Category: ধর্ম

  • আরও একজনের মৃত্যু, সৌদি গেছেন ৪৪ হাজার ২৩৩ হজযাত্রী

    আরও একজনের মৃত্যু, সৌদি গেছেন ৪৪ হাজার ২৩৩ হজযাত্রী

    সৌদি আরবে আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুন) টাঙ্গাইল জেলার মো. আব্দুল গফুর মিয়া (৬১) নামের ওই হজযাত্রী মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তার পাসপোর্ট নম্বর BY0062202।

    এ নিয়ে সৌদি আরবে এ বছর ৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ জন ও নারী ২ জন।

    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্কের হজের প্রতিদিনের বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    অন্যদিকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ জুন) পর্যন্ত গত ২৪ দিনে সৌদি আরবে গেছেন ৪৪ হাজার ২৩৩ জন হজযাত্রী।

    এ পর্যন্ত ১২৩টি হজ ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরব গেছেন। গত ৫ জুন হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছিল।

    সৌদি আরব যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৩ হাজার ৩৮৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৪০ হাজার ৮৪৮ জন রয়েছেন।

    ১২৩টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৭০টি, সৌদিয়ার ৪৭টি এবং ফ্লাইনাসের ৬টি ফ্লাইট রয়েছে।

    সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা ৪ হাজার ১১৫ জন। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোটা ৫৫ হাজার ৮৮৫ জন।

    সৌদি আরবে যাত্রার শেষ ফ্লাইট ৩ জুলাই। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১৪ জুলাই। ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ৪ আগস্ট।

  • যেসব নামাজ কাজা পড়তে হবে

    যেসব নামাজ কাজা পড়তে হবে

    ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় না করে সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আদায় করলেই তাকে কাজা নামাজ বলা হয়। কাজা নামাজ আদায় করার অনুমতি শরিয়ত দিলেও ইচ্ছাকৃত নামাজ কাজা করা কবিরা গোনা। সুতরাং কোনো কারণে সময় মতো নামাজ আদায় করতে না পারলে তা কাজা করে নেয়া জরুরি। কাজা আদায়ের হুকুম তুলে ধরা হলো-

    কাজা নামাজ পড়ার হুকুম
    ১. ফরজ নামাজ পড়া না হলে এ নামাজের কাজাও ফরজ এবং ওয়াজিব নামাজ (বিতর) পড়া না হলে এ নামাজের কাজাও ওয়াজিব।

    ২. কোনো নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়ার মানত করল, সে নামাজ যথা সময়ে পড়তে না পারলে পরবর্তী সময়ে তা কাজা করা ওয়াজিব।

    ৩. নফল নামাজ পড়া শুরু করলে তা সম্পন্ন করা ওয়াজিব। কোনো কারণে এই নফল নামাজ নষ্ট হয়ে গেলে বা এ নামাজ ছেড়ে দিলে; তা পরে কাজা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

    ৪. ফজর ও জোহরের আগে যথাক্রমে দুই ও চার রাকাত (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা) নামাজ এবং নফল নামাজের কাজা নেই।

    ফজর নামাজের সুন্নাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে খুবই তাকিদ দেওয়া হয়েছে। তাই ফজরের সুন্নাত কাজা হলে জোহরের নামাজের আগে কাজা পড়তে হবে। আর জোহরের সময় অতিবাহিত হলে ফজরের সুন্নাত কাজা পড়তে হবে না।

    জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নাত কোনো কারণ বশত পড়া না হলে ফরজের পর পড়ে নিতে হবে। জোহরের পর দুই রাকাত সুন্নাতের আগে বা পরে তা পড়া যাবে। আর জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে এ সুন্নাত নামাজ কাজা করা ওয়াজিব নয়। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী)

    যেসব নামাজ উল্লেখিত নিয়মের মধ্যে পড়ে সেসব ওয়াক্তের নামাজ কাজা করা আবশ্যক। আর ফজর ও জোহরের সুন্নাত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়ার তাকিদ রয়েছে। সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তা পড়া ওয়াজিব নয়।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথা সময়ে নামাজের কাজা আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বিদায় হজের ভাষণের মর্মকথা

    বিদায় হজের ভাষণের মর্মকথা

    বিদায় হজের ভাষণ নবিজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, মানবতার ঐতিহাসিক দলিল, ইসলামের পরিপূর্ণতার স্বীকৃতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কোরআন-সুন্নাহর সংক্ষিপ্ত সারমর্ম। তাকওয়ার ভিত্তিতে মানবতাবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে এ ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম।

    বিদায় হজ : রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুয়তপ্রাপ্তির পর মক্কায় অবস্থানকালে দুইবার হজ পালন করলেও মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর দশম হিজরিতে একবারই হজ করেন। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক হজ এবং শেষ হজ, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত।



    কাতাদা (রহ.) থেকে বর্ণিত, আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসুল (সা.) কতবার ওমরাহ আদায় করেছেন? তিনি বলেন, চারবার। তন্মধ্যে হুদায়বিয়ার ওমরাহ জুলকাদা মাসে, যখন মুশরিকরা তাঁকে মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল। পরবর্তী বছরের জুলকাদা মাসের ওমরাহ, যখন মুশরিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। জিরানার ওমরাহ, যেখানে নবী (সা.) গনিমতের মাল, সম্ভবত হুনায়নের যুদ্ধে বণ্টন করেন।


    আমি বললাম, আল্লাহর রাসুল (সা.) কতবার হজ করেছেন? তিনি বলেন, একবার। (বুখারি, হাদিস : ১৭৭৮)
    বিদায় হজের ভাষণের প্রেক্ষাপট : রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজে লক্ষাধিক সাহাবির সামনে দশম হিজরির জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বিকেলে আরাফাতের ময়দানে এবং পরদিন ১০ জিলহজ কোরবানির দিন বক্তব্য পেশ করেছিলেন। এই দুই দিনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে পরিচিত। নবী (সা.)-এর দৃঢ় আশঙ্কা ছিল যে এটাই তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ ও সর্বশেষ বিশ্ব সম্মেলন।
    জীবনের সর্বশেষ সম্মেলন হিসেবে তিনি পুরো দ্বিন-ইসলামের সারাংশ তুলে ধরেছেন এই ভাষণে। এটিই ছিল তাঁর নবুয়তিজীবনের উপসংহার। ভাষণ শেষে ভাবের আতিশয্যে নবী (সা.) নীরব হন। জান্নাতি নূরে তাঁর চেহারা আলোকদীপ্ত হয়ে ওঠে। এই মুহূর্তে নাজিল হয়—‘আজকের এই দিনে তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণ করে দিলাম।

    তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিলাম। ইসলামকেই তোমাদের ওপর দ্বিন হিসেবে মনোনীত করলাম। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩)
    ভাষণের আলোচিত বিষয় : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ বিভিন্ন হাদিস, তাফসির, ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থে আংশিক এবং খণ্ড খণ্ড আকারে সংকলিত হয়েছে। বুখারি, মুসলিমসহ সব হাদিসগ্রন্থে বিদায় হজের ভাষণের উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) সংকলিত ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বিদায় হজের ভাষণসংক্রান্ত সর্বাধিকসংখ্যক উল্লেখ রয়েছে। মুসলিম শরিফের একটি বর্ণনা নিম্নরূপ—জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম (মর্যাদাপূর্ণ) যেমন তা হারাম (মর্যাদাপূর্ণ) তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে। সাবধান! জাহেলি যুগের সব ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নিচে। জাহেলি যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হলো আমাদের বংশের রবিআ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানু সাদ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুজাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। জাহেলি যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি প্রথমে যে সুদ বাতিল করছি তা হলো আমাদের বংশের আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিবের সুদ। তার সব সুদ বাতিল হলো। তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কলেমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার এই যে তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোনো লোককে স্থান না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা এরূপ করে তাহলে হালকাভাবে প্রহার করো। আর তোমাদের ওপর তাদের ন্যায়সংগত ভরণপোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের বিধান আছে। আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। ‘আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে তখন তোমরা কি বলবে?’ তারা বলল, ‘আমরা সাক্ষ্য দেব যে আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। ’ তারপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, ‘ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো। ’ তিনি তিনবার এরূপ বলেন। (মুসলিম, হাদিস : ৩০০৯)

    ভাষণের নির্দেশনা : বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যায়ভাবে মানুষের রক্তপাত বন্ধ, সুদের কুফল, বর্ণবৈষম্যের ভয়াবহতা, স্বজনপ্রীতির বিরূপ প্রভাব, জাহেলি যুগের মানসিকতা পরিহার করার বিষয়ে জোরালো নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের মর্যাদার বিষয় তুলে ধরেছেন। সাম্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, পরমতসহিষ্ণু হওয়া, সর্বোপরি মানব সভ্যতাবিরোধী সব বর্বরতা পরিহার করে একনিষ্ঠভাবে কোরআন-সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাষণে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে উম্মাহর ঐক্যের বিষয়টি। তিনি বলেন, হে লোকসকল! জেনে রেখো, তোমাদের রব একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। জেনে রেখো, অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং আরবের ওপরও অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কালোর ওপর সাদার এবং সাদার ওপর কালোরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র ভিত্তি তাকওয়া। আমি কি তোমাদের কাছে পৌঁছিয়েছি? উপস্থিত সাহাবারা বলেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসুল পৌঁছিয়েছেন।(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৪৮৯)

    পরিশেষে বলা যায়, বিদায় হজের ভাষণ ইসলামের প্রকৃত মূল্যবোধ অনুযায়ী তাকওয়া ও মানবতার সমন্বিত দিকনির্দেশনা। এর যথার্থ অনুসরণ তাকওয়ার ভিত্তিতে মানবতাবোধসম্পন্ন আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও জাতি গঠন নিশ্চিত করবে, ইনশাআল্লাহ। 

  • এক মুসলমানের প্রতি অন্যের কয়টি হক

    এক মুসলমানের প্রতি অন্যের কয়টি হক

    সমাজিক জীবনে প্রতিনিয়তই একজনের সঙ্গে অন্যজনের দেখা-সাক্ষাৎ হয়। প্রতিনিয়ত দেখা-সাক্ষাৎ হওয়া মানুষগুলোর একজনের সঙ্গে অন্যজনের ৫টি হক বা অধিকার রয়েছে। যারা একজনের আবদার বা আহ্বনে অন্যজন সাড়া দেবে। এটি ইসলামের দিকনির্দেশনা। এ হক বা অধিকারগুলো কী? এ সম্পর্কে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই বা কী বলেছেন?

    পরস্পরের সঙ্গে আবদার-আহ্বান কিংবা আচার-আচরণ কেমন হবে, তা সুস্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসের বর্ণনাটি তুলে ধরা হলো-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু বলেছেন (এক) মুসলমানের ওপর (অপর) মুসলমানের পাঁচটি হক বা অধিকার রয়েছে। তাহলো-

    ১. সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া;

    ২. কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া;

    ৩. কেউ মারা গেলে তার জানাযার নামাজে শরিক হওয়া;

    ৪. কেউ দাওয়াত দিলে তাতে অংশগ্রহণ করা এবং

    ৫. কেউ হাঁচি দিলে তার উত্তর দেওয়া।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    হাদিসের শিক্ষা

    এ হাদিসে এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের প্রাপ্য পাঁচটি হকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ পাঁচটি হকই ফরজে কিফায়া পর্যায়ের। হকগুলো হলো-

    ১. সালাম দেয়া সুন্নাত; উত্তর দেয়া ওয়াজিব। এটি এমন একটি সুন্নাত, যা ফরজের মতোই উত্তম। কেননা সালামের মাধ্যমে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে একটি ওয়াজিব আদায় করা হয়।

    ২. প্রতিবেশি অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া সুন্নাত। তাঁর খোঁজ খবর নেওয়া। এমনকি প্রতিবেশি যদি অমুসলিমও হয় তবুও তার খোঁজ-খবর নেওয়া জরুরি।

    ৩. মৃতব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণ করা ফরজে কিফায়া। মৃতব্যক্তির জানাযা আদায় থেকে দাফন পর্যন্ত সঙ্গ দেওয়া মুস্তাহাব।

    ৪. দাওয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে-

    ক. কাউকে সাহায্য করার জন্য কেউ আহ্বান করলে, তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া;

    খ. কারো দাওয়াত কবুল করা; এ দাওয়াত কবুল করা তখনই আবশ্যক, যখন তা গ্রহণ করলে কোনো গোনাহ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। এমনিভাবে মেজবানের কামাই-রোজগার যদি হালাল হয় তবে দাওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর কামাই-রোজগার যদি সুস্পষ্ট হারাম হওয়া প্রমাণিত হয় তবে দাওয়াত বর্জন করা ওয়াজিব।

    ৫. কোনো মুসলমান হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে, তাঁর উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। হাঁচির উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে মানুষ ভালো-মন্দ উভয়েই সমান। তবে নেককারদের হাঁচির জবাব হাসিমুখে দেওয়া উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁদের হকগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পরিবারের জন্য অভিভাবক যে দোয়া করবেন

    পরিবারের জন্য অভিভাবক যে দোয়া করবেন

    প্রিয় সন্তান। স্বামী কিংবা স্ত্রী। ‍যিনিই পরিবারের অভিভাবক, তিনি তার অধীনস্তদের জন্য আল্লাহর কাছে হৃদয়ের আবেগ-অনুভূতি দিয়ে দোয়া করবেন। তাদের কল্যাণে দোয়া করবেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে দোয়া করবেন। যেভাবে নিজ স্ত্রী-সন্তানের জন্য দোয়া করেছিলেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। কী সেই দোয়া?

    মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি অভিভাবকই নিজ নিজ পরিবারের জন্য দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনায় কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ এ দোয়াটি করবেন-

    رَبَّنَا لِیُـقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجۡعَلۡ اَفۡئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَهۡوِیۡۤ اِلَیۡهِمۡ وَارۡ زُقۡهُمۡ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّهُمۡ یَشۡکُرُوۡنَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা লিয়ুক্বিমুস সালাতা ফাঝআল আফ-ইদাতাম মিনান নাসি তাহ্‌ওয়ি ইলাইহিম ওয়ারযুক্ব্‌হুম মিনাছ ছামারাতি লাআল্লাহুম ইয়াশকুরুন।

    অর্থ : হে আমার প্রভু! তারা (পরিবারের লোকজন) যাতে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। কাজেই তুমি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী (দয়াময়) করে দাও। আর ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে দাও; যাতে তারা (আল্লাহ তাআলার) শুকরিয়া আদায় করতে পারে।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৭)

    কত চমৎকার দোয়া-ই না করেছিলেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। যখন তিনি নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে জনমাবনবহীন মরুভূমি মক্কা প্রান্তরে রেখে এসেছিলেন। আর মহান রব তাদের দান করলেন কল্যাণময় পরিচ্ছন্ন জীবন।

    মহান আল্লাহ চাইলে এখনো অভিভাবকদের এ দোয়া কবুল করে তাদের পরিবার-পরিজনকে দান করতে পারেন কল্যাণময় জীবন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব অভিভাবককে কোরআনের শেখানো দোয়াটি বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। নিজ নিজ পরিবার-পরিজনের দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনা করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে নিরাপত্তা, দয়া, উত্তম রিজিক ও কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জালেম ও জুলুম সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    জালেম ও জুলুম সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    ইসলামে সব ধরণের জুলুম/অত্যাচার কঠোরভাবে হারাম। জুলুমকারী সবচেয়ে ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট। আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য জুলুমকে হারাম করে নিয়েছেন। এটি মানুষের জন্যও নিষিদ্ধ। এটি কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। কোরআন-সুন্নাহর একাধিক বর্ণনায় বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে।জুলুমকে আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছেন মর্মে হাদিসে কুদসিতে নবিজী ঘোষণা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজের জন্যে জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের পরস্পরের মধ্যেও জুলুম হারাম করেছি। সুতরাং তোমরা একজন অন্যজনের উপর জুলুম করো না।’ (মুসলিম, তিরমিজি)শুধু জুলুম বা অত্যাচার করাই হারাম নয়, বরং অন্যকে জুলুমে সহযোগিতা করা এবং জালিম/অত্যাচারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করাও হারাম।জালেমদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তামানুষের ওপর জুলুম করা ভয়াবহ গুনাহ ও মারাত্মক শাস্তির কারণ। যার শাস্তি কোনো না কোনো উপায়ে দুনিয়ার জীবন থেকেই শুরু হয়ে যায়। অহংকার ও গর্বের কারণে জালেম/অত্যাচারীরা মনে করে, কেউ তাদেরকে কখনো পাকড়াও করবে না। অথচ আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে তাদেরকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এভাবে-১. وَ سَیَعۡلَمُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَیَّ مُنۡقَلَبٍ یَّنۡقَلِبُوۡنَ‘আর অত্যাচারীরা অচিরেই জানতে পারবে, তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়?’ (সুরা আশ-শুআরা : আয়াত ২২৭)আয়াতে ‘তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়?’ এর মর্মার্থ হলো- জাহান্নাম। এখানে পাপীদের জন্য রয়েছে কঠিন সতর্কবাণী। হাদিসে পাকেও এ সতর্কবাণী এসেছে এভাবে-‘অত্যাচার করা থেকে দূরে থাকো! কারণ অত্যাচার কেয়ামতের দিন অন্ধকারের কারণ হবে।’ (মুসলিম)২. وَ لَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰهَ غَافِلًا عَمَّا یَعۡمَلُ الظّٰلِمُوۡنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمۡ لِیَوۡمٍ تَشۡخَصُ فِیۡهِ الۡاَبۡصَارُ – مُهۡطِعِیۡنَ مُقۡنِعِیۡ رُءُوۡسِهِمۡ لَا یَرۡتَدُّ اِلَیۡهِمۡ طَرۡفُهُمۡ ۚ وَ اَفۡـِٕدَتُهُمۡ هَوَآءٌ – وَ اَنۡذِرِ النَّاسَ یَوۡمَ یَاۡتِیۡهِمُ الۡعَذَابُ فَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا رَبَّنَاۤ اَخِّرۡنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ نُّجِبۡ دَعۡوَتَکَ وَ نَتَّبِعِ الرُّسُلَ ؕ اَوَ لَمۡ تَکُوۡنُوۡۤا اَقۡسَمۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ مَا لَکُمۡ مِّنۡ زَوَالٍ‘(হে নবি!) তুমি কখনো মনে করো না যে, সীমালংঘনকারীরা (জালেমরা) যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। আসলে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন, যেদিন সব চোখ স্থির হয়ে যাবে।ভীত-বিহব্বল চিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে তারা ছুটাছুটি করবে। নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফেরবে না এবং তাদের অন্তর হবে (জ্ঞান) শূন্য।(হে নবি!) সেদিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর; যেদিন তাদের শাস্তি আসবে, যখন সীমালংঘনকারীরা (জালেমরা) বলবে, ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও; আমরা তোমার আহবানে সাড়া দেব এবং রাসুলদের অনুসরণ করবো।’ (তখন তাদেরকে বলা হবে,) ‘তোমরা কি আগে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের কোনো পতন নেই?’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪২-৪৫)জুলুমের শাস্তিজাহান্নামে জুলুম/জালেমদের অনেক ধরণের কঠোর শাস্তি রয়েছে। জুলুমের অপরাধী/জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে কম শাস্তি যাকে দেওয়া হবে; তার বিবরণ থেকে বুঝা যায়; জাহান্নাম কত কঠিন জায়গা। আর জুলুমের শাস্তি কত মারাত্মক! হাদিসে পাকে এসেছে-হজরত নুমান বিন বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘কেয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মাঝে সবচেয়ে সহজ ও হালকা শাস্তি দেওয়া হবে যে ব্যক্তিকে; সে হলো তার পায়ের তলাতে দুটো জ্বলন্ত অঙ্গার থাকবে, যার কারণে তার মাথার মগজ ছোট মুখ বিশিষ্ট হাড়ির ন্যায় উথলাতে থাকবে।’ (বুখারি, মুসলিম)সুতরাং সাবধান!জালেম ও জুলুমের শাস্তি হবে কঠিন। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা আগে থেকেই এই বলে সতর্ক করেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা জালেম, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ২২)মুমিন মুসলমানের উচিত, জুলুম থেকে বিরত থাকা। জুলুমের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা। কোরআন-সুন্নাহর সতর্কবার্তা অনুযায়ী নিজেদের জুলুম থেকে বিরত রাখা ঈমানের একান্ত দাবি।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে জুলুম ও জালেম হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সাফা-মারওয়ায় যেসব দোয়া পড়বেন

    সাফা-মারওয়ায় যেসব দোয়া পড়বেন

    সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের সায়ী করা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা এটি হজ ও ওমরা পালনেচ্ছুদের জন্য আবশ্যক করে দিয়েছেন। সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সায়ী করার সময় বেশ কিছু দোয়া রয়েছে। সে দোয়াগুলো কী?

    ১. কাবা শরিফ তাওয়াফের পর মাকামে ইবরাহিমে দুই রাকাত নামাজ পড়ার পর জমজমের পানি পান করে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে মসজিদে হারামের বাবুস সাফা দিয়ে সাফা পাহাড়ে আরোহন করা। আর এ আয়াত পাঠ করা-

    إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

    উচ্চারণ : ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৮)

    ২. সাফা পাহাড়ে ওঠে কাবা শরিফের দিকে তাকিয়ে দুইহাত উপরে ওঠিয়ে-

    اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَللهُ اَكْبَر

    আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

    ৩. এরপর এ দোয়াটি ৩ বার পড়ে সাফা পাহাড় থেকে মারওয়ার দিকে সায়ী শুরু করা-

    لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْيِى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيئ قَدِيْر

    لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ – وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ

    উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্‌দু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু আনজাযা ওয়াহদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু হাযাামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’

    সাফা থেকে মারওয়ার দিকে সায়ী’র শুরুতে সবুজ চিহ্নিত স্থান পড়বে; সেখানে পুরুষরা দৌড়ে অতিক্রম করবে আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হেটে তা অতিক্রম করবে।

    ৪. প্রতিবার সায়ীতে সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়া-

    رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

    ৫. সবুজ চিহ্নিত স্থান অতিক্রম করার পর পুরুষ-নারী সবাই স্বাভাবিক গতিতে হেটে সায়ী করবে। সায়ী’র সময় স্বাভাবিকভাবে এ দোয়া বেশি বেশি পড়বে-

    اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ

    اَللَّهُمَّ حَبِّبْ اِلَيْنَا الْاِيْمَانَ وَ كَرِّهْ اِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ

    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ইমানা ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়াল ফুসুক্বা ওয়াল ইসয়ানা ওয়াঝআলনা মিন ইবাদিকাস সালিহিন।’

    ৬. এরপর মারওয়া পাহাড়ে আরোহন করে দোয়া করা। মারওয়া থেকে সাফার দিকে যাওয়ার সময় আবার এ দোয়া পড়া-

    اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ – لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ صَدَقَ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ

    وَ لَا نَعْبُدُ اِلَّا اِيَّاهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُوْنَ – رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ

    إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু সাদাক্বা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু মুখলিসিনা লাহুদদ্বীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরুন। রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম। ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’

    ৭. মারওয়া থেকে সাফা পাহাড়ে আসার সময়ও সবুজ চিহ্নিত স্থানে পূর্বোল্লিখিত দোয়া পড়া-

    رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

    ৮. সাফা-মারওয়ায় সায়ী শেষ হওয়ার পর এ দোয়া পড়া-

    رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الَعَلِيْمُ – وَ تُبْ عَلَيْنَا اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحَيْمُ –

    وَ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَّاَلِهِ وَ اَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ وَارْحَمْنَا مَعَهُمْ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাছ্‌ ছামিউল আলিম। ওয়অতুব্‌ আলাইনা ইন্নাকা আংতাত্‌ তাওয়্যাবুর্‌ রাহিম। ওয়া সাল্লাল্লাহু তাআলা আলা খাইরি খালক্বিহি মুহাম্মাদিউ ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাইন ওয়ারহামনা মাআহুম বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ ও ওমরা পালনকারীদেরকে সাফা ও মারওয়ার সায়ী পালন করার সময় যথাযথভাবে দোয়া পড়ার এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে হজে মাবরূর কবুল করুন। আমিন।

  • হজরত হাবিল ও ইবরাহিমের (আ.) কোরবানি

    হজরত হাবিল ও ইবরাহিমের (আ.) কোরবানি

    আত্মত্যাগের নিদর্শন ‘কোরবানি’। আল্লাহ তাআলার কাছে ‘কোরবানি’র মর্যাদা অনেক বেশি। তিনি তাঁর প্রিয় বান্দাদের কোরবানির মাধ্যমেই পরীক্ষা করেন। কোরবানির পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই আল্লাহর একনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুযোগ পায়। যেভাবে বন্ধু হয়েছিলেন হজরত হাবিল ও ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। কবুল করেছিলেন তাদের কোরবানি। বন্ধু হওয়ার ও কোরবানি কবুলের সে ঘটনা কী?

    কোরবানির বিধান সব নবি-রাসুলদের শরিয়তেই ছিল। কোরআনের বর্ণনা থেকেই এ বিধানের প্রমাণ পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    وَ لِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا لِّیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلٰی مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ؕ فَاِلٰـهُکُمۡ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَلَهٗۤ اَسۡلِمُوۡا ؕ وَ بَشِّرِ الۡمُخۡبِتِیۡنَ
    ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানির এক বিশেষ রীতি পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আল্লাহর নাম নিতে পারে, যা আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৪)

    আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম কোরবানি। কোরবানি শব্দ থেকেই এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। আরবি ‘করব বা কোরবান’ (قرب বা قربان) শব্দ দুটি মুসলমানদের মাঝে বেশি ব্যবহৃত ভাষা ফার্সি ও উর্দুতে (قربانى) কোরবানিতে রূপান্তরিত হয়। এর অর্থ হলো- নিকটবর্তী, নৈকট্য বা সান্নিধ্য।

    হাবিলের কোরবানি
    আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দা যাচাই-বাচাইয়ে ‘কোরবানি’কেই মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যেমনিভাবে তিনি হজরত আদম আলাইহিস সালামের সময় তার দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাঝে কোরবানির বিধান দিয়েছিলেন। যা ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম কোরবানি। যেখানে আল্লাহ তাআলা হাবিলের কোরবানিকে গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
    وَ اتۡلُ عَلَیۡهِمۡ نَبَاَ ابۡنَیۡ اٰدَمَ بِالۡحَقِّ ۘ اِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنۡ اَحَدِهِمَا وَ لَمۡ یُتَقَبَّلۡ مِنَ الۡاٰخَرِ ؕ قَالَ لَاَقۡتُلَنَّکَ ؕ قَالَ اِنَّمَا یَتَقَبَّلُ اللّٰهُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ
    ‘হে রাসুল! আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হল এবং অন্যজনের কোরবানি কবুল হল না। সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কোরবানি কবুল করেন।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭)

    لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَکَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡکَ لِاَقۡتُلَکَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ
    সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হাত বাড়াবো না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৮)

    মানুষের মনের সর্বোচ্চ ত্যাগই হলো কোরবানি। কোরবানির পশুর রক্ত, পশম, হাড় কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে পৌছে না। আল্লাহ তাআলা মানুষের মনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। যার দৃষ্টান্ত হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি ‘কোরবানি’র নির্দেশকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করেছিলেন বলেই তা বাস্তবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর কোরবানি কবুল করেছিলেন।

    বিজ্ঞাপন

    হজরত ইবরাহিমের কোরবানি
    কোরবানির আত্মত্যাগের এ পরীক্ষায় সফলকাম হয়েছিলেন মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। আর তিনি ‘খলিলুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রিয়বন্ধু উপাধি লাভ করেছিলেন।

    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দোয়ার ফসল হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম। তিনি আল্লাহর কাছে নেক সন্তানের দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ দোয়া কবুল করে সহনশীল এক ছেলে সন্তান দান করেছিলেন।

    কোরআনুল কারিমে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল হওয়া এবং এ সন্তানকে কোরবানি দেওয়ার নির্দেশ ও ঘটনা সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। কোরআনে ছেলে সন্তান লাভ ও কোরবানির ধারাবাহিক বর্ণনা এভাবে উঠে এসেছে-
    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রার্থনা
    رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
    ’হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎ ছেলে সন্তান দান করুন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০০)

    সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ
    فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ
    ’সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০১)
    আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে সহনশীল হিসেবে উল্লেখ করেন। সত্যিই হজরত ইসমাইল ছিলেন সহনশীল। কেননা তিনি তার কথা ও কাজে আল্লাহর দেওয়া বিশেষণে নিজেকে রাঙিয়ে ছিলেন। সে ঘটনাও উঠে এসেছে কোরআনে।

    কোরবানির নির্দেশ ও বাস্তবায়নের ঘটনার বর্ণনা
    فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ
    অতপর যখন সে পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহিম তাকে বলল, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে (ইসমাইল) বলল, হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে সবরকারী (সহনশীল) পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২)

    فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ
    ’যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইবরাহিম তাকে জবেহ করার জন্যে শায়িত করলো।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৩)

    وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ
    ’তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম!’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৪)

    হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম স্বপ্নে কোরবানির নির্দেশ পেয়ে যখন বাস্তবায়ন করলেন তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
    قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
    ’তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৫)

    আল্লাহ তাআলা কর্তৃক কোরবানির এ নির্দেশ ছিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের জন্য তাঁর নৈকট্য অর্জনের এক মহাপরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    ’নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৬)

  • আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করার কঠোর পরিণতি

    আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করার কঠোর পরিণতি

    আত্মীয়-স্বজন পরস্পরের জন্য আল্লাহর রহমত। মেহমান আল্লাহর পক্ষ থেকে মেজবানের জন্য রহমত নিয়ে হাজির হন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার সুসম্পর্ক রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুসম্পর্ক রক্ষা করা দুই পক্ষের উপরই নির্ভর করে। কিন্তু একপক্ষ যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে চায় আর অন্যরা তাতে সহযোগিতা না করে তবে সুসম্পর্ক রক্ষাকারীদের সঙ্গে থাকে আল্লাহর পক্ষ সাহায্য। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কী সেই দিকনির্দেশনা?

    আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ। যদি কেউ সদাচরণ করা সত্বেও অন্যরা বিরূপ আচরণ করে তবে সদাচরণকারীর জন্য রয়েছে রহমত ও ফেরেশতাদের সাহায্য আর বিরূপ আচরণকারীর জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। হাদিসে পাকে এসেছে-
    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার আত্মীয়-স্বজন আছেন। আমি তাদের সঙ্গে সদাচরণ করি; কিন্তু তারা আমাকে বিচ্ছিন্ন (সম্পর্ক ছিন্ন) করে রাখে। আমি তাদের উপকার (দয়া-মায়া) করে থাকি, কিন্তু তারা আমার অপকার (বিরূপ) করে। আমি তাদের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করে থাকি আর তারা আমাকে কষ্ট (মূর্খসুলভ আচরণ করে) দেয়।
    তখন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি যা বললে, প্রকৃত অবস্থা যদি তাই হয়, তবে তুমি যেন তাদের উপর জ্বলন্ত অঙ্গার নিক্ষেপ করছ (তাদের মুখে আগুনের জলন্ত কয়লা ঢুকিয়ে দিচ্ছ)। আর সব সময় তোমার সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিপক্ষে একজন সাহায্যকারী (ফেরেশ্‌তা) থাকবে; যতক্ষণ তুমি এ অবস্থায় বহাল থাকবে।’ (মুসলিম)

    সুতরাং দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের উচিত, শুধু আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেই নয় বরং সব মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। সদাচরণ করা। চাই অন্যরা তার সঙ্গে সদাচরণ করুক কিংবা না করুক। যারাই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের জন্য থাকবে ফেরেশতাদের সাহায্য ও সহযোগিতা। যেমনটি ঘোষণা করেছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই সুসম্পর্ক রক্ষায় প্রত্যেকের জন্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা জরুরি।

    হাদিসের দিকনির্দেশনা
    ১. প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো নিজেদের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
    ২. বিরূপ আচরণ সত্বেও যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে, তার প্রতি থাকবে আল্লাহর সাহায্য ও রহমত।
    ৩. যারা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে অনীহা প্রকাশ করে কিংবা বিরূপ আচরণ করে তাদের জন্য রয়েছে জলন্ত আগুনের শাস্তি।
    ৪. ফেরেশতারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীর সঙ্গে থেকে তাদের কল্যাণ কামনা করবেন, সাহায্য করবেন।
    ৫. আর যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীর সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে ফেরেশতারাও তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেবে।

    হাদিসের নির্দেশনা অনযায়ী সদাচরণকারী ব্যক্তির জন্য থাকবে ফেরেশতার সাহায্য। প্রত্যেক মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে সচাদরণের অনুশীলন করে তবে সমাজও শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করবে। থাকবে না কোনো অশান্তি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককেই আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখার এবং পরস্পরের প্রতি সদাচরণ করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • হজ ফ্লাইট শুরু ৩১ মে, বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা

    হজ ফ্লাইট শুরু ৩১ মে, বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা

    এবার হজ ফ্লাইট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে আগামী ৩১ মে। হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

    বুধবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভা শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।