Category: ধর্ম

  • পবিত্র শবে মেরাজ আজ

    পবিত্র শবে মেরাজ আজ

    আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মেরাজ। আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে এই মহিমান্বিত রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় হযরত জিবরাইল (আ.) ও হযরত মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে আরশে আজিমে যান। প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিমে পৌঁছান ও আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করার পরম সৌভাগ্য অর্জন করেন।

    বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষে ২৬ রজব দিবাগত রাতে সৃষ্টিজগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনা সংঘটিত হয়। আরবি ভাষায় মেরাজ অর্থ হচ্ছে সিঁড়ি। আর ফার্সি ভাষায় এর অর্থ ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ। পবিত্র কুরআনে মক্কা মোয়াজ্জমা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণকে পবিত্র ‘ইসরা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র হাদিসে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উপনীত হওয়া ও আরশে আজিমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহিমান্বিত ঘটনাকে মিরাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    একই সময়ে মেরাজে মহানবী (সা.) সৃষ্টিজগতের সব কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। মেরাজ থেকে আল্লাহর রসুল উম্মতে মোহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ফিরে পৃথিবীতে আসেন। অন্য কোনো নবী এমন সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র এ রাতটি ‘শবে মেরাজ’ হিসেবে পালন করে থাকেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকার, নফল নামাজ, মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ও বাড়িতে মিলাদ এবং গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে থাকেন।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে আজ বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার ওয়াজ মাহফিল বা আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। তবে নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত হবে।

  • বরিশালে বড়দিন উদ্‌যাপন

    বরিশালে বড়দিন উদ্‌যাপন

    পবিত্র খ্রীষ্টযাগ ও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বরিশালে খ্রীষ্ট্রান ধর্মালম্বীদের বড় দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে এই প্রার্থনা শুরু হয়। তবে প্রার্থনা অনুষ্ঠান হয়েছে নিরাপদ দূরত্ব মেনে।

    বড়দিন উপলক্ষে অক্সফোর্ড, ক্যাথলিক ও ব্যাপটিষ্ট সম্প্রদায়ের গীর্জগুলো বেথলেহেমে যীশুর আবির্ভাবের সময় আকাশে যে তারা উঠেছিল সেই আদলে নির্মিত তারা থেকে মাদার মেরীর প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। করোনার কারণে এবছর ক্যালর অর্থাৎ যীশু খ্রীষ্টের কীর্তন বা বনভোজন হয়নি।

    নগরীর সদর রোড়ের সেন্ট পিটারর্স ক্যাথিড্রাল চার্চের ফাদার লাজারু গোমেজ প্রার্থনায় বলেন, আমরা একে অপরের সহযোগিতা নিয়ে চলমান বৈশি^ক মহামারী মোকাবেলা করে জয়ী হয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। বেড়ে ওঠা শিশুরা মানব কল্যাণে কাজ করবে।

    প্রার্থনায় এসে উপস্থিত ভক্তরা বলছেন, যীশু খ্রীষ্টের জন্ম দিনে তারা সবাই আনন্দঘন পরিবেশে গীর্জায় এসে প্রার্থনায় যোগ দিয়েছেন। প্রতি বছর তারা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। তবে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো তাদের মাঝে বড়দিন ফিরে আসলেও মহামারী করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুরত্ব বজায় রেখে উৎসব পালন করছেন। তারা ঈম্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন যাতে দ্রুত মহামারী থেকে দেশ ও বিশ্বকে তিনি মুক্ত করেন।

    নর্বিঘেœ বড়দিন উদযাপন কারার জন্য এবারেও যথারীতি নগরীর গীর্জাগুলোতে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ঈশ^র জননী ধন্যা কুমারী মারীয়ার পর্বোৎসবের মধ্যদিয়ে আগামী ১ জানুয়ারী সমাপ্তি ঘটবে বড় দিনের ৬ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান ।

  • আজ দীপাবলি

    আজ দীপাবলি

    আজ দীপাবলি। অন্ধকার, অন্যায় দূর করে শুভ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ।

    গৃহকোণ আলোকিত হবে প্রদীপের আলোয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভক্তদের মন্ডপ প্রাঙ্গণে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুরাণ মতে, অন্যায়-অত্যাচার দূর করতেই মা কালীর মর্ত্যে আগমন। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের বার্তা দিতে আসেন দেবী। কার্তিক মাসের আমাবস্যা তিথিতে শ্যামা পূজা বা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

    দীপাবলির সন্ধ্যায় মন্দির প্রাঙ্গণ, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেজে ওঠে সারি সারি প্রদীপ আর মোমের আলোয়। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক দীপাবলি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তাই শ্যামা দেবী শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংগ্রামের প্রতীক।

  • বরিশালে ৬১৭টি মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা

    বরিশালে ৬১৭টি মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা

    অধিবাস ও ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে বরিশালে আজ শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

    আজ বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকের বোল, শঙ্কধ্বনী আর উলুধ্বনীতে মুখরতি মন্ডপগুলো। এই উৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হলেও কালের বিবর্তে আজ তা রূপ পেয়েছে অসাম্প্রদায়িক বাঙালির সার্বজনীন উৎসবে।

    উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্ডপগুলো সেজেছে নববধূর সাজে। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব দেবীর বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। এ বছর বরিশাল নগরীতে ৪২টি এবং জেলায় ৫৭৫টি নিয়ে মোট ৬১৭টি মন্ডপে হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

  • পূজার দিনে বৃষ্টির হানা

    পূজার দিনে বৃষ্টির হানা

    শারদ আবহ চারিদিকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বছরব্যাপী অপেক্ষার পালা শেষ। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। এই দুর্গাপূজাই বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। করোনা মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়িতে এবার এমনিতেই উৎসবের সেই আমেজ নেই। তার উপরে আবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি পরিণত হয়েছে সুস্পষ্ট লঘুচাপে, দুর্গাপূজার মৌসুমে ভারি বৃষ্টির বার্তা নিয়ে এই বায়ুচক্র পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে বুধবার থেকে। আগামী এক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দেশের ছয়টি অঞ্চলের নদীবন্দরে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি এবং বাকি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে বুধবার রাতে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। সেটি এখন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এটি আরও ঘনীভূত হবে। শুক্র-শনিবারের দিকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। তারপর আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে কিনা, বা কোন দিকে অগ্রসর হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে শুক্রবার।’

    এদিকে আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলেছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    দেশের অন্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

    আজ সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

    অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া অফিস বলেছে, এই সুস্পষ্ট লঘুচাপ আগামী ২৪ ঘণ্টা উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে এবং আরও ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। তার পরের ২৪ ঘণ্টায় এটি গভীর নিম্নচাপের রূপ পাবে, অগ্রসর হবে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারেতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শনিবার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন দেশটির আবহাওয়াবিদরা।

    ভারতীয় আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ঠিক থাকলে শনিবার অষ্টমী পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির মধ্যেই পূজার সময়টা কাটাতে হবে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের।

  • দুর্গাপূজায় বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি

    দুর্গাপূজায় বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা আগামী বৃহস্পতিবার ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হয়ে যাবে। পরদিন শুক্রবার থেকে দলে দলে মানুষ প্রতিমা দর্শনে করবেন। সোমবার দশমীতে বিসর্জন হবে এবারের পূজা। তবে দুর্গাপূজাতে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি।

    রবিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। সোমবার আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, লঘুচাপটি এখনো সৃষ্টি হয়নি তবে দ্রুতই সৃষ্টি হবে।

    তিনি বলেন, এবার দুর্গাপূজার সময় বৃষ্টি আছে। বৃষ্টি একটু বেশি থাকবে ২২ ও ২৩ অক্টোবর। তারপরেও ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ অক্টোবর বৃষ্টি একেবারে উঠে যাবে না। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টি থাকবেই।

  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে পূজা উদযাপনের আহ্বান

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে পূজা উদযাপনের আহ্বান

    ২০২০ সালে করোনার কারণে দুর্গা পূজা উদযাপনে কিছুটা হলেও বাধা সৃষ্টি হবে কবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে পূজা উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট।
    শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন নিয়ে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলনে একথা জানানো হয়।

    দর্শনার্থীদের মাস্ক পরে, হাত স্যানিটাইজ করে পূজায় অংশ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়৷ সারা দেশের পূজা মন্ডপে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা বা কোন প্রকার জনসমাবেশ না করার আহ্বানও জানান তিনি৷ এবছর প্রতিমা বিসর্জনে কোন শোভাযাত্রা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে এই সংবাদ সম্মেলনে৷

    এছাড়া কোন রকমের আতশবাজি, পটকা না ফুটিয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়োজিত সদস্যদের সাহায্য করার আহ্বান জানান হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল।

  • শুক্রবারের বিশেষ আমল ও ফজিলত

    শুক্রবারের বিশেষ আমল ও ফজিলত

    শুক্রবার মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক উৎসবের দিন। এই দিনকে ‘ইয়াওমুল জুমা’ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও গোটা জগতকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিল জুম্মার দিন। এই দিনেই হজরত আদম (আ.) সৃজিত হন। এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনেই জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়।

    কেয়ামত এ দিনেই সংঘটিত হবে। আল্লাহ তায়ালা প্রতি সপ্তাহে মানবজাতির সমাবেশ ও ঈদের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী উম্মতরা তা পালন করতে ব্যর্থ হয়। ইসলামের জুম্মার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বয়ং আল্লাহপাক কোরআন পাকে ইরশাদ করেন ‘হে মুমিনগণ জুম্মার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশেও দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর’। সূরা জুমা, আয়াত নং-৯।

    তাই জুম্মার আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে জুম্মার নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে গমন করা সব মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, তখন মানুষ যে দোয়াই করে তা-ই কবুল হয়। এই দিনের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

    জুম্মার দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুম্মার দিন আসর নামাজের পর না উঠে ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে। (সুবনহান আল্লাহ)

    দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম তাসলীমা’

    জুম্মার দিনের আরো কিছু আমলের মধ্যে রয়েছে—

    ১. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা: জুম্মার দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন আকাশতুল্য একটি নূর প্রকাশ পাবে।

    ২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি জিকির করা মোস্তাহাব।

    ৩. জুম্মার রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুম্মার দিনে নবী করিম (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। এমনিতেই যে কোনো সময়ে একবার দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন।

    ৪. জুম্মার নামাজের পূর্বে দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা।

    ৫. সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের সাথে জিকির, তাসবীহ ও দোয়ায় লিপ্ত থাকা।

  • এবার হজ পালন করবেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার মুসুল্লি

    এবার হজ পালন করবেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার মুসুল্লি

    আসন্ন হজে ১০ হাজারের বেশি মুসুল্লিদের সমবেত হতে দেবে না সৌদি আরব। গত সোমবার সীমিত পরিসরে হজ আয়োজনের ঘোষণা দেয়ার পরদিন গতকাল ২৩ জুন, মঙ্গলবার যৌথ ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে এমন ঘোষণা দেন দেশটির ওমরাহ ও হজ বিষয়ক মন্ত্রী ড. মুহাম্মদ সালেহ বেন্তেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী আল-রাবিয়াহ।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়ায় বলেন, ‘সৌদি আরব মারাত্মক আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় আসন্ন হজযাত্রায় বেশ কয়েকটি কঠোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং প্রোটোকল প্রয়োগ করা হবে।’

    সৌদিদে অবস্থানরত ব্যক্তি ছাড়া বহির্বিশ্বের কোন দেশ থেকে হজযাত্রীদের এ বছর হজ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    আল-রাবিয়াহ আরো বলেন, ‘এ বছর হজযাত্রীদের বয়স ৬৫ বছরের নিচে হতে হবে এবং দীর্ঘ কোন রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়া হবে না।’

    ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভগুলির মধ্যে একটি হজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ও সুস্থ মুসলমানদের জীবনে একবার হজব্রত পালন করা ফরজ। প্রতি বছর ২০-২৫ রাখ মুসলমান পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় সমবেত হন।

    করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র দেশটিতে বসবাসকারীরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে পারবেন বলে ২২ জুন, সোমবার জানিয়েছে সৌদি সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানরা এবার হজে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানায় তারা।

    এইবারের হজে যারা অংশগ্রহণ করবেন তাদের স্বাস্থ্য ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সকল ধরনের নিরাপত্তা দিতে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করতে পরিকল্পনা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আল-রাবিয়াহ আরো জানান, তারা নিরাপদ হজ মৌসুম নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক এবং সতর্কতামূলক সবধরনের ব্যবস্থা এবং প্রটোকল বিকাশের জন্য ওমরাহ ও হজ মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছেন।

    প্রটোকলে রয়েছে-

    ১. দশ হাজারের বেশি লোককে হজযাত্রা করতে দেওয়া হবে না।

    ২. সকল তীর্থযাত্রীদের পবিত্র স্থানে পৌঁছানোর আগেই তাদের পরীক্ষা করা হবে।

    ৩. শুধুমাত্র ৬৫ বছরের কম বয়সীদের এই বছর হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে।

    ৪. সকল হজযাত্রীকে হজ্জের অনুষ্ঠান শেষ করার পরে স্ব-বিচ্ছিন্নতার জন্য বলা হবে।

    ৫. হজযাত্রা শুরুর আগে সকল কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

    ৬. সমস্ত তীর্থযাত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    ৭. হজযাত্রা চলাকালীন যে কোনও জরুরি অবস্থার জন্য একটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ৮. সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

  • কাবাসহ দেড় হাজার মসজিদ খুলছে আগামীকাল

    কাবাসহ দেড় হাজার মসজিদ খুলছে আগামীকাল

    করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর মসজিদুল হারাম বা কাবা শরীফসহ সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা আশেপাশের আরো দেড় হাজার মসজিদ খুলে দেয়া হচ্ছে। আগামীকাল ২১ জুন, রবিবার ফজরের সময় থেকে মসজিদগুলো খুলছে।

    সকল মসজিদ মুসুল্লিদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মক্কা প্রদেশে অবস্থিত সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শাখা।

    তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে আসতে মুসুল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যেমন- প্রত্যকের জন্য আলাদা নামাজের পাটি, সারিগুলির মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, পাশাপাশি মুসল্লিদের বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা।

    মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সতর্কতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও নির্দেশনা অনুয়ায়ী মক্কার জেলাগুলো ও আশেপাশের এলাকার মসজিদগুলো খুলে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃপক্ষকে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।

    এর আগে গত ৩১ মে থেকে মদিনার মসজিদুল নববীসহ দেশটির অন্য অঞ্চলের সব মসজিদ নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় সৌদি সরকার।

    বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে এর সংক্রমণ রোধে ১৮ মার্চ থেকে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলো সৌদি আরব।