Category: ধর্ম

  • রমজানে রোজাদারের নিয়মিত ৬ কাজ

    রমজানে রোজাদারের নিয়মিত ৬ কাজ

    রমজান মাসজুড়ে রোজাদারের জন্য সব সময় ৬ কাজ করা জরুরি। কারণ এটি রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসটি রোজদারের জন্য নেয়ামতে ভরপুর। প্রতিটি কাজের ব্যাপারে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যার বিনিময়ে রয়েছে গুনাহ মাফ ও সওয়াবের হাতছানি। কী সেই ৬ কাজ?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসজুড় রোজাদারের জন্য ৬টি কাজ করার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তাহলো-

    ১. তারাবি নামাজ পড়া

    রমজানে রাতের বেলা তারাবি নামাজ পড়া। চাই খতম তারাবি, সুরা তারাবি কিংবা ঘরে একা একা আদায় করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সঙ্গে সওয়াব আশায় ‘কিয়ামে রমজান’ অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (বুখারি)

    ২. শেষ রাতে সেহরি খাওয়া

    রমজানের রোজা পালনের জন্য শেষ রাতে সেহরি খাওয়া আবশ্যক। এটি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ। অনেকেই তারাবি পড়ে গভীর রাতে কিছু খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে ওঠে ফজর নামাজ আদায় করে। এমনটি করলে সেহরির বরকত অর্জিত হবে না। সেহরির বরকত সম্পর্কে হাদিসে একাধিক বর্ণনা এসেছে-

    > হজরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা শেষ রাতে খাবার খাও। তাতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    > হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,নিশ্চয়ই আল্লাহ ও ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীর জন্য প্রার্থনা করেন।’ (তাবারানি ও ইবনে হিব্বান)

    > হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়ায় বরকত আসে। সুতরাং তোমরা তা (সেহরি) খেতে ছেড়ো না; যদিও তোমরা তাতে এক ঢোক পানিও খাও। কেননা যারা সেহরি খায়, তাদের জন্য আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    > হজরত আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের এবং আহলে কিতাবের (আমাদের আগে আসমানি কিতাব পাওয়া ইয়াহুদি-খ্রিষ্টান) মধ্যে পার্থক্য হলো- সেহরি খাওয়া। আর আমাদের তো ভোর (সোবহে সাদেক) হওয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়া ও পান করার অনুমতি রয়েছে।’ (মুসলিম)

    ৩. খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা

    ইফতারের সময় হলে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা। খেজুর না পেলে সাদা পানি পান করে ইফতার শুরু করা। হাদিসে এসেছে-

    > ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেয়ে (মাগরিবের) নামাজের আগে রোজা ভঙ্গ করতেন।’ (আবু দাউদ)

    > নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে; সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা তাতে বরকত (কল্যাণ) রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাওয়া যায় তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত)

    ৪. ইফতারে দেরি না করা

    ইফতারের সময় হওয়ার পর ইফতার করতে দেরি না করা। অর্থাৎইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ ততদিন কল্যাণের পথে থাকবে, যতদিন তারা (সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে) তাড়াতাড়ি ইফতার শুরু করবে।’ (মুসলিম)

    ৫. মিথ্যা ও মন্দ পরিহার করা

    রোজাদার ব্যক্তির জন্য মিথ্যা কথা বলা এবং মন্দ কাজ পরিহার করা জরুরি। রোজা রেখে মিথ্যা কথা পরিহার ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানের অন্যতম দাবি। হাদিসে পাকে এসেছে-

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে না, তার পানাহার ত্যাগ করায় (রোজা রাখায় আল্লাহর) কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি)

    ৬. মন্দ কথার উত্তম জবাব দেওয়া

    যে কোনো মন্দ কথায় উত্তম জবাব দেওয়া। আল্লাহ তাআলা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে-

    اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ السَّیِّئَۃَ

    ‘(হে রাসুল!) আপনি ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করুন।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৯৬)

    রোজাদারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি মন্দ কথার জবাবে ভালো কথায় উত্তর দেয়া। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘কেউ যদি মন্দ কথা বলে, (কোনো রোজাদারকে) রাগানোর চেষ্টা করে, তখন তাকে এ কথা বলা যে, ‘আমি রোজাদার।’ (নাসাঈ)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানব্যাপী এ কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে রমজানের অবিরত রহমত বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার চেষ্টা করা। কোরআন-সুন্নাহর উপর যথাযথ আমল করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস

    শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস

    এবার ২৯ দিনে শেষ হয়েছে হিজরি শাবান মাস। শনিবার (২৯ শাবান) সূর্যাস্তের পরই দেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যায়, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান।

    দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজানের চাঁদ দেখে তারাবির নামাজ আদায় ও প্রথম রোজার সেহরি করেছেন। রোববার (৩ এপ্রিল) প্রথম রোজা। ঢাকায় এদিন ইফতারের সময় ৬টা ১৯ মিনিটে।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফিরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি) এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্বামী-স্ত্রীর সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।

    রমজানের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের এবাদতের চেয়েও উত্তম লাইলাতুল কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।

    এদিকে, রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৩ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার থেকে রমজান মাস শুরু। আগামী ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

    করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত দুই বছর রমজানে বিধিনিষেধ ছিল। করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে উঠে যায় বিধিনিষেধ, স্বাভাবিক হয়ে যায় সবকিছু। দুই বছর পর এবারই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এলো সিয়াম সাধনার মাস।

  • আহলান সাহলান মাহে রমজান

    আহলান সাহলান মাহে রমজান

    বছর ঘুরে আবারও শুভ আগমন ঘটেছে পবিত্র রমজানুল মুবারাকের। অধীর আগ্রহে অপেক্ষামান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীকে এ মহান মাসের অফুরন্ত কল্যাণ হাসিলের জন্য সঠিকভাবে রমজানুল মুবারাকের যাবতীয় হক আদায় করতে হবে।

    আর এর জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর পূর্বপরিকল্পনা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে আসুন আমরা সুপরিকল্পিতভাবে রমজানকে গ্রহণ করি।


    রমজান মাসকে অভিনন্দন জানাতে হবে
    একজন প্রকৃত মুসলমান রজব মাস থেকে পবিত্র রমজান মাস প্রাপ্তির জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট দাবি পেশ করেছেন একথা বলে—
    হে আল্লাহ তুমি রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করে দাও এবং রমজান মাস পর্যন্ত আমাদের পৌঁছে দাও।

    আর পশ্চিম দিগন্তে মাহে রমজান এর নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার সাথে সাথে মুমিনদের কাজ হলো, এ মহান মাসকে যথাযথ নিয়মে অভিনন্দন জানানো। প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) এভাবে রমজান মাসকে স্বাগত জানাতেন—

    হে আল্লাহ তুমি আমাদের জন্য এ নতুন চাঁদকে নিরাপত্তা, বিশ্বাস, শান্তি ও আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে কবুল কর। হে নতুন চাঁদ আমার ও তোমার রব হলেন আল্লাহ তায়ালা। তুমি হেদায়াত ও কল্যাণের চাঁদ। (তিরমিজি)


    সিয়াম সাধনা
    রমজানুল মুবারাকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয় আমল হলো, মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ সিয়াম পালন করা। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। অসুস্থ এবং মুসাফির ব্যক্তির জন্য রোজা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে, তবে পরে কাজা করা আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
    হে মুমিনগণ তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে করে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করতে পার। নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তথা রমজান মাসে। তবে কেউ যদি এই সময় অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে (তাহলে রোজা ছেড়ে দিতে পারবে) অতঃপর তাকে অন্য দিনগুলোতে তা কাজা করতে হবে। (সুরা বাক্বারাহ আয়াত ১৮৩)।

    এ সুরার ১৮৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন—রমজান মাস যে মাসে নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন, যা মানব জাতির জন্য পথপ্রদর্শক এবং সুস্পষ্ট বর্ননা সঠিক পথপ্রদর্শনকারী ও সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে সে যেন মাসব্যাপী রোজা পালন করে। তবে রোগী এবং মুসাফির পরবর্তীতে পালন করতে পারবে। মহান আল্লাহ তায়ালা দ্বীনকে তোমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন তিনি তোমাদের ওপর কোনো কিছু কঠিন করেননি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনগুলোতে রোজা পালন কর। আসা করা যায়, তোমরা তার শুকর আদায় করতে পারবে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে আত্মশুদ্ধির নিয়তে সওয়াবের আসায় রমজান মাসের রোজা পালন করে তার পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হয়। (বুখারি ও মুসলিম)

    ক্বিয়াম তথা তারাবিহ আদায়
    মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে আত্মশুদ্ধির জন্য সওয়াবের আসায় রমজান মাসের রাতে ক্বিয়াম তথা তারাবিহ আদায় করে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়। (বুখারি ও মুসলিম)

    ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ফারুক রা. এর খেলাফতকালে সকল সাহাবিদের ইজমার ভিত্তিতে মসজিদে নববিতে সর্বপ্রথম বিশিষ্ট সাহাবি হযরত উবাই বিন কা’ব রা. এর ইমামতিতে ২০ (বিশ) রাকাত তারাবিহর নামাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজও পবিত্র মসজিদে নববি ও পবিত্র মসজিদুল হারামে রমজানুল মুবারাকে ২০ রাকাত তারাবিহ জামাতের সাথে আদায় করা হয়।


    কুরআনুল কারিম তেলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হওয়া
    কুরআন নাজিলের মাস পবিত্র রমজান মাসে একজন কুরআন বিশ্বাসী মানুষের জন্য কুরআনের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার উপযুক্ত সময়। এ কারণে এ মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত, সাধ্যানুযায়ী কুরআন হিফয, কুরআনের মর্ম উপলব্ধির চেষ্টা করা, কুরআনের আলোকে পরিবার, সমাজ গঠন ও কুরআনের আলোকে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টাসহ রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন চর্চায় রত থাকা মুমিনদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজেই এ মাসে পবিত্র কুরআন চর্চায় অধিক মনোযোগী হতেন।

    হাদিসে এসেছে
    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রসুলল্লাহ সা. ছিলেন সবচেয়ে বড় দানশীল। রমজান মাসে যখন হযরত জিবরাইল আ. তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি বেশি দান করতেন। আর রমজানের প্রতি রাতে জিবরাইল আ. তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। এ সময় তারা দুজন একত্রে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করতেন। তখন প্রবাহিত বাতাসের গতির চেয়ে নবীজির দানের গতি বেশি হতো। (বুখারি)

    দান সাদাক্বাহসহ ভালো কাজ করার সর্বোত্তম সময় রমজান মাস
    রমজান মাস হলো দান সাদাক্বাসহ সব ধরনের ভালো কাজের মাধ্যমে নিজের আমলনামা ভারী করার উপযুক্ত সময়। মহানবী (সা.) বলেছেন রমজান মাসের একটি নফল কাজ অন্য মাসের ফরজ কাজের সমান আর এ মাসের একটি ফরজ কাজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ কাজের সমান।

    মহানবী স. আরও বলেছেন—রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বেহেশতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং এ মাসে আর বন্ধ করা হবে না। আর জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে আর খোলা হবে না। এবং শয়তানকে কারাবন্দি করা হয়। রমজানের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক বলতে থাকেন—হে! ভালো মানুষেরা তোমরা এগিয়ে যাও। আর দুষ্ট লোকেরা তোমরা থেমে যাও। মহানবী বলেছেন—রমজান হলো সবার সহনশীলতা ও সহমর্মিতার মাস।

    পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থেকে সিয়াম সাধনা করতে হয়। আর এ চর্চার মধ্য দিয়ে রোজাদারদের অন্তর থেকে লোভ লালসা, হিংসা বিদ্বেষ, ক্রোধ দূর হবে এটাই রোজার উদ্দেশ্য। কাজেই সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রশিক্ষণ নেওয়ার উপযুক্ত সময় হলো মাহে রমজান।

  • চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু রোববার

    চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু রোববার

    দেশের আকাশে শনিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে রোববার (৩ এপ্রিল)। আগামী ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

    রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

    এবার ২৯ দিনেই শেষ হলো শাবান মাস। রমজান মাস শেষেই আসবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।

    সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৩ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। আগামী ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে বলেও জানান তিনি।

    শনিবার রাতেই এশার নামাজের পর ২০ রাকাত বিশিষ্ট তারাবি নামাজ শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষরাতে সেহরি খাবেন মুসলমানরা। ঢাকায় প্রথম দিন সেহরির শেষ সময় রাত ৪টা ২৭ মিনিট। রোববার প্রথম রোজার ইফতারের সময় ৬টা ১৯মিনিট।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফিরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্বামী-স্ত্রীর সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।

    এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের এবাদতের চেয়েও উত্তম লাইলাতুল কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।

    অপরদিকে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে শনিবার থেকে রমজান শুরু হয়েছে।

    করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে গত দু’বছর রমজানে বিধিনিষেধ ছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি উন্নীত হওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে উঠে যায় বিধিনিষেধ, স্বাভাবিক হয়ে যায় সবকিছু। দু’বছর পর এবারই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এলো রমজান মাস।

  • রোজার আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

    রোজার আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

    বরকত ও কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ মাস রমজানের বেশকিছু আগাম প্রস্তুতি রয়েছে। মুসলমানের জন্য যে প্রস্তুতি রমজানজুড়ে রহমত, বরকত, মাগফেরাত, নাজাত ও যাবতীয় কল্যাণের দরজা খুলে রাখবে। তবে রমজানের প্রস্তুতি মানেই খাবারের সমাহার সংগ্রহের প্রস্তুতি নয়; বরং আত্মিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা। যদিও মানুষ আত্মিক প্রস্তুতি বাদ দিয়ে খাবারের আয়োজনেই বেশি ঝুঁকে পড়ে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো বান্দা যে কোনো ভালো কাজ বা আমল যদি যথাযথভাবে উত্তম উপায়ে করে; তবে সে আমল বা কাজ আল্লাহ তাআলা পছন্দনীয় হিসেবে গ্রহণ করেন।’ (তাবারানি)

    সুতরাং রমজানের আমল বা কাজ যেনতেনভাবে নয়; বরং পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আদায় করতে হবে। তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে। আর এতে রমজানের আগাম ১১টি প্রস্তুতিমূলক বিষয় রয়েছে। তা হলো-

    তাওবাহ-ইসতেগফার করা
    রমজানের আগের সব গোনাহ থেকে তাওবাহ ইসতেগফার করতে হবে। কোনো অন্যায়কারী যদি ভাবেন, রমজান চলে এসেছে, আর আমার সব গোনাহ এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং আগে থেকে তাওবাহ-ইসতেগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুবই জরুরি। আর তাতে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার আগের সব গোনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দিয়ে জীবন সুন্দর করে দেবেন। এ জন্য বান্দা বেশি বেশি পড়বে- اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ : আল্লাহুম্মাগফিরলি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।

    বিজ্ঞাপন

    রমজানের উপকারিতা স্মরণ করা
    বরকতময় মাস রমজান সম্পর্কে কুরআন-সুন্নায় যেসব ফজিলত, মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার আগেই সেসব সম্পর্কে জেনে নেওয়া। সেসব উপকার পেতে কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলার প্রস্তুতি নেওয়া। রমজান আসছে, মানসিকভাবে বারবার এ কথা স্মরণ ও নেক আমলের প্রস্তুতি নিতে দোয়াটি বেশি বেশি করা- اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ : আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন।’

    মানসিক প্রতিজ্ঞা নেওয়া
    রমজান মাসে পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পেতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। জীবনভর যত গোনাহ করেছি এ রমজানে সেসব গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পেতে হবে। সবচেয়ে বেশি সাওয়াব পেতে হবে। রমজান শুরু হওয়ার আগে এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা জরুরি। অনেক সময় পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় রমজান পেয়েও মুসলমান পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। তাই প্রতিজ্ঞা এমনভাবে করা, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা নিজের কাজ যেমনই হোক, আমি আমার বিগত জীবনের সব গোনাহ থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নেব। আমার প্রতি আল্লাহকে রাজি-খুশি করিয়েই ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।

    কাজা রোজা আদায় করা
    রমজান শুরু হওয়ার আগে বিগত জীবনে অসুস্থ হওয়ার কারণে বা সফরের কারণে রমজানের ফরজ রোজা কাজা হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেওয়া। বিশেষ করে মা-বোনদের ভাঙতি রোজা থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে শাবান মাসের এ সময়ে কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া। এতে দুটি ভালো আমল বাস্তবায়িত হবে। প্রথমত, বিগত জীবনের কাজা রোজা আদায় হবে। রমজানের রোজা পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। দ্বিতীয়ত, সুন্নাতের অনুসরণ হবে। রমজানের আগের মাস শাবানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতি নিতে। কাজা রোজা আদায় করার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসরণও হয়ে যাবে।

    সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা
    আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার ভাগ্যে জোটে না। এ ক্ষমা পেতে হলে দুটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করে তা থেকে ফিরে আসতে হবে। তা হলো- শিরক থেকে মুক্ত থাকা। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক না করা। কেউ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট বা বড় শিরক করে থাকলে রমজান আসার আগেই তা থেকে তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসা। আর হিংসা থেকে মুক্ত থাকা। কারো প্রতি কোনো বিষয়ে হিংসা না করা। কারণ হিংসা মানুষের সব নেক আমলকে সেভাবে জ্বালিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভে স্বচ্ছ রাখা।

    ফরজ রোজার নিয়ম-কানুন জানা
    রমজান আসার আগে রোজা পালনের মাসআলা-মাসায়েল তথা নিয়ম-কানুনগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। তাতে রমজানের রোজা নষ্ট হওয়া বা মাকরূহ হওয়া বা অন্য বিষয়গুলো জেনে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

    বিগত রমজানের অসমাপ্ত কাজ
    রমজান মাস আসার আগে বিগত রমজানের নেক আমলগুলো করতে না পারার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। যেমন-
    ১. কেন নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করা হয়নি?
    ২. কেন তারাবিহ পড়া হয়নি?
    ৩. কেন দান-সহযোগিতা করা হয়নি?
    ৪. কেন ইতেকাফ করা হয়নি?
    ৫. কেন রোজাদারকে ইফতার করানো হয়নি?
    ৬. কেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করা সম্ভব হয়নি?
    ৭. কেন কুরআন-সুন্নার আলোচনায় বসা হয়নি?
    ৮. কেন রমজানে পরিবারের হক আদায় করা হয়নি?
    ৯. কেন পাড়া-প্রতিবেশি বা আত্মীয়দের হক আদায় করা হয়নি?
    বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নেওয়া। এ বছর রমজান আসার আগে আগে চিহ্নিত কারণগুলো থেকে নিজেকে বিরত রেখে কিংবা প্রস্তুতি নিয়ে কল্যাণকর সব নেক আমলগুলো করার প্রস্তুতি নেওয়া।

    শাবান মাসে রমজানের মহড়া চালু রাখা
    রমজান মাসে বেশি বেশি ইবাদত করতে এবং রোজা রাখার জন্য শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি কুরআন অধ্যয়ন করা। নফল নামাজ পড়া। তাওবাহ-ইসতেগফার করা। ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। দান-সাদকাহ শুরু করা। যাতে এ মহড়ার বাস্তবায়ন রমজানজুড়ে সুন্দরভাবে চালানো যায়।

    রোজায় ২৪ ঘণ্টার রুটিন করা
    রমজান মাসজুড়ে যে কাজেই থাকুন না কেন, পুরো সময়টি কোন কোন কাজে কীভাবে ব্যয় হবে; তার একটি সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করে নেওয়া। আগাম রুটিন থাকলে রমজানে চরম ব্যস্ততার মাঝেও নেক আমলসহ অন্যান্য কাজও ইবাদতের মধ্যেই কেটে যাবে। এক কথায় সব কাজের তালিকা করে নেওয়া।

    রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান
    শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদের অনুসন্ধান করা সুন্নাত। মুছে যাওয়ার পথে থাকা সুন্নাতটিকে আবারও জীবিত করার পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ

    করা। বর্তমানে চাঁদ দেখা কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকার রীতি চলছে। মোবাইল, রেডিও ও টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন। এতে চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়ার সুন্নাতটি থেকে বঞ্চিত হয় মুসলমান। এ থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নাতটি জীবিত করার সর্বাত্মক পূর্বপ্রস্তুতি রাখা।

    বেশি বেশি দোয়া
    রমজানের আগে আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করা। হে আল্লাহ! আমি যতই চেষ্টা করি, তোমার তাওফিক বা ইচ্ছা না থাকলে আমি যেমন রমজান পাবো না। আবার রমজান পেলেও বরকত লাভে সক্ষম হবো না। সুতরাং রমজান ও রমজানের নেক আমল করার ক্ষমতা তোমার কাছে চাই। হে আল্লাহ! রমজানে যত মানুষ সৌভাগ্যবানদের কাতারে নাম লেখাবে, তাদের কাতারে আমাকেও শামিল করো; হে রাব্বুল আলামিন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগের প্রস্তুতিসমূহ যথাযথভাবে বেশি বেশি বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • রোজার আগেই ১১টি আমলের প্রস্তুতি খুবই জরুরি

    রোজার আগেই ১১টি আমলের প্রস্তুতি খুবই জরুরি

    মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান মাস। আর মাত্র ১০ দিন পেরুলেই শুরু হবে রমজান। এখনই রমজানের প্রস্তুতিতে বিশেষ কিছু আমলের বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। তাহলে রমজান শুরুর আগের মুমিন মুসলমানের সেই প্রস্তুতি ও করণীয়গুলো কী?

    রমজান শুধু ভোগের মাস, ভালো খাওয়ার মাস, পণ্য মজুতের মাস, আনন্দ-উৎসবের মাস ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাস নয় বরং রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস, সংযজমের মাস এবং ত্যাগের মাস। এ মাস ইবাদত-বন্দেগির মাস। আল্লাহর রহমত বরকত মাগফেরাত নাজাত ও যাবতীয় কল্যাণ লাভের মাস। তাই এ মাসের আগের আগমনের আগে মুমিন মুসলমানের বিশেষ কিছু করণীয় রয়েছে। তা এখন থেকে গ্রহণ ও পস্তুতি নেওয়া জরুরি।

    হজরত মুয়াল্লা ইবনে ফজল রাহমাতু্ল্লাহি আলাইহি নামে এক বিখ্যাত তাবেয়ি বলেন, ‘সালাফে সালেহিনগণ রমজানের ৬ মাস আগে থেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন-

    ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করেন। আর রমজান শেষে তারা বাকি ৬ মাস দোয়া করতেন- হে আল্লাহ! রমজানে যা আমল করেছি; তা আপনি কবুল করে নিন।’

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো বান্দা যে কোনো ভালো কাজ বা আমল যদি যথাযথভাবে উত্তম উপায়ে করে; তবে সে আমল বা কাজ আল্লাহ তাআলা পছন্দীয় হিসেবে গ্রহণ করেন।’ (তাবারানি)

    ১. তাওবাহ-ইসতেগফার করা

    রমজানের আগের সব গোনাহ থেকে তাওবাহ ইসতেগফার করতে হবে। কোনো অন্যায়কারী যদি ভাবে যে, রমজান চলে এসেছে, আর আমার সব গোনাহ এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয় বরং আগে থেকে তাওবাহ-ইসতেগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুবই জরুরি। আর তাতে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার আগের সব গোনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দিয়ে জীবন সুন্দর করে দেবেন। এ জন্য বান্দা বেশি বেশি পড়বে-

    > اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ : আল্লাহুম্মাগফিরলি,

    হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।

    ২. রমজানের সব উপকারিতা স্মরণ করা

    বরকতময় মাস রমজান সম্পর্কে কোরআন-সুন্নায় যেসব ফজিলত মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার আগেই সেসব সম্পর্কে জেনে নেওয়া। সেসব উপকার পেতে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলার প্রস্তুতি নেওয়া। মাস রমজান আসছে, মানসিকভাবে বারবার এ কথার স্মরণ ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে এ দোয়াটি বেশি বেশি করা-

    > اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ : আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান।

    হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন।’

    ৩. রমজানের রোজার মানসিক প্রতিজ্ঞা নেওয়া

    রমজান মাসে পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পেতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। জীবনভর যত গোনাহ করেছি এ রমজানে সেসব গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পেতে হবে। সবচেয়ে বেশি সাওয়াব পেতে হবে। রমজান শুরু হওয়ার আগে এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা জরুরি।

    আফসোসের বিষয়! অনেক সময় পূর্ব প্রস্তুতি না থাকার কারণে রমজান পেয়েও মুমিন মুসলমান পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।

    প্রতিজ্ঞা এমনভাবে করা যে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা নিজের কাজ যেমনই হোক, আমি আমার বিগত জীবনের সবে গোনাহ থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নেবো। আমার প্রতি আল্লাহকে রাজি-খুশি করিয়েই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

    ৪. রমজান শুরু আগেই আগের কাজা রোজা আদায় করা

    রমজান শুরু হওয়ার আগে বিগত জীবনে অসুস্থ হওয়ার কারণে বা সফরের কারণে রমজানের ফরজ রোজা কাজা হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেওয়া। বিশেষ করে মা-বোনদের ভাঙতি রোজা থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে শাবান মাসের এ সময়ে কাজ রোজা আদায় করে নেওয়া। এতে দুইটি ভালো আমল বাস্তবায়িত হবে-

    প্রথমটি : রমজানের ফরজ আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়বে

    বিগত জীবনের কাজা রোজা আদায় হবে। রমজানের রোজা পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

    দ্বিতীয়টি : সুন্নাতের অনুসরণ হবে।

    রমজানের আগের মাস শাবানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে। কাজা রোজা আদায় করার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসরণও হয়ে যাবে।

    ৫. যাবতীয় গুনাহ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা

    আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার ভাগ্যে জোটে না। কেননা এ ক্ষমা পেতে হলে দুইটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করে তা থেকে ফিরে আসতে হবে। তাহলো-

    > শিরক থেকে মুক্ত থাকা।

    আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক না করা। কেউ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট বা বড় শিরক করে থাকলে রমজান আসার আগেই তা থেকে তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসা।

    > হিংসা থেকে মুক্ত থাকা।

    কারো প্রতি কোনো বিষয়ে হিংসা না করা। কারণ হিংসা মানুসের সব নেক আমলকে সেভাবে জালিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন কাঠকে জালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভে স্বচ্ছ রাখা।

    ৬. রমজানের ফরজ রোজার নিয়ম-কানুন জেনে নেয়া

    রমজান মাস আসার আগে রোজা পালনের মাসআলা-মাসায়েল তথা নিয়ম-কানুনগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। আর তাতে রমজানের রোজা নষ্ট হওয়া থেকে বা মাকরূহ হওয়া থাকে বা অন্যান্য বিষয়গুলো জেনে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

    ৭. বিগত রমজানের অসমাপ্ত কাজ চিহ্নিত করা

    রমজান মাস আসার আগে বিগত রমজানের নেক আমলগুলো করতে না পারার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। যেমন-

    > কেন নিয়মিত কোরআন অধ্যয়ন করা হয়নি?

    > কেন তারাবিহ পড়া হয়নি?

    > কেন দান-সহযোগিতা করা হয়নি?

    > কেন ইতেকাফ করা হয়নি?

    > কেন রোজাদারকে ইফতার করানো হয়নি?

    > কেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা সম্ভব হয়নি?

    > কেন কোরআন-সুন্নার আলোচনায় বসা হয়নি?

    > কেন রমজানের পরিবারের লোকদের হক আদায় করা হয়নি?

    > কেন রমজানের পাড়া-প্রতিবেশি বা আত্মীয়দের হক আদায় করা হয়নি?

    এ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নেওয়া। এ বছর রমজান আসার আগে আগে চিহ্নিত কারণগুলো থেকে নিজেকে বিরত রেখে কিংবা প্রস্তুতি গ্রহণ করে কল্যাণকর সব নেক আমল করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

    ৮. চলতি শাবান মাসজুড়ে রমজানের মহড়া চালু রাখা

    রমজান মাসের বেশি বেশি ইবাদত করতে এবং রোজা রাখার জন্য শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি কোরআন অধ্যয়ন করা। নফল নামাজ পড়া। তাওবাহ-ইসতেগফার করা। ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। দান-সাদকাহ শুরু করা। যাতে এ মহড়ার বাস্তবায়ন পুরো রমজানজুড়ে সুন্দরভাবে চালানো যায়।

    ৯. রমজান মাসজুড়ে ২৪ ঘণ্টার রুটিন করা

    রমজান মাসজুড়ে যে যেই কাজেই থাকুক না কেন, পুরো সময়টি কোন কোন কাজে কীভাবে ব্যয় হবে তার একটি সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করে নেওয়া। আগাম রুটিন থাকলে রমজানে চরম ব্যস্ততার মাঝেও নেক আমলসহ অন্যান্য কাজগুলোও ইবাদতের মধ্যেই কেটে যাবে। এককথায় সব কাজের তালিকা করে নেওয়া।

    ১০. শাবান মাসের শেষ দিকে রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করা

    শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদের অনুসন্ধান করা সুন্নাত। মুছে যাওয়ার পথে থাকা এ সুন্নাতটিকে আবারও জীবিত করার পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

    বর্তমান সময়ে চাঁদ দেখা (হেলাল) কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আবার অনেকে মোবাইল বা রেডিও টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন। এতে চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়ার সুন্নাতটি থেকে বঞ্চিত হয় মুমিন মুসলমান। তা থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নাতটি জীবিত করার সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রাখা।

    > রমজানের চাঁদ দখে নবিজীর দোয়া

    যারা রহমতের মাস রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে তারা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পড়া সেই দোয়াটিও পড়বে। যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

    হজরত তালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন-

    اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله

    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস্সালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

    অর্থ : আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালোবাস এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তাওফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

    রমজানের চাঁদ দেখলে কিংবা দেখার খবর শুনলেই হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর কাছে মুমিনের আকুতিভরা প্রার্থনা হবে এমন-

    اللَّهُمَّ سَلِّمْنِي لرمضان، وسلم رمضان لي، وتسلمه مني مُتَقَبَّلاً

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি লিরমাদান, ওয়া সাল্লিম রামাদানা লি, ওয়া তাসলিমাহু মিন্নি মুতাক্বাব্বিলা।’ (তাবারানি)

    অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে শান্তিময় রমজান দান করুন। রমজানকে আমার জন্য শান্তিময় করুন। জন্য রমজানকে শান্তিময় করে দিন। রমজানের শান্তিও আমার জন্য কবুল করুন।

    ১১. রমজানের আগে থেকেই বেশি বেশি দোয়া

    রমজানের আগে আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করা। হে আল্লাহ! আমি যতই চেষ্টা করি, তোমার তাওফিক বা ইচ্ছা না থাকলে আমি যেমন রমজান পাবো না। আবার রমজান পেলেও রবকত লাভে সক্ষম হবো না। সুতরাং রমজান ও রমজানের নেক আমল করার তোমার কাছে চাই।

    হে আল্লাহ! রমজানে যত মানুষ সৌভাগ্যবানদের কাতারে নাম লেখাবে, তাদের কাতারে আমাকেও শামিল করো; হে রাব্বুল আলামিন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগে উল্লেখিত ১১টি প্রস্তুতি যথাযথভাবে আগাম নিজেদের জীবনে বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • দোল পূর্ণিমা আজ

    দোল পূর্ণিমা আজ

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব আজ। বাংলাদেশে এ উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’ ও ‘দোল পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত। এ উৎসবের অপর নাম বসন্ত উৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উৎসব ঘিরে রাজধানীহ সারাদেশে মন্দিরে মন্দিরে পূজা, হোমযজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দোল উৎসবের আয়োজন হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে উৎসব সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপন করা হবে।

    সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই থেকে দোল উৎসবের প্রচলন। এ কারণেই দোলযাত্রার দিন সকালে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহে আবির-গুলাল মেখে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরাও মাতেন আবির ও গুলাল খেলায়। ফাল্গুনের এ পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম। ফলে এ দিনটিকে গৌর পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে।

    দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এদিন সকাল থেকেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হন। দোল পূর্ণিমায় শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে।

    বিশ্বের অনেক দেশে এ উৎসব শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা নামে অধিক পরিচিত। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা প্রভৃতি স্থানে ‘দোল উৎসব’ এবং উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারত ও নেপালে ‘হোলি’ নামে পরিচিত। কোনো কোনো স্থানে এ উৎসব ‘বসন্ত উৎসব’ নামেও পরিচিত।

    দ্বাপর যুগে পুষ্পরেণু ছিটিয়ে রাধা-কৃষ্ণ দোল উৎসব করতেন। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর জায়গায় এসেছে আবির।

    দোল পূর্ণিমা ঘিরে রাজধানীতে বিশেষত পুরান ঢাকায় হোলি খেলার প্রচলন রয়েছে। ‘হোলি’ বা ‘দোলযাত্রা’ উৎসব উপলক্ষে এদিন নগরবাসী একে অন্যকে বর্ণিল রঙে রাঙিয়ে মাতোয়ারা হন। আবির খেলার উচ্ছ্বাসে মাতেন তরুণ-তরুণীরা। নানা রঙে-ঢঙে হোলির আনন্দে শামিল হন সব ধর্ম-বর্ণের আবালবৃদ্ধবনিতা।

  • শাবানের বিজের রোজা ও শবে বরাত ১৭-১৯ মার্চ

    শাবানের বিজের রোজা ও শবে বরাত ১৭-১৯ মার্চ

    প্রত্যেক চন্দ্র মাসের মাঝামাঝি সময় তথা ১৩-১৫ তারিখ তিন দিন আইয়ামে বিজের রোজা রাখা সুন্নাত। প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের এ রোজা রাখতে বলেছেন। সে হিসেবে (১৪৪৩ হিজরি) চলতি শাবান মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখার দিন হলো ১৭-১৮-১৯ মার্চ।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য প্রত্যেক আরবি মাসের মধ্যভাগে তিন দিন রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। সে হিসেবে এ (শাবান) মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ হলো ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ। যারা এ তিন দিন রোজা রাখবেন; তাদের ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে সাহরি খেতে হবে।

    আইয়ামে বিজের রোজার রাখার নির্দেশ, বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা
    আইয়ামে বিজের রোজা রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

    > হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখল; সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নাজিল করেন-
    ‘যে একটি নেকি নিয়ে আসে তার জন্য রয়েছে তার ১০ গুণ।’ অতএব একদিন ১০ দিনের সমান।’ (তিরমিজি)

    > হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন।’ (আবু দাউদ)

    > হজরত ইবনু মিলহান আল-ক্বাইসি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আইয়ামে বিজের রোজার ব্যাপারে নসিহত করেছেন; আমরা যেন তা (মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ পালন করি। তিনি আরও বলেছেন, এটা সারাবছর রোজা রাখার মতোই।’ (আবু দাউদ)
    এ ছাড়াও আইয়ামে বিজের রোজা সম্পর্কে বর্ণিত আছে-
    হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম বেহেশতের নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক চলে যায়। আর তাদের শরীরের রংও কুৎসিত হয়ে যায়। এরপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং উজ্জ্বল হয়ে যায়। তাই এই তিন দিনকে আইয়্যামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।

    আইয়ামে বিজের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা পালন, সারাবছর রোজা পালনের সমান।’

    অপরদিকে, শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। সেই হিসেবে ১৮ মার্চ দিবাগত রাতই শবে বরাত।

    ‘সৌভাগ্যের রাত’ হিসেবে পরিচিত লাইলাতুল বরাতের পুণ্যময় রাতটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন।

    শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে ইবাদত বন্দেগির পর রোজা পালন প্রসঙ্গে এক হাদিসে এসেছে-
    হজরত আলি ইবনে আবু তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পনেরো শাবানের রাতে (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে; তখন তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। আছে কি কোনো রিজিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দেব। এভাবে সুবহে সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা ডাকতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ)

    হাদিসটিকে কেউ কেউ জয়ীফ বা দুর্বল বলেছেন আবার কেউ কেউ এটিকে মওজু (চরম দুর্বল বা ভ্রান্ত) বলেছেন। অনেক ইসলামিক স্কলার এ দিন রোজা রাখাকে মাসনুন বলেছেন আবার অনেকেই মোস্তাহাব বলেছেন।

    তবে যারা আইয়ামে বিজের রোজা পালন করেন অর্থাৎ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখেন, তাদের রোজা রাখতে বাধা নেই।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের রোজা রাখা ও শবে বরাতে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • শবে বরাতে যে দোয়া পড়বেন

    শবে বরাতে যে দোয়া পড়বেন

    আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত ‘লাইলাতুম মিন নিসফা শাবান’। এটি ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাত’ নামে বেশি পরিচিত। মুসলমানরা রাতটিকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করে ইবাদত-বন্দেগি করে থাকেন।

    নিসফা শাবানের রাতের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। তাই বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। হাদিসে এসেছে- ‘হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতে বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। আর তা হলো-

    ১. জুমআর রাতের দোয়া

    ২. রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া

    ৩. নিসফা শাবান তথা অর্ধ শাবানের রাতের দোয়া

    ৪. ঈদুল ফিতর তথা রোজার ঈদের রাতের দোয়া

    ৫. ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদের রাতের দোয়া।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)

    তাই আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে নিচের দোয়াটি বেশি বেশি পড়তে পারেন-

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি, ওয়া ওয়াসসি’লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি রিজকি। (নাসাঈ)

    অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গোনাহ মাফ করে দাও। আমার জন্য আমার বাসস্থান প্রশস্ত করে দাও। এবং আমার রিজিকে বরকত দিয়ে দাও।

    মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সব সময় বেশি বেশি ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন!

  • নামাজের সময়সূচি : ১৮ মার্চ ২০২২

    নামাজের সময়সূচি : ১৮ মার্চ ২০২২

    আজ শুক্রবার ১৮ মার্চ ২০২২ ইংরেজি, ০৪ চৈত্র ১৪২৮ বাংলা, ১৪ শাবান ১৪৪৩ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

    > জুমা- ১২:১০ মিনিট।
    > আসর- ৪:২৭ মিনিট।
    > মাগরিব- ৬:১২ মিনিট।
    > ইশা- ৭:২৫ মিনিট।
    > ফজর (১৯ মার্চ)- ৪:৫০ মিনিট।

    আজ সুর্যাস্ত- ৬:০৮ মিনিট।
    > আগামীকালের (১৯ মার্চ) সূর্যোদয়- ৬:০৪ মিনিট।

    বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তাহলো-

    বিয়োগ করতে হবে
    > চট্টগ্রাম : -০৫ মিনিট
    > সিলেট : -০৬ মিনিট

    যোগ করতে হবে-
    > খুলনা : +০৩ মিনিট
    > রাজশাহী : +০৭ মিনিট
    > রংপুর : +০৮ মিনিট
    > বরিশাল : +০১ মিনিট

    তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন