Category: ধর্ম

  • আনন্দ-বেদনায় মুমিনের দোয়া

    আনন্দ-বেদনায় মুমিনের দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং সুখ ও দুঃখ প্রতিটি মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। মুমিন সব সময় আল্লাহর প্রতি রাজি এবং খুশি। সে সব সময় মহান রবের কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করে। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং সুখ-দুঃখে মুমিন আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতায় দোয়া করে। কী দোয়া করে মুমিন?

    আনন্দ ও বেদনার পুরো সময়টিতে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হাদিসে দিকনির্দেশনা এসেছে। সব সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা ও আশ্রয় চাওয়ার দোয়া শেখানো হয়েছে। তাহলো-

    اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَالُكَ الْعَدْلَ فِىْ الْغَضَبِ وَ الرِّضَا

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আদলা ফিল গাদাবি ওয়ার রিদা।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়ই মধ্যমপন্থা কামনা করি।

    কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা হলো, সব সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা। মহান রবের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কোরআনে েএসেছে-

    সুন্নায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে উপদেশ দেয়া হয়েছে। আবেগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    لِّکَیۡلَا تَاۡسَوۡا عَلٰی مَا فَاتَکُمۡ وَ لَا تَفۡرَحُوۡا بِمَاۤ اٰتٰىکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ کُلَّ مُخۡتَالٍ فَخُوۡرِۣ

    ‘এটা এ জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য তোমরা আনন্দিত না হও। ‌গর্বকারী ও অহংকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন না।’ (সুরা হাদিদ : আয়াত ২৩)

    মুমিন মুসলমানের উচিত নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের উপর আমল করা। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে দু’টি শব্দ উচ্চারণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তাহলো-

    দুঃখের সময় বোকামিসুলভ (হায়! হায়!) শব্দ

    আর অন্যটি হলো (আনন্দের অতিমাত্রায়) পাপসুলভ (হুররে! বা হাহ্হা) শব্দ।

    (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নেয়ামত পেলে (পাপ হয় এমন শব্দে) ‘হুররা বা হাহ্হা’ করা। আর বিপদের সময় বোকিামিবশতঃ হায়!, আফসোস করা। অর্থাৎ বড় নিঃশ্বাস ফেলা।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং সুখ ও দুঃখ সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা ও ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার তাওফিক দান করুন। গর্ব ও অহংকার থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। দুঃখ ও আনন্দের অতিশয্যে তাঁর অবাধ্যতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • যেসব কাজ ছেড়ে দিলে জান্নাত পাবে নারী

    যেসব কাজ ছেড়ে দিলে জান্নাত পাবে নারী

    ইসলামিক ডেস্কঃ হজরত নূহ ও লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের জাহান্নামের অধিবাসী বলা হয়েছে। আবার ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আছিয়াকে মুমিন নারীদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে জান্নাতি বলা হয়েছে। বিশেষ দুটি গুণের কারণে বিবাহিত ঈমানদার নারীরা পাবে জান্নাত। গুণ দুটি কী?

    বিবাহিত ঈমানদার নারীরা বিশেষ ২টি গুণের কারণে পাবে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাদের জন্য জান্নাতের মধ্যে নির্মাণ করা হবে আলাদা ঘর। যেখান তারা আল্লাহর দিদারও পাবে। নারীদের বিশেষ গুণ দুটি হলো স্বামীর ব্যাপারে আমানতদারিতা ও কল্যাণ কামনা করা। তাহলো-

    ১. স্বামীর দোষা প্রচার না করা তার প্রশংসা ও সহযোগিতা করা। অর্থাৎ অন্য মানুষের কাছে স্বামী দোষ বা কুৎসা বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা।

    ২. স্বামীকে অভিশাপ না দিয়ে তাদের জন্য কল্যাণে দোয়া করা। অর্থাৎ স্বামীর জন্য বদদোয়া বা তাদের কথা ও কাজের অকল্যাণ কামনা না করা।

    স্ত্রীরা কারণে-অকারণে স্বামীদের সঙ্গে এ দুটি কাজই বেশি করে থাকে। সামান্য কারণেই স্বামীকে দোষারোপ করে কিংবা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    কেননা এ দুইটি কারণই একজন ঈমানদার নারীকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে পয়গাম্বর নূহ ও লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে বলেন-

    ‘আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তারা আমার দুই নেককার বান্দার স্ত্রী ছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বামী সঙ্গে খেয়ানত করেছিল। তারা (নূহ ও লূত আলাইহিস সালাম) আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (স্ত্রীদের) কোনো কাজেই আসতে পারেনি। দুই জনকে বলে দেয়া হয়েছে যাও, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও প্রবেশ কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১০)

    এ আয়াতে খেয়ানত বলতে নবীদের স্ত্রীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এটি বুঝানো হয়নি বরং তারা নবিদের সঙ্গে ঈমানের পথে হাটেনি বরং তারা নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করেছিল।

    নবিদের কাছে যারা ঈমান নিতে আসতো তাদের তথ্য অন্যের কাছে দিয়ে দিতো। নবিদের ব্যাপারে লোকদের বলে বেড়াতো- এ লোক একজন পাগল। তারা তাদের স্বামী নামে চোগলখুরী করতো। তাদের নামে কুৎসা রটনা বা বদনাম বলে বেড়াতো। যার ফলে নবীদের সঙ্গে সংসার করা সত্বেও তারা জাহান্নামী।

    পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের (নারীদের) উদ্দেশ্যে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যিনি ফেরাউন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন ঠিকই ফেরাউনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা বদদোয়া করেনি। আবার তার কোনো দোষও বলে বেড়াননি। আল্লাহ বলেন-

    ‘আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। যখন সে দোয়া করলো- হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার খারাপ কাজ-কর্ম থেকে রক্ষা করো এবং আমাকে অত্যাচারি সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

    এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায় যে, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া স্বামী অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাপারে বদদোয়া করেনি এবং তার কোনো দোষও বর্ণনা করেনি বরং তার অত্যাচার ও দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার হওয়ার আবেদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা স্বামীদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাসী নারীদের জন্য এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

    এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে, ফেরাউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। তিনি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন। ফেরাউন তার হাত ও পায়ে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে মাথার ওপ গরম তেল ঢেলে দিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার চুল ও চামড়াগুলো ওঠে গিয়েছিল। সে সময় ফেরেশতারা তার সামনে জান্নাতের দৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফেরাউনের শাস্তি তার কাছে সহজ হয়েগিয়েছিল। আর তখন তিনি আল্লাহর কাছে উল্লেখিত দোয়া করেছিলেন।

    সুতরাং প্রত্যেক ঈমানদার নারীর উচিত যে, স্বামীর ব্যাপারে চোগলখুরী না করা। স্বামীদের দোষ বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা। স্বামীর জন্য বদদোয়া বা অভিশাপ না দেয়া। বরং স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞপনের পাশাপাশি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ফলে তারা পাবে সুনিশ্চিত জান্নাত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে কুরআনে এ দুই আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে স্বামীদের আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। সব সময় স্বামীদের পাশে থেকে তাদের কল্যণমূলক কাজে সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পরকালে অপমান থেকে বাঁচার দোয়া

    পরকালে অপমান থেকে বাঁচার দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ পরকালের লাঞ্ছনা, অপমান ও শাস্তি থেকে মুক্তি কে না চায়। আল্লাহর রহমতে সিক্ত ব্যক্তিরাই পাবে পরকালের মুক্তি ও নাজাত। মহান আল্লাহ বান্দাকে পরকালে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া থেকে মুক্তির জন্য কোরআনুল কারিমে একটি প্রার্থনা তুলে ধরেছেরন। কী সেই দোয়া?

    আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও পরকালের অপমান থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর শেখানো ভাষায় তাঁরই কাছে প্রার্থনা করা জরুরি। তিনি যদি বান্দার প্রতি দয়া করেন, তবেই মুক্তি। তাই পরকালের অপমান থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে এভাবে বেশি বেশি দোয়া করা-

    رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدۡتَّنَا عَلٰی رُسُلِکَ وَ لَا تُخۡزِنَا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّکَ لَا تُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়া আতিনা মা ওয়া আত্তানা আলা রুসুলিকা ওয়া লা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়ামাহ; ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিয়আদ।’

    অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে আপনার রাসুলগণের মাধ্যমে যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা দান করুন। আর কেয়ামতের দিন আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৪)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া কবুলের দিনক্ষণ ও সময়গুলোসহ সব সময় এ দোয়া বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুসলিম-অমুসলিমের ভালো কাজের জন্য দোয়া

    মুসলিম-অমুসলিমের ভালো কাজের জন্য দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ কেউ কারো ভালো কাজ দেখলে কী বলবে? এ ভালো কাজের জন্য কী দোয়া করতে হবে তাও এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। চাই সে মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম হোক। শুকরিয়া জানানো, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা কিংবা দোয়া করা সম্পর্কিত দোয়ার এই ভাষাগুলো কী?

    মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম হোক, কেউ কারো উপকার করলে কিংবা কেউ ভালো কাজে এগিয়ে এলে তার জন্য দোয়া করার দিকনির্দেশনা এসেছে হাদিসে। তাহলো-

    অমুসলিমের জন্য দোয়া
    ভালো কাজ করা ব্যক্তি যদি অমুসলিম হয় তবে তার জন্যও রয়েছে ছোট্ট একটি দোয়া। তাহলো-
    جَمَّلَكَ اللهُ
    উচ্চারণ : ঝাম্মালাকাল্লাহ
    অর্থ : আল্লাহ আপনাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন।

    মুসলিমের জন্য দোয়া
    ভালো কাজ করা ব্যক্তি যদি মুসলিম হয় তবে তার জন্যও রয়েছে ছোট্ট একটি দোয়া। নবিজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহর যে কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে এ দোয়া বলার নসিহত পেশ করেছেন-
    جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا
    উচ্চারণ : ঝাযা-কাল্লা-হু খাইরান। (তিরমিজি)
    অর্থ : আল্লাহ তাআলা আপনাকে (কাজের) উত্তম বদলা দান করুন।

    আল্লাহ তাআলা সবাইকে ভালো কাজের বিনিময়ে উত্তম ভাষায় মুসলিম-অমুসলিম উভয়ের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মুমিনদের প্রতি হতাশ না হওয়ার উপদেশ

    মুমিনদের প্রতি হতাশ না হওয়ার উপদেশ

    ইসলামিক ডেস্কঃ  মুমিনরা কখনো হতাশ হয় না, সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি ভরসা করে। তারা সব সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। মহান কোরআনুল কারিমের মুমিনদের হতাশ না হওয়ার উপদেশ দেন, দুঃশ্চিন্তা না করার উপদেশ। এ উপদেশেই মুমিনরা কঠিন বিপদেও যেমন মনোবল হরারায় না তেমনি হতাশও হয় না। কোরআনুল কারিমের মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রতি উপদেশগুলো এভাবে তুলে ধরেছেন-

    وَ لَا تَهِنُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَ اَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ

    ‘আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩৯))

    আয়াতের সার-সংক্ষেপ

    আলোচ্য আয়াতে মুমিনদের হতাশ না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি ও ভুল বুঝাবুঝির কারণে ওহুদের যুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে জয়লাভ করার পর কিছুক্ষণের জন্য মুসলিমরা পরাজয় বরণ করে। যার ফলশ্রুতিতে মুসলিমদের সত্তরজন সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহত হন। কিন্তু এ সবের পরও আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং শত্রুরা পিছু হটে যায়। এ সাময়িক বিপর্যয়ের কারণ ছিল তিনটি-

    এক. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তীরন্দাজ বাহিনীর প্রতি যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, পারস্পরিক মতভেদের কারণে তা শেষ পর্যন্ত পালিত হয়নি।

    দুই. খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুসলিমরা নিরাশ হয়ে পড়ে। হতাশা হয়ে যায়। ফলে সবাই হীনমনোবল ও হতোদ্যম হয়ে পড়ে।

    তিন. মদিনা শহরে অবস্থান গ্রহণ করে শক্ৰদের মোকাবেলা করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ পালনে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, সেটাই ছিল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুসলিমদের এ তিনটি ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণেই তারা সাময়িকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

    তবে এ সাময়িক পরাজয় অবশেষে বিজয়ের রূপ ধারণ করেছিল সত্য; কিন্তু মুসলিম যোদ্ধারা আঘাতে জর্জরিত ছিলেন। মুসলিম বীরদের মৃতদেহ ছিল চোখের সামনে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও হতভাগারা আহত করে দিয়েছিলো। সর্বত্র ঘোর বিপদ ও নিরাশার ছায়া বিস্তার করেছিল।

    মুসলিম মুজাহিদগণ নিজেদের ক্রটি-বিচ্যুতির জন্যেও বেদনায় মুষড়ে পড়েছিলেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছিল-

    এক. অতীত ঘটনার জন্য দুঃখ ও বিষাদ।

    দুই. এই আশঙ্কা যে, ভবিষ্যতের জন্য মুসলিমগণ যেন দুর্বল ও হতাশ না হয়ে পড়ে এবং বিশ্ব-নেতৃত্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ জাতি অঙ্কুরেই মনোবল হারিয়ে না ফেলে।

    তাই আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানদের উপদেম দিচ্ছেন। এ দুইটি ছিদ্রপথ বন্ধ করার জন্যই আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমের এ আয়াত নাজিল করেছেন। বলেছেন, তোমরা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের মধ্যে দূর্বল ও শিথিলতা আসতে দিয়ো না এবং অতীতের জন্যও বিমর্ষ হয়ে যেয়ো না। যদি তোমরা ঈমান ও বিশ্বাসের পথে সোজা হয়ে থাক এবং আল্লাহ্ তাআলার ওয়াদার উপর ভরসা রেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য ও আল্লাহর পথে জেহাদে অনড় থাক; তবে তোমরাই জয়ী হবে।

    অতীতে যে সব ক্রটি-বিচূতি হয়ে গেছে, তার জন্য দুঃখ ও শোক প্রকাশে সময় ও শক্তি নষ্ট না করে ভবিষ্যতে সংশোধনের চিন্তা করা দরকার। ঈমান, বিশ্বাস ও রাসুলের আনুগত্য উজ্জল ভবিষ্যতের দিশারী। এগুলো হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না। তবেই তোমরা জয়ী হবে। পরের আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-

    اِنۡ یَّمۡسَسۡکُمۡ قَرۡحٌ فَقَدۡ مَسَّ الۡقَوۡمَ قَرۡحٌ مِّثۡلُهٗ ؕ وَ تِلۡکَ الۡاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیۡنَ النَّاسِ ۚ وَ لِیَعۡلَمَ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ یَتَّخِذَ مِنۡکُمۡ شُهَدَآءَ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیۡنَ

    ‘যদি তোমাদেরকে কোন আঘাত স্পর্শ করে থাকে তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও স্পর্শ করেছে। আর এইসব দিন আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪০)

    এ আয়াতেও অন্য এক ভঙ্গিমায় মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, ওহুদ যুদ্ধে তোমাদের কিছু লোক আহত হয়েছে তো কি হয়েছে? তোমাদের বিরোধী দলও তো বদরের যুদ্ধে এবং ওহুদ যুদ্ধের প্রথম দিকে এইভাবেই আহত হয়েছিল। আর মহান আল্লাহ তাঁর হিকমতের দাবিতে হার-জিতের পালা পরিবর্তন করতে থাকেন। কখনো বিজয়ীকে পরাজিত করেন, আবার কখনো পরাজিতকে করেন বিজয়ী। পরের আয়াতে মহান রব সুসংবাদ ঘোষণা করেন যে-

    وَ لِیُمَحِّصَ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ یَمۡحَقَ الۡکٰفِرِیۡنَ

    ‘আর যাতে আল্লাহ পরিশুদ্ধ করেন ঈমানদারদেরকে এবং ধ্বংস করে দেন কাফিরদেরকে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪১)

    ওহুদ যুদ্ধে মুসলিমরা তাঁদের অবহেলার কারণে সাময়িকভাবে যে পরাজয়ের শিকার হন, তাতেও ভবিষ্যতের জন্য এমন কয়েকটি যৌক্তিকতা নিহিত রয়েছে, যা মহান আল্লাহ পরের আয়াতে বর্ণনা করেছেন।

    প্রথমত : মহান আল্লাহ ঈমানদারদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক করে দেখিয়ে দেন। (কারণ, ধৈর্য ও সুদৃঢ় থাকা ঈমানের দাবি।) যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে এবং মুসিবতের সময় যাঁরা ধৈর্য ও সুদৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, অবশ্যই তাঁরা সকলেই মুমিন।

    দ্বিতীয়ত : কিছু লোককে শাহাদতের মর্যাদা দানে ধন্য করেন

    তৃতীয়ত : ঈমানদারদেরকে তাঁদের সমস্ত পাপ থেকে পবিত্র, পরিশুদ্ধ বা বিশুদ্ধ করেন। করা। আর পবিত্র ও পরিশুদ্ধ বলতে, পাপ থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা। (ফাতহুল কাদির)

    চতুর্থত : কাফেরদের ধ্বংস সাধন। কারণ, সাময়িকভাবে জয়লাভে তাদের অবাধ্যতা ও দাম্ভিকতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই জিনিসই তাদের ধ্বংস ও বিনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে হতাশা, দুবলতা ও হীনমনোবল থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তাঁর উপদেশাবলী গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচার দোয়া

    ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচার দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ ভালো জ্ঞান অমূল্য সম্পদ। ভালো জ্ঞান ও জ্ঞানীর দ্বারা সবাই উপকৃত হয়। কিন্তু এমন অনেক জ্ঞান আছে যা মানুষকে ধ্বংস করে। এসব ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে ধরনা দেওয়ার বিকল্প নেই। তাহলে ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচার দোয়া কী?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে মহান আল্লাহর কাছে এভাবে নিরাপদ আশ্রয় চেয়েছেন-
    نَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَ مِنْ قَلْبٍ لَا تَخْشَعُ
    উচ্চারণ : ‘নাউজুবিল্লাহি মিন ইলমিন লা ইয়ানফাউ ওয়া মিন ক্বালবিন লা তাখশাউ।’
    অর্থ : আল্লাহর কাছ থেকে এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই যা উপকারী নয়। আর এমন অন্তর থেকে আশ্রয় চাই; যাতে আল্লাহর ভয় নেই।’ (তাফসিরে কাবির)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈমান ধ্বংসকারী ইলম থেকে হেফাজত করুন। ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে বাঁচিয়ে রাখুন আমিন।

  • স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আচরণ ও করণীয়

    স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আচরণ ও করণীয়

    ইসলামিক ডেস্কঃ হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ঘরে (স্ত্রীদের সহযোগিতায়) কাজ করতেন? উত্তরে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরের মানুষদের সেবায় নানা কাজে অংশ নিতেন। নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন। (বুখারি)

    স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর আচরণ হবে উত্তম। স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা স্বয়ং নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত। তিনি তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতেন। নবিজীর আচরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উম্মতের জন্য একান্ত আবশ্যক। কারণ স্ত্রীদের প্রতি উত্তম আচরণ ও করণীয় সম্পর্কে সার্বিক সহযোগিতায় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন এক অনুকরণীয় আদর্শ। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত।

    নবিজী নিজের কাজ নিজে করতেন। ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। হাদিসে এসেছে-

    আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তাঁর কাপড় সেলাই করতেন; নিজের জুতা মেরামত করতেন এবং সাংসারিক যাবতীয় কাজে অংশ গ্রহণ করতেন।’ (ফতহুল বারি)

    আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পর এক বলে সম্বোধন করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    فَاسۡتَجَابَ لَهُمۡ رَبُّهُمۡ اَنِّیۡ لَاۤ اُضِیۡعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنۡکُمۡ مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی ۚ بَعۡضُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡضٍ

    ‘এরপর তাদের প্রভু তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোনো পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক।’ (সুরা ইমরান : আয়াত ১৯৫)

    কোরআনের ঘোষণা নারীর প্রতি পুরুষের আচরণ এবং পুরুষের প্রতি নারীর আচরণ হবে সুন্দর ও সযোগিতাপূর্ণ। কেউ কারো প্রতি বিরূপ আচরণ করবে না। তবেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তৈরি হবে সুসম্পর্ক ও মধুর বন্ধন। এ লক্ষ্যে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি যথাযথ মর্যাদা দেবে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর কাছ থেকে যেমন স্ত্রীরা যথাযথ মর্যাদা পায় না। তেমনি স্ত্রীদের কাছ থেকেও স্বামীরা যথাযথ মর্যাদা পায় না। যার ফলে পারিবারিক জীবনে শুরু হয় অশান্তি। এমনটি কাম্য নয়।

    স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর করণীয়

    স্বামীর সবচেয়ে বড় গুণ হলো স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ করা। স্ত্রীকে তার কাজে সহযোগিতা ও সম্মান করা। বিশেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী আচরণগুলো হওয়া উচিত এমন-

    ১. সবসময় স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করা।

    ২. স্ত্রীর কোনো কথা বা কাজে কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ করা।

    ৩. স্ত্রীর উচ্ছৃঙ্খল বা অন্যায় চলাফেরায় তাকে বার বার কোমল ও নম্র ভাষায় বোঝানো।

    ৪. সামান্য অজুহাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ না করা। সুযোগ পেলেই কথায় কথায় ধমক না দেওয়া এবং রাগ না করা।

    ৫. আত্মমর্যাদায় আঘাত আসে এমন বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা না বলা। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংযত থাকা।

    ৬. অকারণে সন্দেহবশতঃ স্ত্রীর প্রতি কুধারণা না করা।

    ৭. স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালন ও খোঁজ-খবর রাখাসহ যথাযথ আদর-যত্নে উদাসীন না থাকা।

    ৮. সামর্থ্যানুযায়ী স্ত্রীকে যথাযথা খোরপোষ দেওয়া। আবার খোরপোষের নামে অযথা অপচয় যেন না হয় সে দিকেও লক্ষ্য রাখা।

    ৯. নামাজ এবং দ্বীনের আহকাম মেনে চলার ব্যাপারে স্ত্রীকে উৎসাহিত করা এবং বোঝানো।

    ১০. পবিত্র ও দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও নিয়ম-কানুনগুলো স্ত্রীকে ভালোভাবে শেখানোর ব্যবস্থা করা। ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

    ১১. একাধিক স্ত্রী থাকলে সবসময় সবার মাঝে সমতা রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    ১২. স্ত্রীর চাহিদানুযায়ী তাদের সঙ্গে সময় দেওয়া। মেলামেশা ও ওঠা-বসায় তাদের চাহিদার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। এমনকি তাদের মতামতের ব্যাপারেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।

    ১৩. স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া (মেলামেশায়) আজল না করা। অর্থাৎ মেলামেশার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বাভাবিক স্থান ত্যাগ না করা।

    ১৪. একান্ত নিরুপায় না হলে স্ত্রীকে তালাক না দেওয়া। কেননা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বৈধ কাজ হলো তালাক। যদি তালাক দিতেই হয় তবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে তালাক প্রদান করা।

    ১৫. স্ত্রীর স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব। সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করা।

    ১৬. স্ত্রীকে নিয়ে মাঝে মাঝে স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করতে যাওয়া। স্বামী যদি একান্তই সময় না পায় তবে অন্তত স্ত্রীকে তার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া।

    ১৭. কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্যাপারে কিংবা দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশার বর্ণনা বা চিত্র অন্য কারো কাছে প্রকাশ না করা স্বামীর একান্ত কর্তব্য।

    ১৮. স্ত্রীর অধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরও যদি স্ত্রী বেপরোয়া হয় তবে প্রয়োজনে স্ত্রীকে প্রথমে বারবার সতর্ক করা। এরপর ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে হালকা শাসন করা। তবে ইসলামি শরীয়ত যতটুকু অনুমতি দিয়েছে তার চেয়ে বেশি শাসন না করা। সর্বোপরি প্রয়োজনে পারস্পরিক সমযোতার মাধ্যমে আলাদা হয়ে যাওয়া।

    সুখ-শান্তিময় পারিবারিক দাম্পত্য জীবনের জন্য সব স্বামীর উচিত, তাদের স্ত্রীদের কাজের মৌখিক স্বীকৃতি ও প্রশংসার পাশাপাশি সাংসারিক কাজে সামান্য সময়ের জন্য হলেও স্ত্রীকে সহযোগিতা করা। তবেই স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। পারিবারিক জীবনে অনিন্দ্য সুন্দর শান্তিপূর্ণ সংসারের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব স্বামীকে তাদের স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ, সহযোগিতা ও সম্মান করার তাওফিক দান করুন। শান্তিপূর্ণ পরিবার গঠনে স্ত্রীর প্রতি সার্বিক সমর্থন, সদাচরণ ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • হজে গিয়ে ২২ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরলেন ৯৯৬৪ হাজি

    হজে গিয়ে ২২ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরলেন ৯৯৬৪ হাজি

    অনলাইন ডেস্কঃহজের পর সৌদি আরবে আরও এক বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২২ জনে। সর্বশেষ রোববার (১৭ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলার মোছা. মমতাজ বেগম (৪৯) পবিত্র মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন। তার পাসপোর্ট নম্বর- EE0210200।

    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক হজের বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    মারা যাওয়া হজযাত্রী/হাজিদের মধ্যে পুরুষ ১৫ ও মহিলা ৭ জন। তাদের মাঝে মক্কায় ১৮, মদিনায় ৩ ও জেদ্দায় একজন মারা যান।

    অন্যদিকে হজ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৯ হাজার ৯৬৪ জন হাজি।

    গত ৮ জুলাই সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ১৬৫টি ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রী। এরপর হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট ১৪ জুলাই শুরু হয়।

    আইটি হেল্পডেস্ক জানিয়েছে, চারদিনে মোট ৯ হাজার ৯৬৪ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। মোট ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ২৭টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি, সৌদিয়ার ১৩টি ও ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট রয়েছে। হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ৪ আগস্ট।

    আইটি হেল্পডেস্ক হজের বুলেটিনে আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সৌদি আরবে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে রোববার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৫১০ ফ্লাইটযোগে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন। হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

  • চিন্তামুক্ত থাকার আমল

    চিন্তামুক্ত থাকার আমল

    হতাশা ও দুঃশ্চিন্তার কারণেই মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। চিন্তামুক্ত থাকার মাধ্যমেই মানসিক চাপ থেকে বাঁচার উপায়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কোনো বিষয়ে চিন্তামুক্ত থাকতে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। এটি হতে পারে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য বিশেষ আমল। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তা ও চাপমুক্ত থাকতে কী আমল করতেন এবং দোয়া পড়তেন?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কোনো চিন্তা বা চাপমুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে এভাবে বেশি বেশি সাহায্য চাইতেন-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَ أَعُوذُ بِكَ مِنَ ضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউযু বিকা মিন দ্বালা’য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আপনার আশ্রয় চাই, অপারগতা ও অলসতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই, কৃপনতা ও ভীরুতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই আর ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকেও আপনার আশ্রয় চাই।

    চিন্তামুক্ত থাকার আমল

    যে কোনো মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে নিয়মিত যে আমলগুলো করা জরুরি। তাহলো-

    ১. নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত

    কুরআনুল কারিম তেলাওয়াত করা। কুরআন তেলাওয়াত মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। কুরআনের তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন মানুষকে দুনিয়ার সব দুঃশ্চিন্তা ও হতাশামুক্ত রাখে।

    ২.নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়া

    নামাজের নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করায় হতাশা ও দুঃশ্চিন্তামুক্ত থাকে মন। আর নামাজের মাধ্যমেই বান্দা মহান আল্লাহর সাহায্য লাভে ধন্য হয়। কেননা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার কথা এসেছে এভাবে-

    ’তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমার সাহায্য প্রার্থনা কর। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৫)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যে কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজ আদায় করতেন।’ (আবু দাউদ) দুঃশ্চিন্তা বিপদ ও হতাশার সময় নামাজের আমলে অভ্যস্ত ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম। ছোট থেকে ছোট যে কোনো বিষয়ের জন্যও তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।

    ৩ তাওবাহ-ইসতেগফার

    যে কোনো বিষয়ে আল্লাহ সাহায্য পাওয়ার অন্যতম উপায় বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার করা। কেননা মানুষকে প্রশান্তি দেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা মহান আল্লাহর। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে তিনি মানুষকে প্রশান্তি দেবেন। কুরআনের বর্ণনায় তা প্রমাণিত।

    ‘অতঃপর বলেছি- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০-১২)

  • তাপপ্রবাহ; বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন

    তাপপ্রবাহ; বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন

    কখনো কখনো বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টির আজাব নেমে আসে মানব সমাজে। কিন্তু কেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আল্লাহ মহান পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পায়। ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রূম: ৪১)।

    তাই তো আল্লাহর নবি হজরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল’। ‘তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’ (সূরা নূহ: ১০-১৩)

    হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময় মিশরে অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরার কারণে মানুষের জীবন-যাপন খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে। গবাদি পশুগুলো মারা যাওয়ার উপক্রম হয়। জমি চাষ করা যাচ্ছিল না। কোনো উপায় না দেখে মিশরের জনগণ হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে যান। আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।

    হজরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে বলেন, ‘হে আল্লাহ! মিশরের জমিনে অনেক দিন বৃষ্টি নেই, তুমি বৃষ্টি দাও হে প্রভু! তুমি দয়া করো হে প্রভু!’

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় একবছর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবাহ দেওয়ার সময় এক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন অনাহারে মরছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই হাত তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের মেঘ দিন।’ আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! সে সময় আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম করে বলছি! তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত না নামাতেই পাহাড়ের মতো মেঘের খণ্ড এসে একত্র হয়ে গেল এবং তাঁর মিম্বর থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগল।

    এভাবে দিনের পর দিন ক্রমাগত পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত (বৃষ্টি) হতে থাকল। পরবর্তী জুমআর দিনে সেই বেদুঈন অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, ফসল ডুবে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    তখন তিনি দুই হাত তুললেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি দাও, আমাদের এখানে নয়। এ সময় তিনি স্বীয় আঙুল দিয়ে মেঘের দিকে ইশারা করেছিলেন। ফলে সেখান থেকে মেঘ কেটে যাচ্ছিল।’ (বুখারি)

    মুসলমানদের শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাবি্বল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াউমিদ্দিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফয়ালু মা ইউরিদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল গানিয়্যু ওয়া নাহলুল ফুকারাউ। আনজিল আলাইনাল গাইছা ওয়াজয়া’ল মা আনজালতা লানা কুওয়্যাতান ওয়া বালাগান ইলা খাইরিন।’ অর্থাৎ ‘সব প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময় এবং দয়ালু ও শেষ বিচারের মালিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র মাবুদ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি ধনী, আমরা গরিব। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করো এবং আমাদের জন্য যা অবতীর্ণ করো, তা আমাদের জন্য শক্তিময় ও কল্যাণ দান করো।’ এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত লাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

    বৃষ্টি যেন মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়, এ জন্যও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। বৃষ্টির জন্য কুরআনুল কারিমে ইসতেগফারের আমল করতেও বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

    এ আয়াতে কারিমায় মানুষের ইসতেগফারের ফলে মহান আল্লাহ বান্দার জন্য বৃষ্টি দান করেন। আর বৃষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃষ্টির সময় কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    কখনো কখনো বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টির আজাব নেমে আসে মানব সমাজে। কিন্তু কেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আল্লাহ মহান পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পায়। ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর-রূম: ৪১)।

    তাই তো আল্লাহর নবি হজরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল’। ‘তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’ (সূরা নূহ: ১০-১৩)

    হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময় মিশরে অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরার কারণে মানুষের জীবন-যাপন খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে। গবাদি পশুগুলো মারা যাওয়ার উপক্রম হয়। জমি চাষ করা যাচ্ছিল না। কোনো উপায় না দেখে মিশরের জনগণ হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কাছে যান। আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।

    হজরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে বলেন, ‘হে আল্লাহ! মিশরের জমিনে অনেক দিন বৃষ্টি নেই, তুমি বৃষ্টি দাও হে প্রভু! তুমি দয়া করো হে প্রভু!’

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় একবছর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবাহ দেওয়ার সময় এক বেদুঈন উঠে দাঁড়াল এবং আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পরিবার-পরিজন অনাহারে মরছে। আপনি আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই হাত তুলে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের মেঘ দিন।’ আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! আমাদের ফরিয়াদ শুনুন! সে সময় আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম করে বলছি! তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাত না নামাতেই পাহাড়ের মতো মেঘের খণ্ড এসে একত্র হয়ে গেল এবং তাঁর মিম্বর থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে লাগল।

    এভাবে দিনের পর দিন ক্রমাগত পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত (বৃষ্টি) হতে থাকল। পরবর্তী জুমআর দিনে সেই বেদুঈন অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতি বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, ফসল ডুবে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন।

    তখন তিনি দুই হাত তুললেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি দাও, আমাদের এখানে নয়। এ সময় তিনি স্বীয় আঙুল দিয়ে মেঘের দিকে ইশারা করেছিলেন। ফলে সেখান থেকে মেঘ কেটে যাচ্ছিল।’ (বুখারি)

    মুসলমানদের শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাবি্বল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াউমিদ্দিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফয়ালু মা ইউরিদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল গানিয়্যু ওয়া নাহলুল ফুকারাউ। আনজিল আলাইনাল গাইছা ওয়াজয়া’ল মা আনজালতা লানা কুওয়্যাতান ওয়া বালাগান ইলা খাইরিন।’ অর্থাৎ ‘সব প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময় এবং দয়ালু ও শেষ বিচারের মালিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র মাবুদ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি ধনী, আমরা গরিব। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করো এবং আমাদের জন্য যা অবতীর্ণ করো, তা আমাদের জন্য শক্তিময় ও কল্যাণ দান করো।’ এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত লাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

    বৃষ্টি যেন মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়, এ জন্যও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। বৃষ্টির জন্য কুরআনুল কারিমে ইসতেগফারের আমল করতেও বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

    এ আয়াতে কারিমায় মানুষের ইসতেগফারের ফলে মহান আল্লাহ বান্দার জন্য বৃষ্টি দান করেন। আর বৃষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃষ্টির সময় কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। কোরআন-হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।