Category: ধর্ম

  • বরিশালে একই মসজিদে একাধিক জামাতের নির্দেশ, শিশু-বৃদ্ধদের আসা বারণ

    বরিশালে একই মসজিদে একাধিক জামাতের নির্দেশ, শিশু-বৃদ্ধদের আসা বারণ

    একই মসজিদে একাধিক ঈদের জামাতের আয়োজন করতে নির্দেশনা দিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। ঈদের সকাল ৭টা থেকে সকাল ১১টার মধ্যে পৃথকভাবে ঈদ জামাত শেষ করতে হবে। আর এ জন্য প্রতিটি মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ানোর জন্য একাধিক ইমামের ব্যবস্থা রাখতেও বলা হয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে। একইসাথে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের মসজিদে আসা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

    করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্পর্কিত বরিশাল জেলা কমিটির সভায় গৃহীত ওই সিদ্ধান্ত শুক্রবার বিকালে এক সংক্ষিপ্ত সভা শেষে বরিশাল মহানগরীসহ জেলার প্রতিটি মসজিদের ইমাম ও পরিচালনা কমিটির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

    এর আগে গত বুধবার বরিশাল জেলা পর্যায়ে ‘কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ পূর্বক আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায়ে করণীয় ‘বিষয়ক সভাশেষে ওই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিল।

    ওই সভার বরাত দিয়ে বরিশাল বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া সেল) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত বিশ্বাস দাস জানিয়েছেন, ‘ঈদগাহর পরিবর্তে এবারের ঈদের নামাজ মসজিদের ভিতরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়তে হবে।

    মুসুল্লিদের সুবিধার্থে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত কল্পে স্বল্প পরিসরে প্রতিটি মসজিদে একাধিক জামাতের আয়োজন করতে হবে। প্রতিটি জামাতে মুসুল্লিদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

    এছাড়া, মুসুল্লিদের বাড়ি থেকে ওযু করে মসজিদ প্রাঙ্গনে আসতে হবে৷ মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে মসজিদের প্রবেশমুখে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মসজিদের ভিতরে কার্পেট বিছানো যাবে না।

    এর পরিবর্তে মুসুল্লিরা বাড়ি থেকে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে৷ ঈদ জামাতের পূর্বে অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে মসজিদ পরিস্কার করতে হবে। .

  • সৌদিতে ঈদ রোববার

    সৌদিতে ঈদ রোববার

    সৌদি আরবে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আর তাই সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে আগামী ২৪ মে রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত।

    করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের মতো মুসলিম দেশগুলোতেও সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে। সে কারণে অনেক দেশেই স্বাভাবিকভাবে রমজানের তারাবিহ নামাজ পড়া যায়নি।

    এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কিছু দেশ এবার ঈদের জামাত হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। কিছু দেশ একেবারেই সীমিত উপস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে।

  • আজ ২৫ রমজান : জেনে নিব ৫ আমল

    আজ ২৫ রমজান : জেনে নিব ৫ আমল

    আজ ২৫ রমজান। শেষ দশকের মাঝামাঝি সময়। রমজান মাস আল্লাহ তা’আলার এক বিশেষ নিয়ামাত। এটি সাওয়াব অর্জন করার মৌসুম। কারণ এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রহমাত, বরকত ও নাজাতের মাস-রমাদান। এ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে যেতে পারি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারি। আজ ৫টি আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে।

    ফিতরাহ দেয়া
    এ মাসে সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণার্থে ফিতরাহ দেয়া আবশ্যক। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আদায়ের পুর্বে ফিতরাহ আদায় করার আদেশ দিলেন। [সহীহ আল-বুখারী :১৫০৩]

    অপরকে খাদ্য খাওয়ানো
    রমাদান মাসে লোকদের খাওয়ানো, বিশেষ করে সিয়াম পালনকারী গরীব, অসহায়কে খাদ্য খাওয়ানো বিরাট সাওয়াবের কাজ। কুরআনে এসেছে: তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে। [সূরা আদ-দাহর: ৮]

    এ বিষয়ে হাদীসে বলা হয়েছে: ‘আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, একজন লোক এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলামে উত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন, অন্যদেরকে খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।’ [সহীহ আল-বুখারী : ১২]

    অপর বর্ণনায় বর্ণিত আছে যে : ‘যে কোনো মুমিন কোনো ক্ষুধার্ত মুমিনকে খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন ‘ [বাইহাকী, শু’আবুল ইমান : ৩০৯৮, হাসান]

    আত্মীয়তার সম্পর্ক উন্নীত করা
    আত্মীয়তার সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তা রক্ষা করাও একটি ইবাদাত। এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা বলেন: ‘আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আরও তাকওয়া অবলম্বন কর রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।’ [সূরা আন-নিসা: ১]

    আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সালাম বিমিয়ের মাধ্যমে হলেও আত্নীয়তার সম্পর্ক তরতাজা রাখ।’ [সহীহ কুনুযুস সুন্নাহ আন-নবওয়িয়্যাহ : ১৩]

    কুরআন মুখস্থ বা হিফয করা
    কুরআন হিফয করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা নিজেই কুরআন হিফযের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি এ দায়িত্ব মূলত বান্দাদেরকে কুরআন হিফয করানোর মাধ্যমেই সম্পাদন করেন। কুরআনে এসেছে: ‘নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হিফাযতকারী।’ [সূরা আল-হিজর: ৯]

    যে যত বেশি অংশ হিফয করতে পারবে তা তার জন্য ততই উত্তম। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘কুরআনের ধারক-বাহককে বলা হবে কুরআন পড়ে যাও, আর উপরে উঠতে থাক, ধীর-স্থিরভাবে তারতীলের সাথে পাঠ কর, যেমন দুনিয়াতে তারতীলের সাথে পাঠ করতে। কেননা জান্নাতে তোমার অবস্থান সেখানেই হবে, যেখানে তোমার আয়াত পড়া শেষ হবে।’ [সুনান আত-তিরমিযী : ২৯১৪]

    আল্লাহর যিকর করা
    এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আল্লাহ তা’আলা চারটি বাক্যকে বিশেষভাবে নির্বাচিত করেছেন, তাহলো যে ব্যক্তি পড়বে, তার জন্য দশটি সাওয়াব লেখা হয়, আর বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পড়বে, তার জন্য বিশটি সাওয়াব লেখা হয়, আর বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পড়বে, তার জন্য বিশটি সাওয়াব লেখা হয়, আর বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে পড়বে, তার জন্য ত্রিশটি সাওয়াব লেখা হয়, আর ত্রিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়।’ [মুসনাদ আহমাদ : ১১৩৪৫]

  • কদরের রাত পাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা ইতিকাফ

    কদরের রাত পাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা ইতিকাফ

    রাব্বুল আলামীন হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম করেছেন কদরের রাতকে। বরকতময় এই রাতটিকে রমজানের শেষ দশকে লুকায়িত অবস্থায় আছে। শেষ দশকের বেজোড় রাতে এই রাতটিকে তালাশের কথা বলা হয়েছে। তাই মুসলিম সমাজের প্রত্যেকেই এই বরকতময় রাতটি পাবার চেষ্টায় ব্যাকুল থাকেন। তবে কল্যাণময় কদরের রাতটিকে পাবার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো ইতিকাফ।

    কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন : ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত এই রাতটি পুরোপুরি শান্তিময়।’ (সূরা কদর ৩, ৫)

    রমজানের শেষ দশকে নির্বিঘ্নে ইবাদত বন্দেগিতে যাতে মশগুল থাকতে পারেন এবং এর মধ্যেই যাতে কদরকে পেতে পারেন এই উদ্দেশে আল্লাহর মুমিন বান্দারা ইতিকাফে বসেন। শুধু একটিই লক্ষ্য আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ।

    কোন স্থানে আটকে পড়া অথবা কোন স্থানে থেমে যাওয়াকে ইতিকাফ বলে। ইসলামী শরীয়াতের ভাষায় ইতিকাফের অর্থ দুনিয়ার সংস্রব, সম্বন্ধ ও বিবি-বাচ্চা থেকে আলাদা হয়ে মসজিদে অবস্থান করা।

    ইতিকাফের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ দুনিয়াবী কারবার ও সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সাংসারিক কর্মব্যস্ততা ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চিন্তা ও কাজের শক্তি এবং যোগ্যতাকে আল্লাহর স্মরণ এবং ইবাদতে লাগিয়ে দেওয়া। সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর প্রতিবেশি হয়ে পড়া।

    ইতিকাফের দ্বারা একদিকে সে ব্যক্তি সব প্রকার বেহুদা কথাবার্তা ও মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং অন্যদিকে আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক মজবুত হবে। তাঁর নৈকট্যলাভ করবে এবং তাঁর ইয়াদ ও ইবাদতের মনে শান্তি লাভ করবে। তাই কদরের রাত তালাশের জন্য ইতিকাফ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা।

    ইতিকাফে বসে কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাসবীহ পড়া, দরুদ পড়া এবং জিকির-আসকার করে লাইলাতুল কদরের রাতকে পাওয়া অনেকটাই সহজ। আজ ২২ রমজান যাচ্ছে, যারা এখনও ইতিকাফে বসতে পারেননি, তারা নিয়ত করে বসে যেতে পারেন।

    হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলে করীম (স.) বলেছেন, যখন এই রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকে, তখন স্বয়ং পরওয়ার দেগার দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বলতে থাকেন, ওগো! কে আছ, যে (এ সময়) আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দিব। ওগো! কে আছ, যে আমার কাছে কিছু চাবে, আমি তাকে তা দিয়ে দিব। ওগো! কে আছ, যে এ সময় আমার কাছে গুণাহ হতে ক্ষমা চাবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। (বুখারী, মুসলিম)

    ইতিকাফের নিয়তে ২০ রমজান সূর্যাস্তের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করতে হবে।

    মেয়েদের নিজের ঘরেই ইতিকাফ করা উচিত। তাদের মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরূহ। সাধারণত ঘরে যে স্থানে তারা নামায পড়ে তা পর্দা দিয়ে ঘিরে নেবে এবং ইতিকাফের জন্য তা নির্দিষ্ট করে নেবে।

    প্রাকৃতিক প্রয়োজনে, যেমন- পেশাব, পায়খানা, গোসল প্রভৃতি কাজে বের হওয়া যাবে। শরীয়তের প্রয়োজন যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া যাবে। কিন্ত প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ইতিকাফের স্থানে ফিরে যেতে হবে।

  • ২০০ বছর পর স্থগিত শোলাকিয়ার ঈদ জামাত

    ২০০ বছর পর স্থগিত শোলাকিয়ার ঈদ জামাত

    প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গতকাল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী। এর আগে ঈদ জামাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত বৃহস্পতিবার আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বৈঠক করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    বৈঠকের পরে করোনাভাইরাসের কারণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত এবার ঈদগাহে করা যাবে না বলে জানায় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জেলা প্রশাসকের ফেসবুকে প্রচার করা হয়। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্যও অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা ও বিশেষ সতর্কতামূলক বিষয়াদি অনুসরণপূর্বক শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হয়।

    এতে বলা হয়, ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ জামাতে আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবনঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হয়। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৩তম ঈদুল ফিতরের বড় জামাত। ঈদগাহের মুতওয়াল্লি দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান জানান, ঈদগাহের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শোলাকিয়ায় কোনো ঈদের জামাত বন্ধ হয়নি।

    এবারই করোনাভাইরাসের কারণে ঈদের জামাত বন্ধ করা হলো। তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং দেশ ও দেশের জনগণের জন্য দোয়া করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেন।

  • ২০ রমজান ‘ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় দিবস’

    ২০ রমজান ‘ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় দিবস’

    আজ রমজানুল মোবারকের ২০ তারিখ। সিয়াম সাধনার মাসের আক্ষরিক অর্থেই দ্বিতীয় দশক পূর্ণ হচ্ছে আজ। কিন্তু আজকের দিনটির গুরুত্ব বহু গুণ বেড়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণে। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যবহ একটি ঘটনার সাক্ষী রমজানের ২০ তারিখ। শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার অধিকারী এ ঘটনাটি মক্কা বিজয়।

    ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের অষ্টম বছরে ১০ হাজার মুসলিম সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে মক্কা নগরী জয় করেছিলেন এই দিনে। আজ থেকে ১৪২৬ বছর আগে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তৎকালীন আরব ভূমির সবচেয়ে প্রসিদ্ধ জনপদে বিজয় নিশান উড্ডীন করেছিলেন। এ ঘটনা ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের, সাফল্যের ও সন্তুষ্টির।

    স্রষ্টাভোলা মানব জাতিকে সত্যপথের দিশা দানের জন্য বনি আদমের শ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধূলির ধরায় তাশরিফ আনেন মরু আরবের এক জীর্ণ কুটিরে। আরবের শ্রেষ্ঠ গোত্রের শ্রেষ্ঠ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মুত্তালিবের ছেলে আব্দুল্লাহর ঔরসে বিবি আমিনার কোল উজালা করে শ্রেষ্ঠতম এ মহামানব পৃথিবীতে এসে শৈশবকাল থেকে নিজের চারিত্র্যিক মাধুর্য ও উন্নত মানবীয় গুণাবলী দ্বারা সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন মক্কার মানুষদের। শত অনাচার ও অসুন্দরের মধ্যে একজন উন্নত চরিত্রের মানুষ প্রথম থেকেই মানবজাতির অধঃপতন ও নিম্নগামিতা অনুভব করেছিলেন। ৪০ বছর বয়সে ওহি লাভের পর যখন তিনি মানুষকে রাব্বুল আলামিনের দিকে আহ্বান জানালেন এবং সব ধরনের অন্যায় থেকে সরে আসতে বললেন, তখন এত দিনের চেনা মানুষেরাই তার বৈরী হয়ে গেল। মানুষের ইহ ও পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও সাফল্যের পথে তিনি আহ্বান জানাতে লাগলেন।

    অথচ মক্কার লোকেরা তার বিরোধিতায় নেমে পড়ল। শুধু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নন, যারা ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন তাদের ওপরও নেমে এসেছিল নির্যাতন ও অত্যাচার। এক পর্যায়ে মুসলমানদের পক্ষে অসহনীয় হয়ে যায় অমুসলমানদের আচরণ। জীবন রক্ষা করাই তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি আসে হিজরতের। সুদূরের পল্লী ইয়াছরিব থেকে আহ্বান আসে ইসলামের নবী ও অনুসারীদের। শেষ নবীকে আশ্রয় দেয়ার এবং বরণ করে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সেখানকার আওস ও খাজরাজ গোত্রের লোকেরা।

    নবুওয়াতের ১৩তম বছরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে ইয়াছরিবে হিজরত করেন। ইয়াছরিবের নাম হয়ে যায় মদিনাতুন নবী বা সংক্ষেপে মদিনা। এখান থেকে ইসলামের প্রসার ঘটে অভাবনীয় গতিতে। মক্কায় কোরাইশ গোত্র আরবে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় তাদের বিরোধিতা ছিল ইসলামের প্রসারে একটি বড় অন্তরায়। তা ছাড়া তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতাও চালায়। বদর, ওহুদ,আহজাব ইত্যাদি যুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে মুসলমানদের। তবে এর মধ্যে খোদায়ী মদদের কারিশমাও প্রত্যক্ষ করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আসে মক্কা বিজয়ের পালা।

    মক্কা জয়ের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভিযান পরিচালনার পেছনে কাজ করেছে হুদায়বিয়ার সন্ধি। হিজরি ষষ্ঠ বছরে সম্পাদিত এ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছিল মক্কার কুরাইশরা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিকার চেয়েছিলেন, নইলে সন্ধির সমাপ্তি হয়েছে মনে করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কুরাইশরা কোনো সাড়া না দেয়ায় তিনি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।

    অষ্টম হিজরির রমজান মাসে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ২০ রমজান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন। প্রায় রক্তপাতহীন সে অভিযানে ইসলামের নবীর পতাকা সেখানে সমুন্নত হয়। আর সত্য ধর্মের গৌরব প্রতিষ্ঠিত হয় আরবের সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরীতে। হজরত ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাম একক প্রভুর ইবাদতের জন্য যে বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন, তা ভরে ফেলা হয়েছিল মূর্তি ও বিগ্রহে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ঘর থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন। আর এতদিন যারা ইসলামের শত্রুতায় সদা প্রস্তুত ছিল, তাদের জন্য ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমা। শান্তি ও মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই মক্কা বিজয়ের ঘটনা বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। আর সে কারণেই ২০ রমজান মুসলমানদের জন্য বিপুল গৌরবের স্মারক।

  • আজকের ইফতার ও সেহরির সময়সূচি

    আজকের ইফতার ও সেহরির সময়সূচি

    আজ ২০ রমজান ১৪ মে (বৃহস্পতিবার)। ঢাকায় আজ ইফতার শুরু ৬টা ৩৭ মিনিটে এবং সেহরির শেষ সময় ৩টা ৪৭ মিনিট।

    দেশের কিছু জেলায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে সেহরি এবং ইফতারের সময়ের মিল রয়েছে। তবে বেশিরভাগ জেলার সাথে ঢাকা জেলার ইফতার এবং সেহরির সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করলে অন্য জেলার সেহরি ও ইফতারের সময় পাওয়া যাবে তা নিচের তালিকায় দেখুন-

    বরিশাল বিভাগ

    ঝালকাঠি (সেহরি: ৩ মিনিট, ইফতার: -১ মিনিট)
    পটুয়াখালী (সেহরি: +৪ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)
    পিরোজপুর (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: ঢাকার সঙ্গে)
    বরিশাল (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)
    ভোলা (সেহরি: ২ মিনিট, ইফতার: -৩ মিনিট)
    বরগুনা (সেহরি: +৫ মিনিট, ইফতার: -২ মিনিট)

  • ইতিকাফের নিয়ম

    ইতিকাফের নিয়ম

    ইতিকাফ আরবি শব্দ ‘আকফ’ মূলধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা। যে মসজিদে জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়, এমন মসজিদে আল্লাহর ইবাদতের নিয়তে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।

    এর উদ্দেশ্য, মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য, সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের আকাঙ্ক্ষা, সওয়াব অর্জনের প্রত্যাশা এবং লাইলাতুল কদর লাভের আশা করা।

    প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশক রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামও ইতিকাফ করতেন।

    নবীজি ইতিকাফের এত বেশি গুরুত্ব দিতেন যে, কখনো তা ছুটে গেলে ঈদের মাসে আদায় করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশক (মসজিদে) ইতিকাফ করতেন।

    এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করিম (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর বিবিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) ইতিকাফের বিধিসম্মত সময় মাহে রমজানের ২০ তারিখ সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছু আগে থেকে শুরু হয় এবং ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যায়।

    ইতিকাফকারী পুরুষ ২০ রমজান আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে মসজিদে পৌঁছাবেন এবং কোণে একটি ঘরের মতো পর্দা দিয়ে ঘেরাও করে অবস্থান নেবেন; এমনভাবে যেন প্রয়োজনে জামাতের সময় পর্দা খুলে মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা যায়।

    এ স্থানে পানাহার ও শয়ন করবেন এবং বিনা প্রয়োজনে এখান থেকে বের হবেন না। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বা ফরজ গোসল প্রভৃতি কাজে অথবা শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া জায়েজ। জাগতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগের জন্য পুরুষদের মসজিদে এবং নারীদের জন্য গৃহে অবস্থ্থান করাই ইতিকাফ।

    স্ত্রীলোকের মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরুহ। ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে, যেখানে তিনি নামাজ আদায় করেন, সেখানেই ইতিকাফ করবেন। বাড়ির নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে যেকোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিকাফ করবেন এবং ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন না।

    প্রত্যেক ইতিকাফকারী রোজাদারের আল্লাহর ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ-রোজা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ, মোরাকাবা-মোশাহেদা ও তওবা-ইস্তেগফারে ব্যস্ত থাকা এবং পার্থিব বিষয়ে কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকা অত্যাবশ্যক।

    ইতিকাফের প্রকারভেদ

    সুন্নত ইতিকাফ
    রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ সুন্নতে মোয়াক্কাদা আলাল কেফায়া। অর্থাৎ মহল্লার যে কোনো একজন ইতিকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে ইতিকাফ আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মহল্লার একজন ব্যক্তিও যদি ইতিকাফ না করে তবে মহল্লার সবার সুন্নত পরিত্যাগের গোনাহ হবে। (দুররে মুখতার: ২/৪৪০)। ২১ তারিখের রাত থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত এই ইতিকাফের সময়। কারণ রাসুল (সা.) প্রত্যেক বছর এই দিনগুলোতেই ইতিকাফ করতেন। এ কারণে এটাকে সুন্নত ইতিকাফ বলা হয়।

    ওয়াজিব ইতিকাফ
    মান্নতের ইতিকাফ ওয়াজিব। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা যেন তাদের মানৎ পূর্ণ করে।’ (সূরা হজ: ২৯) তাতে কোনো শর্ত থাকুক বা না থাকুক। যেমন- কেউ বললো, ‘আমার এই কাজ সমাধা হলে আমি ইতিকাফ করবো’, এতে যেমন ইতিকাফ ওয়াজিব হবে ঠিক তেমনই কেউ যদি বলে- ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইতিকাফ করবো’, এ অবস্থাতেও ইতিকাফ করা ওয়াজিব বলে সাব্যস্ত হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১৩, দুররে মুখতার: ২/৪৪১) সুন্নাত ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে গেলে তা কাজা করা ওয়াজিব।

    নফল ইতিকাফ
    উপরোক্ত দুই প্রকার ইতিকাফ ছাড়া বাকি সব ইতিকাফ নফল। এ ইতিকাফ মানুষ যেকোনো সময় করতে পারে। অর্থাৎ কিছু সময়ের জন্য ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যতক্ষণ চায় করতে পারে। রোজারও প্রয়োজন নেই। এমনকি যখনই মসজিদে প্রবেশ করবে নফল ইতিকাফের নিয়ত করা সুন্নত।

    সর্বোত্তম ইতিকাফ
    ইতিকাফের সর্বোত্তম স্থান মসজিদুল হারাম, এরপর মসজিদে নববী, এরপর মসজিদে আকসা। এরপর জুম‘আ মসজিদ, এরপর যে মসজিদে বেশি মুসল্লি সালাত আদায় করে থাকে। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেন, ইতিকাফ সহীহ হবে এমন মসজিদে যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাআতের সঙ্গে আদায় করা হয়। যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেনো মসজিদে হারামে ইতিকাফ আদায় করে। এটি সওয়াবের ও জামাআতের দিক থেকে সর্বোত্তম।

    ইতিকাফের শর্ত
    মুসলমান হওয়া, পাগল না হওয়া, বালেগ হওয়া, নিয়ত করা, ফরজ গোসলসহ হায়েজ নেফাছ থেকে পবিত্র হওয়া, রোজা রাখা। মসজিদে ইতিকাফ করা। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ)-এর মতে যে মসজিদে জামাআত সহকারে সালাত হয় না, সে মসজিদে ইতিকাফ জায়েজ নেই।

  • দোজখের কঠিন আজাব থেকে নাজাতের দশক আসছে

    দোজখের কঠিন আজাব থেকে নাজাতের দশক আসছে

    বান্দার গুনাহর চেয়ে আল্লাহর দয়া হাজার হাজার কোটি গুণ বেশি। তাই বান্দা যখনই মহান আল্লাহর দরবারে এসে সমর্পণের সঙ্গে তওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। দোজখের কঠিন আজাব থেকে মুক্তির দশক আসছে। অর্থাৎ রহমত ও মাগফেরাত শেষ হয়ে নাজাতের দশক আসছে। কতটুকু করুণা পেয়েছি মহান আল্লাহর?

    প্রতিটি মুমিন বান্দার লক্ষ্য হওয়া উচিত রমজানের এই শেষ সময়ে ইবাদতে বেশি বেশি মনোযোগী হওয়া। ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি কামনা করা। পূর্বের কৃতকর্মের জন্য বেশি বেশি তওবা/ইস্তিগফার করা। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।

    হযরত উম্মে ইসমত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য গুণাগারকে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন।

    ইস্তিগফার (ক্ষমা) চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আমল। গুনাহর রাস্তা থেকে সরে আসবে এবং অতীতের গুনাহ জন্য বান্দা ক্ষমা চাইবে- এতে আল্লাহ খুশি হন। ক্ষমা চাওয়ার মধ্যেই বান্দার মুক্তি।

    আজ ১৯ রমজান। ইফতারের পরে ২০ রমজান শুরু হবে। শেষ দশকের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এই দশকে বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশের কথা বলা হয়েছে। তাই এ দশকে শবেকদর পাওয়ার আশায় প্রতিটি মুসলিম বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগী করবে একাগ্রচিত্তে।

    লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভে আমরা স্বচেষ্ট থাকি, ইবাদতে মশগুল হই। কেননা এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

    তাই প্রত্যেক মুমিনের রমজানের শেষ দিনগুলো কাটুক তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে।

  • এ বছরের ফিতরা নির্ধারণ

    এ বছরের ফিতরা নির্ধারণ

    এ বছরের ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোমবার (৪ মে) বেলা সাড়ে ১২টার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজার মূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

    ফিতরা আরবী শব্দ যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর (ফিতরের যাকাত) বা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরের সদকা) নামে পরিচিত। ফিতর বা ফাতুর বলতে সকালের খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয় যা দ্বারা রোজাদারগণ রোজা ভঙ্গ করেন।[১] যাকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে। রোজা বা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় ইফতার বা সকালের খাদ্য গ্রহণ করা হয়। সেজন্য রমজান মাস শেষে এই দানকে যাকাতুল ফিতর বা সকাল‌ের আহারের যাকাত বলা হয়।

    নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সকল মুসলিমের জন্য ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব।