার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জন করা হবে।বিকাল ৪টা থেকে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জন। এর আগে বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে হবে দেবী বরণ।

    দুর্গাপূজায় সর্বশেষ রীতিটি হচ্ছে ‘দেবী বরণ’। রীতি অনুযায়ী, সধবা নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ান। দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর সেই সিঁদুর প্রথমে সিঁথিতে মাখান পরে একে-অন্যের সিঁথি ও মুখে মাখেন। মুখ রঙিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। ভক্তদের বিশ্বাস, দুর্গা আগামী বছর আবারো সঙ্গে করে শাঁখা সিঁদুর সঙ্গে নিয়ে আসবেন। সেই শাঁখা সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে।
    বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী জানান, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগরে মোট ৬৪৫ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। করোনার কারণে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে উৎসব হলেও এবারের প্রস্তুতি ছিলো বেশ জাঁকজমকপূর্ণ, দর্শনার্থীও ছিলো অনেক বেশি ।গত দুদিন বৃষ্টি কারনে অনেক লোক বের হতে পারেনি।তবে শান্তিপূর্ন ভাবে বরিশালে এবার পূজা উদযাপন হয়েছে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।
    ।অধিকাংশ মন্ডপে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও বিজয় দশমী উপলক্ষ্যে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ।

    ঝাউতলা সার্বজনী পূজা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পদক সুজয় সেন বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে দুর্গাপূজার আনন্দ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়নি। এবার প্রকোপ কম থাকায় সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন হয়েছে,তবে বৃষ্টির কারনে একটু সমস্যা হয়েছিলো সব মিলিয়ে গত দুই বছরের তুলনায় অনেক ভালো ও লোক সমাগম ও অনেক ছিলো।বিজয় দশমীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্দির কমিটির ও স্বেচ্চাসেবক এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে দেবী বিসর্জন হবে বলে তিনি মনে করেন।

    বরিশালে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।

  • আজ মহা সপ্তমী

    আজ মহা সপ্তমী

    রুপন কর অজিতঃ আজ মহা সপ্তমী। বরিশালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। বরিশালের পুজা মন্ডপগুলোতেও নেওয়া হয়েছে দুর্গোৎসবের জমজমাট প্রস্তুতি। গতকাল সন্ধ্যাবেলায় দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে অকালবোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।এবার মা আসছেন গজে আর চলে যাবেন নৌকায়।

    ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সপ্তমী তিথীতে নবপত্রিকা স্নান ও সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে কলাবউ স্থাপন করা হবে। এইদিনেই প্রাণ সঞ্চার করা হবে দেবীর মৃন্ময়ীতে। সোমবার মহা অষ্টমী তিথিতে সনাতনী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সকলে মিলে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেবে। এইদিনই হবে সন্ধীপূজা। মাতৃরূপে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে ‘কুমারী পূজা’। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় দেবীর ৬ষ্ঠ রূপ ‘উমা’।

    ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত: নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে। ৫ই অক্টোবর দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। আর দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের সকল পূজা সংশ্লিষ্টরা।

    বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী জানান, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগরে মোট ৬৪৫ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে।অধিকাংশ মন্ডপে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নিরাপত্তা । করোনার কারণে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে উৎসব হলেও এবারের প্রস্তুতি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ।

    ঝাউতলা সার্বজনী পূজা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পদক সুজয় সেন বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে দুর্গাপূজার আনন্দ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়নি। এবার প্রকোপ কম থাকায় সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা যাবে। প্রশাসন ও স্বেচ্চাসেবকদের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপন হবে বলে তিনি মনে করেন।

    ব‌রিশাল জেলার পু‌লিশ সুপার ওয়া‌হিদুল ইসলাম ব‌লেন, ব‌রিশাল জেলা পু‌লি‌শের থানাগু‌লোর আওতায় ৫৩২‌টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা নি‌র্বিঘ্ন কর‌তে এসব মণ্ডপগু‌লোর ম‌ধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অ‌ধিক গুরুত্বপূর্ণ বি‌বেচনায় স্থায়ীভা‌বে মোট ৬০০ পু‌লিশ সদস‌্য দা‌য়িত্ব পালন কর‌বে। কেউ য‌দি পূজামণ্ডপে অরাজকতা করার চেষ্টা ক‌রে তাহ‌লে তা ক‌ঠোর হা‌তে দমন করা হ‌বে।

    ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের দ‌ক্ষিণ বিভা‌গের অ‌তি‌রিক্ত উপ-ক‌মিশনার ফজলুল ক‌রিম ব‌লেন, বন্দর ও কোতোয়ালি ম‌ডেল থানা এলাকা মি‌লি‌য়ে অ‌ধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ র‌য়ে‌ছে ১১‌টি। ‌সেই পূজা মণ্ডপগু‌লো‌তে ৫ জন ক‌রে পু‌লিশ থাক‌বে, পাশাপা‌শি পু‌লিশ সদস‌্যদের সহায়তা কর‌বে আনসার সদস‌্যরাও।

    তি‌নি ব‌লেন, মহানগ‌রের সকল পূজামণ্ডপেই মোবাইল টিম থাক‌বে। পাশাপা‌শি সাদা পোশাকধারী পু‌লিশ সদস‌্যরা দা‌য়িত্ব পালন কর‌বে। আমরা মাদ‌কের বিরু‌দ্ধে বেশ শক্ত অবস্থা‌নে র‌য়ে‌ছি।

  • বরিশালে রং তুলির ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে দুর্গা প্রতিমা

    বরিশালে রং তুলির ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে দুর্গা প্রতিমা

    রুপন কর অজিতঃ শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই প্রতিমা তৈরিতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দিনরাত পরিশ্রম করে রং তুলির আর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করছেন প্রতিমা। তবে কারিগরদের অভিযোগ, প্রতিমা তৈরির উপকরসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্খিত মজুরি পাচ্ছেন না তারা। এদিকে, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে করতে নজরদারী বাড়িয়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিটি মন্ডপে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নিরাপত্তা । করোনার কারণে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে উৎসব হলেও এবারের প্রস্তুতি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ।

    বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী জানান, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগরে মোট ৬৪৫ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে।

    এবার মা আসছেন গজে আর চলে যাবেন নৌকায়। বরিশালের প্রতিমাশিল্পীরা এখন তাই রাত দিন পরিশ্রম করে দুর্গাদেবী ও তার পরিবারকে সাজিয়ে তুলছেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহালায়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের আগমন ঘটেছে। আগামী পহেলা অক্টোবর শনিবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা। ৫ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন দুর্গাপূজার সব আনুষ্ঠানিকতা।

    করোনা পরিস্থিতি এবার স্বাভাবিক থাকায় পূজার আনন্দে জোয়ার বইবে বলে মনে করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

    ঝাউতলা পূজা মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী জানান, এবার তিনি বরিশাল শহরে দুই জায়গায় প্রতিমা তৈরি করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার ভালো। তবে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাই খরচ বাদ দিয়ে খুব কম টাকাই তাদের পকেটে যাবে।
    তিনি বলেন,পহেলা অক্টোবর ষষ্ঠীর কথা মাথায় রেখেই আমরা ব্যস্ত সময় পার করছি।

    ঝাউতলা সার্বজনী পূজা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পদক সুজয় সেন বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে দুর্গাপূজার আনন্দ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়নি। এবার প্রকোপ কম থাকায় সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা যাবে। প্রশাসন ও স্বেচ্চাসেবকদের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপন হবে বলে তিনি মনে করেন।

  • আল্লাহ যাদের ধর্মীয় জ্ঞান দান করেন

    আল্লাহ যাদের ধর্মীয় জ্ঞান দান করেন

    নিউজ ডেস্কঃঃ আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ইলম বা জ্ঞান দান করেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমন কথা ঘোষণা দিয়েছেন। আর দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা সবার জন্য ফরজ। ইমাম বুখারি ও মুসলিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি দ্বীনি ইলম শিক্ষা সংক্রান্ত হাদিসটি একসঙ্গে নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এভাবে-

    হজরত মুআবিয়া ইবন আবু সুয়িান রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ইলম দান করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    আল্লাহ যে ব্যক্তি কল্যাণ ও উপকার কামনা করেন, তাকে আল্লাহ তাআলা ইমলামি শরিয়তের বিধানের আলেম ও বিচক্ষণ বানান। ফিকহ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়-

    এক. ইসলামি শরিয়তের বিস্তারিত দলিল (কোরআন ও সুন্নাহ) থেকে নির্গত কর্ম সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর বিধান সম্পর্কে থেকে জানা। যেমন- ইবাদত ও মুয়ামালাতের বিধান।

    দুই. আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে সব জ্ঞান রাখা। তাতে ঈমানের উসুল, ইসলামের বিধান, হারাম-হালাল, আখলাক ও আদাব সবই শামিল করে।

    হাদিসের উপকারিতাসমূহ

    ১. হাদিসটিতে দ্বীনি জ্ঞানের মহত্বকে প্রমাণ করে এবং তা শেখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।

    ২. ফিকহ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহার হয়, এক. যার মাধ্যমে শরিয়তের মূল উৎসমূহ তথা কোরআন ও হাদিস থেকে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন বিধি-বিধান জানা যায়। দুই. আল্লাহর দীন সম্পর্কে সামগ্রীক জ্ঞান রাখা। তাতে ঈমানের উসুল, ইসলামের বিধান, ইহসানের হাকিকত ও হারাম হালাল সবই রয়েছে।

    ৩. হাদিস থেকে প্রতিয়মান হয়, যে ব্যক্তি দ্বীনি জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়, আল্লাহ অবশ্যই তার কল্যাণের ইরাদাহ করেননি।

    ৪. যে ব্যক্তি ইলমের প্রতি যত্ববান হয়, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মহব্বত করেন। কারণ, আল্লাহ তাকে ইলম লাভ ও ফিকহের জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দেওয়ার দ্বারা তার কল্যাণের ইরাদা করেছেন।

    ৫. দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের কারণে তার প্রশংসা করা হবে। আর যে দ্বীন ছাড়া অন্য কোনো জ্ঞান অর্জন করে তবে তার প্রশংসাও করা হবে না; নিন্দাও করা হবে না। তবে হ্যাঁ, যদি তা কোন ভালো কাজের উপকরণ হয় তবে তা প্রশংসিত হবে। আর যদি খারাপ কাজের হয় তাহলে তা নিন্দনীয় হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দ্বীনি ইলম অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • শুভ মহালয়া আজ

    শুভ মহালয়া আজ

    নিউজ ডেস্কঃঃ বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া আজ রোববার। এদিন থেকেই শুরু দেবীপক্ষের। শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই চণ্ডীতেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা।

    আগামী ১ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকেই দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শোনা যাবে। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারাদেশে বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হবে।

    শারদীয় দুর্গাপূজার গুরুত্বপর্ণ একটি অনুষঙ্গ এই মহালয়া। পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। মহালয়া মানেই প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আর এই দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়।

    মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা সব অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক রূপে পূজিত। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনো মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলত আসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়।

    মহালয়ার আর একটি দিক হচ্ছে, এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই দিনে প্রয়াতদের আত্মা মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়াতদের আত্মার এই সমাবেশকে মহালয়া বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি।

    দিনটি উপলক্ষে রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি। দেশের অন্যান্য মন্দিরেও এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।

    এছাড়া দেবী দুর্গার আগমনী উপলক্ষে দিনটি উদযাপন করতে ভোর সাড়ে পাঁচটায় বনানী মাঠে দেবীবরণের আয়োজন করেছে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সভাপতিত্ব করবেন পান্না লাল দত্ত।

  • গুনাহ সম্পর্কে নবিজির (সা.) কয়েকটি হাদিস

    গুনাহ সম্পর্কে নবিজির (সা.) কয়েকটি হাদিস

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন জিনিসের বদৌলতে বেশির ভাগ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, তাক্বওয়া ও সচ্চরিত্রের বদৌলতে। তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন জিনিসের কারণে অধিকাংশ লোক জাহান্নামে যাবে? তিনি বলেন, দুটি অংগ- মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার কলবে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে তওবা করলে, পাপকাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার কলব পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরও গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন- ‘কক্ষনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে’ (সুরা আল-মুতাফফিফিন : আয়াত ১৪)।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

    হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, ‘হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

    হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা জাহেলি যুগে যা (গুনাহের কাজ) করেছি, সে সম্পর্কে কি আমাদের জাবাবদিহি করতে হবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যারা ইসলাম গ্রহণের পর ভালো কাজ করেছে তাদেরকে জাহেলি যুগের কৃতকর্ম সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি (ইসলাম গ্রহণের পরও) মন্দ কাজ করবে, তাকে পূর্বাপর সব কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

  • জুমার যে আমলে ১০ দিনের গুনাহ মাফ

    জুমার যে আমলে ১০ দিনের গুনাহ মাফ

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ মর্যাদা ও সম্মানের দিন জুমা। এ দিনের রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। যার বর্ণনায় রয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক উপদেশ। জুমার দিনের আমলে আল্লাহ তাআলা ১০ দিনের গুনাহ মাফ করে দেন। জুমার দিনের এ আমলটি কী?

    জুমার দিন মুসল্লিদের করণীয় ও প্রাপ্তি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসে ১০ দিনের গুনাহ মাফের কথা ওঠে এসেছে। যে কারণে গুনাহ মাফ হয় তাহলো-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার (নামাজ পড়ার) জন্য এলো। এরপর তার জন্য যত রাকাত নামাজ ভাগ্যে ছিল তা আদায় করলো। এরপর ইমামের খুতবা শেষ করা পর্যন্ত চপু করে থাকলো (খুতবা শুনলো) এবং তাঁর (ইমামের) সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করলো, তার জন্যে (ওই ব্যক্তির জন্য) দুই জুমার মাঝের ও অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম)

    হাদিসের আলোকে ১০ দিনের গুনাহ মাফ পাওয়ার জন্য জুমার দিন যে কাজগুলো করতে হবে, তাহলো-

    ১. গোসল করা।

    ২. মসজিদে প্রবেশ করে খুতবার আগে যত রাকাত সম্ভব নামাজ পড়া।

    ৩. চুপ থেকে ইমামের খুতবা শোনা।

    ৪. ইমামের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।

    সুতরাং জুমার মুসল্লিদের উচিত, এ দিন গোসল করা, মসজিদে গিয়ে খুতবার আগে যতটুকু সম্ভব নামাজ পড়া। চুপ থেকে খুতবা শোনা এবং ইমামের সঙ্গে জুমার আদায় করা। আর এর বিনিময়ে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির ১০ দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

    আল্লাহ তাআলা জুমার সব মুসল্লিকে নিয়মিত এ আমল করে ১০ দিনের গুনাহ থেকে মুক্তির তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যে তাসবিহ পড়লে আমলের পাল্লা ভারী হয়

    যে তাসবিহ পড়লে আমলের পাল্লা ভারী হয়

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অল্প অক্ষর বিশিষ্ট দুটি বাক্যের একটি তাসবিহ; যা মিজানের পাল্লায় ভারী। এ বাক্য দুটি পরম করুনাময় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ভালোবাসেন। এ তাসবিহটি কী?

    ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ দুটি কলেমা (বাক্য) দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, জবানে (উচ্চারণে) খুবই সহজ, আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। হাদিসে পাকে বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুটি কলেমা (বাক্য) দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, মুখে (উচ্চারণে) খুবই সহজ কিন্তু আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (তাহলো)-

    سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْم

    ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’

    অর্থ : আমরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিসটিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অল্প অক্ষর বিশিষ্ট তবে মিজানের পাল্লায় ভারী এ দুটি বাক্যকে পরম করুণাময় আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তাআলা মহব্বত করেন: (তা হচ্ছে,) ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’ অর্থ : আমরা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র। কারণ, এ দুটি কালিমা তাসবিহ এবং আল্লাহর শানের সঙ্গে যা প্রযোজ্য নয় তা থেকে এবং যাবতীয় ত্রুটি থেকে তার পবিত্র হওয়াকে অর্ন্তভুক্ত করে। আর আজমত দ্বারা গুণান্বিত করে এ জাতীয় পবিত্রতার ওপর আরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ এ তাসবিহটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা আবশ্যক

    যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা আবশ্যক

    ইসলামিক ডেস্কঃঃ দীর্ঘ একটি হাদিস। এর একটি অংশে জিবরিল আলাইহিস সালাম আগন্তুকের বেশে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ঈমান কি? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ তাআলাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে। তাঁর ফেরেশতা, তাঁর আসমানি কিতাব, তাঁর রাসুলগণ ও আখেরাতকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে। আর এটাও বিশ্বাস করবে যে, পৃথিবীতে যা কিছুই ঘটে, আল্লাহর পক্ষ থেকেই ঘটে, চাই তা ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক। এটাই ঈমান।’ (মুসলিম)

    এ অংশটুকু হাদিসে জিবরিল নামে দীর্ঘ একটি হাদিসের অংশ। একদিন হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম মানুষের রূপ ধারণ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে অনেক প্রশ্ন করেন। তন্মধ্যে ঈমান কী? এ প্রশ্নটিও ছিলো।

    হাদিসের ব্যাখ্যা

    ঈমানের আসল অর্থ হলো- কারো ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। সে কারণে তার কথাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া। মানুষ তখনই কারো কথাকে সত্য বলে গ্রহণ করে, যখন তার সত্যবাদিতা সম্পর্কে অটল বিশ্বাস রাখে। বিশ্বাস ও আস্থাই হলো ঈমানের মূল কথা। আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলগণের মাধ্যমে যা যা এসেছে, তার সবকটিকে সত্য বলে গ্রহণ করা মুমিন হওয়ার জন্য অপরিহার্য। এ হাদিসে ঈমানের সেই মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। যে বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। আর তাহলো-

    ১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস

    আল্লাহর প্রতি ঈমানে অর্থ হলো তিনি অনাদি ও অনন্তকাল ধরে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তিনিই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টিজগতের রব। সৃষ্টি ও শাসন পরিচালনায় তার কোনো শরিক নেই। তিনি সব রকমের ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র। তিনি যাবতীয় সদগুণাবলীর অধিকারী এবং সব কল্যাণ ও মহত্বের উৎস।

    ২. ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস

    আল্লাহর কাজে ও প্রশংসায় নিয়োজিত ফেরেশতা যে আছে, তাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং এ বিষয়টি স্বীকার করা যে, তারা অত্যন্ত পবিত্র ও নিষ্পাপ। ফেরেশতারা কখনও আল্লাহর হুকুম অমান্য করে না। সব সময় আল্লাহর ইবাদত করেন। আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন। দুনিয়ার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য তারা দোয়া করতে থাকেন।

    ৩. আসমানি কিতাবের ওপর বিশ্বাস করা

    আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যত নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন এসব যুগে যুগে আদেশ-নিষেধ ও উপদেশ দিয়ে যেসব গ্রন্থ ও নির্দেশাবলী পাঠিয়েছেন; সেসব গ্রন্থকে সত্য বলে বিশ্বাস স্থাপন করা। এসব আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ গ্রন্থ আল কোরআনুল কারিমের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। কোরআন নাজিল করার পর আগের সব আসমানি কিতাবের বিধান রহিত করা হয়েছে। কোরআনুল কারিমের ওপর এ মর্মে বিশ্বাস স্থাপন করা যে, এটি ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত। এ কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব নেই; যার দ্বারা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে পৌছা যায়

    ৪. রাসুলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা

    নবি-রাসুলগণের ওপর ঈমান আনার তাৎপর্য হলো এই যে, যতজন নবি-রাসুল আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন; তাদের সবাইকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া। তাঁরা সবাই ছিলেন সত্যবাদী। এ বিশ্বাসও করা যে, তাঁরা কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই অবিকল আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণেই রয়েছে মানুষের মুক্তি ও পরিত্রাণ।

    ৫. আখেরাতের ওপর ঈমান

    আখেরাত এমন একটি দিন। যে দিনটি আসবে অবধারিত। যেদিন সব মানুষের কৃতকর্মের বিচার অনুষ্ঠিত হবে। যার কাজ ভালো হবে সে মুক্তি পাবে এবং পুরস্কৃত হবে। আর আমল খারাপ হবে সেদিন সে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।

    ৬. তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা

    এর অর্থ এই মর্মে বিশ্বাস স্থাপন করা যে, দুনিয়াতে যা কিছু হচ্ছে বা ঘটবে; তা কেবল আল্লাহর হুকুমেই সংঘটিত হচ্ছে বা হবে। এখানে শুধু তারই হুকুম চলে। এমন নয় যে, আল্লারহ এক রকম চান আর বিশ্বজগত অন্যভাবে চলছে। বরং সব কিছুই আল্লাহর হুকুমে পরিচালিত হচ্ছে। তকদিরের ভালো মন্দ সব কিছুর আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এ বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়গুলো ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • দুঃখ-কষ্ট-অস্থিরতায় যা করবেন

    দুঃখ-কষ্ট-অস্থিরতায় যা করবেন

    নিউজ ডেস্কঃঃ নানান কারণে মানুষ দুঃখ-কষ্ট ও অস্থিরতায় থাকেন। এ সময় মহান আল্লাহকে স্মরণ করার বিকল্প নেই। তিনিই পারেন সব কষ্ট ও হতাশায় শান্তি দিতে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই কোনো দুঃখ-কষ্ট ও অস্থিরতার মুখোমুখি হতেন তখনই তিনি মহান আল্লাহকে একান্ত মনে স্মরণ করতেন। হাদিসের বর্ণনা বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট বা চিন্তা, অস্থিরতা তথা হতাশাগ্রস্ত হতেন তখন বলতেন-يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُউচ্চারণ : ‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছু।’অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার কাছে সাহায্য চাই।’ (মুসতাদরাকে হাকেম)আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চিন্তা-পেরেশানি-দুঃখ-কষ্ট ও অস্থিরতায় তাঁর রহমতের দুয়ারে আশ্রয় প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।