Category: ধর্ম

  • যে তিন আমল কখনো বন্ধ হয় না

    যে তিন আমল কখনো বন্ধ হয় না

    মানুষ মরে যায় কিন্তু তার করে যাওয়া তিনটি কাজের আমল কখনো বন্ধ হয় না। এমন তিনটি আমলের কথা বলেছেন নবিজী। তিনি এ তিনটি আমল করার প্রতি উৎসাহ যুগিয়েছেন। কী সেই তিন আমল?

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
    ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন প্রকার আমল ছাড়া (যা কখনো বন্ধ হয় না তাহলো)

    ১. সাদাকা জারিয়াহ
    এমন দান-অনুদান; যার সওয়াব চলমান থাকে। যা কখনো বন্ধ হয় না। দানকারীর মৃত্যুর পরও এ দানের সওয়াব চলতে থাকে।

    ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয়
    এমন ইলম যা সে বই আকারে লিখে যায়। আর তা পড়ে মানুষ উপকৃত হয়। এতে ওই ব্যক্তির আমলনামায় সওয়াব যোগ হতে থাকে। যতদিন এ ইলমের ধারা চলতে থাকে ততদিন এর সওয়াবও চলতে থাকে।

    ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দোয়া করতে থাকে
    এমন নেক সন্তান; যে সন্তান তার বাবা-মার মৃত্যুর পরও তার জন্য নিয়মিত দোয়া করতে থাকে। আর এ দোয়ার বরকত, ফজিলত ও সওয়াব তার আমলনামায় যোগ হতে থাকে। বংশ পরম্পরায় যদি নেক সন্তান থেকে যায় তবে কখনো সওয়াব বা প্রতিদান বন্ধ হয় না।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, এ তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া। যাতে নিজের অর্জিত সম্পদ এমন কাজে ব্যয় হয়; যা তার মৃত্যুর পরও সওয়াবের কাজে পরিচালিত হয়। এমন ইলম শেখা এবং শেখানো যার ধারাবাহিকতা যেন কেয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকে। আর এমন নেক সন্তান জন্ম দেওয়া; যারা বংশ পরম্পরায় নিজ নিজ বাবা-মা বংশধরদের জন্য দোয়া করতে থাকে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ তিনটি আমল বেশি বেশি করার প্রতি যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • দুই সেজদার মাঝে নবিজী (সা.) কী দোয়া পড়তেন?

    দুই সেজদার মাঝে নবিজী (সা.) কী দোয়া পড়তেন?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সেজদার মাঝে চমৎকার দোয়া পড়তেন। এ দোয়াগুলোর মাঝে মানুষর জীবনের সব চাওয়াগুলো রয়েছে। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা ফুটে ওঠেছে। দুই সেজদার মাঝে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী দোয়া পড়তেন?

    দুই সেজদার মাঝে নবিজী যে দোয়া পড়তেন, তাহলো-
    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَاجْبُرْنِي وَارْفَعْنِي
    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়া আফিনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারযুকনি, ওয়াঝবুরনি, ওয়ারফানি।’
    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার উপর রহম করুন। আমাকে নিরাপত্তা দান করুন। আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমাকে রিজিক দান করুন। আমার সব ক্ষয়ক্ষতি পূর্ণ করে দিন। আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন।’

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তিনটি আলাদা হাদিসে বরকতময় ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার এ শব্দমালাগুলো ওঠে এসেছে। তাহলো-
    ১. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সেজদার মাঝে এ দোয়া পড়তেন-
    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়া আফিনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারযুকনি।
    অর্থ : হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর রহম করুন, আমাকে শান্তি দান করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।’ (আবু দাউদ)

    ২. হজরত ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সেজদার মাঝখানে বলতেন-
    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي
    উচ্চারণ : ’আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াঝবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারযুকনি।’
    অর্থ : হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর রহম করুন, আমার সব ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।’। (ইবনে মাজাহ)

    ৩. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের নামাজে দুই সেজদার মাঝে (বসে) বলতেন-
    رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَارْزُقْنِي وَارْفَعْنِي
    উচ্চারণ : ‘রব্বিগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াঝবুরনি, ওয়ারযুকনি, ওয়ারফানি।’
    অর্থ : (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, আমার বিপদ দূর করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন।’ (তিরমিজি)

    যদিও গোটা নামাজই আল্লাহর প্রশংসা ও দোয়া। তারপরও নামাজের প্রতিটি রোকনেই মানুষ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। রহমত বরকত মাগফেরাত, নাজাত কামনা করে। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে প্রয়োজনগুলো তুলে ধরে।

    দুই সেজদার মাঝের দোয়াগুলো প্রতিটি মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। সেজদার মাঝেই মানুষ মহান রবের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। তাই দুই সেজদার মাঝে মহান রবের কাছে মানুষ নিজেদের চাহিদাগুলো তুলে ধরেন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুই সেজদার মাঝে এ দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার মাধ্যমে রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাত কামনার পাশাপাশি দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ মর্যাদা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • শয়তানের ফেতনা থেকে বাঁচতে কী পড়বেন?

    শয়তানের ফেতনা থেকে বাঁচতে কী পড়বেন?

    শয়তানের ফেতনা থেকে বাঁচতে কে না চায়। এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না; যারা শয়তানের ফেতনায় থাকতে চায়। বরং দ্বীন-বেদ্বীন, মুসলিম-অমুসলিম সবারই চাওয়া শয়তানের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকা। কিন্তু কীভাবে শয়তানের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকা যায়? কী পড়লে শয়তানের ফেতনা বা আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যাবে?

    শয়তানের ফেতনা থেকে বেঁচে থাকা একেবারেই সহজ। আল্লাহর রহমত কামনা করা এবং নবিজীর সুন্নাত আমলেই তা সম্ভব। তাই শয়তানের ফেতনা থেকে বেঁচে থাকতে বেশি বেশি তাউজ, ইসতেগফার ও দোয়া পড়ার বিকল্প নেই। যা কোরআন-সুন্নায় ওঠে এসেছে। তাহলো-

    ১. তাউজ

    أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

    উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম’

    অর্থ : ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’

    নিয়ম : ফেতনা বা অন্যায়ের সঙ্কল্প মনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাউজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শয়তানের ধোঁকা বা প্ররোচনা থেকে হেফাজতের আশ্রয় চাওয়া।

    বেশি বেশি ইসতেগফার করলে শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকে মুমিন। সে কারণে বেশি বেশি ইসতেগফারের বিকল্প নেই। তাহলো-

    বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া-

    ২. أَستَغْفِرُ اللهَ

    উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’

    অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

    নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।’ (মিশকাত)

    ৩. أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

    উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘

    অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

    নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।’ (বুখারি)

    ৪. رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’

    অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’

    নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

    ৫. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

    উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

    অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

    ৬. নামাজের শেষ বৈঠকে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়া-

    হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদেরকে এই দোয়াটি এভাবে শেখাতেন, যেভাবে কুরআনের সুরা শেখাতেন। তিনি বলতেন-

    اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّم- وَأعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ- وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ – وَ أَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَ فِتْنَةِ الْمَمَاتِ – اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أعُوْذُبِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَ الْمَغْرَم

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি ঝাহান্নাম। ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্ববর। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাঝ্‌ঝাল। ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল্ মাছামি ওয়া মিনাল মাগরাম।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই, কবরের আজাব হতে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই দাজ্জালের ফিতনার পরীক্ষা থেকে। তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে এবং তোমার কাছে আশ্রয় চাই পাপ ও ঋণের বোঝা থেকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

    ৭. বিশেষ করে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বিখ্যাত ইসতেগফার পড়া-

    رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى فَٱغْفِرْ لِى

    উচ্চারণ : ‘রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)

    অর্থ : হে আমার রব! নিশ্চয় আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’

    মনে রাখতে হবে

    আখেরাতের কর্মক্ষেত্র দুনিয়া। আর নেক আমল করায় কে উত্তম?- তা জানার জন্যই মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুনিয়ার এ পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন। যেখানে শয়তান প্রতিনিয়ত মানুষকে বিপদে ফেলতে বদ্ধপরিকর। তাইতো আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন; যাতে তোমাদের পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, উত্তম আমল বা কর্ম সম্পাদনে কে উত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক : আয়াত ২)

    সুতরাং সব মানুষের উচিত, শয়তানের ধোঁকা ও ফেতনা থেকে বাঁচতে নিয়মিত তাউজ পড়া। বেশি বেশি ইসতেগফারের আমল করা। আর তাতেই মহান আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে মানুষ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শয়তানের যাবতীয় ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। হাদিসে বর্ণিত ঘটনা স্মরণ করে অন্যায় ও ফেতনার সম্মুখীন হলে বেশি তাউজ পড়ে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • আল্লাহ নিজে যে জিকিরের পুরস্কার দেবেন

    আল্লাহ নিজে যে জিকিরের পুরস্কার দেবেন

    একটি জিকির। যার পুরস্কার দেবেন স্বয়ং আল্লাহ। কারণ ফেরেশতারা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন এ জিকিরের বিনিময় কী লিখবেন; তা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। ফজিলতপূর্ণ এ জিকিরটি কী; যার পুরস্কার দেবেন স্বয়ং আল্লাহ?

    একবার এক সাহাবি মহান আল্লাহকে স্মরণ করতে গিয়ে চমকপ্রদ কিছু বাক্য উচ্চারণ করলেন। যা খুবই ফজিলতপূর্ণ। মহান আল্লাহ ওই সাহাবির আমলনামায় তার পঠিত বাক্যগুলো হুবহু লিখে রাখার কথা বললেন। তাহলো-

    يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلاَلِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ

    উচ্চারণ : ‘ইয়া রাব্বি লাকাল হামদু কামা ইয়ামবাগি লিঝালালি ওয়াঝহিকা ওয়া লিআজিমে সুলত্বানিকা।’

    অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনার মহিমান্বিত চেহারা এবং আপনার রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা শুধু আপনার জন্য।’

    হাদিসের দীর্ঘ এক বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে ওঠে এসেছে-

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে এক বান্দা বললো-

    يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلاَلِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ

    উচ্চারণ : ‘ইয়া রাব্বি লাকাল হামদু কামা ইয়ামবাগি লিঝালালি ওয়াঝহিকা ওয়া লিআজিমে সুলত্বানিকা।’

    অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনার মহিমান্বিত চেহারা এবং আপনার রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা শুধু আপনার জন্য।’

    (সম্মানিত) দুই ফেরেশতা এ জিকিরের (প্রশংসার) কথা শুনে হতবাক হলেন এবং তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে, তা কীভাবে (এর সওয়াব) লিখবেন। তাই তারা আসমানে গিয়ে বললেন- হে আমাদের প্রভু! আপনার এক বান্দা এমন এক বাক্য বলেছে, তা আমরা কীভাবে লিখবো বুঝতে পারছি না।

    মহান আল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, আমার বান্দা কি বলেছে? যদিও তিনি বান্দার বিষয়গুলো জানেন। দুই ফেরেশতা বললেন, ‘হে আমাদের প্রভু! সে বলেছে-

    يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلاَلِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ

    উচ্চারণ : ‘ইয়া রাব্বি লাকাল হামদু কামা ইয়ামবাগি লিঝালালি ওয়াঝহিকা ওয়া লিআজিমে সুলত্বানিকা।’

    অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনার মহিমান্বিত চেহারা এবং আপনার রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা শুধু আপনার জন্য।’

    মহান আল্লাহ তাআলা এবার ফেরেশতাদের বললেন, আমার বান্দা যেভাবে বলেছে; ঠিক সেভাবেই লিখে রাখ। (পরকালে) আমার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ই আমি তাকে তার বিনিময় দান করবো।’ (ইবনে মাজাহ)

    মুমিন মুসলমানের জন্য জিকিরটি অনেক মর্যাদার। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা যার প্রতিদান দেবেন। এ জিকিরের উসিলায় মুমিন বান্দা সহজেই মহান আল্লাহর দিদার পেয়ে ধন্য হবেন। কারণ, আল্লাহ তাআলার সরাসরি সাক্ষাতই হবে মুমিন বান্দার জন্য সেরা উপহার। অথচ বিশ্বনবির ঘোষণা অনুযায়ী, মুমিন বান্দার এ জিকির পাঠের বিনিময় সরাসরি আল্লাহর দিদার পাওয়ার সময়ই পাবেন।

    মুমিন মুসলমানের উচিত, মর্যাদা সম্পন্ন জিকিরটি বেশি বেশি পড়া। আল্লাহর প্রশংসায় নিজেদের নিয়োজিত রাখা। আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি পুরস্কার পাওয়ার জন্য এ জিকির পড়া। বিশেষ করে রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জিকিরটি এভাবে পড়া-

    رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْداً كَثيراً طَيِّباً مُبارَكاً فِيهِ – يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلاَلِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান ত্বায়্যিবান মুবারাকান ফিহি। ইয়া রাব্বি লাকাল হামদু কামা ইয়ামবাগি লিঝালালি ওয়াঝহিকা ওয়া লিআজিমে সুলত্বানিকা।’

    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা। হে আমার প্রভু! আপনার মহিমান্বিত চেহারা এবং আপনার রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা শুধু আপনার জন্য।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত লাভে উল্লেখিত তাসবিহ বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। নামাজের রুকু থেকে দাঁড়িয়েও এ আমলটি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • কতদিন খাবেন কোরবানির গোশত

    কতদিন খাবেন কোরবানির গোশত

    কোরবানি সামর্থবানদের জন্য ওয়াজিব। কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য ইবাদতও বটে। কিন্তু কোরবানির পর এ গোশত কী করবেন? কতদিন খাওয়া যাবে কোরবানির পশুর গোশত? এ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনাই বা কী?

    কোরবানির ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর বান্দারা আরো বেশি প্রিয় হয়। যে ইবাদতের ব্যাপারে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
    ‘সামর্থ থাকার পরও যে বা যারা কোরবানি থেকে বিরত থাকবে সে যেন ঈদগাহে না আসে।’
    এ কারণেই সামর্থবান প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষ জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোরবানি করে থাকে।

    কোরবানি যেহেতু আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত, সেহেতু কোরবানির গোশত সম্পর্কেও রয়েছে ইসলামের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা। এ সম্পর্কে অনেকেরই রয়েছে অস্পষ্ট ধারণা বা জ্ঞান। যেমন-
    ১. কেউ কেউ বলে থাকেন- ‘কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা যাবে না।’
    ২. আবার অনেকে বলেন- ‘কোরবানি করে গোশত সাদকা করে দিতে হয়।’
    ৩. কারো কারো ধারণা- ‘৩দিনের বেশি কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা যাবে না।’

    না, কোনোটিই সঠিক নয়। বরং কোরবানির পশুর গোশত সম্পর্কে সব ধারণাগুলো ভুল। কোরবানির গোশত নিজেরা খেতে পারবে, অন্যকে হাদিয়া দেওয়া যাবে এবং সংরক্ষণ করা যাবে। এ ব্যাপারে হাদিসে পাকের একাধিক বর্ণনায় এভাবে দিক-নির্দেশনা এসেছে-
    ১. হজরত সালামা ইবনে আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে লোক কোরবানি করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কোরবানির গোশতের কিছু থেকে যায়। পরবর্তী বছর সাহাবিগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ) বললেন- ‘তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ। কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিল অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাতে সহযোগিতা কর।’ (বুখারি, মুসলিম)

    উল্লেখিত হাদিসে অন্যকে আহার করাও বলতে সমাজের গরিব অসহায়দের দান এবং ধনিদের উপহার দেওয়া কথাই বুঝানো হয়েছে। কিন্তু কি পরিমাণ গোশত অন্যকে দান-সাদকা বা হাদিয়া দেবে সে সম্পর্কে কুরআন এবং সুন্নাহতে কোনো সুস্পষ্ট বিধান দেওয়া নেই।

    তবে ওলামায়ে কেরাম কোরবানির পশুর গোশত বিতরণের একটি মতামত পেশ করেছেন। আর তাহলো-
    কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করে নিজেদের জন্য এক ভাগ রাখা; গরিব-অসহায়দের মাঝে এক ভাগ দান করা এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে এক ভাগ বণ্টন করা মোস্তাহাব।’
    সুতরাং ওলামায়ে কেরামের এ নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির গোশত বণ্টন করা উত্তম। অতঃপর হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ কিংবা সমাজে অভাব-অনটন না থাকলে যতদিন ইচ্ছা ততদিন কোরবানির গোশত সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। অন্য হাদিসে এসেছে-

    ২. হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে আমরা মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত কোরবানির গোশত সঞ্চয় করে রাখতাম।’ (বুখারি)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরবানির গোশত বণ্টন সম্পর্কে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকা থেকে মুক্ত রাখুন। যারা কোরবানির গোশত গরিব-মিসকিনকে দিতে বিরত রয়েছেন; তারা সঞ্চয় করা গোশত থেকে গরিব-দুঃখী ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গোশত বণ্টন করার তাওফিক দান করুন। আমিন

  • পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    পবিত্র ঈদুল আজহা আজ রোববার (১০ জুলাই)। এদিন বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা।

    আল্লাহর জন্য নিজের জান-মাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্টচিত্তে বিলিয়ে দেওয়ার মহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদুল আজহা ফিরে আসে মুসলমানদের মাঝে।

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশবাসীকে জানিয়েছেন ঈদের শুভেচ্ছা।

    এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আজহার জামাত করতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    এবার রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহার জামাত। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বা অন্য কোনো কারণে জাতীয় ঈদগাহে জামাত না হলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

    এই জামাতে অংশ নেবেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    বায়তুল মোকাররমে এবারও ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা, পঞ্চম ও সবশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

  • কোরবানির দিনগুলোতে যেসব দোয়া বেশি পড়বেন

    কোরবানির দিনগুলোতে যেসব দোয়া বেশি পড়বেন

    হজ ও কোরবানির দিনগুলোতে বিশেষ করে ইয়াওমে আরাফির দিন ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত হজপালনকারী, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থানকারী এবং কোরবানিদাতার জন্য নিজেদের গুনাহ মুক্তিতে বেশকিছু দোয়া বেশি বেশি পড়া জরুরি। সেই দোয়াগুলো কী?মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থানকারী ও কোরবানিদাতার জন্য আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফে চোখের পানি ফেলে কান্নাকাটি করাও জরুরি। ক্ষমা ও কল্যাণ পাওয়ার আশায় তাসবিহ, তাহলিল ও ইসতেগফারের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা একান্ত করণীয়। বিশেষ করে আরাফার দিন দোয়া করা। হাদিসে এসেছে-নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফার দোয়া। আর আমি ও আমার আগেকার নবিগণ যে শ্রেষ্ঠ দোয়া করেছেন তাহলো-لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ – بِيَدِهِ الْخَيْر – يُحْيِى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرًউচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু; লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু; বিইয়াদিহিল খাইর; ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কেনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁরই জন্য রাজত্ব ও তাঁরই জন্য সব প্রশংসা। তাঁর হাতেই রয়েছে সব কল্যাণ। তিনিই বাঁচান ও তিনিই মারেন। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’তাবারানির বর্ণনায় এসেছে, ‘দোয়াটি আরাফার দিন সন্ধ্যায় পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।অন্য বর্ণনা এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের নামাজের শেষে সালাম ফিরানোর পরপরই এ দোয়াটি ১০বার পড়বে; সে ব্যক্তির জন্য প্রতি বারের বিনিময়ে ১০টি নেকি লেখা হবে; ১০টি গুনাহ মুছে দেয়া হবে এবং তার মর্যাদার স্তর ১০টি করে উন্নীত করা হবে।ৎএছাড়াও এটি তার জন্য মন্দ কাজ থেকে রক্ষাকবচ হবে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে সে নিরাপদ থাকবে। আর কোনো পাপ তাকে স্পর্শ করবে না (অর্থাৎ তাকে ধ্বংস করতে পারবে না) শিরক ব্যতিত। অতঃপর সে ব্যক্তি হবে সবার চেয়ে উত্তম আমলকারী। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُلِلّهِ وَ لَا اِلَهَ اِللهُ وَاللهُ اَكْبَرُউচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’অর্থ : ‘আল্লাহ পবিত্র। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সবচেয়ে মহান।’ (মুসলিম, মিশকাত)اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِىْ دِيْنِى وَ دُنْيَاىَ وَ اَهْلِىْ وَ مَالِىْউচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনিয়ায়া ওয়া আহলি ওয়া মালি।’অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আমার দ্বীন ও দুনিয়ায়, আমার পরিবার ও বিষয়-সম্পদে তোমার ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।’ (আবু দাউদ, মিশকাত) وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِউচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতিল রিজালি।’অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভিরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের জবরদস্তি থেকে।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِن اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِউচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিন আরজালিল উমুরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়া আজাবিল কাবরি।’অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভিরুতা থেকে; আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে; আশ্রয় প্রার্থনা করছি জ্বরাজীর্ণ বয়স থেকে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফেতনা ও কবরের আজাব থেকে।’ (বুখারি ও মিশকাত)اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِن زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَ تَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَ فُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَ جَمِيْعِ سَخَطِكَউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন যাওয়ালি নিমাতিকা ওয়া তাহাওউলি আফাতিকা ওয়া ফুজাআতি নিক্বমাতিকা ওয়া জামিয়ি সাখাত্বিকা।’অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার থেকে মোতার নেয়ামত চলে যাওয়া থেকে; তোমার দেয়া সুস্থতার পরিবর্তন থেকে; তোমার শাস্তির আকস্মিক আক্রমণ থেকে এবং তোমার যাবতীয় অসন্তুষ্টি থেকে।’ (মুসলিম, মিশকাত)رَبِّ اَعِنِّىْ وَ لَا تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِىْ وَ لَا تَنْصُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِىْ وَ يَسِّرِ الْهُدَى لِىْউচ্চারণ : ‘রাব্বি আয়িন্নি আলা তুয়িন আলাইয়্যা ওয়াংছুরনি ওয়া লা তাংছুর আলাইয়্যা ওয়াহদিনি ওয়া ইয়াস্সিরিল হুদা লি।’অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সহায়তা দাও এবং আমার বিরুদ্ধে সহায়তা করো না। আমাকে সাহায্য কর এবং আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না। আমাকে হেদায়াত দাও এবং আমার জন্য হেদায়েতকে সহজ করে দাও।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মিশকাত)اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِن جَهْدِ الْبَلَاءِ وَ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারাকিশ শাক্বায়ি ওয়া সুয়িল ক্বাজায়ি ওয়া শামাতাতিল আ’দায়ি।’অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমকারী বিপদের কষ্ট থেকে; দুর্ভাগ্যের আক্রমন থেকে; মন্দ ফায়ছালা থেকে এবং শত্রুর হাসি থেকে।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِى عَلَى دِيْنِكَ – اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَউচ্চারণ : ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা; আল্লাহুম্মা মুছার্রিফাল কুলুবি ছার্রিফ কুলুবানা আলা ত্বাআতিকা।’অর্থ : ‘হে হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের ওপর দুঢ় রাখ।হে অন্তরসমূহের রূপান্তকারী! আমাদের অন্তরসমূহকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত, মুসলিম)اَللَّهُمَّ اِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّىْউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, মিশকাত)اَللَّهُمَّ اِنِّى اَسْئَلُكَ الْهُدَى وَ التُّقَى وَ الْعَفَافَ وَالْغِنَىউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত্তুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।’অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুপথের নির্দেশনা, পরহেজগারিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং স্বচ্ছলতা প্রার্থনা করছি।’ (মুসলিম, মিশকাত)সাইয়্যিদুল ইসতেগফাররাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দোয়াটি পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে সে জান্নাতি।’ (বুখারি)-اَللَّهُمَّ اَنْتَ رَبِّىْ لَا اِلَهَ اِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِى وَ أَنَا عَبْدُكَ وَ أَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَ وَعْدِكَ مَااسْتَطَعْتُ – أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ – أَبُوْءُلَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ و أَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ – فَاِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا أَنْتَউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি, ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাত্বাতু। আউজুবিকা মিন শার্রি মা ছানা’তু। আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলি। ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস। আমি তোমার কাছে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপরে সাধ্যমত দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মগুলির অনিষ্টকারিতা থেকে তোমার পানাহ চাচ্ছি। আমার ওপরে তোমার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। এবং আমি আমার পাপসমূহ স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতিত ক্ষমা করার কেউ নেই।’ (বুখারি, মিশকাত)سُبْحَانَ الله – اَلْحَمْدُ لِلَّهِ – اَللهُ اَكْبَرُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ سَيْئٍ قَدِيْرٌউচ্চারণ : সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩বার), আল্লাহু আকবার (৩৩বার/৩৪বার), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির (১বার)

    অর্থ : আল্লাহ মহাপবিত্র; যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আল্লাহ সবচেয়ে মহান; আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই।; তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য সব প্রশংসা। তিনি সব বস্তুর ওপর ক্ষমতাশালী।’রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এ দোয়অ পাঠকারী নিরাশ হবে না।’ তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের শেষে এ দোয়া পাঠ করবে, তার সব গুনাহ মাফ করা হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)سُبْحَانَ اللهِ وَ بِحَمْدِهِ – سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِউচ্চারণ : ‘সুবহানিাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি; সুবহানাল্লাহিল আজিম।’অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা মহা পবিত্র; মহা পবিত্র আল্লাহ; যিনি মহান।’রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কালেমা দু’টি উচ্চারণে খুবই হালকা, মিজানের পাল্লায় খুবই ভারি, কিন্তু আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)আয়াতুল কুরসিরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠকারীর জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোনো বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতিত।’ (নাসাঈ)ঘুমানোর সময় তা পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার কাছে না আসতে পারে।’ (বুখারি, নাসাঈ, মুসলিম, মিশকাত)اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُউচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহু মা ফিস্-সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ’ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া লা ইয়াউ’দুহু হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল আজিম।اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা ওয়া হারামিকা ওয়া আয়িন্নি বিফাজলিকা আম্মান সেওয়াকা।’অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হারাম ব্যতিত হালাল দ্বারা যথেষ্ট কর এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন কর।’রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ দোয়া পাঠ করলে পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন।’ (তিরমিজি, বাইহাকি, মিশকাত)يَا حَىُّ يَا قَيُّوُمُ بِرَحْمَتِكَ اَسْتَغَيْثُউচ্চারণ : ‘ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কায়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।’অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব! হে বিশ্ব জাহানের ধারক! আমি তোমার রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর কোনো কাজ কঠিন হয়ে দেখা দিত, তখন তিনি এ দোয়াটি পড়তেন।’ (তিরমিজি, মিশকাত)অথবা দোয়া-ই ইউনুস পড়তেন-ا اِلَهَ اِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَউচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন।’অর্থ : তুমি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তুমি মহা পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত।’রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মাছের পেটে ইউনুছ আলাইহিস সালাম এ দোয়া পড়ে আল্লাহকে ডেকে ছিলেন (এবং মুক্তি পেয়েছিলেন)। কোনো মুসলিম বিপদে পড়লে এ দোয়া পাঠের ফলে আল্লাহে তা থেকে রক্ষা করবেন এবং তার আবেদন কবুল করবেন।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, মিশকাত)اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ القَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِউচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহ হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’অর্থ : ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্ব চরাচরের ধারক এবং আমি তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তাওবা করছি।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এ দোয়া পড়লে (আল্লাহ বান্দাকে) ক্ষমা করে দেবেন। যদিও সে জেহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, মিশকাত)জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়াاَللَّهُمَّ أَدْخِلْنِى الْجَنَّةَ وَ أَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِউচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলনিল জান্নাতা ওয়া আজিরনি মিনান্নার’ (৩বার)।‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।’এ দোয়া পড়লে জান্নাত বলে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে জান্নাত দাও। অন্য দিকে জাহান্নাম বলে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, মিশকাত)আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজপালনকারীদেরকে মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় অবস্থানকারী ও কোরবানিদাতাদেরকে উল্লেখিত দোয়াগুলো নিয়মিত বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। সবার হজ ও কোরবানিকে কবুল করুন। আমিন।

  • কতদিন খাবেন কোরবানির গোশত?

    কতদিন খাবেন কোরবানির গোশত?

    কোরবানি সামর্থবানদের জন্য ওয়াজিব। কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য ইবাদতও বটে। কিন্তু কোরবানির পর এ গোশত কী করবেন? কতদিন খাওয়া যাবে কোরবানির পশুর গোশত? এ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনাই বা কী?

    কোরবানির ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর বান্দারা আরো বেশি প্রিয় হয়। যে ইবাদতের ব্যাপারে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
    ‘সামর্থ থাকার পরও যে বা যারা কোরবানি থেকে বিরত থাকবে সে যেন ঈদগাহে না আসে।’
    এ কারণেই সামর্থবান প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষ জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোরবানি করে থাকে।

    কোরবানি যেহেতু আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত, সেহেতু কোরবানির গোশত সম্পর্কেও রয়েছে ইসলামের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা। এ সম্পর্কে অনেকেরই রয়েছে অস্পষ্ট ধারণা বা জ্ঞান। যেমন-
    ১. কেউ কেউ বলে থাকেন- ‘কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা যাবে না।’
    ২. আবার অনেকে বলেন- ‘কোরবানি করে গোশত সাদকা করে দিতে হয়।’
    ৩. কারো কারো ধারণা- ‘৩দিনের বেশি কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা যাবে না।’

    না, কোনোটিই সঠিক নয়। বরং কোরবানির পশুর গোশত সম্পর্কে সব ধারণাগুলো ভুল। কোরবানির গোশত নিজেরা খেতে পারবে, অন্যকে হাদিয়া দেওয়া যাবে এবং সংরক্ষণ করা যাবে। এ ব্যাপারে হাদিসে পাকের একাধিক বর্ণনায় এভাবে দিক-নির্দেশনা এসেছে-
    ১. হজরত সালামা ইবনে আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে লোক কোরবানি করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কোরবানির গোশতের কিছু থেকে যায়। পরবর্তী বছর সাহাবিগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ) বললেন- ‘তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ। কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিল অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাতে সহযোগিতা কর।’ (বুখারি, মুসলিম)

    উল্লেখিত হাদিসে অন্যকে আহার করাও বলতে সমাজের গরিব অসহায়দের দান এবং ধনিদের উপহার দেওয়া কথাই বুঝানো হয়েছে। কিন্তু কি পরিমাণ গোশত অন্যকে দান-সাদকা বা হাদিয়া দেবে সে সম্পর্কে কুরআন এবং সুন্নাহতে কোনো সুস্পষ্ট বিধান দেওয়া নেই।

    তবে ওলামায়ে কেরাম কোরবানির পশুর গোশত বিতরণের একটি মতামত পেশ করেছেন। আর তাহলো-
    কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করে নিজেদের জন্য এক ভাগ রাখা; গরিব-অসহায়দের মাঝে এক ভাগ দান করা এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে এক ভাগ বণ্টন করা মোস্তাহাব।’
    সুতরাং ওলামায়ে কেরামের এ নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির গোশত বণ্টন করা উত্তম। অতঃপর হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ কিংবা সমাজে অভাব-অনটন না থাকলে যতদিন ইচ্ছা ততদিন কোরবানির গোশত সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। অন্য হাদিসে এসেছে-

    ২. হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে আমরা মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত কোরবানির গোশত সঞ্চয় করে রাখতাম।’ (বুখারি)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরবানির গোশত বণ্টন সম্পর্কে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকা থেকে মুক্ত রাখুন। যারা কোরবানির গোশত গরিব-মিসকিনকে দিতে বিরত রয়েছেন; তারা সঞ্চয় করা গোশত থেকে গরিব-দুঃখী ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গোশত বণ্টন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জুমা পড়লেই পাবেন জান্নাতের যে পুরস্কার

    জুমা পড়লেই পাবেন জান্নাতের যে পুরস্কার

    জুমা আদায়কারী ব্যক্তির মনোরঞ্জনের জন্য বিশেষ সুখবরের ঘোষণা এসেছে হাদিসে। যারা দুনিয়াতে জুমা পড়বেন, তারা জান্নাতেও জুমার দিন একত্রিত হবেন। হাদিসের বর্ণনায় সে ঘটনা এভাবে ওঠে এসেছে-

    ‘জান্নাতেও প্রত্যেক জুমার দিন জান্নাতি ব্যক্তিদের হাট বসবে। জান্নাতি লোকেরা প্রত্যেক সপ্তাহে সেখাবে একত্রিত হবে। তখন সেখানে এমন মনমুগ্ধকর বাতাস প্রবাহিত হবে, যে বাতাসে জান্নাতিদের সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে। আর তাদের স্ত্রীরা তাদের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে যাবে। (শুধু তাই নয়, ওই সব ব্যক্তিদের) স্ত্রীদের বেলায়ও অনুরূপ সৌন্দর্য বেড়ে যাবে (যা দেখে জান্নাতি ব্যক্তিরাও অভিভূত হয়ে যাবে)।’ (মুসলিম)

    দুনিয়াতে মানুষ যেভাবে সুন্দর ও উত্তম পোশাকে সজ্জিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করে। ঠিক জান্নাতেও আল্লাহ তাআলা তার ওই সব জান্নাতি বান্দাকে জান্নাতের মনমুগ্ধকর বাতাস ও সৌন্দর্য দ্বারা আলোকিত করে দেবেন। তাদের স্ত্রীদের রূপ সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেবেন। যাতে তারা তা উপভোগ করতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে উত্তম ও যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। উত্তম রিজিক ও সর্বোত্তম প্রতিদান লাভের তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পবিত্র হজ আজ : ক্ষমার আশায় আরাফায় হাজিদের প্রার্থনা

    পবিত্র হজ আজ : ক্ষমার আশায় আরাফায় হাজিদের প্রার্থনা

    ১৪৪৩ হিজরি পবিত্র হজ আজ। দুই বছর বিরতির পর সারাবিশ্ব থেকে ১০ লাখ হজযাত্রী অবস্থান নিয়েছে ঐতিহাসিক আরাফায়। প্রতি হিজরি বছরের ৯ জিলহজ মুসলিম উম্মাহকে হজ পালনে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হতে হয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল-হাজ্জু আরাফাহ অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াই হজ। এ দিন মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে ক্ষমা করেন। ক্ষমার আশায় সারাবিশ্ব থেকে আগত হজযাত্রীর আরাফায় তাকবির, তালবিয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ও কান্না-রোনাজারিতে ব্যস্ত। বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন স্থল বা মিলনমেলা এ আরাফার ময়দান। আরাফায় অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের ভাষণ দেবেন শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল ঈসা।

    ১৪৪৩ হিজরির হজের জন্য সৌদি সরকার ১০ লাখ বিদেশীর হজের অনুমোদন দিয়েছেন। যথাযথ ব্যবস্থাপনায় পবিত্র নগরী মক্কা থেকে বিশেষ যানবাহনে হজযাত্রীরা আরাফার ময়দানে উপস্থিত হচ্ছেন। ১০ লাখ হাজির কণ্ঠে লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এবারের আরাফার ময়দান।

    প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে ১৪৪১ ও ১৪৪২ হিজরির হজে নির্ধারিত অল্পসংখ্যক স্থানীয় ও প্রবাসীরা হজে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজ পালনকারীদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবার সর্বোচ্চ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছে হজ ও ওমরাহ কর্তৃপক্ষ। আরাফাতের ময়দানে প্রচণ্ড গরম মোকাবেলায় নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্য সেবকদল।

    সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ কর্তৃপক্ষ হজে অংশগ্রহণকারী আল্লাহর মেহমানদের আরাফাতের ময়দানে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এবার হজে অংশগ্রহণকারী ১০ লাখ হাজি আজ জোহরের আগেই ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন । আরাফার ময়দানে উপস্থিত হাজিরা দুপুরে সৌদি উচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য এবং রাবেতাতু আল-আলাম আল-ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল ঈসার কণ্ঠে শুনবেন হজের খুতবা ও দিকনির্দেশনা।

    তাওবাহ-ইসতেগফার, তাকবির ও তালবিয়ায় মুখরিত থাকবে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। হজে অংশগ্রহণকারীরা এক সামিয়ানায় সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

    দুই বছর পর হাজিদের উপস্থিতিতে এবারের আরাফাতের ময়দান হবে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। বিশেষ ব্যবস্থায় জাবালে রহমতের পাদদেশে হজ পালন করবেন হাজিরা। মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের ইতিহাসে এবারই প্রথম শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল ঈসা মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে খুতবা দেবেন।

    বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহও আজ হজ পালনকারীদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে তাদের জন্য দোয়া কামনা করছে। যাতে হজে অংশগ্রহণকারীরা সুস্বাস্থ্য, সুস্থতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে সুন্দরভাবে হজ সম্পাদন করতে পারে।

    আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত সব হাজির কাণ্ঠে একই সঙ্গীত-

    ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’।

    দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফরিয়াদ জানাবে সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ১০ লাখ হাজির উপস্থিতিতে মহামারি করোনার এ সময়েও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা হবে আজ আরাফাতের ময়দানে।

    আজ ৯ জিলহজ (শুক্রবার) সূর্যোদয়ের পর থেকে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আরাফাতের ময়দান মুখী হজে অংশগ্রহণকারীরা। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও ইবাদত-বন্দেগি চলবে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত।

    বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনাসহ মহামারি করোনা থেকে মুক্তি চাইবে হজে অংশগ্রহণকারীরা। দিনভর কান্নাকাটি দোয়া-ইসতেগফারের পর সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে রওনা হবে মুজদালিফার দিকে। যেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবে মুসলিম উম্মাহ। আর এর মাধ্যমেই পালিত হবে হজ।

    উল্লেখ্য, মহামারি করোনার কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ১৪৪১ ও ১৪৪২ হিজরির হজে সৌদি আরবের বাইরে থেকে পবিত্র হজ পালনে কোনো লোক অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তবে ওই দুই বছর সৌদি বসবাসকারী বিশ্বের ১৬০ দেশের মানুষ অল্প সংখ্যায় হজে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর এবার সারাবিশ্ব থেকে অংশগ্রহণ করেছেন ১০ লাখ মানুষ। যেখানে অন্যান্য বছর প্রায় ২৫ লাখ লোক হজে অংশগ্রহণ করতো।

    মহামারি করোনার এ সময়ে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুস্থতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে যথাযথভাবে হজ সম্পাদনের তাওফিক দান করুন। মুসলিম উম্মাহর গুনাহ মাফ করুন। হজে অংশগ্রহণকারীদের হজে মাবরূর দান করুন। সারা দুনিয়াকে মহামারি করোনাসহ যাবতীয় দুর্যোগ থেকে মুক্তি দিন। আমিন।