Category: ধর্ম

  • রমজানে যে ৩ গুণ অর্জন করা জরুরি

    রমজানে যে ৩ গুণ অর্জন করা জরুরি

    সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি বরকতময় রমজান মাসকে মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার উসিলা বানিয়েছেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এ মাসেই মানুষের জীবন বিধান হিসেবে এই কোরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। কোরআনের হেদায়েত পাওয়ার সর্বোত্তম মাসও এটি।

    ১. মসজিদে সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা

    মসজিদে সঙ্গে রোজাদারের সম্পর্ক হোক স্থায়ী। কোনো মুমিন মুসলমানের জন্য এমনটি হওয়া উচিত নয় যে, সে শুধু রমজানেই নামাজ পড়তে মসজিদে যাবে। বরং মসজিদের সঙ্গে সব মুসল্লির সম্পর্ক হবে স্থায়ী। মুমিনের জন্য দুনিয়াতেই মসজিদ হবে জান্নাতের সর্বোত্তম নমুনা।

    ২. রমজানে কোরআন শেখা

    রমজান হোক কোরআন শেখার মাস। রমজানে কোরআনের সঙ্গে তৈরি হোক স্থায়ী সম্পর্ক। কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যেন রমজান কেন্দ্রিক না হয়। রমজানে কোনো ইসলামিক স্কলার কিংবা কোনো ব্যক্তির উপদেশ যেন এমন না হয়-

    ‘কোরআন তেলাওয়াত করতে না পারলে বা না জানলে ‘কুল হুওয়াল্লাহ’ সুরা কিংবা কোনো দোয়া-জিকিরের অজিফা দুই শত বার কিংবা চার শত বার পড়ুন!’

    বরং রমজান মাস হলো কোরআন শেখার সর্বোত্তম মাস। কোরআন পড়তে না জানলে ২/৪/৬ কিবাং হাজার বার কোনো সুরা, দোয়া পড়ার তালিম নয়; বরং আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ থেকে শুরু করে এক আয়াত, দুই আয়াত, একটি সুরা, দুইটি সুরা, এক পারা, দুই পারা- এভাবে কোরআন শেখানো বা শেখার উপদেশই সর্বোত্তম। এভাবে কোরআন পড়া ঈমানের একান্ত দাবি। কোরআন নাজিলের মাস রমজানেই মুমিন মুসলমানের জন্য তেলাওয়াত শেখার সর্বোত্তম সুযোগ।

    মনে রাখতে হবে

    কেউ যদি কোরআন পড়তে না পারেন তবে জোড় দিয়ে এ কথা বলতে হবে। আপনি কোরআন শিখুন। আপনাকে কোরআন পড়তে হবে। কোরআন শিখতে হবে।

    অনেকে রমজান মাসে তারাবিতে কোরআন শুনে। তারাবির নামাজে কোরআন তেলাওয়াত শোনা কোনো মুমিনের শান নয়। বরং মুমিনকে কোরআন তেলাওয়াত শোনানোর যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কোরআন পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এক সুরা, দুই সুরা, এক পারা, দুই পারা এভাবে পরিমাণ বাড়াতে হবে। যেন এক পর্যায়ে পুরো কোরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হয়।

    দেখে দেখে পুরো কোরআন পড়ার যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমে রমজানের রহমত মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার চেষ্টা করা। তাই রমজানেই কোরআন শেখার মেহনত শুরু করা জরুরি। প্রয়োজনে আরবি ২৯টি হরব শেখার মাধ্যমে তা শুরু করা যেতে পারে।

    কোরআন শেখার হুকুম

    কোরআন শেখা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য ফরজ। বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত শেখা সবার উপর ফরজ। কোরআন শেখার জন্য কোনো অজুহাত-ওজরের প্রয়োজন নেই। আর কোনো ওজর দিয়ে পার পাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

    শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সবার জন্য পুরো কোরআন তথা সুরা ফাতেহা থেকে নাস পর্যন্ত দেখে দেখে বিশুদ্ধভাবে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। তাই রমজানই হোক সবার জন্য কোরআন শেখার সর্বোত্তম সময়।

    ৩. কোরআনের লানত/অভিশাপ থেকে বেঁচে থাকা

    এমন অনেক মানুষ আছে, যারা কোরআন তেলাওয়াত করে আর কোরআন তাদের লানত করে। অভিশাপ দেয়। কোরআনের ভাষায় নিজেকে নিজে লানত করে চলেছে। বিষয়টি এমন-

    কোনো লোক নিজে মিথ্যাবাদী। কথা ও কাজে মিথ্যা ত্যাগ করে না অথচ সে তেলাওয়াত করছে-

    فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ

    মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ।

    কোনো লোক নিজে অন্যের উপর অত্যাচারী। মানুষের উপর যুলম করে। হয়ত সে পড়ছে-

    أَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِينَ

    অত্যাচারীদের উপর আল্লাহর লানত।

    এভাবে কোরআন তেলাওয়াতকারী নিজেই নিজের ধ্বংসের জন্য আল্লাহর কাছে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ধ্বংস প্রার্থনা করে। তাই কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রমজানে মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বো এবং কোরআন তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি কোরআনের লানত থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা। মিথ্যা ও অত্যাচার থেকে মুক্ত থাকাও জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজায় মসজিদ হয়ে এবং কোরআন তেলাওয়াত শিখে বছরব্যাপী এ আমল জারি রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রোজা অবস্থায় মাসিক হলে করণীয়

    রোজা অবস্থায় মাসিক হলে করণীয়

    প্রশ্ন : রোজা অবস্থায় কোনো নারীর যদি পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব দেখা দেয়, তাহলে সে রোজা রাখবে কি-না?
    উত্তর : রোজা অবস্থায় নারীদের মাসিক আরম্ভ হলে বা ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও প্রসবোত্তর স্রাব (নেফাস) দেখা দিলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে সক্ষম হলে ওইদিন রোজার সম্মানার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ভালো। পরে এ রোজা কাজা আদায় করে নেবেন।

    যারা উপযুক্ত ওজরের কারণে রোজা রাখতে পারবেন না, তারা রমজানের সম্মানার্থে অন্যদের সামনে পানাহার করবেন না। এটা তাকওয়ার পরিচায়ক। (সুরা হজ : ৩২)।

    অনুরূপভাবে রমজানে দিনের বেলায় নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হলে, সেদিনের অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকবেন। এটি রোজার সম্মানে, রোজা হিসেবে নয়। এ দিনের রোজা আদায় করতে হবে। পরদিন থেকে রোজা পালন করবেন।

    এমতাবস্থায় নারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন, সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতে পারবেন। রান্নাবান্না করা, দোয়া-দুরুদ পড়া, তাসবিহ-তাহলিল—সবই স্বাভাবিকভাবে করবেন। সেহরি-ইফতারেও শরিক হতে পারবেন।

  • নামাজের সময়সূচি: ১২ এপ্রিল ২০২২

    নামাজের সময়সূচি: ১২ এপ্রিল ২০২২

    আজ সুর্যাস্ত- ৬:১৮ মিনিট।

    > আগামীকালের (১৩ এপ্রিল) সূর্যোদয়- ৫:৩৯ মিনিট।

    বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

    বিয়োগ করতে হবে

    > চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট

    > সিলেট : -০৬ মিনিট

    যোগ করতে হবে-

    > খুলনা : +০৩ মিনিট

    > রাজশাহী : +০৭ মিনিট

    > রংপুর : +০৮ মিনিট

    > বরিশাল : +০১ মিনিট

    তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • আসুন নিজেকে বদলে ফেলি

    আসুন নিজেকে বদলে ফেলি

    আল্লাহতায়ালার অপার অনুগ্রহে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ সিয়াম সাধনা আর বিশেষ ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলো অতিবাহিত করছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ এবং আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নিরাপদ দুর্গ।’ (সহিহ বোখারি)। আমরা অনেকেই আছি, যারা এ ঢালকে কাজে লাগাচ্ছি না। আর ইবাদতে মগ্ন না হয়ে বৃথা সময় অতিবাহিত করছি।

    আমাদের উচিত, এ দিনগুলোতে বৃথা সময় নষ্ট না করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে রত হওয়া। কেননা, বিশ্বের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একদিকে গত দু’বছর ধরে চলছে বিশ্বময় করোনা মহামারি। অপরদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনে চলছে যুদ্ধ। আল্লাহই ভালো জানেন, কখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যায়!

    রমজানে আত্মবিশ্লেষণ
    পৃথিবীর সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও আল্লাহতায়ালা ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তেই পারেন বিশ্বের সব বালা-মসিবত দূর করতে। কিন্তু এর আগে আমাদের সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। পবিত্র রমজানে আমাদের রাতগুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত রাখতে হবে। সেজদার স্থানগুলোকে অশ্রুজলে সিক্ত করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের আত্মবিশ্লেষণ করা উচিত, আমরা কি আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকার পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছি?

    প্রকৃত সাহায্যকারী মহান আল্লাহ
    আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি বলো, আকাশসমূহের ও পৃথিবীর আদি দ্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া আমি কি অন্য কোনো সাহায্যকারী গ্রহণ করতে পারি? অথচ তিনি রিজিক দান করেন; কিন্তু কারও রিজিক গ্রহণ করেন না।’ (সুরা আনআম : ১৪)। পবিত্র কোরআনের এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আমাদের সবার প্রকৃত সাহায্যকারী হচ্ছেন মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই পারেন আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

    সন্তানদের উত্তম শিক্ষাদান
    রমজান মাসে আমরা অধিক সময় বাসায় অবস্থান করার সুযোগ পাই। এ সুবাদে হাতে প্রচুর সময়ও পাই। তাই এখন সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোনো পিতা তার পুত্রকে উত্তম শিষ্টাচার অপেক্ষা অধিক শ্রেয় আর কোনো বস্তু দান করতে পারে না।’ (তিরমিজি)। তাই পিতামাতার উচিত, পুরো রমজানে সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    পিতামাতার প্রতি করণীয়
    আবার পিতামাতার প্রতিও সন্তানের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। পিতামাতার প্রতি আমাদের যা করণীয়, এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার তাগিদপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। তোমার জীবদ্দশায় তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের উদ্দেশে বিরক্তিসূচক উহ্-ও বোলো না। তাদের বকাঝকা কোরো না। বরং তাদের সঙ্গে সদা বিনম্র ও সম্মানসূচক কথা বলো। তুমি মমতাভরে তাদের উভয়ের ওপর বিনয়ের ডানা মেলে ধরো। দোয়ার সময় বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি সেভাবে দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমায় লালন-পালন করেছিল।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)।

    ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পরীক্ষাস্বরূপ
    আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহতায়ালা প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন ঠিকই; কিন্তু সেই ধন-সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায়, সে ধ্বংস হয়ে যায়। আবার কাউকে সন্তান-সন্তুতি দেন ঠিকই; কিন্তু তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে এ সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। সন্তান-সন্তুতি যদি প্রকৃত নৈতিকগুণ সম্পন্ন না হয়, তাহলে মাতাপিতার জন্য তা একটি আজাব বৈ কিছুই নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার সৌন্দর্য। এ সন্তান-সন্তুতি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয়, তাহলে তা হয় মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ ও দুঃখের বোঝা।’ (সুরা কাহাফ : ৪৬)।

    এ জন্যই আল্লাহতায়ালা মোমিনদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘জেনে রাখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পরীক্ষার কারণ।’ (সুরা আনফাল : ২৭)। একজন পিতামাতা হিসেবে সন্তানের সুশিক্ষায় আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

    শান্তির সুবাতাসের উপায়
    পবিত্র মাহে রমজানের এ দিনগুলোকে বৃথা নষ্ট না করে সন্তানদের তরবিয়তের দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। সন্তানদের নিয়ে বসতে হবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে। সন্তানরা কোরআন পড়তে না পারলে তাদের শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রমজানের এ দিনগুলোতে আমরা যদি ঘরগুলোতে ধর্মীয় আলোচনা করি, আর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করি, তাহলে সন্তানদের মাঝে যেমন নামাজ পড়ার অভ্যাস সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি পরিবারে প্রবাহিত হবে শান্তির সুবাতাস।

    আল্লাহর কাছে রমজানের ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি। আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি রোজা রাখে, তার এ একটি দিনের বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

    রমজান কাটুক আধ্যাত্মিকতা চর্চায়
    পবিত্র মাহে রমজানের এ দিনগুলো কাটাতে হবে আধ্যাত্মিকতা চর্চায়। আমরা আমাদের সন্তানদের নামাজের দোয়াগুলো অর্থসহ শেখাতে পারি। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করাতে পারি। পবিত্র কোরআন থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। বিভিন্ন ইসলামি বই পাঠচক্রের আকারে পড়ার আয়োজন করতে পারি। সেহরির আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারি।

  • যে নিয়মে সেহরি ও ইফতার করবেন

    যে নিয়মে সেহরি ও ইফতার করবেন

    সেহরি ও ইফতার মাহে রমজানের অন্যতম দুটি অনুষঙ্গ। এর মৌলিক নিয়মকানুন ও দোয়াগুলো কী? হাদিসের আলোকে তা নিয়ে লিখেছেন—মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

    সেহরি খাওয়া
    সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হবে। (সহিহ মুসলিম : ১/৩৫০)।

    খাওয়ার সময়
    সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। (আল মুজামুল আওসাত : ২/৫২৬)।

    ইফতার করা
    দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা মুস্তাহাব। (সহিহ বোখারি : ১/২৬৩)।

    ইফতারের সময়
    মাগরিবের নামাজ পড়ার আগেই ইফতার করে নেবেন। যেন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করার সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিজি : ৬৯২)।

    যা দিয়ে ইফতার
    খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবেন। (তিরমিজি : ৬৯৪)।

    ইফতারের আগে দোয়া
    ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া-ইস্তিগফার করতে হয়। বিশেষত এ দোয়া পড়া যায়—
    اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার সেই রহমতের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যা সব বস্তুকে পরিবেষ্টিত। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৫৩)।

    ইফতার গ্রহণের সময় দোয়া
    ইফতার গ্রহণের সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া পড়তেন—
    اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
    অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছিলাম এবং তোমার রিজিক দ্বারাই ইফতার করলাম। (সুনানে আবি দাউদ : ২৩৫৮)।

    ইফতারের পর দোয়া
    ইফতারের পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়া পড়তেন—
    ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ
    অর্থ : পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো। আর আল্লাহতায়ালা চান তো রোজার সওয়াব লিপিবদ্ধ হলো। (সুনানে আবি দাউদ : ২৩৫৭)।

  • রোজা অবস্থায় বমি করলে বা অজ্ঞান হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

    রোজা অবস্থায় বমি করলে বা অজ্ঞান হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

    প্রশ্ন : রোজা অবস্থায় বমি করলে বা অজ্ঞান ও বেহুশ হয়ে পড়লে কি রোজা ভেঙে যাবে?
    উত্তর : রোজা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভাঙবে কি-না, এ নিয়ে অনেকেই আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে থাকি। এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, বমির পরিমাণ বেশি হোক বা কম, সেটা খাদ্য বমি হোক বা রক্ত বমি, মনে রাখতে হবে—রোজা হলো পানাহার না করার নাম। বমি হলে তো পানাহার করা হয় না; বরং তার বিপরীত হয়। তাই রোজা অবস্থায় বমি হলে রোজা ভাঙ্গবে না।

    তবে বমি হওয়ার পর রোজা পালনে সক্ষম হলে তা পূর্ণ করবে; অক্ষম হলে রোজা ছেড়েও দিতে পারবে। এ রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা প্রয়োজন হবে না। বমি মুখে আসার পর তা গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভঙ্গ হবে। এমতাস্থায় কাজা ও কাফফারা উভয়টাই আদায় করতে হবে।

    অনুরূপভাবে কোনো কারণে অজ্ঞান হলে (যাতে সাধারণত রোজার বিপরীত কিছু ঘটে না), রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনে পানাহার বা ওষুধ সেবনে রোজা ভাঙ্গলে পরে কাজা আদায় করে নিতে হবে।

    উল্লেখ্য, অনিচ্ছাকৃত বমি হওয়া ও অজ্ঞান হওয়া অজু ভঙ্গের কারণ; রোজা ভঙ্গের কারণ নয়।

  • খতম তারাবির সুন্দর পদ্ধতি কোনটি?

    খতম তারাবির সুন্দর পদ্ধতি কোনটি?

    প্রতি বছরই আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে একই পদ্ধতিতে খতম তারাবি পড়তে বিশেষ আহ্বান জানায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এতে তারাবির নামাজে প্রথম ছয় দিনে দেড় পারা করে ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে ১ পারা করে ২১ পারা তেলাওয়াত করার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ২৭ রমজানে সব মসজিদে একযোগে পবিত্র কোরআন খতম হয়। এতে করে সবচেয়ে বড় সুবিধাটা হলো, একজন মুসল্লি দেশের যে কোনো মসজিদেই তারাবি পড়ুক না কেন, তাতে তারাবির নামাজে তার পুরো কোরআন শ্রবণে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় না।

    যেমন—যদি কোনো মুসল্লি ১৩ পারার দিন তথা দশম রমজানের তারাবি তার মহল্লার মসজিদে আদায় করে এবং পরের দিন অন্য কোনো মসজিদে তারাবি পড়ে, তাহলে নামাজে সম্পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত শোনার তার যে ইচ্ছে ছিল, তা অটুট থাকবে। কেননা, সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে অনুশীলন হচ্ছে। পরের দিন তথা একাদশ রমজানে সে যেই মসজিদে নামাজ পড়বে, সেখানে নিয়মমতো ১৪ নম্বর পারা তেলাওয়াত করা হবে। রমজানে তারাবিতে পারা ভাগ করে কোরআন খতমের এই যে বাহ্যত সুন্দর পদ্ধতি, এটি কি বাস্তবেই সুন্দর নাকি এর চেয়ে আরও উত্তম কোনো পদ্ধতি আছে? কোরআনকে ত্রিশ পারায় ভাগ করার উদ্দেশ্যসহ আরও একটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করলে ব্যাপারটি বুঝে আসবে।

    কোরআনকে ত্রিশ পারায় ভাগ করার উদ্দেশ্য
    পারা শব্দটি ফার্সি; যার অর্থ—টুকরো, অংশ। বর্তমানে আমাদের সামনে পবিত্র কোরআনুল কারিমের যে প্রতিলিপি রয়েছে, তা মোট ত্রিশটি অংশে বা পারায় বিন্যস্ত। পারার এ বিন্যাস অর্থ হিসেবে নয়; বরং হিফজের ছোট বাচ্চাদের পড়া এবং পড়ানোর সুবিধার্থে। হাফেজি কোরআনুল কারিমের প্রতিটি পারায় ২০টি পৃষ্ঠা থাকে। পৃষ্ঠার এ বিন্যাসও বাচ্চাদের দিকে খেয়াল করেই সাজানো।

    এক কথায়—পারা এবং পৃষ্ঠা অর্থ বা বিষয়ের প্রতি নজর রেখে বিন্যস্ত হয়নি। তাই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি পৃষ্ঠা বা পারা শেষ হয়েছে, কিন্তু বিষয়বস্তু অপূর্ণ রয়ে গেছে। পারা ও পৃষ্ঠার এ বিন্যাস কে করেছেন, এর নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র পাওয়া যায় না। তবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তার অমর গ্রন্থ মাজমাউল ফাতাওয়াল কোবরায় উল্লেখ করেছেন, হরকত তথা জবর-জের-পেশ এর মতো পবিত্র কোরআনে পারারও প্রবর্তন করেছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।

    কোরআনের ৫৪০ রুকু ও একটি বিশেষ রহস্য
    পারার মতো পবিত্র কোরআনের আরেকটি বিন্যাস আছে, যেটিকে রুকু বলা হয়। কোরআনের মুসহাফ বা প্রতিলিপিতে পাদটিকায় রুকুর চিহ্ন হিসেবে আরবি অক্ষর ‘আইন’ লেখা থাকে। মাশায়েখে বোখারা পুরো কোরআনকে সর্বমোট ৫৪০টি রুকুতে ভাগ করেছেন। কোরআনকে রুকুতে বিভাজন করা হয়েছে অর্থ ও মর্মের প্রতি লক্ষ্য রেখে। উদ্দেশ্য—যেন আরবি ভাষা সম্পর্কে অনবহিত পাঠক বুঝতে পারেন, কোথায় একটি বিষয়ের আলোচনা শেষ হয়েছে, আর কোথা থেকে নতুন বিষয়বস্তুর আলোচনার সূচনা হয়েছে।

    আর ৫৪০ সংখ্যায় রুকুর বিভাজনে রয়েছে দারুণ এক রহস্য। ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়ার প্রথম খণ্ডের ৪৭৯ পৃষ্ঠায় এবং ফতোয়ায়ে আলমগিরির প্রথম খণ্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় তারাবি অনুচ্ছেদে কোরআনুল কারিমের ৫৪০ রুকুতে বিভাজনের রহস্য বর্ণনা করে বলা হয়েছে, মাশায়েখে কেরাম কোরআনকে ৫৪০ রুকুতে ভাগ করেছেন এ কারণে যে, যাতে পবিত্র রমজানে তারাবির নামাজে ২৭ দিনে কোরআন খতম করা যায়। অর্থাৎ প্রতিদিন ২০ রাকাত তারাবির নামাজে প্রত্যেক রাকাতে যদি এক রুকু পরিমাণ তেলাওয়াত করা হয়, তাহলে ২৭ রমজানে ৫৪০টি রুকু তথা সম্পূর্ণ কোরআন খতম হবে। কেননা, ৫৪০ সংখ্যাটিকে ২০ দিয়ে ভাগ দিলে ভাগফল হয় ২৭।

    তারাবির রাকাত রুকু হিসেবে পড়া যে কারণে উত্তম
    নামাজে কেরাত পাঠে বিশেষ দুটি মাসআলা আছে—এক. প্রথম রাকাতের কেরাত দ্বিতীয় রাকাতের কেরাতের চেয়ে বড় হওয়া মুস্তাহাব। দুই. বিষয়বস্তু ঠিক রেখে প্রতি রাকাতে তেলাওয়াত করা। অর্থাৎ প্রতিটি রাকাতে কোনো বিষয়ের আয়াতগুলো তেলাওয়াত শুরু করলে ওই বিষয়ের সবগুলো আয়াত পড়ে শেষ করা মুস্তাহাব। কিন্তু রুকু হিসেবে রাকাত আদায় করলে কিছু কিছু সময় উপরিউক্ত মাসআলাদুটির ওপর একত্রে আমল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    যেমন—সুরা বাকারার প্রথম রুকু ছোট আর দ্বিতীয় রুকু বড়। এ ক্ষেত্রে তো দ্বিতীয় মাসআলা তথা বিষয়বস্তু ঠিক রেখে প্রতি রাকাতে তেলাওয়াত করার ওপর আমল হলো; পক্ষান্তরে প্রথম রাকাতে বড় আর দ্বিতীয় রাকাতে ছোট কেরাত পাঠের ওপর আমল করা সম্ভব হলো না। এ ক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কেরাম ও ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, বিষয়বস্তুর ওপর আমলের ব্যাপারটা প্রথম রাকাতের তুলনায় দ্বিতীয় রাকাতে ছোট কেরাত পড়ার আমলের ওপর প্রাধান্য পাবে। এ জন্য সর্বাবস্থায়ই পারার তুলনায় রুকু হিসেবে খতম তারাবি পড়া উত্তম এবং মুস্তাহাব।

    বর্তমানে রুকু হিসেবে খতম তারাবি
    সাহাবাদের যুগ থেকেই আরবরা তারাবিসহ অন্যান্য নামাজে রুকু হিসেবে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত করতেন। মাশায়েখে বোখারা অনারবদের সুবিধার্থে রুকুর প্রবর্তন করলে আরবের বাইরেও এ পদ্ধতিতে তারাবির নামাজ আদায় শুরু হয়। এখনও আরব-অনারব অনেক জায়গায় রুকু হিসেবে খতম তারাবি ও কিয়ামুল লাইলের সালাত আদায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশে রাজধানীর দারুল উলুম ঢাকা নামে মিরপুরের একটি মাদরাসায় কয়েক বছর যাবত এ পদ্ধতি অনুসরণ করে খতম তারাবি আদায় শুরু হয়েছে।

    মাদরাসাটির প্রিন্সিপাল মুফতি রেজাউল হক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ সালাফদের অনুকরণে মুস্তাহাব এ পদ্ধতি চালু করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যে কোনো নামাজে রুকু হিসেবে তেলাওয়াত করাটাই কোরআন ও নামাজের দাবি। এতে প্রতিটি রাকাত অর্থবহ হয় এবং প্রতিটি বিষয়ের শুরু-শেষ শ্রবণে আত্মিক প্রশান্তি অনুভূত হয়। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে এ পদ্ধতির প্রসারে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

    আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে বুঝে কোরআন তেলাওয়াত করা ও নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।

  • রমজান মাসে দান-সদকার ফজিলত

    রমজান মাসে দান-সদকার ফজিলত

    মাহে রমজান মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্বের শিক্ষা দেয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান-সদকা করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয় এবং মানবতা উপকৃত হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী! তাদের ধন-সম্পদ থেকে সদকা নিয়ে তাদেরকে পাক-পবিত্র করুন, (নেকির পথে) তাদের এগিয়ে দিন এবং তাদের জন্য রহমতের দোয়া করুন। (সুরা তওবা : ১০৩)।

    রমজানে দানের আধিক্য
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবকুলের মধ্যে সর্বাধিক উদার ও দানশীল ছিলেন। রমজান মাসে যখন জিবরাইল আলাইহিস সালাম নিয়মিত আসতে শুরু করতেন, তখন তার দানশীলতা বহুগুণ বেড়ে যেত। (বোখারি)। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে কাউকে অধিকতর দয়ালু দেখিনি।’ (মুসলিম)। অন্য বর্ণনায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানের হাত এতটা প্রসারিত ছিল যে, সকালবেলা যদি ওহুদ পরিমাণ সম্পদও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে রাখা হয়, আমার মনে হয়, মাগরিব আসার আগেই তিনি সব দান করে শেষ করে ফেলবেন। (বোখারি ও মুসলিম)।

    রমজান মাসে দানে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব
    রমজানে প্রতিটি ভালো কাজের নেকি ৭০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ মাসে যত বেশি দান-সদকা করা যাবে, তা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রিয় উম্মতকে রমজান মাসে বেশি পরিমাণে দান করতে উৎসাহিত করতেন। রমজান মাসে একটি নফল আমল ফরজের মর্যাদায় সিক্ত। সে হিসেবে রমজান মাসে আমাদের প্রতিটি দান-সদকাই ফরজ হিসেবে আল্লাহতায়ালার কাছে গণ্য। দান-সদকার এমন ঈর্ষণীয় ফজিলত অন্যান্য মাসে কখনোই পাওয়া যাবে না। শুধু রমজানেই এই অফার সীমাবদ্ধ।

    দানকারীর তুলনা
    যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা স্বীয় ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের উপমা হলো একটি শস্য বীজ; তা হতে উৎপন্ন হলো সাতটি শীষ। প্রত্যেক শীষে (উৎপন্ন হলো) শত শস্য এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছে করেন, বর্ধিত করে দেন। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন বিপুল দাতা, মহাজ্ঞানী।’ (সুরা বাকারা : ২৬১)। তাই যারা গরিব, অসহায়-নিঃস্ব, তাদেরকে সাধ্যানুযায়ী দান করা চাই। সামর্থ্য থাকলে কোনো এক হতদরিদ্র পরিবারের এক মাসের সেহরি ও ইফতারের দায়িত্ব নিতে হবে। এতে অঢেল সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি রমজান মাসের পবিত্র ভাব-গাম্ভীর্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। ঈদে প্রতিবেশী কিংবা চেনা-জানা কোনো গরিবকে একটি নতুন জামা উপহার দেওয়া চাই। ফুটপাতে বসবাসকারী কোনো শিশুর মুখে হাসি ফোটানো কর্তব্য।

    দান হবে গোপনে
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যারা গোপনে দান করবেন, মহান আল্লাহ কঠিন কেয়ামতের দিন তাদের আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন।’ (বোখারি)। কাজেই দান-সদকা ও অসহায়কে সহযোগিতা করার বিষয়টি সামর্থবান ও বিত্তশীলদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এতিম, মিসকিন, অভাবগ্রস্ত, ভিক্ষুক, মুসাফির ও অসহায়দের প্রতিও তাদের দায়িত্ব অপরিসীম। অন্তত পবিত্র মাস রমজানে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা ও তাদের প্রাপ্য আদায় করা জরুরি।

    দানের পুরস্কার
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীনকে কাপড় পরাবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতে সবুজ রেশমি কাপড় পরিধান করাবেন। যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্তকে আহার করাবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোনো তৃষ্ণার্তকে পানি পান করাবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতের পবিত্র শরাব পান করাবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ)।

    দানে রিজিকে বরকত হয়
    দান-সদকা রিজিকে বরকত এনে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব অধ্যয়ন করে, সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে, যা কখনও ধ্বংস হবে না। যাতে আল্লাহ তাদের কাজের প্রতিফল পরিপূর্ণ দেন। তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের আরও বেশি দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, অসীম গুণগ্রাহী।’ (সুরা ফাতির : ২৯-৩০)।

    ইফতার ও সেহরি করানো
    একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘ইসলামের মধ্যে উত্তম কাজ কোনটি?’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘অপরকে খাওয়ানো।’ রমজানে আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সানন্দে সেহরি-ইফতার শেয়ার করতে পারি। এতে সওয়াব যেমন হবে, তেমনি সবার মাঝে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। আর অনেক গরিব-দুঃখী আছেন, যারা সেহরি ও ইফতারে সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খান। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানে তাদের দুঃখটা খানিক বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষকে ইফতার ও সেহরি করানোর মাধ্যমে অজস্র সওয়াব লাভ করতে বলেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জায়েদ ইবনে খালেদ আল জুহানি (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার (রোজাদারের) অনুরূপ প্রতিদান লাভ করবে; তবে রোজাদারের প্রতিদান থেকে বিন্দুমাত্রও হ্রাস করা হবে না।’ (তিরমিজি)।

  • রমজানই জাকাত দেওয়ার উত্তম সময়

    রমজানই জাকাত দেওয়ার উত্তম সময়

    জাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি। জাকাত দেওয়া ইসলামের ফরজ বিধান। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ। কারণ এটি ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম। আর রমজানে জাকাত দেওয়ার সর্বোত্তম সময়।

    জাকাত দেওয়ার মাধ্যমেই সম্পদের পবিত্রতা পরিশুদ্ধতা সমৃদ্ধির ধারাকে বাড়িয়ে দেয়। মুসলমানদের মধ্যে কেউ সম্পদের মালিক মানেই তিনি জাকাত দেবেন। সম্পদের পবিত্রতা পরিশুদ্ধতা এবং বৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখতে মুমিন মুসলমান জাকাত দেয়। রমজানে জাকাত দিলে আদায়কারী ও গ্রহীতারা উভয়ই বেশি ‍উপকৃত হয়।

    জাকাত দেওয়ার সেরা সময় রমজান

    গরিব-দুঃখীর মাঝে জাকাত দেওয়ার সময় সুনির্দিষ্ট না থাকলেও রমজানই জাকাত দেওয়ার সর্বোত্তম সময়। আর ফেতরা ঈদুল ফিতরের আগে দেওয়াই উত্তম। রমজানে যে কোনো দান-সাদকাই অন্য সময়ের তুলনা ৭০ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়ার মাধ্যম। এ জন্যই অধিকাংশ ধনী ও সম্পদশালীরা রমজানে দান-সাদকা, জাকাত-ফেতরা আদায়ে খুব বেশি উদ্যোগী হয়ে থাকেন।

    রমজানে মানুষের কাজের পরিধি কমে যায়। দুর্বলতা ও কষ্টের কারণে অভাবি, গরিব-দুঃখী মানুষ ঠিকভাবে আয়-রোজগার করতে পারে না। তাই রমজানে ধনীদের জাকাত-ফেতরা তথা আর্থিক দান-অনুদান গরিবদের জন্য অনেক বেশি উপকারি ও জীবন যাত্রার জন্য বেশ সহায়ক হয়।

    উপকারিতা

    জাকাত একদিকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সহায়-সম্বলহীন মানুষকে সবল ও স্বচ্ছল করে তোলার মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মায়া-মমতার সুসম্পর্ক তৈরি করার অন্যতম সুযোগও এটি। রমজানে জাকাত-ফেতরা, দান-সাদকা করলে অভাবি মানুষগুলো একটু স্বস্থি পায়। রমজানের দিনগুলোতে উভয়ের মাঝে বিরাজ করে এক স্বর্গীয় পরিবেশ।

    অন্যদিকে সম্পদশালীরা ৭০ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়ার আশায় রমজানে দান-সদকা ও জাকাত- ফেতরা প্রদানে উৎসাহিত হয়। আল্লাহর বিধান পালনেও পায় পরিপূর্ণ তৃপ্তি। অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নেকি পায়।

    রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যে কোনো নফল ইবাদতের বিনিময় ফরজ ইবাদত আদায়ের মতো। আর তা জাকাত, ফেতরা ও দান-অনুদানের সওয়াবের বেলায়ও ঘটে।

    জাকাত দিতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

    ১. জাকাত ধনীর সম্পদকে পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও বাড়িয়ে দেয়। ইসলামি শরিয়তে মানুষের প্রয়োজন পূরণের পর যদি নেসাব পরিমান সম্পদ পূর্ণ একবছর কারো কাছে গচ্ছিত থাকে তবে তাকে ওই গচ্ছিত সম্পদের জাকাত দিতে হয়।

    ২. কোরআনে ঘোষিত নির্ধারিত ৮ খাতেই জাকাতের অর্থ বণ্টন করতে হবে। আল্লাহ বলেন-

    اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَ الۡمَسٰکِیۡنِ وَ الۡعٰمِلِیۡنَ عَلَیۡهَا وَ الۡمُؤَلَّفَۃِ قُلُوۡبُهُمۡ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الۡغٰرِمِیۡنَ وَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ ابۡنِ السَّبِیۡلِ ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ

    ‘সাদাকাহ (জাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্তআকর্ষণ করা হয় (নওমুসলিম) তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণ ভারাক্রান্তদের, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।’ (সুরা তওবাহ : আয়াত ৬০)

    ৩. বিভিন্ন মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সমস্যায় জর্জরিতদের সহযোগিতা ও চিকিৎসাসহ অভাবগ্রস্ত মানুষের দুঃসময়ে সহায়তায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারেও দেওয়া যেতে পারে জাকাতে অর্থ। কিংবা নিজ উদ্যোগে নিজেদের জাকাতের অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে গরিবদের দেওয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারেও মতামত দিয়েছেন বিশ্বের অনেক ইসলামি স্কলার।

    রমজানে জাকাত আদায়ই হোক ধনী-গরিব পরস্পরের মধ্যে ইসলামের সেতু বন্ধন। যে বন্ধনের কথা বলেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে পাকে এসেছে-

    ‘জাকাত ইসলামের সেতুবন্ধন।’ (মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা রমজানের সব ইবাদতই দেখেন এবং এর নেয়ামতও দান করেন। সওয়াব দেন ৭০ গুনের বেশি। এ কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার জাকাত প্রদানে অনুগ্রহ দানের ঘোষণা দিয়েছেন একাধিক আয়াতে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡهُ عِنۡدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ

    ‘তোমরা নামাজ আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য আগে পাঠবে তা আল্লাহর কাছে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১১০)

    وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَ اَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ

    ‘তোমরা নামাজ আদায় করো, জাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’ (সুরা নুর : আয়াত ৫৬)

    لٰکِنِ الرّٰسِخُوۡنَ فِی الۡعِلۡمِ مِنۡهُمۡ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ وَ الۡمُقِیۡمِیۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ الۡمُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ اُولٰٓئِکَ سَنُؤۡتِیۡهِمۡ اَجۡرًا عَظِیۡمًا

    ‘আর যারা নামাজ আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেবো।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৬২)

    রমজানের এই পবিত্র সময়ে জাকাত দেওয়াই মুমিন মুসলমানের সম্পদশালীদের জন্য সর্বোত্তম সময়। তাই প্রত্যেক ধনী ও সম্পদশালীর উচিত, জাকাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ ইবাদত রমজানের বরকতময় সময়ে যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে কুরআনের ঘোষণায় নেয়ামত, বরকত, অনুগ্রহ ও মহাপুরস্কার পাওয়ার চেষ্টা করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সম্পদশালী ও ধনীদের রমজানে জাকাত আদায় করে অফুরন্ত সওয়াব ও ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। গরিব-অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রমজান হোক কোরআনময়

    রমজান হোক কোরআনময়

    মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

    কোরআন কী?
    কোরআন অর্থ পড়া, পাঠ করা, পাঠযোগ্য, যা বারবার পাঠ করা হয়। কোরআন শরিফ দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি পঠিত গ্রন্থ। কোরআন অর্থ—কাছে যাওয়া, নিকটবর্তী হওয়া। কোরআন পঠন ও অনুশীলনের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভ করে।

    কোরআনের নির্দেশনা
    পঠন-পাঠন ও বিদ্যার্জন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার নির্দেশ দিয়েই কোরআনের প্রথম আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়—‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃজন করেছেন জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো তোমার রব মহাসম্মানিত, যিনি লিপির মাধ্যমে শিক্ষাদান করেছেন; শিখিয়েছেন মানুষকে, যা তারা জানত না।’ (সুরা কলম : ১-৫)।

    কোরআন পাঠের ফরজ
    কোরআন শরিফ তেলাওয়াতে তিনটি ফরজ রয়েছে—
    এক. হরফ বা বর্ণসমূহ সঠিকভাবে উচ্চারণ করা।
    দুই. হরকত বা স্বরচিহ্ন তাড়াতাড়ি পড়া।
    তিন. মদ বা দীর্ঘস্বর হলে টেনে পড়া।

    কোরআন পাঠে যা করতে হয়
    কোরআন শরিফ পড়তে তিনটি কাজ করতে হয়—
    এক. পবিত্র হওয়া (ফরজ)।
    দুই. আউজুবিল্লাহ পড়া (ওয়াজিব)।
    তিন. বিসমিল্লাহ পড়া (সুন্নত)।

    কোরআন শেখা ফরজ
    কোরআন শিক্ষা করা ফরজ। শিখে ভুলে গেলে মারাত্মক গোনাহ। অশুদ্ধ বা ভুল পাঠ করলে কঠিন পাপের কারণ হতে পারে। তাই কোরআন বিশুদ্ধভাবে শেখা ও সুন্দরভাবে তেলাওয়াত করা জরুরি। যারা পড়তে জানেন না, তাদের শিখতে হবে। যারা শিখে ভুলে গেছেন, তাদের পুনরায় পড়তে হবে। যারা ভুল পড়েন, তাদের শুদ্ধ করতে হবে।

    যাদের পাঠে ভুল মাফ
    তিন ধরনের লোকের তেলাওয়াতের ভুল মাফ হবে—
    এক. যারা সহিহ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।
    দুই. যারা সহিহ করার চেষ্টায় রত আছেন।
    তিন. যাদের সহিহ শিক্ষার সুযোগ নেই বা সহিহ ও ভুলের জ্ঞান নেই।

    রাসুলকে প্রেরণের উদ্দেশ্য
    কোরআন অধ্যয়ন, অনুশীলন ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিয়েই পাঠানো হয়েছিল প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমাদের রব! আপনি তাদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে এমন রাসুল পাঠান, যিনি আপনার আয়াত পাঠ করে শোনাবেন, কিতাব ও হিকমত শেখাবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন। নিশ্চয়ই আপনি স্নেহশীল ও মহাকৌশলী।’ (সুরা বাকারা : ১২৯)।

    কোরআন তেলাওয়াত শ্রেষ্ঠ ইবাদত
    কোরআন তেলাওয়াত করাও ইবাদত, তেলাওয়াত শোনা এবং শোনানোও ইবাদত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পাঠ করে সাহাবিদের শোনাতেন এবং সাহাবিদের তেলাওয়াতও শুনতেন। প্রতি রমজান মাসের আগে যতটুকু কোরআন নাজিল হয়েছে, তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল আলাইহিস সালামকে শোনাতেন। জিবরাইল আলাইহিস সালামও তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শোনাতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের শেষ রমজানে উভয়ে উভয়কে দু-দু’বার করে পূর্ণ কোরআন পাঠ করে শোনান। (তাফসিরে ইবনে কাসির)।

    কোরআনের কারণে রমজান অনন্য
    কোরআন নাজিলের কারণেই রমজান ও শবে কদরের ফজিলত। মক্কা-মদিনার ফজিলতও কোরআন নাজিলের কারণেই। কোরআনের পরশেই গিলাফ ও রেহালের সম্মান। যে মানুষ যত কোরআনের ধারক-বাহক হবে, তার সম্মানও তত বেশি হবে।

    কোরআন পাঠকারীদের জন্য সুসংবাদ
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোরআনওয়ালাই আল্লাহওয়ালা এবং আল্লাহর খাস পরিবারভুক্ত।’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘যে অন্তরে কোরআন নেই, তা যেনো পরিত্যক্ত বিরান বাড়ি।’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘হাশরে বিচারের দিনে কোরআন তোমার পক্ষে বা বিপক্ষে দলিল হবে।’ (মুসলিম)।

    কোরআন বর্জনে ধমকি
    যারা কোরআন তেলাওয়াত, চর্চা ও অনুশীলন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে রোজ কেয়ামতে আল্লাহর আদালতে প্রিয় রাসুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযোগ করবেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন, ‘হে আমার রব! এই লোকেরা কোরআন পরিত্যাগ করেছিল।’ (সুরা ফোরকান : ৩০)।

    ইহ-পরকালীন শান্তি ও মুক্তির পথ
    কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। যা সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল হয়েছে। এরপর কেয়ামত পর্যন্ত আর নতুন কোনো কিতাব ও নতুন কোনো নবী বা রাসুল আসবেন না। এটিই কেয়ামত পর্যন্ত সব মানুষের জন্য দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ।

    প্রয়োজন পরিমাণ কোরআন শেখা
    কোরআনের অংশবিশেষ পাঠ ছাড়া প্রধান ইবাদত নামাজও আদায় হয় না। এ জন্যই সহিহভাবে কোরআন তেলাওয়াত শিখতে হবে। কমপক্ষে নামাজ পড়তে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু শেখা ফরজে আইন।

    মাহে রমজান ও কোরআন
    কোরআন নাজিলের মাস রমজান। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস, যে মাসে নাজিল করা হয়েছে আল কোরআন, মানুষের জন্য হেদায়াতরূপে এবং পথনির্দেশনার প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্য নির্ণয়কারী হিসেবে।’ (সুরা বাকারা : ২৮৫)।

    রমজানে কোরআন পাঠ
    আল্লাহতায়ালা রমজানের পরিচয় দিয়েছেন কোরআনের মাধ্যমে। তাই স্পষ্টত কোরআন শরিফ অবতীর্ণের মাধ্যমেই মাহে রমজানের ফজিলত বেড়েছে বহুগুণ। হাদিসে এসেছে, ‘অন্যান্য মাসসমূহে যে আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হতো, রমজান মাসে সব একসঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল আলাইহিস সালামকে শোনাতেন। আবার জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শোনাতেন। এভাবে পরস্পর কোরআন তেলাওয়াত করতেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

    রমজানে কোরআন পাঠে সওয়াব বেশি
    কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অত্যধিক সাওয়াব লাভ করার জন্য রমজানই মোক্ষম সময়। কোরআন শরিফের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি হরফ তেলাওয়াতে দশটি নেকি হাসিল হয়। রমজানের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি নেকি দশ থেকে সাতশত পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তাই মাহে রমজানে কোরআনের একটি হরফ তেলাওয়াত করলে দশ থেকে সাতশত পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

    রমজান ও কোরআন একই সুতোয় গাঁথা
    রমজানের কারণেই এই নফল ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে ফরজের মর্যাদায় গণ্য হচ্ছে। সুতরাং যারা মাহে রমজানে কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করেন, নিঃসন্দেহে তারা অফুরন্ত-অগণনীয় সওয়াবের অধিকারী হয়ে থাকেন। রমজান ও কোরআন দুইয়ের বিশেষত্বকে এক সুতোয় গাঁথা যায় একটি মাধ্যমে। তা হলো, রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত করা।

    রমজানে পূর্বসূরিদের কোরআন পাঠ
    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পূর্বসূরি বুজুর্গানে দ্বীন রমজান মাসেই অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। যেমন—
    ১. ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসে কোরআন শরিফ মোট ৬১ (একষট্টি) বার খতম দিতেন। প্রতি রমজানের দিনে এক খতম করতেন। আবার রাতে এক খতম করতেন। বাকি এক খতম পুরো রমজানের তারাবির নামাজে আদায় করতেন। (তারিখে বাগদাদ)।

    ২. ইমাম বোখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসের প্রতি রাতে ১ খতম কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করতেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)।

    ৩. আবু কাতাদা রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসে প্রতি ৩ দিনে এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন। শেষ দশকে প্রতি রাতে ১ খতম দিতেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)।

    রমজানে তেলাওয়াতকারীর সোনায় সোহাগা
    কোরআন মানবজীবনের অকাট্য সংবিধান, বিশেষত মুসলমানদের জন্য। নাজিল হয়েছে পবিত্র রমজান মাসে। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এ বিশেষ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের নিমিত্তে হলেও রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। আর রমজানে কোরআন তেলাওয়াত করলে যে তেলাওয়াতকারীর জন্য সোনায় সোহাগা হবে, সেটাও সহজেই অনুমেয়। রমজানের বিশেষত্বই কোরআন। প্রতি রজনীতে কোরআন খতম দিয়ে যেনো আমাদেরকে এ মহান শিক্ষাই দিয়েছেন ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম বোখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা। তাই কোরআন নাজিলের মাসে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করি।